Category: জাতীয়

  • ঢাকা মেডিক্যালের তদন্ত প্রতিবেদনে হাইকোর্ট ক্ষুব্ধ

    ঢাকা মেডিক্যালের তদন্ত প্রতিবেদনে হাইকোর্ট ক্ষুব্ধ

    পর পর তিনটি হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা না পেয়ে রাস্তায় সন্তান প্রসব এবং নবজাতক মারা যাওয়ার ঘটনায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (ডিএমসিএইচ) কর্তৃপক্ষের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ঢাকা মেডিক্যালের ওই প্রতিবেদন অস্পষ্ট ও স্ববিরোধী।

    গোটা প্রতিবেদনই প্রশ্নবিদ্ধ। এই প্রতিবেদন দেখলে মনে হবে তাদের (ডিএমসিএইচের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্টাফ) কোনো দোষ নেই। সব দোষ ওই বেচারা গরিব মানুষটির। গরিবরা কি চিকিৎসা পাবে না?

    বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এসব মন্তব্য করেন। আদালত আগামী ২৭ নভেম্বর পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করেন। ডিএমসিএইচের তিন সদস্যের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর তা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আদালত। আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

    এদিকে আদালত দৈনিক যুগান্তর ও এশিয়ান এজ পত্রিকাকে এ বিষয়ে প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

    হাইকোর্ট গত ১৯ অক্টোবর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রাস্তায় সন্তান প্রসবের ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে ডিএমসিএইচ ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের পরিচালক এবং আজিমপুর মাতৃসদনের তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দেন।

    অন্তর্বর্তীকালীন এই নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করা হয়। রুলে ওই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং ওই প্রসূতিকে কেন পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে এ আদেশ দেন আদালত।

    ওই নির্দেশের পর ডিএমসিএইচের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও স্টোর) ডা. মো. খলিলুর রহমানকে চেয়ারম্যান এবং আবাসিক সার্জন (গাইনি ও অবস) ডা. রওশন আরাকে সদস্যসচিব করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্য হলেন আবাসিক সার্জন (ইমার্জেন্সি ও ক্যাজুয়ালটি) ডা. মো. আলাউদ্দিন। এই কমিটি গত ৭ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এ ছাড়া মিটফোর্ড হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আবদুস সালামকে সভাপতি এবং সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সাফিয়া আখতারকে সদস্যসচিব করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন গাইনি বিভাগের ডা. আয়শা সিদ্দিকা ও রুমি নাহরীন।

    এই কমিটি গতকাল প্রতিবেদন দেয়। দুটি প্রতিবেদনই গতকাল আদালতে উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।

    ডিএমসিএইচের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো নার্স বা স্টাফ টাকা দাবি করেননি। আর রোগিনীর প্রসবের অবস্থা প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। তাই তাকে নরমাল প্রসবের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। কিন্তু তারা কাউকে কিছু না জানিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যায়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এই কমিটি আজিমপুর মেটারনিটিতে তদন্ত করেছে। সেখানে সকাল ১১টায় স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে বলে তদন্ত কমিটি জানতে পেরেছে।

    এই প্রতিবেদন দেখে আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আদালত বলেন, আজিমপুর মেটারনিটিতে তদন্ত করার এখতিয়ার এই কমিটির নেই। আর আজিমপুর মেটারনিটিতে স্বাভাবিক প্রসব হয়নি। রাস্তার ওপর প্রসব হয়েছে। সুতরাং এই তদন্ত প্রতিবেদন বানোয়াট, স্ববিরোধী ও অস্পষ্ট। ডিএমসিএইচ ও মিটফোর্ডের প্রতিবেদনে ওই রোগী ভর্তির বিষয়ে যে সময়ের উল্লেখ কর হয় তা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন আদালত। বলেন, একটি সরকারি হাসপাতাল থেকে আরেকটি সরকারি হাসপাতালে রোগী কি উড়ে গেছে যে এত অল্প সময়ে পৌঁছে গেছে? আদালত বলেন, ডিএমসিএইচের প্রতিবেদন দেখলে মনে হবে তাদের কোনো দোষ নেই। স্টাফদের কত সাফাই গাওয়া হয়েছে। আদালত বলেন, স্বাভাবিক প্রসবই যদি হবে আর প্রাথমিক পর্যায়েই যদি থাকবে তাহলে রাস্তায় কেন প্রসব করা হলো? এ থেকে ধরে নিতে হবে যে এই প্রতিবেদন সত্য নয়? আদালত বলেন, ভর্তির যে ফরম আদালতে দেখানো হচ্ছে তাতে পারুল নামের কোনো রোগীর স্লিপে একটানে

    পারুল কেটে পারভীন করা হয়েছে। আসলে পারভীনকে ভর্তিই করা হয়নি।

    গত ১৭ অক্টোবর আজিমপুর মেটারনিটি হিসেবে পরিচিত আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সামনে খোলা জায়গায় পথচারীদের সহায়তায় সন্তান প্রসব করেন পারভীন আক্তার (২৬)। নবজাতক প্রথমে নড়াচড়া করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যায়। ওই দিন সন্ধ্যার পর নবজাতককে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

    এ ঘটনায় ‘তিন হাসপাতাল ঘুরে খোলা স্থানে সন্তান প্রসব নিয়ে তোলপাড়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়

  • এবার প্রাডো গাড়ি থেকে উদ্ধার সিংহ ও বাঘ শাবক, আটক ২

    এবার প্রাডো গাড়ি থেকে উদ্ধার সিংহ ও বাঘ শাবক, আটক ২

    প্রাডো গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় যশোরে দুটি সিংহ শাবক ও দুটি বাঘ (লেপার্ড ক্যাট) শাবক উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় দুই পাচারকারীকে আটক করা হয়।

    আটককৃতরা হলেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বশিকুড়া গ্রামের আহাদ আলী সরদারের ছেলে কামরুজ্জামান বাবু (৩১) ও নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বকুলনগর গ্রামের মান্নান ভূইয়ার ছেলে রানা মিয়া (২৮)। সোমবার শহরতলীর চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি প্রাডো গাড়ি থেকে এসব শাবক উদ্ধার করা হয়। ভারতে পাচারের জন্য ঢাকা থেকে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে বাচ্চাগুলোকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

    যশোরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানান, প্রাণী চারটির মধ্যে বড় দুটি সিংহের বাচ্চা বলে মনে হচ্ছে। অপর দুটি বাঘ প্রজাতির। এদের বলা হয় লেপার্ড ক্যাট। এগুলো সচারচার বাংলাদেশের সিলেট এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম বা মিজোরাম অঞ্চলের চা বাগানে দেখা যায়। চিতা বাঘের মতো দেখতে। তবে এগুলো বিরল।

    আর সিংহের বাচ্চা আমাদের দেশের না। এগুলো বাইরের কোনো দেশ থেকে আনা হতে পারে।

    পুলিশ সুপার জানান, গোপন সূত্রে তারা জানতে পারেন চারটি বাঘের বাচ্চা পাচারের উদ্দেশ্যে বেনাপোল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে চাঁচড়া চেকপোস্টে তল্লাশিকালে একটি প্রাডো গাড়িতে দুটি কাঠের বাক্সে লুকিয়ে রাখা ওই চারটি শাবক উদ্ধার করা হয়। আটক দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। একই সাথে প্রাণী চারটি বন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। জিপ গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে।

    চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, বাচ্চাগুলোকে খাঁচা থেকে বের করে শনাক্তের জন্য বন বিভাগকে খবর দেওয়া হয়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা এসে প্রাথমিকভাবে দুটি শাবককে সিংহের এবং দুটিকে লেপার্ড (বাঘ প্রজাতি)  শাবক হিসেবে শনাক্ত করেন।

  • প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি

    প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি

     

    প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন।

    এ ব্যাপারে আজ মঙ্গলবার তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র আজ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ”

    প্রসঙ্গত, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে এক মাসের বেশি ছুটি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর বিদেশে যান বিচারপতি সিনহা। সেই ছুটি শেষে গত শনিবার তার পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা জানায় বঙ্গভবন। যদিও বয়স অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পদত্যাগের কারণে ৮১ দিন আগেই তার কার্যকাল শেষ হচ্ছে। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি।

  • বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ে ১৬ স্তরে দুর্নীতি টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ

    বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ে ১৬ স্তরে দুর্নীতি টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ

    প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ের পান্ডুলিপি প্রণয়ন ও পাঠ্যপুস্তক প্রকাশনা ও সরবরাহের ২০টি ধাপের মধ্যে ১৬টি ধাপেই অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) পরিচালিত ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি): পান্ডুলিপি প্রণয়ন ও প্রকাশনা ব্যবস্থায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল টিআইবি’র ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
    গবেষণায় বলা হয়, আইনগতভাবে স্বায়ত্তশাসিত হলেও এনসিটিবি’র কার্যক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। লেখক কমিটি, শিক্ষাক্রম উন্নয়ন কমিটি ও টেকনিক্যাল কমিটিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্য নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে। এনসিটিবি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে না পারায় তারা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে।
    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবি’র গবেষণা ও পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোরশেদা আক্তার।
    প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিদর্শন ও তদারকিতে ঘাটতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মানসম্মত পাঠ্যবই সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। পাঠ্যবই লেখার মতো বিশেষায়িত বিষয় যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত বিশেষজ্ঞদের এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। পাঠ্যবইয়ে ক্ষমতাসীন দলের মতাদর্শী ধারার ভাষা ব্যবহারের প্রবণতা এবং ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে বিশেষজ্ঞ, জনবল ও কারিগরি দক্ষতার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
    নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, এনসিটিবি’র দরপত্র কমিটির একাংশের বিরুদ্ধে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে আগেই দর জানিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এছাড়া দরপত্র আহ্বানের পর এনসিটিবি’র কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেনামে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দরপত্রে অংশগ্রহণ ও কার্যাদেশ প্রাপ্তির অভিযোগ রয়েছে।
    গবেষণায় উঠে এসেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মুদ্রণ, বাঁধাই ও লেমিনেশনের কার্যাদেশ প্রাপ্তির পর কাজের বেশিরভাগই অবৈধভাবে সাব-কন্ট্রাক্টে দেওয়া হয়। এছাড়া অবৈধ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বিএসটিআই সনদবিহীন কাগজের কারখানাকে এনসিটিবি কর্তৃক কাগজ সরবরাহের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।
    এছাড়া মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সার্বক্ষণিক উপস্থিত না থেকেও উপস্থিতির প্রতিবেদন দেওয়া, মুদ্রণ কাজে নিম্নমানের কাগজ ও কালির ব্যবহার, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন না হওয়া সত্ত্বেও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সন্তোষজনক প্রতিবেদন প্রদানের তথ্য গবেষণায় উঠে এসেছে।
    প্রতিবেদনে বলা হয়, লেখক দল বই রচনা, পরিমার্জন বা পরিবর্ধন করার পর এনসিটিবির সম্পাদনা বিভাগে জমা দিয়ে থাকেন। একাধিক তথ্যদাতার তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পাদক নিজের মতো করে সম্পাদনা করেন। সম্পাদনার সময় লেখক-সম্পাদক একসাথে বসে লেখার উদ্দেশ্য ও বিষয় সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে সম্পাদনা করার নিয়ম থাকলেও এই কাজটি না করার অভিযোগ রয়েছে। এনসিটিবি এ কাজটি সময় স্বল্পতার অজুহাতে করে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
    প্রতিবেদনে বলা হয়, এনসিটিবির অন্যতম কাজ হচ্ছে কারিকুলাম তৈরি হওয়ার পর একবছর পর রচিত পাঠ্যবইয়ের ওপর মাঠ পর্যায় থেকে মতামত নেওয়া। অভিযোগ রয়েছে পাঠ্যক্রম বিভাগ এই পদ্ধতিতে প্রাপ্ত মতামত যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করে না। মাঠ পর্যায়ের তথ্য ব্যবহার করে পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হয় না।
    ্এছাড়া কারিকুলাম অনুসরণ না করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লেখা পরিবর্তন করা হয়। লেখকদের অজ্ঞাতে পাঠ্যবইয়ে লেখা সংযোজন-বিয়োজন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে লেখা পরিবর্তনে সম্পাদকদের বাধ্য করা হয়। এছাড়াও ২০১৩ শিক্ষাবর্ষে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে শিক্ষা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার কবিতা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
    সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি একটি বিশেষ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর চাহিদার প্রেক্ষিতে এনসিটিবি কর্তৃক পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন ও সংশোধন আনা হয়েছে, যার অনেক কিছুই মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মৌলিক চেতনার পরিপন্থী।
    অন্যদিকে, দীর্ঘদিনেও এনসিটিবি’র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিধি জারি না হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের দ্বারা আদিষ্ট হয়ে এনসিটিবি’কে তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
    মোরশেদা আক্তার বলেন, দরপত্র নির্দেশিকা তৈরি, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, সিএস তৈরি, কার্যাদেশ প্রদান, প্রতি লটের কাগজের হিসাব, কাগজের বরাদ্দপত্র জারি, কার্যাদেশ অনুযায়ী উপজেলায় বই সরবরাহ বাবদ গত ৩ বছরে ৫১ লাখ টাকা বিধি বহির্ভূতভাবে সম্মানী নিয়েছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান থেকে এমএলএস পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
    পাণ্ডুুলিপি প্রণয়ন ও প্রকাশনা প্রক্রিয়ায় সুশাসন ও কার্যকর জবাবদিহিতার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে এনসিটিবি’র কার্যক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব হ্রাস করার কথা বলা হয়েছে টিআইবির সুপারিশে। এছাড়া অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এনসিটিবি’র বোর্ডে সদস্য হিসেবে নিয়োগ, এনসিটিবি’র কর্মীদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন এবং সকল তদন্ত প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে প্রকাশের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে সুপারিশে।
  • ময়মনসিংহে জাপা-যুবলীগ সংঘর্ষ, গুলি, আহত ২

    ময়মনসিংহে জাপা-যুবলীগ সংঘর্ষ, গুলি, আহত ২

    ময়মনসিংহে জাতীয় পার্টি ও মহানগর যুবলীগের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষনের ঘটনা ঘটে।

    আর এই সংঘর্ষে কমপক্ষে চার জন আহত হয়েছেন। আহতরা হচ্ছেন জাহেদ আলী (২০), পারভেজ (২১), সোহেল (২৮) ও লিমন (২০)।

    সোমবার রাত আটটার দিকে নগরীর চামড়াগুদাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘন্টাখানেক ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    এদের মধ্যে জাহেদ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    তবে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কোনো গোলাগুলি হয়নি। বর্তমানে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে মহানগর যুবলীগের সদস্য আরাফাত রহমান শাওনের সমর্থক সোহেল, পারভেজ ও লিমনকে মারধর করে আহত করেন একই এলাকার জাপা সমর্থন আশিক নামে এক যুবক। আশিক স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আব্বাস আলী তালুকদারের কর্মী বলে জানা গেছে।

    এরই পাল্টা জবাবে রাত আটটার দিকে আব্বাসের লোকজনের ওপর হামলা চালায় মহানগর যুবলীগ সদস্য শাওনের কর্মীরা। এসময় গুলি বর্ষণ, দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাংচুর ও টায়ারে আগুন ধরিয়ে ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনে।

    জানতে চাইলে আব্বাস আলী তালুকদার বলেন, নগরীর চামরাগুদাম এলাকায় মাদক বিক্রি, সেবন ও জড়িতদের বিরুদ্ধে একটি কমিটি গঠনের জন্য পূরবী সিনেমা হলের সামনে একটি সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু ওই সভায় লোকজনের ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় শাওনের লোকজন।

    অপরদিকে আরাফাত রহমান শাওনের দাবী, আমার এলাকার যুবলীগ কর্মীদেরকে আব্বাস তার জাতীয় পার্টিতে ভিড়াতে না পেরে তার ভাই আশিককে দিয়ে মারধর করান আমার কর্মীদের। ওই মারধরে আমার তিন যুবলীগকর্মী আহত হয়েছে।

  • এসএসসি পরীক্ষায় বসতে ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর

    এসএসসি পরীক্ষায় বসতে ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর

    মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ন্যূনতম বয়স ১৪ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৬ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন থেকে ন্যূনতম ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারবে বলে জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে ন্যূনতম ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারত। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা নীতিমালা চূড়ান্তকরণ সংক্রান্ত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    সভায় সরকারি হাইস্কুলে ভর্তি ফরমের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া এনসিটিবির (জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড) বইয়ের বাইরে থেকে কোনো প্রশ্ন নিয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করা যাবে না। শিক্ষার্থী যে শ্রেণীতে ভর্তির জন্য পরীক্ষা দেবে তার আগের শ্রেণীর বই থেকে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (মাধ্যমিক) সালমা জাহান বলেন, প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তির ন্যূনতম বয়স ৬ বছর। এটা কড়াকড়িভাবে অনুসৃত হচ্ছে। এ হিসাবে একজন শিক্ষার্থীর দশম শ্রেণীতে বয়স দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ১৬ বছর। তাই এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বয়স হবে ষোলোর্ধ্ব।

    তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত খরচ বেড়ে যাওয়ায় ফরমের দামও বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদ বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বয়স সমন্বয়ের জন্য এখন শিক্ষা বোর্ডগুলোতে নির্দেশনা পাঠানো হবে। সভার একটি সূত্র জানায়, মাউশির কর্মকর্তারা বেসরকারি হাইস্কুলের ফরমের দাম ২০০ থেকে আরও ৫০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এরপর উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে একজন যুগ্ম সচিব সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন হাইস্কুল পরিদর্শন করেন। তিনি দেখেন, অনেক স্কুলে ফরমের দাম ২০০ টাকার কম নেয়া হয়। এরপর মন্ত্রণালয় ফরমের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, তথাকথিত নামকরা স্কুল শুধু বেশি অর্থ নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী। ওইসব স্কুলের দোসর হয়ে মাউশির দু-একজন কর্মকর্তা ফরমের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। তবে এ জন্য কোনো ধরনের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ করা হয়নি।

    মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) সুপারিশে ভর্তি ফরমের দাম ১৫০ টাকার পরিবর্তে ১৭০ টাকা করা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের সরকারি-বেসরকারি উভয় ধরনের হাইস্কুলে প্রথম শ্রেণীতে লটারির মাধ্যমে ভর্তির আয়োজন করা হবে। ৬ষ্ঠ ও ৯ম শ্রেণীতে যথাক্রমে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষার ফল অনুযায়ী ভর্তি করতে হবে। অন্যসব ক্লাসে পরীক্ষা নেয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণীতে তিনটি বিষয়ে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।চতুর্থ, পঞ্চম, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীতে তিন বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজি ও গণিত) ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষায় পাঠ্যপুস্তকের বাইরে থেকে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী যে শ্রেণীতে লেখাপড়া করেছে, সেই ক্লাসের বই থেকে পরবর্তী ক্লাসের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন হবে। এবারও ভর্তি পরীক্ষায় ক্যাসমেন্ট বা এলাকা কোটা থাকবে প্রতিটি স্কুলের ক্ষেত্রে। ঢাকার ৩৭টি সরকারি হাইস্কুল তিন ভাগে ভাগ করে পরীক্ষা নেয়া হবে। একজন শিক্ষার্থী একই ভাগের একাধিক স্কুলে আবেদন করতে পারবে না। তবে অন্য ভাগের স্কুলে আবেদন করতে পারবে। ভর্তিতে আগের মতো মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, এলাকা, শিক্ষা বিভাগের কোটা থাকবে। পাশাপাশি সরকারি হাইস্কুলের ১০ শতাংশ আসন সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।

    সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিভাবকের বদলির কারণে শিক্ষার্থীদের বদলি-ভর্তি ছয় মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর অভিভাবক বদলি হয়ে আসার ছয় মাস পর ভর্তির জন্য আবেদন করে তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এদিকে সরকারি হাইস্কুলে ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত হলেও ফরম বিতরণ ও পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি। মাউশিকে এটি চূড়ান্ত করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সংস্থাটির উপপরিচালক (মাধ্যমিক) একেএম মোস্তফা কামাল জানান, সভার কার্যবিবরণী পাওয়ার পর ফের বৈঠক করে পরীক্ষা সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

     

  • অতিবর্ষণে এবছর ৪ লাখ কিলোমিটার  রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত  সংসদে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

    অতিবর্ষণে এবছর ৪ লাখ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত সংসদে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

    অতি বর্ষণের ফলে এ বছরে সারাদেশে প্রায় ৪ লাখ কিলোমিটার রাস্তাঘাট মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজার কিলোমিটার রাস্তা, সড়ক ও জনপথের আওতাধীন প্রায় ৪১ হাজার কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতীতে অতি বর্ষণের ফলে এত রাস্তাঘাটের ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। এসব ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের সার্বিক তথ্য তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট মেরামতের জন্য সরকারি উদ্যোগ নেয়া হবে।

    গতকাল রবিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাসদ দলীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ তথ্য জানান। মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা প্রশ্নের জবাব দেন। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, জাইকার কারিগরি সহযোগিতায় বর্তমানে ঢাকা শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নকল্পে একটি মাস্টার প্লান প্রণয়নের কাজ চলছে। মাস্টার প্লান প্রণয়ন হলে এবং এর সুপারিশসমূহ বাস্তবায়িত হলে ঢাকা নগরীকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিকোণে একটি স্বস্তিদায়ক নগর গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তিনি জানান, বর্জ্য সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত স্থানে কন্টেইনার/ডাস্টবিন থাকার পরও কতিপয় অসচেতন নগরবাসী নিজেদের সুবিধামত স্থানে বর্জ্য ফেলে রাখছে, যা সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাজকে বিঘ্নিত করছে এবং সড়কে জনসাধারণের চলাচলের স্থানে বর্জ্যের স্তূপ সাময়িকভাবে বাধার সৃষ্টি করছে। নগরীর পরিবেশ রক্ষার্থে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আওতায় এ ধরনের বর্জ্যের স্তূপকে নিয়মিতভাবে অপসারণ করে আসছে। তিনি জানান, এখনো প্রায় ৫০টির মতো কন্টেইনার রাস্তার ওপর বাধ্য হয়ে রাখতে হচ্ছে। দ্বিতীয় এসটিএস নির্মাণের জায়গা পাওয়া গেলে অবশিষ্ট ময়লার কন্টেইনার গুলিও রাস্তার ওপর হতে সরিয়ে নেয়া হবে।

    সরকার দলীয় অপর সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশের ১১টি সিটি কর্পোরেশনের ৩৩৬টি ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এখানে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টালের মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়া শতভাগ চালু করা হয়েছে। ২০১১ সালের ডিসেম্বর হতে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সহজ ও স্বল্প সময়ে নগরবাসীকে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে। কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগ ও হিসাব বিভাগের অটোমেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে নগরবাসী অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স পেমেন্ট করতে পারবেন। তা ছাড়াও অনলাইনের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনেই বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এসব নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব ফ্লাইওভারগুলো নির্মাণে ঠিক কত পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে তা নোটিশ পেলে সঠিকভাবে বলা সম্ভব হবে।

  • ঢাকায় জনসভা শেখ হাসিনার অধীনে ভোট নয় : খালেদা

    ঢাকায় জনসভা শেখ হাসিনার অধীনে ভোট নয় : খালেদা

    নির্বাচনে ইভিএম চলবে না, সেনা মোতায়েন করতে হবে

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনে নয়, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘দলীয় সরকার তো নয়ই, শেখ হাসিনার অধীনেও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না, হবেই না।

    নতুন নির্বাচন কমিশনকে বলব, দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করার দায়িত্ব আপনাদের। আপনারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলুন। গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় বেগম খালেদা জিয়া বলেন, নির্বাচনে ইভিএম চলবে না। সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। শুধু মোতায়েনই নয়, তাদেরকে বিচারিক ক্ষমতা দিতে হবে। তিনি আবারও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘গণতন্ত্রে মত ও পার্থক্য থাকবে। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ’ গতকাল বেলা পৌনে ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বেলা পৌনে ২টায় জনসভা শুরুর আগেই জনসভাস্থল কানায় কানায় ভরে যায়। জনসভা অনেকটা নির্বাচনী সভায় রূপ নেয়। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে শোডাউন করেন। বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হলে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। হাসিনার অধীনে তো নির্বাচন হবেই না। আমরা বিশ্বাস করি মানুষ আমাদের শক্তি, জনগণ আমাদের শক্তি। জয় আমাদের হবেই হবে। জনসভায় নেতা-কর্মীদের আসতে বাধা দেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই কাজ করে সরকার ছোট মনের পরিচয় দিয়েছে। এত ছোট মন দিয়ে রাজনীতি ও জনগণের সেবা করা যায় না। আমি আপনাদের চ্যালেঞ্জ করছি, আপনারা বাধা না দিয়ে দুটি জায়গায় জনসভা দিতেন, একটা আপনাদের, আরেকটা আমাদের। দেখতেন কার জনসভায় মানুষ আসে। কারণ মানুষ আমাদের ভয় নাই, তারা আমাদের ভালোবাসা, তারাই আমাদের শক্তি। দীর্ঘ ১৯ মাস পর বেগম খালেদা জিয়ার এই জনসভায় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক-উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়। সকাল থেকেই বাদ্য-বাজনা নিয়ে মিছিলে মিছিলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করে নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাদের হাতে ছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছবি সংবলিত ফেস্টুন ও ব্যানার। ‘খালেদা জিয়ার মূলমন্ত্র, উদ্ধার করো গণতন্ত্র’ এই মুহূর্তে দরকার, খালেদা জিয়ার সরকার-এই ধরনের স্লোগান সংবলিত ব্যানার জনসভায় আগতদের নজর কাড়ে। দুপুরের মধ্যেই মূল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাড়াও পূর্বে মত্স্যভবন ও এর আশপাশে উত্তরে রূপসী বাংলা হোটেল, পশ্চিমে শাহবাগ মোড় এবং দক্ষিণে টিএসসি চত্বর লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকেও নেতা-কর্মীরা সমাবেশে যোগ দেয়। বেলা পৌনে ২টায় জনসভা শুরু হলেও খালেদা জিয়া মত্স্য ভবনের সড়ক দিয়ে প্রবেশ করেন বিকাল ৩টায়। জনসভার ভিড় ঠেলে মূল মঞ্চে পৌঁছতে আধাঘণ্টা সময় লেগে যায় তার। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জনসভা পরিচালনা করেন প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম। এতে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, বরকতউল্লাহ বুলু, মো. শাজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, জয়নুল আবেদিন, শওকত মাহমুদ, আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুনুর রশিদ, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাইফুল আলম নীরব প্রমুখ। দীর্ঘ এক ঘণ্টার বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন ও ঐক্যের রাজনীতি করতে চাই। আলাপ আলোচনা ছাড়া কোনোভাবেই এ পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। সংসদে থাকুক আর বাইরে থাকুক সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ ঘরে ঘরে কান্নার আহাজারি। এই সরকারের হাত থেকে মানুষ মুক্তি চায়, পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন হতে হবে ভোটের মাধ্যমে। সে জন্য মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। তাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। এ সময় তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা কী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যেতে পারবেন, ভোট দিতে পারবেন। তখন উপস্থিতি নেতা-কর্মীরা হাত তুলে সমস্বরে বলেন, ‘না’। নতুন ইসির উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনি সরকারের অন্যায় আবদার মানতে পারেন না। অবাধ নির্বাচন করার দায়িত্ব আপনাদের। ইভিএম বন্ধ করতে হবে। সেনা মোতায়েন করতে হবে। নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশ বাহিনীও থাকবে, এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার গুণ্ডা বাহিনীর হাতে অবৈধ অস্ত্র। তারা মানুষ খুন করছে। সেনা না দিলে তারা কেন্দ্র দখল করে অত্যাচার চালাবে। এ দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেখিয়ে দেবে যে জিয়াকে  ভোলেনি। তিনি আছেন মানুষের মনে। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। কিন্তু জনগণ সেটা মানতে রাজি নয়। কারণ, এরা কত অবিচার করেছে তা তারা জানে। তারপরও দেশের স্বার্থে আমি তাদের ক্ষমা করব। কারণ আমরা রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই। জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি করতে চাই। আলাপ-আলোচনা ছাড়া তা সম্ভব নয়। আমরা জবাবদিহিতামূলক সংসদ দেখতে চাই। সরকারি দল ও বিরোধী দল আলোচনা করে কোনো সমস্যা হলে তা সমাধান করবে। ’ বিএনপি-প্রধান বলেন, আজকে দেশে বিচার বলে কিছু নেই। বিচার বিভাগ বলতে কিছু নেই। প্রধান বিচারপতিকে পর্যন্ত জোর করে অসুস্থ বানিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিদেশে এজেন্সির লোক পাঠিয়ে তাকে চাপ দিয়ে পদত্যাগপত্র নিয়ে আসা হয়। তিনি চেয়েছিলেন দেশে ফিরে আসতে। কিন্তু তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি কিছু সত্য কথা বলেছেন-এটাই তার অপরাধ। নিম্ন আদালতকে তারা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এখন উচ্চ আদালতকে নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘দেশের এত ক্ষতি করেছেন। সম্পদ লুট করেছেন। পিঠ বাঁচানোর জন্য ক্ষমতায় থাকতে হবে বলে যা ভাবছেন তা হবে না। আমরা সহিংসতার রাজনীতি করি না। আমরা আপনাদের শুদ্ধ করব। যে খারাপ কাজ করেন তা বাদ দিয়ে আপনাদের সত্যিকার অর্থে মানুষ বানাব। বিএনপি-প্রধান আরও বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেন সরকার আমাকে সপরিবারে দেশত্যাগ করতে বলেছিল, তাদের কথায় আমি সাড়া না দিয়ে বলেছি, আমি দেশত্যাগ করব না। আমি কখনো এ দেশ ছেড়ে যাব না। কারণ এ দেশের মাটিই আমার একমাত্র ঠিকানা। অন্য কোথাও আমার ঠিকানা নেই। এরপর সে সরকার আমার দুই ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। এক ছেলেকে পঙ্গু করে দিয়েছে। তাদের অত্যাচারের কারণে আরেক ছেলেকে চিরদিনের মতো আমি দুনিয়া থেকে হারিয়ে ফেলেছি। ’ এ কথা বলেই সমাবেশ মঞ্চে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। বিদ্যুৎ, গ্যাস, চাল-ডালসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ সরকার এ দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে। ধ্বংস করে দিয়েছে। এ সরকার ২০০৮ সালে কথা দিয়েছিল ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। আজ ৭০ টাকা কেজি চাল খাচ্ছে কেন মানুষ। ’ তিনি বলেন, ‘পিয়াজসহ তরিতরকারি, সবজির দাম ৭০-৮০ টাকার নিচে নয়। প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। কৃষকের সার ও কীটনাশকের দাম ৫ গুণ বেড়েছে। ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তারা আজ ঘরে ঘরে বেকার তৈরি করেছে। ’ এ সময় তিনি বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আগামীতে দেশের সব শিক্ষিত বেকার ছেলেমেয়েকে চাকরির ব্যবস্থাসহ এক বছরের বেশি সময় যারা বেকার থাকবে- তাদের জন্য বেকার ভাতা চালু করারও প্রতিশ্রুতি দেন। শেয়ারবাজার ধসের প্রসঙ্গ তুলে বেগম জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এলেই শেয়ারবাজার লুট হয়। এর আগে কখনো শুনিনি সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের মানুষের টাকা আছে। আওয়ামী লীগ আসার পর ওই ব্যাংকে টাকা পাঠিয়েছে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা। মানুষের রক্ত চুষে টাকা চুরি করে বিদেশে পাঠিয়েছে। ২০১৫ সালে  পাঁচ হাজার কোটি ও গত ১০ বছরে সুইস ব্যাংকে সাড়ে চার লাখ কোটি টাকার বেশি বিদেশে পাচার হয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রতি পদে পদে দুর্নীতি করছে। দুদক কোনো মামলা বা কোনো তদন্ত করেনি। অথচ দুদক পড়ে আছে আমাদের পেছনে। তিনি আরও বলেন, ‘গত সাত বছরে ব্যাংক থেকে চুরি হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা কারসাজি করে পাচার করা হয়েছে। কিন্তু এগুলো নিয়ে কোনো তদন্ত হয় না। কাউকে ধরা হয়নি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু ভোটারবিহীন সরকারের সমস্যা নয়, এটা আন্তর্জাতিক সমস্যা। তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে আমেরিকা, ব্রিটেন, ইন্ডিয়া, চীনসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ’ সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশে খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন হবে না। ’ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘২০১৮ সাল আওয়ামী লীগের বিদায়ের বছর। ’ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সরকার নিজের হাতে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে দেশের মানুষ খালেদা জিয়াকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইবে। ’ খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ আখ্যা দিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘নেত্রী (খালেদা জিয়া) আপনি গণতন্ত্রের প্রশ্নে কখনো আপস করবেন না। খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।

  • সাভারে সমাবেশের গাড়িবহর আটকে দেয়ার অভিযোগ, আটক ১৮

    বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে রাজধানীর প্রবেশ পথসহ সাভারের বিভিন্ন মাহসড়কে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এসময় তল্লাশীর কথা বলে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের বহনকারী গাড়িগুলো আটকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

    এছাড়াও বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে যানবাহন ভাড়া না দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পরিবহন মালিকদেরকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন একাধিক বিএনপির নেতাকর্মীরা।

    এদিকে সমাবেশে আসার পথে সাভার-আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের ১৮ জন বিএনপির নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে অধিকাংশই নাশকতা মামলার আসামি। বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন আশঙ্কায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের সমাবেশকে পণ্ড করতে পুলিশি বাধার বিষয়ে অভিযোগ করলেও পুলিশের দাবি বাঁধা দেওয়ার জন্য নয় নিরাপত্তার জন্যই সাভারের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোষ্ট বসিয়ে তল্লাশী চালানো হচ্ছে।

    এদিকে নিরাপত্তার জন্য রাজধানীর প্রবেশদ্বার আমিনবাজার এলাকায় তল্লাশী চালানোর কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঢাকামুখী যানবাহনের দীর্ঘ জানজট দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে অনেককেই আবার পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যেতে দেখা গেছে।

    ঢাকা জেলা বিএপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বদির বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সমাবেশে যাওয়ার জন্য তিনি তার নেতাকর্মীদের নিয়ে সকাল দশটার দিকে সাভার থেকে রওনা দেন। পরে সাড়ে দশটার দিকে আমিনবাজার এলাকায় এসে পৌঁছালে সেখানে থাকা পুলিশের একটি চেকপোষ্ট তাদের ১৩টি গাড়ী বহর আটকে দেয়।

     

    পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন, যুবদল নেতা রকিব দেওয়ান ও আলমগীরসহ বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীরা যেন উপিস্থত না হতে পারে সেজন্য সকাল থেকে রাজধানীর প্রবেশ পথ ও সাভারের বিভিন্ন মহাসড়কে চেক পোষ্ট বসিয়ে তল্লাশীর নামে বিএনপির গাড়ী বহর আটকে দিচ্ছে পুলিশ। সমাবেশে লোক সমাগম বাধাগ্রস্থ করতে তাদের নেতাকর্মীদের আটক করছে পুলিশ। এ কারণে বাধ্য হয়ে কৌশল অবলম্বন করে সাধারণ বাসে যাত্রীবেশেই তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হয়েছে।

    এদিকে নাশকতা করতে পারে এমন আশঙ্কায় ধামরাই থেকে দুই জন, আশুলিয়া থেকে সাতজন ও সাভার থেকে নয়জন বিএনপির নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
    এব্যাপারে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান সাফিউর রহমান বিএনপির এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মহাসড়কে নিরাপত্তার জন্য ২ ঘণ্টা পুলিশ চেক পোষ্ট বসিয়ে তল্লাশী চালানো হচ্ছে। এছাড়াও বিএনপির গাড়ি বহর আটকে দেওয়ার কথাও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন আমাদের টারগেট হলো রেজিষ্টশন বিহীন মটরসাইকেল। এছাড়া নাশকতা এড়াতে বেশি নিরাপত্তার জোরদার করা হয়েছে ।

     

  • প্রধান বিচারপতি পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন: বিদেশে বসে পদত্যাগের কারণ

    প্রধান বিচারপতি পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন: বিদেশে বসে পদত্যাগের কারণ

    সিঙ্গাপুরে বসে স্বাক্ষর করা প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র গতকাল সকালে বঙ্গভবনে এসে পৌঁছে। কী লিখেছেন তার পদত্যাগপত্রে তা জানতে মানুষ উদগ্রীব ছিল। কী কারণে পদত্যাগ করলেন- এ বিষয়ে প্রশ্নও ছিল সবার মুখে মুখে।
    অনুসন্ধানে জানা গেছে, ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের সঙ্গে দূরত্ব এবং ‘মানসিক ও শারীরিক’ কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন। তার পরিবারের অন্তত দুজন সদস্য পদত্যাগের কারণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
    সিনহার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে যে পদত্যাগপত্রটিতে তিনি স্বাক্ষর করেন, তা লিখেন ইংরেজিতে। পদত্যাগপত্রে বিচারপতি সিনহা বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব শুরু হয়। মন্ত্রিসভার কয়েক সদস্য বিষয়টি নিয়ে সংসদে এবং সংসদের বাইরে নানাভাবে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সামগ্রিক দিক বিবেচনায় আমি মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করছি। এ অবস্থায় আমার পক্ষে প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। তাই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
    তার পারিবারিক সূত্র আরও জানায়, বিচারপতি এসকে সিনহা দেশে ফিরে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশে ফেরায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার পরিবার। পরিবারের সদস্যরা তাকে সিঙ্গাপুরে বসেই পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে রাজি করান। এক্ষেত্রে তার দুই মেয়ে, স্ত্রী, ভাই ও ভাতিজা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশে ফিরে ঝামেলার মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে বিদেশে শান্তিতে বাকি জীবন কাটানোর পথ বেছে নেওয়ার জন্য বিচারপতি সিনহাকে তাগিদ দেন তারা।
    ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে দেশে প্রথমবারের মতো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাউকে ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। আবার বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনাও এই প্রথম। ফলে রাষ্ট্রের তিন স্তম্ভের একটির প্রধান ব্যক্তির এ পদত্যাগ ৪৭ বছরের বাংলাদেশকে নতুন একটি অভিজ্ঞতার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
    সাবেক আইনমন্ত্রী বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এ ঘটনাটিকে ‘কলঙ্কজনক অধ্যায়’ আখ্যায়িত করে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে বলে মনে করলেও বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জলঘোলা হওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না।
    ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করার অভিযোগ তুলে নানা আলোচনার জন্ম দেন বিচারপতি সিনহা। নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা বিধান নিয়ে সরকারের নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়। অবসরের পর রায় লেখা নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকর্মী বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে তার বাদানুবাদ বিচারাঙ্গন ছাড়িয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়িয়েছিল। এর পর সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে ভাস্কর্য স্থাপন নিয়েও সরকারের সঙ্গে টানাপড়েন চলে বিচারপতি সিনহার।
    সবচেয়ে বেশি টানাপড়েন দেখা দেয় অধস্তন আদালতের বিচারকদের আলাদা আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধি তৈরি নিয়ে। এ বিধির গেজেট জারি করতে বারবার সরকারের পক্ষে সময় চাওয়ায় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। এ বিষয় নিয়ে শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি বিভিন্ন মন্তব্য করেও বেশ আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন।
    এর পর সর্বশেষ উচ্চ আদালতের বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিয়ে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে বড় ধরনের টানাপড়েনের মধ্যে পড়েন এসকে সিনহা। এ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রকাশিত হয় ১ আগস্ট। ওই রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও সরকার-সমর্থক আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির তীব্র সমালোচনা শুরু করেন। কেউ কেউ তার পদত্যাগের দাবি তোলেন। সরকার-সমর্থক আইনজীবীরা তার পদত্যাগের আলটিমেটামও দেন। পাশাপাশি রায়ে প্রধান বিচারপতির দেওয়া পর্যবেক্ষণও স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহারের দাবি জানান। তবে বিএনপিসহ কিছু দল এ রায়কে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
    সমালোচনার মধ্যেই ২ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা হঠাৎ করেই এক মাসের ছুটির কথা জানিয়ে চিঠি দেন। পরের দিন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর আইনমন্ত্রী জানান, প্রধান বিচারপতি ক্যানসারে আক্রান্ত। পরে ১১ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতির এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার ছুটি ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
    গত ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন এসকে সিনহা। দেশ ছাড়ার আগে তিনি তার বাসভবনের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি অসুস্থ নই। বিচার বিভাগের স্বার্থে আবার ফিরে আসব। ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে একটি মহল প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়েছেন।’ তিনি একটি লিখিত বিবৃতিও সাংবাদিকদের দিয়ে যান। পরের দিন ১৪ অক্টোবর সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ ওঠার পর তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এ কারণে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসতে চাননি আপিল বিভাগের বিচারপতিরা। এ অবস্থায় প্রধান বিচারপতির দেশে ফেরা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়।
    নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা একাই অস্ট্রেলিয়া থেকে সিঙ্গাপুরে আসেন। সেখানে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধানে দফায় দফায় সমঝোতা বৈঠক করেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাসহ তৃতীয় একটি পক্ষও ছিল। বৈঠকে এসকে সিনহা ১১ অভিযোগের বিষয়টি নিষ্পত্তি করে সম্মানজনকভাবে দেশে ফিরে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য এজলাসে বসতে চেয়েছিলেন। অন্যথায় পদত্যাগ করতে চান। সূত্রটি আরও জানায়, কিছু দিন আগে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মাধ্যমে এ দেশ থেকে ই-মেইলযোগে পদত্যাগপত্রের খসড়া নেন। এর পর পদত্যাগপত্র প্রধান বিচারপতি নিজেই চূড়ান্ত করেন