Category: ইসলাম

  • তাওয়াফ পর্ব শেষে মিনায় হাজিরা

    তাওয়াফ পর্ব শেষে মিনায় হাজিরা

    সৌদি আরবের মক্কায় চলছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠিকতা। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সাফা-মারওয়া পাহাড়ে হাঁটা ও তাওয়াফ পর্ব। এখন মিনার উদ্দেশে রওয়ানা দেয়া পালা হাজযাত্রীদের।

    রোববার (১৮ জুলাই) মিনায় যাবেন হাজিরা। করোনা মহামারির কারণে হাজিদের নিতে ব্যবস্থা করা হয়েছে ৩ হাজার বাসের। প্রতিটি বাসে বহন করা হবে ২০ জন হাজিকে।

    মিনায় রোববার রাত কাটিয়ে সোমবারের লক্ষ্য আরাফাতের ময়দান। সোমবার ফজরের নামাজের পর হাজিরা রওয়ানা হবেন ১৪ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে। সেখানে অবস্থান করবেন সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

    আরাফার দিনটিকেই মূলত হজ বলা হয়। এদিন মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেবেন, কাবার ইমাম ও খতিব শায়খ ড. বানদার বালিলাহ। বাংলাসহ ৯টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হবে এটি। এরপর রয়েছে কোরবানি পর্ব। পরদিন মঙ্গলবার অর্থাৎ ২০ জুলাই পশু কোরবানি দেবেন হাজিরা।

    এবার হজের সুযোগ পেয়েছেন সৌদিতে থাকা দেড়শো দেশের ৬০ হাজার জন। অনলাইনে সাড়ে ৫ লাখের বেশি আবেদন থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন তারা। সবাইকে দেয়া হয়েছে দুই ডোজ করে ভ্যাকসিন।

    হজ ও ওমরা বিষয়ক উপমন্ত্রী আবদেলফাত্তাহ বিন সুলাইমান মাসাত জানান, এরই মধ্যে ৪৬ হাজার হাজি মিনায় পৌঁছেছে। এ বছর মোট হজযাত্রীদের মধ্যে ৪০ শতাং নারী রয়েছে।

    এদিকে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়া আগেই পবিত্র মক্কা নগরীদের আসতে থাকেন হজযাত্রীরা। ফলে তাদের পদচারণায় আগে থেকেই মুখর হয়ে উঠছে চারদিক।

    করোনা মহামারির মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সীমিত পরিসরেই হজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরও হজ পালনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা ছিল। এবারও লোকজনকে মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই হজ পালন করছে।

    চলতি বছর সৌদি আরব নিজের দেশের মাত্র ৬০ হাজার নাগরিককে হজ পালনের অনুমতি দিয়েছে। গতবারও বিধি-নিষেধের মধ্যেই হজ পালনের সুযোগ দেয়া হয়েছিল।

    ফলে যে পাঁচদিন হজের আনুষ্ঠানিকতা ছিল তার মধ্যে কারও দেহে করোনা সংক্রমণ ঘটেনি। গত বছরের এই সফলতার কারণে এবারও সীমাবদ্ধতার মধ্যেই হজ পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    এবারও বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের হজ পালনের অনুমতি দেয়নি সৌদি আরব। তবে এ বছর লটারির মাধ্যমেই সৌদি আরব তাদের নাগরিকদের মধ্য থেকে হজযাত্রী নির্বাচন করেছে।

    ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হচ্ছে হজ। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিমকে অবশ্যই অন্তত একবার হজ পালন করতে হবে।

    বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় এই অনুষ্ঠানে প্রতি বছরই লাখ লাখ মুসল্লি জড়ো হন। এর আগে ২০১৯ সালে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ হজে অংশ নিয়েছিলেন। তবে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মহামারির কারণে গত বছর থেকেই এই চিত্র অনেকটা বদলে গেছে।

    রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এবারের হজ চলবে আগামী পাঁচদিন পর্যন্ত।

  • যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ করা যায়

    যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ করা যায়

    মানুষের কষ্ট ও ক্ষতি দূর করা এবং জীবনযাপন সহজ করা ইসলামী শরিয়তের অন্যতম উদ্দেশ্য। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের প্রতি সহজতা চান।

    ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ দ্বিনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো কষ্ট চাপিয়ে দেননি। ’ (সুরা হজ, আয়াত : ৭৮)।
    যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ করা যায় :
    রমজান মাসে রোজা রাখা একটি ফরজ বিধান। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ ও সবল মুমিনের জন্য রোজা রাখা আবশ্যক। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে রোজা ছেড়ে দেওয়া বা ভঙ্গ করারও অবকাশ আছে।

    ১. অসুস্থ হলে : অসুস্থতা মানুষের শরীর ও মনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং কর্মক্ষমতা নষ্ট করে। অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোজা না রাখার অবকাশ আছে। ইরশাদ হয়েছে, “তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে অন্য সময় ‘এই সংখ্যা’ পূরণ করতে হবে। ” (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৪)।

    শর্ত হলো অসুস্থতা এমন পর্যায়ের হওয়া, যাতে ব্যক্তির বড় ধরনের ক্ষতি, কষ্টের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, সুস্থতা বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একইভাবে কোনো দ্বিনদার, আল্লাহভীরু ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক রোজা না রাখার পরামর্শ দিলে রোজা ছেড়ে দেওয়া যাবে। তবে পরে তা কাজা করতে হবে।

    ২. বার্ধক্য : ইসলামী শরিয়ত অতিশয় বৃদ্ধ নারী ও পুরুষের যদি রোজা রাখার শারীরিক সামর্থ্য না থাকে তবে তাদের না রাখা অবকাশ দিয়েছে। যদি এমন হয় যে বৃদ্ধ নারী ও পুরুষ বছরের কোনো সময় (দিন ছোট বা বড় হোক, শীত বা গ্রীষ্ম হোক) রোজা কাজা করতে পারবে না, তাহলে তারা কাফফারা আদায় করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘রোজার কারণে যাদের খুব বেশি কষ্ট য় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদিয়াস্বরূপ একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৪)।

    আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আয়াতটি এখনো রহিত হয়নি। এমন বৃদ্ধ পুরুষ ও নারী যাদের রোজা রাখার সামর্থ্য নেই, তারা প্রতি দিনের পরিবর্তে একজন অভাবগ্রস্তকে খাবার খাওয়াবে। ’ (তাফসিরে ইবনে কাসির)।

    ৩. গর্ভধারণ : গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী যদি নিজের ও সন্তানের ব্যাপারে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা করেন, তবে তার জন্য রোজা না রাখার অবকাশ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুসাফিরের জন্য রোজা ও অর্ধেক নামাজ ছাড় দিয়েছেন এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীর জন্য রোজার ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছেন। ’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২৩১৫)।
    তবে পরবর্তী সময়ে রোজা কাজা করতে হবে। আর ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলে তার জন্য রোজা ছেড়ে দেওয়া জায়েজ হবে না।

    ৪. সফর : সফররত ব্যক্তির জন্য রমজানের রোজা না রাখার অবকাশ আছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে অন্য সময় ‘এই সংখ্যা’ পূরণ করতে হবে। ” (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৪)।
    শর্ত হলো, যতটুকু পরিমাণ সফর করলে নামাজ কসর করা বৈধ, ততটুকু সফর করা। তবে নামাজ কসর করার মতো রোজা ছেড়ে দেওয়া আবশ্যক নয়; বরং ব্যক্তি চাইলে রোজা রাখতে পারবে আবার তা ভাঙতেও পারবে। রোজা ভাঙলে পরবর্তী সময়ে তা কাজা করে নিতে হবে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘আমরা রমজানে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে রমজানে সফর করেছি। তখন রোজাদার ব্যক্তি রোজা ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিকে এবং রোজা ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তি রোজাদার ব্যক্তিকে দোষারোপ করেনি। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৪৭)।

    ৫. অনিবার্য কারণে : বিশেষ প্রয়োজন পূরণ ও আপতিত বিপদের হাত থেকে বাঁচতে কখনো কখনো রোজা না রাখার অবকাশ আছে। যেমন ডুবে যাওয়া বা আগুনে পোড়া ব্যক্তির চিকিৎসা রোজা ভঙ্গ না করলে করা সম্ভব হয় না। তবে এমন ব্যক্তিও পরবর্তী সময়ে রোজা কাজা করবে। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে রোজা রেখে মক্কার উদ্দেশে সফর করেছিলাম। আমরা একজন এক জায়গায় যাত্রা বিরতি দিলাম, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের শত্রুর নিকটবর্তী হয়েছ। রোজা ভঙ্গ করাই তোমাদের শক্তি বৃদ্ধি করবে। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১২০)।

  • রোজা শুরুর বিষয়ে ঘোষণা আজ

    রোজা শুরুর বিষয়ে ঘোষণা আজ

    হিজরি ১৪৪২ সনের পবিত্র রমজান মাসের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে মঙ্গলবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় (বাদ মাগরিব) অনুষ্ঠেয় এই বৈঠক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ফরিদুল হক খান সভাপতিত্ব করবেন বলে সোমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

    এই বৈঠক থেকেই সিদ্ধান্ত হবে কবে থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। বাংলাদেশের আকাশে কোথাও রমজান মাসের চাঁদ দেখে গেলে ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭ ফোন নম্বরে এবং ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • একটু মনোযোগী হলেই গুরুত্বপূর্ণ আমল করা সম্ভব

    একটু মনোযোগী হলেই গুরুত্বপূর্ণ আমল করা সম্ভব

    এমন কিছু আমল রয়েছে, যা আদায় করা খুব সহজ। কিন্তু আমাদের উদাসীনতার কারণে, খেয়াল না করার কারণে ওইসব আমলের ফজিলত থেকে আমরা বঞ্চিত হই। আজ এমন কিছু আমলের কথা উল্লেখ করা হলো-

    আজানের উত্তর দেওয়া
    আজানের উত্তর দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। হাদিস শরিফে এর অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের গল্প-গুজব ও হাসাহাসিসহ নানা অপ্রয়োজনীয় কাজের ভিড়ে কখন যে আজান হয়ে যায়, সেদিকে খেয়াল থাকে না। অথচ হাদিসে আজানের উত্তর দেওয়ার অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছেন, যখন মুয়াজ্জিনের আওয়াজ শোনো তখন মুয়াজ্জিন যেরূপ বলে তোমরাও সেরূপ বলো, অতপর আমার প্রতি দরূদ পড়ো। যে আমার প্রতি একবার দরূদ পড়ে আল্লাহতায়ালা তার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন। এরপর আমার জন্য আল্লাহর নিকট ‘উসিলা’র দোয়া করো। ‘উসিলা’ জান্নাতের একটি বিশেষ মর্যাদা, যা আল্লাহর বান্দাদের মাঝে শুধু একজনকেই দেওয়া হবে। আমি আশা করি, সেই বান্দা আমিই হবো। যে ব্যক্তি আমার জন্য ‘উসিলা’র দোয়া করবে, সে আমার শাফায়াতের হকদার হবে। -সহিহ মুসলিম

    অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি আরজ করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মুয়াজ্জিনগণ তো আজর ও সওয়াবের হিসেবে আমাদের চেয়ে অগ্রগামী হয়েছেন (এমন কোনো আমল আছে কি, যার দ্বারা আমরাও মুয়াজ্জিনের মতো ফজিলত হাসিল করতে পারি?) হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, তোমরাও ওই বাক্যগুলো বলো, যেগুলো মুয়াজ্জিন বলে, এরপর আজানের জওয়াব শেষ করে দোয়া করো। তোমার দোয়া কবুল করা হবে।’ –সুনানে আবু দাউদ

    মিসওয়াক করা
    আরেকটি আমল হলো- মিসওয়াক করা। আমাদের আশেপাশে কিছু পরিবার আছে যারা এই সুন্নতের ওপর আমল করেন। মিসওয়াক সম্পর্কে অনেক হাদিস আছে এবং এতে দুনিয়াও আখেরাতের অনেক ফায়দা আছে।

    হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে এই আশঙ্কা না হলে আমি তাদেরকে প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক করার আদেশ দিতাম (অর্থাৎ মিসওয়াক করা অপরিহার্য করে দিতাম)। -সহিহ মুসলিম

    হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, হজরত জিবরাইল (আ.) যখনই আমার নিকট আসতেন, আমাকে মিসওয়াকের তাকিদ করতেন। এমনকি আমার আশঙ্কা হতে লাগল যে, অত্যধিক মিসওয়াকের কারণে আমি নিজের মাড়ি না ছিলে ফেলি। -মুসনাদে আহমাদ

    মিসওয়াক করার ফজিলত সম্পর্কিত আরও বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। চিন্তাশীলদের জন্য একটি হাদিসই যথেষ্ট।

    কোরআনে কারিমের তেলাওয়াত
    আমাদের অনেকেই নিয়মিত কোরআনে কারিম তেলাওয়াত করেন না। এক্ষেত্রে সাংসারিক ঝামেলার কথা বলা হয়। কিন্তু এই ব্যস্ততার মাঝেও যদি নিয়মিত তিলাওয়াত করে যেতে পারি, তাহলে আমাদের সওয়াব হবে আরও বেশি।

    হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে মুমিন কোরআন শরিফ পাঠ করে, তার উদাহরণ যেন কমলা লেবু, যা খুশবুদার এবং সুস্বাদু। আর যে মুমিন কোরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ যেন খেজুর, যার খুশবু নেই তবে স্বাদ মিষ্টি। আর যে মুনাফিক কোরআন পাঠ করে তার উদাহরণ যেন সুগন্ধি ফুল যাতে সুঘ্রাণ আছে তবে স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কোরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ যেন মাকাল ফল, যাতে ঘ্রাণও নেই স্বাদও তিক্ত। -সহিহ মুসলিম

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পাঠ করে সে একটি নেকি পাবে, আর একটি নেকির বিনিময়ে দশটি নেকি দান করা হবে। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মিম এক হরফ, বরং আলিফ এক হরফ, লাম এক হরফ এবং মিম এক হরফ। -সুনানে তিরমিজি

    কোরআনে কারিমের তেলাওয়াতের বিষয়ে আরও অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ওই সব হাদিসে বলা হয়েছে, কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত এবং আজর অন্য সব আমল থেকে বেশি।

    নামাজ আদায়ে অলসতা
    আরেকটি ভুল আমরা করি, যা সত্যিই পরিতাপের সঙ্গে বলতে হয়, তা হচ্ছে নামাজ আদায়ে গাফিলতি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি ঠিক, কিন্তু আউয়াল ওয়াক্তের দিকে খেয়াল করি না। অনেক পরিবারে দেখা যায়, দুপুরের রান্নাবান্না শুরু হয় জোহরের আজানের সময়। রান্না শেষ হতে প্রায় তিনটা বেজে যায়। অনেক সময় তো আসরের ওয়াক্তের কাছাকাছি হয়ে যায়। কাজের সময় পরিবর্তনের মাধ্যমে এই উদাসীনতা দূর করা সম্ভব।

    আরেকটি কথা, নামাজের সময় খুশু-খুজুর (একাগ্রতা) প্রতিও খেয়াল রাখা চাই। হজরত আবু কাতাদা (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিকৃষ্ট চোর ওই ব্যক্তি, যে নামাজের মধ্য হতে চুরি করে। সাহাবারা (রা.) আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! নামাজে কীভাবে চুরি করে? ইরশাদ করলেন, রুকু-সেজদা উত্তমরূপে আদায় করে না।

    এভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে, প্রতিদিন আমাদের কত আমলের সুযোগ আছে, কিন্তু অবহেলা করে ছেড়ে দিচ্ছি। যেগুলো আদায় করছি, চিন্তা করা উচিত, কতটুকু যত্নের সঙ্গে আদায় করছি।

    কথাবার্তায় সতর্ক থাকা
    এবার অন্য একটি দিক সম্পর্কে বলি। তা হচ্ছে, কথার মাধ্যমে অন্যকে কষ্ট দেওয়া। তাই জবানের বিষয়ে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত। কোনো খবরের সত্য-মিথ্যা যাচাই-বাছাই না করে তিলকে তাল বানিয়ে প্রচার করা, একসঙ্গে বসে গীবত শেকায়েত ও অনর্থক কথাবার্তায় মশগুল থাকা পাপের কাজ। এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে।

    কোরআনে কারিমে মুমিনদের গুণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত’ অর্থাৎ এমন কথা, যার সঙ্গে ধর্মীয় কোনো উপকার নেই; বরং ক্ষতি। আর হাদিসের ভাষায় মানুষ যখন অনর্থক বিষয়াদি ছেড়ে দেয়, তখন তার ইসলাম সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়।

  • মহানবীর (সা.) যে বাণী স্বীকার করল বিজ্ঞান

    মহানবীর (সা.) যে বাণী স্বীকার করল বিজ্ঞান

    দুনিয়ায় যারা আল্লাহর হুকুম এবং তার রাসূল হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর দেখানো পথে অনুসরণ করবেন তারা জান্নাতে যাবেন। সেখানে তারা পরম শান্তিতে বসবাস করবেন। যার শুরু আছে, শেষ নেই। জান্নাতিদের জন্য সেখানে সবচেয়ে আকর্ষণীয় নেয়ামত আল্লাহর দিদার দর্শন। জান্নাতের নেয়ামত, সুখ শান্তি, ঐশ্বর্য সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে বহু বর্ণনা রয়েছে। জান্নাতে প্রবেশের জন্য আটট দরজা রয়েছে। মর্যাদা অনুযায়ী এসব দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবেন যারা সফল হয়েছেন।

    জান্নাতের আটটি দরজার প্রত্যেকটিতে দুটি করে পাল্লা রয়েছে। নবী কারিম (সা.) দুই পাল্লার মধ্যবর্তী জায়গা কতটা প্রশস্ত সে সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।

    হাদিসের বিশুদ্ধ গ্রন্থ মুসলিম শরিফের এক হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন, জান্নাতের দরজার দুই পাল্লার মাঝখানের প্রশস্ততা মক্কা শরিফ থেকে বাহরাইনের হাজার অথবা মক্কা শরিফ থেকে সিরিয়ার বুশরার দূরত্বের সমান।

    আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে মহানবী (সা.) এ বাণী দিয়েছেন। নবী যদি বলতেন, জান্নাতের দরজার ‍দুই পাল্লার মধ্যবর্তী দূরত্ব মক্কা শরিফ থেকে হাজার পর্যন্ত। তাহলে এ নিয়ে এ মুহূর্তে হয়তো আলোচনা হতো না। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলেছেন অথবা জান্নাতের দুই দরজার মধ্যবর্তী দূরত্ব মক্কা শরিফ থেকে বুশরার দূরত্বের সমান।

    মহানবীর এ কথায় স্পষ্ট যে, মক্কা থেকে হাজার বা মক্কা থেকে বুশরার দূরত্ব সমান। সম্প্রতি স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে পাওয়া ছবিতেও দেখা গেছে মক্কা থেকে বুশরা এবং মক্কা থেকে হাজার একই দূরত্বে অবস্থিত।

    রোববার ইসলাম প্র্যাকটিস নামে একটি ফেসবুক পেজ তাদের এক পোস্টে বিষয়টি ‍তুলে ধরেছে। সেখানে স্যাটেলাইটে পাওয়া ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, মক্কা থেকে সিরিয়ার বুশরার দূরত্ব এক হাজার ২০০ কিলোমিটার। অন্যদিকে মক্কা শরিফ থেকে বাহরাইনের হাজারের দূরত্বও এক হাজার ২০০ কিলোমিটার।

    ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন শেষ নবী ও রাসূল হজরত মুহাম্মদ (স.)। ৪০ বছর বয়সে তিনি আল্লাহর তরফ থেকে নবুওয়াত লাভ করেন। ৬১০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইসলাম প্রচার শুরু করেন। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মদিনায় হিজরত করেন। দীর্ঘ ২৩ বছর একটু একটু করে প্রয়োজন অনুযায়ী মহানবীর (সা.) ওপর কোরআন নাজিল হয়। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

  • ফজর নামাজের সুন্নত গুরুত্বপূর্ণ কেন

    ফজর নামাজের সুন্নত গুরুত্বপূর্ণ কেন

    মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। প্রতিটি নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা আবশ্যক। নামাজের সময়ের মতো রাকাত সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। তবে সব নামাজের মধ্যে ফজরের নামাজের রাকাত সংখ্যা সবচেয়ে কম; কিন্তু সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

    ফজরে কেবল দুই রাকাত নামাজ ফরজ। কিন্তু এই দুই রাকাত নামাজের মর্যাদা ও গুরুত্ব অন্য সব নামাজের তুলনায় বেশি। কারণ, ফজরের সময়টাতে সব মানুষ ঘুমে বিভোর থাকে। যিনি ফজর নামাজ আদায় করেন, তিনি প্রশান্তির ঘুম ও নরোম বিছানা ত্যাগ করে বড় পরাকাষ্ঠা স্থাপন করেন। মহান আল্লাহর অনুকম্পা, ক্ষমা-মার্জনা ও জান্নাত লাভের আশায় সাত-সকালে উঠে পড়েন। এই কারণে ফজরের নামাজ আদায়কে ঈমান ও নিফাকের পার্থক্য-রেখা নির্ণয় করা হয়েছে।

    আর ফজরের সুন্নত সর্বাধিক গুরুত্ববহ সুন্নত। রাসুল (সা.) ঘরে-সফরে সবসময় এটি পড়তেন। ফজরের ফরজের আগে দুই রাকাত নামাজ হলো- ফজরের আজানের পর সংক্ষিপ্ত দুই রাকাত নামাজ। এই দুই রাকাত ফজরের ফরজ আদায়ের আগে পড়তে হয়। (মাউসুআতুল ফিকহিল ইসলামি, খণ্ড : ০২, পৃষ্ঠা : ৫৯৭)

    উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, মুআজ্জিন ফজরের আজান শেষ করলে ও ফজর উদিত হলে, রাসুল (সা.) ফজরের নামাজের আগে দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত সুন্নত পড়তেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০১)

    অন্য কোনো সুন্নতের চেয়ে ফজরের সুন্নত বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতময়। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুল (সা.) ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের মতো অন্য কোনো নফলের প্রতি অতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন না।’ (বুখারি, হাদিস : ১১৬৩)

    ফজরের সুন্নতের আরো গুরুত্ব সম্পর্কে আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের যদি ঘোড়া রেখে চলেও যায়, তবু ফজরের দুই রাকাত সুন্নত ত্যাগ করো না।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১২৫৮)

    রাসুল (সা.) সফরে-ঘরে কোথাও ফজরের সুন্নত ত্যাগ করতেন না কিংবা না পড়ে থাকতেন না। ফজরের সুন্নতের সওয়াব ও প্রতিদানও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।

    উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘ফজরের দুই রাকাত সুন্নত দুনিয়া ও দুনিয়ার মাঝে যা কিছু রয়েছে, তা থেকে উত্তম।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭২৫)

  • কোরআনের বিস্ময়কর ভাষাশৈলী

    কোরআনের বিস্ময়কর ভাষাশৈলী

    কোরআন মহানবী (সা.)-কে দানকৃত অন্যতম প্রধান ও শ্রেষ্ঠতর মুজিজা (অলৌকিক বিষয়)। অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত অনুসন্ধানী মানুষের জন্য এক মহাবিস্ময়। বিশেষত কোরআনের ভাষাশৈলী ও সৌন্দর্য আরবি ভাষা-সাহিত্যের এক অন্তহীন ভাণ্ডার। প্রাচীন কাল থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত অসংখ্য আরবি ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক কোরআনের শিল্প-শৈলী নিয়ে কাজ করেছেন, আজীবন এ কাজেই নিমগ্ন থেকেছেন। অথচ ভাষা-সাহিত্যের শিল্প রহস্য ও প্রাসাদগুণ অনুসন্ধানে লেগে থাকা, রুচিবোধ অর্জন করা চাট্টিখানি কথা নয়। কোরআন তিলাওয়াত করা পুণ্যের কাজ, তার অর্থ বোঝার চেষ্টা করাও আবশ্যক—যাতে আরো বেশি পুণ্য মেলে। অন্যদিকে কোরআনের ভাষাশৈলী ও অলংকারশাস্ত্র সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় দীর্ঘ সাধনার। কেননা অলংকারশাস্ত্রে অবগাহনের জন্য আরবি ভাষা ও সাহিত্যে পূর্ণ যোগ্যতা অর্জনের প্রয়োজন হয়, দরকার হয় উচ্চতর সাহিত্য-রুচি এবং ইলমুল মাআনি ও ইলমুল বদি (আরবি অলংকারশাস্ত্রের দুটি শাখা)-তে বিশেষ পারদর্শিতা। আরো প্রয়োজন হয় প্রাচীন ও আধুনিক আরব কবিতা-গদ্য সাহিত্যের গভীর অধ্যয়ন। সর্বোপরি আল্লাহর অনুগ্রহ ও কৃপার মুখাপেক্ষী হন মুমিন সাধক-সাহিত্যিক।

    কোরআনের এ অসামান্য শিল্প শক্তির কারণেই মহান আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত আগত সব যুগের সব সাহিত্যিক ও ভাষাবিদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে রেখেছেন—তোমরা পারলে কোরআনের আয়াতের মতো একটি আয়াত সৃষ্টি করে দেখাও। যে আরব জাতি নিজেদের ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গর্ব করত, তারা কোরআনে এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে। কোরআনের বিস্ময়কর ভাষাশৈলী তাদের হতবাক ও হতবিহ্বল করে দেয় এবং আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। মক্কার মুশরিকরা কোরআনের অপরাজেয় সাহিত্য সৌকর্য ও তার অপ্রতিরোধ্য প্রভাব উপলব্ধি করতে পেরেছিল। এ জন্য তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিল যেন মানুষ কোরআন না শোনে, হজে আসা আরবদের তারা কোরআনবিমুখ করতে, মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ থেকে বিরত রাখতে নানা তৎপরতা চালায়। তারা কোরআনের ব্যাপারে প্রচার করে এটি এমন জাদু, যা গোত্রের ভেতর বিরোধ তৈরি করে। তাদের সব তৎপরতার পরও যে কোরআন শুনেছে সে ঈমান তার ওপর ঈমান এনেছে; বরং ঈমান আনতে বাধ্য হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে তার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে।

    সিরাতে ইবনে হিশামের বর্ণনা মতে, জুবায়ের ইবনে মুতয়িম (রা.) কোনো কাজে মহানবী (সা.)-এর কাছে আসেন। তখন মহানবী (সা.) সুরা তিলাওয়াত করছিলেন। যখন তিনি পাঠ করলেন—‘নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালকের শাস্তি অবধারিত এবং তা প্রতিহত করার মতো কেউ নেই’ তখন তার ভেতর কম্পন সৃষ্টি হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেন। ‘আকাবা’র প্রথম শপথের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরআন তিলাওয়াত করেন এবং উপস্থিত সবাই ইসলাম গ্রহণ করেন। তারা মদিনায় ফিরে গিয়ে কোরআনের অপরাজেয় প্রভাবের কথা প্রচার করে এবং ঘরে ঘরে ইসলামের বাণী ছড়িয়ে দেয়। বলা যায়, কোরআনের বদৌলতে মদিনায় ইসলামের উত্থান ঘটে।

    ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-ও কোরআন তিলাওয়াত শুনে ইসলাম গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হন। ইসলাম গ্রহণের আগে মদিনার উসাইদ বিন হুদাইর (রা.) মুসআব ইবনে উমাইয়ের (রা.)-কে হত্যার প্রতিজ্ঞা করেন এবং কোরআন তিলাওয়াত শুনে ইসলাম গ্রহণ করেন। নিঃসন্দেহে তাদের হৃদয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পেছনে কোরআনের অন্তর্নিহিত শক্তির পাশাপাশি তার ভাষাগত উৎকর্ষও ভূমিকা রেখেছে। আরবি ভাষা ও সাহিত্যে তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাই বলে দিয়েছিল কোরআন কোনো মানুষের বাণী হতে পারে না। তা ভিন্ন কোনো উৎস থেকে এসেছে।

    একাধিক কুরাইশ সর্দার গোপনে কোরআন শুনত এবং তারা কোরআন দ্বারা প্রভাবিতও ছিল। একবার কুরাইশরা উতবা ইবনে রাবিআকে সমঝোতার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পাঠাল। মহানবী (সা.) তার কথা শোনার পর সুরা ফুসসিলাত তিলাওয়াত করলেন। এরপর উতবা যখন ফেরে লক্ষ করা গেল তার চেহারা বদলে গেছে। নাজ্জাসির দরবারে জাফর (রা.) সুরা মারিয়াম তিলাওয়াত করলে তিনি অশ্রুসিক্ত হন এবং বলেন, আল্লাহর শপথ! এ বাণী ও ইঞ্জিল একই প্রদীপের দুটি সলতে। ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা কুরাইশের একজন প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য নেতা ছিলেন। একবার মহানবী (সা.)-এর কাছে এলেন এবং কিছু আয়াত তিলাওয়াতের অনুরোধ করলেন। মহানবী (সা.) কিছু আয়াত তিলাওয়াত করে শোনালে, তিনি আরো কিছু আয়াত শোনার অনুরোধ করলেন। যা শুনে তিনি খুব প্রভাবিত হলেন এবং বললেন, এসব বাক্যে ভিন্ন মাধুর্য ও প্রাণ রয়েছে। এটাই কোরআন! যা মানুষের হৃদয়কে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। পাথর হৃদয়কে মোমে পরিণত করে। অথচ কোরআন না কোনো জাদুমন্ত্র, না কোনো কবিতা।

    যদি শুধু সুরা ফাতিহার অর্থের ব্যাপকতা, সুন্দর উপস্থাপন, প্রার্থনার ভঙ্গি ও ভাষা, মহান স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন নিয়ে কেউ চিন্তা করে তবে সে ভাষা ও সাহিত্যের অনন্য উচ্চতায় বিমোহিত হবে। ইংরেজি ভাষার একজন বিখ্যাত সাহিত্য সমালোচক বলেছেন, সাহিত্যের ভাষায় প্রতিটি শব্দের ব্যবহার যথার্থ হতে হয়। ঠিক একটি জীবন্ত প্রাণীর শরীরের মতো। যদি একটি শব্দও এদিক-সেদিক হয় তবে পুরো বাক্যটিই রক্তাক্ত হয়। কোরআনের সাহিত্যমান এর চেয়েও বহু ঊর্ধ্বে। তার কোনো শব্দের বিকল্প হিসেবে অন্য শব্দ ব্যবহার করা যায় না। আংটির পাথরের মতো প্রতিটি শব্দই নিখুঁতভাবে বাক্যে প্রোথিত হয়েছে। যেভাবে চাঁদ-তারা আকাশের সৌন্দর্য এবং রঙিন ফুলের বাহার ভূপৃষ্ঠের সৌন্দর্য, তেমনি কোরআনের প্রতিটি শব্দ ও আয়াত শাব্দিক সৌন্দর্যে মণ্ডিত। চাঁদ-তারা ও ফুলের সৌন্দর্য যেমন অন্ধ ব্যক্তি উপলব্ধি করতে পারে না, তেমনিভাবে আরবি ভাষার অলংকারশাস্ত্রে অপারদর্শী ব্যক্তির পক্ষে কোরআনের সাহিত্য সুষমা উপলব্ধি করা সম্ভব না।

    যেহেতু আরবি ভাষায় গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন ছাড়া তার ভাষাগত সৌন্দর্য উপলব্ধি করা যায় না, তাই বেশির ভাগ কোরআন অনুবাদক ও ব্যাখ্যাকার কোরআনের ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনা এড়িয়ে গেছেন। অথচ বেশির ভাগ আরবি ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক কোরআনকে মৌলিক সাহিত্যের মর্যাদা দিয়েছেন। কোরআন গবেষক আলেমদের বড় অংশই বলেছেন, কোরআন তার উচ্চমার্গীয় ভাষা ও শৈলীর কারণে মুজিজা (অলৌকিক বিষয়) হিসেবে গণ্য। অন্যদিকে শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভি (রহ.) আল ফাউজুল কাবির গ্রন্থে বিধানাবলি, শিক্ষা ও পথনির্দেশের কারণে কোরআনকে মুজিজা আখ্যা দিয়েছেন। তবে এটাই সঠিক অভিমত যে কোরআন সার্বিক বিবেচনাতেই অলৌকিক।

  • রাসূল (সা:) এর পছন্দের ৫টি খাবার

    রাসূল (সা:) এর পছন্দের ৫টি খাবার

    সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) যেসব খাবার গ্রহন করতেন, তা ছিল স্বাস্থ্যের দিক থেকে অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। দেড় হাজার বছর পর আজকের বিজ্ঞান গবেষণায় নবীজী (সা.) এর বিভিন্ন খাবারের গুণাগুণ ও উপাদান অত্যন্ত যথাযথ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) এর পছন্দের খাবারগুলো থেকে পাঁচটি সম্পর্কে জানবো-

    ৥ খেজুর: নবী করিম (সা.) এর প্রিয় ফল ছিল খেজুর। খেজুরের গুণাগুণ ও খাদ্যশক্তি অপরিসীম। খেজুরের খাদ্যশক্তি ও খনিজ লবণের উপাদান শরীর সতেজ রাখে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসূল (সা.)-কে বার্লির এক টুকরো রুটির ওপর একটি খেজুর রাখতে দেখেছি। তারপর বলেছেন, ‘এটিই সালন-মসলা।’ (আবু দাউদ: ৩৮৩০)।

    প্রিয়নবী (সা:) বলতেন, যে বাড়িতে খেজুর নেই সে বাড়িতে কোনো খাবার নেই। এমনকি প্রিয়নবী (সা.) সন্তান প্রসবের পর প্রসূতি মাকে খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

    ৥ ডুমুর: ডুমুর অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ভেষজ গুণসম্পন্ন। এটি মহানবী (সা.) এর খুবই প্রিয় ছিল। যাদের পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্য আছে, তাদের জন্য ডুমুর একটি অত্যন্ত উপযোগী খাবার। এতে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

    ৥ মধু: মধুর নানা পুষ্টিগুণ ও ভেষজ গুণ রয়েছে। মধুকে বলা হয় খাবার, পানীয় ও ওষুধের সেরা। হালকা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে মধু পান করা ডায়রিয়ার জন্য ভালো। খাবারে অরুচি, পাকস্থলীর সমস্যা, হেয়ার কন্ডিশনার ও মাউথ ওয়াশ হিসেবে উপকারী।

    ৥ তরমুজ: সব ধরনের তরমুজ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। প্রিয়নবী (সা.) তরমুজ আহারকে গুরুত্ব দিতেন। যেসব গর্ভবর্তী মায়েরা তরমুজ আহার করেন তাদের সন্তান প্রসব সহজ হয়। তরমুজের পুষ্টি, খাদ্য ও ভেষজগুণ এখন সর্বজনবিদিত ও বৈজ্ঞানিক সত্য।

    হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) তরমুজের সঙ্গে ‘রাতাব’ বা (পাকা-তাজা) খেজুর খেতেন। (বুখারি : ৫১৩৪, তিরমিজি : ১৮৪৪)।

    ৥ লাউ বা কদু: লাউয়ের পুষ্টিগুণ অনেক। এটি শরীর ঠাণ্ডা রাখে। তাছাড়াও এটি আমাদের শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করে। লাউ খাওয়া সুন্নত। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার একজন দর্জি রাসূল (সা.)-কে খাবারের দাওয়াত করে। আমিও মহানবী (সা.) এর সঙ্গে সেই খাবারে অংশগ্রহণ করি।

    রাসূল (সা.) এর সামনে বার্লির রুটি এবং গোশতের টুকরা ও কদু মেশানো ঝোল পরিবেশন করে। আমি দেখেছি, রাসূল (সা.) প্লেট থেকে খুঁজে খুঁজে কদু নিয়ে খাচ্ছেন। আর আমিও সেদিন থেকে কদুর প্রতি আসক্ত হয়ে উঠি। (মুসলিম, ২০৬১; বুখারি, ৫০৬৪)।

  • আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ চরমোনাইয়ের মাহফিল

    আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ চরমোনাইয়ের মাহফিল

    বরিশাল কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী চরমোনাই পীরের ৩ দিন ব্যাপি বাৎসরকি ওয়াজ মাহফিল শেষ হয়েছে। আজ সোমবার(৩০ নভেম্বর) সকালে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মাহফিলের সমাপ্তি হয়।

     

    আখেরি মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, মুক্তি ও উন্নতি, করোনা মহামারি থেকে বিশ্ববাসীকে হেফাজত এবং করোনা ভাইসরাসে মৃতদের রুহের মাগফিরাত কামনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বরিশাল চরমোনাই দরবার শরিফের বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল।

     

     

    সকাল ৯ টায় শুরু হওয়া ৩০ মিনিট স্থায়ী আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম। মাহফিলের মাঠ উপচে আশপাশের বাড়ির বাগান, আঙিনা, নদীর পাড়সহ বিভিন্ন স্থানে কয়েক লাখ মুসল্লি মোনাজাতে অংশ নেন।

     

     

    মোনাজাতের আগে ফজরের নামাজের পর শেষ বয়ানে চরমোনাই পীর বলেন, আল্লাহবিমুখ হলে মানুষের মধ্যে মানবতা থাকে না। তারা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাই আমাদের সবার মধ্যে আল্লাহভীতি এবং আল্লাহ ও রাসুলের (সা.) প্রতি পূর্ণ আনুগত্য থাকতে হবে।

     

     

    তিনি আরও বলেন, আল্লাহ ও তার রাসুল মনোনীত ব্যতীত অন্য কোন তন্ত্র-মন্ত্র কখনোই গ্রহণ করা যাবে না। যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের আদর্শ ব্যতীত অন্য আদর্শ গ্রহণ করে তারা প্রথভ্রষ্ট।

     

    আয়োজকরা জানান, গত শুক্রবার শুরু হওয়া তিন দিনের মাহফিলে মূল বয়ান হয় সাতটি। তার মধ্যে পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পাঁচটি ও মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম করেন দুটি বয়ান।

     

    মোনাজাত শেষে আগত মুসুল্লিরা শত শত বাস, লঞ্চ ও ট্রলার যোগে নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। চলতি বছর চরমোনাই এলাকায় ২টি মাঠজুড়ে মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। নদীর বিস্তৃর্ণ এলাকা, মাঠের আশপাশের বাগান, ঘড়বাড়ির আঙিনাসহ সবখানে বিপুলসংখ্যক মুসল্লিদের উপস্থিতিতে তিল ধারণে ঠাঁই ছিল না।

  • চরমোনাইয়ে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল শুরু

    চরমোনাইয়ে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল শুরু

    আজ শুক্রবার বাদ জুমা উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী বরিশালের চরমোনাই দরবার শরীফের বার্ষিক (অগ্রাহায়ন) ওয়াজ মাহফিল শুরু হয়েছে। মাহফিলের শুভ সূচনা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। আগামী সোমবার সকাল ৮টায় পীর সাহেব চরমোনাই আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে তিনদিনের বার্ষক মাহফিল শেষ হবে।

    মাফিলে আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্যবিধি সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে মহফিল মাঠগুলোতে।

    আয়োজক কমিটি সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে মাহফিলের প্যান্ডেল নির্মাণসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

    অসুস্থদের চিকিৎসা সেবার জন্য ৫০ শয্যা বিশিষ্ট অস্থায়ী হাসপাতালে দুজন এমবিবিএস ডাক্তার এবং শতাধিক মুজাহিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয়ভাবে পাঁচ শতাধিক মুজাহিদ ছাড়াও র‌্যাব-পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।

    চরমোনাই ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের জানান, তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা না থাকলেও চরমোনাই মাদরাসা মাঠের তিন-চতুর্থাংশ আজ বিকেলের মধ্যে মুসুল্লীতে পরিপূর্ণ হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় বিনামূল্যে বিতরণের জন্য এক লাখ মাস্ক রাখা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    মাহফিলে পীর সাহেব ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানীসহ দেশের খ্যাতনামা ওলামায়ে কেরামগণ গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করবেন।