Category: আন্তর্জাতিক

  • বাবা-মা কালো, তবে ছেলে কেন ফর্সা? সন্দেহবশত ছেলেকে খুন!

    বাবা-মা দু’জনের গায়ের রঙ কালো। তবু সন্তান ফর্সা।

    আর সেটাই কাল হল। বাবার হাতে প্রাণ গেল ওই শিশুপুত্রের। ভারতের বজবজে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেশীদের অভি‌যোগ, ছেলে ফর্সা হওয়াতেই সন্দেহের বশে তাকে খুন করেছে বাবা।

    শুনতে আশ্চ‌র্য লাগলেও বজবজের এম এন সরকার রোডের বাসিন্দা শেখ ফিরোজের বিরুদ্ধে সন্তান হত্যার অভি‌যোগ উঠেছে। প্রতিবেশীদের অভি‌যোগ, সন্তান জন্মের পর থেকেই স্ত্রীর উপরে অত্যাচার করত শেখ ফিরোজ। সন্তান তার নয়, এই ছিল তার মূল অভি‌যোগ। মাঝেমধ্যেই সেই অত্যাচার চরমে উঠত।

    রবিবার রাতে ছেলেকে লেপ মুড়ি দিয়ে শুইয়ে রেখেছিলেন মা।

    অভি‌যোগ, তখনই তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে ফিরোজ। তবে বাড়ির লোকজনের দাবি, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা লাগা ও সর্দির কারণে শ্বাস আটকে মারা গেছে ওই শিশু।

    মৃত শিশুর মা ফিরোজার মুখেও একই দাবি। সংবাদ মাধ্যমে ফিরোজা জানান, ‘ছেলে ফর্সা হওয়ায় ফিরোজ আমার সঙ্গে ঝগড়া করতো। বলতো আমি কালো আর আমার ছেলে ফর্সা হয় কী করে? ও আমার ছেলে নয়। তুই এখানে থাকবি না, বাপের বাড়ি চলে ‌যা। গতকাল দুপুরেও ঝগড়া হয়। ‘

    প্রতিবেশীদের আরও অভি‌যোগ, রবিবার দুপুরেও ওই শিশুকে খুন করার হুমকি দেয় ফিরোজ। ফলে তার প্রতি সন্দেহ আরও জোরাল হচ্ছে। সোমবার দুপুরে আড়াই মাসের ওই শিশুপুত্রের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে ‌যায় বজবজ থানার পুলিশ।

    ঠিক কী কারণে মৃত্যু তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

  • কঙ্গোয় ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত

    কঙ্গোয় ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত

    কঙ্গোয় রবিবার মর্মান্তিক এক ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হয়েছে। তেলবাহী একটি ফ্রিগেট ট্রেন গিরিখাতে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর এএফপি’র। জাতিসংঘ রেডিও ওকাপি এ দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত ও এতে আরো অনেকের আহত বা দগ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছে। কঙ্গোর কাতাঙ্গা প্রদেশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী লুবুম্বাশি থেকে কাতাঙ্গার লুয়েনার মধ্যে চলাচল করে। রেডিও ওকাপির খবরে বলা হয়, ট্রেনটিতে ১৩টি তেলের বগি ছিল। লুবুদি স্টেশনের কাছে ঢাল বেয়ে ওপরে ওঠার সময় এটি লাইনচ্যুত হয় এবং গিরিখাতে পড়ে ট্রেনে আগুন ধরে গেলে এসব প্রাণহানি ঘটে। ট্রেনটিতে অনেক যাত্রী ছিল এবং তারা অবৈধভাবে যাচ্ছিল বলে জাতীয় রেল কোম্পানির এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান।

  • সেন্সরের মাধ্যমে ট্রাম্পের উপর নজর রাখে সিক্রেট সার্ভিস

    সেন্সরের মাধ্যমে ট্রাম্পের উপর নজর রাখে সিক্রেট সার্ভিস

    আমেরিকার সিক্রেট সার্ভিস নিয়ে সবসময় আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। হলিউড ছবিতে যেমন দেখা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের আশপাশেও তেমন নিরাপত্তা চোখে পড়ে।

    কালো টাক্সেটো, নিখুঁত সানগ্লাস, কানে ইয়ারপিস, লাক্সারি গাড়ি নিয়ে সবসময় থাকে সিক্রেট এজেন্টরা।

    সিক্রেট সার্ভিস আসলে দুই ধরনের মিশনের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। একটি তদন্তকারী, অন্যটি প্রতিরক্ষামূলক।

    ১) শুধু বর্তমান প্রেসিডেন্টকে নিরাপত্তা দেওয়া সিক্রেট সার্ভিসের কাজ থাকে না। বর্তমান প্রেসিডেন্টের পরিবার, তার অতিথি, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও তাদের পরিবারকেও নিরাপত্তা দেয় এরা। সেই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট যাদের চায়, তাদেরও নিরাপত্তা দেওয়ার কাজ করে সিক্রেট সার্ভিস।

    ২) প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করার জন্যই শুধু গঠিত হয়নি এজেন্সি। সিক্রেট সার্ভিস তৈরির মূল লক্ষ্য জালিয়াত ও অর্থনৈতিক প্রতারকদের মোকাবিলা করা।

    ৩) সাধারণ মানুষ যা ভাবে, তার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করে এই নিরাপত্তা কর্মীরা।

    পার্সোনাল প্রোটেকশন ইউনিটের মধ্যে বাছাই করা কর্মীর সংখ্যা ৬ হাজার ৫০০ জন।

    ৪) প্রেসিডেন্টের জন্য জীবন উৎসর্গ করার কোনও শপথ এরা নেয় না। যদি কোনও এজেন্ট প্রেসিডেন্টকে বাঁচাতে গিয়ে মারা যান, সেটা সম্পূর্ণভাবে স্বেচ্ছাকৃত বলে ধরে নেওয়া হয়। ইতিহাসে একমাত্র একজনই এমন অফিসার আছেন। তাঁর নাম লেসলি কফিলেট। প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানকে বাঁচাতে গিয়ে মারা যান তিনি।

    ৫) প্রথমেই কিন্তু সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা ফিল্ড মিশনের জন্য আসতে পারে না। প্রথমে তাদের ডেস্কে চাকরি করতে হয়। অন্তত ৩ বছর চাকরি করার পর ফিল্ড মিশনের কথা ভাবতে হয় তাদের। ডেস্কের চাকরি ৪ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত চলতে পারে। তারপর যদি ফিল্ড মিশনের জন্য কেউ উত্তীর্ণ হয়, তবেই তিনি ফিল্ডে যেতে পারেন। নাহলে তাকে অফিসেই কাজ করতে হয়।

    ৬) বুলেট, পানি সহ সবকিছু নিয়ে অনুশীলন করতে হয় তাদের। যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ মিশনের আগে তাদের এই অনুশীলন করতে হয়। প্রতি ৮ সপ্তাহ অন্তর তাদের স্কিল ডেভলপমেন্ট কোর্সের মাধ্যমে প্রতিটি পরিস্থিতির মোকাবিলা করার চর্চা করা হয়।

    ৭) প্রত্যেক এজেন্টের মেডিক্যাল নিয়ে সর্বনিম্ন জ্ঞান থাকা জরুরি। মুশকিল পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখার জন্য তাদের এই শিক্ষা প্রয়োজনীয়। দরকার পড়লে যাতে রক্ত দেওয়া যায়, তার জন্য তারা প্রেসিডেন্টের জন্য সবসময় অতিরিক্ত রক্ত সঙ্গে রাখে।

    ৮) প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের জন্য একই অক্ষরের কোড দেওয়া হয়। যেমন, বারাক ওবামার কোড নেম ছিল রেনেগেড। তাঁর স্ত্রীয়ের ছিল রেনাইসান্যান্স। দুই মেয়ের নাম ছিল ব়্যডিয়্যান্স ও রোজবার্ড।

    ৯) যদি কখনও প্রেসিডেন্ট তাঁর ওভাল অফিসে একা থাকতে চান, থাকতে পারেন। কিন্তু তখনও সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা তাঁর উপর নজর রাখেন। প্রেসিডেন্টের সমস্ত মুহূর্তের খবরাখবর তাঁরা সেন্সারের মাধ্যমে নজর রাখেন।

    ১০) প্রেসিডেন্ট যেখানেই যান, এজেন্টরা তাঁকে ফলো করেন। এটাই নিয়ম। প্রেসিডেন্টের যাবতীয় কাজ, শখ মেটানোর সময়ও উপস্থিত থাকেন সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা।

    ১১) ওয়াশিংটনের এইচ স্ট্রিটে আছে সিক্রেট সার্ভিসের হেডকোয়ার্টার।

    ১২) ১৪ এপ্রিল, ১৮৬৫ সালে হিউগ ম্যাককালোচ সিক্রেট সার্ভিসের প্রতিষ্ঠা করেন। ওইদিনই মারা যান আব্রাহাম লিঙ্কন।

  • নিজের ছেলে ও মেয়েকে বিয়ে করে হাজতবাস!

    নিজের মেয়ে ও ছেলেকে বিয়ে করে নিলেন এক নারী। আজব এই ঘটনা ঘটেছে আমেরিকার ওকলাহোমা প্রদেশের ডানকান অঞ্চলে।

    এদের তিনজনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও প্যাট্রিসিয়া স্প্যান নামে ওই নারীর দাবি যে এই বিয়ে আইনিভাবে বৈধ।

    স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়া প্যাট্রিসিয়ার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। যদিও আদালতের নির্দেশে এই তিন ভাই-বোন থাকতে তাদের দাদির সঙ্গে। দাদি এই তিনজনকে নিজের সন্তান হিসেবে দত্তক নিয়েছিলেন। বেশ কয়েক বছর ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না প্যাট্রিসিয়ার। বছর দুয়েক আগে তার সঙ্গে ফের দেখা হয় মেয়ে মিস্টি স্প্যানের। তার তখন ২৬ বছর বয়স। নিজেদের মা-মেয়ের সম্পর্কের বিষয়ে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল হয়েই তারা বিয়ে করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরই প্যাট্রিসিয়া ও মিস্টিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপরই তদন্তে নেমে জানতে পারে যে নিজের সন্তানকে বিয়ে এর আগেও করেছিল প্যাট্রিসিয়া। ২০০৮-এ নিজের এক ছেলেকেও বিয়ে করেছিল সে। সেই ছেলের তখন বয়স ছিল ১৮। এরপরই নাতি-নাতনিদের দত্তক নিয়ে নেন তাদের দাদি। এই অপরাধের জেরে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। -এই সময়।

  • হামলার শঙ্কা দেখলেই পরমাণু হামলা চালানো হবে : আমেরিকা

    হামলার শঙ্কা দেখলেই পরমাণু হামলা চালানো হবে : আমেরিকা

    উত্তর কোরিয়া আঘাত হানবে বলে মনে হলে আমেরিকা উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে পরমাণু হামলা চালাবে। মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস।

    এরই মধ্যে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হামলার মহড়াও আমেরিকা চালিয়েছে বলেও কংগ্রেসকে জানান তিনি।

    তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার আসন্ন সরাসরি বা সত্যিকার হুমকির মুখে আমেরিকা নিজ পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে। অবশ্য ‘আসন্ন সরাসরি বা সত্যিকার হুমকি’ বলতে কি বোঝানো হয়েছে সে কথার কোনও ব্যাখ্যা খবরে পাওয়া যায়নি। তিনি কংগ্রেসকে আরও বলেন, আমেরিকাকে রক্ষা করার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের উপর বর্তায়, কংগ্রেসের উপর নয়। মার্কিন নির্বাহী ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখার জন্যও কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পরমাণু পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যখন টানাপড়েন তুঙ্গে তখন এই বার্তা প্রকাশ্যে এল। এদিকে মার্কিন পরমাণু অস্ত্র নিয়ে সামরিক মহড়া ‘গ্লোবাল থান্ডার’ শুরু করেছে আমেরিকা।   এই মহড়াকে ‘নিছক উন্মাদনা’ বলেছেন আমেরিকার সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষক স্কট রিচার্ড।   এটি উত্তর কোরিয়ার সরকার এবং জনগণকে বৈরী করে তুলবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরণের তৎপরতা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

  • ছেলের খুনিকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন বাবা!

    রায় দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছেন বিচারক। সকলেই জানেন, মৃত্যুদণ্ডই দেওয়া হবে।

    বা যাবজ্জীবন। থমথম করছে গোটা আদালত কক্ষ।

    সেই সময় সাক্ষীর স্ট্যান্ড থেকে বিচারকের দিকে তাকিয়ে করজোড়ে ৬৬ বছরের আবদুল-মুনিম সোমবাত জিতমউদ বলে উঠলেন, ‘অল্প বয়সের ছেলে। ওকে ক্ষমা করে দিলাম। ইসলাম ধর্ম ক্ষমার কথাই বলে। ’

    জিতমউদের কাছে ক্ষমা চাইল অভিযুক্ত। জিতমউদ জড়িয়ে ধরলেন আসামির স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো ট্রে আলেকজান্ডার রেলফোর্ডকে।

    চোখের পাতা ভিজে উঠল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির ফেয়েতে কাউন্টি সার্কিট জজ কিমবার্লি বানেলেরও। কিছু ক্ষণের জন্য আদালত মুলতুবি ঘোষণা করে তাঁর নিজের ঘরে চলে গেলেন বিচারক বানেল।

    গোটা আদালত কক্ষে যেন তখন পিন পড়লেও শব্দ শোনা যাবে!

    পিৎজা খেতে গিয়ে আড়াই বছর আগে জিতমউদের ছেলে সালাউদ্দিনকে ছুরি মেরে খুন করার অভিযোগ রয়েছে ২৪ বছর বয়সী অভিযুক্ত রেলফোর্ডের বিরুদ্ধে। রয়েছে পিৎজার দোকানে ডাকাতি, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ। তদন্ত, তথ্যাদিতে তা প্রমাণিতও হয়েছে আদালতে। এত কিছুর পরেও বাবা হয়ে কীভাবেই বা তাকে বেমালুম ক্ষমা করে দিলেন জিতমউদ! আইনজীবী থেকে শুরু করে আদালত কক্ষে হাজির সকলেই মুখ চাওয়াচায়ি করতে থাকলেন।

    বিস্ময়ের আরও কিছু বাকি ছিল গত মঙ্গলবার কেনটাকির ফেয়েতে কাউন্টি সার্কিট আদালতের ওই কক্ষে হাজির সকলেরই। বিচারক, আইনজীবীরা দেখলেন, রেলফোর্ডকে ক্ষমা করে সাক্ষীর স্ট্যান্ড থেকে আসামীর স্ট্যান্ডে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেই থেমে থাকলেন না জিতমউদ, আবেগে বুকে জড়িয়ে ধরে রেলফোর্ডের কানে কানে সালাউদ্দিনের বাবা বললেন, ‘কোনও চিন্তা কোরো না। ইসলামকে স্মরণ করবে সব সময়। ’

    রেলফোর্ডের বিরুদ্ধে যে যে ধারায় অভিযোগ ছিল, তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয় মৃত্যুদণ্ড, না হলে ৩১ বছরের কারাদণ্ড। জিতমউদের বক্তব্য শুনে কিছু ক্ষণ পর আদালতে ফিরে এসে বিচারক বানেল ৭ বছরের কারাদণ্ড দিলেন রেলফোর্ডের।

    তার পর আসামীর স্ট্যান্ডে গিয়ে রেলফোর্ডকে আরও এক বার আবেগে জড়িয়ে ধরলেন জিতমউদ। তার পাশে গিয়ে বললেন, ‘ভাবছ কেন? সময়টা দেখতে দেখতে কেটে যাবে। এর পর তোমার জীবনটা আবার নতুন করে শুরু হবে। একেবারে অন্য ভাবে এ বার গড়ে তোল জীবনটাকে। শুধু ভাল ভাল কাজ করবে এ বার, আর সকলকে ভাল কাজ করতে উৎসাহ জোগাবে। সঠিক পথে চলবে সব সময়। ইসলামকে স্মরণ করে চলার মাধ্যমে সেটা তুমি জেল থেকেই শুরু করে দাও না। এই করতে করতে ৭ বছর পর তোমার ৩১ বছর বয়সে যখন তুমি জেল থেকে বেরিয়ে আসবে তখন জীবনটাকে সুন্দর ভাবে গড়ে তোলার জন্য নিজেকে তৈরি রাখতে পারবে। ’

    শুনে চোখে পানি এসে গেল আসামী রেলফোর্ডের। জিতমউদ তখনও তাকে ধরে রয়েছেন বুকে। চোখের পানি মুছতে লাগল রেলফোর্ড।

    জিতমউদ তাঁর পরিবার পরিজন নিয়ে এখন থাকেন থাইল্যান্ডে। আগে অবশ্য তিনি বহু বছর কাটিয়েছেন মার্কিন মুলুকে। আমেরিকার বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। প্রধান ছিলেন লেক্সিংটন ইউনিভার্সাল অ্যাকাডেমিরও।

    এই লেক্সিংটনেই একটা পিৎজার দোকান ছিল জিতমউদের ছেলে সালাউদ্দিনের। সেখানে ২২ বছর বয়সী সালাউদ্দিনকে ছুরি মেরে খুন করেছিল রেলফোর্ড। তার পর তার দোকান লুঠপাট করে ক্যাশবাক্স ভাঙচুর করেছিল, আড়াই বছর আগে।
    বিচারক রেলফোর্ডকে ৭ বছর কারাদণ্ড দেওয়ার পর তাকে জড়িয়ে ধরে জিতমউদ বলেছেন, ‘আমি তোমাকে দোষ দিই না। দোষ সেই শয়তানটার। যে তোমাকে ওই জঘন্য অপরাধ করতে প্ররোচনা দিয়েছিল। সেই শয়তানটা আমাদের সকলের মধ্যেই আছে। আমরা কেউ কেউ তাকে বাড়াবাড়ি করতে দিই, কেউ দিই না। ’

    রায় দেওয়ার আগে বিচারক রেলফোর্ডের মা গেল কুট বার্ডের সাক্ষ্যও শুনেছেন। রেলফোর্ডের মা বলেছেন, জিতমউদ যে তাঁর ছেলেকে ক্ষমা করে দেবেন, তিনি তা ভাবতেও পারেননি। তিনি অভিভূত। ছেলে রেলফোর্ড যে ছোটবেলা থেকেই মাদকাসক্ত, আদালতে সে কথাও বলেন তার মা কুট বার্ড।

    জিতমউদ জানিয়েছেন, আদালত কক্ষে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি রেলফোর্ডের মা-ও। জিতমউদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য তাঁর ই-মেল অ্যাড্রেস নিয়েছেন রেলফোর্ডের মা। আর ইসলাম সম্পর্কে তিনি আরও জানতে চেয়েছেন জিতমউদের কাছে। কথা দিয়েছেন, তিনি নিয়মিত মেল পাঠাবেন জিতমউদকে, ইসলামের আদর্শ জানতে, বুঝতে।

    ৭ বছরের জন্য জেলে গেল রেলফোর্ড। তাইল্যান্ডে ফিরে যাচ্ছেন জিতমউদও।
    আর জিতমউদ ও রেলফোর্ডের পরিবার পরিজনদের কাছে থেকে গেল আদালত কক্ষের বাইরে দুই পরিবারের গ্রুপ ফোটোগ্রাফ।

    ক্ষমায় এক হয়ে গেল পৃথিবীর দুই গোলার্ধের দুটি পরিবার

  • ‘২১ দিনে ১২ বার ধর্ষণ’, বিস্ফোরক অভিযোগ শ্রীলঙ্কার সেনাদের বিরুদ্ধে!

    ‘২১ দিনে ১২ বার ধর্ষণ’, বিস্ফোরক অভিযোগ শ্রীলঙ্কার সেনাদের বিরুদ্ধে!

    মুখ খুলেছেন মাত্র ২০ জন। তাতেই বেরিয়ে এসেছে ভয়ঙ্কর তথ্য।

    বিষয়ের গভীরে ঢুকতে বাধ্য হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। হস্তক্ষেপে এগিয়ে এসেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও। তবে প্রকৃত সংখ্যাটি কমপক্ষে ৫০। শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধের পর দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বন্দি হয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন যারা।

    ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত চলা দু’দশকের বেশি দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এএফপির এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এমনই কিছু শিহরণ জাগানো তথ্য। যেখানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তামিল পুরুষরা বর্বর অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন শ্রীলঙ্কান সেনা ও গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধে।

    এক সময়ে বন্দি ওই ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে এএফপি। সেখানে লঙ্কান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন অত্যাচারের বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন বহু তামিল পুরুষ।

    শরীরের বিভিন্ন অংশের ছবির মাধ্যমে তারা দেখিয়েছেন কীভাবে দিনের পর দিন অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন তারা।

    এই বন্দিদের অধিকাংশই বর্তমানে ব্রিটেনের বাসিন্দা। এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা বলেছেন, অন্ধকার ঘরে বন্দি করে রাখা হতো তাদের। একজন তামিল ব্যক্তি বলেন, ২১ দিন ছোট্ট একটা অন্ধকার ঘরে বন্দি ছিলাম। ১২ বার ধর্ষণ করা হয় আমায়। এছাড়াও চলতো গোপনাঙ্গে সিগারেটের ছ্যাঁকা, লোহার রড দিয়ে পেটানো।

    পুরুষরা ছাড়াও নারী ও নাবালক মেয়েদেরও অত্যাচার করতো সেনা ও গোয়েন্দার একাংশ। কখনও সামিল হতেন পুলিশ কর্মকর্তারাও।

    দক্ষিণ আফ্রিকান মানবাধিকার কর্মী পিয়ার্স পিগৌ জানিয়েছেন, যে ধরনের যৌন নির্যাতন করা হয়েছে, তাতে শ্রীলঙ্কান কর্মকর্তারা বিকৃতমস্তিষ্ক বলে মনে হচ্ছে আমার।

    আক্রান্তদের মানসিক ও শারীরিক সাহায্য দিচ্ছেন এই মানবাধিকার কর্মীরা। যদিও প্রাথমিক ভাবে সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও তদন্তে রাজি হয়েছে শ্রীলঙ্কা প্রশাসন। তবে একইসঙ্গে তাদের দাবি, উন্নত দেশগুলোতে আশ্রয় পেতে অনেক সময় এই ধরনের গল্প ফাঁদেন বন্দিরা। সূত্র: এই সময়।

  • সৌদি প্রিন্সসহ ২০১ জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ

    সৌদি আরবে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ১০০ বিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে বহু ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিবিসি জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা ব্যক্তিদের মধ্যে সিনিয়র প্রিন্স, মন্ত্রী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী রয়েছেন।
    গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দেশটির রাজধানী রিটজ কার্লটন হোটেলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সৌদি আরবের অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাউদ আল-মুজিব জানান, মোট ২০৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হলেও, এর মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না এনেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
    শেখ সাউদ আল-মুজিব একথাও নিশ্চিত করেছেন জিজ্ঞাসাবাদের কারণে দেশটিতে স্বাভাবিক ব্যবসা বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ শুধু ওইসব ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টই জব্দ করা হয়েছে।
    নতুন করে গঠিত দুর্নীতি বিরোধী কমিটির উদ্যোগে এ তদন্ত চলছে বলেও জানান শেখ সৌদ আল-মুজিব। যার দায়িত্বে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সী নতুন ক্রাউন প্রিন্স শেখ মোহাম্মদ বিন সালমান।
  • সৌদি প্রিন্স ফাহাদ বেঁচে আছেন

    সৌদি প্রিন্স ফাহাদ বেঁচে আছেন

    ফিলিস্তিন ও আল আকসা মসজিদের স্বাধিকারের পক্ষে সোচ্চার সৌদি প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন ফাহাদের নিহত হওয়ার খবর নাকচ করে দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। প্রিন্স আবদুল আজিজ সাবেক সৌদি বাদশাহ ফাহাদের কনিষ্ঠ পুত্র।

    সৌদি আরবের তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন।

    ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রিন্স আবদুল আজিজের নিহত হওয়ার বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত গুজবের কোনো সত্যতা নেই। তিনি বেঁচে আছেন এবং ভালো আছেন।

    হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে প্রিন্স মনসুর বিন মুকরিন নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর প্রিন্স আবদুল আজিজের নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।

    নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও মাইক্রোব্লগ টুইটারে ‘ডেথ অব প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন ফাহাদ’ নামক হ্যাশট্যাগ দিয়ে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর সাবেক স্পেশাল এজেন্ট আল এইচ সৌফান আবদুল আজিজের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।

    টুইটারে দেয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, আবদুল আজিজের মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার বয়স ছিল ৪৪ বছর। এর আগে সাবেক যুবরাজের পুত্র প্রিন্স মনসুর বিন মুকরিনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

    গত শনিবার সৌদি যুবরাজ সালমান বিন আবদুল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযানে দেশটির ১১ রাজপুত্র প্রিন্স, চারজন বর্তমান মন্ত্রী এবং প্রায় ডজন খানেক সাবেক মন্ত্রী গ্রেপ্তার হন।

    এরপর সোমবার হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আসির প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স মনসুর বিন মুকরিন তার কয়েকজন সহকর্মীসহ নিহত হন।

    প্রিন্স মনসুর নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের পর একই দিন প্রিন্স আবদুল আজিজ নিহত বলে গুজব ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

    এই প্রিন্স ফিলিস্তিন ইস্যুতে সোচ্চার হওয়ার কারণে মুসলিম বিশ্বে বেশ জনপ্রিয়। তার নিহত হওয়ার খবরে বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে সৌদি সরকার। -এএফপি

  • মিয়ানমারকে নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিন

    মিয়ানমারকে নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিন

    রাখাইন রাজ্যে আন্ত সম্প্রদায় সহিংসতা ও সামরিক বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ বন্ধ করে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। গত সোমবার রাতে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মিয়ানমার পরিস্থিতিতে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত প্রেসিডেনশিয়াল বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

    নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ইতালির স্থায়ী প্রতিনিধি সিবাসতিয়ানো কার্ডি পরিষদের পক্ষে বিবৃতিটি পড়ে শোনান। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের তার দেশের নৃগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার না করলেও বিবৃতিতে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিই ব্যবহার করা হয়েছে।

    জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানায়, নিরাপত্তা পরিষদের এ বিবৃতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিষয়ে এ পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এটি পরিষদে গৃহীত দলিল হিসেবে লিখিত থাকবে।

    চীনের আপত্তিতে নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের ব্যাপারে কোনো প্রস্তাব আনতে পারছে না—আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এমন তথ্যের মধ্যেই চীনসহ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী-অস্থায়ী সব সদস্যের সম্মতিতে ওই বিবৃতি গৃহীত হয়েছে। এতে জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে তিনি এই সংকট উত্তরণে একজন বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগ করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখেন। সংকট নিরসনে তাঁর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখতেও মহাসচিবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।   নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতি গ্রহণের ৩০ দিন পর মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বিবৃতি দিতেও জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত বর্ণনাতীত সহিংসতার নিন্দা জানানো হয়েছে এবং সেখান থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত মিয়ানমারের নাগরিকদের মানবিক সহায়তা দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ এই বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে নাখোশ হয়েছে মিয়ানমার। জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি হাও দো সুয়ান এ বিবৃতিকে ‘অযৌক্তিক চাপ’ হিসেবে অভিহিত করে গভীর উদ্বেগ জানান। সংকট নিরসনে এ বিবৃতি সহায়ক হবে না উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ২৫ আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার মধ্য দিয়ে এ ট্র্যাজেডির শুরু এবং বিদ্রোহীদের সঙ্গে বিদেশি জঙ্গিও লড়াই করছে। মিয়ানমারের প্রতিনিধি বলেন, ওই ট্র্যাজেডি মোকাবেলায় মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং দুটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। তবে বিবৃতির কিছু অংশ মিয়ানমার প্রত্যাখ্যান করলেও সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজতে অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে। হাও দো সুয়ান বলেন, মিয়ানমার সরকার রাখাইনে শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করা অব্যাহত রাখবে।

    মিয়ানমার সংকট সমাধানে সর্বসম্মতিক্রমে ‘প্রেসিডেনশিয়াল বিবৃতি’ গ্রহণ করায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন নিরাপত্তা পরিষদকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘সংকট সমাধানের জন্য আমরা সব সময়ই প্রস্তুত রয়েছি এবং আমাদের যা করণীয় তা করে যাচ্ছি। কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে চাই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদ যতক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয়ে যথাযথ দায়িত্ব গ্রহণ না করবে ততক্ষণ দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ’

    রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতেও মিয়ানমার বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণে সব সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, এ প্রস্তাব মিয়ানমার সংকট সমাধানে সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের দ্বিবিধ ভূমিকার ক্ষেত্রে পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে, যা জাতিসংঘ মহাসচিবের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টাকে আরো শক্তিশালী করবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সংকটের শিকড় মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারে নিহিত। ’

    মাসুদ বিন মোমেন বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন। প্রথমত, উত্তর রাখাইন প্রদেশে বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা দেওয়া, যাতে যে রোহিঙ্গা জনগণ সেখানে রয়েছে তাদের আর পালাতে না হয়। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপকে প্রত্যাবাসন বিষয়ে অবশ্যই দৃশ্যমান, ফলপ্রসূ ও টেকসই কার্যক্রম শুরু করতে হবে এবং রাখাইনে মানবিক সহায়তা, পুনর্বাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক ইউনিয়ন এন্টারপ্রাইজকে এ বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে। তৃতীয়ত, কফি আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।

    নিরাপত্তা পরিষদের এক হাজার ৩৬২ শব্দের বিবৃতির শুরুতেই মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গত ২৫ আগস্ট আরসার হামলার তীব্র নিন্দা এবং আরসার দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানানো হয়। পরের অনুচ্ছেদেই রাখাইন রাজ্যে ২৫ আগস্ট থেকে ব্যাপক সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, সহিংসতায় ছয় লাখ সাত হাজার ব্যক্তির গণবাস্তুচ্যুতি ঘটেছে এবং তাদের বড় অংশই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের।

    নিরাপত্তা পরিষদ রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারাসহ সব মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের খবরে বিশেষ করে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্যরা ধারাবাহিকভাবে বল প্রয়োগ ও দমন-পীড়ন, হত্যা, যৌন সহিংসতা এবং বাড়িঘর ও সম্পত্তি ধ্বংসের শিকার হয়েছে বলে পরিষদ উল্লেখ করেছে।

    পরিষদ রাখাইনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে এবং পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত কাঠামো বাস্তবায়নে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। মিয়ানমারের জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারের—এ কথা গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করে পরিষদ মিয়ানমারে গণতন্ত্রায়ণে নিরাপত্তা ও সামাজিক খাত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিতে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ।

    রাখাইনে মানবিক সহায়তা, পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য মিয়ানমারের ‘ইউনিয়ন এন্টারপ্রাইজ কাঠামো’ গড়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। একই সঙ্গে ওই কাঠামো যাতে রোহিঙ্গাদের ফিরে যেতে সহায়ক হয় এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর পূর্ণ প্রবেশাধিকার থাকে, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পরিষদ সংশ্লিষ্ট সরকার ও সব মানবিক অংশীদারকে নারীদের বিশেষ করে যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের প্রয়োজনের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

    জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে রাখাইন রাজ্য বিষয়ক পরামর্শক কমিশনের সুপারিশগুলোর প্রতি মিয়ানমার সরকারের প্রকাশ্য সমর্থনকে নিরাপত্তা পরিষদ স্বাগত জানিয়েছে। এ ছাড়া পরিষদ ধর্ম বা গোষ্ঠী-নির্বিশেষে সবার নাগরিকত্ব, সেবা পাওয়ার সমান সুযোগ, চলাফেরার সুবিধাসহ কোনো ধরনের বৈষম্য না করে সবার মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাখাইনে সংকটের মূল কারণগুলো মিয়ানমার সরকারকে সমাধান করতে বলেছে।

    মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার ওপরও জোর দিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদ মিয়ানমারকে জাতিসংঘের সব সংস্থার, বিশেষ করে মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কাজে সহযোগিতা করতে এবং দেশটিতে এ হাইকমিশনারের অফিস খোলার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে আহ্বান জানিয়েছে।

    নিরাপত্তা পরিষদ বিবৃতিতে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকে দ্রুত রাখাইন রাজ্যসহ সারা দেশে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দিতে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

    প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদের একটি উন্মুক্ত সেশনে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দেন। ওই সেশনে মিয়ানমার প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। এরপর ১৩ অক্টোবর মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ‘আরিয়া ফর্মুলা’ মিটিংয়ে বসে নিরাপত্তা পরিষদ। ১৬ অক্টোবর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ইকোসক চেম্বারে ‘রোহিঙ্গা সংকট ও বাংলাদেশের মানবিক সহযোগিতা বিষয়ে’ জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয়কারী এবং জাতিসংঘের আন্ডারসেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য ব্রিফিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের আয়োজনে এবং গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জাতিগত নির্মূল ও মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগঠন ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট’-এর সহযোগিতায় ‘রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা : শুধু নিন্দা জ্ঞাপনই নয়, প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ’ শীর্ষক একটি সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

    মহাসচিবের বিশেষ দূত বাংলাদেশে : কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত প্রমিলা পাট্টিনের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গত রবিবার থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করে রোহিঙ্গাদের খোঁজখবর নিচ্ছে। এদিকে শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি ভার্জিনিয়া গাম্বা চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গা শিশুদের পরিস্থিতির খোঁজ নেবেন বলে জানা গেছে