Category: ইসলাম

  • রোজার আগেই ১১টি আমলের প্রস্তুতি খুবই জরুরি

    রোজার আগেই ১১টি আমলের প্রস্তুতি খুবই জরুরি

    মুসলিম উম্মাহর দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র রমজান মাস। আর মাত্র ১০ দিন পেরুলেই শুরু হবে রমজান। এখনই রমজানের প্রস্তুতিতে বিশেষ কিছু আমলের বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। তাহলে রমজান শুরুর আগের মুমিন মুসলমানের সেই প্রস্তুতি ও করণীয়গুলো কী?

    রমজান শুধু ভোগের মাস, ভালো খাওয়ার মাস, পণ্য মজুতের মাস, আনন্দ-উৎসবের মাস ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মাস নয় বরং রমজান হলো কোরআন নাজিলের মাস, সংযজমের মাস এবং ত্যাগের মাস। এ মাস ইবাদত-বন্দেগির মাস। আল্লাহর রহমত বরকত মাগফেরাত নাজাত ও যাবতীয় কল্যাণ লাভের মাস। তাই এ মাসের আগের আগমনের আগে মুমিন মুসলমানের বিশেষ কিছু করণীয় রয়েছে। তা এখন থেকে গ্রহণ ও পস্তুতি নেওয়া জরুরি।

    হজরত মুয়াল্লা ইবনে ফজল রাহমাতু্ল্লাহি আলাইহি নামে এক বিখ্যাত তাবেয়ি বলেন, ‘সালাফে সালেহিনগণ রমজানের ৬ মাস আগে থেকে আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন-

    ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রমজান পর্যন্ত হায়াত দান করেন। আর রমজান শেষে তারা বাকি ৬ মাস দোয়া করতেন- হে আল্লাহ! রমজানে যা আমল করেছি; তা আপনি কবুল করে নিন।’

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো বান্দা যে কোনো ভালো কাজ বা আমল যদি যথাযথভাবে উত্তম উপায়ে করে; তবে সে আমল বা কাজ আল্লাহ তাআলা পছন্দীয় হিসেবে গ্রহণ করেন।’ (তাবারানি)

    ১. তাওবাহ-ইসতেগফার করা

    রমজানের আগের সব গোনাহ থেকে তাওবাহ ইসতেগফার করতে হবে। কোনো অন্যায়কারী যদি ভাবে যে, রমজান চলে এসেছে, আর আমার সব গোনাহ এমনিতেই ক্ষমা হয়ে যাবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয় বরং আগে থেকে তাওবাহ-ইসতেগফার করে রমজানের যাবতীয় কল্যাণ লাভে নিজেকে প্রস্তুত করা খুবই জরুরি। আর তাতে আল্লাহ তাআলা ওই বান্দার আগের সব গোনাহ মাফ করে দিয়ে রমজানের যাবতীয় কল্যাণ দিয়ে জীবন সুন্দর করে দেবেন। এ জন্য বান্দা বেশি বেশি পড়বে-

    > اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ : আল্লাহুম্মাগফিরলি,

    হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন।

    ২. রমজানের সব উপকারিতা স্মরণ করা

    বরকতময় মাস রমজান সম্পর্কে কোরআন-সুন্নায় যেসব ফজিলত মর্যাদা ও উপকারিতার বর্ণনা রয়েছে, রমজান শুরু হওয়ার আগেই সেসব সম্পর্কে জেনে নেওয়া। সেসব উপকার পেতে কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনাগুলো মেনে চলার প্রস্তুতি নেওয়া। মাস রমজান আসছে, মানসিকভাবে বারবার এ কথার স্মরণ ও নেক আমলের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে এ দোয়াটি বেশি বেশি করা-

    > اَللَّهُمَّ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ : আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান।

    হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। অর্থাৎ রমজান পর্যন্ত হায়াত দান করুন।’

    ৩. রমজানের রোজার মানসিক প্রতিজ্ঞা নেওয়া

    রমজান মাসে পরিপূর্ণ সাওয়াব ও ক্ষমা পেতে মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। জীবনভর যত গোনাহ করেছি এ রমজানে সেসব গোনাহ বা অন্যায় থেকে পরিপূর্ণ ক্ষমা পেতে হবে। সবচেয়ে বেশি সাওয়াব পেতে হবে। রমজান শুরু হওয়ার আগে এ প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করা জরুরি।

    আফসোসের বিষয়! অনেক সময় পূর্ব প্রস্তুতি না থাকার কারণে রমজান পেয়েও মুমিন মুসলমান পরিপূর্ণ সাওয়াব ও ক্ষমা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়।

    প্রতিজ্ঞা এমনভাবে করা যে, চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য বা নিজের কাজ যেমনই হোক, আমি আমার বিগত জীবনের সবে গোনাহ থেকে নিজেকে মাফ করিয়ে নেবো। আমার প্রতি আল্লাহকে রাজি-খুশি করিয়েই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।

    ৪. রমজান শুরু আগেই আগের কাজা রোজা আদায় করা

    রমজান শুরু হওয়ার আগে বিগত জীবনে অসুস্থ হওয়ার কারণে বা সফরের কারণে রমজানের ফরজ রোজা কাজা হয়ে থাকলে তা যথাযথভাবে আদায় করে নেওয়া। বিশেষ করে মা-বোনদের ভাঙতি রোজা থাকতে পারে। তাই রমজানের আগে শাবান মাসের এ সময়ে কাজ রোজা আদায় করে নেওয়া। এতে দুইটি ভালো আমল বাস্তবায়িত হবে-

    প্রথমটি : রমজানের ফরজ আমলের প্রতি আগ্রহ বাড়বে

    বিগত জীবনের কাজা রোজা আদায় হবে। রমজানের রোজা পালনের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

    দ্বিতীয়টি : সুন্নাতের অনুসরণ হবে।

    রমজানের আগের মাস শাবানে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন। রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে। কাজা রোজা আদায় করার মাধ্যমে সুন্নাতের অনুসরণও হয়ে যাবে।

    ৫. যাবতীয় গুনাহ থেকে সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার চেষ্টা করা

    আল্লাহ তাআলা রমজান মাসে অনেক মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। তবে এ সাধারণ ক্ষমা সবার ভাগ্যে জোটে না। কেননা এ ক্ষমা পেতে হলে দুইটি কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। ক্ষমা প্রার্থনা করে তা থেকে ফিরে আসতে হবে। তাহলো-

    > শিরক থেকে মুক্ত থাকা।

    আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শিরক না করা। কেউ ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছায়, ছোট বা বড় শিরক করে থাকলে রমজান আসার আগেই তা থেকে তাওবাহ-ইসতেগফারের মাধ্যমে ফিরে আসা।

    > হিংসা থেকে মুক্ত থাকা।

    কারো প্রতি কোনো বিষয়ে হিংসা না করা। কারণ হিংসা মানুসের সব নেক আমলকে সেভাবে জালিয়ে দেয়; যেভাবে আগুন কাঠকে জালিয়ে দেয়। তাই হিংসা পরিহার করে মনকে ক্ষমা লাভে স্বচ্ছ রাখা।

    ৬. রমজানের ফরজ রোজার নিয়ম-কানুন জেনে নেয়া

    রমজান মাস আসার আগে রোজা পালনের মাসআলা-মাসায়েল তথা নিয়ম-কানুনগুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। আর তাতে রমজানের রোজা নষ্ট হওয়া থেকে বা মাকরূহ হওয়া থাকে বা অন্যান্য বিষয়গুলো জেনে নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

    ৭. বিগত রমজানের অসমাপ্ত কাজ চিহ্নিত করা

    রমজান মাস আসার আগে বিগত রমজানের নেক আমলগুলো করতে না পারার কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করা। যেমন-

    > কেন নিয়মিত কোরআন অধ্যয়ন করা হয়নি?

    > কেন তারাবিহ পড়া হয়নি?

    > কেন দান-সহযোগিতা করা হয়নি?

    > কেন ইতেকাফ করা হয়নি?

    > কেন রোজাদারকে ইফতার করানো হয়নি?

    > কেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা সম্ভব হয়নি?

    > কেন কোরআন-সুন্নার আলোচনায় বসা হয়নি?

    > কেন রমজানের পরিবারের লোকদের হক আদায় করা হয়নি?

    > কেন রমজানের পাড়া-প্রতিবেশি বা আত্মীয়দের হক আদায় করা হয়নি?

    এ বিষয়গুলো চিহ্নিত করে নেওয়া। এ বছর রমজান আসার আগে আগে চিহ্নিত কারণগুলো থেকে নিজেকে বিরত রেখে কিংবা প্রস্তুতি গ্রহণ করে কল্যাণকর সব নেক আমল করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

    ৮. চলতি শাবান মাসজুড়ে রমজানের মহড়া চালু রাখা

    রমজান মাসের বেশি বেশি ইবাদত করতে এবং রোজা রাখার জন্য শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা। বেশি বেশি কোরআন অধ্যয়ন করা। নফল নামাজ পড়া। তাওবাহ-ইসতেগফার করা। ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করা। দান-সাদকাহ শুরু করা। যাতে এ মহড়ার বাস্তবায়ন পুরো রমজানজুড়ে সুন্দরভাবে চালানো যায়।

    ৯. রমজান মাসজুড়ে ২৪ ঘণ্টার রুটিন করা

    রমজান মাসজুড়ে যে যেই কাজেই থাকুক না কেন, পুরো সময়টি কোন কোন কাজে কীভাবে ব্যয় হবে তার একটি সম্ভাব্য রুটিন তৈরি করে নেওয়া। আগাম রুটিন থাকলে রমজানে চরম ব্যস্ততার মাঝেও নেক আমলসহ অন্যান্য কাজগুলোও ইবাদতের মধ্যেই কেটে যাবে। এককথায় সব কাজের তালিকা করে নেওয়া।

    ১০. শাবান মাসের শেষ দিকে রমজানের চাঁদের অনুসন্ধান করা

    শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় চাঁদের অনুসন্ধান করা সুন্নাত। মুছে যাওয়ার পথে থাকা এ সুন্নাতটিকে আবারও জীবিত করার পূর্ব পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

    বর্তমান সময়ে চাঁদ দেখা (হেলাল) কমিটির দিকে তাকিয়ে থাকা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আবার অনেকে মোবাইল বা রেডিও টিভির সংবাদের অপেক্ষা করেন। এতে চাঁদ দেখা এবং দোয়া পড়ার সুন্নাতটি থেকে বঞ্চিত হয় মুমিন মুসলমান। তা থেকে বেরিয়ে এসে চাঁদ অনুসন্ধান করার সুন্নাতটি জীবিত করার সর্বাত্মক পূর্ব প্রস্তুতি রাখা।

    > রমজানের চাঁদ দখে নবিজীর দোয়া

    যারা রহমতের মাস রমজানের নতুন চাঁদ দেখবে তারা বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পড়া সেই দোয়াটিও পড়বে। যেখানে শান্তি ও নিরাপত্তার প্রার্থনা রয়েছে। হাদিসে এসেছে-

    হজরত তালহা ইবনু ওবায়দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন বলতেন-

    اَللهُ اَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَ الْاِيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَ الْاِسْلَامِ وَ التَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَ تَرْضَى رَبُّنَا وَ رَبُّكَ الله

    উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি ওয়াস্সালামাতি ওয়াল ইসলামি ওয়াত্তাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।

    অর্থ : আল্লাহ মহান, হে আল্লাহ! এ নতুন চাঁদকে আমাদের নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদয় কর। আর তুমি যা ভালোবাস এবং যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও, সেটাই আমাদের তাওফিক দাও। আল্লাহ তোমাদের এবং আমাদের প্রতিপালক।’ (তিরমিজি, মিশকাত)

    রমজানের চাঁদ দেখলে কিংবা দেখার খবর শুনলেই হৃদয়ের গভীর থেকে আল্লাহর কাছে মুমিনের আকুতিভরা প্রার্থনা হবে এমন-

    اللَّهُمَّ سَلِّمْنِي لرمضان، وسلم رمضان لي، وتسلمه مني مُتَقَبَّلاً

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লিমনি লিরমাদান, ওয়া সাল্লিম রামাদানা লি, ওয়া তাসলিমাহু মিন্নি মুতাক্বাব্বিলা।’ (তাবারানি)

    অর্থ : হে আল্লাহ! আমাকে শান্তিময় রমজান দান করুন। রমজানকে আমার জন্য শান্তিময় করুন। জন্য রমজানকে শান্তিময় করে দিন। রমজানের শান্তিও আমার জন্য কবুল করুন।

    ১১. রমজানের আগে থেকেই বেশি বেশি দোয়া

    রমজানের আগে আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করা। হে আল্লাহ! আমি যতই চেষ্টা করি, তোমার তাওফিক বা ইচ্ছা না থাকলে আমি যেমন রমজান পাবো না। আবার রমজান পেলেও রবকত লাভে সক্ষম হবো না। সুতরাং রমজান ও রমজানের নেক আমল করার তোমার কাছে চাই।

    হে আল্লাহ! রমজানে যত মানুষ সৌভাগ্যবানদের কাতারে নাম লেখাবে, তাদের কাতারে আমাকেও শামিল করো; হে রাব্বুল আলামিন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের আগে উল্লেখিত ১১টি প্রস্তুতি যথাযথভাবে আগাম নিজেদের জীবনে বেশি বেশি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • শাবানের বিজের রোজা ও শবে বরাত ১৭-১৯ মার্চ

    শাবানের বিজের রোজা ও শবে বরাত ১৭-১৯ মার্চ

    প্রত্যেক চন্দ্র মাসের মাঝামাঝি সময় তথা ১৩-১৫ তারিখ তিন দিন আইয়ামে বিজের রোজা রাখা সুন্নাত। প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদের এ রোজা রাখতে বলেছেন। সে হিসেবে (১৪৪৩ হিজরি) চলতি শাবান মাসে আইয়ামে বিজের রোজা রাখার দিন হলো ১৭-১৮-১৯ মার্চ।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের জন্য প্রত্যেক আরবি মাসের মধ্যভাগে তিন দিন রোজা রাখার তাগিদ দিয়েছেন। সে হিসেবে এ (শাবান) মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ হলো ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চ। যারা এ তিন দিন রোজা রাখবেন; তাদের ১৬ মার্চ দিবাগত রাতে সাহরি খেতে হবে।

    আইয়ামে বিজের রোজার রাখার নির্দেশ, বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা
    আইয়ামে বিজের রোজা রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে এসেছে-

    > হজরত আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখল; সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ এর সমর্থনে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে নাজিল করেন-
    ‘যে একটি নেকি নিয়ে আসে তার জন্য রয়েছে তার ১০ গুণ।’ অতএব একদিন ১০ দিনের সমান।’ (তিরমিজি)

    > হজরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোজা রাখতেন।’ (আবু দাউদ)

    > হজরত ইবনু মিলহান আল-ক্বাইসি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের আইয়ামে বিজের রোজার ব্যাপারে নসিহত করেছেন; আমরা যেন তা (মাসের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ পালন করি। তিনি আরও বলেছেন, এটা সারাবছর রোজা রাখার মতোই।’ (আবু দাউদ)
    এ ছাড়াও আইয়ামে বিজের রোজা সম্পর্কে বর্ণিত আছে-
    হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম বেহেশতের নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ার পর তাদের শরীর থেকে জান্নাতি পোশাক চলে যায়। আর তাদের শরীরের রংও কুৎসিত হয়ে যায়। এরপর হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম আল্লাহর হুকুমে চন্দ্র মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখে রোজা রাখলে আবার তাদের শরীরের রং উজ্জ্বল হয়ে যায়। তাই এই তিন দিনকে আইয়্যামে বিজ বা উজ্জ্বলতার দিন বলা হয়।

    আইয়ামে বিজের রোজা রাখার ফজিলত বর্ণনায় হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারি ও মুসলিমে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক মাসে তিনদিন রোজা পালন, সারাবছর রোজা পালনের সমান।’

    অপরদিকে, শাবান মাসের ১৫তম রাতে (১৪ শাবান দিবাগত রাত) শবে বরাত পালিত হয়। সেই হিসেবে ১৮ মার্চ দিবাগত রাতই শবে বরাত।

    ‘সৌভাগ্যের রাত’ হিসেবে পরিচিত লাইলাতুল বরাতের পুণ্যময় রাতটি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াতসহ ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে কাটিয়ে থাকেন।

    শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাতে ইবাদত বন্দেগির পর রোজা পালন প্রসঙ্গে এক হাদিসে এসেছে-
    হজরত আলি ইবনে আবু তালেব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘পনেরো শাবানের রাতে (১৪ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে; তখন তোমরা রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাও এবং দিনের বেলায় রোজা রাখ। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে আসেন এবং বলেন, কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। আছে কি কোনো রিজিকপ্রার্থী? আমি তাকে রিজিক দেব। এভাবে সুবহে সাদেক পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা ডাকতে থাকেন।’ (ইবনে মাজাহ)

    হাদিসটিকে কেউ কেউ জয়ীফ বা দুর্বল বলেছেন আবার কেউ কেউ এটিকে মওজু (চরম দুর্বল বা ভ্রান্ত) বলেছেন। অনেক ইসলামিক স্কলার এ দিন রোজা রাখাকে মাসনুন বলেছেন আবার অনেকেই মোস্তাহাব বলেছেন।

    তবে যারা আইয়ামে বিজের রোজা পালন করেন অর্থাৎ প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখেন, তাদের রোজা রাখতে বাধা নেই।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামে বিজের রোজা রাখা ও শবে বরাতে ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • শবে বরাতে যে দোয়া পড়বেন

    শবে বরাতে যে দোয়া পড়বেন

    আরবি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত ‘লাইলাতুম মিন নিসফা শাবান’। এটি ‘লাইলাতুল বরাত’ বা ‘শবে বরাত’ নামে বেশি পরিচিত। মুসলমানরা রাতটিকে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ মনে করে ইবাদত-বন্দেগি করে থাকেন।

    নিসফা শাবানের রাতের দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করেন। তাই বেশি বেশি দোয়া করা উত্তম। হাদিসে এসেছে- ‘হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, পাঁচটি রাত এমন আছে, যে রাতে বান্দার কোনো দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না। আর তা হলো-

    ১. জুমআর রাতের দোয়া

    ২. রজব মাসের প্রথম রাতের দোয়া

    ৩. নিসফা শাবান তথা অর্ধ শাবানের রাতের দোয়া

    ৪. ঈদুল ফিতর তথা রোজার ঈদের রাতের দোয়া

    ৫. ঈদুল আজহা তথা কুরবানির ঈদের রাতের দোয়া।’ (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক)

    তাই আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করতে নিচের দোয়াটি বেশি বেশি পড়তে পারেন-

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলি জামবি, ওয়া ওয়াসসি’লি ফি দারি, ওয়া বারিক লি রিজকি। (নাসাঈ)

    অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গোনাহ মাফ করে দাও। আমার জন্য আমার বাসস্থান প্রশস্ত করে দাও। এবং আমার রিজিকে বরকত দিয়ে দাও।

    মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সব সময় বেশি বেশি ইবাদত করার তৌফিক দান করুন। আমিন!

  • নামাজের সময়সূচি : ১৮ মার্চ ২০২২

    নামাজের সময়সূচি : ১৮ মার্চ ২০২২

    আজ শুক্রবার ১৮ মার্চ ২০২২ ইংরেজি, ০৪ চৈত্র ১৪২৮ বাংলা, ১৪ শাবান ১৪৪৩ হিজরি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো-

    > জুমা- ১২:১০ মিনিট।
    > আসর- ৪:২৭ মিনিট।
    > মাগরিব- ৬:১২ মিনিট।
    > ইশা- ৭:২৫ মিনিট।
    > ফজর (১৯ মার্চ)- ৪:৫০ মিনিট।

    আজ সুর্যাস্ত- ৬:০৮ মিনিট।
    > আগামীকালের (১৯ মার্চ) সূর্যোদয়- ৬:০৪ মিনিট।

    বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, তাহলো-

    বিয়োগ করতে হবে
    > চট্টগ্রাম : -০৫ মিনিট
    > সিলেট : -০৬ মিনিট

    যোগ করতে হবে-
    > খুলনা : +০৩ মিনিট
    > রাজশাহী : +০৭ মিনিট
    > রংপুর : +০৮ মিনিট
    > বরিশাল : +০১ মিনিট

    তথ্যসূত্র : ইসলামিক ফাউন্ডেশন

  • পবিত্র শবে বরাত আজ

    পবিত্র শবে বরাত আজ

    মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল বরাত আজ। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় আজ (শুক্রবার) দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটিকে মুসলমানরা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন। শবে বরাত মুসলামানদের কাছে লাইলাতুল বরাত নামেও পরিচিত। পবিত্র শবে বরাত মাহে রমজানেরও আগমনী বার্তা দেয়।

    ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত আর ‘বরাত’ শব্দের অর্থ সৌভাগ্য। আরবিতে বলে ‘লাইলাতুল বরাত’, অর্থাৎ সৌভাগ্যের রাত। মহিমান্বিত এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময় মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় নফল নামাজ পড়েন, কোরআন তিলাওয়াত করেন এবং জিকিরে মগ্ন থাকেন। অতীতের পাপ–অন্যায়ের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করবেন মুসলমানরা।

    মুসলমানদের বিশ্বাস, মহিমান্বিত এই রাতে মহান আল্লাহতায়ালা মানুষের ভাগ্য অর্থাৎ তার নতুন বছরের ‘রিজিক’ নির্ধারণ করে থাকেন। এই রাতে বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করা হয়।

    পবিত্র শবে বরাতকে কেন্দ্র করে বাড়িতে বাড়িতে হরেক রকমের হালুয়া, ফিরনি, রুটিসহ উপাদেয় খাবার তৈরি করার প্রচলন রয়েছে। এসব খাবার আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যার পর অনেকে কবরস্থানে যান আপনজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করতে।

    এ উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় ওয়াজ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘শবে বরাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ওয়াজ মাহফিল শেষে বাদ এশা দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। ওয়াজ ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।

    পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, মানুষের ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির জন্য ইসলামের সুমহান আদর্শ আমাদের পাথেয়। সমাজের দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে তিনি বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, আসুন সব প্রকার অন্যায়, অনাচার, হানাহানি ও কুসংস্কার পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনা ব্যক্তিসমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা করি।

    এদিকে, পবিত্র শবে বরাতে আতশবাজি, পটকাবাজি নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, শবে বরাতের পবিত্রতা রক্ষার্থে এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত বিস্ফোরক দ্রব্য, আতশবাজি, পটকাবাজি, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং ফোটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে শবে বরাত রাতে আতশবাজি ফোটানো নিষিদ্ধ ঘোষণার বিষয়টি মাইক দিয়ে মহল্লায় মহল্লায় প্রচার করা হয়েছে।

  • নামাজের সময়সূচি : ১৪ মার্চ ২০২২

    নামাজের সময়সূচি : ১৪ মার্চ ২০২২

    আজ সোমবার ১৪ মার্চ ২০২২ ইংরেজি, ২৯ ফাল্গুন ১৪২৮ বাংলা, ১০ শাবান ১৪৪৩ হিজরি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো-

    > জোহর- ১২:১২ মিনিট।

    আসর- ৪:২৬ মিনিট।

    > মাগরিব- ৬:১১ মিনিট।

    ইশা- ৭:২৪ মিনিট।

    > ফজর (১৫ মার্চ)- ৪:৫৪ মিনিট।

    আজ সুর্যাস্ত- ৬:০৭ মিনিট।

    > আগামীকালের (১৫ মার্চ) সূর্যোদয়- ৬:০৭ মিনিট।

    বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, তাহলো-

    বিয়োগ করতে হবে

    > চট্টগ্রাম : -০৫ মিনিট

    > সিলেট : -০৬ মিনিট

    যোগ করতে হবে-

    > খুলনা : +০৩ মিনিট

    > রাজশাহী : +০৭ মিনিট

    > রংপুর : +০৮ মিনিট

    > বরিশাল : +০১ মিনিট

    তথ্যসূত্র : ইসলামিক ফাউন্ডেশন

  • যে ৩ জিনিস মৃতব্যক্তিকে অনুসরণ করে

    যে ৩ জিনিস মৃতব্যক্তিকে অনুসরণ করে

    জীবন যার আছে, তার মৃত্যু সুনিশ্চিত। মৃত্যুর পর ৩ জিনিস মানুষকে অনুসরণ করে। এ তিন জিনিসের মধ্যে দুইটি ফিরে আসে তথা দুনিয়াতেই থেকে যায়। আর একটি জিনিস মৃতব্যক্তির সঙ্গী হয়। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে বিষয়টি সুষ্পষ্ট করেছেন। মৃতব্যক্তিকে অনুসরণকারী জিনিস তিনটি কী?

    মৃত ব্যক্তিকে অনুসরণ করা জিনিস ৩টি। এর মধ্যে প্রথম হলো- মৃতব্যক্তির আপনজন তথা আত্মীয়-স্বজন; দ্বিতীয় হলো- মৃতব্যক্তির ধন-সম্পদ এবং তৃতীয় হলো- মৃতব্যক্তির জীবদ্দশায় করা তার আমল। আত্মীয়-স্বজন এবং ধন-সম্পদ মৃতব্যক্তির সঙ্গে যায় না বরং ফিরে আসে। শুধু নেক আমলই তার সঙ্গী হয়। হাদিসে পাকে এসেছে-

    হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন-

    يَتْبَعُ الميتَ ثلاثةٌ أهْلُه ومَالُه وعَمَلُه، فيرجع اثنان ويَبْقى واحد: يرجع أهْلُه ومَالُه، ويبقى عَمَلُه

    তিনটি জিনিস মৃত ব্যক্তিকে অনুসরণ করে- তার আত্মীয়-স্বজন, তার ধন-সম্পদ ও তার আমল। এরপর দুইটি জিনিস (মৃতব্যক্তি থেকে) ফিরে আসে এবং একটি জিনিস (মৃতব্যক্তির সঙ্গে) রয়ে যায়। (অর্থাৎ) তার আত্মীয়-স্বজন ও তার ধন-সম্পদ ফিরে আসে, আর তার আমল (তার সঙ্গে) রয়ে যায়।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    হাদিস থেকে এ বিষয়টি প্রমাণিত

    যখন কোনো মানুষ মারা যায়, তাকে দাফন করতে পেছনে পেছনে গোরস্থানে যায় মানুষ। মৃতব্যক্তিকে দাফন করতে যায় আত্মীয়-স্বজন, আপনজনরাও তার অনুগামী হয় এবং তার সম্পদও তার অনুগামী হয়। অর্থাৎ সম্পদ বলতে তার গোলাম, খাদেমসহ অন্য যারা আছেন তাদের বোঝানো হয়। আর দুনিয়ার জীবনে করা তার আমলও তার অনুসরণ করে। মৃতব্যক্তিকে দাফনের পর দুইটি জিনিস- আত্মীয়-স্বজন ও সম্পদ ফিরে আসে কিন্তু তার আমল তার সঙ্গে রয়ে যায়। যার আমল ভালো হয় সে মুক্তি পায়; আর যার আমল খারাপ হয়, তার জন্য অপেক্ষা করে সীমাহীন বিপদ।

    এ কারণেই মহান আল্লাহ মানুষকে স্মরণ রাখার জন্য কোরআনুল কারিমে ঘোষণা করেছেন-

    کُلُّ نَفۡسٍ ذَآئِقَۃُ الۡمَوۡتِ ؕ وَ اِنَّمَا تُوَفَّوۡنَ اُجُوۡرَکُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ فَمَنۡ زُحۡزِحَ عَنِ النَّارِ وَ اُدۡخِلَ الۡجَنَّۃَ فَقَدۡ فَازَ ؕ وَ مَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الۡغُرُوۡرِ

    ‘প্রতিটি প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর অবশ্যই কেয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেওয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে; সে-ই সফলতা পাবে। আর দুনিয়ার জীবন শুধু ধোঁকার সামগ্রী।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৮৫)

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের জন্য একান্ত করণীয়, মৃত্যুর আগে নেক আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়া। অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা। পরকালের সফলতায় কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মেনে চলা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরকালের সফলতা পেতে নেক আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • নামাজের সময়সূচি : ১৩ মার্চ ২০২২

    নামাজের সময়সূচি : ১৩ মার্চ ২০২২

    আজ রোববার ১৩ মার্চ ২০২২ ইংরেজি, ২৮ ফাল্গুন ১৪২৮ বাংলা, ০৯ শাবান ১৪৪৩ হিজরি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো-

    > জোহর- ১২:১২ মিনিট।

    আসর- ৪:২৬ মিনিট।

    > মাগরিব- ৬:১০ মিনিট

    ইশা- ৭:২৩ মিনিট।

    > ফজর (১৪ মার্চ)- ৪:৫৫ মিনিট।

    আজ সুর্যাস্ত- ৬:০৬ মিনিট।

    > আগামীকালের (১৪ মার্চ) সূর্যোদয়- ৬:০৮ মিনিট।

    বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, তাহলো-

    বিয়োগ করতে হবে

    > চট্টগ্রাম : -০৫ মিনিট

    > সিলেট : -০৬ মিনিট

    যোগ করতে হবে-

    > খুলনা : +০৩ মিনিট

    > রাজশাহী : +০৭ মিনিট

    > রংপুর : +০৮ মিনিট

    > বরিশাল : +০১ মিনিট

    তথ্যসূত্র : ইসলামিক ফাউন্ডেশন

  • যে আমল-দোয়ায় থাকে না দুঃখ ও দুশ্চিন্তা

    যে আমল-দোয়ায় থাকে না দুঃখ ও দুশ্চিন্তা

    দুশ্চিন্তা ও দুঃখবোধ মানুষের কষ্টের বোঝা বাড়িয়ে দেয়। দুশ্চিন্তা ও দুঃখবোধ কমাতে ছোট্ট একটি আমলই যথেষ্ট। ছোট্ট একটি আমলেই কমে যাবে মানুষের সব দুঃখ ও দুশ্চিন্তা। কী সেই আমল ও দোয়া?

    দুঃখ-দুর্দশা কিংবা কোনো বিষয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও ভরসা রাখার বিকল্প নেই। একত্ববাদের ঘোষণা ও আস্থা বিশ্বাসেই হ্রাস পাবে মানুষের দুঃশ্চিন্তা ও দুঃখবোধ। ইমাম ইবনুল কায়্যিম যাদুল মাদ গ্রন্থে ছোট্ট একটি আমল এভাবে তুলে ধরেছেন-

    যে ব্যক্তির দুঃখ এবং দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি পেয়েছে সে যেন অবশ্যই পড়ে-

    لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ

    উচ্চারণ : ‘লা হাউলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহি।’

    অর্থ : আল্লাহর সাহায্য ছাড়া পাপমুক্তির কোনো পথ নেই, আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া ইবাদতের কোনো শক্তি নেই।’

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, যখনই চিন্তা, অস্থিরতা, দুঃখ-বেদনায় পড়বে সঙ্গে সঙ্গে ছোট্ট এ আমলটি করবে। তাতেই মিলবে সমাধান ও মুক্তি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে ছোট্ট এ আমলটি করার তাওফিক দান করুন। দুঃখবোধ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • জাতিকে মাদকাসক্ত করা ও ইসলামী শিক্ষা তুলে দেয়ার চক্রান্ত চলছে

    জাতিকে মাদকাসক্ত করা ও ইসলামী শিক্ষা তুলে দেয়ার চক্রান্ত চলছে

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়šত্মীতে ৯৫ শতাংশ মুসলমানের দেশের স্কুল-কলেজ থেকে ইসলামী শিক্ষা তুলে দেয়াসহ সামগ্রীক ভাবে ধর্মীয় তথা ইসলামী শিক্ষা সংকোচন এবং জাতিকে মাদকাসক্ত করতে মাদকের বিক্রয় সহজ করে দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। তিনি মাদকের বি¯ত্মার রোধ ও ইসলামী শিক্ষা সংকোচনের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগামী ৩১ মার্চ ঢাকায় জাতীয় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

    পীর সাহেব চরমোনাই আরো বলেন, চট্টগ্রামের বই মেলায় ইসলামী বই নিষিদ্ধ করাসহ সরকারের অন্যান্য কর্মকান্ডে মনে হচ্ছে তারা বাংলাদেশে হিন্দুত্ববাদী সংস্কৃতি চালুর অপচেষ্টায় মেতে উঠেছে। স্বপ্নের বাংলাদেশ আজ লুটেরা, সন্ত্রাসী দুর্নীতিবাজদের কবলে। প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে এহেন বেহালাবস্থা থেকে উদ্ধারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিপথগামী মানুষদের আত¥শুদ্ধি করার পাশাপাশি রাষ্ট্রশুদ্ধির কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

    নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সদ্যসমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে দেখা গেছে জনগণ আগে ভোট দিতে পারতোনা,আর এখন প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতেও পারেনা। এতে প্রমাণিত হয়- দলীয় সরকারের অধীনে আগামীতে কোন সুষ্ঠ নির্বাচন হবে বলে মনে হয় না।

    আজ ২৬ ফেব্রম্নয়ারি’২২ শনিবার সকাল ১০.৩০টায় ঐতিহাসিক চরমোনাই মাহফিলের ২য় দিনে আয়োজিত ওলামা-বুদ্ধিজীবি সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে পীর সাহেব চরমোনাই উপরোক্ত কথা বলেন।

    ওলামা-বুদ্ধিজীবি সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্যে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মুহাম্মাদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে হাতপাখাকে বিজয়ী করতে একযোগে সকলকে কাজ করতে হবে। কুরআন, হাদীসের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

    সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বলেন, কারাগারে বন্দী ওলামায়ে কেরাম কে মুক্তি দিতে হবে। হাফেজ্জী হুজুর রহঃ এর জামাতা ও লক্ষীপুরের চরকাদিরা ইউনিয়নে হাত পাখা প্রতিকে নির্বাচিত আলোচিত চেয়ারম্যান আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, সমগ্র দেশ দুর্নীতির অতল সাগরে ডুবে আছে। সরকারের দায়িত্বশীলরা স্বীকার করে সর্বত্র দুর্নীতি। ক্ষমতাসীনদের দিয়ে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব নয়।

    তিনি বলেন, যে যত শিক্ষিত ও যত বড় পদের অধিকারী সে তত বড় দুর্নীতিবাজ। শায়খ জাকারিয়া ইসলামী রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ বলেন, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করা ফরজে আইন। কায়েম করা সম্ভব না হলে চেষ্টা করা ফরজে আইন। সরকারে সাবেক সচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য ইসলামী আন্দোলনের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে কাজ করতে হবে। আমাদের জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

    সšত্মানদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে দেশে শাšিত্ম প্রতিষ্ঠিত হবে। জামেয়াতুস সুন্নাহ মাদারীপুরের মুহতামিম মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ আল ফরিদী বলেন, ধর্মের নাম দিয়ে ইসলামের বিরোধীতা করার কোন ধর্ম নেই, তাই ইসলাম বিরোধীরা ধর্মহীনতাকে দিয়ে ইসলামের মোকাবেলা করতে চায়।

    পৃথিবীর ২শ কোটি মুসলমান বিশ্বাস করে আল্লাহ ছাড়া কারো আইন মানিনা। রাষ্ট্রীয়ভাবে, শিক্ষা ও বিচারের ক্ষেত্রে যা করছে তার সাথে কালেমার কোন সম্পর্ক নেই। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, এই দেশের নেতারা দুনিয়ার কথা বলেন।

    অনেক আলেম ওলামা আখেরাতের কথা বলেন। আর চরমোনাই পীর সাহেব দুনিয়া ও আখেরাতের কথা বলেন। বুলেটের বিপরীতে ব্যলট অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ব্যালটের মাধ্যমে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠায় সর্বাত¥ক চেষ্টা চালাতে হবে।

    আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর অবঃ অধ্যাপক ডা. আবদুল ওহাব মিনার বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমাদের যে নাগরিক অধিকার পাবার কথা ছিলো, তা আমরা পাচ্ছি না।

    ঢাকার শাšিত্মনগর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ফরিদউদ্দিন আল মোবারক চরমোনাই তরিকার বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দ্বীন ইসলামের স্বার্থে চরমোনাইর বিরোধীতা পরিহার করম্নন। সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আক্কাস আলী সরকার বলেন, দেশে ইনসাফ থাকলে ২ লক্ষ কোটি টাকা উন্নয়ন বাজেট হওয়ার পরেও দেশের মানুষকে ভিক্ষা করতে হতো না।

    তিনি বলেন, ইসলামী হুকুমতের অনুপস্থিতিতে দেশে চুরি, ডাকাতি, রাহাজানির ঘটনা ও দুর্নীতি অহরহ ঘটছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠির ক্বায়েদ সাহেব রহঃ এর নাতি ড.মুহাম্মাদ শহীদুল হক বলেন, ইসলামী শিক্ষা কলেজ ও স্কুল থেকে উঠিয়ে দেয়ার চক্রাšত্ম চলছে।

    তুরস্কে কামাল আতাতুর্ক ও স্পেনের মত ইসলামী শিক্ষা ধ্বংস করে বাংলাদেশকে বিপথগামী করার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হবে। নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁও মাদরাসার মোহতামিম মুফতী আজিজুল হক বলেন, বাংলাদেশের যত জ্বাল ও ভেজাল রাজনীতি আছে তা দূর করবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা।

    ইসলামী হুকুম প্রতিষ্ঠায় আলেম ও মুজাহিদ রা একই শুরু কথা বলবে। একত্রে চলবে বলে আমি আশাবাদী। সরকারী মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকার প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. একে এম ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ইসলামের বিরম্নদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা চরমোনাই পীর সাহেবের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সামনে পরাজিত হবে, ইনশাআল্লাহ। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিবিদ কাজী মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন- স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসেও পার্বত্য অঞ্চলে আমরা আজ পরাধীন।

    স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে কখনো কখনো ভারত বা মিজোরামের পতাকা উড়ছে, যা আমাদের জন্য বেদনা ও লজ্জাষ্কর। হাজী শরীয়তুলস্নাহর সপ্তম পুরম্নষ মাওঃ হানজালা আহমাদ বাহাদুরপুর বলেন, ইসলাম ছিনিয়ে নেয়ার আন্দোলন চলছে। জামিয়া মাহমুদিয়া যাত্রাবাড়ি এর মুহাদ্দিস মুফতী রেজাউল করীম আবরার বলেন, খতমে নবুওয়তের ইজ্জত রক্ষায় পীর সাহেব চরমোনাই’র নেতৃত্বে দেশের জনগণ রাজপথে নামতে প্রস্তুত আছে।

    এতে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, বগুড়া জামিল মাদরাসার মমোহাদ্দিস ও দলের নায়েবে আমীর মাওঃ আব্দুল হক আজাদ, মহাসচিব