Category: জাতীয়

  • পশুর হাটে বিরক্তির আরেক নাম ইউটিউবার!

    পশুর হাটে বিরক্তির আরেক নাম ইউটিউবার!

    পশুর হাট থেকে পছন্দের পশু কিনে বের হতেই ইউটিউবারদের কবলে পড়তে হচ্ছে ক্রেতাদের। পশুর হাসিল দেখাবেন নাকি ইউটিউবারদের প্রশ্নের জবাব দেবেন, তাই নিয়ে বিড়ম্বনা পড়ছেন তারা।

    ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গণমাধ্যমকর্মীদেরও। ইউটিউবারদের কারণে প্রতিবেদকদের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতে চান না হাটের ক্রেতা-বিক্রেতারা। গাবতলী পশুর হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। গত চার দিনে দেখা গেছে, গাবতলী পশুর হাটের প্রধান গেট দিয়ে কোরবানির পশু নিয়ে বের হওয়ার সময় ক্রেতাদের ঘিরে ধরেন একদল ইউটিউবার।

    গরু নিয়ে আসতে দেখলেই ক্রেতাদের ঘিরে ধরছেন তারা। দাম কত বলে ভিডিও করতে শুরু করেন। দাম না বলা পর্যন্ত ক্রেতাদের পেছনে দৌড়াতে থাকেন তারা। টঙ্গী থেকে গাবতলীতে গরু কিনতে এসেছেন মো. তুষার। তিনি বলেন, আমি গরু কিনেছি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে।

    গরু কিনে গাবতলী হাটের গেট দিয়ে বের হওয়ার পরেই আমাকে ঘিরে ধরেছেন ইউটিউবাররা। এরা জানতে চাইছেন দাম কত, ওজন কত হবে, কোথায় যাবো নানা বিষয়। বলেন তো হাসিল দেব নাকি এদের প্রশ্নের জবাব দেব?

    দৈনিক সংবাদের প্রতিবেদক শফিউল আলম ইমরান বলেন, ইউটিউবারদের ঝামেলায় কোথাও গিয়ে কাজ করতে পারি না। শুধু পশুর হাট নয়, বড় বড় ইভেন্টের স্পটে এরা ঝামেলা করেন। এদের জন্য সঠিক তথ্য তুলে আনতে আমাদের মাঝে মাঝে অনেক বেগ পোহাতে হয়। অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইউটিউবারদের জন্য নীতিমালা করা উচিত। না হলে গণমাধ্যমকর্মীরা সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে না।

    গাবতলী পশুর হাটে আসা মো. মামুন নামে এক ইউটিউবারকে ভিডিও করতে দেখা যায়। গরুর দাম কত, ওজন কত, তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে দেখা যায় হাটে আসা ক্রেতাদের।তার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

    তিনি বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছি। গাবতলীতে এসেছি ব্লগ বানাতে। আমার ২ হাজার ফলোয়ার আছে। দুইটা ইউটিউব চ্যানেল আছে আমার। উল্টো প্রতিবেদককে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, আপনি সাংবাদিক আপনার ক্যামেরা কোথায়? আপনি কী কাজ করছেন, কী ভিডিও করছেন দেখান?

  • বিএনপির সময় বিদ্যুতের পরিবর্তে খাম্বা উপহার পেয়েছিল জনগণ’

    বিএনপির সময় বিদ্যুতের পরিবর্তে খাম্বা উপহার পেয়েছিল জনগণ’

    বিএনপির শাসনামলে জনগণ বিদ্যুতের পরিবর্তে খাম্বা এবং পুলিশের গুলিতে লাশ উপহার পেয়েছিল বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এক সভায় এ কথা জানান তিনি।

    সারাবিশ্বে এখন বিদ্যুতের সমস্যা উল্লেখ করে সবাইকে ধৈর্য ধরে এ সমস্যা মোকাবিলার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

    তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা যখন বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলে তখন তাদের শাসনামলের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের সেই দুঃসময়ের কথা মনে পড়ে যায়।

    ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপি নেতাদের যদি লজ্জা থাকতো তাহলে তারা লোডশেডিং নিয়ে কথা বলতেন না।

    শেখ হাসিনার মতো দক্ষ নেতা ক্ষমতায় আছেন বলেই বাংলাদেশ এখনো বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অর্থনীতিতে ভারসাম্য বজায় রেখেছে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী।

    বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

  • মোটরসাইকেলে বিধিনিষেধ দেওয়ায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে

    মোটরসাইকেলে বিধিনিষেধ দেওয়ায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে

    ঈদযাত্রায় মহাসড়কে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ করায় ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

    সংগঠনটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ ও নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    তারা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ মোটরযান হলেও অসংখ্য মানুষ তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। শহরের অসহনীয় যানজট, গণপরিবহনে যাতায়াত ব্যয়বহুল ও জনবান্ধব না হওয়ায় মোটরসাইকেলের ব্যবহার বেড়েছে। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল।

    সংগঠনটির দুই নেতা বলেন, মোটরসাইকেলসহ স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য আলাদা অংশ নির্মাণ না করেই জেলা-উপজেলা পর্যায়ের গ্রামীণ-আঞ্চলিক সড়কগুলোকে মহাসড়কের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে মহাসড়ককে পুরোপুরি এড়িয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে দূর গন্তব্যে পৌঁছানোর কোনো সুযোগ নেই।’

    ‘এদিকে, সরকার গণপরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা-নৈরাজ্য বন্ধ করতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। বেসরকারি বাসমালিকদের অযৌক্তিক বিরোধিতার মুখে বিআরটিসি বাসের সেবা উন্নত ও বিস্তৃত করছে না। এ বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের কাছে মোটরসাইকেল এক প্রকারের গণপরিবহন হয়ে উঠেছে। যদিও মোটরসাইকেল কখনো গণপরিবহন কিংবা গণপরিবহনের বিকল্প হতে পারে না।’

    সংগঠনটির দুই নেতা আরও বলেন, এর আগে কিছু মানুষ সবসময়ই মোটরসাইকেলে ঈদযাত্রা করেছেন। তবে, গত ঈদুল ফিতরে এটা চরম আকার ধারণ করে, দুর্ঘটনাও বাড়ে। সে কারণে এবার সরকার মহাসড়কে মোটরসাইকেল পুরোপুরি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ঈদে বিপুলসংখ্যক ঘরমুখী মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক মানসম্মত গণপরিবহন দেশে নেই।

    ‘মানুষের আপনজনের কাছে ফেরার আবেগকে পুঁজি করে বহু অসাধু পরিবহনমালিক তাদের ভাঙাচোরা পরিবহন রাস্তায় নামাবেন ও অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে গাদাগাদি করে যাত্রী বহন করবেন। এতে দুর্ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যে পরিমাণ হতাহত হয়, তার চেয়ে একটি বাস দুর্ঘটনায় আরও বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে।’

    ‘এছাড়া, বিশেষ প্রয়োজনে পুলিশের অনুমতি নিয়ে মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগ রাখার কারণে অনৈতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্র তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।’

    তারা আরও বলেন, সব পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা ঈদযাত্রায় শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালকদের নিরাপদ গতিসীমায় মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। এটি না করলে ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।

    ‘আমরা মনে করি, একটি টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে গণপরিবহন উন্নত, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে ক্রমান্বয়ে মোটরসাইকেলে নিরুৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে কিশোর-তরুণরা যাতে মোটরসাইকেল চালাতে না পারে সেজন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিতসহ পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।’

  • ঈদে আলোকসজ্জা নয়, জামাতে অংশ নিতে পরতে হবে মাস্ক

    ঈদে আলোকসজ্জা নয়, জামাতে অংশ নিতে পরতে হবে মাস্ক

    আসন্ন ঈদুল আজহা উদযাপনে আট দফা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না। ঈদের জামাতে অংশ নিতে পরতে হবে মাস্ক, জামাতে দাঁড়াতেও হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

    বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এসব নির্দেশনা দিয়েছে।

    আগামী ১০ জুলাই মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। ঈদের দিন মুসলমানরা জামাতের সঙ্গে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন।

    বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে আটটি নির্দেশনা অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। সেগুলো হলো-

    ১. আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না।

    ২. সবাইকে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে ঈদগাহে বা মসজিদে যেতে হবে।

    ৩. করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদ বা ঈদগাহের ওজুখানায় সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।

    ৪. ঈদের নামাজের জামায়াতে যাওয়া মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে যেতে হবে। মসজিদ বা ঈদগাহে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

    ৫. ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে। এক কাতার ফাঁকা রেখে নামাজে দাঁড়াতে হবে।

    ৬. করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষে মহান আল্লাহর দরবারে খতিব ও ইমামদের দোয়া করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

    ৭. খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এবং

    ৮. পশু কোরবানির ক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে বলা হয়েছে।

    প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

  • বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞা

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞা

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। অনুষ্ঠান উপলক্ষে কোনো স্থাপনায় আলোকসজ্জা না করার নির্দেশ দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

    বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) এ চিঠি দেওয়া হয়েছে।

    সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং বিভাগীয় কমিশনারদের এই নির্দেশনার চিঠি দেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনায় বলা হয়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সারাদেশে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, দোকানপাট, অফিস ও বাসাবাড়িতে আলোকসজ্জা না করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

    প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, প্রধান তথ্য অফিসার, সব জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছেও নির্দেশনার চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

    সরবরাহ সংকট থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। বিশ্ববাজারে দাম চড়া, তাই খোলাবাজার (স্পট মার্কেট) থেকে আপাতত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনছে না সরকার।

    দেশে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হয় এর একটি বড় অংশ ব্যবহার করা হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দামের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। তাই গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংকটে বিঘ্নিত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী সবগুলো বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার প্রধান এবং অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা কমানো এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালুর জন্য জনপ্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। দৈনিক কর্মঘণ্টা ২ ঘণ্টা কমানোর সুপারিশ করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, আজকের সভায় যেটা সিদ্ধান্ত হলো, প্রত্যেককে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হতে হবে। পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হতে হবে। বাজার-শপিংমল-মসজিদ-অফিস-আদালতে এসির ব্যবহার কমাতে হবে। এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির নিচে রাখা যাবে না। এছাড়া দোকানপাট ও শপিংমল তাড়াতাড়ি বন্ধ করতে হবে।

  • টাকা বহনে সহায়তা করবে পুলিশ

    টাকা বহনে সহায়তা করবে পুলিশ

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি বাড়ছে নগদ অর্থের লেনদেন ও স্থানান্তর। ঈদকেন্দ্রিক চুরি, ছিনতাইসহ মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির অপতৎপরতাও বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় বড় অংকের অর্থ উত্তোলন বা বহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানি এসকর্ট সেবা দিচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) এক বার্তায় ডিএমপি জানায়, একটু অসতর্কতার জন্য কষ্টে উপার্জিত অর্থ ছিনিয়ে নিতে পারে দুষ্কৃতকারীরা। সিসি ক্যামেরা আছে এমন ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন, ট্রাফিক সিগন্যাল বা জ্যামে অতিরিক্ত সতর্কতাসহ অর্থ বহন ও উত্তোলনে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।বিজ্ঞাপনডিএমপির ১৫ পরামর্শ১. বড় অংকের অর্থ একা বহন করবেন না। সঙ্গে অতিরিক্ত একাধিক বিশ্বস্ত ব্যক্তি রাখুন। অর্থ বহন সংক্রান্ত কোনো তথ্য আগেই অন্যকে জানানো থেকে বিরত থাকুন।বিজ্ঞাপন২. পায়ে হেঁটে অথবা রিকশায় অর্থ বহনের পরিবর্তে মোটরসাইকেল কিংবা গাড়িতে অর্থ বহন করুন।৩. নগদ অর্থ বহনের আগে নিশ্চিত হতে হবে যেন দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কেউ দুষ্কৃতকারীদের না জানিয়ে দেয়।বিজ্ঞাপন৪. দৈনিক নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন হলে মাঝে মাঝে ভিন্নপথ ব্যবহার করুন, যেন দুষ্কৃতকারীরা আগেই ওঁৎপেতে থাকার সুবিধা নিতে না পারে।৫. অর্থ বহনের সময় ব্যাগ এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে যেন বাইরে থেকে বোঝা না যায়। এতে দুষ্কৃতকারীরা প্রলুব্ধ হওয়ার সুযোগ পাবে না।৬. বড় নোট ব্যবহারে সচেষ্ট থাকতে হবে।৭. সব টাকা একসঙ্গে না রেখে বিভিন্ন জায়গায় যেমন- পকেটে, ব্যাগে, সঙ্গে থাকা ব্যক্তির কাছে ভাগ ভাগ করে রাখুন।৮. গলিপথ কিংবা নির্জনপথ ব্যবহারের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত ব্যস্ত সড়ক ব্যবহার করতে হবে।৯. ট্রাফিক সিগন্যাল বা জ্যামে পড়লে অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন।১০. সিসি ক্যামেরা আছে এমন ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করতে হবে। ব্যাংক থেকে বের হওয়ার পর বুঝতে চেষ্টা করুন সন্দেহজনক কেউ অনুসরণ করছে কি না।১১. বড় অংকের অর্থ পরিবহনের কাজটি রাতে না করে দিনে করার চেষ্টা করতে হবে।১২. এটিএম বুথে টাকা তুলতে গেলে বুথের ভেতরে কেউ আছে কি না নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে। কেউ থাকলে বের হওয়ার পর বুথে প্রবেশ করুন।১৩. এটিএম বুথের অভ্যন্তরে আর্থিক লেনদেনে ব্যবহৃত পিন নম্বরটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।১৪. সম্ভব হলে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা ট্রান্সফারের কাজটি চেকের মাধ্যমে সম্পন্ন করা।১৫. বড় অংকের টাকা পরিবহনে প্রয়োজনে পুলিশ এসকর্ট ব্যবহার করা।যেভাবে পাওয়া যাবে ডিএমপির সহায়তাসহায়তাপ্রত্যাশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট থানা অথবা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করতে হবে। এক্ষেত্রে পুলিশ এসকর্টপ্রত্যাশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে যানবাহনের সংস্থান করবে। এজন্য কন্ট্রোল রুমের নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে।কন্ট্রোল রুমের নাম্বার হলো: ৯৫৫১১৮৮, ৯৫১৪৪০০, ৫৫১০২৬৬৬, ০১৩২০০৩৭৮৪৫। এছাড়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেও সহায়তা পাওয়া যাবে।

  • এবারও লবণের বাড়তি দামে চামড়ায় অস্বস্তি

    এবারও লবণের বাড়তি দামে চামড়ায় অস্বস্তি

    • সিন্ডিকেট বলছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা
    • ঘাটতি আছে, দাবি লবণ মিল মালিকদের

    চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন হয়েছে। দেশের ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ। এরপরও রোজার পর থেকে দফায় দফায় বেড়েছে মোটাদানার লবণের দাম। ঈদ কেন্দ্র করে যা আরও বাড়ছে। যদিও মিল মালিকদের দাবি, দেশে লবণের ঘাটতি আছে। আর চামড়া ব্যবসায়ীদের দাবি, কোরবানি ঈদে পশুর চামড়ার দামে বাড়িত দাম নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    এদিকে তথ্য বলছে, এখনো দেশে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টন লবণ মজুত রয়েছে। পাশাপাশি আমদানির অপেক্ষায় দেড় লাখ টন লবণ। যেখানে আসন্ন ঈদে পশুর চামড়ার জন্য প্রয়োজন হবে ৫৫ থেকে ৫৬ হাজার টন।

    সেই বিবেচনায় আসন্ন কোরবানির চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণের সংকট হওয়ার কথা নয়। তারপরও বাজারে বেড়েছে দাম। পরিস্থিতি সমাল দিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর লবণের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারাকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, কারও বিরুদ্ধে দাম নিয়ে কারসাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে মামলা, জরিমানার পাশাপাশি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

    বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) তথ্য বলছে, আবহাওয়াসহ সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় এবার দেশে লবণের উৎপাদন সন্তোষজনক। ২০২১-২২ মৌসুমে লবণের মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩২ হাজার টন, যা বিসিক লবণ উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর পর থেকে (৬১ বছর) রেকর্ড। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৮ লাখ ২৪ হাজার টন লবণ উৎপাদিত হয়েছিল।

    এ হিসাবে দেশে এখন মজুত লবণের পরিমাণ তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টনের মতো।

    এ পরিস্থিতিতেও বাজারে এখন মোটাদানার লবণের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ১৫০ থেকে ২শ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১শ টাকায়। এছাড়া নিম্নমানের অপরিশোধিত লবণ বিক্রি হচ্ছে বস্তাপ্রতি (৬০ কেজি) ৮৭০ টাকা, যা কিছুদিন আগেও ২শ থেকে ৩শ টাকা কম ছিল।

    কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কোরবানির ঈদে চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণের প্রচুর প্রয়োজন হয়। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা আগে থেকে দাম বাড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল রেখেছে। হুট করে লবণের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রতি বর্গফুট চামড়ার প্রক্রিয়াকরণ খরচ ৪৮ থেকে ৫২ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগে ৩০ থেকে ৩২ টাকার মধ্যে ছিল। এর মধ্যে বেড়েছে কিছু কেমিক্যালের দামও।

    শুভ লেদারের স্বত্বাধিকারী আব্দুল জব্বার সবুজ বলেন, প্রতিটি গরুর চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ করতে গড়ে ৮ কেজি লবণ লাগে। বড় হলে ১০ কেজির বেশি লবণও দরকার হয়। লবণের দাম বাড়ায় এখন প্রতিটি চামড়ায় ২শ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।

    তিনি বলেন, এ কারণে আসন্ন ঈদে আড়তদাররা বেশি দামে চামড়া কিনতে আগ্রহ দেখাবেন না। কারণ তাদের বেশি খরচ করে সংরক্ষণ করতে হবে।

    কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান বলেন, প্রয়োজন বিবেচনা করে লবণ ব্যবসায়ীরা আগে থেকে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বরং এবছর দাম কমার কথা ছিল। কোরবানির সময় লবণের সংকট এর আগেও হয়েছে। এটা অনৈতিক।

    এদিকে লবণের দাম বাড়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন ব্যয় ও কক্সবাজারের লবণ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের পাশাপাশি বাজারে চাহিদার তুলনায় লবণ কম থাকায় দাম বেড়েছে। এছাড়া সরকার লবণ আমদানি বন্ধ রেখেছে। যে কারণে সংকট বেড়েছে।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও পূবালী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী পরিতোষ কান্তি সাহা বলেন, দেশে বর্তমানে লবণের চাহিদা ৩০ লাখ টন। কিন্তু সরকার ২৩ লাখ টন বলছে। সে হিসেবে সব হিসাব হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে ঘাটতি রয়েছে। শুধু মোটা লবণের দাম কিছুটা বেড়েছে। সেটা আমদানি হলে কমে যাবে।

  • সুরক্ষা সেবা-পরিকল্পনা বিভাগে নতুন সচিব

    সুরক্ষা সেবা-পরিকল্পনা বিভাগে নতুন সচিব

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও পরিকল্পনা বিভাগে নতুন সচিব নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

    বুধবার (৬ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তিনজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, তিনজন সচিবের দপ্তর বদল করা হয়েছে।

    সুরক্ষা সেবা বিভাগের নতুন সচিব হয়েছেন একই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী। অন্যদিকে, এ বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেনকে বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান (সচিব) করা হয়েছে।

    পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মো. মামুন-আল-রশিদ পরিকল্পনা বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। মামুন-আল-রশিদের নিয়োগ ২৬ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

    সচিব পদে পদোন্নতির পর পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান।

    এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) নাসরীন আফরোজকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান (সচিব) সত্যজিত কর্মকারকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য করা হয়েছে।

  • ঈদে মোটরসাইকেল চলাচলের বিষয়ে যা বললেন আইজিপি

    ঈদে মোটরসাইকেল চলাচলের বিষয়ে যা বললেন আইজিপি

    বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ঈদের আগে ও পরে দূরবর্তী স্থানে মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

    বুধবার (৬ জুলাই) বিকেলে রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে দুই দিনব্যাপী (৫-৬ জুলাই) ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার শেষ দিন সভাপতির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।

    আইজিপি বলেন, ঈদ কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে করিমন, নসিমন ও ভটভটি ইত্যাদি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

    এ সময় ঈদের আগে ও পরে দূরবর্তী স্থানে মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

    পুলিশ প্রধান বলেন, মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে তদারকি বাড়াতে হবে। মামলা তদন্ত দ্রুততম সময়ে শেষ করতে হবে। সেই সঙ্গে তদন্তের মান বাড়াতে হবে। নিবিড় তদারকির মাধ্যমে মামলা তদন্তের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশের অব্যবহৃত জমিতে ফসল উৎপাদন ও জলাশয়ে মাছ চাষ করার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান বেনজীর আহমেদ।

    সভায় বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি, সব রেঞ্জের ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ও জেলার পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য ইউনিটের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

    সভার প্রথমদিন (৫ জুলাই) অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এম খুরশীদ হোসেন স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) এ ওয়াই এম বেলালুর রহমান চলতি বছরের এপ্রিল-জুন মাসের খুন, ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি ও ছিনতাইসহ সামগ্রিক অপরাধের চিত্র তুলে ধরেন। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা অপরাধের গতিপ্রকৃতি নিয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

    সভায় জানানো হয়, জানুয়ারি-মার্চ ২০২২ সময়ের তুলনায় এপ্রিল-জুন ২০২২ সময়ে ডাকাতির মামলা হ্রাস পেয়েছে। আবার, এপ্রিল-জুন ২০২১ সময়ের তুলনায় এ বছরের একই সময়ে খুন, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা কমেছে।

    সভায় কোরবানির পশু পরিবহন ও পশুর হাটের নিরাপত্তা; শপিংমল, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা; বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলস্টেশনের নিরাপত্তা; ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও বন্যাকবলিত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    দ্বিতীয় দিনে পুলিশের সব ইউনিটের সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর প্রেজেন্টেশন দেন টেলিকম অ্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট (টিঅ্যান্ডআইএম) ইউনিটের ডিআইজি এ কে এম শহীদুর রহমান। পুলিশ সদস্যরা সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে কাঙ্খিত স্থানে যোগাযোগ করতে পারবেন।

    সভায় অতিরিক্ত আইজি (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, এসবি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম, সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) এস এম রুহুল আমিন, অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট) মো. আতিকুল ইসলাম, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপ্যাল (অতিরিক্ত আইজি) আবু হাসান মোহম্মদ তারিক, এপিবিএনের অতিরিক্ত আইজিপি ড. হাসান উল হায়দার, অতিরিক্ত আইজিপি (অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন) ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশিদ ও অতিরিক্ত আইজি (ফিন্যান্স) মো. শাহাবুদ্দীন খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

  • স্বপ্নের পদ্মা সেতু হয়ে স্বস্তির ঈদযাত্রা

    স্বপ্নের পদ্মা সেতু হয়ে স্বস্তির ঈদযাত্রা

    ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। ভোগান্তি এড়াতে নাড়ির টানে পদ্মা সেতু হয়ে গন্তব্যে ছুটছেন তারা। যুগ যুগ ধরে চলা ভোগান্তির অবসানে হাসি ফুটেছে কোটি মানুষের মুখে।

    বুধবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া টোলপ্লাজা এলাকায় দেখা যায়, যাত্রী ও যানবাহন নির্বিঘ্নে পারি দিচ্ছে সেতু। যানবাহনের জট বা চাপ না থাকলেও স্বাভাবিক দিনের চেয়ে যাত্রী ও যানবাহনের উপস্থিতি বেড়েছে।

    রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শত শত যাত্রীকে পদ্মা সেতু উত্তর থানা সংলগ্ন মোড় থেকে গণপরিবহনে উঠতে দেখা গেছে। সেতু হয়ে স্বাচ্ছন্দ্য আর নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পেরে খুশি সাধারণ যাত্রীরা।

    সুরভী বেগম নামের এক যাত্রী বলেন, ‘আমাদের তো এটাই স্বপ্ন ছিল—সারাবছরে দু-একবার আনন্দ করতে বাসায় যাবো, কোনো কষ্ট যেন না হয়। এই যে বাসে উঠলাম। সহজেই এখন চলে যাবো, কোনো কষ্ট নাই।’

    ইকবাল নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘ঈদে আনন্দ করার জন্য বাড়িতে রওয়ানা হয়ে ফেরিঘাটে সীমাহীন কষ্ট পোহাইতে হতো। পরিবার নিয়া এলে ছোট বাচ্চারা খুব কষ্ট করতো। ঢাকা থেকে বাসে উঠছি, বরিশাল যাবো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে নদী পারাপার এখন তো কয়েক মিনিটের ব্যাপার।’

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাড়ি যাচ্ছেন কলেজছাত্র জিহাব হোসেন। তিনি বলেন, ‘গ্রামে বাবার সঙ্গে গিয়ে গরু কিনবো। তাই আগে আগে যাচ্ছি। গত ঈদে তো বাড়ির সবাই চিন্তায় ছিল কীভাবে নদী পার হবো, কীভাবে কী করবো। এখন আর ওই চিন্তা নেই।’

    তবে যাত্রীদের উপস্থিতি বাড়ায় গণপরিবহনগুলোতে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন। অন্যদিকে সেতুতে শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে কাজ করছে সেনাবাহিনী-পুলিশ।

    নিষেধাজ্ঞার কারণে সেতুতে বন্ধ রয়েছে মোটরসাইকেল চলাচল। যেসব মোটরসাইকেল আসছে তাদের উত্তর থানা মোড় থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে সকাল থেকে পিকআপে পণ্য হিসেবে সেতু পার হতে দেখা যায় শত শত মোটরসাইকেল। অনেকে আবার পাড়ি দিচ্ছেন ট্রলারযোগে। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও মাঝিকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ।

    পিকআপে মোটরসাইকেলসহ পদ্মা সেতু পার হচ্ছিলেন মিতা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমরা মধ্যবিত্ত। চার চাকার গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই। যাবো খুলনা। ঢাকায় গাড়ির টিকিট নিয়ে তো যুদ্ধ চলে। মোটরসাইকেল রেখে যাবো? চুরি হয়ে যেতে পারে। তাই মোটরসাইকেলে যাচ্ছি। এখন তো যেতে দিচ্ছে না তাই পিকআপে যাচ্ছি। বেশি ভাড়া লাগছে।’

    ট্রাকে করে মোটরসাইকেল নিয়ে সেতু পার হওয়া ইয়াসির হোসাইন বলেন, ‘আমাদের বাড়ি শরীয়তপুর। পদ্মা সেতু প্রকল্পে আমাদের জায়গাও গেছে। এখন ফেরি নেই, আবার সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ। তাই বাধ্য হয়ে ট্রাকে মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছি।’

    পদ্মা সেতু উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসাইন বলেন, দিনভর নির্বিঘ্নেই যাত্রী-যানবাহন পারাপার হয়েছে। অনেক মোটরসাইকেল এসেছে, তাদের বিকল্প পথে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ট্রাকে করে মোটরসাইকেল ও যাত্রী পারাপার করায় তিনটি ট্রাক ও চালককে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।