Category: আন্তর্জাতিক

  • যুক্তরাষ্ট্রে দুর্ঘটনা: হাজার হাজার গাড়ি যেভাবে পৌঁছাচ্ছে রাশিয়ায়

    যুক্তরাষ্ট্রে দুর্ঘটনা: হাজার হাজার গাড়ি যেভাবে পৌঁছাচ্ছে রাশিয়ায়

    দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের ছোট দেশ জর্জিয়া। বর্তমানে সেখানে আন্তর্জাতিক পুরোনো গাড়ির বাজারের একটি বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, যার মূল্য বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বেশিরভাগ গাড়ি আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং সেসব গাড়ির অনেকগুলোই শেষ পর্যন্ত রাশিয়ায় যাচ্ছে।

    জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিসি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে শিল্পনগরী রুস্তাভির খোলা স্থানে পুরোনো গাড়ির বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। ৪০টি ফুটবল মাঠের সমান এই স্থানে হাজার হাজার গাড়ি বিক্রি হয়। এখানে মার্সিডিজ, পোরশে, জাগুয়ার, টয়োটা থেকে শুরু করে সম্প্রতি টেসলা গাড়িও বিক্রি হচ্ছে।

    সবচেয়ে বড় গাড়ি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো ককেশাস অটো ইম্পোর্ট (সিএআই)। এই প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নিলাম থেকে পুরোনো গাড়ি কেনে। এসব গাড়ির অনেকগুলোই দুর্ঘটনায় এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলোকে আমেরিকার বীমা কোম্পানিগুলো বাতিল ঘোষণা করেছে।

    সিএআই জানিয়েছে, তাদের ‘বিশেষজ্ঞদের দল’ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরাসরি গাড়িগুলো নির্বাচন করে এবং তারপর ১০ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কনটেইনার জাহাজে করে জর্জিয়ার কৃষ্ণ সাগরের তীরে আনা হয়। জর্জিয়ায় পৌঁছানোর পর স্থানীয় মেকানিকরা গাড়িগুলো মেরামত করেন।

    সিএআই-এর ডেপুটি প্রধান নির্বাহী ডেভিড গুলাশভিলি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান জর্জিয়ার গাড়ির বহরকে আধুনিক করতে অনেক অবদান রেখেছে। ২০০৪ সালে তাদের ব্যবসা শুরু করার আগে জর্জিয়ায় মূলত সোভিয়েত আমলের লাডা ও ভাজ ব্র্যান্ডের গাড়ি চলত। বর্তমানে ৬০০ কর্মী নিয়ে সিএআই জর্জিয়ায় পশ্চিমা গাড়ির চাহিদা মেটাতে কাজ করছে।

    গত বছর জর্জিয়া ৩.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের গাড়ি আমদানি করেছে, সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী। তারপর, দেশটি ২.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের গাড়ি রপ্তানি করেছে, মূলত ককেশাস এবং কেন্দ্রীয় এশিয়ার সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলোতে। খনিজ তামার পর গাড়ি জর্জিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য।

    রুস্তাভির বিশাল গাড়ির বাজারে প্রতিটি গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনের ভিতরে একটি কার্ড থাকে, যেটি গাড়ির দাম, ইঞ্জিন সাইজ এবং উৎপাদনের তারিখ নির্দেশ করে।

    কাজাখস্তান থেকে আসা আলিশের টেজিকবায়েভ বলেন, আমরা প্রায় ৩.৫ বছর ধরে জর্জিয়া থেকে গাড়ি পুনঃরপ্তানি করছি। আমরা কাজাখস্তানে গাড়ি পাঠাই এবং অটো ট্যুরের ব্যবস্থা করি। ক্লায়েন্টরা তাদের নিজস্ব গাড়ি নেওয়ার জন্য জর্জিয়ায় আসেন।

    জর্জিয়া পূর্বে উত্তরের প্রতিবেশী রাশিয়ায় সেকেন্ডহ্যান্ড মার্কিন ও ইউরোপীয় গাড়ি রপ্তানি করত। কিন্তু ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেনে হামলার পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জর্জিয়ার রাজস্ব সেবা ঘোষণা দেয়, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে রাশিয়া এবং বেলারুশে আমদানি করা মার্কিন বা ইউরোপীয় গাড়ির পুনঃরপ্তানি ও ট্রানজিট সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

    জর্জিয়ার কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকার করে আসছেন, দেশটি রাশিয়ার বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনে সহায়তা করছে। তবে জর্জিয়ার মিডিয়া প্রকাশনা ইফ্যাক্টির সাম্প্রতিক একটি তদন্তে দেখা যায়, রাশিয়া-জর্জিয়া সীমান্তের উভয় পাশে গাড়ি বিক্রেতাদের একটি বাহিনী নানা ফাঁক-ফোকর ব্যবহার করছে।

    ডেভিড গুলাশভিলি বলেন, আমার কোম্পানি এখন রাশিয়ার সঙ্গে কোনো ব্যবসা করে না। যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই আমরা রাশিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন বা রপ্তানি সীমিত করেছি। আপনি ককেশাস অটো ইম্পোর্টের মাধ্যমে রাশিয়ায় রপ্তানির জন্য একটি গাড়িও দেখতে পাবেন না। অন্যান্য দেশে পুনঃরপ্তানির জন্য গাড়িগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য নজরদারি করার জন্য কোনো বিদ্যমান যান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই।

    ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান এবং আর্মেনিয়ায় সেকেন্ডহ্যান্ড গাড়ির রপ্তানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দেশগুলো রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন কাস্টমস ইউনিয়নের সদস্য। এর ফলে ওই দেশগুলোর মধ্যে নিবন্ধিত গাড়িগুলো রাশিয়ায় খুব কম শুল্কের সঙ্গে চালানো যেতে পারে।

    জর্জিয়ার জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে জর্জিয়া কাজাখস্তানে ৭ হাজার ৩৫২টি ব্যবহৃত গাড়ি রপ্তানি করেছিল। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা পাঁচ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৩৯ হাজার ৮৯৬ এ পৌঁছেছে।

    বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক কৌশল চলমান থাকলেও জর্জিয়ার সেকেন্ডহ্যান্ড গাড়ি শিল্পের সফলতা তার ভৌগোলিক অবস্থান দিয়ে বোঝানো যায়। এটি কৃষ্ণ সাগর পোর্টের মাধ্যমে ইউরোপে এবং প্রতিবেশী আজারবাইজানের কাস্পিয়ান উপকূলে বাকু হয়ে কেন্দ্রীয় এশিয়ায় প্রবেশাধিকার পায়। এছাড়া উদ্ধার করা গাড়ি মেরামতের জন্য সস্তা শ্রমের খরচ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

    ডেভিড গুলাশভিলি বলেন, আমেরিকায় ক্ষতিগ্রস্ত এই গাড়িগুলো পুনঃনির্মাণ করা অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর নয়। এর কারণ হলো, মানব সম্পদের খরচসহ পরিষেবা খরচ অনেক বেশি এবং এই গাড়িগুলোকে আবার রাস্তায় ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি খরচ সময় সাপেক্ষ এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

    তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি পুনঃনির্মাণ এবং সেটিকে আবারও বৈধ করতে ছয় মাস সময় লাগে এবং মূলত ৫ হাজার ডলার খরচ হয়। কিন্তু জর্জিয়ায় একই গাড়ি মেরামত করতে ১ হাজার ডলার এবং এক মাস সময় লাগে।

    জর্জিয়ায় আমদানি করা বেশিরভাগ গাড়িই পেট্রল এবং ডিজেল চালিত হলেও, প্রায় তিন দশক ধরে গাড়ির ইঞ্জিন মেরামতকারী জাজা আন্দ্রিয়াশভিলি বলছেন, বৈদ্যুতিক এবং বিশেষত হাইব্রিড গাড়ির প্রতি চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    আন্দ্রিয়াশভিলি বলেন, বর্তমানে আমরা যে গাড়িগুলো নিয়ে আসছি তার প্রায় ৩০ শতাংশ হাইব্রিড। এটি সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক না হলেও এটি টয়োটা প্রিয়াসের মতো হাইব্রিড। এই চাহিদা বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক, যেটি প্রতি কোয়ার্টারে ৩০০ থেকে ৪০০ শতাংশের মতো।

    সিএআই-এর ডেপুটি প্রধান নির্বাহী ডেভিড গুলাশভিলি বলেন, টেসলার বৃহত্তম পুনবিক্রয় বাজার হলো ইউক্রেন, যেখানে আমার ১০০ জন কর্মী কাজ করছে। এটি খুব ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আমরা সেখানে প্রভাব তৈরি করার চেষ্টা করছি। আমরা ইউক্রেনে প্রচুর পিকআপ ট্রাকও আমদানি করছি, যেগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।

  • হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ২ ইসরাইলি নিহত

    হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ২ ইসরাইলি নিহত

    উত্তর ইসরাইলের কিরিয়াত শমোনা শহরে চালানো হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় দুই ইসরাইলি নিহত হয়েছেন।

    নিহতরা ছিলেন চল্লিশোর্ধ দম্পতি এবং বুধবার বিকালে তারা তাদের একটি কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন।

    ইসরাইলের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা মাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    ইসরাইলি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ কিরিয়াত শমোনা শহরের দিকে প্রায় ২০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা একটি ‘শত্রু বাহিনীর সমাবেশ’কে লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছে।

    ইসরাইলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস মাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) জানিয়েছে, হামলার পর ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা কর্মীরা পৌঁছান এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

    এদিকে রকেট হামলার ফলে শহরটির বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরে যায়। ফায়ার এবং রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের পাঁচটি দমকল দলের কাজ করছে। বিভিন্ন ভবনে আগুন লাগার কারণে পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় শহরটির বেশিরভাগই খালি করা ছিল, তারপরেও কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এতে শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা নিরাপত্তার কারণে ঘরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

    ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।

  • ইসরাইলি আগ্রাসনের জন্য অজুহাত খুঁজছে: এরদোগান

    ইসরাইলি আগ্রাসনের জন্য অজুহাত খুঁজছে: এরদোগান

    ইসরাইল দখলদারিত্ব ও আগ্রাসনের নীতিকে বৈধতা দেওয়ার জন্য নতুন তরে অজুহাত খুঁজছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

    শনিবার (৫ অক্টোবর) ইস্তাম্বুলের হালিক কংগ্রেস সেন্টারে ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    এরদোগান বলেন, হামাস এবং হিজবুল্লাহর আগ্রাসনের যে কথা ইসরাইল বলছে সেটি অজুহাত মাত্র। ইসরাইল প্রতিদিনই তার দখলদারিত্ব ও আগ্রাসনের নীতির জন্য অজুহাত তৈরি করছে।

    এরদোগান আরও উল্লেখ করেন যে, তুরস্ক ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে একাত্মতা বজায় রাখবে। তুরস্ক একমাত্র দেশ যারা ইসরাইলের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তিনি বলেন, আমরা প্রথম দিন থেকে একই মান রক্ষা করেছি। জাতিসংঘেও আমাদের কণ্ঠস্বর কখনও পিছপা হবে না। তুরস্ক সব সময় নিপীড়কের বিরুদ্ধে লড়ে যাবে।

    তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করেন বলেন, তারা নিজেদের স্বাধীনতার রক্ষক দাবি করে। কিন্তু ফিলিস্তিনি শিশুদের অধিকার রক্ষাকারী বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে তারা ব্যর্থ। এরদোগান বলেন, এমনকি ফিলিস্তিনের পতাকাও তারা সহ্য করতে পারে না। যখন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কথা আসে, তখন তারা প্রতিবাদ করতে প্রস্তুত কিন্তু ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে কঠোর ফ্যাসিবাদকে রক্ষা করে চলেছে।

    তিনি ইসরাইলি সরকারের বিরুদ্ধে বিবেক অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানান।

  • শপথ নিয়ে যে প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন মেক্সিকোর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট

    শপথ নিয়ে যে প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন মেক্সিকোর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট

    মেক্সিকোর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শাইনবাউম শপথ নিয়েছেন৷ আগামী ছয় বছরের জন্য মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ক্লাউদিয়া৷ শপথে দেশে নারী অধিকার নিশ্চিত করা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ বিনিয়োগের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি৷

    অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ক্লাউদিয়া বলেন, এখন পরিবর্তনের সময়, এবার নারীদের পালা৷ আমি একজন মা, দাদি, বিজ্ঞানী ও নারী এবং আজ থেকে মেক্সিকোর জনগণের ইচ্ছায় তাদের প্রেসিডেন্ট৷

    বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগের জায়গা হবে মেক্সিকো৷

    শাইনবাউমকে ১৯৮০ সালের পর সবচেয়ে বড় বাজেট ঘাটতি মোকাবেলা করতে হবে৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ক্লাউদিয়া শাইনবাউমকে রাজস্ব আয় বাড়াতে অবশ্যই কর ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে হবে৷ তবে শাইনবাউম বলেছেন, তিনি কর আদায়ের ওপর জোর দেবেন৷

    তিনি বলেন, আমি সবার প্রেসিডেন্ট হব এবং আমি নিশ্চিত করব যেন আমি আমার অর্জিত জ্ঞান, শিক্ষা, শক্তি ও ইতিহাস এ দেশ ও দেশের জনগণের জন্য প্রয়োগ করতে পারি৷

  • ২৪ ঘণ্টায় অবরুদ্ধ গাজায় আরও ৯৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত

    ২৪ ঘণ্টায় অবরুদ্ধ গাজায় আরও ৯৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত

    ইসরাইলের অব্যাহত হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অবরুদ্ধ গাজায় আরও ৯৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ হামলায় মোট মৃতের সংখ্যা ৪১,৭৮৮ জনে পৌঁছেছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    চলমান আক্রমণে ৯৬,৭৯৪ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয় মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।

    এতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনী ৮টি পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে ৯৯ জনকে হত্যা করেছে এবং ১৬৯ জনকে আহত করেছে। এখনও অনেক মানুষ ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে আছেন। তবে উদ্ধারকর্মীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।

    জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরাইল গত ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের পর থেকে গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

    এই আক্রমণের ফলে গাজার প্রায় পুরো জনসংখ্যা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সেখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে।

    ইসরাইলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • ইরানের হামলায় ইসরাইলি বিমানঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রকাশ

    ইরানের হামলায় ইসরাইলি বিমানঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রকাশ

    ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত নেভাতিম বিমান ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

    গত মঙ্গলবার রাতের এ হামলা ইরানের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-২’ এর অংশ হিসেবে চালানো হয়। যা ইসরাইলের ওপর চালানো সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বড় ধরনের আক্রমণ।

    হামলার পর স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, নেভাতিম ঘাঁটির মূল রানওয়ের পাশে সারিবদ্ধ ভবনগুলোর একটির ছাদে বড় আকারের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং চারপাশে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

    নেভাতিম বিমান ঘাঁটিটি মূলত ইসরাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, গুপ্তচরবৃত্তির জন্য ব্যবহৃত এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (AEW&C) বিমান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম রাখা ছিল।

    নেভাতিম ঘাঁটিতে ইসরাইলের কৌশলগত এয়ার কমান্ডের সদর দপ্তরও রয়েছে। এটি ইসরাইলি বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। এছাড়া ইসরাইলি প্রেসিডেন্টের ‘উইং অব জায়ন’ বিমানও এই ঘাঁটিতে অবস্থান করে।

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, তারা এই হামলায় যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করেছে, তার ৯০ শতাংশই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

    ইরান জানিয়েছে, এই হামলাটি ছিল ইসরাইলি আক্রমণের প্রতিশোধ এবং এটি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীই বৈধ প্রতিরক্ষা অধিকার হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।

    এদিকে ইসরাইলি নেভাতিম ঘাঁটি ছাড়াও হাটসারিম ঘাঁটি এবং তেল নফ ঘাঁটিতেও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে নিশ্চিত করেছে সিএনএন। এসব ঘাঁটিতে মূলত এফ-১৫ যুদ্ধবিমান রাখা ছিল।

    এছাড়াও মঙ্গলবার রাতে রাজধানী তেলআবিবে অবস্থিত মোসাদের সদর দপ্তরের কাছেও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে।

    ইরানে এসব মিসাইল হামলায় ইসরাইলের সামরিক স্থাপনাগুলোতে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ইরান দাবি করেছে, তারা তাদের মহান ভাই হিজবুল্লাহর নেতা ও মহাসচিব হাসান নাসরুল্লাহ এবং হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই এ হামলা চালিয়েছে। সূত্র: আল-মায়াদিন

  • ‘ইসরাইলে হামলায় ইরানের সক্ষমতার ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহৃত হয়েছে’

    ‘ইসরাইলে হামলায় ইরানের সক্ষমতার ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহৃত হয়েছে’

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ ইহুদিবাদী ইসরাইলি আগ্রাসনের একটি নিষ্পত্তিমূলক জবাব দিয়েছে।

    ইরান মঙ্গলবার রাতে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-২’ নামের যে অভিযান চালায় তাতে তেল আবিবের নিকটবর্তী তিনটি সামরিক স্থাপনাকে টার্গেট করা হয়।

    এ বিষয়ে পেজেশকিয়ান নিজের অফিসিয়াল এক্স পেজে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ইরান ও পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, ন্যায়সঙ্গত অধিকার অনুযায়ী, ইহুদিবাদী ইসরাইলি আগ্রাসনের একটি নিষ্পত্তিমূলক জবাব দেওয়া হয়েছে।

    প্রেসিডেন্টের এক্স পোস্টে আরো বলা হয়েছে, ইরানি জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ইহুদিবাদী ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জেনে রাখা উচিত যে, ইরান যুদ্ধবাজ নয়। কিন্তু এটি যেকোনো আগাসন বা হুমকি মোকাবিলা করতে পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

    প্রেসিডেন্ট তার পোস্টে আরও বলেন, মঙ্গলবার রাতে যে অভিযান চালানো হয়েছে সেটি ইরানের সামরিক সক্ষমতার ক্ষুদ্র একটি অংশ মাত্র। কাজেই ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে আসবেন না।

    সিনিয়র প্রতিরোধ নেতাদের হত্যা, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান বর্বরতা এবং লেবাননে সাইকোপ্যাথিক বোমাবর্ষণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মঙ্গলবার রাতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলি স্থাপনাগুলোতে আঘাত করেছে।

  • ইসরাইলে ইরানের হামলা, জরুরি বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ

    ইসরাইলে ইরানের হামলা, জরুরি বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ

    ইসরাইলের ভুখণ্ডে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

    স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ১০টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। খবর আলজাজিরার।

    এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলে দূত ড্যানি ড্যানন এক চিঠিতে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘তারা (ইরান) ইসরাইলকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।’ তিনি ইরানের প্রতি নিন্দা জানাতে এবং ইরানের এর ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যা দিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    এর আগে মঙ্গলবার ইসরাইলের ভূখণ্ডে প্রায় ২০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। গাজা ও লেবাননে হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি হামাস, হিজবুল্লাহ এবং আইআরজিসি নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরাইলের বিরুদ্ধে এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে স্বীকার করেছে তেহরান।

    এই হামলার কিছুক্ষণ আগেই অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, ইরান ইসরাইলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এমন তথ্য জানিয়েছেন বলে সিএনএনের লাইভে বলা হয়।

    ওই কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইঙ্গিত রয়েছে।

    বিবৃতিতে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা এই হামলা থেকে ইসরাইলকে রক্ষা করার জন্য প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরান থেকে সরাসরি সামরিক হামলা ইরানের জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে।

    হামলার পরপরই ইসরাইরের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, ইরানের হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত আছে ইসরাইল।

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘বড় ভুল করেছে ইরান। এর চরম মূল্য দিতে হবে।’

  • ইসরাইলে ১৮০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান

    ইসরাইলে ১৮০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান

    গত কয়েকদিনের হুমকি পাল্টা হুমকির পর এবার ইসরাইলে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ আশ্রয়ের খুঁজে দিগ্বিদিক ছুটছেন দেশটির নাগরিকেরা।

    এর মধ্যে বহু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এ ঘটনায় পুরো ইসরাইলজুড়ে সাইরেন বেজে উঠেছে।

    ইসরাইলের জরুরি সেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইল জুড়ে মাত্র দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা বলেছে, তারা তেল আবিবে শার্পনেলের আঘাতে সামান্য আহত হওয়া মাত্র দুজনকে চিকিৎসা দিয়েছে।

    এমডিএ আরও বলেছে, নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়ানোর সময় পড়ে যাওয়া এবং তীব্র উদ্বেগের কারণে আরও কয়েকজন সামান্য আঘাত পেয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে, ইসরাইল বলেছিল যে তাদের সৈন্যরা ‘সীমিত’ স্থল অভিযানের জন্য দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করেছে। তবে হিজবুল্লাহ ইসরাইলি বাহিনীর ওই অঞ্চলে প্রবেশের তথ্য অস্বীকার করেছে।

    লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি বলেছেন, লেবানন তার ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়গুলোর একটির মুখোমুখি হয়েছে।

    এদিকে, গাজা উপত্যকা জুড়ে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে, মঙ্গলবার কমপক্ষে ২৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

  • ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান

    ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান

    ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। এ ঘটনায় পুরো ইসরাইলজুড়ে সাইরেন বেজে উঠেছে।

    আলজাজিরার খবরে বলা হয়, কিছুক্ষণ আগে ইরান থেকে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান মিসাইল ছোড়ার পর দখলদার ইসরাইলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিবে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। এছাড়া সাইরেন শোনা যায় জেরুজালেমেও।

    ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নাগরিকেদের ‘সতর্ক থাকার এবং সেনাবাহিনীর নির্দেশাবলী সঠিকভাবে অনুসরণ করার’ আহ্বান জানিয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, সাইরেন শোনার পর আপনাকে অবশ্যই একটি সুরক্ষিত স্থানে প্রবেশ করতে হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে হবে।

    ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, সব ইসরাইলি বোমা আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।