Category: জাতীয়

  • ডোপ টেস্ট কী? কীভাবে ও কোথায় করা হয়, খরচ কত?

    ডোপ টেস্ট কী? কীভাবে ও কোথায় করা হয়, খরচ কত?

    বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে এখন থেকে ডোপ টেস্ট (মাদক গ্রহণ করে কি না সেই পরীক্ষা) বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এমনকি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে অনেকেরই অজানা আসলে কী এই ডোপ টেস্ট। আর কেনই বা করা হয় এই পরীক্ষা। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক ডোপ টেস্ট সম্পর্কিত বিস্তারিত সব তথ্য-


    ডোপ টেস্ট কী?

    যারা নিয়মিত মাদক বা অ্যালকোহল গ্রহণ করেন তাদের শরীরে ওই নেশাজাতীয় পদার্থের কিছুটা হলেও থেকে যায়। আর সেটিই ডোপ টেস্টের মাধ্যমে ধরা পড়ে। কোনো ব্যক্তি আদৌ মাদকাসক্ত কি না তা যাচাইয়ের জন্য যে মেডিকেল পরীক্ষা করা হয় তাকেই ডোপ টেস্ট বলে।

    এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির মূত্র বা রক্ত, আবার কখনো দুটির নমুনা পরীক্ষা করা হয়। মাদক গ্রহণ করা ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শেষ ১ সপ্তাহে মুখের লালার মাধ্যমে, শেষ ২ মাস রক্তের মাধ্যমে, শেষ ১২ মাস বা ১ বছরে চুল পরীক্ষার মাধ্যমে পাওয়া যায় মাদকের নমুনা।

    ডোপ টেস্ট কেন ও কাদের করা হয়?


    বর্তমানে মাদকাসক্তদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে একেবারে বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সীরাই মাদকে আসক্ত হয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে নিজেকে। সেমাজের জন্য মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা হুমকির কারণ। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেএে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি বেশ হুমকির স্বরুপ। এসব কারণেই মূলত ডোপ টেস্ট করানো হয়। এছাড়া আরও যেসব কারণে ডোপ টেস্ট করানো হয়ে থাকে তা হলো-

    >> মাদকসেবী শনাক্ত করতে
    >> ট্রাফিক আইনের জন্য
    >> খেলোয়াড়দের জন্য
    >> আইনি জটিলতার এড়াতে ও
    >> ফরেনসিকের প্রয়োজনে।

    বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি সকল চাকরিতে প্রবেশকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সঙ্গে মাদক পরীক্ষার সনদ বা ডোপ টেস্টের রিপোর্ট জমা দিতে হয়। আবার চাকরিতে থাকাকালীন কোনো কর্মচারী বা কর্মকর্তার আচরণ সন্দেহজনক হলে যে কোনো সময় তার ডোপ টেস্ট করানোও হতে পারে।

    এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স করার সময় বা নবায়ন করার জন্যও এই পরীক্ষা করানো হয়। নতুন আইন অনুসারে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলেও ডোপ টেস্ট করাতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, গবেষণা বা কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশ যেতে চাইলে বাংলাদেশি নাগরিকদের মাদক পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে হবে। অস্ত্রের লাইসেন্স করতেও ডোপ টেস্টের রিপোর্ট জমা দিতে হয়।

    ডোপ টেস্টে কোন কোন মাদক ধরা পড়ে?

    বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) এর প্রণীত খসড়া অনুযায়ী ডোপ টেস্টে নির্দিষ্ট কিছু মাদক পরীক্ষা করা হয়। যেমন- ডায়াজেপাম, লোরাজেপাম, অক্সাজেপাম, টেমাজেপাম, কোডিন, মরফিন, হেরোইন, কোকেন, গাজা, ভাং, চরস, অ্যালকহোল বা মদ, ফেনিসিডিল, ইয়াবা ও এলএসডি।

    ডোপ টেস্ট কীভাবে করা হয়?

    >> ইউরিন বা মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে ডোপ টেস্ট করা হয়।

    >> কোনো মাদক সেবনের পর মুখের লালা বা থুথু পরীক্ষা করে শনাক্ত করা যায় তার উপস্থিতি। যেমন- গাজা সেবন করার পরবর্তী ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত মুখের লালা থেকে এই মাদক পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায় মুখের লালা পরীক্ষা মাধ্যমে।

    >> শরীরে মাদকের কোনো উপস্থিতি আছে কি না তা পরীক্ষার অন্যতম এক উপায় হলো রক্ত পরীক্ষা। আপনার শরীরে রক্ত টেস্টের মাধ্যমে মাদকের উপস্থিতির সঠিক ফলাফল পাওয়া যায়।

    >> ডোপ টেস্টের ক্ষেত্রে চুল পরীক্ষা করার মাধ্যমেও মাদক শনাক্ত করা হয়। যে কোনো মাদক গ্রহণের পরবর্তী ৯০ দিন পরেও চুল পরীক্ষার মাধ্যমে তা ধরা পড়ে সহজেই।

    >> ট্রাফিক পুলিশরা সন্দেহজন চালকদের নিঃশ্বাস পরীক্ষার মাধ্যমে মাদক শনাক্ত করেন। অ্যালকোহল ডিটেক্টরের মাধ্যমে এই টেস্ট করা হয়।

    ডোপ টেস্ট কোথায় করা হয় ও কত খরচ?

    সারাদেশের সব সরকারি হাসপাতালে ডোপ টেস্ট করানো যাবে। স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক ডোপ টেস্টের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ ফি ৯০০ টাকা। নন-স্পেসিফিক পরীক্ষা যেমন- বেঞ্জোডায়াজেপিন, এমফেটামাইনস, অপিয়েটস ও কেননাবিনেয়েডস- এই চারটির প্রতিটির ফি ১৫০ টাকা এবং অ্যালকোহল পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদিত ডোপ টেস্টে মহানগরীর হাসপাতালগুলো হলো, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।

    এছাড়া বাংলাদেশের বেশ কিছু স্থানে ডোপ টেস্ট শনাক্তকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে- রংপুর, ঢাকা, চট্রগ্রাম, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, রাজশাহী, পাবনা, সিলেট, খুলনা, বগুড়া, গাজীপুর, পটুয়াখালী, ফরিদপুর, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, যশোর, নরসিংদী ও টাঙ্গাইল। এই জেলাগুলোতে ডোপ টেস্টের জন্য মিনিল্যাব বসানো হয়েছে।

    ডোপ টেস্ট করার নিয়ম

    কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে ডোপ টেস্ট করা হয়। প্রথমে যে ব্যক্তির ডোপ টেস্ট করানো হবে তার পরিচয় জমা নেওয়ার জন্য একটি ফরম পূরণ করতে হবে। সেখানে তার নাম, ঠিকানা, বয়স, জাতীয় পরিচয়পত্র ইত্যাদির তথ্য দেওয়া থাকবে।

    ডোপ টেস্টের ফরম পূরণ করার পর নমুনা জমা দিতে হবে। একজন বিসিএস ক্যাডার ডাক্তার দিয়ে ওই নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনাতে যে কোনো মাদক ধরা পড়লে ডোপ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসবে। আর ওই ব্যক্তি যদি মাদকাসক্ত না হন তাহলে তার নমুনা পরীক্ষায় ডোপ টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসবে।

  • অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে ব্যবসায়ী-শিক্ষার্থী

    অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে ব্যবসায়ী-শিক্ষার্থী

    রাজধানীর বনানী ও সাভারের হেমায়েতপুরে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছেন এক ব্যবসায়ী ও এক শিক্ষার্থী। অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে অচেতন করে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

    ভুক্তভোগীরা হলেন, হেমায়েতপুরের ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান (৫৫) ও বনানীর শিক্ষার্থী মো. ফয়সাল আহমেদ (২৪)।

    একজনকে সোমবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় ও আরেকজনকে রাত ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    ফয়সালের বাবা শাহজাহান বলেন, আমার ছেলে গাজীপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির কোচিং করে ঢাকায় ফিরছিলেন। পথে বাসের মধ্যে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাকে অচেতন করে টাকা ও মোবাইল নিয়ে যায়। পরে বনানীতে একটি বাস কাউন্টারে তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এসময় তার কাছে একটি কাগজে আমাদের মোবাইল নাম্বার ছিল। সেখান থেকে আমাদের খবর দেওয়া হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিববাড়ি স্টাফ কোয়ার্টারে থাকি।

    অপরদিকে ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নানের শ্যালক সুমন জানান, তার দুলাভাই ব্যবসা করেন। পাশাপাশি হেমায়েতপুরে বাসা রয়েছে। মিরপুর বাঙলা কলেজের পাশেও তার একটি বাসা রয়েছে। সোমবার হেমায়েতপুরের একটি ব্যাংক থেকে ৫৫ হাজার টাকা তুলে বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন। পথে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাকে অচেতন করে কাছে থাকা টাকা নিয়ে নেয়। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেকে আনা হয়। এখন তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা ভুক্তভোগীদের কাছে থাকা মোবাইল ও ৬০ হাজার টাকা কৌশলে নিয়ে নিয়েছে।

  • জনগণের কাছে যেতে হবে নেতাকর্মীদের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জনগণের কাছে যেতে হবে নেতাকর্মীদের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, আমরা ভুল করি, জনগণের কাছে যাই না। জনগণের কাছে যেতে হবে নেতাকর্মীদের। তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।

    সোমবার (২৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর একটি মাঠে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

    বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের আন্দোলনের হুঁশিয়ারির প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলেন তারা কাল থেকেই আন্দোলনে নামবেন। কিন্তু যারা আন্দোলন করবেন, তাদের পেছনে লোক কোথায়?

    বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে আমরা এগিয়ে গেছি বলেই করোনা মোকাবিলা করতে পেরেছি। আমাদের গড় আয়ু ৬০ থেকে ৭৩ বছর বয়সে চলে গেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের বছরের শুরুতে নতুন বই দিচ্ছি। এটা প্রধানমন্ত্রী দূরদর্শী নেতৃত্ব। তার দূরদর্শিতার ফলেই বাংলাদেশ আজ এভাবে এগিয়ে চলছে।

    ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমাদের অর্জন অনেক। অর্জনগুলো দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।

    তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিউল্লা সফির সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি।

  • ই-সিগারেট ব্যবহারে ৫ হাজার টাকা জরিমানার প্রস্তাব

    ই-সিগারেট ব্যবহারে ৫ হাজার টাকা জরিমানার প্রস্তাব

    তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনের খসড়া তৈরি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এতে ই-সিগারেট ও ভ্যাপিং বা ভ্যাপারসহ সব ধরনের ইলেক্ট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে খসড়াতে ই-সিগারেট ব্যবহারে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    এছাড়া ই-সিগারেট উৎপাদন ও আমদানি-রপ্তানি, ক্রয়-বিক্রয় এবং পরিবহন করলে প্রথমবার সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। এ ধরনের অপরাধ বারবার করলে দ্বিগুণ হারে শাস্তি পাবেন দোষী ব্যক্তি।

    চলমান তামাক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ই-সিগারেট সম্পর্কে কোনো আইন ছিল না। সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি উঠে আসে।

    ২০০৫ সালে প্রণীত ও ২০১৩ সালে সংশোধিত তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধনের জন্য প্রণীত খসড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আগামী ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে খসড়া সংশোধনীর ওপর মতামত চেয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

    নতুন তামাক আইনে যেসব প্রস্তাব আনা হয়েছে

    ১. তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো মিষ্টদ্রব্য, মশলা, সুগন্ধি, আসক্তিমূলক দ্রব্য বা অন্য কোনো মিশ্রণ যুক্ত করা যাবে না। কেউ এ বিধান লঙ্ঘন করলে প্রথমবার সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। এ অপরাধ বারবার করলে প্রতিবার দ্বিগুণ সাজা হবে।

    ২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। কেউ এসব বিধান লঙ্ঘন করলে প্রথমবার সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং বারবার একই অপরাধ করলে পর্যায়ক্রমিকভাবে দ্বিগুণ হারে দণ্ডনীয় হবে।

    ৩. তামাক ও তামাকজাত পণ্য বিক্রি করতে হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কেউ তামাকজাত পণ্য বিক্রি করলে প্রথমবার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং বারবার একই অপরাধ করলে প্রতিবার দ্বিগুণ হারে দণ্ডিত হবে।

    ৪. তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের প্যাকেট, মোড়ক, কার্টন ও কৌটার ওপরের অংশের ৯০ ভাগ জুড়ে তামাকজাত পণ্য ব্যবহারের সৃষ্ট ক্ষতি সম্পর্কে রঙ্গিন ছবি ও লেখা সম্বলিত সতর্কবাণী বাংলায় মুদ্রণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    বিদ্যমান আইনে বিড়ি-সিগারেটের প্যাকেট ও জর্দার কৌটায় ওপরের ৫০ ভাগ জুড়ে রঙ্গিন ছবি ও লেখা সম্বলিত সতর্কবাণী রাখার বিধান থাকলেও তা নিচের অর্ধেকে ছাপা হচ্ছে।

  • বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা

    বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা

    ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বাড়ছে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা। শুধুমাত্র গত ১ সপ্তাহে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮৮ জন। এর মধ্যে আবার একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (২৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

    এতে বলা হয়, বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে মোট ১১৪ জন ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকার ৪৭টি ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১০৫ জন।

    এছাড়া ঢাকার বাইরেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৯ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১২৬ জন ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরপর তিন মাসে সারাদেশে ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছিল মাত্র ৬৩ জন। তবে গত মাসে সারাদেশে ১৬৩ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। চলতি মাস জুনের ১ তারিখ থেকে সোমবার (২৭ জুন) পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬১৭ জন।

    সরকার সংশ্লিষ্টরা জানান, এসময় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। ঢাকার দুই সিটি করপোরশনে এখন ডেঙ্গুর কীটনাশক মজুত রয়েছে।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার জানান, রাজধানীর যে জায়গাগুলোতে এডিস মশার ঘনত্ব ২০-এর ওপরে, সেই জায়গাগুলোতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে থাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দ্রুত এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ।

  • পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু খোলা বায়েজিদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

    পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু খোলা বায়েজিদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

    পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খোলার ঘটনায় গ্রেফতার বায়েজিদ তালহা মৃধার গ্রামের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে।

    সোমবার (২৭ জুন) বিকেলে পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকা‌ঠি ইউনিয়ন তে‌লিখালী গ্রা‌মে এ ঘটনা ঘ‌টে। তবে এতে হতাহত হয়নি কেউ।

    স্থানীয়রা জানান, পদ্মা সেতুর নাট খোলার পর সবাই জানতে পারে বায়েজিদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে। এরপর অনেকেই তার বাড়ির খোঁজ শুরু করে। একপর্যায়ে বিকেল ৫টার দি‌কে একদল যুবক রড-লাঠি নিয়ে বায়েজিদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

    এসময় বায়েজিদের ভাই মো. সোহাগ মৃধার স্ত্রী হাদিসা খাতুন ও তার মেয়ে ফা‌তিমাতু‌জ্জোহরা প্রাণ বাঁচাতে পাশের ঘরে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা বায়েজিদের ভাইয়ের মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করেন।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার ঘটনার বেশ কিছু ছবি প্রকাশ পায়। এতে দেখা যায় পটুয়াখালী সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদসহ ছাত্রলীগের আরও কয়েকজনকে।

    এ বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, বাংলাদেশের সব মানুষের স্বপ্নের সেতু পদ্মা সেতু। একজন ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে কোনো অবস্থাতেই বায়েজিদের এমন কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। সে কারণেই আজ ওদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরিবারের কাউকে পাইনি।

    এদিকে হামলায় অংশ নিতে দেখা যায় আরাফাত ইসলাম সাগর নামে আরেক যুবককে। তিনি পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের ভেঙে দেওয়া কমিটির সদস্য (কার্যনির্বাহী) ছিলেন।

    আরাফাত ইসলাম বলেন, আমরা সবাই পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। এই সেতু আমাদের একটা আবেগের জায়গা। ১৬ কোটি বাঙালির আবেগের জায়গায় হাত দিয়েছেন বায়েজিদ। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি বায়েজিদের পরিবার বিএনপি-জামায়াতের। সে কারণে পরিকল্পিতভাবে তিনি এ কাজ করেছেন। আজ আমরা তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। আমাদের সঙ্গে স্থানীয়রাও ছিলেন। ওখানে যা হয়েছে তা আমাদের বিবেকের তাড়নায় করেছি।

    বায়েজিদের ভাবি হাদিসা আক্তার বলেন, বিকেলের দিকে মেয়েকে নিয়ে ঘরে ছিলাম। এমন সময় হঠাৎ রামদা-কুড়াল নিয়ে অনেক ছেলেরা প্রবেশ করলে আমরা ভয়ে পাশের ঘরে আশ্রয় নেই। আমার ঘরের বেড়া কোপাইছে, ঘরের মালামাল ভাঙচুর করছে।

    পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, এ বাড়িতে মূলত বায়েজিদ থাকেন না। এখানে থাকেন তার ভাই-ভাবি। তবে বিকেলে কে বা কারা এই বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এ বিষয়ে এখনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে বায়েজিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি কেউই দায় নিচ্ছে না। তবে এরইমধ্যে বায়েজিদের সঙ্গে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী আশফাকুর রহমান বিপ্লব এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছবি ভাইরাল হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুন) বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়। এর পরের দিন রোববার (২৬ জুন) ভোর থেকেই সেতু দিয়ে শুরু হয় যান চলাচল। এদিন পদ্মা সেতু গিয়ে রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে টিকটক ভিডিও আপলোড করেন বায়েজিদ। এরপর ভিডিওটি সিআইডির নজরে আসে। সবশেষ রাজধানীর শান্তিনগর থেকে তাকে আটক করা হয়।

  • নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা সেতুতে ট্রাক উল্টে আহত ৩

    নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা সেতুতে ট্রাক উল্টে আহত ৩

    মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উত্তর ভায়াডাক্টে পেঁয়াজবাহী ট্রাক উল্টে ৩ জন আহত হয়েছেন।আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটি জাজিরা প্রান্ত থেকে পদ্মা সেতু পার হয়ে মাওয়া প্রান্তে নামার পথে সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। ট্রাকটিতে ১৩৬ বস্তা পেঁয়াজ ছিল। আহতদের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি টহল দল আহতদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে আরেকটি ট্রাক তাদের গাড়িতে ধাক্কা দিলে সেই ট্রাকটিও আটক করা হয়।

  • পদ্মাসেতু: ২৪ ঘণ্টায় ২ কোটি টাকা টোল আদায়

    পদ্মাসেতু: ২৪ ঘণ্টায় ২ কোটি টাকা টোল আদায়

    বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মাসেতু দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১ হাজারের বেশি গাড়ি পারাপার হয়েছে। একই সময়ে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি টাকার বেশি।

    সোমবার সকালে পদ্মা সেতু প্রকল্পের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি জানান, গতকাল রোববার ভোর ৬টা থেকে আজ ভোর ৬টা পর্যন্ত সেতু দিয়ে মোট গাড়ি পারাপার হয়েছে ৫১ হাজার ৩১৬টি এবং একই সময়ে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ৩০০ টাকা।

    সূত্র মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া-প্রান্ত দিয়ে সেতু পার হয়েছে ২৬ হাজার ৫৮৯টি গাড়ি এবং এ থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৯০০ টাকা।

    একই সময়ে জাজিরা-প্রান্ত দিয়ে সেতু পার হয়েছে ২৪ হাজার ৭২৭টি গাড়ি এবং টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা।

  • পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু খুলতে সরঞ্জাম ব্যবহার হয়েছে: সিআইডি

    পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু খুলতে সরঞ্জাম ব্যবহার হয়েছে: সিআইডি

    পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু হাত দিয়ে খোলা হয়নি, তা খোলার জন্য সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ।

    তিনি বলেছেন, পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু হাত দিয়ে খোলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে আমরা সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জেনেছি, এত বড় একটা স্থাপনার নাট-বল্টু হাত দিয়ে খোলা যাবে না। এতে বোঝা যায় নাট-বল্টু হাতে দিয়ে খোলা হয়নি, নাট-বল্টু খোলার জন্য সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে।

    সোমবার (২৭ জুন) রাজধানীর মালিবাগস্থ সিআইডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    গ্রেফতার বায়েজিদের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে বলেও জানান রেজাউল মাসুদ।

    এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রোববার (২৬ জুন) বিকেলে যুবক বায়েজিদ তালহাকে আটক করে সিআইডি।

    এ বিষয়ে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট খুলে টিকটক ভিডিও তৈরি করে ভাইরাল হওয়া ৩০ বছর বয়সী যুবক বায়েজিদ তালহাকে বিকেলে রাজধানীর শান্তিনগর থেকে আটক করা হয়েছে। তার বাড়ি পটুয়াখালীতে।

    তিনি আরও বলেন, তাকে সিআইডি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেন তিনি পদ্মা সেতুর নাট খুললেন, তা জানতে চাওয়া হবে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

    ৩৪ সেকেন্ডের ওই ভাইরাল টিকটক ভিডিওতে দেখা যায়, বায়েজিদ তালহা সেতুর রেলিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে দুটি বল্টুর নাট খুলছেন। ভিডিও ধারণকারীকে বলতে শোনা যায়, ‘এই লুজ দেহি, লুজ নাট, আমি একটা ভিডিও করতেছি, দেহ।’

    নাট হাতে নিয়ে বায়েজিদ বলেন, ‘এই হলো পদ্মা সেতু, আমাদের… পদ্মা সেতু। দেখো আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু। এই নাট খুইলা এহন আমার হাতে।’

  • পদ্মা সেতু: বিএনপির কেন্দ্রে সমালোচনা, তৃণমূলে উচ্ছ্বাস

    পদ্মা সেতু: বিএনপির কেন্দ্রে সমালোচনা, তৃণমূলে উচ্ছ্বাস

    খুলে গেলো বাঙালির শত সহস্র স্বপ্নের দুয়ার পদ্মা সেতু। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হলো নতুন পালক। শনিবার (২৫ জুন) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সেতু উদ্বোধনে শুধু পদ্মাপাড় নয়, সারাদেশে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। কেন্দ্রে সমালোচনা থাকলেও দেশের সর্বস্তরের মানুষ সঙ্গে এই উৎসবে শামিল বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের শুরু থেকে এ বিষয়ে সমালোচকের অবস্থানে রয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। খোদ দলটির প্রধান খালেদা জিয়া ‘পদ্মা সেতু হবে না, ভেঙে পড়বে’ বলে উপহাসও করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত পদ্মা সেতু নির্মিত হওয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি বলেছেন, কোনো ব্যক্তি বা দলের টাকায় নয়, পদ্মা সেতু জনগণের টাকায় নির্মিত হয়েছে।পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সরকারের তরফ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা তাতে সায় দেয়নি।দেশে একাধিকবার সরকার গঠন করা এ রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পদ্মা সেতু ইস্যুতে এমন সমালোচনামূলক অবস্থানে থাকলেও এক্ষেত্রে উচ্ছ্বাস লুকোয়নি তাদের তৃণমূল।পদ্মা সেতু নির্মাণ হওয়ায় সম্প্রতি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ফেসবুকে লেখেন, ‘হারিয়ে যাবে আমাদের চিরচেনা পথের অনেক কিছু। স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পদ্মা নদী পারাপারের মাওয়া-কাঁঠালবাড়ী ঘাট। উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ জুন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশার পদ্মা ব্রিজ।’পদ্মা সেতু নিয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রাফিকুজ্জামান বলেন, পদ্মা সেতুর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শুধু একুশ জেলা নয়, এটা সমগ্র বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। যমুনা সেতুর যেমন সমগ্র দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে এটাও ঠিক তেমনি অবদান রাখবে। একটা দেশের উন্নতির জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন দরকার। সেদিক থেকে এটাকে আমি ইতিবাচকভাবে দেখি। তবে এই সেতুর নির্মাণব্যয় ও প্রক্রিয়া নিয়ে আমার দলের সমালোচনা রয়েছে, যার সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত।২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খলিলুর রহমান ঠানডু চৌধুরী বলেন, ‘২০০৪ সালে এ সেতু বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা আন্দোলন গড়ে তুলি, আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান খান, বরিশালে বিএনপির মুজিবুর রহমান সরোয়ার, জহির উদ্দিন খান স্বপন, শরীয়তপুরের প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকসহ আমরা অনেকের সঙ্গে মিটিং করেছি। আমি শাহজাহান খানের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা সবাই এই সেতুর জন্য আন্দোলন করেছি। তবে দুঃখের বিষয়, আমরা যখন এই সেতু নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলি তখন ১৫ হাজার মানুষকে আমি ভাত খাইয়েছি, আর এখন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমি বিএনপি করার অপরাধে থাকতে পারলাম না।’