Category: আন্তর্জাতিক

  • অর্ধলাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ!

    অর্ধলাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ!

    টানা সাতদিন সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অবস্থানের পর অবশেষে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন হাজার হাজার নির্যাতিত রোহিঙ্গা। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে থেমে থেমে চলা বৃষ্টির মধ্যে তারা অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হন। স্থানীয় সূত্র ও অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

    বার্মিজ আর্মির হাতে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও নিরুপায় এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর পুরনো রোহিঙ্গা বস্তি এবং স্থানীয়দের বাসা-বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

    আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইএমও) তথ্য মতে, গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে। বুধবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধলাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

    বালুখালী বস্তি এলাকায় সপরিবারে আশ্রয় নিয়েছেন মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্যের ঢেকিবনিয়া মিয়াপাড়ার দিল বাহার বেগম (৪১)। তিনি বলেন, স্বামী সেদেশের সেনাবাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর তিন সন্তান নিয়ে ২৭ আগস্ট সীমান্ত এলাকায় আসি। তিনদিন ধরে জিরো পয়েন্টে অন্যদের সঙ্গে অবরুদ্ধ ছিলাম। পানি-খাবারের প্রচণ্ড সঙ্কট ছিল। শিশুদের কান্নায় অস্থির হয়ে পড়েছিলাম। কী করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর আল্লাহ রহমত হিসেবে বৃষ্টি পাঠালেন।

    rohinga

    জিরো পয়েন্টে অবস্থান নেয়া অন্যান্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৃষ্টির মধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করি। কেউ আমাদের সেই সময় বাধা দেয়নি। আমরা ওখানে কয়েক হাজার ছিলাম। বাংলাদেশে প্রবেশ করে যে যার মতো আশ্রয় নিয়েছি- বলেন তিনি।

    কুতুপালং বস্তিতে আশ্রয় নেয়া ঢেকিবনিয়া ফকিরপাড়ার আমির হামজা (৪৫) বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিদেশ থেকে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে খবর পাই বাংলাদেশ সরকার আমাদের (রোহিঙ্গা) সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ করতে সীমান্ত সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এ খবর শোনার পর আমরা সবাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। এর কয়েক ঘণ্টা পর বৃষ্টি শুরু হয়। খোলা আকাশে নিচে বৃষ্টিতে ভিজে বাচ্চা ও বৃদ্ধদের নিয়ে বেকায়দায় পড়ে যাই। কোনো কিছু চিন্তা না করে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করি।

    তিনি আরও বলেন, নো-ম্যানস ল্যান্ডে আমরা কয়েক হাজার ছিলাম। সবাই বৃষ্টির মধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করি।

    সীমান্তরক্ষীরা (বিজিবি) বাধা দিয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আমির হামজা বলেন, গায়ে আইনি পোশাক ও হাতে অস্ত্র থাকলেও তারাও তো মানুষ। আমরা বৃষ্টিতে ভিজি, এটা হয়তো অমানবিক ঠেকেছে তাদের কাছে। আমরা যে পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছি সেই পথে তাদের দেখিনি। এটা হয়তো আল্লাহর রহমত বা সরকারের অনুকম্পা।

    rohinga

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিজ দেশ মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আসা রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক আচরণ দেখাতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও রিয়াল অ্যাডমিরাল খোরশেদ আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই বৈঠকে তিনি এমন নির্দেশ দেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    সূত্রগুলোর মতে, মিয়ানমার সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনে রোহিঙ্গাদের মানবেতর জীবনের নানা তথ্য ও ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। যা মানবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিষয়টি মুসলিম সম্প্রদায়কে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে। এ নিয়ে মুলমানদের ভেতরে সেন্টিমেন্ট গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সরকারের শীর্ষ নীতি-নির্ধারকরা।

    ইস্যুটি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করতে সীমান্ত এলাকার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরার ব্যাপারে উদ্যোগী হতেও সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    সূত্রগুলো আরও জানায়, এসব বিষয় মাথায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সহানুভূতিশীল হতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) নির্দেশ দিতে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছেন। আপাতত অনুপ্রবেশের পরবর্তী পরিস্থিতি কী হতে পারে, তা নিয়ে সরকার ভাবছে না বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো দাবি করেছে।

    rohinga

    এদিকে, বুধবারও রাখাইন রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অন্তত তিনটি গ্রামে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, বার্মিজ আর্মিদের নির্মমতা থেকে শিশুরাও রক্ষা পাচ্ছে না। তাদেরও গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। এছাড়া বাড়িঘরগুলো আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে যাতে ফের রোহিঙ্গারা সেখানে ফিরে বসতি স্থাপন করতে না পারে।

    বুধবার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) কক্সবাজার কার্যালয়ের অফিস প্রধান সংযুক্তা সাহানী সংবাদ সম্মেলন করে গত এক সপ্তাহে ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের তথ্য জানান।

    তিনি জানান, যারা প্রবেশ করেছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। তাদের খাদ্য ও অন্যান্য সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার ভোরে জিরো পয়েন্টে অবস্থান করা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে কি না- বিষয়টি স্পষ্ট না করলেও যারা নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন তাদেরও খাবার ও অন্যান্য সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনুপ্রবেশ রোধে ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই। তবে যারাই অনুপ্রবেশ করবে বা শরণার্থী হিসেবে তাদেরকে সহায়তা দেয়া আমাদের কাজ।

    rohinga

    সরেজমিন বুধবার সীমান্তের রেজু আমতলী গিয়ে দেখা যায়, শত শত রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে টমটম গাড়িযোগে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিচ্ছে। সেখানে অন্তত নতুন কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে দেখা গেছে।

    অভিযোগ উঠেছে, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আনা গরু, ছাগল, মুরগি স্থানীয় কতিপয় সুবিধাভোগী পানির দরে কিনে নিচ্ছে। রোহিঙ্গারাও সেগুলো বাড়তি বোঝা দেখে তর্ক ছাড়াই হাতবদল করছে। পরে অপেক্ষমাণ ইজিবাইক ও অন্যান্য গাড়িতে করে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে।

    উখিয়ার বালুখালী বস্তির লালু মাঝি জানান, বুধবার পর্যন্ত তার ক্যাম্পে এক হাজার ৩৮৫টি নতুন পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় নেয়া এসব পরিবারের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

    কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূর জানান, অসংখ্য রোহিঙ্গা শিবিরে ঢুকে পড়েছে। ঠিক কত হাজার, তা বলা মুশকিল।

    rohinga

    রেজু আমতলী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা মংডুর সাহেব বাজার নারাইন সং গ্রামের মৃত নূর আহম্মদের ছেলে ৭৫ বছর বয়সী আবদুল গফুর বলেন, গত পাঁচদিন ধরে পাহাড়ের গহীন জঙ্গলে না খেয়ে অবস্থান করি। বৃষ্টি ও ক্ষুধার কারণে আর লুকিয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছিল না। বুধবার সকালে ওয়ালিদং পাহাড় পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ি।

    মংডু ফকিরাবাজার এলাকার আবদুল গফুরের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক মানুষ চলে এসেছে। পাশের গ্রামে আগুন দেয়া হলে ভয়ে আমরা পালিয়ে আসি।

    একই গ্রামের আবদুল কাদের বলেন, গত শনিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হই। গহীন জঙ্গলে তিনদিন লুকিয়ে ছিলাম। মঙ্গলবার রাতে শতাধিক মগ সেনা দেখে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে বাংলাদেশে চলে আসি। গাছের লতাপাতা ছাড়া এ সময় কোনো কিছুই খাওয়া হয়নি।

    মিয়ানমারের ফকিরাবাজারের নুরুল কবির অভিযোগ করেন, বহু কষ্টে চারটি গরু জিরো পয়েন্টে আনি। কিন্তু কিছু যুবক তা লুট করে নিয়ে যায়। আমার সঙ্গে আরও পাঁচ পরিবার ছিল। মঙ্গলবার রাতে বৃষ্টির সুযোগে জিরো পয়েন্টে অবস্থান নেয়া কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আমরাও তাদের সঙ্গে ঢুকে পড়ি। এখনও জিরো পয়েন্টে হাজার হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

    rohinga

    ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা ঘুরে আরও দেখা যায়, ঘুমধুম ইউনিয়নের আজুখাইয়া ও রেজু আমতলিতে অসংখ্য টমটম রোহিঙ্গাদের পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছে। ক্যাম্প এলাকায় পৌঁছাতে তারা জনপ্রতি ১০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে থাকা গরু-ছাগল স্থানীয় কিছু যুবক পানির দামে কিনে নিচ্ছে।

    বৃষ্টির কারণে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যদের দেখা মেলেনি। তাই বাধাহীনভাবে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

    রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে বিজিবি’র কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) লে. কর্নেল আনোয়ারুল আজিম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত পয়েন্ট ছাড়া বাকি সীমান্তে টহল দেয়া সম্ভব হয়নি। এ সুযোগে কিছু রোহিঙ্গা হয়তো অনুপ্রবেশ করতে পেরেছে।

    rohinga

    তিনি আরও বলেন, ওপারে এখনও গোলাগুলি ও বোমার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে জিরো পয়েন্টে অবস্থানকারীদের প্রতি আমরা কঠোরতা দেখাচ্ছি না। তবে, আগের মতোই রোহিঙ্গাদের প্রতিহত করা হচ্ছে।

  • জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ

    জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ

    মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতারেস। পাশাপাশি তিনি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক এক বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা পালিয়ে এসেছেন তার মধ্যে রয়েছেন নারী ও শিশু। তাদের অনেকে আবার আহত।

    মানবাধিকার বিষয়ক এজেন্সিগুলোর অবাধ সুবিধা পাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন মহাসচিব। আক্রান্তদের কাছে যাতে সাহায্য পৌঁছে দেওয়া ও তাদের সুরক্ষা দেওয়া যায় তার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মহাসচিব বলেন, এক্ষেত্রে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয় দেশকে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে জাতিসংঘ। উল্লেখ্য, সোমবার রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান তীব্রতর করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এদিন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঘুমধুম গ্রামের কাছ থেকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশের কোস্ট গার্ডরা। এতে নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকা পড়েন তারা।

  • হামলা চালালে শত্রুর ক্ষতিই বেশি হবে: ইরান

    হামলা চালালে শত্রুর ক্ষতিই বেশি হবে: ইরান

    বর্তমানে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সারির দেশ ইরান। আর তারই জের ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি বলেছেন, তার দেশের সেনারা হচ্ছেন শত্রুদের জন্য বড় বাধা।

    তাঁর মতে, ‘আমাদের দেশ এখন সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। এবং শত্রুদের হুমকি মোকাবেলায় সামরিক বাহিনী বড় ভূমিকা পালন করছে। ‘ ফলে, শত্রু সমস্ত দেশের কাছে ইরানের সেনাবাহিনীই এখন বড় বাধা।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর মন্তব্য তুলে ধরে জেনারেল বাকেরি আরও বলেন, প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধ-প্রস্তুতি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, শত্রুদের অবশ্যই হিসাব করতে হবে যে, ইরানের ওপর আগ্রাসন চালালে লাভের পরিবর্তে তাদের ক্ষতির পরিমাণ হবে অনেক বেশি।

    ইরানের সেনাপ্রধান আরও বলেন, শত্রুরা দেখেছে ইরানের ওপর আগ্রাসন চালাতে গেলে তাদের জন্য তা লজ্জজনক পরাজয় বয়ে আনবে। সে কারণে তারা ‘প্রক্সিযুদ্ধ’ চালাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রচেষ্টার কারণে দেশের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে। শত্রুর হুমকির মোকাবেলায় ইরানের সামরিক বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা একটা সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও তিনি জানান।

  • ফের নির্বাসনে নওয়াজ শরিফ?

    ফের নির্বাসনে নওয়াজ শরিফ?

    সম্প্রতি নওয়াজ শরিফের লন্ডন যাত্রা ঘিরে নির্বাসনের বিষয়টি দানা পাকছে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন, সফরের মোড়কে দেশত্যাগী হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ।

    এর পিছনে পাক সামরিক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদত আছে। বহু কোটি টাকার পানামা পেপারস তথ্য ফাঁস হওয়ার পর পারিবারিক দুর্নীতির বোঝা মাথায় নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন শরিফ।

    পাক সংবাদ মাধ্যমের খবর, নওয়াজ শরিফ লন্ডন থেকে সহসা দেশে ফিরছেন না। তবে শরিফের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, দেশের মানুষের ভালোবাসা থেকে তিনি দূরে থাকতে পারবেন না। এদিকে পাকিস্তান মুসলিম লিগ (এন) জানিয়েছে, ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রী কুলসুম নওয়াজকে দেখতেই লন্ডন গেছেন নওয়াজ শরিফ। সেখানে তিনি দশ দিন থাকবেন। স্ত্রীর অসুস্থতার কথা বিবেচনা করেই নওয়াজ শরিফের লন্ডন থাকার সময় সীমা নির্ভর করবে। যদিও বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ (পিটিআই) জানিয়েছে, ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টোবিলিটি ব্যুরোর বিভিন্ন মামলায় জড়িত শরিফ এখনই দেশে ফিরছেন না।

    এর আগেও পাকিস্তান ত্যাগ করেছিলেন নওয়াজ শরিফ। ২০০৭ সালে নওয়াজকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসেন পারভেজ মোশাররফ। তারপরেই সপরিবারে দেশ ছেড়েছিলেন নওয়াজ শরিফ। কখনও সৌদি আরব, কখনও ইংল্যান্ডেই থাকতেন। দেশ ফিরতে চেয়ে চেষ্টা করলেও তাঁকে আটকে দিয়েছিল তৎকালীন সেনা সরকার।

    পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন নওয়াজ শরিফ। এরপর পদত্যাগ করেন। পাক জাতীয় সংসদে তাঁর আসনটি শূন্য হয়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সেই শূন্য আসনে নির্বাচনের কথা। ওই আসনে পিএমএল(এন)-এর হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কুলসুম নওয়াজ। অন্যদিকে পাকিস্তানের পরবর্তী পূর্ণ সময়ের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে আসছেন নওয়াজ ভ্রাতা শাহবাজ শরিফ৷ বর্তমানে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আসিফ খাকান আব্বাসী। খবর কলকাতা টুয়েন্টিফোর।

  • জাপানের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রে হামলার প্রথম পদক্ষেপ

    জাপানের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রে হামলার প্রথম পদক্ষেপ

    পরমাণু ইস্যুতে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে তখন জাপানের আকাশ সীমার উপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। জাপানের উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে গিয়ে সাগরে পড়েছে ওই ক্ষেপণাস্ত্র।

    এমনকি জাপানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করারও কোনো চেষ্টা চালানো হয়নি।

    উত্তর কোরিয়া বলছে, জাপানের ওপর দিয়ে চালানো ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম দ্বীপের সামরিক ঘাঁটিতে পরণামু হামলা চালানোর প্রথম ধাপ।

    এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে জবাবও দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে উত্তর কোরিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যম। মঙ্গলবার জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় হোক্কাইডো দ্বীপের ওপর দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে গিয়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি।

    উত্তর কোরিয়ার ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উত্তেজনা কমাতে উত্তর কোরিয়ার দ্রুত, বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া খুবই জরুরি। দেশটির এমন কার্যক্রম জাতিসংঘের সব সদস্য দেশের জন্য হুমকি। তবে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি।

    অপরদিকে, রাশিয়া এবং চীন বলছে যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়াই ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে।

    জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও কয়েক মাস ধরেই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। এর আগে শুক্রবার এবং শনিবার উত্তর কোরিয়া তিনটি স্বল্প মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পরীক্ষা চালানো হয়।

    উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে জঘন্য, নজিরবিহীন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তায় বড় হুমকি ও ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।

  • লেনিনের ১৩২০টি মূর্তি সরালো ইউক্রেন

    লেনিনের ১৩২০টি মূর্তি সরালো ইউক্রেন

    বিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিল ইউক্রেন। আর সে কারণে ইউক্রেনের আনাচে-কানাচে কমিউনিস্ট নেতা ভ্লাদিমির ইলিচ ইলিয়ানোভ লেনিনের মূর্তি ছিল অসংখ্য।

    তবে সোভিয়েত যুগের সব চিহ্ন সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি লেনিনের মূর্তিগুলোও সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেয় ইউক্রেন।

    অনেকেই অবশ্য এ মূর্তি ও স্মৃতিচিহ্নগুলো ধ্বংসের সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, এ ঘটনায় শুধু নাম কিংবা ভাস্কর্যই ধ্বংস হচ্ছে না, পাশাপাশি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সোভিয়েত যুগের ইতিহাসও।

    সোভিয়েত যুগের পরিসমাপ্তি ঘটার প্রায় দুই যুগ পরেও ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে সগর্বে দাঁড়িয়ে ছিল লেনিনের অসংখ্য মূর্তি। তবে ইউক্রেনের বর্তমান সরকার কমিউনিস্ট যুগের এ স্মৃতি চিহ্ন রাখতে মোটেও আগ্রহী নয়। এ কারণে বলশেভিক এ নেতার সব মূর্তি সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    সম্প্রতি খবরে প্রকাশ, ইউক্রেনের শহর ও গ্রামে থাকা ১৩২০টির মধ্যে সবগুলো মূর্তিই সরিয়ে ফেলেছে ইউক্রেন সরকার।

    ২০১৫ সালের মে মাসে ইউক্রেন সরকার সোভিয়েত আমলের সব স্মৃতিচিহ্ন সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্তটি আইন হিসেবে পাস করার উদ্যোগ নেন প্রেসিডেন্ট পেট্রো পরোশেনকো।

    ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার সংঘাত শুরু হয়। তার পরই এ সিদ্ধান্ত নেয় ইউক্রেন। ইউক্রেনে সোভিয়েত আমলের অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন ছিল। এসবের মধ্যে বহু রাস্তা ও স্থাপনা ছিল। সবগুলোর নামই ইউক্রেন সরকার পাল্টে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর বহু রাস্তার নাম পাল্টে ইউক্রেনের বীরদের নামে রাখা হয়। লেনিন স্ট্রিটের নাম পাল্টে রাখা হয় লেনন স্ট্রিট, যিনি ইউক্রেনের একজন বীর।

    সোভিয়েত আমলের সব স্থাপনার নাম পাল্টানো সহজ কাজ ছিল না। রীতিমতো বিশাল কর্মযজ্ঞ। এ কাজের অংশ হিসেবে সোভিয়েত আমলের লেনিনের মূর্তি ছাড়াও ১,৬৯টি অন্যান্য স্মৃতিসৌধও ধ্বংস করা হয়।

  • শিগগিরই বিশ্বের দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালু করছে চীন

    শিগগিরই বিশ্বের দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালু করছে চীন

    আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরেই বিশ্বের সব থেকে দ্রুতগামী বুলেট ট্রেন ট্র্যাকে নামাতে চলেছে চীন।

    তার জন্য প্রস্তুতিও চলছে জোর কদমে। আগামী সেপ্টেম্বরেই এই ট্রেন ছুটবে বলে জানা গেছে।

    চীনের সরকারি সংবাদ মাধ্যম ‘পিপলস ডেইলি অনলাইন’-এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আগামী বছর চীন যে দ্রুতগতির ট্রেন আনছে, প্রতি ঘণ্টায় তা ৩৮০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে। ঝেংঝোউ-জুঝাউ রুটে হাইস্পিড ট্র্যাকে এই ট্রেন চালানো হবে। বর্তমানে এই পথ অতিক্রম করতে ২ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট সময় লাগে। সব থেকে দ্রুত গতির এই ট্রেন চালু হলে ৮০ মিনিটে এই পথ অতিক্রম করা যাবে। চীনে এখন সব থেকে দ্রুতগতির যে ট্রেন চলে, তার তুলনায় ঘণ্টায় অন্তত ৫০ কিলোমিটার বেশি গতিতে এই ট্রেন ছুটবে।

    এমনকি নতুন এই ট্রেন ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটার স্পিড ছুঁতে পারে কি না, তার পরীক্ষাও চলছে বলে জানা গেছে। হাইস্পিড ট্রেন চালানোর তাদের এই প্রযুক্তি অন্যান্য দেশেও বিক্রি করার চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। তার মধ্যে ভারতও রয়েছে। চীনের এই প্রজেক্টে খরচ হচ্ছে ৩৬০ বিলিয়ন ডলার।

  • চাঁদ দেখা যায়নি, মধ্যপ্রাচ্যে ১ সেপ্টেম্বর ঈদ

    চাঁদ দেখা যায়নি, মধ্যপ্রাচ্যে ১ সেপ্টেম্বর ঈদ

    সোমবার সৌদি আরবের আকাশে কোথাও জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। সে হিসাবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হবে ঈদুল আযহা।

    এবং আগামী ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র হজ।

  • সারিন গ্যাস পূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে সক্ষম উত্তর কোরিয়া: জাপান

    সারিন গ্যাস পূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে সক্ষম উত্তর কোরিয়া: জাপান

    আর্ন্তজাতিক মহলের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একের পর এক পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। আর তাদের প্রত্যেকটি অস্ত্র বিষাক্ত সারিন গ্যাস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করছে জাপান।

    শুধু তাই নয়, জাপানের দাবি অনুসারে, সারিন গ্যাস ভরা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর সক্ষমতাও রয়েছে উত্তর কোরিয়ার। আর যদি এ হামলা করা হয় তাহলে সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হবে বলেও জানিয়েছে দেশটির সামরিক পর্যবেক্ষক দল।

    প্রসঙ্গত, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সম্প্রতি দাবি করেন, উত্তর কোরিয়া যেকোনো দিন জাপানের ওপর সারিন গ্যাস হামলা চালাতে পারে।  আবে আরো বলেন, ‘আমরা সিরিয়া নিয়ে কথা বলছি।  অথচ, উত্তর কোরিয়ারও ক্ষমতা আছে, সারিন গ্যাস হামলা চালানোর। ‘

    এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ১৯৮০ সাল থেকে রাসায়নিক অস্ত্রভাণ্ডার মজুদ করছে পিয়ংইয়ং। সিউলের দাবি, বর্তমানে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ২৫০০ থেকে ৫০০০ টন রাসায়নিক অস্ত্র রয়েছে। ২০১২ সালের এছাড়া একটি প্রতিবেদনে আমেরিকা জানিয়েছিল, বহু দিন ধরে রাসায়নিক কর্মসূচি চালাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। তাদের ভাণ্ডারে প্রাণঘাতী নার্ভ গ্যাস রয়েছে।

    উল্লেখ্য, সিরিয়ায় বিষাক্ত সারিন গ্যাস হামলার পর পরই উত্তর কোরিয়ার একটি উপদ্বীপের দিকে নৌবহর পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। যার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকেও পাল্টা হুমকি দিতে ছাড়েননি উত্তর কোরীয় প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।

  • উ. কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র বাকযুদ্ধে উদ্বিগ্ন বিশ্বনেতারা

    উ. কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র বাকযুদ্ধে উদ্বিগ্ন বিশ্বনেতারা

    কিমের দেশ উত্তর কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলছে। প্রশান্ত মহাসাগরের পার্শ্ববর্তী দ্বীপ গুয়ামে মাঝারি ধরনের চারটি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর হুমকি দিচ্ছে পিয়ংইয়ং। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উপর সামরিক হামলা চালানোর ব্যাপারে পিয়ংইয়ংকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

    দেশ দু’টির মধ্যে চলমান কথার লড়াইয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বনেতারা। কথার এই লড়াই পরিস্থিতিকে আরও অশান্ত করে তুলবে বলে অাশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। তারপরেও কোনো পক্ষের দিক থেকেই ক্ষান্ত হওয়ার আলামত মিলছে না।

    এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সেনাবাহিনী গুলি ভরা বন্দুকের মতই সতর্ক রয়েছে। ট্রাম্পের ওই বক্তব্যে শোরগোল পড়ে যায়। ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিস্থিতিকে একটি পারমানবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন।

    ট্রাম্প এবার নিউই জার্সিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, তিনি তার আগের ওই বক্তব্যে এখনও অটল রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, খুব সতর্কতার সঙ্গে আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। আমার কথার মাধ্যমে পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পূর্ণ রূপে উত্তর কোরিয়া অনুধাবন করতে পেরেছে বলেই মনে হয়। আমার ওপর আস্থা রাখুন। এই লোক (কিম) যা করছে, তাতে তিনি পার পাবেন না।

    দেশ দুটির নেতাদের কথার লড়াইয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর নেতারা। রাশিয়ার ধারণা, কথার লড়াইয়ের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

    রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলছেন, পরিস্থিতি যখন এমন হয়ে যায় যে যেকোনো সময় পারমাণবিক হামলা হবে, সেরকম পরিস্থিতিতে অামার মনে হয় পরিস্থিতি শান্ত করার প্রথম উদ্যোগটা শক্তিশালী এবং চটপটে পক্ষকেই নিতে হবে।

    ল্যাভরভের এই ইঙ্গিত যে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কথার এই লড়াইকে একেবারেই ভুল হিসেবে দেখছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল। এদিকে চীন জানিয়েছে, উভয় পক্ষই যেন শব্দ এবং বাক্য চয়নের ব্যাপারে সতর্ক হয়। বিবিসি বাংলা।