Category: জাতীয়

  • যে শোক চিরদিনের

    যে শোক চিরদিনের

    হৃদয়ের স্মৃতিপটে শোকের বিচরণে ভিন্নতা থাকে। স্বজন হারানোর শোক, আর্তনাদ থাকে সময় ধরেও। সময় গড়িয়ে শোকের ছায়ায় আলোরও দেখা মেলে। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারিয়ে জাতি যে শোকে মুহ্যমান, তা যেন অনন্তকালের। পিতা হারানোর এ শোক চিরদিনের।

    আজ ১৫ আগস্ট। ইতিহাস এদিন থমকে দাঁড়ায়। নদী তার স্রোত হারায়। বনের পাখিরা নিস্তব্ধ হয়ে আরও নির্জনে চলে যায়। এদিন ভোরের সূর্য আরও রক্তিম হয়ে ওঠে। রাখালের বাঁশির সুরলহরি এদিন আরও করুণ হয়ে ওঠে।

    নানা ঘটনাপ্রবাহ আর ব্যথাতুর স্মৃতিতে বাঙালি জীবনে আগস্টের গোটা মাস ভারি হলেও ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড বিশ্বমানবতাকে স্তম্ভিত করে দেয়। এদিন বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাংলাদেশের স্থপতি, মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা নির্মমভাবে হত্যা করেন।

    বিশ্ব ইতিহাসের নির্মম ওই হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সেদিন আরও প্রাণ হরণ করা হয় বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিলের।

    ঘাতক সেনাদের বুলেটে আরও প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খান।

    বর্বর ওই হত্যাকাণ্ডের দিন দেশে না থাকায় প্রাণে রক্ষা পান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। ওই সময় স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানির কার্লসরুইয়ে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ রেহানাও ছিলেন বড় বোনের সঙ্গে।

    আগস্ট মানেই জাতির দীর্ঘশ্বাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ওই হত্যাকাণ্ডের নির্মমতা পৃথিবীর যে কোনো হত্যাকাণ্ডকে হার মানায়। ঘটনার বর্ণনায় দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট খুনিও আঁতকে উঠবে। রাতের আঁধারে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে পৈশাচিক পন্থায় হামলা চালান দিকভ্রান্ত সেনা কর্মকর্তারা। বুলেটের আঘাতে রক্তগঙ্গা বয়ে যায় পুরো বাড়ি। ঝাঁঝরা হয়ে যায় দরজা, জানালা, বাড়ি ও দেয়াল। রক্তসাগরে যুবে ছিল লাশগুলো।

    jagonews24

    নিজের সৃষ্ট দেশে কোনো বাঙালি তার জীবনের হুমকি হতে পারে, কখনও ভাবেননি বঙ্গবন্ধু। এ কারণে বাড়তি নিরাপত্তার ধার ধারেননি তিনি। সুরক্ষিত রাষ্ট্রপতির বাসভবন ছেড়ে বসবাস করতেন প্রিয় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে।

    ওই বাড়িতেই ঘাতকের বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে পর্বতসম দেহ আর ইস্পাতসম মনোবল নিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘তোরা কী চাস আমার কাছে? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?’

    ঘাতকরা তাকে অন্য কোথাও নিয়ে যায়নি। বঙ্গবন্ধুকে তার প্রিয় বাড়িতেই বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা করে দেয়। নির্মম ওই হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশ যেন মেঘে ঢেকে যায়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ যেন ‘খুনের বাংলায়’ পরিণত করে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করা হয়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে খুনিদের দায়িত্ব দেয়া হয়।

    বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক বিচারের হাত থেকে খুনিদের রক্ষা করতে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটিকে আইন হিসেবে অনুমোদন দেন।

    তবে শেষ রক্ষা হয়নি খুনিদের। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি পাঁচ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করা হয়। যদিও দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন আসামির সাজা এখনও কার্যকর করতে পারেনি সরকার।

  • প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কী কথা হলো কাদেরের

    প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কী কথা হলো কাদেরের

    নিজস্ব প্রতিবেদক।।

    গতকাল দিনভর আলোচনায় ছিল প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বৈঠক প্রসঙ্গ। রাজনৈতিকসহ সর্বমহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কী কথা হলো প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের? নৈশভোজে কী খেলেন ওবায়দুল কাদের? তাদের আলোচনা কি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ? নাকি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে তাদের মধ্যে আলাপচারিতা হয়েছে।

    ইতিমধ্যে গতকাল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, আমরা শঙ্কিত হয়ে গেছি পত্রিকার খবর দেখে। সরকার রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতির ওপর ‘চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে’। আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, আলোচনায় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে যে অবজারভেশন ছিল তা নিয়ে পার্টির বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। আলোচনা আরও হবে, আলোচনা শেষ হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। ’ গত শনিবার রাত ৮টার দিকে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার বাসভবনে নৈশভোজে অংশ নেন ওবায়দুল কাদের। নৈশভোজ ছাড়াও তাদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা একান্তে বৈঠক হয়।

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই সাক্ষাতে ওবায়দুল কাদের প্রধান বিচারপতিকে জানিয়েছেন, এ রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যা অনভিপ্রেত। রায়কে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক বা বিচার বিভাগের সঙ্গে নির্বাহী বিভাগের মুখোমুখি অবস্থান সরকার চায় না। তাই রায়ে থাকা অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ বাদ দিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে বিচার বিভাগের দায়িত্ব আছে। প্রধান বিচারপতিকে এ দায়িত্ব নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিরসন করতে অনুরোধ জানান ওবায়দুল কাদের। তবে প্রধান বিচারপতি তাত্ক্ষণিকভাবে তার কোনো অবস্থান ওবায়দুল কাদেরকে জানাননি।

    জানা গেছে, সাক্ষাতের অগ্রগতি সকালে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেছেন ওবায়দুল কাদের। গতকাল সকালে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে ওবায়দুল কাদের বলেন, একেক পত্রিকা একেক রকম খবর লিখেছে। কেউ লিখেছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক শেষে গণভবনে গিয়েছি। আবার কেউ লিখেছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের আগে গণভবনে গিয়েছিলাম। আসলে আজ (গতকাল) দলীয় সভানেত্রীর সঙ্গে দেখা করলাম। কী কথা হয়েছে? এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর দুজন নেতা জানান, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা আরও চলবে। আমরা মনে করি, আলোচনার মধ্য দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিরসন হবে।

  • ঈদের আগে বাড়ল স্বর্ণের দাম

    ঈদের আগে বাড়ল স্বর্ণের দাম

    মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে আবারও দেশের বাজারে বাড়ানো হলো স্বর্ণের দাম। ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ এক হাজার ৫১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।

    আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে তা সমন্বয় করতে এ দাম বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

    শনিবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন এ দর নির্ধারণ করেছে। আগামীকাল রোববার (১৩ আগস্ট) থেকে নতুন এ দর কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এর আগে, গত ২৮ জুলাই সর্বশেষ স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস।

    বাজুস জানায়, নতুন দাম অনুযায়ী ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম সর্বনিম্ন ৫৮৪ টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ভরিপ্রতি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এক হাজার ৫১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন থেকে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম পড়বে প্রতিভরি ৪৮ হাজার ৬৩৮ টাকা। ২১ ক্যারেটে এক হাজার ২৮৩ টাকা বাড়িয়ে ৪৬ হাজার ৪৮১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট মানের স্বর্ণের দাম এক হাজার ১৭৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এখন ৪০ হাজার ৮২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এছাড়াও সনাতন পদ্ধতির ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ৫৮৪ টাকা বাড়িয়ে ২৬ হাজার ২৪৪ টাকা এবং ভরিপ্রতি ২১ ক্যারেট রুপার (ক্যাডমিয়াম) দাম অপরিবর্তিত রেখে এক হাজার ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • হজ ফ্লাইট নিয়ে বিপাকে বিমান

    নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত হজযাত্রী পরিবহনে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ব্যর্থতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুরু থেকে হজযাত্রী পরিবহনে নানা সমস্যায় শেষ পর্যন্ত অন্তত কয়েক হাজার হজযাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে এবার হজ ফ্লাইট নিয়ে অনেকটাই বিপাকে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান।

    সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট ৩৪ দিনের মধ্যে মোট ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন (ব্যালটি ও নন-ব্যালটি) হজযাত্রী পরিবহন করার কথা রয়েছে বিমানের। কিন্তু গত ২০ দিনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে মাত্র ২৭ হাজার ৪ জন হজযাত্রী। হাতে আর সময় রয়েছে মাত্র ১৪ দিন।

    এই ১৪ দিনে বাকি ৩৬ হাজার ৫৯৫ জন হজযাত্রী পরিবহন করতে হবে বিমানকে। যা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করেন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সদস্য নুরুল আমিন হাওলাদার।

    তিনি বলেন, এ অবস্থায় বিমানের হাতে কোনো পরিকল্পনা নেই। আর বিশেষ কোনো ব্যবস্থা না করা গেলে এবার টার্গেটের অর্ধেক হজযাত্রী পরিবহন করতে পারবে না রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠান। ফলে এরইমধ্যে ১০ হাজারের মতো হজযাত্রীর এবারের হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কিন্তু এর দায় নিতে চাচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অতিরিক্ত মুনাফালোভী এজেন্সি মালিকদের কারসাজি এবার হজ ব্যবস্থাপনাকে চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইতোমধ্যে বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর আটকা পড়া হাজার হাজার হজযাত্রীর ফ্লাইট দেওয়ার বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছে স্বয়ং বিমান কর্তৃপক্ষ। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণ হিসেবে এতদিন ভিসা জটিলতার কথা বলা হলেও এখন স্পষ্ট ও ভিন্ন ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

    এদিকে, মোয়াল্লেম ফি ও বাড়ি ভাড়া অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিকাংশ এজেন্সি এখন পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া করেননি। শেষদিকে এসে চেষ্টা করলে কম টাকায় বাড়ি ভাড়া করা যাবে, এমন আশায় বসেছিলেন অধিকাংশ এজেন্সি মালিক। যে কারণে প্রথমদিকে কনফার্ম করা টিকিট বাতিল করা হয়েছে। কারণ বাড়ি ভাড়া না করে হজযাত্রী পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই।

    জানা গেছে, যেসব হজযাত্রীদের কারণে বিমানের ২১টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে তাদের সবার ভিসা রয়েছে। কিন্তু অসাধু এজেন্সি মালিকরা বাড়ি ভাড়া না করায় এসব হজযাত্রীদের পাঠাতে পারছে না। বাস্তবতা এমন হলেও সমাধানে তেমন কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে।

    এ বিষয়ে হজ ক্যাম্পের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি খারাপ আমরা সবাই জানি। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই জটিল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।

    এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এএম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, বিমান এ বছর খুবই পরিকল্পিতভাবে হজ ফ্লাইটের সিডিউল তৈরি করেছে। হজযাত্রী পরিবহনে এরইমধ্যে বিমানের বহরে নিজস্ব ৪১৯ আসনের সুপরিসর বোয়িং৭৭৭ উড়োজাহাজ রয়েছে। এছাড়া লিজে আনা ৪০৬ আসনের বোয়িং ৭৭৭-২০০ উড়োজাহাজে হজযাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।

    বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি জটিল, তবে চেষ্টা করলে ওভারকাম সম্ভব। হজযাত্রী পেলে বিমান তাদের পরিবহন করতে পারবে। অতিরিক্ত ফ্লাইটের জন্যে আমরা স্লট পেয়েছি, আরও পাব বলে আশা করছি।

    বর্তমান সংকট নিয়ে হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। সবাই মিলে চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতি থেকে যেকোনোভাবে উত্তরণ প্রয়োজন।

    এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট পৌঁছে ২৪ জুলাই। শেষ ফ্লাইট যাবে ২৮ আগস্ট। ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৬ সেপ্টেম্বর ও শেষ ফিরতি ফ্লাইট ৫ অক্টোবর। এ বছর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে হজ অনুষ্ঠিত হবে ১ সেপ্টেম্বর।

  • পিরোজপুরে স্কুলছাত্রীর মুখে গামছা পেঁচিয়ে ধর্ষণ

    পিরোজপুরে স্কুলছাত্রীর মুখে গামছা পেঁচিয়ে ধর্ষণ

    পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নে ৮ম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীর মুখে ও গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধর্ষণ করেছে স্থানীয় বখাটে এক যুবক। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার দক্ষিণ পোরগোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মামলা শেষে রাতে ধর্ষিতাকে সদর হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

    পুলিশ অভিযুক্ত আসামি আমজেদ সরদারের ছেলে সাইদুল সরদারকে (২৮) গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। ধর্ষিতা স্থানীয় কদমতলা গালর্স হাই স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী।

    ধর্ষিতার মা জানান, স্কুলের মধ্যাহ্ন বিরতির সময় তার মেয়ে বৃষ্টিতে ভিজে বাড়িতে গিয়ে পুকুরে হাত-পা ধৌত করছিল। এসময় হঠাৎ করেই প্রতিবেশী বখাটে সাইদুল তার মুখে ও গলায় গামছা পেঁচিয়ে পাশের একটি বাগানে নিয়ে যায়। এসময় মেয়েটি নরপশুর হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য ছটফট করলে তার ওপর চালায় অমানুষিক নির্যাতন। একপর্যায় সে ঝিমিয়ে পরলে তার ওপর চলে নরপশুর নগ্ন থাবা। বৃষ্টি কমলে বাড়ির লোকজন পুকুর ঘাটে এসে মেয়েটিকে পড়ে থাকতে দেখে।

    ধর্ষিতার বাবা হুমায়ূন কবির শেখ জানান, আমার বোন ফিরোজা বেগম আমাদের বাড়িতে থাকে। সে পুকুর পাড়ে গেলে মেয়েকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে আমাদের ডাক দেয়। এরপর মেয়েকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করি।

    পিরোজপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শিশির রঞ্জন অধিকারী জানান, রোববার কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা হবে।

    কদমতলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হানিফ খান, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সালমা রহমান হ্যাপি ও অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম সাহা হাসপাতালে এসে ধর্ষিতার খোঁজ খবর নেন এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুমুর রহমান বিশ্বাস জানান, আসামি গ্রেফতারে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

  • ১০১ বছর বয়সী বাবা‌কে মারধর কর‌ল ৪ ছে‌লে

    ১০১ বছর বয়সী বাবা‌কে মারধর কর‌ল ৪ ছে‌লে

    কাঁদতে কাঁদতে ১০১ বছরের মো. জামিরুদ্দিন শেখ জানালেন আল্লাহ এত্ত মানুষেরে নিয়া যায় আমারে ক্যান নিয়া যায় না।

    তিনি জানান, ৫২ বিঘা সম্পত্তি থাকার পরও তার ৫ ছেলের মধ্যে ৪ ছেলের হাতেই মার খাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বড় ছেলে সাহেব আলী তাকে দুই বার মেরেছে, সেজ ছেলে আইয়ুব আলীও তাকে দুই বার মেরেছে, তৃতীয় ছেলে আলতাফ তাকে মেরেছে ৩ বার আর সর্ব কনিষ্ঠ ছেলে মশিয়ার তাকে মেরেছে দুই বার। বেশ কিছুদিন ছিলেন মেজ ছেলের সঙ্গে। কিন্তু ছেলের বৌ অভিযোগ তুলে বলে যখন কেউ তাকে খেতে দেয় না, তখন আমরাও তাকে খেতে দেব না। এই বলে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

    তিনি আবারও অঝরে কাঁদতে থাকেন। একটু স্বাভাবিক হয়ে আবার বলতে শুরু করেন জীবনের করুন কাহিনী। তিনি জানান, মেজ ছেলের বাড়ি থেকে বের হয়ে সোজা চলে গেলেন বৃদ্ধাশ্রমে। সেখানে ছিলেন প্রায় দুই মাস। সেখান থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নিয়ে আসেন বড় ছেলের মেয়ে ও তার জামাই। আবার বড় ছেলের বাড়িতে রেখে আসে তারা। এখন কেউ তার সঙ্গে কোনো কথা বলে না। আর বিভিন্ন অছিলায় আমার উপর চলে শারীরিক নির্যাতন।

    শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উসমান গণি জানান, মৃত মাদু শেখের ছেলে মো. জামিরুদ্দিন শেখ। জন্ম ১০ অক্টোবর ১৯১৭ সালে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বিপ্র-বগদিয়া গ্রামে। ৫ ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। জামিরুদ্দিন অভিযোগ এনেছেন, অসুস্থতার সুযোগে ৫২ বিঘা সম্পত্তি জোর করে লিখে নিয়েছেন ছেলেরা। আবার শারীরিক নির্যাতনও করছে প্রতিনিয়ত। এরপর নিজের জমি উদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করেন।

    জেলা প্রশাসক মো. জাকির হোসেন জানান, তার কাছেও এসেছিলেন জামিরুদ্দিন শেখ। তার করুন কাহিনী শুনে তিনি শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার। দোষীদের কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।

  • ডিএমপিতে পুলিশ পরিদর্শক পদে বদলি

    ডিএমপিতে পুলিশ পরিদর্শক পদে বদলি

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পরিদর্শক পদে চারজনকে বদলি করা হয়েছে। ডিএমপি সদর দফতরের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দফতর ও প্রশাসন) মহা. আশরাফুজ্জামান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    বদলিকৃতরা হলেন- লাইনওআর পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মো. মিরাজ হোসেন মাতুব্বরকে গোয়েন্দা-উত্তর বিভাগ, লাইনওআর পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীকে গোয়েন্দা দক্ষিণ বিভাগ, লাইনওআর পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান মিয়াকে গোয়েন্দা পশ্চিম বিভাগ ও লাইনওআর পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মো. আব্দুল মতিনকে গোয়েন্দা পশ্চিম বিভাগ ঢাকায় বদলি করা হয়েছে।

  • ভারত থেকে আমদানিকৃত চাল পৌঁছেছে মোংলা বন্দরে

    ভারত থেকে আমদানিকৃত চাল পৌঁছেছে মোংলা বন্দরে

    দীর্ঘ আট বছর পর শুক্রবার দুপুরে ৪ হাজার ৭শ মেট্টিক টন চাল নিয়ে ভিয়েতনামের পতাকাবাহী এমভি ‘ডং আন কুইন’ জাহাজটি মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়িয়া এলাকায় ভিড়েছে।

    দুর্যোগ ও আপদকালীন সংকট মোকাবেলায় এবং চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে সরকার এই চাল আমদানি করে। সেই চালানের অংশ হিসেবে শুক্রবার দুপুরে প্রথম দফায় প্রায় ৪ হাজার ৭শ মেট্টিক টন চাল নিয়ে ওই বিদেশি জাহাজ এখন মোংলা বন্দরে অবস্থান করছে।

    সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত চালের গুণগতমান পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শুক্রবার দিবাগত রাতে চাল খালাস করা হতে পারে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে আমদানিকৃত চালের গুণগতমান দেখে খাদ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

    খাদ্য বিভাগ ও মোংলা বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানায়, দেশের চলমান দুর্যোগে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় সরকারিভাবে ভিয়েতনাম থেকে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্টিক টন এবং ভারত থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ হাজার মেট্টিক টন চাল আমদানির চুক্তি হয়। সম্প্রতি চুক্তি হওয়া ভারতীয় চালের প্রায় ৪ হাজার ৭শ মে: টন চাল নিয়ে গত বুধবার (৯ আগস্ট) মোংলা বন্দরে ভিড়ে ভিয়েতনামের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি ‘ডং আন কুইন’।

    গত ৭ আগস্ট ভারতের কলকাতা বন্দর থেকে এ চাল বোঝাই করে মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে বিদেশি ওই জাহাজটি। ইতোমধ্যে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তরা বন্দর চ্যানেলের হাড়বাড়িয়ায় আমদানিকৃত চালবাহী জাহাজ পরিদর্শন ও চালের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। জাহাজটিতে প্রায় ৯৪ হাজার ২০ ব্যাগ চাল রয়েছে। প্রত্যেকটি পলি ব্যাগে রয়েছে ৫০ কেজি করে চাল।

    জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট মেসার্স খুলনা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি বিকে চক্রবর্তী পল্টু জানান, আমদানিকৃত চালের গুণগতমান বেশ ভালো। এ চাল খালাসের জন্য শ্রমিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে।

    মোংলা শ্রমিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোসার্স খালিদ ব্রাদাসের্র সুপারভাইজার আবুল কাসেম জানান, চাল খালাসের জন্য তাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি পেলেই খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকেল এ চাল খালাসে আগামী ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানান।

    খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে এ বন্দরে চাল বোঝাই কোনো জাহাজ ভেড়েনি। এবার দুর্যোগকালীন খাদ্য সংকট মোকাবেলায় ভারত থেকে সরকারে আমাদানীকৃত চালের প্রথম চালান নিয়ে জাহাজটি বন্দরে এসেছে। এটি আমাদানিকৃত খাদ্য শস্যের চলমান প্রক্রিয়া।

    মোংলা সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক জহিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর জানান, লাইটার (নৌযান) জাহাজের মাধ্যমে খালাস হয়ে এ চাল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাসমূহের বিভিন্ন খাদ্যগুদামে পৌঁছাবে। ভারত থেকে সরকারিভাবে আমদনিকৃত এ চালের দেশীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুব্রি এ্যাগো এ্যানার্জি। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, লোকাল এজেন্ট ও খাদ্য বিভাগ যৌথভাবে এ চাল খালাসের কাজ এবং দেখভালের দায়িত্ব পালন করছে।

    এছাড়াও ভারত থেকে পর্যায়ক্রমে মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে আরও প্রায় ৫০ হাজার মেট্টিক টন চাল। বন্দরে এ চাল খালাসের মধ্যে দিয়ে আমদানিকৃত খাদ্য শস্য মোংলা বন্দরে শতকরা ৪০ ভাগ এবং চট্টগ্রাম বন্দরে ৬০ ভাগ খালাস হবে।

  • সোনারগাঁয়ে আবাসিক হোটেল থেকে নারীসহ আটক ৮

    সোনারগাঁয়ে আবাসিক হোটেল থেকে নারীসহ আটক ৮

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় একটি আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেলের ম্যানেজারসহ আট নারী-পুরুষকে পুলিশে সোপর্দে করে স্থানীয় মুসল্লিরা।

    শুক্রবার দুপুরে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার নোয়াব প্লাজায় অবস্থিত ‘কুইন গার্ডেন’ নামে গেস্ট হাউজে ঢুকে তাদের আটক করে মুসল্লিরা। এ সময় ওই হোটেলটির পেছন দিক দিয়ে আরও অনেক নারী-পুরুষ দৌড়ে পালিয়ে যায়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ হয়ে আসছিল। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেও কোনো ফল না পাওয়ায় শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ শেষে স্থানীয় মোগরাপাড়া চৌরাস্তার কয়েকটি মসজিদের মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ওই গেস্ট হাউজে অতর্কিত হামলা চালায়।

    এ সময় মুসল্লিরা ওই হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেলের ম্যানেজার কালাম, তাপস, মাহবুবুর রহমান শাহীনসহ ৮ জন নারী-পুরুষকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা হোটেলটির ভেতরে ঢুকে দরজা, জানালা, চেয়ার টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাধন চন্দ্র বসাক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    মুসল্লিদের অভিযোগ, কুইন গার্ডেনে দীর্ঘদিন যাবত অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হয়ে আসছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় আজ মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে গেস্ট হাউজটির মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

    সোনারগাঁ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোরশেদ আলম পিপিএম বলেন, এ ঘটনায় হোটেল মালিকসহ আটকদের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করবে।

  • উত্তরখানে স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ : পাঁচ আসামির স্বীকারোক্তি

    উত্তরখানে স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ : পাঁচ আসামির স্বীকারোক্তি

    রাজধানীর উত্তরখানে এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার করা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন পাঁচ আসামি।

    শুক্রবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে তাদের হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ড করার অাবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকতা। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম লস্কর সোহেল রানা পাঁচ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    বৃহস্পতিবার এই পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আসামিরা হলেন- আবুল কালাম, জাহাঙ্গীর আলম, অপু সরকার, অনু সরকার ও আহাদ।

    উত্তরখান থানা সূত্র জানায়, বুধবার রাতে মেয়েটিকে একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে ওই পাঁচ আসামি ধর্ষণ করেন। রাত সাড়ে ৮টা থেকে আড়াইটার মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা পুলিশে অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।