Category: জাতীয়

  • বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার

    বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ১২তম গভর্নর হিসেবে যোগদান করেছেন আব্দুর রউফ তালুকদার। মঙ্গলবার (১২ জুলাই) প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক (সহকারি মুখপাত্র) জি. এম. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    যোগদানের তারিখ থেকে আগামী ৪ (চার) বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
    ১১ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগেরর এক প্রজ্ঞাপন (নম্বর-৫৩,০০,০০০০,৩১১.১১.০১৬.১৭-২২৭) অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার ১২ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ১২তম গভর্নর হিসেবে যোগদান করেন।

    তিনি ১৯৬৪ সালের আগস্ট মাসে জন্ম গ্রহণ করেন। স্ত্রী সেলিনা রওশন পেশায় শিক্ষিকা। এ দম্পতির এক মেয়ে ও এক ছেলে আছে।

    আব্দুর রউফ তালুকদার ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (প্রশাসন ক্যাডার) যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ ৩৪ বছরেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১৮ সালের ১৭ জুলাই অর্থ সচিব হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। অর্থ সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ১৮ বছরেরও বেশি সময় অর্থ বিভাগে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

    তিনি অর্থ বিভাগে দীর্ঘ কর্মজীবন ছাড়াও শিল্প মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরে প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি অর্থ বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র যেমন বাজেট সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় (পিএফএম) আইটি প্রবর্তনে অবদান রেখেছেন। পাশপাশি তিনি সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে মধ্য মেয়াদি বাজেট ফ্রেমওয়ার্ক (এমটিবিএফ) বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। সরকারি কর্মচারীদের জন্য বেতন অটোমেশন, পেনশনভোগীদের জন্য ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) সুবিধা এবং জাতীয় সঞ্চয়পত্র অটোমেশনে মূল ভূমিকা পালন করেন।

    অর্থ সচিব হিসেবে তিনি পরিচালনা পর্ষদ সদস্য বাংলাদেশ ব্যাংক; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড; চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল (ন্যাশনাল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলোপমেন্ট ফান্ড); ভাইস চেয়াম্যান, আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ; ডেপুটি চেয়ারম্যান সাবিনকো; পরিচালক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পর্ষদ; পরিচালক, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড; বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস); বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন; বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি); বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    তিনি ‘ন্যাশনাল ইন্টিগ্রিটি অ্যাওয়ার্ড, ২০২০-২১ অর্জন করেন। তিনি ‘পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ অর্জনে অর্থ বিভাগের নেতৃত্ব দেন।

    আব্দুর রউফ তালুকদার যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম থেকে ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়াও, তিনি হার্ভার্ড কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট, বোস্টন, যুক্তরাষ্ট্র, আইএমএফ ইনস্টিটিউট, ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র; ক্রাউন এজেন্ট প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, লন্ডন, যুক্তরাজ্য, ন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজ (GRIPS), টোকিও, জাপান; ইনস্টিটিউট অব পাবলিক ফাইন্যান্স (আইপিএফ), ঢাকা ইত্যাদিতে পেশাগত প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিয়েছেন।

  • বিশেষ চাহিদা-সম্পন্ন শিশুদের বিকাশে সমন্বিত শিক্ষার পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

    বিশেষ চাহিদা-সম্পন্ন শিশুদের বিকাশে সমন্বিত শিক্ষার পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

    বিশেষ চাহিদা-সম্পন্ন শিশুদের মেধা-মনন বিকাশে সমন্বিত শিক্ষার পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৷

    বুধবার (১৩ জুলাই) গণভবনে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী দেশের অটিজম ও এনডিডি শিশুদের শিক্ষার ন্যায্য ও সম-অধিকার নিশ্চিতকল্পে নির্মিতব্য আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল একাডেমি ফর অটিজম ও নিউরো-ডেভলপমেন্ট ডিজেবিলিটিজ (এনএএএনডি)’-এর স্থাপত্য নকশার উপস্থাপনা অবলোকন করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস ইউং থেকে পাঠানো ওক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    শেখ হাসিনা বলেন, বিশেষ চাহিদা-সম্পন্ন শিশুদের মেধা-মনন বিকাশে সমন্বিত শিক্ষার পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, যে কোনো স্বাভাবিক শিশুর তুলনায় এ ধরণের শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে খোলামেলা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

    তাছাড়াও তিনি শহর এলাকায় যেকোনো আবাসিক ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ‘ক্রস-ভেন্টিলেশন’ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

    প্রধানমন্ত্রী এসময় অটিজম ও এনডিডি শিশুদের জন্য বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং নতুন নতুন শিক্ষক ও প্রশিক্ষক সৃষ্টির উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। কমপ্লেক্স ভবনের নকশা প্রণয়নের ক্ষেত্রে তিনি দিনের আলোর সর্বোত্তম ব্যবহার, মুক্ত বায়ু/অক্সিজেন চলাচল, প্রয়োজনীয় জলাধার সংরক্ষণ, যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান রাখার উপর জোর দেন।

  • ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামলো রিজার্ভ

    ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামলো রিজার্ভ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় দুই বছরের মধ্যে ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছে।‌ বর্তমানে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৯ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে। গত বছরের ডিসেম্বরে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার।

    গত সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সঙ্গে এক দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আমদানি পেমেন্ট নিষ্পত্তি করেছে বাংলাদেশ। আমদানির অর্থ পরিশোধের অনুমোদন দেওয়ার পর কমে গেছে রিজার্ভ।

    এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন হলো এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো আঞ্চলিক লেনদেনের জন্য আমদানি পেমেন্ট নিষ্পত্তি করে। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা এর সদস্য। এই ব্যবস্থায় দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে প্রতি দুই মাস অন্তর আমদানির অর্থ পরিশোধ করতে হয়।

    রপ্তানি আয় বাড়লেও অস্বাভাবিকভাবে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া, প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) কমে যাওয়ার ফলে ডলারের ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় রিজার্ভে প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। গত কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলারের মজুত চাপে আছে বলেও জানান তারা।

    গত অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাসের মধ্যে আমদানি ব্যয় ৩৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৭৫ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় রপ্তানি আয় ৩৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪৪ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে গত ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবার রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে। গত অর্থবছরে প্রবাসীরা অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোয় রেমিট্যান্স আসে ২১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার।

    জানা গেছে, গত বছরের শুরুতে মহামরি করোনার কারণে প্রবাসীরা এক ধরনের অনিশ্চয়তা থেকে তাদের জমানো টাকা দেশে পাঠিয়েছিলেন। অনেকে চাকরি হারিয়ে কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে সব অর্থ দেশে এনেছেন। এছাড়া গত বছরের শুরুতে করোনার স্থবিরতার কারণে হুন্ডি প্রবণতা কমে যায়। ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো অর্থের অংক বেড়ে যায়।

    এসব কারণে মহামারির মধ্যেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছিল। এখন অনেকে দেশে এসে আটকা পড়েছেন। আবার অনেক প্রবাসী নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো কমিয়ে দিয়েছেন। হুন্ডিও আবার বাড়ছে। তার ফলে প্রবাসী আয় নিম্নমুখী রয়েছে।

  • বছরজুড়ে বন্ধ থাকতে পারে প্রাথমিকের স্কুল ফিডিং কার্যক্রম

    বছরজুড়ে বন্ধ থাকতে পারে প্রাথমিকের স্কুল ফিডিং কার্যক্রম

    বছরজুড়ে বন্ধ থাকতে পারে প্রাথমিকের স্কুল ফিডিং কার্যক্রম এ কার্যক্রমকে বেশ ফলপ্রসূ বলছেন বিশেষজ্ঞরা-ফাইল ছবি
    দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় খুদে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও ঝরে পড়া কমাতে উচ্চ পুষ্টিসম্পন্ন বিস্কুট বিতরণ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও অনিয়মে এ কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মেয়াদ শেষে তিন দফায় প্রায় দুই বছর প্রকল্পের সময় বাড়ালেও সেটি শেষ হয়েছে। নতুন করে শুরু করতে এখন পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করা হয়নি বলে জানা গেছে।

    জানা যায়, শিক্ষার্থী ভর্তি ও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির হার বাড়ানো এবং ঝরে পড়া রোধ—প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে এমন বেশকিছু লক্ষ্য অর্জনে ২০১০ সালে দেশে দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়। এরপর দফায় দফায় সংশোধনী এনে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় দফায় প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ায় সরকার। মেয়াদ বৃদ্ধির প্রতি দফায় শিশুদের খাবার প্রদানের জন্য নতুন আরেকটি প্রকল্প প্রণয়ন করার শর্ত দেওয়া হলেও তৃতীয় দফায় মেয়াদ গত মাসের ৩০ জুন শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ডিপিপি প্রণয়নের কাজ এখানো শুরু হয়নি।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু করতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠালে সেখান থেকে একটি ফিজিবিলিটি (সম্ভাব্যতা) স্টাডির জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়। সেটি তৈরির পর নতুন করে ডিপিপি তৈরি করতে হবে। সেটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। যদি সেখানে কোনো অসঙ্গতি থাকে তবে সংশোধনের জন্য পাঠানো হবে। এরপর সেটি অনুমোদন দেওয়ার পর অফিস ও জনবল নিয়োগ করে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে। ঈদের পর এ কার্যক্রম শুরু করা হলেও এতে ন্যূনতম পরবর্তী বছর প্রয়োজন হবে। সে কারণে আগামী এক বছর এ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপিই’র মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মহিবুর রহমান বলেন, স্কুল ফিডিংয়ের তৃতীয় ধাপের মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে নতুন প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইমূলক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এজন্য বিশ্ব খাদ্য সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে সম্মতি জানিয়েছে।

    তিনি বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাই কাজ শেষে নতুন করে ডিপিপি তৈরি করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আশা করি আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে নতুন করে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, স্কুল ফিডিংয়ের মাধ্যমে বিস্কুট বিতরণের সফলতা থেকে সারাদেশের প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার দিতে প্রণয়ন করা হয় ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতিমালা-২০১৯’। নীতিমালা অনুযায়ী ‘প্রাইমারি স্কুল মিল প্রকল্পটি গত ১ জুন একনেকে উত্থাপন করা হয়। শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার খিচুড়ি দেয়ার প্রস্তাব করায় প্রধানমন্ত্রী ডিপিপি সংশোধন করে কার্যকর ও বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর আগে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশে সফর রাখায় একনেক থেকে প্রকল্পটি ফেরত পাঠানো হয়।

    ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার কিছু দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুলের শিশুদের গুঁড়ো দুধ দেওয়া শুরু করে। ১৯৯৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুলের জন্য খাদ্য কর্মসূচি চালু করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের চাল, ডাল ও নগদ অর্থ দেওয়া হতো। পরে ২০০০ সালের পর থেকে এসবের বদলে ভিটামিনসমৃদ্ধ বিস্কুট দেওয়া হতো। ২০০২ সালে যশোরে বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সাহায্য হিসেবে বৃহৎ পরিসরে স্কুলে খাওয়ানো কর্মসূচি চালু করা হয়।

    জানা গেছে, দেশের ১০৪টি উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তার মধ্যে ৯৪টি সরকারি অর্থায়নে আর ১০টি উপজেলায় বিশ্ব খাদ্য সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ফিডিং কর্মসূচিতে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। ১৯৯০ সাল থেকে প্রায় পাঁচ কোটি শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়েছে।

    দেখা গেছে, ১৪টি উপজেলায় শিশুরা রান্না করা খাবার পেত। বাকি সব এলাকায় তাদের ৭৫ গ্রাম ওজনের ভিটামিনসমৃদ্ধ বিস্কুট দেওয়া হতো। তিন দফায় ১৮ মাস মেয়াদ শেষ করেও এ প্রকল্পে এখানো ২৫০ কোটি টাকার বেশি অব্যয়িত অর্থ রয়ে গেছে, যা দিয়ে আরও ছয় মাস বিস্কুট বিতরণ করা সম্ভব হবে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের নানা পজিটিভ দিক রয়েছে। পৃথিবীব্যাপী গবেষণায় সেটি উঠে এসেছে। বর্তমানে এ কার্যক্রমের তিন দফায় বাড়তি মেয়াদ শেষ হলেও নতুন প্রকল্প শুরু করা সম্ভব হয়নি।

    তিনি বলেন, স্কুল ফিডিং থেকে বড় তিন ধরনের লাভ হয়। তার মধ্যে করোনা-পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে পুষ্টিহীনতা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিতরণ করা বিস্কুটে উচ্চমানসম্পন্ন পুষ্টি থাকে। এমনিতে আমাদের শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এসব বিস্কুট খেলে তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়। এর বাইরে শিশুদের ঝরে পড়ার হার কমে যায় ও খাদ্য বিতরণের কারণে স্কুলে এক ধরনের আনন্দ তৈরি হয়। এতে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শিখন ফল বাড়ে।

    রাশেদা কে চৌধুরী আরও বলেন, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বন্ধ হলে প্রাথমিকে এই তিনটি হারিয়ে যাবে। শিশুরা শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়বে। দেশে বড় বড় মেগা প্রকল্প আছে, শিক্ষায় স্কুল ফিডিং একটি মেগা প্রকল্প হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  • পদ্মা সেতু হয়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ, গাড়ির চাপ নেই টোলপ্লাজায়

    পদ্মা সেতু হয়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ, গাড়ির চাপ নেই টোলপ্লাজায়

    ঈদ উদযাপন শেষে গাড়িতে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন শরীয়তপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। তবে যানবাহনের চাপ নেই সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোলপ্লাজায়।

    মঙ্গলবার (১২ জুলাই) সকাল থেকেই জাজিরা টোলপ্লাজায় এমন চিত্র দেখা যায়। ভোগান্তি ছাড়াই পদ্মা সেতু দিয়ে সরাসরি গাড়িতে পার হচ্ছেন যাত্রীরা। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ বাড়বে বলে ধারণা করছেন সেতু সংশ্লিষ্টরা।

    পদ্মা সেতু হয়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ, গাড়ির চাপ নেই টোলপ্লাজায়

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, চাপ না থাকায় পদ্মা সেতুর টোল দিয়ে নির্বিঘ্নে পারাপার করা হচ্ছে গাড়ি। দুর্ভোগ ছাড়াই যাত্রী নিয়ে সেতু পার হচ্ছে যানবাহনগুলো। তবে নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিয়জিত রয়েছেন।

  • শেখ হাসিনাকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদীর বার্তা

    শেখ হাসিনাকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদীর বার্তা

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

    শুভেচ্ছা বার্তায় মোদী বলেন, আমাদের জনগণের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে, এই উৎসব আমাদের ত্যাগ ও ভাগ করে নেওয়ার গুণাবলীর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশেষ করে আমাদের সমাজের কম ভাগ্যবান জনগণের সঙ্গে, যারা আমার ও আপনার সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চমৎকার সহযোগিতা ও অংশীদারত্বকে আরও জোরদার করার জন্য আমাদের ভাগ করা অঙ্গীকার হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমগুলো মধ্যে একটি।

    যার মাধ্যমে আমরা ক্রমবর্ধমান কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং আন্তর্জাতিক পরিবেশ সত্ত্বেও আমাদের নাগরিকদের জন্য অন্তর্ভুক্তিকরণ প্রবৃদ্ধি চালিয়ে যেতে পারি।

    শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে দিল্লির বৈঠকে এসব বিষয় ছাড়াও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য মোদীর অপেক্ষার কথাও জানানো হয় শুভেচ্ছা বার্তায়।

  • ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা সজীব ওয়াজেদ জয়ের

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা সজীব ওয়াজেদ জয়ের

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

    ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি সবাইকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানান।

    ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘সবাইকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা। মুসলমানদের ত্যাগ শিক্ষার জন্য বিশেষ দিন এটি। একই সঙ্গে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর ও সামাজিক সাম্য সৃষ্টির একটি উদাহরণও এই দিনটি।

    কোরবানির ঈদের মাধ্যমে আমরা যে ত্যাগের চর্চা করি, তার ধারাবাহিতা অব্যাহত রাখলেই দেশের অসচ্ছল মানুষদের অসহায়ত্বের অবসান ঘটবে। তাই আসুন, সবাই নিজেদের আশেপাশের অসহায়-দরিদ্র মানুষদের পাশে দাঁড়াই।

    এমনকি যে কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে সবাই যেন সামর্থ্য অনুযায়ী সামাজিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসি। তাহলেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে সবার মধ্যে।

    সবাইকে ঈদ মোবারক!’

  • দেশবাসীকে রাষ্ট্রপতির ঈদ শুভেচ্ছা

    দেশবাসীকে রাষ্ট্রপতির ঈদ শুভেচ্ছা

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলিম ভাই-বোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

    রোববার (১০ জুলাই) ঈদুল-আজহা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহা উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে চরম ত্যাগ ও প্রভু প্রেমের পরাকাষ্ঠা। মহান আল্লাহর নির্দেশে স্বীয় পুত্র হযরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করতে উদ্যত হয়ে হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর প্রতি অগাধ ভালোবাসা, অবিচল আনুগত্য ও অসীম আত্মত্যাগের যে সুমহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা ইতিহাসে অতুলনীয়।

    আবদুল হামিদ বলেন, কোরবানি আমাদের মধ্যে আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সঞ্চারিত করে, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে সুখ-দু:খ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মনোভাব ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়।

    তিনি বলেন, গত দুই বছর বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব করোনা মহামারির বিভীষিকার মধ্যেই ঈদুল আজহা উদযাপন করেছে। বর্তমানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও ভবিষ্যৎ সংক্রমণ বাড়ার রোধে যথাযথ সাবধানতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। করোনা মহামারি ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী নিম্ন আয়ের মানুষ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে দিন যাপন করছে। তারাও যেন ঈদের আনন্দ হতে বঞ্চিত না হয় ও ঈদোৎসবে শামিল হতে পারে সে লক্ষ্যে তিনি দেশের বিত্তবান ও সচ্ছল ব্যক্তিবর্গকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    ত্যাগের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি জীবনে প্রতিফলিত হলেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি ও সৌহার্দ্য উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহর কাজে কোরবানি কবুল হওয়ার জন্য শুদ্ধ নিয়ত ও বৈধ উপার্জন থাকা আবশ্যক। সরকার নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করে ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ বন্ধে সবাই সচেষ্ট থাকবেন। ঈদুল আজহা সবার জন্য বয়ে আনুক কল্যাণ, সবার মধ্যে জেগে উঠুক ত্যাগের আদর্শ।

  • জনগনের নিরাপত্তায় ঈদ আনন্দ বিলিয়ে দেওয়া মানুষগুলো পুলিশ

    জনগনের নিরাপত্তায় ঈদ আনন্দ বিলিয়ে দেওয়া মানুষগুলো পুলিশ

    যথাযথ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদের জামাত শেষে সামর্থ্য অনুয়ায়ী পশু কোরবানি করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

    তবে ঈদের আনন্দ সবার জন্য উপভোগ্য হয় না। পেশাগত কারণে মানুষের নিরাপত্তাকেই গুরুত্ব দিয়ে ঈদের দিন কেটে যায় পুলিশ সদস্যদের। অন্যের ঈদ নির্বিঘ্ন করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

    দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখা পুলিশ সদস্যরা। কর্মস্থলেই অন ডিউটিতে থেকে পালন করতে হয় তাদের ঈদ উৎসব। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বা কষ্টও নেই। নগরবাসীর নিরাপত্তা ও ঈদ আনন্দ নির্বিঘ্ন করতেই পরিবারের সান্নিধ্য বঞ্চিত পুলিশ সদস্যরা সবার মাঝেই নিজেদের ঈদ আনন্দ খুঁজে পান। তবে অনাবিল আনন্দের এ দিনটিও তাদের কাছে অন্যান্য দিনের মতোই।

    রোববার (১০ জুলাই) সকাল ৭টায় ঈদের প্রথম জামাত শুরু হয়। জাতীয় মসজিদে ঈদ জামাতে অংশ নিতে সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা আসতে শুরু করেন। প্রথম জামাতে মুসল্লিদের ঢল নামে।

    ঈদ জামাত শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে কথা হয় সেখানে দায়িত্বরত পল্টন থানার সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) মোহাম্মদ জলিলুর রহমানের সঙ্গে।

    জলিলুর রহমানের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে। মুসলমানদের প্রধান দুটো ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ছুটি পাননি তিনি। পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা আমাদের দায়িত্ব, তারপরও একটু কষ্ট তো থাকেই। আমার সামনে দিয়ে দেখা যায় একজন তার বাচ্চাকে কোলে নিয়ে নামাজে এসেছেন। আর আমার বাচ্চাটা বাসায়, তখন খারাপ লাগে। তবুও দেশের স্বার্থে, জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা দায়িত্ব পালন করি।’

    ‘ঈদে তো সবাইকে ছুটি দেওয়া সম্ভব হয় না। আমি দুই ঈদেই ছুটি পাইনি। যখন মানুষ আমাদের এ সেক্রিফাইসকে মূল্যায়ন করে তখন অনেক ভালো লাগে। মানুষের নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই।’

    পল্টন মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া আমার দায়িত্ব, এটা তো করতেই হবে। পরিবার ছাড়া ঈদ পালনতো কখনই সুখকর নয়। কিন্তু পেশাগত কারণে দায়িত্ব পালন করতেই হয়। ঈদে তো সবাই ছুটি পাবো না। ঈদুল ফিতরেও আমি ছুটি পাইনি। সব পরিবারই তো চায় তার সন্তানের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে। কিন্তু যেহেতু এখন এ পেশায় আছি, তাই তারাও অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।

    তিনি আরও বলেন, ঈদের নামাজ আমরা ধাপে ধাপে আদায় করি। মূলত প্রথম জামাতেই মানুষ বেশি নামাজ পড়েন। আর কোরবানির ঈদে মানুষ প্রথম জামাতে নামাজ পড়ার চেষ্টা করেন, নামাজ শেষে তারা পশু কোরবানি করেন। যেহেতু বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি জামাত হয়, তাই আমরা ধাপে ধাপে নামাজ আদায় করি।

    বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে দায়িত্বরত মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, এ চাকরি দিয়েই আমরা পরিবার চলে। সুতরাং এখানেই আমার ঈদের আনন্দ। পরিবার নিয়ে ঈদ করার সুযোগ পাই না। তবে মানুষের সেবা দেওয়ার মধ্যদিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার অভ্যাস হয়ে গেছে।

  • আসুন ত্যাগের চেতনায় দেশের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করি

    আসুন ত্যাগের চেতনায় দেশের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করি

    ত্যাগের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদুল আজহা মানে ত্যাগের উৎসব। আসুন, ত্যাগের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করি।’

    রোববার (১০ জুলাই) পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভ্রাতৃত্বের বন্ধন বজায় রেখে সবার সঙ্গে ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

    তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেও সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

    প্রধানমন্ত্রী ‘সকলেই সুস্থ ও নিরাপদ থাকুন, ঈদ মোবারক’ বলে তার ভিডিও বার্তা শেষ করেন।