Category: জাতীয়

  • সরকারি নির্দেশনা অমান্য, তেলের দাম কমেনি বাজারে

    সরকারি নির্দেশনা অমান্য, তেলের দাম কমেনি বাজারে

    নিউজ ডেস্কঃ দুই মাসের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে সয়াবিনের দাম কমেছে ৩২ শতাংশ আর পাম তেলের দাম কমেছে ৪৮ শতাংশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশে তেলের দাম কমিয়েছে সরকার। যদিও এর প্রভাব এখনও পড়েনি বাজারে। খুচরা বাজারে এখনও আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল।

    বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমায় গত ১৭ জুলাই বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ১৪ টাকা কমিয়ে ১৮৫ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। এ দাম ১৮ জুলাই থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ রাজধানীর কয়েকটি মার্কেট ঘুরে নতুন দামে তেল বিক্রি হতে দেখা যায়নি। শুধু তাই নয়, সরকার নির্ধারিত দামে তেল কিনতে চাওয়া ক্রেতাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা গেছে বিক্রেতাদের।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে গুদাম কিংবা খুচরা দোকানগুলোতে যে সয়াবিন তেল আছে তা আগের দামেই কেনা। তাই সেগুলো শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি করা সম্ভব নয়। লোকসান দিয়ে তো কেউ ব্যবসা করবে না। নতুন দামে তেল পাওয়ার আগ পর্যন্ত আগের দামেই বিক্রি হবে।

    বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ এবং শান্তিনগরসহ কয়েকটি বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল এক লিটার ১৯৬ থেকে ১৯৮ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর অলি-গলির মুদির দোকানে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা লিটার। অর্থাৎ বাড়তি দামেই ব্যবসায়ীরা তেল বিক্রি করছেন। পাঁচ লিটার বোতলের পুষ্টি, রূপচাঁদা, তীর, বসুন্ধরাসহ অন্য ব্র্যান্ডের তেল আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। এগুলো ৯৭০-৯৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পামওয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৫৫-১৫৮ টাকা লিটার।

    খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে এখনো সরকার-ঘোষিত দামে তেল সরবরাহ করেনি কোম্পানিগুলো। আজ মিল গেট থেকে তেল ছাড়া হলে খুচরা বাজারে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এর প্রভাব পড়বে। অর্থাৎ কম দামে তেল পেতে আরও ৫-৭ দিন লেগে যেতে পারে।

    মালিবাগ বাজারে তেল কিনতে আসা রামপুরার বাসিন্দা মানকিন ভট্টাচার্য বরিশাল স্টোর নামে একটি দোকানে ভোজ্যতেলের দাম জানতে চান। দোকানি শহিদুল ইসলাম বলেন, সয়াবিনের লিটার ২০০ টাকা। মানকিন বলেন, তেলের দাম তো কমে ১৮৫ টাকা হয়েছে, আপনি বেশি রাখছেন কেন? জবাবে শহিদুল বলেন, যে বলেছে আপনি তার কাছ থেকে গিয়ে তেল নেন। ২০০ টাকার এক পয়সাও কম বিক্রি করব না।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিক্রেতা শহিদুল বলেন, ‘সরকার তেলের দাম কমিয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের কাছে কম মূল্যের মাল এখনও আসেনি। আমরা বেশি দামে কেনা তেল এখনো বিক্রি করছি। এই মাল তো কম দামে বিক্রি করতে পারব না।’

    ক্রেতা মানকিন ভট্টাচার্য বলেন, ‘দাম বাড়ানোর সময় সরকারের ঘোষণার আগেই দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। আর কমানোর সময় শুরু হয় টালবাহানা।’

    মগবাজার থেকে কারওয়ান বাজারে আসা ক্রেতা ইমতিয়াজ উদ্দিন মোল্লা বলেন, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে লিটারে তেলের দাম কমেছে শুনেছি ৪০ টাকার বেশি (পাইকারি)। অথচ সরকার কমাল মাত্র ১৪ টাকা। আবার ব্যবসায়ীরা তাও মানছে না, বিক্রি করছে আগের দামে। একটা যেন সার্কাস চলছে!

    ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের নেতা ও সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিত সাহা বলেন, ‘আজ মিল গেট থেকে সরকারের নির্দেশ অনুসারে ১৪ টাকা কমে তেল বাজারে ছাড়া হবে। বাজারে এর প্রভাব পড়তে একটু সময় লাগবে।’

    আরও এক সপ্তাহ লেগে যাবে নতুন দাম কার্যকরে

    ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন গতকাল এক চিঠিতে বাণিজ্য সচিবকে জানিয়েছিল বৃহস্পতিবার (আজ) থেকে সরকার-ঘোষিত কম মূল্যে তেল পাওয়া যাবে। কিন্তু আজ বাজারে এর প্রতিফলন পাওয়া যায়নি।

    ব্যবসায়ীরা জানান, খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে এখনো সরকার-ঘোষিত দামে তেল সরবরাহ করেনি কোম্পানিগুলো। আজ মিল গেট থেকে তেল ছাড়া হলে খুচরা বাজারে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এর প্রভাব পড়বে। অর্থাৎ কম দামে তেল পেতে আরও ৫-৭ দিন লেগে যেতে পারে।

  • দেশে করোনায় দুই জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬২০

    দেশে করোনায় দুই জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬২০

    নিউজ ডেস্কঃ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নিয়ে এখন পর্যন্ত ২৯ হাজার ২৫৮ জনের প্রাণ কেড়ে নিল ভাইরাসটি।

    আর গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬২০ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। তাদের নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৮৯৯ জনে।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ হাজার ৩৯৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ৭ হাজার ৪১৯টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৭৬৫ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৩৩ হাজার ২৫৯ জন।

    দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।

    ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় গত বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।

    ২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এরপর বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়।

    এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।ডেল্টার পর করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন আঘাত হানে।

    গত ২০ এপ্রিল করোনায় মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর টানা ৩০ দিন করোনায় মৃত্যুশূন্য দিন পার করে বাংলাদেশ। সম্প্রতি করোনার চতুর্থ ঢেউ শুরু হয়েছে।

  • গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত উৎপাদন, শিল্প মালিকদের কপালে ভাঁজ

    গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত উৎপাদন, শিল্প মালিকদের কপালে ভাঁজ

    নিউজ ডেস্কঃ # লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি গ্যাসেও রেশনিং

    মানিয়ে চলার পরামর্শ কর্মকর্তাদের

    দেশে পেট্রোলিয়াম জ্বালানির প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। আবার গ্যাসের একটি অংশও আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে একদিকে বাড়ছে ডলারের দাম, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে জ্বালানির দাম। এতে জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানি করতে গিয়ে টান পড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। বৈশ্বিক এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবহার কাটছাট করছে সরকার। সিদ্ধান্ত হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের, গ্যাস সরবরাহে করা হচ্ছে রেশনিং। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে শিল্পোৎপাদনে।

    শিল্প মালিকরা বলছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদনে ধস নামলে দেশের অর্থনীতি আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ কারণে সরকারের কাছে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস বিদ্যুতের নিশ্চয়তা চান তারা।

    এ বিষয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) বলেন, শিল্পখাতে এখনো পুরোপুরি গ্যাস বা ইলেকট্রিসিটি রেশনিং হয়নি। কিছু কিছু শিল্পকারখানায় বাল্ক গ্যাস সরবরাহে রেশনিং হচ্ছে। এতে কারখানারগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ না হলে শিল্প কারখানা চালু রাখা সম্ভব হবে না। শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এজন্য আমরা সরকারের কাছে দাবি রাখবো, যাতে শিল্পখাতে গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা হয়।

    এদিকে জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে সারাদেশে কমবেশি লোডশেডিং শুরু হয়। জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে লোডশেডিং প্রকট হয়। এর প্রভাব পড়ছে শিল্পকারখানার উৎপাদনে। দেশের শীর্ষ লৌহজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপের একেএস স্টিল কারখানাটি চলে নিজেদের উৎপাদিত বিদ্যুতে। আবুল খায়ের গ্রুপের ১০০ মেগাওয়াটের একটি ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে। বর্তমানে কর্ণফুলী গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহে রেশনিং শুরু করায় তাদেরও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে রড উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। কারখানাটিতে সাধারণত প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার টন রড উৎপাদিত হতো। এখন বিদ্যুৎ সংকটে তা প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গেছে।

    একেএস পাওয়ার প্ল্যান্টের সিনিয়র ম্যানেজার ইমরুল কাদের ভূঁইয়া বলেন, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল) থেকে আমাদের গ্যাসের রেস্ট্রিকশন (বাধ্যবাধকতা) রয়েছে। আমাদের প্ল্যানটটি ১০০ মেগাওয়াটের। সাধারণত আমাদের ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। এখন গ্যাস সংকটের কারণে ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছে। পাওয়ার বন্ধ থাকলে পুরো প্ল্যান্ট কয়েক ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয়। একইভাবে কারখানার উৎপাদনও কমে গেছে। বিদ্যুতের সমস্যার কারণে আমাদের ৮০০-৯০০ মেট্রিক টন রড উৎপাদন কমে গেছে।

    জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রামের বড় বড় শিল্পকারখানা চলছে নিজেদের ক্যাপটিভ পাওয়ারে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়েই। আর এসব পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য গ্যাসের যোগান দেয় কেজিডিসিএল। লৌহ, সিমেন্ট, গ্যাস, পেপার, টেক্সটাইলের মতো এসব ভারী শিল্প চলছে ‘ক্যাপটিভ পাওয়ার’ নামের নন-গ্রিড বিদ্যুতে।

    চট্টগ্রামে গ্যাস রিফুয়েলিং স্টেশনসহ ১৭১টি ক্যাপটিভ পাওয়ার ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে গ্যাসচালিত জেনারেটর দ্বারা উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রিফুয়েলিং স্টেশনগুলো। এছাড়া চট্টগ্রামের বড় বড় শিল্পগ্রুপ ক্যাপটিভ পাওয়ারের মাধ্যমে নিজেদের পণ্য উৎপাদনে কারখানা চালাচ্ছে। এসব ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টে প্রতি মাসে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে সাড়ে ৫ কোটি ঘনমিটার। বর্তমানে মাসে চার কোটি ঘনমিটারের মতো গ্যাস পাচ্ছে এসব ক্যাপটিভ পাওয়ার।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বড় বড় শিল্পকারখানাগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎকেন্দ্র (ক্যাপটিভ পাওয়ার) নির্মাণ করেছে। ১ মেগাওয়াট থেকে ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে চট্টগ্রামে। ক্যাপটিভে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইস্পাত শিল্পে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া সিমেন্ট, গ্যাস, সিরামিক, টেক্সটাইল, অ্যালুমিনিয়াম, জুতা, কাগজ, ভোজ্যতেল, কেমিক্যাল কারখানাতেও রয়েছে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট।

    ক্যাপটিভ পাওয়ারে চলে আরেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকার মডার্ন পলি ইন্ডাস্ট্রিজ। কারখানাটি চালাতে তাদের ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। নন-কটন সুতা উৎপাদিত হয় সেখানে। কারখানাটিতে ৯০০ শ্রমিক কাজ করে।

    কথা হয় মডার্ন পলি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সুফিয়ান চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের ১২ মেগাওয়াট ইনস্টলেশন ক্যাপাসিটির একটি ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে। এটি পুরোটাই গ্যাসনির্ভর। কেজিডিসিএল থেকে আমাদের ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য বলা হয়েছে। বর্তমানে আমাদের ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। যদি গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের ক্যাপটিভ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। এতে আমাদের কারখানার উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যাবে।

    কেজিডিসিএল’র ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমানে অসংখ্য শিল্পকারখানা ক্যাপটিভ পাওয়ারের মাধ্যমে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে শিল্পে গ্যাসে কোনো রেশনিং করা হচ্ছে না। গত দুই দিন বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কিছু রেশনিং করা হয়েছে। চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) বন্ধ থাকায় শিল্পে গ্যাসের রেশনিং করতে হচ্ছে না। আজ থেকে তাদের পুরোদমে ক্যাপটিভ ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছে।

  • সরকারি প্রতিষ্ঠানে তেল-বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় ৮০ শতাংশের বেশি নয়

    সরকারি প্রতিষ্ঠানে তেল-বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় ৮০ শতাংশের বেশি নয়

    নিউজ ডেস্কঃ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয় কমাতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটখাতে বরাদ্দ অর্থ সাশ্রয় ও হ্রাস করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

    বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) অর্থ বিভাগের (বাজেট অনুবিভাগ-১) উপসচিব মোহাম্মদ আনিসুজ্জামানের সই করা একটি পরিপত্রে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

    এতে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে ২০২২-২৩ অর্থবছরের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়াত্ত, সংবিধিবদ্ধ, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটখাতে বরাদ্দ অর্থ ব্যয়ে সাশ্রয় ও হ্রাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

    সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রল, অয়েল ও লুব্রিকেন্ট, গ্যাস ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ অর্থের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। বিদ্যুৎখাতে বরাদ্দ অর্থের ২৫ শতাংশ সাশ্রয় করতে হবে এবং এসব খাতের বরাদ্দ অর্থ অন্য কোনো খাতে পুনরায় উপযোজন করা যাবে না।

    অবিলম্বে এ পরিপত্র কার্যকর হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

  • সবার ঠিকানা নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

    সবার ঠিকানা নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্কঃ দলমত নির্বিশেষে সরকার সবার ঠিকানা নিশ্চিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারপ্রধান বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে কেউ গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না। সেজন্য যেসব গৃহহীন পরিবার আছে তাদের তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) ২৬ হাজার ২২৯টি গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

    শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীন দেশে কেউ যেন ভূমি ও ঠিকানাহীন না থাকে সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। প্রতিটি মানুষ যেন বসবাস করতে পারে, সেজন্য একটা জায়গা করে দেওয়া হবে। এটা প্রথম করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

    বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল বাংলার মানুষ খাদ্য পাবে, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান পাবে।

    সরকারপ্রধান বলেন, ঘর পাওয়ার পর মানুষের মুখে যে হাসি এর চেয়ে বড় কিছু পাওয়ার থাকে না।

    অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় ও মাগুরা জেলাসহ ৫২ উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে দেশব্যাপী মোট ৬৭ হাজার ৮০০টি ঘর দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল ৩২ হাজার ৯০৪টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকি আট হাজার ৬৬৭টি ঘর নির্মাণাধীন রয়েছে।

    প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২০২২ পর্যন্ত এক লাখ ৮৫ হাজার ১২৯টি বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    প্রথম পর্যায়ে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি, ৬৩ হাজার ৯৯৯ গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার তাদের মাথার ওপর ছাদ পায়। আর গত বছরের ২০ জুন আশ্রায়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫৩ হাজার ৩৩০টি পরিবার ঘর পায়।

    আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে সরকার ঘরগুলোকে অধিকতর টেকসই ও জলবায়ু সহিষ্ণু করে গড়ে তুলতে ঘরগুলোর নকশা পরিবর্তন করে। এতে ঘরগুলোর নির্মাণ খরচ বেড়ে যায়।

    ঘরগুলোকে অধিকতর টেকসই করে গড়ে তোলায় প্রতিটি ঘরের নির্মাণব্যয় এক লাখ ৯১ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দুই লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত হয়।

    ঘূর্ণিঝড় কিংবা বন্যার মতো যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি মাথায় রেখে বিশেষভাবে স্থানান্তরযোগ্য করে ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

  • খুলছে পদোন্নতির দ্বার, দ্বিতীয় গ্রেড পাচ্ছেন শিক্ষা ক্যাডাররা

    খুলছে পদোন্নতির দ্বার, দ্বিতীয় গ্রেড পাচ্ছেন শিক্ষা ক্যাডাররা

    নিউজ ডেস্কঃ

    প্রথম-দ্বিতীয় গ্রেডে পদোন্নতির সম্মতি সচিব কমিটির

    মাউশিকে তালিকা পাঠাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ

    বৈষম্য নিরসনের উদ্যোগে খুশি শিক্ষা ক্যাডাররা

    দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে। তৃতীয় গ্রেডের পর এবার তাদের দ্বিতীয় গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সম্মতি পাওয়া গেছে। পদোন্নতির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তালিকা চাওয়া হয়েছে। এ তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সংশ্লিষ্ট মাধ্যমে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

    মাউশি সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন অধিদপ্তর-সংস্থায় শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় গ্রেডের পদ থাকলেও সেখানে তারা পদোন্নতি পান না। এ কারণে এসব পদে কর্মকর্তাদের চলতি দায়িত্বে বসানো হয়। গত জুনের শেষ দিকে শিক্ষা ক্যাডারের ১০৪ জন অধ্যাপক পর্যায়ের কর্মকর্তাকে অষ্টম বেতন স্কেলের তৃতীয় গ্রেডে ‘সিলেকশন গ্রেড’ দিয়েছে সরকার। শিক্ষকদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর নতুন বেতন কাঠামোয় এই প্রথম ক্যাডারভুক্ত অধ্যাপকদের তৃতীয় গ্রেড দেওয়া হয়।

    জানা গেছে, এসএসবি বোর্ড সম্মতি দেওয়ায় শিক্ষা ক্যাডারে দ্বিতীয় গ্রেডে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পদোন্নতির জন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। বর্তমানে মাউশিতে তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তালিকা তৈরির পর তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেটি বোর্ডের অনুমোদন হওয়ার পর তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন হওয়ায় পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষক-কর্মকর্তাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

    জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, ‘বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও প্রত্যাশার পরিপ্রেক্ষিতে ১০৪ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিজি) গ্রেড-২ পদমর্যাদায় তিনটি পদ অনুমোদনের বিষয়টি সচিব কমিটিতে অপেক্ষমাণ। তৃতীয় গ্রেড যেভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, একইভাবে এসব পদেরও অনুমোদন দেওয়া হবে।’

    তিনি বলেন, ‘সারাদেশে এক হাজার ৭০ জন অধ্যাপকের মধ্যে মাত্র ১০৪ জনকে তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন বৈষম্য তৈরি হয়েছে। আমাদের দাবি ছিল, সব অধ্যাপককে তৃতীয় গ্রেড দেওয়া। সেটা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ২০১৬ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অর্থমন্ত্রী ও মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে দুটি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়। তারা মোট অধ্যাপকের অর্ধেককে তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়ার সুপারিশ করেন। ওই সময় সারাদেশে ৮৫০ জন অধ্যাপকের মধ্যে ৪০০-এর বেশি অধ্যাপককে তৃতীয় গ্রেডে নেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।’

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মাউশি ও নায়েমের মহাপরিচালক পদটি প্রথম গ্রেডের হলেও তারা চতুর্থ গ্রেডে থাকায় চলতি দায়িত্বে মহাপরিচালকদের বসানো হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পরিচালক, সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় গ্রেডের পদ থাকলেও তারা চতুর্থ গ্রেড পাচ্ছেন। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানও একই গ্রেড পেয়ে থাকেন। অথচ তৃতীয় গ্রেড যাদের দেওয়া হয়েছে, তারা এসব প্রতিষ্ঠানের অধীনস্থ। বর্তমানে পরিচালক পদে বসা কর্মকর্তারা মর্যাদায় তাদের নিচে চলে যাওয়ায় বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে।

    শিক্ষা ক্যাডারে সারাদেশে ১৬ হাজার সদস্য রয়েছে। আগে চতুর্থ গ্রেডের ওপরে পদোন্নতি না থাকায় শিক্ষক-কর্মকর্তারা উচ্চতর স্কেল পেয়ে কেউ কেউ পঞ্চম গ্রেডে, আবার কেউ ৬-১০ বছরের মধ্যে পে-স্কেলের বিশেষ সুবিধায় চতুর্থ গ্রেডের সুবিধা পাচ্ছেন। তাদের মধ্যেও বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারে পদ থাকলেও পদোন্নতি না থাকায় ওপরের পদে চলতি দায়িত্বে বসানো হচ্ছে।

    বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার সমিতির সভাপতি ও মাউশির মহাপরিচালক শাহেদুল খবির বলেন, ‘পদোন্নতি না থাকায় দীর্ঘদিন শিক্ষা ক্যাডারদের মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে। সেটি নিরসনে সব অধ্যাপককে তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতি দিতে হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রেডের পদ বাড়াতে হবে। এ ক্যাডারে পদোন্নতি দ্বার খোলায় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।’

    তিনি বলেন, ‘সারাদেশে সরকারি কলেজে শিক্ষক সংকট ও বৈষম্য নিরসনে সাড়ে ১২ হাজার নতুন পদসৃজনের বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালায়ে প্রক্রিয়াধীন। সেটি দ্রুত অনুমোদন দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি দিতে হবে। যোগদানের পর নবম গ্রেডের শিক্ষকরা বিভাগীয় পরীক্ষায় পাস, সন্তোষজনক চাকরি, সিনিয়র স্কেল পাওয়ার পর পরবর্তী পাঁচ বছর পর ষষ্ঠ গ্রেডে যাওয়ার বিধান থাকলেও সেটি মানা হচ্ছে না। এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে শিক্ষা ক্যাডারে সব বৈষম্যদূরীকরণ সম্ভব হবে।’

    শিক্ষা ক্যাডারে দীর্ঘদিনের বৈষম্য নিরসনে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা) মো. আবু বকর ছিদ্দীকও।

    তিনি বলেন, ‘সচিব কমিটিতে অনুমোদন হওয়ায় তৃতীয় গ্রেডে ১০৪ জন শিক্ষক-কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তারা দ্বিতীয় ও প্রথম গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়ার জন্যও সম্মতি জানিয়েছেন। আপাতত দ্বিতীয় গ্রেডের জন্য আমাদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে। মাউশিকে তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষা ক্যাডারে দ্বিতীয় গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়া হবে।’

  • দেশে ফিরেছেন ১৭০৩৯ হাজি

    দেশে ফিরেছেন ১৭০৩৯ হাজি

    নিউজ ডেস্কঃ হজ শেষে বুধবার (২০ জুলাই) পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ১৭ হাজার ৩৯ জন হাজি। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইটি হেল্পডেস্ক হজের বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    গত ১৪ জুলাই হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৪৬টি ফ্লাইটে হাজিরা দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ১৯টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স পরিচালিত ২২টি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৫টি ফ্লাইট রয়েছে। হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে আগামী ৪ আগস্ট।

    সৌদি আরবে মোট ২৩ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন। মারা যাওয়া হাজিদের মধ্যে পুরুষ ১৬ ও নারী সাতজন। মক্কায় ১৯, মদিনায় তিন ও জেদ্দায় একজন মারা যান।

    গত ৮ জুলাই সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হয়। ৫ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ১৬৫টি ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যান ৬০ হাজার ১৪৬ জন হজযাত্রী (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ)।

  • ২৬ হাজার পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছে আজ

    ২৬ হাজার পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছে আজ

    অনলাইন ডেস্কঃ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ভূমিসহ ঘর দেওয়ার কর্মসূচিতে এবার আরও ২৬ হাজার ২২৯টি ঘর দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী এসব ঘর হস্তান্তর করবেন।

    প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে দেশের চারটি উপজেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হবেন। এগুলো হলো- লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরকলাকোপা আশ্রয়ণ প্রকল্প, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা আশ্রয়ণ প্রকল্প, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চর ভেলামারী আশ্রয়ণ প্রকল্প, পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাহানপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার জঙ্গালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প।

    এদিন ৫২টি উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করবেন সরকারপ্রধান। এরইমধ্যে সব আয়োজন সম্পন্ন করছে উপজলা প্রশাসন।

    সরকার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৬৩ হাজার ৯৯৯টি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫৩ হাজার ৩৩০টি ঘর দিয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮০০ ঘর দেওয়ার কাজ করছে। এরইমধ্যে ৩২ হাজার ৯০৪টি দেওয়া হয়েছে। ২১ জুলাই ২৬ হাজার ২২৯টি দেবে। পাশাপাশি ৮ হাজার ৬৬৭টি নির্মাণাধীন।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নে নদীভাঙণে ক্ষতিগস্ত ২১০টি পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রতিটি পরিবারকে ২ দশমিক ৫ একর করে ভূমি বন্দোবস্ত প্রদান করে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম সর্বপ্রথম শুরু করেন। এখন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত এ ইউনিয়নে কলাকোপা আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৫ দশমিক ১৫ একর অবৈধ দখল উদ্ধারকৃত জমিতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে, ভিক্ষুক, বিধবা ও অসহায় ১ হাজার ৪২৫ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে।

    একইভাবে ‘আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প’র মাধ্যমে সারাদেশে ভূমিহীন গৃহহীনদের পুনর্বাসন করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা- ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’। এরইমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ৫ লাখ ৯ হাজার ৩৭০ পরিবারকে ভূমি ও সেমিপাকা ঘর করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্বাহী সেলের মাধ্যমে ৭ হাজার ৮০৯টি পরিবার, ভূমি মন্ত্রণালয় ৭২ হাজার ৪৫২টি পরিবার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ হাজার ২৩৭টি পরিবার, বাংলাদেশের গৃহায়ন তহবিল থেকে ৮৮ হাজার ৭৮৬টি পরিবার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২৮ হাজার ৬০৯টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এভাবে সারাদেশে মোট ৭ লাখ ১১ হাজার ৬৩ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

    ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত উপজেলাগুলো:
    পঞ্চগড় ও মাগুরা জেলার সব উপজেলাসহ দেশের ৫২টি উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

    উপজেলাগুলো হলো- ঢাকার নবাবগঞ্জ, মাদারীপুরের মাদারীপুর সদর, শরীয়তপুরের ডামুড্যা, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী, টাঙ্গাইলের গোপালপুর, মানিকগঞ্জের ঘিওর, সাটুরিয়া, রাজবাড়ীর কালুখালী, ফরিদপুরের নগরকান্দা, নেত্রকোনার মদন, ময়মনসিংহের ভালুকা, নান্দাইল, ফুলপুর, ফুলবাড়িয়া, জামালপুরে বকশীগঞ্জ, চট্টগ্রামের পটিয়া, কর্ণফুলী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, রামগঞ্জ, ফেনীর ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী, পঞ্চগড় সদর, দেবীগঞ্জ, তেঁতুলিয়া, বোদা।

    এছাড়া দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী, নীলফামারীর ডিমলা, নওগাঁর রাণীনগর, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, রাজশাহীর মোহনপুর, চারঘাট, বাঘা, বগুড়ার নন্দীগ্রাম, দুপচাঁচিয়া নাটোরের বাগাতিপাড়া, পাবনার ঈশ্বরদী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু, সাতক্ষীরার তালা, মাগুরার মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মোহম্মদপুর, শালিখা, ঝালকাঠির কাঠালিয়া, পটুয়াখালীর দশমিনা।

  • আমি তো সেদিনই মরে গেছি যেদিন কারাগারে এসেছি : ডা. সাবরিনা

    আমি তো সেদিনই মরে গেছি যেদিন কারাগারে এসেছি : ডা. সাবরিনা

    অর্থের বিনিময়ে নমুনা সংগ্রহ করে করোনার ভুয়া সনদ দেওয়ার মামলায় জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফুল হক চৌধুরী ও তার স্ত্রী ডা. সাবরিনা চৌধুরীসহ আটজনকে গতকাল ১১ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাজা ঘোষণার পর ডা. সাবরিনা বলেন, ‘বুঝতে পারছিলাম কিছু হবে, তবে এতটা হবে বুঝতে পারিনি।’

    আপিলের বিষয়ে সাবরিনা বলেন, ‘আমি জেকেজির চেয়ারম্যান ছিলাম না, এই সাজা কীভাবে হলো? আপিলের কথা তো পরে। একটা কথাই বলব। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গেই আছেন। এক দিন প্রমাণ হবে সাবরিনা নির্দোষ ছিল।’

    এ সময় এক আইনজীবী তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘ম্যাডাম আপনি দ্রুত বের হয়ে যাবেন। আপিল করা হবে।’ তখন সাবরিনা বলেন, ‘আমি তো সেদিনই মরে গেছি যেদিন আমাকে কারাগারে ঢুকানো হয়েছে। আমি বের হব কি না’ সেটা বড় বিষয় না। বড় কথা হলো আমি নির্দোষ কিন্তু দেশবাসী জানল আমি অপরাধী।’

    উল্লেখ্য, গতকাল দুপুরে অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেন করোনার ভুয়া সনদ দেওয়ার মামলার রায় ঘোষণা করেন।

    মামলার অন্য ছয় আসামি হলেন- আরিফুলের বোন জেবুন্নেছা রিমা, সাবেক কর্মচারী হুমায়ুন কবির হিমু ও তার স্ত্রী তানজিনা পাটোয়ারী, জেকেজির সমন্বয়ক আবু সাঈদ চৌধুরী, জেকেজির কর্মচারী বিপুল দাস ও শফিকুল ইসলাম রোমিও।

  • রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ৬৭ বিলিয়ন ডলার

    রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ৬৭ বিলিয়ন ডলার

    অনলাইন ডেস্কঃ চলতি (২০২২-২৩) অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬৭ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

    বুধবার (২০ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২১-২১ অর্থবছরে রপ্তানিতে আমরা ৬০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছি। সবদিক বিবেচনা করে এবার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১১ শতাংশ বাড়িয়ে ৬৭ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিস্তারিত আসছে…