Category: আন্তর্জাতিক

  • হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হামাসের দাবি অস্বীকার করল ইসরাইল

    হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হামাসের দাবি অস্বীকার করল ইসরাইল

    উত্তরা গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের আগুন দেওয়ার ঘটনা অস্বীকার করেছে ইসরাইল। হাসপাতাল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ‘সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’ বলে মন্তব্য করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।

    তবে হামাসের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (আইডিএফ)। তারা দাবি করেছে, হাসপাতালে খালি কক্ষে ছোট অগ্নিকাণ্ড হয়েছে।

    শনিবার (২৮ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল।

    আইডিএফের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেছেন, ‘যদিও আইডিএফ সৈন্যরা হাসপাতালে ছিল না, তখন নিয়ন্ত্রণে থাকা হাসপাতালের ভিতরে একটি খালি বিল্ডিংয়ে একটি ছোট অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

    তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে সামরিক কার্যকলাপ এবং আগুনের মধ্যে কোন সংযোগ পাওয়া যায়নি।এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে অপ্রমাণিত প্রতিবেদন প্রশ্নবিদ্ধ সাংবাদিকতা।’

    গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ল্যাব ও সার্জারি বিভাগসহ কামাল আদওয়ানের বেশ কয়েকটি অংশে ইসরাইলি সেনাদের আগুন দেওয়ার অভিযোগ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখনো ২৫ রোগী এবং ৬০ জন স্বাস্থ্যকর্মী হাসপাতালে রয়ে গেছে।

    মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, যে ইসরায়েলি সৈন্যরা হাসপাতালে প্রবেশ করেছে, কর্মীদের এবং রোগীদের বাইরে নিয়ে গেছে এবং শীতের আবহাওয়ায় তাদের বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য করেছে।

    জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, ইসরাইল গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকল্পিতভাবে ভেঙে ফেলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডব্লিউএইচও বলেছে, প্রাথমিক খবরে এ অভিযানে হাসপাতালের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে এবং ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত অযাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রোগী এবং কর্মীদের আইডিএফ ট্যাঙ্কের সামনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

  • গাজায় হাসপাতালের বাইরে ইসরাইলি হামলা, ৫ সাংবাদিক নিহত

    গাজায় হাসপাতালের বাইরে ইসরাইলি হামলা, ৫ সাংবাদিক নিহত

    বৃহস্পতিবার সকালে গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় হাসপাতালের বাইরে ইসরাইলি হামলায় ৫ ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

    আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-আওদা হাসপাতালের বাইরে একটি গাড়িতে হামলাটি হয়। নিহত সাংবাদিকরা স্থানীয় কুদস নিউজ নেটওয়ার্কের জন্য কাজ করছিলেন।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে একটি গাড়ি আগুনে পুড়ে যেতে দেখা গেছে। ভিডিওটি থেকে সাদা রঙের একটি ভ্যানের স্ক্রিনশট নেওয়া হয়েছে, যেটিতে বড় লাল অক্ষরে ‘প্রেস’ শব্দটি লিখা ছিল।

    নিহত সাংবাদিকরা হলেন, ফাদি হাসসুনা, ইব্রাহিম আল-শেখ আলী, মোহাম্মদ আল-লাদাহ, ফয়সাল আবু আল-কুমসান ও আয়মান আল-জাদি।

    আল-জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরিফ বলেছেন, আয়মান আল-জাদির প্রসূতি স্ত্রীকে সন্তান জন্মদানের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি হাসপাতালের সামনে স্ত্রী ও সন্তানের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন।

    কুদস নিউজ জানিয়েছে, বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলগুলো নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

    এছাড়া গাজা শহরের জেইতুন পাড়ায় একটি বাড়িতে হামলায় আরো পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে। চিকিৎসকরা ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকে আছে বলে সতর্ক করেছে।

    সংবাদকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করে ইসরাইলি হামলা এবারই প্রথম নয়। চলতি মাসের শুরুতে সাংবাদিকদের সুরক্ষা কমিটি (সিপিজে) এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইসরাইলের হামলায় চার ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে।

    একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশটিকে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ওপর হামলার জন্য জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বানও জানিয়েছে।

    সিপিজে অনুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের হামলায় অন্তত ১৪১ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

    ইসরাইল দাবি করে আসছে, তাদের অভিযান শুধুমাত্র সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে এবং হামাস যোদ্ধারা বেসামরিক মানুষদের মধ্যে লুকিয়ে থাকে।

  • সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে ভাষণে যে তথ্য দিলেন খামেনি

    সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে ভাষণে যে তথ্য দিলেন খামেনি

    সিরিয়ায় বর্তমানে যা ঘটছে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এমনকি একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রও এক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

    বুধবার তেহরানের ইমাম খোমেনি হোসেইনিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি সভায় দেওয়া বক্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এসব কথা বলেন।সিরিয়ায় ইরানের দীর্ঘদিনের মিত্র বাশার আল-আসাদের আকস্মিক পতনের পর আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে এই প্রথম ভাষণ দিলেন তিনি।

    খামেনি বলেন, সিরিয়ায় যা ঘটছে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কমান্ড রুমের ষড়যন্ত্র। এ ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ নেই, যার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।

    তুরস্কের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সিরিয়ার একটি প্রতিবেশী দেশ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু প্রাথমিক পরিকল্পনাকারী হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।

    খামেনি বলেন, প্রতিরোধ ফ্রন্টের বৈশিষ্ট্য হলো: যত বেশি ধাক্কা দেবেন, তত তারা শক্তিশালী হবে। যত বেশি অপরাধযজ্ঞ চালাবেন, তত বেশি উদ্যমী হবে।আপনি তাদের সঙ্গে যত বেশি লড়াই করবেন, তত বেশি তারা বিস্তৃত হবে। আমি আপনাদের বলতে চাই, মহান আল্লাহর ইচ্ছায় প্রতিরোধ ফ্রন্টের পরিধি গোটা পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলকে আগের চেয়ে বেশি আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলবে। এই পুরো অঞ্চলে প্রতিরোধ ফ্রন্ট আগের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, প্রতিরোধের অর্থ সম্পর্কে যার বিন্দুমাত্র ধারনা নেই, তারা মনে মনে ভাবে, যখন প্রতিরোধ ফ্রন্ট দুর্বল হয়ে পড়েছে, তখন ইসলামি ইরানও দুর্বল হয়ে পড়বে। আমি আপনাদের দৃঢ়তার সঙ্গে জানাতে চাই, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ইচ্ছায়, ইরান অনেক শক্তিশালী এবং সামনের দিকে আরো বেশি শক্তিশালী হবে ইনশাআল্লাহ।

    খামেনি বলেন, তাদের প্রত্যেকেরই একটি উদ্দেশ্য আছে। তাদের লক্ষ্য ভিন্ন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ সিরিয়ার উত্তর বা সিরিয়ার দক্ষিণ থেকে ভূমি দখল করতে চাচ্ছে, আমেরিকা এ অঞ্চলে তাদের অবস্থান মজবুত করতে চাচ্ছে,এগুলোই তাদের লক্ষ্য। সময়মতো দেখা যাবে তাদের এইসব লক্ষ্যের কোনোটাই অর্জিত হবে না ইনশাআল্লাহ।

  • সিরিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল বশির

    সিরিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল বশির

    সিরিয়ায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন মোহাম্মদ আল বশির।

    মঙ্গলবার সিরিয়ার টেলিভিশনে দেওয়া এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ এ সরকারসহ সিরিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

    এদিকে প্রেসিডেন্ট আসাদের পতনের পর দুইদিনে ৩১০টি বিমান হামলা চালিয়ে সিরিয়ার সামরিক শক্তি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল। খবর রয়টার্স, স্কাই নিউজ, আলজাজিরার।

    সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন বিদ্রোহী জোটের প্রধান কমান্ডার আবু মোহাম্মদ আল জোলানি। তিনি একটি স্থিতিশীল প্রশাসন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন।

    রয়টার্স জানিয়েছে, আল জোলানি ইতোমধ্যে আসাদ সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ জালালি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল মেকদাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো ও কার্যপ্রণালি নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এর আগে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্রোহী নেতা মোহাম্মদ আল বশির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো দামেস্ক দখলের নেতৃত্বে ছিল হায়াত তাহরির আল শামস (এইচটিএস)।

    সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে এইচটিএস পরিচালিত সিরিয়ান স্যালভেশন গভর্নমেন্টের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ৪১ বছর বয়সি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল বশির। ১৯৮৩ সালে সিরিয়ার ইদলিবে জন্মগ্রহণকারী মোহাম্মদ আল বশির ২০০৭ সালে আলেপ্পো ইউনিভার্সিটি থেকে যোগাযোগ স্পেশালাইজেশনসহ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি সিরিয়ান গ্যাস কোম্পানিতে কাজ করেন।

    সিরিয়ার বিদ্রোহের পর আল বশির ২০২১ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন এবং বাশার আল আসাদের শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইদলিবভিত্তিক স্যালভেশন সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার মেয়াদে ই-গভর্ন্যান্সের প্রসার, রিয়েল এস্টেট ফি হ্রাস এবং পরিকল্পনাসংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারে তার নেতৃত্বে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    সরকার গঠনের পরই অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হবে বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, নির্বাসিত এবং বাস্তুচ্যুত সিরিয়ানদের পুনর্বাসন করাও হবে তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। সাধারণ জনগণও এখন ভেবে পাচ্ছে না সিরিয়ার নতুন অন্তর্বর্তী সরকার আসলে কেমন হবে। কারণ, বিদ্রোহীদের মধ্যে বিভিন্ন উপ-গোষ্ঠীর মধ্যে চরম মতবিরোধ রয়েছে।

    এসব মতবিরোধ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিতে পারে। এদিকে আসাদের পতনের পর মাত্র দুইদিনে ইসরাইলের চালানো ৩১০টির মতো হামলার কারণে সিরিয়ার সামরিক স্থাপনা তছনছ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

    তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সফলতা নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ সংশয় প্রকাশ করেছেন। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক স্যামুয়েল রামানি বলেছেন, বাশারের পতনে এইচটিএসের সঙ্গে যে কয়েকটি গোষ্ঠী ছিল, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এসএনএ)।

    ভিন্নমতের এ গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনে এইচটিএস কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, এইচটিএস ও এসএনএ-এর মধ্যে ২০২২ সালের আগে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইতিহাস রয়েছে।

    বিদ্রোহী জোট এখনো সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। এমন একটি অঞ্চলে এ ধরনের ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো নির্দিষ্ট মডেলও নেই। সোমবার দামেস্কে কিছু বিদ্রোহী যোদ্ধা আশা প্রকাশ করেছেন, শিগ্গিরই একটি নাগরিক প্রশাসন দেশ পরিচালনা করবে।

    ইদলিব প্রদেশের যোদ্ধা ফেরদৌস ওমর বলেন, ‘আমরা চাই রাষ্ট্র এবং নিরাপত্তা বাহিনী যেন ক্ষমতায় থাকে।’ ফেরদৌস শিগ্গির নিজের আদি পেশা কৃষিকাজে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

    সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের গবেষক লাহিব হিগালও। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেছেন, নতুন সরকার গঠনের পর তারা সিরিয়ার অন্য গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থরক্ষায় কীভাবে ভারসাম্য আনবে এবং কীভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতনভাতা দেবে-এসব বিষয় পরিষ্কার নয়। সিরিয়ায় ইরাকের মতো পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন লাহিব হিগাল।

    এমন পরিস্থিতিতে সিরিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি রূপরেখা দিয়েছে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করা বাশারবিরোধী জোট সিরিয়ান ন্যাশনাল কোয়ালিশন।

    জোটের প্রধান হাদি আল বাহরা রয়টার্সকে বলেছেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সময় প্রয়োজন। এছাড়া ছয় মাসের মধ্যে একটি খসড়া সংবিধান প্রস্তুত করতে হবে। সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে চীন, ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশও।

  • তাজমহলকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

    তাজমহলকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

    ভারতের আগ্রায় সম্রাট শাহজাহানের গড়া অমূল্য নিদর্শন তাজমহলকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার আগ্রায় উত্তরপ্রদেশ রাজ্য পর্যটনের আঞ্চলিক অফিসের ইমেইলে এই হুমকি আসার পর তাজমহলের ভেতরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তারক্ষীরা।

    তাজমহলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সাইদ আরিব আহমদ সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, হুমকি পাওয়ার পর সেখানে একটি বোমা নিষ্ক্রিয়করণ স্কোয়াড, একটি ডগ স্কোয়াড এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি।

    তবে কারা এই হুমকি দিয়েছে- তা জানানো হয়নি পুলিশের পক্ষ থেকে।

    উত্তরপ্রদেশ পর্যটনের উপ-পরিচালক দীপ্তি ভাতসা জানান, বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পরই ইমেইলটি তাৎক্ষণিকভাবে আগ্রা পুলিশকে ফরোয়ার্ড করে দেওয়া হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনা তদন্তে উত্তরপ্রদেশ সাইবার ক্রাইম বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাইবার ক্রাইম বিভাগ ইতোমধ্যে হুমকিদাতার অবস্থান শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।

  • লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন জেনারেলের বৈঠক, কী নিয়ে আলোচনা

    লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন জেনারেলের বৈঠক, কী নিয়ে আলোচনা

    মার্কিন সামরিক জেনারেল মেজর জেনারেল জ্যাশপার জেফার্স লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নজিব মিকাতির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

    সোমবার (২ ডিসেম্বর) লেবাননের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল জেফার্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যাকে হিজবুল্লাহ-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    তারা হিজবুল্লাহ-ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই বৈঠকটি হয়েছিল গত সপ্তাহে। খবর আলআরাবিয়া নিউজের।

    বৈরুতের মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিসা জনসন মিকাতির অফিসে মেজর জেনারেল জ্যাশপার জেফার্সকে মিকাতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, জেনারেল জেফার্স যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে অগ্রসর হতে সহায়তা করবেন এবং সামরিক-প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেবেন।

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জেফার্স যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, লেবানন, জাতিসংঘ এবং ইসরাইল নিয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে কাজ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিশেষ দূত আমোস হসস্টেইন এই কমিটির সিভিল চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যতক্ষণ না স্থায়ী একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

    মিকাতির কার্যালয় বলেছে, তিনি সোমবারের বৈঠকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য পূর্ণ প্রতিশ্রুতির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি আরও পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইসরাইলি বাহিনীকে লেবাননের দখল করা ভূমি থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।

    বৈঠকের কিছু সময় পর, হিজবুল্লাহ তাদের প্রথম হামলা ঘোষণা করেছে, যা ছিল গত সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রথম হামলা।

    হিজবুল্লাহ বলেছে, তাদের রক্ষামূলক আঘাত এটি সতর্কবার্তা এবং বারংবার ইসরাইলের সিসফায়ার লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া ছিল। এই আঘাতটি দুইটি রকেটের মাধ্যমে করা হয়েছিল, যা খালি এলাকায় পড়ে এবং কোনো বেসামরিক নাগরিকের ক্ষতি হয়নি, বলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে।

    ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিজবুল্লাহর আক্রমণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে একটি কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    লেবাননের সংসদের স্পিকার ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন, এর কিছু সময় আগে কর্তৃপক্ষ জানায় যে, ইসরাইলি হামলায় দুজন নিহত এবং এক লেবানিজ সেনা আহত হয়েছেন। ইসরাইল একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লংঘন করেছে, তবে তাদের দাবি যে তারা লেবাননের ভেতরে শত্রুতামূলক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের দক্ষিণ অংশের অনেক গ্রামে লেবানিজ নাগরিকদের তাদের বাড়ি ফিরে আসতে বাধা দিচ্ছে।

  • আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভাঙচুর, ফের পতাকা অবমাননা

    আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভাঙচুর, ফের পতাকা অবমাননা

    বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে ভাঙচুর ও জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।

    সোমবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    ওই ঘটনার সময়কার কিছু ভিডিওতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলার পর তাতে আগুনও ধরিয়ে দিয়েছে।

    চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামের একটি সংগঠনের সভা ছিল আগরতলার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের সামনে।

    সভা শেষে সংগঠনের ছয়জনের একটি প্রতিনিধি দল হাইকমিশন কার্যালয়ের ভেতরে যায় স্মারকলিপি জমা দিতে।

    এ সময় বাইরে থাকা কিছু হিন্দু যুবক হঠাৎ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ছিড়ে ফেলে, ঘটনাস্থল থেকে এমন কিছু ভিডিওচিত্র পাওয়া গেছে।

    পরে হাইকমিশন কার্যালয়ের কিছু সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে ও আগুন লাগিয়ে দেয় তারা।

    এ বিষয়ে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি কার্যকরী সদস্য বিকে রয় জানিয়েছেন, ডেপুটেশন দেওয়ার সময় বাইরে কী ঘটনা ঘটেছে তা তারা দেখেননি এবং তারা ডেপুটেশন দিয়ে আসার পরও কাউকে অফিসের ভেতরে দেখতে পাননি।

    ঘটনার খবর পেয়ে ত্রিপুরা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের অফিসটি ঘুরে দেখেন এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন।

    তবে এ বিষয়ে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করেনি।

    একই ঘটনায় বিক্ষোভ হয়েছে ভারতের কোচবিহারেও। সেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখায় সনাতনী হিন্দু মঞ্চ। সংগঠনটির সদস্যরা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া চ্যাংড়াবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিলও করে। এই কর্মসূচি ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ছিল সীমান্ত এলাকায়।

    এদিকে বিক্ষোভ হয়েছে ভারতের পেট্টাপোল সীমান্তেও। সেখানে সমাবেশ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে।

    সমাবেশ থেকে অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এটি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ দেওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।

  • ঘূর্ণিঝড় ফিনজালে ভারত ও শ্রীলংকায় নিহত ১৯

    ঘূর্ণিঝড় ফিনজালে ভারত ও শ্রীলংকায় নিহত ১৯

    ঘূর্ণিঝড় ফিনজালে ভারত ও শ্রীলংকায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ভারি বৃষ্টির মধ্যে ভারতের তামিল নাডু রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে।

    শনিবার ফিনজাল বঙ্গোপসাগর থেকে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের পূর্ব উপকূল অতিক্রম করে স্থলে উঠে আসে। এছাড়াও ভারি বৃষ্টিপাতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। যার প্রভাবে ভারতে তিনজন ও প্রতিবেশী শ্রীলংকায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছে।

    রোববার ভারতের আবহাওয়া দপ্তর সামাজিক মাধ্যমে জানায়, পুদুচেরিতে ৩০ বছরের মধ্যে একদিনে সবচেয়ে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তুমুল বৃষ্টিতে তামিল নাডু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইয়ের বিভিন্ন অংশ ডুবে গেছে। শনিবার রাজ্যতে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ছিল, কিন্তু রোববার ভোর থেকে চলাচল ফের শুরু হয়েছে বলে ভারতের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

    রয়টার্স স্থানীয় গণমাধ্যমে আসা ভিডিও ফুটেজের বরাত দিয়ে জানায়, ঝড়ো বাতাস ও ভারি বৃষ্টির মধ্যে রাস্তাগুলো পানিতে ডুবে ছিল আর লোকজনকে উদ্ধার করতে নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে।

    ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি পুদুচেরির কাছ দিয়ে অতিক্রম করে যাওয়ায় সেখানে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অপরদিকে চেন্নাইয়ে বৃষ্টি অনেকটা কমে এসেছে।

    কলম্বোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রবল বৃষ্টির কারণে শ্রীলংকায় মোট এক লাখ ৩৮ হাজার ৯৪৪টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে গুজব, যে জবাব দিল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে গুজব, যে জবাব দিল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

    গত ৫ আগস্ট তীব্র প্রাণঘাতী গণআন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে, একচেটিয়া ভুয়া তথ্য আর গুজব প্রচার করে আসছে বেশিরভাগ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। এসব প্রতিবেদনের বেশিরভাগ একপাক্ষিক এবং ধারণাপ্রসূত।

    এবার চট্টগ্রামে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও বহিষ্কৃত ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর অনুসারীদের হাতে খুন হওয়া আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যার বিষয়েও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতের অনেক সংবাদমাধ্যম। শুধু তাই নয়, ভারতের অনেক এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্ট থেকে এই খুনের ঘটনা ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম রিপাবলিক মিডিয়া নেটওয়ার্কের ইংরেজি ভাষার চ্যানেল থেকে দাবি করা হয়েছে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর হয়ে আইনি লড়াই করছিলেন মুসলিম আইনজীবী সাইফুল ইসলাম। আর পুলিশের গুলি ও সংঘর্ষে সাইফুল খুন হয়েছেন।

    ওপি ইন্ডিয়া নামে আরেক ওয়েবসাইট থেকে একই দাবি করা হয়। শুরুতে তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল- ‘Muslim lawyer defending ISKCON monk Chinmoy Krishna killed amid protests’।

    পরে তারা শিরোনাম পাল্টে লিখে, ‘Bangladesh: Chittagong lawyer killed amid violent protests following the arrest of ISKCON monk Chinmoy Krishna Das’।

    এসব বিভ্রান্তিকর খবরের জবাব দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

    বুধবার সামাজিকমাধ্যমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কিছু ভারতীয় গণমাধ্যম দাবি করছে, আজ (মঙ্গলবার) চট্টগ্রামে নির্মমভাবে খুন হওয়া আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। দাবিটি মিথ্যা এবং খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে ছড়ানো হচ্ছে’।

    এতে আরো বলা হয়, ‘চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ওকালতনামা অনুযায়ী, তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুভাশীষ শর্মা। আমরা সকলকে যেকোনো প্রকার উস্কানিমূলক, মিথ্যা প্রতিবেদন থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করছি’।

    বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভারত থেকে একের পর এক ভুয়া তথ্য প্রচার জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। যা এখানে হিংসা এবং সংঘাতে উসকানি দিচ্ছে। গত কয়েক মাসের প্রতিবেদন যাচাই করলে দেখা যায়, রিপাবলিক মিডিয়া নেটওয়ার্ক এসব অপতথ্যের সবচেয়ে বড় সরবরাহক।

    এদিকে একই দিনে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতার এবং জামিন আবেদন নামঞ্জুর করার ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতিরও প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একটি বিষয়ে আজ (২৬ নভেম্বর ২০২৪) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া একটি বিবৃতি সরকারের দৃষ্টি গোচর হয়েছে। অত্যন্ত হতাশা ও অত্যান্ত পরিতাপের সাথে বাংলাদেশ সরকার লক্ষ্য করছে যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে নির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতারের পর থেকে একটি মহল ভুল ধারণা পোষণ করছে। এই ধরনের ভিত্তিহীন বিবৃতি শুধু সত্যকে বিকৃত করে না বরং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়ার চেতনার পরিপন্থী।’

  • কী ঘটছে পাকিস্তানে, কতদিন চলবে?

    কী ঘটছে পাকিস্তানে, কতদিন চলবে?

    ব্যারিকেড ভেঙে রাজধানী ইসলামাবাদে প্রবেশ করেছে পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের হাজারও সমর্থক। মঙ্গলবার সকালেই রাজধানীর চারপাশে স্থাপিত ব্যারিকেড ভেঙে ইসলামাবাদে প্রবেশ করেন তারা। এ সময় তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এবং ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। সংঘর্ষে ইতোমধ্যে ছয়জনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন—এর খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ ঠেকাতে পাকিস্তান সরকার সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করেছে, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে এবং রাজধানীতে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোতে ব্যারিকেড স্থাপন করেছিল, যাতে বিক্ষোভকারীরা প্রবেশ করতে না পারে। এর আগে ইমরান খান তার সমর্থকদের পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল করার আহ্বান জানান।

    পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি সাংবাদিকদের জানান, বিক্ষোভকারীরা ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে অবস্থান করতে পারে, তবে তারা শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    এই বিক্ষোভ এমন সময়ে ঘটছে, যখন ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যাপক বাড়ানো হয়েছে। কারণ বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো সোমবার তিনদিনের সফরে পাকিস্তান পৌঁছেছেন।

    কী ঘটছে

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের পেশোয়ার থেকে ইমরান খানের সমর্থকদের একটি গাড়িবহর গত রোববার ‘লং মার্চের’ অংশ রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে রওনা দেয়। পেশোয়ার থেকে ইসলামাবাদের দূরত্ব প্রায় ১৮০ কিলোমিটার। এই গাড়িবহরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবি এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুর। এই প্রদেশে খানের দল ক্ষমতায়। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের নিকটবর্তী বড় খোলা এলাকা ডি-চকে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করার পরিকল্পনা করেছিল।

    বিক্ষোভকারীরা সোমবারই ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে পৌঁছে যান। পথে তাদের ব্যাপক বাধাঁর সম্মুখীন হতে হয়। তবে এই সময়ে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং সড়কগুলো শিপিং কনটেইনার দিয়ে অবরোধ করে অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পুলিশ চৌকিতে আগুন জ্বলছে এবং মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদের ঠিক বাইরে এবং পাঞ্জাব প্রদেশের অন্যান্য স্থানে ২২টি পুলিশ যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীরা ইসলামাবাদ শহরের প্রবেশপথগুলোতে স্থাপিত ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশ করেন এবং একটি বড় মিছিল শহরের জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করতে দেখা যায়। পরে বহরটি ইসলামাবাদের বাণিজ্যিক এলাকা ‘ব্লু এরিয়া’ হয়ে ডি-চকের দিকে অগ্রসর হয়। ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলো, যেমন পার্লামেন্ট, সুপ্রিম কোর্ট এবং সচিবালয়ের বাইরে সৈন্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়।

    বিক্ষোভ চলতে কতদিন

    পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি বলেছেন, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারপরও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের প্রতি ‘সংযম’ দেখাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি বিক্ষোভকারীরা সীমা অতিক্রম করে, তাহলে নিরাপত্তা বাহিনীও পাল্টা গুলি চালানোর অনুমতি পেয়েছে। তিনি আরও জানান, কারফিউ জারি করা বা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করার মতো অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের ফেডারেল রাজধানী ইসলামাবাদে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশটির সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদের আওতায় রাজধানীতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর এক সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনীকে অনুচ্ছেদ ২৪৫-এর আওতায় মাঠে নামানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অস্থিতিশীলতা এবং সশস্ত্র হামলাকারীদের শক্ত হাতে দমন করা হয়। এ ছাড়া, ‘দেখামাত্র গুলি’ করার নির্দেশও জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকভি বলেন, রেঞ্জারসরা (আধাসামরিক বাহিনী) গুলি চালাতে পারে এবং তাদের অনুমতি দেওয়া হলে—পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কোনো বিক্ষোভকারীই (ইসলামাবাদে) থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে কেউ এখানে (ডি-চকে) পৌঁছাবে, তাকেই গ্রেফতার করা হবে।

    এদিকে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এই বিক্ষোভ মিছিলকে শান্তিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে, সরকার অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। পিটিআই জানিয়েছে, প্রায় দুই ডজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।

    বিগত কয়েকদিনে, বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে সরকার। পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ইমরান খানের হাজার হাজার সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাতে বিক্ষোভ মিছিল রোধ করা যায়। এই সংখ্যাটি প্রায় ৪ হাজার।

    অপরদিকে সম্ভাব্য সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইসলামাবাদ ও নিকটবর্তী রাওয়ালপিন্ডির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেবল তাই নয়, রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সব ধরনের আন্তঃনগর গণপরিবহন ও টার্মিনাল বন্ধ রাখা হয়েছে।

    পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা কামরান বঙ্গাশ বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং আমরা ইসলামাবাদে পৌঁছাবই। তিনি আরও বলেন, আমরা একে একে সব বাধা অতিক্রম করব।