Category: জাতীয়

  • বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার চোখে সর্ষে ফুল দেখছে: ফখরুল

    বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার চোখে সর্ষে ফুল দেখছে: ফখরুল

    অনলাইন ডেস্কঃ বিদ্যুৎসহ চলমান নানা সংকট সরকারকে পতনের দিকে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার চোখে সর্ষে ফুল দেখছে। জনগণ ফুঁসে উঠছে এবং সরকারের পতন তরান্বিত হবে।

    মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল (সোমবার) রাতে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের দুর্নীতি, পরিকল্পনার অভাব এবং অযোগ্যতার কারণেই লোডশেডিং ও জনভোগান্তি। এই সংকটের প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। শ্রীলঙ্কায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তারই শুরু।

    দ্রব্যমূল্য, মুদ্রাস্ফীতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিরুদ্ধে জনরোষকে ভিন্নদিকে নিতে পরিকল্পিতভাবে নড়াইলে সাম্প্রদায়িক হামলা দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই ঘটনা সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য দলের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করবে এবং তা জনসম্মুখে প্রকাশ করবে।

    সরকার বিশেষ কোম্পানিকে সুবিধা দিতে পাওয়ার প্ল্যান্ট করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, যার মূল কারণ চুরি ও দুর্নীতি। আর এর মূল্য দিতে হচ্ছে জনগণকে।

    দলের স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ওয়াসার পানির দাম এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক ৫৩টি অত্যাবশকীয় ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে। অবিলম্বে পানি ও ওষুধের মুল্য হ্রাসের দাবি জানানো হয়েছে। এই মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, অঙ্গ সংগঠন সমূহকে মহানগর এবং ওযার্ড পর্যায়ে প্রতিবাদ সভার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনের তলোয়ার নিয়ে বক্তব্য অহায়ত্বের প্রমাণ। এ কমিশনের অধীনে সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব নয়।

    গত ১৬ জুলাই রাতে সার্বিয়া থেকে বাংলাদেশে সমরাস্ত্র নিয়ে আসার সময় ইউক্রেনের একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব। এছাড়াও বন্যার কারণে স্থগিত দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনরায় শুরুর কথা জানান তিনি।

  • বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলা বিএনপি নেতাদের মুখে শোভা পায় না

    বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলা বিএনপি নেতাদের মুখে শোভা পায় না

    অনলাইন ডেস্কঃ বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলা বিএনপি নেতাদের মুখে শোভা পায় না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    তিনি বলেন, বিদ্যুৎ নিয়ে বিএনপি কোন মুখে বড় কথা বলে? তাদের কি বিন্দুমাত্র লাজ-শরম নেই? বিএনপি আমলে জনগণ বিদ্যুৎ পায়নি, পেয়েছিল খাম্বা। তারপরও তারা কীভাবে বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলেন?

    মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) সকালে তার বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। লোডশেডিং নিয়ে বিএনপি নেতাদের বিভিন্ন মিথ্যা বক্তব্যের জবাব দিতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, যারা দেশকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছিল, দিনের পর দিন যাদের শাসনামলে দিনের অর্ধেক সময় লোডশেডিং চলতো, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, তারা আজ বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলে।

    তিনি বলেন, জনগণ বিদ্যুৎ সংযোগহীন খাম্বা দুর্নীতির কথা এখনো ভুলে যায়নি। ভুলে যায়নি বিদ্যুতের দাবিতে মিছিলে গুলির কথা, হারিকেন-কুপি নিয়ে বিক্ষোভ এবং বিদ্যুৎ ভবন ঘেরাওয়ের কথা।

    দেশ ও জনগণের কল্যাণে সরকারের গৃহীত এবং গৃহীতব্য ব্যবস্থার সঙ্গে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশবাসীকে সাময়িক এ অসুবিধায় ধৈর্য ধরা এবং সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দেন তার ওপর অতীতে যেমন আস্থা রেখেছেন, এখনো রাখুন।

    কারও কথায় কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ সংকট থেকে উত্তরণ হবে।

    লোডশেডিংয়ের কারণে সরকারের পতন হবে- বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতাদের এমন রঙিন খোয়াব অচিরেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে সারা পৃথিবীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়েছে, বাংলাদেশেও করোনার করাল গ্রাসের সঙ্গে সংগ্রাম করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে নিজেদের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। সাম্প্রতিকালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এর আন্তর্জাতিক পরিণতি বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আবারও কিছুটা হুমকির মুখে ফেলেছে।

    এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি মার্কেট চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি যাতে বড় কোনো ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সে লক্ষ্যে সরকারকে আগেভাগেই কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

    তিনি বলেন, জাপানের মতো উন্নত ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশও তাদের সাড়ে তিন কোটির বেশি মানুষকে নিয়মিত বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে পারছে না, একই অবস্থা অস্ট্রেলিয়ারও। তাই সবাইকে এই সংকটকালে রেশনিং করতে হচ্ছে।

    কাদের বলেন, যুক্তরাজ্যে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে, উন্নত রাষ্ট্র আমেরিকায়ও এসএমএসের মাধ্যমে জনগণকে এনার্জির ব্যবহার লিমিট করতে বলা হয়েছে।

    দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানকে চাঙা রাখার লক্ষ্যে সরকার শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিশ্বব্যাপী পরিবর্তিত সংকটময় পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় সরকার ও জনগণের সাধ্যের মধ্যে রাখার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে এবং রেশনিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

  • ১৬ ডিসেম্বর চালু হবে মেট্রোরেল

    ১৬ ডিসেম্বর চালু হবে মেট্রোরেল

    নিউজ ডেস্কঃ ঢাকার যানজট থেকে মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে বহুল প্রতীক্ষিত মেট্রোরেল চলাচলের সময় নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হবে মেট্রোরেল। চলবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত।

    মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

    একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে বলেন, ডিসেম্বর মাসে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পযর্ন্ত মেট্রোরেল চলবে। প্রতিটি ল্যান্ডিং স্টেশনে পার্কিং স্পেস করতে বলেছেন। এয়ারপোর্ট থেকে এয়ারপোর্ট রেলস্টেশন পর্যন্ত আন্ডারপাস করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    এসময় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট সচিব উপস্থিত ছিলেন।

    উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার অংশের কাজ প্রায় শেষ। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এ অংশে মেট্রোরেল চলাচল উদ্বোধন করা হবে। কাজ চলছে প্রকল্পের বাকি অংশেও। তবে মতিঝিল ছাড়িয়ে মেট্রোরেলের রুট কমলাপুর পর্যন্ত নেওয়ায় প্রকল্পের কাজ বেড়ে গেছে। মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার ধরে মেট্রোরেলের রুট দাঁড়াচ্ছে ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার। কাজ বাড়ার কারণে বেড়েছে ব্যয়ও। ডিপিপির দ্বিতীয় সংশোধন প্রস্তাবে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা।

  • বিদ্যুৎসহ সবক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    বিদ্যুৎসহ সবক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্কঃ বিদ্যুৎসহ সবক্ষেত্রে জনগণকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

    সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বিদ্যুৎসহ সব ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী আমাদের মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    মন্ত্রী বলেন, সরকারপ্রধান বলেছেন— মিতব্যয়ী হতে হবে। আসুন সবাই মিতব্যয়ী হই। সরকারের বাইরে যারা সাধারণ নাগরিক আছেন সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।’

    পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নতুন বলছেন না। অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন। মিটিং ছাড়া সামারে আপনারা স্যুট-কোট পরবেন না। প্রধানমন্ত্রী আগে থেকেই বলে আসছেন আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, রয়টার্সে একটা লেখা বের হয়েছে— ১০টি দেশ শ্রীলঙ্কা হতে চলছে সেখানে বাংলাদেশের নামে নেই। আমদানি নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে। বাংলাদেশ সুন্দর অবস্থানে আছে। আমরা স্বস্তির জায়গায় আছি, ডলার ক্রাইসিস ছিল তা ম্যানেজ করে ফেলেছি।’

  • ক্ষমা চাইলেন সিইসি, দুষলেন গণমাধ্যমকে

    ক্ষমা চাইলেন সিইসি, দুষলেন গণমাধ্যমকে

    অনলাইন ডেস্কঃ নির্বাচনের মাঠে কেউ তলোয়ার নিয়ে এলে তাকে মোকাবিলায় বন্দুক নিয়ে দাঁড়ানোর পরামর্শ নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। কথাটি কৌতুক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

    মঙ্গলবার ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে সিইসি ওই দলকে এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, এ বক্তব্যের এজন্য আমি অনুতপ্ত। তবে এই বক্তব্য আমি মিন করে বলিনি। কৌতুক করে বলেছি। মিন করে বললে অস্ত্র সংগ্রহ করতে বলতাম।

    এ সময় সিইসি গণমাধ্যমকেও দোষারোপ করেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম বুঝে, না বুঝে আর ওই বক্তব্য প্রচার করে তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে দিয়েছে।

    এদিন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত আমিনীর নেতৃত্বে ঐক্যজোটের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সংলাপে অংশ নেয়। সংলাপে বক্তব্যের সময় ‘তলোয়ার নিয়ে এলে আপনারা রাইফেল নিয়ে দাঁড়াবেন’—সিইসিকে এ ধরনের বিতর্কিত বক্তব্য না দেওয়ার পরামর্শ দেয় দলটি। পরে সমাপনী বক্তব্যে সিইসি এর জবাব দেন।

    এনডিএম’র সঙ্গে সংলাপে এ ধরনের একটি বক্তব্য আসার বিষয়টি উল্লেখ করে সিইসি হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমার এক ভাই বলেছেন একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। পরশু আমি বলেছিলাম যে ‘কেউ তলোয়ার নিয়ে এলে আপনারা রাইফেল নিয়ে দাঁড়াবেন’। এটা আপনাদের বুঝতে হবে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই কথাটি কখনও মিন করে বলতে পারেন না। আমি হয়ত অল্প শিক্ষিত। অল্প শিক্ষিত হলেও তারা এ ধরনের কথা বলতে পারেন না।

    গণমাধ্যমকে তথ্য সরববাহে নির্বাচন কমিশনের উদার-নৈতিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমরা যতগুলো সম্মেলন বা আলোচনা করেছি কোনো রাখঢাক করিনি। বড় স্ক্রিনে আমার কথা ও ছবি প্রচার করা হয়। কিন্তু কেন মিডিয়া এটা করল? এটা কি বুঝে, নাকি না বুঝে। ওনাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ‍খুবই আছে। কিন্তু এটা করে আমার মর্যাদাকে একেবাবেই ক্ষুণ্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং আপনারাও এটা বিশ্বাস করছেন।

    তিনি বলেন, আমার বাবা বেঁচে থাকলে উনিও বিশ্বাস করতেন না যে আমার ছেলে এমন বাজে পরামর্শ দিল কেন? আমার মা বেঁচে থাকলেও বিশ্বাস করতেন না। ওনারা সবাই পেপার পড়তেন। পেপার পড়ে তারা হয়তো বলতেন— ‘বাবু এত খারাপ পরামর্শ দিলে কেন’। আমি এজন্য এটাই বলব— কখনও কখনও আমরা ভুল করে ফেলি। এর জন্য অনুতপ্ত। আমি হিউমার করতে গিয়েছিলাম। এটাই আসল। কিন্তু ওটাকে ওইভাবে প্রচার না করে কিছুটা বস্তুনিষ্ঠভাবে যদি বলা হতো— ‘উনি হিউমার করে বলেছেন’। তাহলে আমার হয়তো..। আমি এটা বলেছি এটা আপনারাও (ঐক্যজোট) বিশ্বাস করেছেন। এজন্য বলেছেন আমি যেন এ ধরনের কথা না বলি। কিন্তু এটা আমি মিন করে বলিনি। যাক আমাকে ক্ষমা করবেন এজন্য। ক্ষমা করবেন।

  • মেট্রোরেলের ব্যয় বৃদ্ধিসহ ৮ প্রকল্প অনুমোদন

    মেট্রোরেলের ব্যয় বৃদ্ধিসহ ৮ প্রকল্প অনুমোদন

    নিউজ ডেস্কঃ মেট্রোরেল নির্মাণে প্রায় ১১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা ব্যয় ও দেড় বছর সময় বাড়ানোসহ প্রায় ১৫ হাজার ৮৫৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

    মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    শেরে বাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

    প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদনের ফলে মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় বাড়লো ১১ হাজার ৪৮৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং নির্মাণ কাজ শেষ করার মেয়াদ বাড়ানো হলো দেড় বছর। একই সঙ্গে এর দৈর্ঘ্য বাড়বে ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার। মেট্রোরেলের নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির ফলে এখন পর্যন্ত এর মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। সর্বশেষ মেট্রোরেলের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা।

    মেট্রোরেলের ব্যয় ও সময় বৃদ্ধিসহ মঙ্গলবার মোট ৮টি প্রকল্প অনুমোদন করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সবগুলো প্রকল্প নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ১৫ হাজার ৮৫৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১২ হাজার ৪৪৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৩৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ৩ হাজার ২৭৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো
    সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ৩টি প্রকল্প যথাক্রমে ‘চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি জাতীয় মহাসড়ক (এন-১০৬) এর হাটহাজারী হতে রাউজান পর্যন্ত সড়কাংশ ৪-লেনে উন্নীতকরণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প; ‘ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ডেভেলপমেন্ট (লাইন-৬) (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প এবং ‘নরসিংদী সড়ক বিভাগের আওতায় ইটাখোলা-মঠখোলা-কটিয়াদী সড়ক (আর-২১১) ও নয়াপাড়া-আড়াইহাজার নরসিংদী-রায়পুরা (আর-১১৪) দুটি আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথমানে প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্প; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘ময়মনসিংহ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের জন্য ধনুয়া হতে ময়মনসিংহ পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ’ প্রকল্প; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘ইলেকট্রনিক ডাটা ট্র্যাকিংসহ জনসংখ্যা ভিত্তিক জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কর্মসূচি (ইপিসিবিসিএসপি) (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প; পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘খাগড়াছড়ি শহর ও তৎসংলগ্ন অবকাঠামো নদী ভাঙন হতে সংরক্ষণ’ প্রকল্প; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প যথাক্রমে ‘উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন (UGDP) (২য় সংশোধিত) (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প এবং ‘বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প।

    পরিকল্পনা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা একনেক সভার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

    সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, এসডিজির মুখ্য সমন্বয়ক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • আজ ৭৫ লাখ মানুষ পাবে বুস্টার ডোজ

    আজ ৭৫ লাখ মানুষ পাবে বুস্টার ডোজ

    অনলাইন ডেস্কঃ করোনা সংক্রমণ রোধে মঙ্গলবার দেশব্যাপী বুস্টার ডোজ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ ৭৫ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ও তুলনামূলক কম বুস্টার (তৃতীয়) ডোজ কাভারেজ বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    আজ ১৮ বছরের বেশি যে কেউ দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার চার মাস পূর্ণ হলে বুস্টার ডোজ গ্রহণ করতে পারবেন। সকাল ৯টা থেকে বুস্টার ডোজ হিসেবে ফাইজার টিকা দেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

    তিনি জানান, এই ক্যাম্পেইন চলাকালে দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলাসমূহের ওয়ার্ড পর্যায়েও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একদিনে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষকে সুষ্ঠুভাবে ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্যে সারাদেশে ৬২৩টি স্থায়ী ও ১৫ হাজার ৫৫৮টি অস্থায়ী কেন্দ্রে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    জানা গেছে, বুস্টার ডোজ ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য উপযুক্ত প্রমাণ প্রদর্শন সাপেক্ষে (কোভিড-১৯ টিকার কার্ড বা সনদ) নিকটবর্তী টিকাদান কেন্দ্র বা দেশের যেকোনো কোডিড-১৯ টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা গ্রহীতা এ বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন।

    ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, ঢাকা ডেন্টাল কলেজসহ ১৬টি কেন্দ্রে ৮টি করে টিম ও ১১টি কেন্দ্রে ৪টি টিম কাজ করবে। এছাড়া দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ১০টি কেন্দ্রে ৮টি করে টিম ও ৪টি কেন্দ্রে ৪টি করে টিম কাজ করবে।

    একটি টিমে ২ জন টিকাদানকারী ও ৩ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবে। প্রতিটি টিম ৫০০ জনকে টিকা প্রদান করবে। সকাল ৯টা থেকে বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে। এছাড়াও এদিন নিয়মিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ১ম ও ২য় ডোজের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।

  • সাবরিনাসহ ৮ আসামির ১১ বছরের কারাদণ্ড

    সাবরিনাসহ ৮ আসামির ১১ বছরের কারাদণ্ড

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার মামলায় জেকেজি হেলথ কেয়ারের শীর্ষ কর্মকর্তা ডা. সাবরিনাসহ ৮ আসামিকে ১১ বছরে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেন মঙ্গলবার দুপুরে আলোচিত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।

    সাবরিনা ছাড়া মামলার বাকি আসামিরা হলেন—সাবরিনার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরী, সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারী, শফিকুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইন্সেসের স্বত্বাধিকারী জেবুন্নেছা রিমা, বিপ্লব দাস। আসামিরা সবাই কারাগারে রয়েছেন।

    আসামিদের প্রত্যেককে দণ্ডবিধির তিনটি ধারায় এই সাজা দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় ৩ বছর, ৪৬৬ ধারায় ৪ বছর আর ৪৭১ ধারায় ৪ বছর মোট ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২৯ জুন এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার ১৯ জুলাই রায়ের দিন ঠিক করা হয়।

    এর আগে মামলাটিতে গত ১১ মে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। গত ২০ এপ্রিল মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

    মামলার তদন্ত শেষে গত ৫ আগস্ট আদালতে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে জেকেজি হেলথ কেয়ারের কম্পিউটারে এক হাজার ৯৮৫টি ভুয়া রিপোর্ট ও ৩৪টি ভুয়া সার্টিফিকেট জব্দের কথা বলা হয়েছে। গত বছর ২৩ জুন জেকেজির সিইও আরিফসহ পাঁচজনকে আটক করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। ওই ঘটনায় তেজগাঁও থানায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ জুন জেকেজির সাবেক গ্রাফিক্স ডিজাইনার হুমায়ুন কবীর হিরু ও তার স্ত্রী তানজীন পাটোয়ারীকে আটক করে পুলিশ। হিরু স্বীকারোক্তি দিয়ে জানান, তিনি ভুয়া করোনা সার্টিফিকেটের ডিজাইন তৈরি করতেন, যার সঙ্গে জেকেজি গ্রুপের লোকজন জড়িত। ওই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জেকেজির সিইও আরিফুলসহ চারজনকে আটক করে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীর জ্ঞাতসারেই সব কিছু হয়েছে বলে পুলিশকে জানান আটক ব্যক্তিরা।

    এরপর ওই বছর ১২ জুলাই ডা. সাবরিনা চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ১৩ জুলাই ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। ওই রিমান্ডের পর ১৭ জুলাই তার ফের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ২৩ জুন আরিফ চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ১৫ জুলাই তাকে ফের ৪ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। সব আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

    ২০২০ সালের ৫ আগস্ট এ মামলায় ঢাকা সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী। একই বছরের ২০ আগস্ট সাবরিনাসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত।

    ডা. সাবরিনা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক। তিনি আরিফের চতুর্থ স্ত্রী। তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী রাশিয়া ও লন্ডনে থাকেন। তৃতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তালাক হয়েছে তার। চতুর্থ স্ত্রী ডা. সাবরিনার কারণেই করোনার নমুনা সংগ্রহের কাজ পায় জেকেজি হেলথকেয়ার।

    প্রথমে তিতুমীর কলেজ মাঠে স্যাম্পল কালেকশন বুথ স্থাপনের অনুমতি মিললেও প্রভাব খাটিয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ৪৪টি বুথ স্থাপন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। নমুনা সংগ্রহের জন্য মাঠকর্মী নিয়োগ দেন তারা। তাদের হটলাইন নম্বরে রোগীরা ফোন দিলে মাঠকর্মীরা বাড়ি গিয়ে এবং বুথ থেকেও নমুনা সংগ্রহ করতেন। এভাবে নমুনা সংগ্রহ করে তারা ২৭ হাজার রোগীকে করোনা টেস্টের রিপোর্ট দেন, যার মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের করোনার নমুনা আইইডিসিআরের মাধ্যমে সঠিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০ জনের রিপোর্ট প্রতিষ্ঠানটি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে। প্রতিটি সার্টিফিকেটের বিনিময়ে তারা ৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন।

  • নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    অনলাইন ডেস্কঃ আজ ১৯ জুলাই, নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের এ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানেন জনপ্রিয় এ কথাশিল্পী। মৃত্যুর পর তাকে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে তার নিজ হাতে গড়া স্বপ্নের নুহাশপল্লীতে সমাহিত করা হয়।

    তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারো নুহাশপল্লীতে খতমে কুরআন, দোয়া মাহফিলের আয়োজন এবং তার কবরে শ্রদ্ধা জানানো হবে। এ ছাড়া বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

    হুমায়ূন আহমেদের শরীরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে মারণব্যাধি ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে যান। ২০১২ সালের ১৬ জুলাই সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২৩ জুলাই দেশে ফিরিয়ে আনা হয় হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ। ২৪ জুন তাকে দাফন করা হয় তার গড়ে তোলা গাজীপুরের নুহাশপল্লীর লিচুতলায়।

    হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। উপন্যাসে তার প্রতিভার বিস্তার ঘটলেও শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এরপর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন প্রতিভার স্বাক্ষর। হুমায়ূন আহমেদ বাংলাসাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জনকও বটে। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পরপরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উপন্যাস ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়। জনপ্রিয়তায় তিনি একক ও অনন্য।

    জনপ্রিয় কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। স্কুলজীবনে হুমায়ূন আহমেদকে বাবার চাকরিস্থল কুমিল্লা, সিলেট, বগুড়া, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলায় বাস করতে হয়। তিনি ১৯৬৭ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা (রাজশাহী বিভাগে মেধাতালিকায় দ্বিতীয়), ১৯৬৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোট ভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক।

    বাবার চাকরির সুবাদে হুমায়ূন আহমেদকে দেশের নানান জায়গায় অবস্থান করতে হয়েছে। তাই তাকে শৈশবের বেশির ভাগ সময় দিনাজপুরে কাটাতে হয়েছে। সেখানকার এমন কিছু স্মৃতি রয়েছে, যা তিনি কখনো ভুলতে পারেননি। মনের গভীরে যে রেখাপাত হয়েছিল হয়তো সে কারণেই সেখানে থাকাকালীন তিনি লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ হন। ১৯৬৫ সালে তিনি বগুড়া জিলা স্কুল থেকে মেট্রিক (এসএসসি) পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএ (এইচএসসি) মেধাতালিকায় পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে। ১৯৭২ সালে সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতকোত্তর পাস করে প্রথমে প্রভাষক হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও পরে অধ্যাপক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি অর্জন করেন।

    লেখালেখিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে শিক্ষকতা থেকে তিনি অবসর নেন। শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে হুমায়ূন আহমেদ গাজীপুরে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নূহাশ পল্লী’।

    হুমায়ূন আহমেদের ১১৮টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে অন্য প্রকাশ। তার প্রকাশিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বই হচ্ছে, জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প, মধ্যাহ্ন, কিশোর সমগ্র, হিমুর আছে জল, লীলাবতী, হরতন ইস্কাপন, হিমুর বাবার কথামালা, আজ হিমুর বিয়ে, হিমু রিমান্ডে, মিছির আলীর চশমা, আমিই মিছির আলী, দিঘির জলে কার ছায়া গো, কিছু শৈশব, হুমায়ূন আহমেদের ভৌতিক অমনানিবাস, আগুনের পরশমণি, পাপ ৭১, শ্রাবণ মেঘের দিন।

    তার নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে— শংখনীল কারাগার, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা ও শ্যামল ছায়া। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৪ সালে ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন।

    ১৯৭৩ সালে হুমায়ূন আহমেদ প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁর নাতনী গুলতেকিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথমপক্ষে এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। ১৯৯০ সালে তিনি অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয়পক্ষে দুই ছেলে রয়েছে। শাওনের সঙ্গে স্বামীর এ অসম বিয়ে কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি গুলতেকিন। দাম্পত্য কলহের কারণে শেষপর্যন্ত ২০০৫ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

  • দেশে ফিরলেন ১২৩০৬ হাজি, সৌদিতে আরও একজনের মৃত্যু

    দেশে ফিরলেন ১২৩০৬ হাজি, সৌদিতে আরও একজনের মৃত্যু

    নিউজ ডেস্কঃ পবিত্র হজ শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ১২ হাজার ৩০৬ জন হাজি। এছাড়া সৌদি আরবে আরও একজন বাংলাদেশি হাজি মারা গেছেন। সৌদি আরবে এ নিয়ে মোট ২৩ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী-হাজি মারা গেলেন।

    ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইটি হেল্পডেস্ক হজের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    গত ১৪ জুলাই হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৩৩ টি ফ্লাইটে ১২ হাজার ৩০৬ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ১৩টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স পরিচালিত ১৬টি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৪টি ফ্লাইট রয়েছে। হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে আগামী ৪ আগস্ট।

    আইটি হেল্পডেস্ক জানিয়েছে, সর্বশেষ গত ১৭ জুলাই চট্টগ্রাম হালিশহরের মো. কামাল উদ্দিন মজুমদার (৬২) মক্কায় মারা যান। তার পাসপোর্ট নম্বর EF0604591।

    মারা যাওয়া হজযাত্রী-হাজিদের মধ্যে পুরুষ ১৬ ও ৭ জন নারী। তাদের মধ্যে মক্কায় ১৯ জন, মদিনায় ৩ ও জেদ্দায় একজন মারা যান।

    গত ৮ জুলাই সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হয়। ৫ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ১৬৫টি ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যান ৬০ হাজার ১৪৬ জন হজযাত্রী (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ)।