Category: জাতীয়

  • পদ্মা সেতু বন্যা মোকাবিলায় সহায়তা করবে: প্রধানমন্ত্রী

    পদ্মা সেতু বন্যা মোকাবিলায় সহায়তা করবে: প্রধানমন্ত্রী

    বন্যাদুর্গত সিলেট অঞ্চলে ত্রাণ ও পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামীতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা আসে ভাদ্র মাসের দিকে। সরকার সেই বন্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এই বন্যাও আমরা মোকাবিলা করতে পারবো। পদ্মা সেতু এই বন্যা মোকাবিলায় সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি বলেন, সিলেট বিভাগ ও নেত্রকোণা জেলায় বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুনর্বাসন কাজও চলছে।

    পদ্মা সেতু নির্মাণে উন্নয়নের স্বর্ণ দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, পদ্মা সেতুর ব্যয় নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু বাস্তবতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই ব্যয় তুলনামূলক বেশি নয়। ১৯৯৭ সালে আমি যখন জাপান গিয়েছিলাম, তখন পদ্মা সেতু ও রূপসা নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করি। ওই সময়ে রূপসা সেতু নির্মাণ হলেও পদ্মা সেতু হয়নি। পরে ফের ক্ষমতায় আসলে এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেই।

    তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন থেকে সরে গেলে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সংসদে এই ঘোষণা দেওয়ার পর জনগণের ব্যাপক সাড়া পাই সর্বশেষ সেতু নির্মাণে সফল হয়েছি। এই সেতুতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে। দেশের অর্থনীতিতে বড়ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে।

    সংসদের বাজেট অধিবেশন প্রাণবন্ত ছিল বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অধিবেশনে বিরোধী দলকে যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপি নেতারা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ইচ্ছেমতো তারা কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। আর আমাদের যারা অফিসিয়াল বিরোধী দল তারাও আলোচনার করেছেন। অধিবেশনে ২২৮ জন সংসদ সদস্য বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। ৩৮ ঘণ্টা ৫৭ মিনিট আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য বিরোধী দলীয় নেতাসহ সকল সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

    এ সময় তিনি পদ্মা সেতু ব্যয় সংক্রান্ত সবধরনের তথ্য তুলে ধরেন। কেন এত ব্যয় হয়েছে তারও তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন।

  • কোরবানির পশু কিনতে দুজনের বেশি নয়, মানতে হবে নির্দেশনা

    কোরবানির পশু কিনতে দুজনের বেশি নয়, মানতে হবে নির্দেশনা

    আসন্ন ঈদুল‌ আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে বসা কোরবানির হাটগুলোতে মানতে হবে ১৬টি নির্দেশনা। বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে কোরবানির হাটের ইজারাদার, ক্রেতা বিক্রেতাদের জন্য অনুসরণীয় এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে।

    আগামী ১০ জুলাই দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশে চার হাজার ৪০৭টি কোরবানির হাট বসবে।

    কোরবানির হাটে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

    ১। হাট বসানোর জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা নির্বাচন করতে হবে। কোনো অবস্থায় বদ্ধ জায়গায় হাট বসানো যাবে না।

    ২। ইজারাদারের হাট বসানোর আগে মহামারি প্রতিরোধী সামগ্রী যেমন-মাস্ক, সাবান, জীবাণুমুক্তকরণ সামগ্রী ইত্যাদি সংগ্রহ করতে হবে। পরিষ্কার পানি সরবরাহ ও হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল সাবান/সাধারণ সাবানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। নিরাপদ বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

    ৩। কোরবানির হাটের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও হাট কমিটির সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। হাট কমিটির সবার ব্যক্তিগত সুরক্ষা জোরদার করা ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

    ৪। হাটের সঙ্গে জড়িত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা দিতে হবে। জনস্বাস্থ্যের বিয়ষগুলো যেমন মাস্কের সঠিক ব্যবহার, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার, শারীরিক দূরত্ব, হাত ধোয়া, জীবাণুমুক্তকরণ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধিসমূহ সার্বক্ষণিক মাইকে প্রচার করতে হবে।

    ৫। মাস্ক ছাড়া কোনো ক্রেতা-বিক্রেতা হাটের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। হাট কর্তৃপক্ষ চাইলে বিনামূল্যে মাস্ক সরবরাহ করতে পারেন বা এর মূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারেন।

    ৬। প্রতিটি হাটে সিটি করপোরেশনের ডিজিটাল পর্দায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি প্রচার করতে হবে।

    ৭। কোরবানির হাটে প্রবেশের জন্য গেট (প্রবেশপথ ও বাহিরপথ) নির্দিষ্ট করতে হবে।

    ৮। পর্যাপ্ত পানি ও ব্লিচিং পাউডার দিয়ে বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি করা যাবে না।

    ৯। প্রতিটি হাটে সিটি করপোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদের এক বা একাধিক ভ্রাম্যমাণ স্বেচ্ছাসেবী মেডিকেল টিম গঠন করে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মেডিকেল টিমের কাছে শরীরের তাপমাত্রা মাপার জন্য ডিজিটাল থার্মোমিটার রাখা যেতে পারে, যাতে প্রয়োজনে হাটে আসা সন্দেহজনক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করা যায়। এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে রোগীকে আলাদা করে রাখার জন্য প্রতিটি হাটে একটি আইসোলেশন ইউনিট (একটি আলাদা কক্ষ) রাখা যেতে পারে।

    ১০. একটি পশুর থেকে আরেকটা পশু এমনভাবে রাখতে হবে যেন ক্রেতালা কমপক্ষে তিন ফুট বা দুই হাত দূরত্ব বজায় রেখে পশু কিনতে পারেন।

    ১১। ভিড় এড়াতে মূল্য পরিশোধ ও হাসিল আদায় কাউন্টারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

    ১২। মূল্য পরিশোধের সময় সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়ানোর সময় যেন কম হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। লাইনে তিন ফুট বা কমপক্ষে দুই হাত দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে রেখা টেনে বা গোল চিহ্ন দিতে হবে।

    ১৩। সব পশু একত্রে হাটে প্রবেশ না করিয়ে, হাটের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী পশু প্রবেশ করাতে হবে।

    ১৪। হাটের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করা সম্ভব, এমন সংখ্যক ক্রেতাকে হাটে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। অবশিষ্ট ক্রেতারা হাটের বাইরে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অপেক্ষা করবেন। একটি পশু কেনার জন্য এক বা দুই জনের বেশি ক্রেতা হাটে প্রবেশ করবেন না।

    ১৫। অনলাইনে পশু কেনা-বেচার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

    ১৬। স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শ্রঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সব কাজ নিশ্চিত করতে হবে।

  • বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পেলেন আবরার ফাহাদের ছোট ভাই

    বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পেলেন আবরার ফাহাদের ছোট ভাই

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বুয়েটের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে।

    আবরার ফাইয়াজ মেধাতালিকায় ৪৫০তম স্থানে আছেন, যন্ত্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

    ফলাফল নিয়ে খুশি আবরার ফাইয়াজ ও তার পরিবার। তবে, নিরাপত্তা নিয়ে এখনও শঙ্কিত তারা। কারণ, বুয়েট প্রাঙ্গণেই ভাই হারিয়েছেন ফাইয়াজ, সন্তান হারিয়েছেন বরকত উল্লাহ-রোকেয়া খাতুন দম্পতি।

    ফাইয়াজের বাবা বরকত উল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ফায়াজ এখন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে ভর্তি আছে। আমরা তাকে বুয়েটে ভর্তি করাবো কিনা তা নিয়ে আরও চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। বুয়েটে এখনও র‌্যাগিং আছে কিনা, নিরাপত্তা কতটুকু পাবে এসব দেখতে হবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেব। আর ওর ইচ্ছাকেও প্রাধান্য দেব।

    এ বিষয়ে আবরার ফাইয়াজ জাগো নিউজকে বলেন, রাত ৯টার পরে বুয়েটের ফল পেলাম। ফল পেয়ে আমি খুশি।

    তিনি বলেন, ঢাকা ইউনিভার্সিটির ফল এখনও বাকি। আবার আইইউটিতে ভর্তি আছি। এখন পর্যন্ত কোথায় পড়ব সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে, বুয়েটে পড়ার সম্ভাবনা বেশি।

    ‘ভর্তি কার্যক্রম ঈদের আগে হচ্ছে না। ১০-১৫ দিন সময় পাচ্ছি। এর মধ্যে ভেবে দেখি। পরিবারের সঙ্গেও আলাপ করবো। এরপর সিদ্ধান্ত নেব।’

  • অনলাইনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির কার্যক্রম শুরু

    অনলাইনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির কার্যক্রম শুরু

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত অনলাইনে বদলীর (পাইলটিং) কার্যক্রম বুধবার থেকে শুরু হয়েছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহিবুর রহমান, অধিদপ্তরের পরিচালক বদিয়ার রহমান, গাজীপুর জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান প্রমুখ।

    এ উপলক্ষে কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক বলেন, অনলাইনে এ বদলীর কার্যক্রম শিক্ষকদের শান্তি ও স্বস্তি দেবে, তারা একাগ্রচিত্তে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে মনোনিবেশ করতে পারবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সর্বোচ্চ প্রয়াস নেবার পরও শিশুরা প্রাথমিক বিদ্যালয় ছেড়ে কেজি স্কুলে ভর্তি হচ্ছে; যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি এ অবস্থার পরিবর্তনে প্রাথমিক শিক্ষার মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের হাতে আগামীর বাংলাদেশ, এ বাংলাদেশ যাতে মেধা ও জ্ঞান নির্ভর হয়ে গড়ে ওঠে সে জন্য সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।

    তিনি বলেন, চলমান ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে আরও ৩০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে মন্ত্রণালয়।
    সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খান তার বক্তব্যে, অনলাইন বদলী কার্যক্রম শিক্ষকদের দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে অধিদপ্তরের অন্যান্য পর্যয়ের কর্মকর্তারাও এ প্রক্রিয়ায় চলে আসবেন। তিনি পাইলটিং এর কোন ক্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে, তা নিয়ে বিরূপ সমালোচনা না করে সেটি কর্তৃপক্ষের নজরে আনার অনুরোধ জানান।

    অনুষ্ঠানে অনলাইন বদলীর জন্য তৈরিকৃত সফটওয়্যারের বিভিন্ন দিকসমূহ তুলে ধরেন অধিদপ্তরের আইটি বিভাগের কর্মকর্তারা।

    পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে কালিয়াকৈরে কর্মরত সহকারী শিক্ষক হাসান উদ্দিন ও ফাতেমা বেগম অনলাইনে বদলীর আবেদন করেন। আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বদলীর আবেদন করা যাবে।

  • জনগণ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সরকার আইন প্রয়োগ করবে

    জনগণ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সরকার আইন প্রয়োগ করবে

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে বলা হয়েছে। ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং জনসমাগম যথাসম্ভব বর্জন করতে জনগণকে সচেতন করতে সরকার কাজ করছে। জনগণ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে, মাস্ক না পরলে সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ করবে।

    বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জাহিদ মালেক আরও বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। ফলে এখন বেশি করে করোনা পরীক্ষা দরকার।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত যারা প্রথম ডোজ পেয়েছেন তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া প্রায় শেষ হয়েছে।

    আশা করা হচ্ছে, দু-এক দিনের মধ্যে ৭০ শতাংশ মানুষ পূর্ণ ডোজের আওতায় আসবে। এছাড়া শিশুদের জন্য উপযোগী টিকাও আমাদের হাতে এসেছে। শিগগিরই ৫-১২ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেয়া হবে।

  • কালো নয়, অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ চান আবাসন ব্যবসায়ীরা

    কালো নয়, অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ চান আবাসন ব্যবসায়ীরা

    প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করা কিংবা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। সুযোগ ছিল না গত অর্থবছরও। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) থেকেও অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ নিয়ে কোনো প্রস্তাব দেয়া হয়নি। তবে সরকার সিদ্ধান্ত নিলে এফবিসিসিআই কোনো আপত্তি করবে না বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। আর আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা কালো টাকা নয়, অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ চান। এতে দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি রাজস্বের মাধ্যমে সরকারও লাভবান হবে।

    আবাসনখাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগের সুযোগ থাকলে সরকার বড় অংকের রাজস্ব পাবে। একই সঙ্গে দেশের কর্মসংস্থান তৈরি হবে, কমবে বেকারত্ব। আর বিনিয়োগের সুযোগ না পেলে এসব অর্থ দেশের বাইরে পাচারের আশঙ্কা থাকে। অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে, কালো টাকা নয়।

    আবাসন ব্যবসায়ীদের আশা, সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে ৩০ জুনের চূড়ান্ত বাজেটে অপ্রদর্শিত বিনিয়োগের এ সুযোগ দেবে সরকার।

    জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে তাহলে কালো টাকা কী, কেন এটার বিনিয়োগ চান না আবাসন ব্যবসায়ীরা। কেনইবা তারা অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ চাইছেন। নাকি দুটোই এক।

    এ বিষয়ে কথা হয় রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সহ-সভাপতি (প্রথম) কামাল মাহমুদের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমরা সব সময় বলে এসেছি কালো টাকা নয়, অপ্রদর্শিত টাকার বিনিয়োগের বিষয়ে। কালো টাকা আর অপ্রদর্শিত অর্থ এক নয়। বৈধভাবে আয় করা অর্থ, কিন্তু ট্যাক্স-ভ্যাট না দেওয়ায় প্রদর্শিত হচ্ছে না— এটা অপ্রদর্শিত অর্থ। এটার বিনিয়োগ চাই আবাসনখাতে। এ টাকা বিনিয়োগ না হলে পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর কালো টাকা হলো সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে আয় করা, সেটার বিষয়ে আমরা কথা বলি না।

    অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ হলে সরকারের কী লাভ হবে এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল মাহমুদ বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ থাকায় সেসময় ২০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অর্থনীতিতে যোগ হয়েছিল। যেখানে সরকার ২ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পেয়েছিল। চাঙা হয়েছিল আবাসন ব্যবসা। গত অর্থবছর সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি, এবারও (প্রস্তাবিত) রাখা হয়নি এ সুযোগ। এতে সরকার রাজস্ব হারাবে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তত দু-তিন বছরের জন্য অপ্রদর্শিত টাকা আবাসনখাতে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। এতে মন্দাভাবের আবাসনখাতে বিনিয়োগ আসবে, ঘুরে দাঁড়াবে ব্যবসা, বেকার জনগোষ্ঠীর নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। নির্মাণশিল্প থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে সরকার, অর্থনীতিও হবে গতিশীল।

    এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কালো টাকার বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, এটার পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আছে। তবে ‘অপ্রদর্শিত অর্থ’ অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর মধ্যেই রয়েছে। ন্যূনতম কোনো একটি খাতে সরকার এ অর্থ বিনিয়োগে সুযোগ দিলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

    এ বিষয়ে রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, আমরা সব সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কোনো অবৈধ কাজ সমর্থন করি না। আমরা কালো টাকা বিনিয়োগের কথা আনছি না। অপ্রদর্শিত অর্থের কথা বলছি। গত বছরের অপ্রদর্শিত অর্থের বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ না থাকায় সেসব অর্থ পাচার হতে পারে। বিনাপ্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দিলে প্রতি বছর ৫০ হাজার টাকা করে বিনিয়োগ বাড়বে আবাসনখাতে। এতে দেশ থেকে কোনো টাকা পাচার হবে না, বড় অংকের রাজস্ব আসবে সরকারের কোষাগারে।

    সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে রিহ্যাব জানিয়েছিল, ‘আমাদের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের একান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এ খাত সম্প্রতি নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন। উদীয়মান এ খাতে নানা করারোপ ও সরকারের নীতিসহায়তার অভাবে ক্রমে ঝুঁকির মুখে পতিত হয়েছে। কোভিড মহামারির ধাক্কা, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে মাসিক কিস্তি সুবিধা দেওয়ার মতো এ খাতে পর্যাপ্ত আর্থিক ঋণপ্রবাহ না থাকায় অনেকের বাসস্থানের স্বপ্নপূরণ হচ্ছে না। নতুন করে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে ভবন নির্মাণে সিটি করপোরেশনের অনাপত্তি সনদ। এরই মধ্যে ঢাকার এক কাউন্সিলর নোটিশ দিয়েছেন তার অনুমতি ছাড়া ভবন নির্মাণ করা যাবে না। আমরা কয়টা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সনদ নেবো? একের পর এক সমস্যা এ শিল্পকে সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারের আশু পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এ সংকট উত্তরণ অসম্ভব। নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ানোসহ নানা কারণে পুরো গৃহায়ণ খাতে বিক্রির পরিমাণ কমেছে। এ মুহূর্তে যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে দেশের অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।’

  • সুন্নত নামাজ বাড়িতে, মসজিদে যেতে পারবে না শিশু-বৃদ্ধ-অসুস্থরা

    সুন্নত নামাজ বাড়িতে, মসজিদে যেতে পারবে না শিশু-বৃদ্ধ-অসুস্থরা

    করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ে নয়টি নির্দেশনা মানতে হবে। এছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষেত্রেও অনুসরণীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৮ জুন) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনার কথা জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    এতে বলা হয়, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবজনিত কারণে সারাদেশে করোনায় আক্রান্তের হার দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গত ২৬ জুনের ডিওপত্রে কতিপয় বিধিনিষেধ আরোপ করে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ধর্ম মন্ত্রণালয় সব ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে জামাতে নামাজের জন্য আবশ্যিকভাবে নয়টি নির্দেশনা পালনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

    ১. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে এবং আগত মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

    ২. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে, সুন্নত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

    ৩. মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে।

    ৪. কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

    ৫. শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশগ্রহণ করা হতে বিরত থাকবে।

    ৬. সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতে মসজিদের ওজুখানায় সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

    ৭. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

    ৮. করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে খতিব, ইমাম ও মুসল্লিরা দোয়া করবেন।

    ৯. খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।

    অন্যান্য সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান/উপাসনালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার/সাবান দিয়ে হাত ধোয়াসহ ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব যথাযথভাবে অনুসরণ করবেন।

    এসব নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

    এদিকে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে মাস্ক পরা, যথাসম্ভব জনসমাগম বর্জন, কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালনসহ ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এ ছয়টি নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সব মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে মঙ্গলবার চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৯ হাজার ১৪৫ জনে। একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৮৭ জনের। এ নিয়ে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬১ জনে। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

  • শৃঙ্খলা ফেরাতে অ্যাকশন শুরু

    শৃঙ্খলা ফেরাতে অ্যাকশন শুরু

    স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে শৃঙ্খলা আনতে অ্যাকশন শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল দিনভর সেতুতে চালানো হয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষের সমন্বিত অভিযান। প্রতি ২০০ গজ দূরত্বে সেনাবাহিনীর একজন করে সদস্যকে টহল দিতে দেখা গেছে। সেতুতে গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলতে দেখলেই ধাওয়া দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    গাড়ি থামিয়ে টিকটক ভিডিও বানানোয় কয়েকজনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কাউকে কাউকে সতর্ক করে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু পারাপারে যাত্রীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
    অন্যদিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল ভোর থেকে সেতুর দুই প্রান্তেই মোটরসাইকেল প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    এ নিয়ে সকালে মাওয়া প্রান্তে মোটরসাইকেলচালকদের কেউ কেউ বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেও তাদের ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। দুপুরে সেতু পার হওয়ার দাবিতে জাজিরা প্রান্তে মোটরসাইকেলচালকরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। ২০ মিনিটের বেশি সময় রাস্তা অবরোধ থাকায় সেতুর প্রবেশমুখে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের তৎপরতায় অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
    সেতুতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। গতকাল সেতুতে গিয়ে দেখা গেছে, যান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।
    ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরদিন যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনই নাটবল্টু খুলে নেওয়া, মূত্র বিসর্জন, সেতুতে গাড়ি থামিয়ে টিকটক ভিডিও বানানোর মতো বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটেছে। কেউ কেউ সেতুতে শুয়ে-বসে, নাচানাচি করে ভিডিও বানিয়েছেন।

    দিন শেষে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু ছিল আলোচনার শীর্ষে। এসব ঘটনার পর রবিবার রাতেই সেতুতে শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সেতু কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয় মোটরসাইকেল চলাচল। শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়ে সেতু কর্তৃপক্ষ থেকে চিঠিও দেওয়া হয়।

    সেতুমন্ত্রীর আহ্বান : পদ্মা সেতু পারাপারে যাত্রীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু অবকাঠামো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনা এবং দেশের এক বড় সম্পদ। এর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। ’ সেতু পারাপারে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ যেসব নির্দেশনা জারি করেছে, তা যথাযথভাবে পালন করে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা : পদ্মা সেতুতে অবৈধভাবে প্রাইভেটকার পার্কিং ও গাড়ি থেকে নেমে ভিডিও বানানোর দায়ে চার জনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে পদ্মার মাঝামাঝিতে কর্তৃপক্ষের নিয়ম ভাঙার দায়ে ফখরুল আলম নামে একজনকে ১ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল কবীর। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সেতুর সার্বিক নিরাপত্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযান চলমান থাকবে। এ সময় আরও পাঁচটি গাড়িকে সতর্ক করা হয়েছে।

    সেতুতে যানবাহন না থামানোর আহ্বান সেনাবাহিনীর : পদ্মা সেতুতে যানবাহন থামানো ও যানবাহন থেকে নামা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে। গতকাল বিকালে সেতুর জাজিরা প্রান্তে টোলপ্লাজায় এক ব্রিফিংয়ে এমন আহ্বান জানান পদ্মা সেতু ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট ও সেফটি কমান্ডিং টিমের সমন্বয়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রবিউল আলম। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সেফ কমান্ডিং টিমের সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফাহিম মাহবুব। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রবিউল আলম বলেন, ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেছেন। ২৬ জুন ভোর ৬টা থেকে সর্বসাধারণের জন্য যান চলাচলে সেতু উন্মুক্ত করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকে নিরাপদে যান চলাচলের জন্য বাংলাদেশ ব্রিজ অথরিটি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা পদ্মা সেতু ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট ও সেফটি টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেতুর উপরিভাগে এবং মাওয়া-জাজিরা প্রান্তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ও যন্ত্রপাতি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও হেঁটে সেতুর ওপর ওঠার চেষ্টা করছে এবং সেতুর ওপর থেকে যানবাহনেও উঠছে। অনেকে যানবাহন থেকে নেমে সেতুর সৌন্দর্য অবলোকন ও ছবি-ভিডিও ধারণ করছে। এতে সেতুর ওপর তীব্র যানজটসহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু তা-ই নয়, সেতুর ওপর রক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ও যন্ত্রপাতির ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। এ অবস্থায় সেতু কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পদ্মা সেতুর ওপর মোবাইল টহল জোরদার করা হয়েছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল রবিউল বলেন, পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তের টোলপ্লাজায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সেতুর ওপর গাড়ি থামানো ও গাড়ি থেকে না নামার ব্যাপারে অবহিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া ডিউটি পোস্টের মাধ্যমে সেতুর ওপর কেউ যেন হেঁটে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

  • আওয়ামী লীগসহ যে ১৩ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ

    আওয়ামী লীগসহ যে ১৩ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ

    ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ ১৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আজ বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সভা বিকেল ৩টায় ইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

    এর আগে দুই ধাপে ২৬টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ইসি। তবে এতে বিএনপিসহ আটটি দল সাড়া দেয়নি।

    আজকের সংলাপে যেসব দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল-এমএল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট।

  • পদ্মা সেতু সফলভাবে সম্পন্ন করায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের অভিনন্দন

    পদ্মা সেতু সফলভাবে সম্পন্ন করায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের অভিনন্দন

    পদ্মা বহুমুখী সেতু সফলভাবে সম্পন্ন করায় বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান।

    সোমবার (২৭ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে এক বৈঠকে এ অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ঢাকা বিমানবন্দরে হজযাত্রীদের জন্য প্রি-ইমিগ্রেশন সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য সৌদি রাষ্ট্রদূত ও সরকারকে ধন্যবাদ জানান। এসময় বাংলাদেশে আরও সৌদি বিনিয়োগের আগ্রহের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন রাষ্ট্রদূত।

    প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ-সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে চমৎকার সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে তার প্রচেষ্টার জন্য তিনি রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান।

    রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বাণিজ্য-বিনিয়োগ, চট্টগ্রাম ও জেদ্দার মধ্যে সরাসরি শিপিং, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং পর্যটনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।