Category: আন্তর্জাতিক

  • ড. ইউনূসকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ জানালেন এরদোগান

    ড. ইউনূসকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ জানালেন এরদোগান

    আজারবাইজানে কপ-২৯ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষ সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট রিসেফ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে দেখা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এসময় তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে সস্ত্রীক তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন এরদোগান।

    অধ্যাপক ইউনূসও এরদোগান দম্পতিকে শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

    রাজধানী বাকুতে শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

    মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, ড. ইউনূস বিশ্বের অন্তত ২০টি দেশের শীর্ষনেতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে দেখা করেছেন।

    যার মধ্যে রয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল। আলাপকালে ড.ইউনূস দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের শীর্ষ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সার্কের পুনরুজ্জীবনের আহ্বান জানিয়েছেন।

    অন্য শীর্ষনেতাদের মধ্যে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী, ঘানার প্রেসিডেন্ট, বসনিয়া হার্জেগোভিনার প্রধানমন্ত্রী, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট, আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী, মন্টিনিগ্রোর প্রেসিডেন্ট, বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী, ব্রাজিল ও ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট, ফিফা সভাপতি, আইওএমের মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ড. ইউনূস।

    এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে সংহতি প্রকাশ করা বন্দি ৫৭ বাংলাদেশী নাগরিককে মুক্তি দেওয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান।

  • চীনে পথচারীদের ওপর গাড়ি, নিহত অন্তত ৩৫

    চীনে পথচারীদের ওপর গাড়ি, নিহত অন্তত ৩৫

    চীনের দক্ষিণাঞ্চলের ঝুহাই শহরে প্রাইভেটকার চাপায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪৩ জন।

    স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যার দিকে পথচারীদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দিয়েছেন ৬২ বছর বয়সী এক চালক।মঙ্গলবার চীনা পুলিশের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঝুহাই স্পোর্টস সেন্টারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে শরীর চর্চা করার সময় লোকজনের ওপর এক ব্যক্তি গাড়ি চালিয়ে দিয়েছেন। এতে ৩৫ জন নিহত ও ৪৩ জন আহত হয়েছেন।

    হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় গাড়ির চালক ফ্যানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হামলার সময় গুরুতর আহত হয়েছেন ফ্যান। বর্তমানে তিনি কোমায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশ বলছে, ফ্যান নামের এক ব্যক্তি তার ছোট এসইউভি পথচারীদের ওপর চালিয়ে দিয়েছেন। ঝুহাই স্পোর্টস সেন্টারের সামনে প্রতিবন্ধকতা গুঁড়িয়ে দিয়ে পথচারীদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেন তিনি। এ সময় গাড়ির নিচে চাপা পড়েন বেসামরিক লোকজন।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের শেয়ার করা এই ঘটনার বেশিরভাগ ভিডিও চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। তবে কিছু ফুটেজ এখনও অনলাইনে রয়েছে। এতে দেখা যায়, হামলার স্থলে অনেক মানুষ মাটিতে পড়ে আছেন। স্থানীয় প্যারামেডিকস ও পথচারীরা সেখানে তাদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

  • রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন পরিকল্পনা সামনে আনলেন ট্রাম্প

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন পরিকল্পনা সামনে আনলেন ট্রাম্প

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে নতুন পরিকল্পনা সামনে এনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় বলা হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সেনাদের মধ্যে একটি ৮০০ মাইল দীর্ঘ বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করা হবে। আর এই বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করবে ইউরোপীয় ও ব্রিটেনের সেনারা।

    রোববার (১০ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

    রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সীমিত করার পক্ষে ট্রাম্প। ইউক্রেনকে বাইডেন প্রশাসনের মতো একচেটিয়া সামরিক এবং অর্থনৈতিক সহায়তা করার পক্ষেও নন তিনি।

    ট্রাম্পের মতে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাকি সদস্য দেশ এবং সামরিক জোট ন্যাটোর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা দিয়ে ইউক্রেন ইস্যু সমাধান করতে চান না ট্রাম্প।

    পরিকল্পনার সাথে পরিচিত সূত্র বলছে, ৮০০ মাইল বাফার জোন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে একটি নিরস্ত্রীকরণ এলাকা তৈরি করা হবে। যা ভবিষ্যতে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সম্ভাবনা কমাতে এবং কূটনৈতিক আলোচনার জন্য কাজে আসবে।

    ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুসারে, রাশিয়া ইউক্রেনের যে পরিমাণ ভূমি দখল করেছে এবং রুশ বাহিনী ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে যে পরিমাণ অগ্রসর হয়েছে সেখানটাকেই সীমান্ত ধরে বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং ইউক্রেনকে ২০ বছরের জন্য ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে হবে।

    পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করবে, যেন রাশিয়া আবারও যুদ্ধ শুরু করতে না পারে। যুক্তরাষ্ট্র এই মিশন পরিচালনা বা তদারকিতে কোনো সেনা পাঠাবে না এবং অর্থায়নও করবে না।

    ট্রাম্পের এক সহকারী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ‘আমরা প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা দিতে পারি, তবে বন্দুকের নল থাকবে ইউরোপিয়ানদের হাতে। আমরা মার্কিন পুরুষ ও নারীদের ইউক্রেনে শান্তি রক্ষায় পাঠাচ্ছি না। আর আমরা এর জন্য অর্থও ব্যয় করছি না বরং পোল্যান্ড, জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সকে এই দায়িত্ব নিতে বলা হবে।’

    রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং চুক্তির ওপর জোর দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। তবে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অভিযোগ, ইউরোপকে রক্ষা করতে গিয়ে রাশিয়াকে তুষ্ট করার চেষ্টা আত্মহত্যার নামান্তর হবে। মূলত এই মন্তব্যের মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা কঠোরভাবে নাকচ করেছেন। এখন শেষ পর্যন্ত ইউক্রেন যুদ্ধ কোন প্রক্রিয়ায় থামে তাই এখন দেখার বিষয়।

    এদিকে ট্রাম্পের সিনিয়র উপদেষ্টা ব্রায়ান লানজা জানিয়েছেন, চলমান ইউক্রেন সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিন্তা রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চল ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি না করে শান্তি অর্জনের দিকে হওয়া উচিত।

    যদিও বাইডেন প্রশাসন এবং ন্যাটোর অনেকেই ক্রিমিয়া এবং ডনবাসের মতো অধিকৃত অঞ্চলগুলোকে ফিরিয়ে আনা সহ ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকে বহাল রাখতে হবে বলে জোর দিয়ে এসেছেন। কিন্তু ট্রাম্পের উপদেষ্টারা আরও বাস্তববাদী অবস্থানের পক্ষে কথা বলছেন।

  • ইসরাইলি সেনাবাহিনী ‘উগ্রবাদী সামরিক গোষ্ঠী’ হয়ে উঠল যেভাবে

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী ‘উগ্রবাদী সামরিক গোষ্ঠী’ হয়ে উঠল যেভাবে

    ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ-এর মধ্যে উগ্রবাদ ও চরমপন্থা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা ভবিষ্যতে ইসরাইলের বেসামরিক সরকারগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে এবং দেশটির স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

    ইসরাইল একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হলেও এর গভীরে লুকিয়ে থাকা গোড়া ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

    আইডিএফ-এর চরমপন্থা: একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

    ইসরাইল তার প্রতিষ্ঠার সময় থেকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ চেহারা ধরে রাখলেও, দেশটির অধিকাংশ পদক্ষেপে ধর্মীয় প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর উগ্রবাদী ও চরমপন্থি জাতীয়তাবাদী গ্রুপগুলো আল-আকসাসহ ‘পবিত্র ভূমি’ কুদস বা জেরুজালেম পুনর্দখলের নামে গাজা ও পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

    তাদের এই চরমপন্থার মূল অনুপ্রেরণা আসে ইহুদি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের মূল ব্যক্তিত্ব রাব্বি (ধর্মীয় যাজক) আব্রাহাম আইজ্যাক কুকের শিক্ষাগুলো থেকে। যিনি বিশ্বাস করতেন যে, এই ভূমি তাদের ঈশ্বরের দেওয়া অধিকার। তার এই শিক্ষাই মূলত ইহুদি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে সংহত হতে অনুপ্রাণিত করেছে।

    আইডিএফ-এ ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের উত্থান

    ১৯৬৭ সালের ৬ দিনের যুদ্ধে গাজা ও পশ্চিম তীরসহ বেশ কিছু এলাকা দখলের পর এই ইহুদি জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো সেনাবাহিনীতে প্রবেশ করতে শুরু করে এবং দ্রুত তাদের প্রভাব বাড়ায়।

    ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে আইডিএফ-এ এ ধরনের ইহুদি জাতীয়তাবাদীদের সংখ্যা ২-৪ শতাংশের মতো ছিল। কিন্তু এখন তা বেড়ে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে।

    আর এই উগ্রবাদী ও চরমপন্থি ইহুদি গোষ্ঠীগুলো দেশটির সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উচ্চপদে আসীন হয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর একের পর এক সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে এবং বেসামরিক মানুষদের ওপর তাদের সামরিক হুমকি বাড়াচ্ছে।

    ধর্মীয় চরমপন্থার প্রভাব এবং আইডিএফ-এর সামরিক কৌশল

    আইডিএফ-এর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে দেখা যায় যে, তারা গাজা ও লেবাননে বোমা বর্ষণ করছে এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে। এমনকি এসব অঞ্চলের হাসপাতাল, স্কুল এবং ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা করার ঘটনাও ঘটছে।

    তাদের এসব অভিযান ও আক্রমণের উদ্দেশ্য হলো- গাজা ও পশ্চিম তীরকে ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা।

    চরমপন্থি ইহুদি জাতীয়তাবাদী আদর্শ অনুসরণ করে এই গোষ্ঠীগুলো বিশ্বাস করে যে, তারা ঈশ্বরের দেওয়া পবিত্র ভূমি পুনর্দখল করছে এবং সেই লক্ষ্যে তাদের এহেন কর্মকাণ্ডকে তারা বৈধ বলেই মনে করে।

    ভবিষ্যৎ সংঘাতের আশঙ্কা

    আইডিএফ-এর এই ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় উগ্রবাদী ও চরমপন্থি কর্মকাণ্ড ইসরাইলের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

    আইডিএফ-এর এই উগ্রবাদী ও চরমপন্থি রূপান্তর মূলত ইসরাইলি সমাজ এবং এর রাজনৈতিক কাঠামোতে একটি গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, যদি বর্তমান যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের পতন হয় এবং দেশটিতে কোনো উদারপন্থি সরকার প্রতিস্থাপিত হয়, তাহলে আইডিএফ এবং সেই সরকারের মধ্যে অনিবার্যভাবেই সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মধ্যে থাকা এসব ধর্মীয় উগ্রবাদী ও চরমপন্থিদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ভবিষ্যতে আইডিএফ ও সরকারের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যা ইসরাইলের জন্য নতুন ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

  • তেল আবিবের সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর

    তেল আবিবের সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর

    লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, প্রথমবারের মতো ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবের দক্ষিণে একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এক ঝাঁক ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা।

    বুধবার (৬ নভেম্বর) হিজবুল্লাহ এই হামলা চালায়। খবর আলজাজিরার।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা প্রথমবারের মতো তেল আবিবের দক্ষিণে বিলু সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন আক্রমণ চালায়। তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে হতাহতের বা অবকাঠামোর ক্ষতির কোনো তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি।

    এর আগে, হিজবুল্লাহ ইসরাইলের বন্দর শহর হাইফার কাছে নৌ-ঘাঁটি এবং তেল আবিবের কাছে ইসরাইলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আরেকটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে কয়েকটি হামলার দাবি করেছে।

    এ বিষয়ে ইসরাইলি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

    এছাড়া লেবাননের হিজবুল্লাহ নতুনকরে দখলদার ইরসাইলের একটি সামরিক ঘাঁটি, বিস্ফোরক তৈরির একটি কারখানা এবং একটি সেনাসমাবেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

    গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আক্রমণ শুরু করেছে, যা এখনো চলছে। এর মোকাবিলায় হিজবুল্লাহ ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে দখলদারের ইসরাইলেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

  • অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ বাইডেনের

    অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ বাইডেনের

    বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কমলা হ্যারিসের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্বাচনে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও। খবর এপি’র।

    ফোনকলের মাধ্যমে ট্রাম্পকে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে আলাপের জন্য হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট।

    হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিগগিরই হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প-বাইডেন বৈঠকের দিনক্ষণ জানানো হবে।

    এদিকে নির্বাচনের পর বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে বাইডেনের।

    ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে হারিয়েই হোয়াইট হাউজে জায়গা করে নিয়েছিলেন বাইডেন। এবারের নির্বাচনেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল, তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দলের পরামর্শে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

    নির্বাচনে বাইডেনের বদলে ডেমোক্রেটদের প্রার্থী হন বর্তমান সরকারে তার ডেপুটি কমলা হ্যারিস। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পেরে উঠলেন না তিনি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে ২৯২টিই গিয়েছে ট্রাম্পের পকেটে, ২২৪ ভোট পেয়েছেন কমলা। প্রেসিডেন্ট হতে অবশ্য ২৭০ ভোটই যথেষ্ট।

  • আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে আমি প্রস্তুত: কমলা

    আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে আমি প্রস্তুত: কমলা

    নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াই চলছে আমেরিকায়। ভোটারদের নিজের দিকে টানতে মরিয়া ডেমোক্রেট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস। ভোটের আগের দিনের প্রচারে ফিলাডেলফিয়ার মঞ্চে শেষ বক্তৃতার শুরুতেই কমলা নিজ সমর্থকের ধন্যবাদ জানান।

    এরপর কমলা হ্যারিস বলেন, ‘আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে আমি প্রস্তুত আছি।’

    ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সর্বশেষ প্রচারণায় অংশ নিয়ে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডেমোক্রেট দলের এই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

    কমলা হ্যারিস বলেন, আমেরিকাকে দেখার জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি। আমাদের প্রচারাভিযান আমেরিকার জনগণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আমরা আশাবাদী এবং আমরা একসঙ্গে যা করতে পারি তা নিয়ে আমরা বেশ উত্তেজিত।

    যদি তিনি নির্বাচিত হন তাহলে এবারই প্রথম কোনো নারী প্রেসিডেন্ট পাবেন আমেরিকার জনগণ। ২০১৬ সালে কমলার প্রতিপক্ষ ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইলেক্টোরাল ভোটে পরাজিত হন প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন।

    তিনি আশা করেন, আমেরিকার জনগণ এবার তাকে নির্বাচিত করে এক নয়া ইতিহাসের দ্বার উন্মোচন করবেন।

    কমলা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এক দশকের রাজনীতির পাতা উল্টানোর এক বিশাল সুযোগের কাছাকাছি রয়েছে আমেরিকার জনগণ। তাকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে ভয় ও বিভাজনের রাজনীতির ইতি টানবে জনগণ।

    যুক্তরাষ্ট্রে মোট ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটের সংখ্যা ৫৩৮। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীকে ২৭০টি ভোট পেতে হয়। এই ভোট আবার ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে গণনা করা হবে। সেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হবেন নতুন প্রেসিডেন্ট। তিনি ২০ জানুয়ারি শপথ নিয়ে পাকাপাকিভাবে হোয়াইট হাউসে বসবেন।

  • ইসরাইলের অভ্যন্তরে শতাধিক রকেট ছুঁড়েছে হিজবুল্লাহ

    ইসরাইলের অভ্যন্তরে শতাধিক রকেট ছুঁড়েছে হিজবুল্লাহ

    গাজা এবং লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে দেশটিতে নিয়মিত রকেট হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহ। রোববার (৩ নভেম্বর) লেবানন থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ১০৫টি রকেট ছোঁড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর এসব হামলা থেকে ইসরাইল এবং এর জনগণকে রক্ষা সেনাবাহিনী তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

    তবে হিজবুল্লাহর এই হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

    গত বছরের অক্টোবরে গাজায় আগ্রাসন শুরুর পরপরই হিজবুল্লাহর সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়ায় ইসরাইল। এরই মধ্যে হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের শীর্ষনেতা হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যা করেছে তারা। এছাড়া লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত বিমান হামলা চালিয়ে কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে ইসরাইল।

  • ট্রাম্প হারলে ফল প্রত্যাখানের হুমকি সমর্থকদের, দাঙ্গার শঙ্কা

    ট্রাম্প হারলে ফল প্রত্যাখানের হুমকি সমর্থকদের, দাঙ্গার শঙ্কা

    রোববার রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবশেষ সমাবেশে অংশ নিতে উত্তর ক্যারোলিনায় এসেছেন ৫৫ বছর বয়সি ভিকি ওয়েস্টব্রুক। তিনি পাঁচ সন্তানের মা এবং দুই সন্তানের দাদি।

    কিন্তু তাতে কি! ট্রাম্পের এই কট্টর নারী সমর্থক জানিয়েছেন, রিপাবলিকানরা ট্রাম্পকে জয়ী করতে ‘যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা বা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত’।

    ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন সকালেই নিজেকে জয়ী ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে তার সমর্থকরা ক্যাপিটাল হিলে দাঙ্গা তৈরি করে।

    রিপাবলিকান সমর্থকদের দাবি, কারচুপি করে হারানো হয়েছিল ট্রাম্পকে। কিন্তু এবার দ্বিতীয়বার ভোট চুরি করা যাবে না। ট্রাম্পকে যে কোনো মূল্যে জয়ী করতে প্রস্তুত তারা।

    ভিকি ওয়েস্টব্রুক বলেন, ভোট চুরি ঠেকাতে তিনি ‘নিজের কাছে বন্দুক রাখছেন’।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমার বাচ্চা আছে, জেলে যাওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। আর আমি কমলাকে পছন্দ করি না’।

    রিপাবলিকান সমর্থকদের অনেকের আশঙ্কা ট্রাম্প নির্বাচনে হেরে গেলে সংঘাত তৈরি হতে পারে। এই মুহুর্তে, অনেক রিপাবলিকান (পরাজয় মেনে নেওয়া) এটি আর নিতে যাচ্ছে না। তারা আমাদের কাছ থেকে ‘দুইবার নির্বাচন চুরি’ হতে দেবে না।

    ওয়েস্টব্রুক নিশ্চিত করে বলছেন, ২০২০ নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার কমলা হ্যারিস জিতলে মনে করা হবে ‘ভোট চুরির’ কারণেই এটি হয়েছে।

    ‘যদি তারা প্রতারণা করে। আমি এটা নিয়ে একেবারেই ইতিবাচক।’

    এর মাধ্যমে এটা অনুমেয়, ট্রাম্প সমর্থকরা কথিত প্রতারণা নিয়ে বিচলিত নয়। বরং অজুহাত তুলে দাঙ্গা কিংবা সংঘাত জড়াতে অনেক বেশি উৎসাহী।

    ট্রাম্প বছরের পর বছর ধরে ভোট কারচুপি হয়েছে এই ধরনের অভিযোগ করে আসছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তার বক্তৃতায় এই তীব্রতা বাড়ছে। ভোট গণনার ফলাফল গ্রহণ করবেন কি না ট্রাম্প তা নিয়ে বারবার অনিশ্চয়তামূলক বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। সর্বশেষ রোববার পেনসিলভানিয়ায় সমর্থকদের ট্রাম্প বলেছেন, চার বছর আগে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করা তার উচিত নয়।

    পাবলিক রিলিজিয়ন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, প্রতি চারজনের মধ্যে একজন রিপাবলিকান সমর্থক বিশ্বাস করেন, ট্রাম্প যদি নির্বাচনে হেরে যান, তবে তার উচিত ফলাফলকে অবৈধ ঘোষণা করা এবং হোয়াইট হাউস পুনরুদ্ধার করার জন্য ‘যাই লাগে তাই করা উচিত’।

    আফ্রিকান আমেরিকান ট্রাম্প সমর্থক ৩৮ বছর বয়সী সেড্রিক পারনেস বলেছেন, ‘ট্রাম্প না জিতলে মানুষ দাঙ্গা করবে। তিনি বলেছেন, নির্বাচন-পরবর্তী অস্থিরতায় অংশ নেওয়া তার পক্ষে খুব বিপজ্জনক হবে। পরক্ষণে বলেন, ‘আমি ঠিক সেখানেই নিহত হব।’

  • সাত সুইং স্টেটে কার অবস্থান কেমন

    সাত সুইং স্টেটে কার অবস্থান কেমন

    আধুনিক আমেরিকার ইতিহাসে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনটি হতে যাচ্ছে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের আলোকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য দেশটির ৫০টি রাজ্যই ভোট প্রদান করে থাকে।

    দেশটির জটিল ইলেকটোরাল কলেজ ব্যবস্থায় প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের নির্দিষ্ট সংখ্যক ইলেকটর থাকে, সেসব রাজ্যের জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে। বেশিরভাগ রাজ্যেই পপুলার ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে সেখানকার সব ইলেকটোরাল ভোট বিজয়ীর পক্ষেই যায়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে পেতে হয় ২৭০টি ভোট। তবে কয়েকটি রাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট দোদুল্যমান থাকার ইতিহাস রয়েছে। এই সব দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোকে ‘সুইং স্টেট’ বা ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেট’ বলা হয়ে থাকে।

    এ বছর এরকম সাতটি ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেট বা সুইং স্টেট প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করতে যাচ্ছে।

    ১. পেনসিলভানিয়া (১৯টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট)

    এক সময় ডেমোক্র্যাটদের জন্য বিশ্বস্ত অঙ্গরাজ্য ছিল পেনসিলভানিয়া। এক কোটি ৩০ লাখ অধিবাসীর এই রাজ্যে ২০১৬ সালে ট্রাম্প শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন। তবে ২০২০ সালে জো বাইডেন এখানে ১ দশমিক ২ শতাংশ ভোট বেশি পান।

    পেনসিলভানিয়াতেই দুই প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যটিতে বেশ কয়েকবার নির্বাচনি সমাবেশ করেছেন কমলা ও ট্রাম্প।

    এই পেনসিলভানিয়াতেই ট্রাম্পের ওপর আততায়ীর হামলা হয় এবং তিনি বেঁচে যান। এখানকার গ্রামগুলোতে শ্বেতাঙ্গদের বসবাস বেশি। ট্রাম্প তার নির্বাচনি প্রচারণায় বলেছেন, অভিবাসীরা ছোট ছোট শহরগুলো ক্রমেই দখল করে নিচ্ছে।

    তবে কমলা তার প্রচারণায় জোর দিয়েছেন রাজ্যটির ম্যানুফেকচারিং খাতে ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করার বিষয়ে আর তা স্থানীয় অধিবাসীদের ভোট টানতে তাকে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ২. জর্জিয়া (১৬টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট)

    দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এই অঙ্গরাজ্যটি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের জন্য ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ সালে বাইডেনের বিজয়ের সময় কর্মকর্তাদের আরও ভোট ‘খুঁজে দেখার’ আহ্বান জানানোর সেই ঘটনার জন্য এবং ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার বিষয়ে রাজ্যটি যথেষ্ট আলোচিত।

    ১৯৯২ সালের পর থেকে বাইডেন এখানে জয়ী হয়েছেন। তবে এখানে কমলা সংখ্যালঘুদের ভোট আকৃষ্ট করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

    ৩. নর্থ ক্যারোলাইনা (১৬টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট)

    ১৯৮০ সালের পর থেকে ডেমোক্র্যাটরা এখান থেকে জয়ী হয়েছে মাত্র একবার। তবে কমলা হ্যারিস মনে করেন, এবার হাওয়া ঘুরে যাবে। অঙ্গরাজ্যটির জনসংখ্যা এক কোটির বেশি এবং তা আরও বাড়ছে। আর এতে ডেমোক্র্যাটরা লাভবান হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ৪. মিশিগান (১৫টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট)

    ডেমোক্র্যাটদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি থাকলেও ২০১৬ সালের নির্বাচনে এখান থেকে হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ২০২০ সালে আবার জো বাইডেন এখানে ইউনিয়ন শ্রমিক আর কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটে জয়লাভ করে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানকে শক্ত করেন।

    তবে গাজায় হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধে মার্কিন ভূমিকার কারণে এবার এখানকার প্রায় দু্ই লাখ আরব-আমেরিকানদের ভোট কমলার বিপক্ষে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

    ৫. অ্যারিজোনা (১১টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট)

    গ্রান্ড ক্যানিয়ন স্টেটটিতে ২০২০ সালে দু’দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। এই লড়াইয়ে ১০ হাজার ৪৫৭ ভোট বেশি পেয়ে শেষ হাসি হাসেন জো বাইডেন।

    মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্তজুড়ে থাকা এই রাজ্যে অভিবাসী ইস্যু ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কমলা হ্যারিস এখানে সেপ্টেম্বরে নির্বাচনি প্রচারণায় ঘোষণা দেন, তিনিও অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করবেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তিনি অভিবাসী ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।

    ৬. উইসকনসিন (১০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট)

    ২০১৬ সালের নির্বাচনে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকার পরেও হিলারি ক্লিনটন এই অঙ্গরাজ্যে হেরে গিয়েছিলেন। এখানেই গ্রীষ্মকালীন জাতীয় কনভেনশন করেছিলেন ট্রাম্প এবং তিনি মনে করেন, এখান থেকে জয়ী হওয়া সম্ভব।

    প্রাথমিকভাবে এখানকার মতামত জরিপে ট্রাম্প এগিয়ে থাকলেও কমলা হ্যারিসের মনোনয়নের পর প্রতিযোগিতা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে অঙ্গরাজ্যটিতে।

    ৭. নেভাদা (৬টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট)

    প্রায় ৩১ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই রাজ্যটিতে ২০০৪ সালের পর থেকে রিপাবলিকানরা জয়ী হতে পারেনি। তবে এবার ট্রাম্প রক্ষণশীল ও হিস্পানিক ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ডেমোক্র্যাট পার্টির মনোনয়নের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কমলা হ্যারিস তার অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন নেভাদার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অতিথি সেবা শিল্প নগরী লাস ভেগাস অবস্থিত।