Category: ইসলাম

  • ইতেকাফের প্রয়োজনীয় ১০ মাসআলা

    ইতেকাফের প্রয়োজনীয় ১০ মাসআলা

    সাধারণ গোসলের জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া
    রমজান মাসের শেষ দশকের ইতেকাফ অবস্থায় সাধারণ গোসলের জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েজ নয়। বেরুলে ইতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। সুতরাং কোনো ব্যক্তি সাধারণ গোসলের জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়ার কারণে তার সুন্নত ইতেকাফ নষ্ট হয়ে গেছে। যেদিন গোসলের জন্য বের হয়েছে, ওই দিনের ইতেকাফ কাজা করে নেওয়া জরুরি। আর এই ইতেকাফটি নফল ইতেকাফ হিসেবে গণ্য হবে।

    বাড়তি রোজার নিয়ত
    সুন্নত ইতেকাফে (রমজানের শেষ দশ দিনে) রোজা থাকে, তাই এ সময় বাড়তি রোজার নিয়তের প্রয়োজন নেই। তবে ওয়াজিব ইতেকাফে রোজা রাখা শর্ত।

    মুস্তাহাব ইতেকাফে সচেতনতামূলক রোজা
    মুস্তাহাব ইতেকাফে সচেতনতামূলক রোজা ভালো। তবে নির্ভরযোগ্য মত হলো, শর্ত নয়। না রাখলে সমস্যা নেই।

    ইতেকাফের সময়সীমা
    ওয়াজিব ইতেকাফে কমপক্ষে একদিনের নিয়ত করতে হবে। বেশিও হতে পারে। আর সুন্নতে মুয়াক্কাদা ইতেকাফ রমজানের শেষ দশ দিনে হয়। আর মুস্তাহাব ইতেকাফের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। হতে পারে এক মিনিট বা তার কমবেশি। সুতরাং যতক্ষণ মসজিদে অবস্থান করবে, ততক্ষণের নিয়ত করতে পারে।

    ইতেকাফের কাজা
    ইতেকাফে বসে দু’প্রকার (কাজকর্ম) হারাম । অর্থাৎ যেগুলো করলে ওয়াজিব আর সুন্নত ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যায়। যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে কাজা করা লাগবে। আর কাজার উদ্দেশ্য হলো, যেসব দিন ইতেকাফ নষ্ট হয়ে গেছে, তার কাজা করে দেবে। ওয়াজিব ইতেকাফের কাজা ওয়াজিব, আর সুন্নতের কাজা সুন্নত। রমজানের ইতেকাফের কাজার জন্য রমজান হওয়া র্শত নয়। তবে যেহেতু রোজার সময়ের কাজা, তাই রোজা রাখা র্শত। যদি মুস্তাহাব ইতেকাফ হয়, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। আর মুস্তাহাব ইতেকাফের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই বলে কোনো কাজাও নেই।

    অপ্রয়োজনে মসজিদের বাইরে যাওয়া
    ভুলেও নিজের ইতেকাফের মসজিদকে এক মিনিট কিংবা আরও কম সময়ের জন্য ছেড়ে দেওয়া জায়েজ নয়।

    অপ্রয়োজনীয় বেচাকেনায় লিপ্ত হওয়া
    ইতেকাফ অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় দুনিয়াবি কোনো কাজে ব্যস্ত হওয়া মাকরুহে তাহরিমি। যেমন—অপ্রয়োজনীয় বেচাকেনায় লিপ্ত হওয়া। তবে হ্যাঁ, যা না করলেই নয়, এমন হলে ভিন্ন কথা। যেমন—ঘরে খাবার নেই, আর ইতেকাফকারী ছাড়া উপযুক্ত অন্য কেউ নেই। তাহলে ইতেকাফকারী বেচাকেনা করতে পারেন। তবে মসজিদে কোনো জিনিস বা মালামাল উপস্থিত করা যাবে না।

    ইতেকাফের বিনিময় দেওয়া-নেওয়া
    বিনিময় নিয়ে ইতেকাফ করা বা করানো সম্পূর্ণ নাজায়েজ। কারণ, ইতেকাফ একটি ইবাদত। আর ইবাদতের বিনিময় দেওয়া-নেওয়া নাজায়েজ। বিনিময়ের মাধ্যমে ইতেকাফ করলে সুন্নতে মুয়াক্কাদা (কেফায়া) আদায় হবে না। ফলে এলাকাবাসী সবাই সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কেফায়া আদায় না করার কারণে গোনাহগার হবে।

    ইতেকাফরত ব্যক্তির অসুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা
    ইতেকাফরত ব্যক্তির অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাড়ি চলে আসতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাকে একদিনের ইতেকাফ কাজা করতে হবে। আর তা পরের রমজানেও কাজা করা যাবে। এজন্য যে কোনো একদিন সূর্যাস্তের পর থেকে পরের দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত মসজিদে ইতেকাফ করবে। অবশ্য রমজানের বাইরে ইতেকাফ কাজা করতে চাইলে দিনের বেলা নফল রোজাও রাখতে হবে।

    ইতেকাফ অবস্থায় মাসিক শুরু হলে
    ইতেকাফ অবস্থায় কোনো নারীর মাসিক শুরু হলে তার ইতেকাফ ভেঙে যাবে। যেদিন মাসিক শুরু হলো, শুধু সেই একদিনের ইতেকাফ কাজা করে নেওয়া জরুরি।

  • ক্ষমার দশকে মুমিনের দোয়া

    ক্ষমার দশকে মুমিনের দোয়া

    মাগফেরাত তথা ক্ষমার দশক হিসেবে পরিচিত রমজানের দ্বিতীয় দশক। আজ দ্বিতীয় দশকের প্রথম দিন। ক্ষমার দশকে রমজানের বিশেষ ফজিলত হলো- গুনাহমুক্ত জীবন পাওয়া। ক্ষমার এ দশকে মহান রবের কাছে নিজেদের গুনাহগুলো মাফ করিয়ে নেওয়াই রোজাদারের জন্য সর্বোত্তম সময়। মাগফেরাতের এ দশকে যেন রোজাদার মাত্রই গুনাহ থেকে মুক্তি পায়। এ দশকে ক্ষমা পেতে কী পড়বেন রোজাদার মুমিন?

    ক্ষমার এ দশকে শারীরিক প্রতি অঙ্গকে গুনাহ থেকে বিরত রাখাই প্রথম কাজ। চোখ, কান, মুখ, হাত-পাসহ প্রতিটি অঙ্গকে গুনাহের কাজ থেকে মুক্ত রাখা। সব সময় তাসবির মতো ছোট্ট এ ক্ষমা প্রার্থনার দোয়াটি বেশি বেশি পড়া-

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাগফিরলানা; ফা-ইন্নাকা খাইরুল গাফিরিন।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন; আপনিই তো সর্বোত্তম ক্ষমাকারী।’

    ক্ষমা পাওয়ার উপায় কী?

    এ দশকে রোজা পালনের পাশাপাশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার সর্বোত্তম মাধ্যম কী? আল্লাহ তাআলা কোন কোন আমল ও দোয়ায় বান্দাকে ক্ষমা করে দেন? আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার দোয়াগুলোই বা কী?

    ক্ষমা পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম আল্লাহর কাছে তাওবা করা। রোজা রেখে প্রথমত নিজেকে অন্যায় ও গুনাহের কাজ থেকে বিরত রাখা। তারপর ক্ষমা চেয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। এটি ক্ষমা পাওয়ার অন্যতম উপায়।

    কোরআন ও সুন্নায় বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করার ব্যাপারে বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কেননা গুনাহমুক্ত জীবনের অন্যতম উপায় হচ্ছে তাওবা-ইসতেগফার করা। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

    وَمَن يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللّهَ يَجِدِ اللّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا

    ‘যে গুনাহ করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পায়।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১১০)

    وَتُوْبُوْا إِلَى اللهِ جَمِيْعاً أَيُّهَا الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ

    ‘(হে মুমিনগণ!) তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩১)

    রমজানের এ দশকে ক্ষমা পেতে বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করা জরুরি। ক্ষমার দশকে যেসব তাওবা-ইসতেগফার করার মাধ্যমে বিগত জীবনের গুনাহ থেকে মুক্তির আশা করা যায়; সেসব ছোট-বড় তাওবা-ইসতেগফার তুলে ধরা হলো-

    ১. أَستَغْفِرُ اللهَ

    উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’

    অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

    নিয়ম : প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ইসতেগফারটি ৩ বার পড়তেন।’ (মিশকাত)

    ২. أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ

    উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।’

    অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি।

    নিয়ম : এ ইসতেগফারটি প্রতিদিন ৭০/১০০ বার পড়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তাওবাহ ও ইসতেগফার করতেন।’ (বুখারি)

    ৩. رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ (أنْتَ) التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বিগ্ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা ইন্নাকা (আংতাত) তাওয়্যাবুর রাহিম।’

    অর্থ : ‘হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবাহ কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়।’

    নিয়ম : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এই দোয়া ১০০ বার পড়েছেন।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

    ৪. أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

    উচ্চারণ : ‘আস্‌তাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি।’

    অর্থ : ‘আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই (তাওবাহ করে) ফিরে আসি।’

    নিয়ম : দিনের যে কোনো ইবাদত-বন্দেগি তথা ক্ষমা প্রার্থনার সময় এভাবে তাওবাহ-ইসতেগফার করা। হাদিসে এসেছে- এভাবে তাওবাহ-ইসতেগফার করলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন, যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নকারী হয়।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, মিশকাত)

    ৫. সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া

    اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্কতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহ্দিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি ফাগ্ফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই বান্দা আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নেয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গোনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কারন তুমি ছাড়া কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।’

    নিয়ম : সকালে ও সন্ধ্যায় এ ইসতেগফার করা। ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর এ ইসতেগফার পড়তে ভুল না করা। কেননা হাদিসে এসেছে- যে ব্যক্তি এ ইসতেগফার সকালে পড়ে আর সন্ধ্যার আগে মারা যায় কিংবা সন্ধ্যায় পড়ে সকাল হওয়ার আগে মারা যায়, তবে সে জান্নাতে যাবে।’ (বুখারি)

    এছাড়াও ওঠা-বসায় এভাবেও তাওবা-ইসতেগফার করা যেতে পারে। তাহলো-

    ৬. اَسْتَغْفِرُ اللهَ رَبِّىْ مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ

    উচ্চারণ : ‘আসতাগফিরুল্লাহ রব্বি মিন কুল্লি যামবিন ওয়াতুবু ইলাইহি।’

    অর্থ : ‘আমি আমার প্রভু আল্লাহর কাছে আমার সমুদয় পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তারই দিকে প্রত্যাবর্তন করছি।’

    ৭. سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ

    উচ্চারণ : ‘সামি’না ওয়া আতানা গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির।’

    অর্থ : ‘আমরা (আল্লাহ তাআলার আদেশ) শুনলাম ও মানলাম, হে আমাদের প্রভু-প্রতিপালক! আমরা তোমারই কাছে ক্ষমা চাই আর তোমারই দিকে সবার ফিরে যেতে হবে।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৮৫)

    ৮. رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা মা খালাকতা হাজা বাতিলাং সুবহানাকা ফাকিনা আজাবান নার।’

    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! তুমি এ বিশ্বজগতকে বৃথা সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র। সুতরাং তুমি আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা কর।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯১)

    ৯. لَئِن لَّمْ يَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَيَغْفِرْ لَنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

    উচ্চারণ : ‘লা ইল্লাম ইয়ারহামনা রাব্বুনা ওয়া ইয়াগফির লানা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’

    অর্থ : ‘আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর যদি কৃপা না করেন এবং আমাদের ক্ষমা না করেন তাহলে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ১৪৯)

    বিশেষ করে হজরত আদম আলাইহিস সালাম যে দোয়া পাঠ করার ফলে আল্লাহ তাআলার ক্ষমার কাছে ক্ষমা পান। সেটিও বেশি বেশি করা যেতে পারে-

    ১০. رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা যালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’

    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু-প্রতিপালক! নিশ্চয় আমরা আমাদের প্রাণের ওপর অত্যাচার করেছি আর তুমি যদি আমাদেরকে ক্ষমা না কর ও আমাদের প্রতি কৃপা না কর তাহলে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)

    মনে রাখা জরুরি

    কোনো রোজাদারই যেন ক্ষমার দশকের আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত না হয়। রমজানের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো যে বৃথা নষ্ট না হয়। শারীরিক, বাহ্যিক ও আত্মিক সব ধরনের গুনাহ ও অন্যায় থেকে বিরত থেকে তাওবা-ইসতেগফার, ইফতার-সেহরি, তারাবি-তাহাজ্জুদে নিয়োজিত থাকা। আর তাতেই মিলবে মহান রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা। রোজাদার মুমিন হবেন সফল।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ক্ষমার দশকে কোরআন-সুন্নায় বর্ণিত তাওবা-ইসতেগফার ও ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। গুনাহমুক্ত হয়ে পবিত্র জীবন পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মুখেরও রোজা আছে

    মুখেরও রোজা আছে

    মানুষের যত সওয়াব বা গোনাহ হয়, এর অন্যতম মাধ্যম কথা বা জবান। জবান বা কথার কারণে মানুষ সওয়াব যেমন অর্জন করতে পারে, তেমনি গোনাহ কামাইও করতে পারে। এ কারণে কথা বা জবানের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বারবার তাগিদ এসেছে। রোজা পালনকালে কথা বা জবানের ব্যাপারে অধিকতর সর্তকতা কাম্য।

    জিহ্বা দিয়ে যেসব পাপ
    জিহ্বা দিয়ে ১৯টি পাপ সংঘটিত হয়—
    ১) কারও নাম খারাপ করে ডাকা বা নাম ব্যঙ্গ করা।
    ২) খারাপ ঠাট্টা বা বিদ্রূপ করা।
    ৩) অশ্লীল ও খারাপ কথা বলা।
    ৪) কাউকে গালি দেওয়া।
    ৫) কারও নিন্দা করা।
    ৬) অপবাদ দেওয়া।
    ৭) চোগলখুরি করা।
    ৮) বিনা প্রয়োজনে গোপনীয়তা ফাঁস করে দেওয়া।
    ৯) মোনাফিকি করা ও দুই মুখে (দ্বিমুখী) কথা বলা।
    ১০) বেহুদা ও অতিরিক্ত কথা বলা।
    ১১) বাতিল ও হারাম জিনিস নিয়ে আলোচনা করে আনন্দ লাভ করা।
    ১২) কারও গিবত করা।
    ১৩) খারাপ উপনামে ডাকা।
    ১৪) কাউকে অভিশাপ দেওয়া।
    ১৫) কাউকে সামনাসামনি বা সম্মুখে প্রশংসা করা।
    ১৬) মিথ্যা স্বপ্ন বলা।
    ১৭) অনর্থক চিৎকার বা চেঁচামিচি করা।
    ১৮) জিহ্বা দিয়ে হারাম বস্তুর স্বাদ নেওয়া, গ্রহণ করা বা খাওয়া।
    ১৯) জিহ্বা দিয়ে খারাপ অর্থে কাউকে কোনো ভঙ্গি করা বা দেখানো।

    জবানের জন্য সদা প্রস্তুত প্রহরী
    পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে না কেন, তা লেখার জন্য তৎপর প্রহরী তার কাছে প্রস্তুত আছে।’ (সুরা কফ : ১৮)। অর্থাৎ মানুষ যখন যা বলে, চাই তা ভালো হোক বা মন্দ, তা লেখার জন্য সদা প্রস্তুত প্রহরী নিযুক্ত রয়েছে। তাই কথা বলার ক্ষেত্রে আমাদের অত্যধিক সতর্কতা কাম্য।

    জান্নাতের নিশ্চয়তা
    উবাদা ইবনে সামিত (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী অঙ্গ জিহ্বা এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী অঙ্গ গুপ্তাঙ্গ সম্পর্কে নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।’ (বোখারি : ৬৪৭৪)। আসলাম (রা.) বলেন, একবার ওমর (রা.) আবু বকর (রা.)-এর কাছে গিয়ে দেখলেন, তিনি নিজের জিহ্বা টানছেন। তখন ওমর (রা) বললেন, ‘বিরত হোন। মহান পরওয়ারদেগার আপনাকে মাফ করুন। বলুন কী হয়েছে?’ আবু বকর (রা.) বললেন, ‘এ জিহ্বাই আমাকে ধ্বংসের পথে নামিয়ে দিয়েছে।’ (মুআত্তায়ে মালেক)।

    মোমিন মিথ্যা বলতে পারে না
    সাফওয়ান ইবনে সুলাইম (রা.) সূত্রে বর্ণিত; একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘মোমিন ভীরু হতে পারে কি-না?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ তাকে আরও জিজ্ঞেস করা হলো, ‘মোমিন কৃপণ হতে পারে কি-না?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ আবার জিজ্ঞেস করা হলো, ‘মোমিন মিথ্যাবাদী হতে পারে কি?’ তিনি বললেন, ‘না।’ (সুনানে বায়হাকি)। অর্থাৎ একজন মুসলমান অন্যান্য গোনাহ করলেও মিথ্যা বলার মতো ভয়াবহ গোনাহ করতে পারে না।

    জ্ঞানীরা কম কথা বলেন
    বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদগণ সর্বসম্মতভাবে এ কথা বলেছেন, ‘কথা বা শব্দের পদস্খলনই বিপদ বা ধ্বংসের কারণ। জ্ঞানী ও বিচক্ষণ মানুষ সবসময় কম কথা বলেন। কথা মেপে মেপে বলেন। কারণ, অহেতুক ও অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি কথা বললে ভুল, মিথ্যা বা বিপজ্জনক কথা বের হওয়ার আশঙ্কা অধিক। ফলে ঈমানদার, প্রজ্ঞাবান ও সচেতন মানুষ কম কথা বলেন। তারা সর্বদা আল্লাহতায়ালার জিকিরে জিহ্বাকে ব্যস্ত রাখেন।’

    ভালো কথার পুরস্কার ও খারাপ কথার শাস্তি
    আল্লাহতায়ালার ভয়ে জ্ঞানীরা কথা বলার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন। মিথ্যা, মন্দ, অশ্লীল ও অহেতুক কথা থেকে নিজেকে হেফাজত রাখার জন্য সবসময় অস্থির থাকেন। কারণ, তারা জানেন, প্রতিটি কথাই লিপিবদ্ধ হয়। সে অনুযায়ী ভালো কথার পুরস্কার ও খারাপ কথার শাস্তি দেওয়া হয়। এ জন্য তারা আল্লাহতায়ালার জিকির, ভালো কথার বাইরে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলেন না। বরং অধিকাংশ সময়ে নিশ্চুপ থেকে দ্বীন সম্পর্কে ভাবনা-চিন্তা করেন।

    জবানকে চক্রান্ত ও অপরের ক্ষতির জন্য ব্যবহার
    পক্ষান্তরে আরেকদল আছে, যারা নিজের কথা বা জিহ্বার লাগাম ছেড়ে দেয়। সবসময় অহেতুক, অপ্রয়োজনীয় বা অশ্লীল কথা বলতে পরোয়া করে না। সুযোগ পেলেই গিবত-পরচর্চা, মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র করতে পিছপা হয় না। জবানকে তারা চক্রান্ত ও অপরের ক্ষতির কাজেই নিয়োজিত করতে সাময়িক তৃপ্তি পায়। এমন লোকের সংখ্যা সমাজে অনেক। অথচ হাদিসে সুস্পষ্ট ভাষায় হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।

    প্রকৃত মুসলমানের স্বরূপ
    প্রতিদিন আমরা সবার সঙ্গে কমবেশি কথা বলি। কথা বলার মধ্যে অনেক সময় ভুল-ত্রুটি হয়। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, হাসি-তামাশায় কখনও কখনও অসত্য কথাও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়। যা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম ও নিষিদ্ধ। পবিত্র জিহ্বা দিয়ে যখন অপবিত্র মিথ্যা কথা বেরিয়ে আসে, তখন সমাজ ও সংসারে তৈরি হয় নতুন সমস্যা। জিহ্বার হেফাজত করার ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার জবান ও হাত দ্বারা অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।’ (বোখারি : ৬৪৮৪)।

    উত্তম কথা বলার তাগিদ
    কথা বা জবানের ব্যাপারটি কত গুরুত্বপূর্ণ, তা পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াত থেকেও জানা যায়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে নবী! আমার বান্দাদের বলে দিন, তারা যেন কথা বলার সময় এমন সব কথা বলে, যা উত্তম। কেননা, শয়তান তাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির প্রতি উৎসাহিত করে।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ১২)।

    জবানই বিশৃঙ্খলা ও শাস্তির কারণ
    আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘একজন আরেকজনের গিবত কোরো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে। আর অবশ্যই তোমরা তা অত্যন্ত ঘৃণা করো।’ (সুরা হুজরাত : ১২)। অতএব, কথা বলার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভুল বা বিপজ্জনক কথা, যেমন—মিথ্যা, গিবত, কুটনামি ইত্যাদি কথার মাধ্যমে প্রকাশ পেলে তা অশেষ বিশৃঙ্খলা ও শাস্তির কারণ।

    কথায় হোক সতর্কতা
    কথার দ্বারা কমপক্ষে দশটি বিপদের বিষয়ে ইসলামি স্কলারগণ সতর্ক করেছেন। সেগুলো হলো—মিথ্যা, গিবত, চোগলখোরি, বেহুদা বকবকানি, গালি-গালাজ, অশ্লীলতা, অভিসম্পাত, ঠাট্টা-বিদ্রুপ, উস্কানি, হিংসা-বিদ্বেষ প্রচার ইত্যাদি। যারা অসতর্ক হয়ে নিজের মনের খেয়ালে ও বেপরোয়া-লাগামহীনভাবে কথা বলে, তাদের দ্বারা এসব বিপদ ঘটার আশঙ্কা সর্বাধিক।

    অহেতুক কথা সামাজিক বিশৃঙ্খলার কারণ
    কখনও এমন হয়, বলতে বলতে বেশি কথা বলাটাই কিছু মানুষের অভ্যাস হয়ে যায়। সাধারণ কাজের মতোও সে তখন মিথ্যা, গিবত ইত্যাদি বলতে থাকে। এগুলো যে চরম অপরাধ ও গোনাহের কাজ, তা অনুধাবণ করার মতো ক্ষমতা বা মানসিক পরিস্থিতিও তার থাকে না। বেশি কথা বলার কু-অভ্যাসের দাস হয়ে সে প্রতিদিনই নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আজেবাজে ও অহেতুক কথা বলে সামাজিক বিশৃঙ্খলার কারণ এবং গোনাহের ভাগীদার হতে থাকে।

    রমজান ও কথা
    রমজান মাসে কৃচ্ছ্বতার সময়ও কারও কারও মধ্যে কথাবার্তায় বেপরোয়া ভাব দেখা যায়। অকাতরে মিথ্যা, গিবত, চোগলখোরি, বেহুদা বকবকানি, গালি-গালাজ, অশ্লীলতা, অভিসম্পাত, ঠাট্টা-বিদ্রুপ, উস্কানি, হিংসা-বিদ্বেষ প্রচার, কুৎসা, পরচর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে অন্য মানুষের এবং নিজের বিপদ সৃষ্টি এবং আশপাশের পরিবেশ বিনষ্ট করতে অনেকেই তৎপর হয়। সারা বছরের বদঅভ্যাসের দাস হয়ে রমজানের পবিত্র পরিবেশকেও বিনষ্টে কেউ কেউ তৎপর হয়। অথচ তাদের রোজা কতটুকু কাজে আসবে, সে ব্যাপারে তারা মোটেও ভাবনা-চিন্তা করে না।

    এসব অপকর্মের মাধ্যমে রোজা নষ্টের পাশাপাশি অন্য রোজাদারকে কষ্ট দিয়ে অধিক গোনাহের ভাগীদার হয় সেসব দুর্ভাগা লোক। ফলে রোজার সময় শারীরিক সংযমের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গ তথা জবানের নিয়ন্ত্রণ করা একান্ত জরুরি। মাহে রমজানের জবান বা কথার অপব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা বিশেষভাবে অপরিহার্য্য।

  • ইফতার ও সেহরির সময়সূচি : ১০ রমজান

    ইফতার ও সেহরির সময়সূচি : ১০ রমজান

    আজ মঙ্গলবার, ১০ রমজান ১৪৪৩ হিজরি, ১২ এপ্রিল ২০২২ইং। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক ঘোষিত ঢাকা ও তার পাশ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের ইফতার ও সেহরির (১১ রমজানের) সময়সূচি এবং ইফতারের দোয়া ও রোজার নিয়ত তুলে ধরা হলো-

    ইফতার – ৬:২৩ মিনিট।
    সেহরির শেষ সময় (১১ রমজান, ১৩ এপ্রিল) – ৪:১৭ মিনিট।

    তবে দূরত্ব অনুযায়ী ঢাকার সময়ের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১১ মিনিট পর্যন্ত যোগ করে ও ১০ মিনিট পর্যন্ত বিয়োগ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ সেহরি ও ইফতার করতে হবে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

    ইফতারের দোয়া
    بِسْمِ الله – اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ وَ اَفْطَرْتُ
    উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি – আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আলা রিযক্বিকা আফত্বারতু।’
    অর্থ : ‘আল্লাহর নামে (শুরু করছি); হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি। (আবু দাউদ, মিশকাত)

    সেহরির পর রোজার নিয়ত
    بِصَوْمِ غَدًا نَوَيْتُ مِنْ شَهْرِ رَمَضَان
    উচ্চারণ : ‘বিসাওমি গাদান নাওয়াইতু মিন শাহরি রামাদান।
    অর্থ : আমি রমজান মাসের আগামীকালের রোজা রাখার নিয়ত করছি।

  • রহমত শেষ হয়ে মাগফিরাতের বৃষ্টি ঝরবে আজ

    রহমত শেষ হয়ে মাগফিরাতের বৃষ্টি ঝরবে আজ

    মাহে রমজানের রহমতের দশক শেষ আজ। সন্ধ্যা থেকেই শুরু হবে মাগফিরাতের দশক। দুনিয়ার সব গোনাহগার মানুষের জন্য চিরস্থায়ী শান্তি ও মুক্তির দিশারী এ মাগফিরাতের দশক। এ দশকে বান্দার ক্ষমা লাভ আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত লাভের এবং তৃতীয় ১০ দিন জাহান্নাম থেকে নাজাত প্রাপ্তির।’ (মিশকাত)।

    ক্ষমা লাভের আবেদন
    মোমিন ব্যক্তি সারা বছরের নেকি ও পুণ্যের ঘাটতি পূরণের জন্য প্রানান্তকর চেষ্টা-সাধনা করেন এ রমজান মাসে। যে চেষ্টা সাধনায় যাবতীয় পাপ-পঙ্কিলতা, অন্যায়, অপরাধমূলক চিন্তাভাবনা ও অসৎ কাজকর্ম থেকে ক্ষমা লাভ হয় এ দশকে। এ জন্য মোমিন বান্দা প্রথম ১০ দিন সব ধরনের অন্যায় থেকে নিজেকে মুক্ত করে আল্লাহর রহমত কামনায় অতিবাহিত করে। ফলে সে আল্লাহর রহমত তথা দয়া, করুণা ও অনুগ্রহ লাভে ধন্য হয়। এমনিভাবে রমজান মাসের দ্বিতীয় ১০ দিন অতিবাহিত করে গোনাহ থেকে ক্ষমা লাভের আবেদন নিয়ে। তখন আল্লাহ রহমতপ্রাপ্তদের গোনাহ মাফ করে দেন।

    মাগফিরাত লাভে করণীয়
    হাদিসে বর্ণিত আছে, রমজান মাসের প্রতি রাতেই একজন ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন, ‘হে পুণ্য অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে পাপাচারী! থামো, চোখ খোলো।’ তিনি আবার ঘোষণা করেন, ‘ক্ষমাপ্রার্থীকে ক্ষমা করা হবে। অনুতপ্তের অনুতাপ গ্রহণ করা হবে। প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করা হবে।’ সুতরাং মাগফিরাত বা ক্ষমা লাভে প্রত্যাশী এ দশকের প্রতি রাতেই গোনাহ মাফে রোনাজারি করবে। আশা করা যায়, রমজানে হাদিসের আমল আল্লাহতায়ালা কবুল করবেন।

    মাগফিরাত পেতে আমল
    মাগফিরাত প্রত্যাশী মোমিন বান্দার উচিত, আজ সন্ধ্যা থেকেই তারাবির নামাজ যথাযথ আদায় করে চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে রোনাজারি করা, অসহায় ব্যক্তিদের ইফতার করানোর মাধ্যমে গোনাহ মাফের চেষ্টা করা, রাতের ইবাদত-বন্দেগির সঙ্গে সঙ্গে রাতে আল্লাহর সাহায্য কামনায় হাদিসের ওপর আমল করা। তবেই মাগফিরাত বা গোনাহ থেকে ক্ষমা লাভ করা সম্ভব। আল্লাহতায়ালা মুসলিম উম্মাহকে মাগফিরাতের দশকে ক্ষমা লাভ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

    যাদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য
    রমজানের রোজা হলো, গোনাহ মাফ এবং মাগফিরাত লাভের মধ্য দিয়ে চিরশান্তি, চিরমুক্তির একটি সুনিশ্চিত ব্যবস্থা, অতি নির্ভরযোগ্য এক সুযোগ। কিন্তু যে বা যারা এ সুযোগের সদ্ব্যবহার না করে, তার ধ্বংস অনিবার্য; তার বিপদ অবশ্যম্ভাবী। কেননা, ইমাম বোখারি (রহ.) রচিত আল মুফরাদ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জিবরাইল (আ.) এসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, ‌ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তি, যে রমজান মাস পাওয়ার পরও নিজের গোনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারল না। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমিন’। আরেক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল, কিন্তু এ মাসেও তাকে ক্ষমা করা হলো না; সে আল্লাহতায়ালার রহমত থেকে চিরবঞ্চিত ও বিতাড়িত।’ (মুসতাদরাকে হাকিম)।

    প্রথম দশকের আমলে নির্ভর ক্ষমা
    মাগফিরাত মানে ক্ষমা। নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়া। খারাপ কাজগুলো পরিহার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। নিয়মকানুন মেনেই আমরা রোজা পালন করে আসছি। কিন্তু মিথ্যা কথা, কুটনামি করা, গিবত বা পরনিন্দা করা, মিথ্যা কসম খাওয়া, কুনজর বা কামুক দৃষ্টিতে তাকানো—এসব খারাপ দিকগুলো কি পরিহার করতে পেরেছি? এ খারাপ বিষয়গুলো রোজাকে ধ্বংস করে দেয়। রমজানের প্রথম দশকে আমল শুদ্ধ করার ওপর নির্ভর করে ক্ষমার সুসংবাদ।

    ক্ষমা লাভের বিশেষ দোয়া
    মাগফিরাতের দশকে ক্ষমা লাভের একটি দোয়া আমরা বেশি বেশি করতে পারি। তা হলো—
    আল্লাহুম্মা হাব্বিব ইলাইয়্যা ফি-হিল ইহসান; ওয়া কাররিহ ফিহিল ফুসুক্বি ওয়াল ই’সইয়ান; ওয়া হাররিম আলাইয়্যা ফি-হিস সাখাত্বা ওয়ান নিরানা বিআ’ওনিকা ইয়া গিয়াছাল মুসতাগিছিন।
    অর্থ : হে আল্লাহ! এ দিনে সৎ কাজকে আমার কাছে প্রিয় করে দাও। আর অন্যায় ও নাফরমানিকে অপছন্দনীয় করো। তোমার অনুগ্রহের উসিলায় আমার জন্য তোমার ক্রোধ ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হারাম করে দাও। হে আবেদনকারীদের আবেদন শ্রবণকারী!

    আল্লাহতায়ালা রমজান মাসের রোজা পালন, ইবাদাত-বন্দেগি ও দোয়া-ইস্তিগফারের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে ক্ষমা করে তাঁর আনুগত্যশীল বান্দাদের মধ্যে শামিল হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।

  • রমজানে যে ৩ গুণ অর্জন করা জরুরি

    রমজানে যে ৩ গুণ অর্জন করা জরুরি

    সব প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি বরকতময় রমজান মাসকে মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত মাগফেরাত ও নাজাত পাওয়ার উসিলা বানিয়েছেন। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর এ মাসেই মানুষের জীবন বিধান হিসেবে এই কোরআনুল কারিম নাজিল করেছেন। কোরআনের হেদায়েত পাওয়ার সর্বোত্তম মাসও এটি।

    ১. মসজিদে সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা

    মসজিদে সঙ্গে রোজাদারের সম্পর্ক হোক স্থায়ী। কোনো মুমিন মুসলমানের জন্য এমনটি হওয়া উচিত নয় যে, সে শুধু রমজানেই নামাজ পড়তে মসজিদে যাবে। বরং মসজিদের সঙ্গে সব মুসল্লির সম্পর্ক হবে স্থায়ী। মুমিনের জন্য দুনিয়াতেই মসজিদ হবে জান্নাতের সর্বোত্তম নমুনা।

    ২. রমজানে কোরআন শেখা

    রমজান হোক কোরআন শেখার মাস। রমজানে কোরআনের সঙ্গে তৈরি হোক স্থায়ী সম্পর্ক। কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক যেন রমজান কেন্দ্রিক না হয়। রমজানে কোনো ইসলামিক স্কলার কিংবা কোনো ব্যক্তির উপদেশ যেন এমন না হয়-

    ‘কোরআন তেলাওয়াত করতে না পারলে বা না জানলে ‘কুল হুওয়াল্লাহ’ সুরা কিংবা কোনো দোয়া-জিকিরের অজিফা দুই শত বার কিংবা চার শত বার পড়ুন!’

    বরং রমজান মাস হলো কোরআন শেখার সর্বোত্তম মাস। কোরআন পড়তে না জানলে ২/৪/৬ কিবাং হাজার বার কোনো সুরা, দোয়া পড়ার তালিম নয়; বরং আউজুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ থেকে শুরু করে এক আয়াত, দুই আয়াত, একটি সুরা, দুইটি সুরা, এক পারা, দুই পারা- এভাবে কোরআন শেখানো বা শেখার উপদেশই সর্বোত্তম। এভাবে কোরআন পড়া ঈমানের একান্ত দাবি। কোরআন নাজিলের মাস রমজানেই মুমিন মুসলমানের জন্য তেলাওয়াত শেখার সর্বোত্তম সুযোগ।

    মনে রাখতে হবে

    কেউ যদি কোরআন পড়তে না পারেন তবে জোড় দিয়ে এ কথা বলতে হবে। আপনি কোরআন শিখুন। আপনাকে কোরআন পড়তে হবে। কোরআন শিখতে হবে।

    অনেকে রমজান মাসে তারাবিতে কোরআন শুনে। তারাবির নামাজে কোরআন তেলাওয়াত শোনা কোনো মুমিনের শান নয়। বরং মুমিনকে কোরআন তেলাওয়াত শোনানোর যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। কোরআন পড়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এক সুরা, দুই সুরা, এক পারা, দুই পারা এভাবে পরিমাণ বাড়াতে হবে। যেন এক পর্যায়ে পুরো কোরআন তেলাওয়াত করতে সক্ষম হয়।

    দেখে দেখে পুরো কোরআন পড়ার যোগ্যতা অর্জন করার মাধ্যমে রমজানের রহমত মাগফেরাত ও নাজাত পাওয়ার চেষ্টা করা। তাই রমজানেই কোরআন শেখার মেহনত শুরু করা জরুরি। প্রয়োজনে আরবি ২৯টি হরব শেখার মাধ্যমে তা শুরু করা যেতে পারে।

    কোরআন শেখার হুকুম

    কোরআন শেখা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্য ফরজ। বিশুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত শেখা সবার উপর ফরজ। কোরআন শেখার জন্য কোনো অজুহাত-ওজরের প্রয়োজন নেই। আর কোনো ওজর দিয়ে পার পাওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।

    শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সবার জন্য পুরো কোরআন তথা সুরা ফাতেহা থেকে নাস পর্যন্ত দেখে দেখে বিশুদ্ধভাবে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করা জরুরি। তাই রমজানই হোক সবার জন্য কোরআন শেখার সর্বোত্তম সময়।

    ৩. কোরআনের লানত/অভিশাপ থেকে বেঁচে থাকা

    এমন অনেক মানুষ আছে, যারা কোরআন তেলাওয়াত করে আর কোরআন তাদের লানত করে। অভিশাপ দেয়। কোরআনের ভাষায় নিজেকে নিজে লানত করে চলেছে। বিষয়টি এমন-

    কোনো লোক নিজে মিথ্যাবাদী। কথা ও কাজে মিথ্যা ত্যাগ করে না অথচ সে তেলাওয়াত করছে-

    فَنَجْعَلْ لَعْنَتَ اللهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ

    মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর লানত বা অভিশাপ।

    কোনো লোক নিজে অন্যের উপর অত্যাচারী। মানুষের উপর যুলম করে। হয়ত সে পড়ছে-

    أَلَا لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الظَّالِمِينَ

    অত্যাচারীদের উপর আল্লাহর লানত।

    এভাবে কোরআন তেলাওয়াতকারী নিজেই নিজের ধ্বংসের জন্য আল্লাহর কাছে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ধ্বংস প্রার্থনা করে। তাই কোরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, রমজানে মসজিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়বো এবং কোরআন তেলাওয়াত শেখার পাশাপাশি কোরআনের লানত থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা। মিথ্যা ও অত্যাচার থেকে মুক্ত থাকাও জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের রোজায় মসজিদ হয়ে এবং কোরআন তেলাওয়াত শিখে বছরব্যাপী এ আমল জারি রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • রোজা অবস্থায় মাসিক হলে করণীয়

    রোজা অবস্থায় মাসিক হলে করণীয়

    প্রশ্ন : রোজা অবস্থায় কোনো নারীর যদি পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব দেখা দেয়, তাহলে সে রোজা রাখবে কি-না?
    উত্তর : রোজা অবস্থায় নারীদের মাসিক আরম্ভ হলে বা ঋতুস্রাব (হায়েজ) ও প্রসবোত্তর স্রাব (নেফাস) দেখা দিলে রোজা ভেঙে যাবে। তবে সক্ষম হলে ওইদিন রোজার সম্মানার্থে ইফতার পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা ভালো। পরে এ রোজা কাজা আদায় করে নেবেন।

    যারা উপযুক্ত ওজরের কারণে রোজা রাখতে পারবেন না, তারা রমজানের সম্মানার্থে অন্যদের সামনে পানাহার করবেন না। এটা তাকওয়ার পরিচায়ক। (সুরা হজ : ৩২)।

    অনুরূপভাবে রমজানে দিনের বেলায় নারীদের মাসিক বা ঋতুস্রাব বন্ধ হলে, সেদিনের অবশিষ্ট সময় পানাহার থেকে বিরত থাকবেন। এটি রোজার সম্মানে, রোজা হিসেবে নয়। এ দিনের রোজা আদায় করতে হবে। পরদিন থেকে রোজা পালন করবেন।

    এমতাবস্থায় নারীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবেন, সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করতে পারবেন। রান্নাবান্না করা, দোয়া-দুরুদ পড়া, তাসবিহ-তাহলিল—সবই স্বাভাবিকভাবে করবেন। সেহরি-ইফতারেও শরিক হতে পারবেন।

  • নামাজের সময়সূচি: ১২ এপ্রিল ২০২২

    নামাজের সময়সূচি: ১২ এপ্রিল ২০২২

    আজ সুর্যাস্ত- ৬:১৮ মিনিট।

    > আগামীকালের (১৩ এপ্রিল) সূর্যোদয়- ৫:৩৯ মিনিট।

    বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, তাহলো-

    বিয়োগ করতে হবে

    > চট্টগ্রাম : -০৫ মিনিট

    > সিলেট : -০৬ মিনিট

    যোগ করতে হবে-

    > খুলনা : +০৩ মিনিট

    > রাজশাহী : +০৭ মিনিট

    > রংপুর : +০৮ মিনিট

    > বরিশাল : +০১ মিনিট

    তথ্যসূত্র : ইসলামিক ফাউন্ডেশন

  • আসুন নিজেকে বদলে ফেলি

    আসুন নিজেকে বদলে ফেলি

    আল্লাহতায়ালার অপার অনুগ্রহে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ সিয়াম সাধনা আর বিশেষ ইবাদতের মধ্য দিয়ে পবিত্র মাহে রমজানের দিনগুলো অতিবাহিত করছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ এবং আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি নিরাপদ দুর্গ।’ (সহিহ বোখারি)। আমরা অনেকেই আছি, যারা এ ঢালকে কাজে লাগাচ্ছি না। আর ইবাদতে মগ্ন না হয়ে বৃথা সময় অতিবাহিত করছি।

    আমাদের উচিত, এ দিনগুলোতে বৃথা সময় নষ্ট না করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে রত হওয়া। কেননা, বিশ্বের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। একদিকে গত দু’বছর ধরে চলছে বিশ্বময় করোনা মহামারি। অপরদিকে রাশিয়া-ইউক্রেনে চলছে যুদ্ধ। আল্লাহই ভালো জানেন, কখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগে যায়!

    রমজানে আত্মবিশ্লেষণ
    পৃথিবীর সব চেষ্টা-প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও আল্লাহতায়ালা ইচ্ছে করলে এক মুহূর্তেই পারেন বিশ্বের সব বালা-মসিবত দূর করতে। কিন্তু এর আগে আমাদের সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। পবিত্র রমজানে আমাদের রাতগুলোকে ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত রাখতে হবে। সেজদার স্থানগুলোকে অশ্রুজলে সিক্ত করতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের আত্মবিশ্লেষণ করা উচিত, আমরা কি আল্লাহর অধিকার এবং বান্দার অধিকার পরিপূর্ণভাবে আদায় করেছি?

    প্রকৃত সাহায্যকারী মহান আল্লাহ
    আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তুমি বলো, আকাশসমূহের ও পৃথিবীর আদি দ্রষ্টা আল্লাহ ছাড়া আমি কি অন্য কোনো সাহায্যকারী গ্রহণ করতে পারি? অথচ তিনি রিজিক দান করেন; কিন্তু কারও রিজিক গ্রহণ করেন না।’ (সুরা আনআম : ১৪)। পবিত্র কোরআনের এ আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, আমাদের সবার প্রকৃত সাহায্যকারী হচ্ছেন মহান রাব্বুল আলামিন। তিনিই পারেন আমাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করতে।

    সন্তানদের উত্তম শিক্ষাদান
    রমজান মাসে আমরা অধিক সময় বাসায় অবস্থান করার সুযোগ পাই। এ সুবাদে হাতে প্রচুর সময়ও পাই। তাই এখন সন্তানদের উত্তম শিক্ষা দেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কোনো পিতা তার পুত্রকে উত্তম শিষ্টাচার অপেক্ষা অধিক শ্রেয় আর কোনো বস্তু দান করতে পারে না।’ (তিরমিজি)। তাই পিতামাতার উচিত, পুরো রমজানে সন্তানদের উত্তম শিক্ষা দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

    পিতামাতার প্রতি করণীয়
    আবার পিতামাতার প্রতিও সন্তানের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। পিতামাতার প্রতি আমাদের যা করণীয়, এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমার প্রতিপালক একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার এবং পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার তাগিদপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন। তোমার জীবদ্দশায় তাদের একজন বা উভয়েই বার্ধক্যে উপনীত হলে তুমি তাদের উদ্দেশে বিরক্তিসূচক উহ্-ও বোলো না। তাদের বকাঝকা কোরো না। বরং তাদের সঙ্গে সদা বিনম্র ও সম্মানসূচক কথা বলো। তুমি মমতাভরে তাদের উভয়ের ওপর বিনয়ের ডানা মেলে ধরো। দোয়ার সময় বলবে, হে আমার প্রতিপালক! তুমি তাদের প্রতি সেভাবে দয়া করো, যেভাবে শৈশবে তারা আমায় লালন-পালন করেছিল।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৩-২৪)।

    ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি পরীক্ষাস্বরূপ
    আল্লাহতায়ালা এ পৃথিবীতে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি দিয়ে থাকেন পরীক্ষা করার জন্য। অনেককে আল্লাহতায়ালা প্রচুর ধন-সম্পদ দান করেন ঠিকই; কিন্তু সেই ধন-সম্পদের সঠিক ব্যবহার না করার ফলে দেখা যায়, সে ধ্বংস হয়ে যায়। আবার কাউকে সন্তান-সন্তুতি দেন ঠিকই; কিন্তু তাদের সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত না করার ফলে এ সন্তান তার জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। সন্তান-সন্তুতি যদি প্রকৃত নৈতিকগুণ সম্পন্ন না হয়, তাহলে মাতাপিতার জন্য তা একটি আজাব বৈ কিছুই নয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি দুনিয়ার সৌন্দর্য। এ সন্তান-সন্তুতি যদি আদর্শ চরিত্রের না হয়, তাহলে তা হয় মা-বাবার জন্য পরীক্ষার কারণ ও দুঃখের বোঝা।’ (সুরা কাহাফ : ৪৬)।

    এ জন্যই আল্লাহতায়ালা মোমিনদের হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘জেনে রাখো, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি পরীক্ষার কারণ।’ (সুরা আনফাল : ২৭)। একজন পিতামাতা হিসেবে সন্তানের সুশিক্ষায় আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি।

    শান্তির সুবাতাসের উপায়
    পবিত্র মাহে রমজানের এ দিনগুলোকে বৃথা নষ্ট না করে সন্তানদের তরবিয়তের দিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। সন্তানদের নিয়ে বসতে হবে। তাদেরকে সময় দিতে হবে। সন্তানরা কোরআন পড়তে না পারলে তাদের শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। রমজানের এ দিনগুলোতে আমরা যদি ঘরগুলোতে ধর্মীয় আলোচনা করি, আর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করি, তাহলে সন্তানদের মাঝে যেমন নামাজ পড়ার অভ্যাস সৃষ্টি হবে, পাশাপাশি পরিবারে প্রবাহিত হবে শান্তির সুবাতাস।

    আল্লাহর কাছে রমজানের ইবাদতের গুরুত্ব অনেক বেশি। আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একটি রোজা রাখে, তার এ একটি দিনের বিনিময়ে আল্লাহতায়ালা তাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।’ (বোখারি ও মুসলিম)।

    রমজান কাটুক আধ্যাত্মিকতা চর্চায়
    পবিত্র মাহে রমজানের এ দিনগুলো কাটাতে হবে আধ্যাত্মিকতা চর্চায়। আমরা আমাদের সন্তানদের নামাজের দোয়াগুলো অর্থসহ শেখাতে পারি। কোরআন-হাদিসের বিভিন্ন দোয়া মুখস্থ করাতে পারি। পবিত্র কোরআন থেকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে পারি। বিভিন্ন ইসলামি বই পাঠচক্রের আকারে পড়ার আয়োজন করতে পারি। সেহরির আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে পারি।

  • যে নিয়মে সেহরি ও ইফতার করবেন

    যে নিয়মে সেহরি ও ইফতার করবেন

    সেহরি ও ইফতার মাহে রমজানের অন্যতম দুটি অনুষঙ্গ। এর মৌলিক নিয়মকানুন ও দোয়াগুলো কী? হাদিসের আলোকে তা নিয়ে লিখেছেন—মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ

    সেহরি খাওয়া
    সেহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরির সুন্নত আদায় হবে। (সহিহ মুসলিম : ১/৩৫০)।

    খাওয়ার সময়
    সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময় সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এত দেরি করা মাকরুহ যে, সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়। (আল মুজামুল আওসাত : ২/৫২৬)।

    ইফতার করা
    দেরি না করে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা মুস্তাহাব। (সহিহ বোখারি : ১/২৬৩)।

    ইফতারের সময়
    মাগরিবের নামাজ পড়ার আগেই ইফতার করে নেবেন। যেন সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করার সওয়াব পাওয়া যায়। (তিরমিজি : ৬৯২)।

    যা দিয়ে ইফতার
    খেজুর দ্বারা ইফতার করা মুস্তাহাব। খেজুর না পেলে পানি দ্বারা ইফতার করবেন। (তিরমিজি : ৬৯৪)।

    ইফতারের আগে দোয়া
    ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়। তাই এ সময় বেশি বেশি দোয়া-ইস্তিগফার করতে হয়। বিশেষত এ দোয়া পড়া যায়—
    اَللهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِيْ وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِيْ
    অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার সেই রহমতের উসিলায় প্রার্থনা করছি, যা সব বস্তুকে পরিবেষ্টিত। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৭৫৩)।

    ইফতার গ্রহণের সময় দোয়া
    ইফতার গ্রহণের সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দোয়া পড়তেন—
    اَللهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلىٰ رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
    অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই রোজা রেখেছিলাম এবং তোমার রিজিক দ্বারাই ইফতার করলাম। (সুনানে আবি দাউদ : ২৩৫৮)।

    ইফতারের পর দোয়া
    ইফতারের পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দোয়া পড়তেন—
    ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوْقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللهُ
    অর্থ : পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সতেজ হলো। আর আল্লাহতায়ালা চান তো রোজার সওয়াব লিপিবদ্ধ হলো। (সুনানে আবি দাউদ : ২৩৫৭)।