Category: ইসলাম

  • আল্লাহ যাদের ধর্মীয় জ্ঞান দান করেন

    আল্লাহ যাদের ধর্মীয় জ্ঞান দান করেন

    নিউজ ডেস্কঃঃ আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের ইলম বা জ্ঞান দান করেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে এমন কথা ঘোষণা দিয়েছেন। আর দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা সবার জন্য ফরজ। ইমাম বুখারি ও মুসলিম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি দ্বীনি ইলম শিক্ষা সংক্রান্ত হাদিসটি একসঙ্গে নিজ নিজ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এভাবে-

    হজরত মুআবিয়া ইবন আবু সুয়িান রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের ইলম দান করেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    আল্লাহ যে ব্যক্তি কল্যাণ ও উপকার কামনা করেন, তাকে আল্লাহ তাআলা ইমলামি শরিয়তের বিধানের আলেম ও বিচক্ষণ বানান। ফিকহ শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়-

    এক. ইসলামি শরিয়তের বিস্তারিত দলিল (কোরআন ও সুন্নাহ) থেকে নির্গত কর্ম সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীর বিধান সম্পর্কে থেকে জানা। যেমন- ইবাদত ও মুয়ামালাতের বিধান।

    দুই. আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে সব জ্ঞান রাখা। তাতে ঈমানের উসুল, ইসলামের বিধান, হারাম-হালাল, আখলাক ও আদাব সবই শামিল করে।

    হাদিসের উপকারিতাসমূহ

    ১. হাদিসটিতে দ্বীনি জ্ঞানের মহত্বকে প্রমাণ করে এবং তা শেখার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে।

    ২. ফিকহ শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহার হয়, এক. যার মাধ্যমে শরিয়তের মূল উৎসমূহ তথা কোরআন ও হাদিস থেকে বিস্তারিত দলিল-প্রমাণসহ ব্যবহারিক জীবনের বিভিন্ন বিধি-বিধান জানা যায়। দুই. আল্লাহর দীন সম্পর্কে সামগ্রীক জ্ঞান রাখা। তাতে ঈমানের উসুল, ইসলামের বিধান, ইহসানের হাকিকত ও হারাম হালাল সবই রয়েছে।

    ৩. হাদিস থেকে প্রতিয়মান হয়, যে ব্যক্তি দ্বীনি জ্ঞান থেকে বিমুখ হয়, আল্লাহ অবশ্যই তার কল্যাণের ইরাদাহ করেননি।

    ৪. যে ব্যক্তি ইলমের প্রতি যত্ববান হয়, অবশ্যই আল্লাহ তাকে মহব্বত করেন। কারণ, আল্লাহ তাকে ইলম লাভ ও ফিকহের জ্ঞান অর্জনের তাওফিক দেওয়ার দ্বারা তার কল্যাণের ইরাদা করেছেন।

    ৫. দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের কারণে তার প্রশংসা করা হবে। আর যে দ্বীন ছাড়া অন্য কোনো জ্ঞান অর্জন করে তবে তার প্রশংসাও করা হবে না; নিন্দাও করা হবে না। তবে হ্যাঁ, যদি তা কোন ভালো কাজের উপকরণ হয় তবে তা প্রশংসিত হবে। আর যদি খারাপ কাজের হয় তাহলে তা নিন্দনীয় হবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দ্বীনি ইলম অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • গুনাহ সম্পর্কে নবিজির (সা.) কয়েকটি হাদিস

    গুনাহ সম্পর্কে নবিজির (সা.) কয়েকটি হাদিস

    ইসলামিক ডেস্কঃঃ হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন জিনিসের বদৌলতে বেশির ভাগ লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে। তিনি বলেন, তাক্বওয়া ও সচ্চরিত্রের বদৌলতে। তাকে আরও জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন জিনিসের কারণে অধিকাংশ লোক জাহান্নামে যাবে? তিনি বলেন, দুটি অংগ- মুখ ও লজ্জাস্থান।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘মুমিন ব্যক্তি যখন গুনাহ করে তখন তার কলবে একটি কালো দাগ পড়ে। এরপর সে তওবা করলে, পাপকাজ ত্যাগ করলে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করলে তার কলব পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। সে আরও গুনাহ করলে সেই কালো দাগ বেড়ে যায়। এই সেই মরিচা যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন- ‘কক্ষনো নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে জং (মরিচা) ধরিয়েছে’ (সুরা আল-মুতাফফিফিন : আয়াত ১৪)।’ (ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ)

    হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, ‘হে আয়েশা! ক্ষুদ্র গুনাহ থেকেও সাবধান হও। কারণ সেগুলোর জন্যও আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ, দারেমি)

    হজরত আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা জাহেলি যুগে যা (গুনাহের কাজ) করেছি, সে সম্পর্কে কি আমাদের জাবাবদিহি করতে হবে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যারা ইসলাম গ্রহণের পর ভালো কাজ করেছে তাদেরকে জাহেলি যুগের কৃতকর্ম সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি (ইসলাম গ্রহণের পরও) মন্দ কাজ করবে, তাকে পূর্বাপর সব কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।’ (ইবনে মাজাহ, বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, দারেমি)

  • জুমার যে আমলে ১০ দিনের গুনাহ মাফ

    জুমার যে আমলে ১০ দিনের গুনাহ মাফ

    ইসলামিক ডেস্কঃঃ মর্যাদা ও সম্মানের দিন জুমা। এ দিনের রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত। যার বর্ণনায় রয়েছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক উপদেশ। জুমার দিনের আমলে আল্লাহ তাআলা ১০ দিনের গুনাহ মাফ করে দেন। জুমার দিনের এ আমলটি কী?

    জুমার দিন মুসল্লিদের করণীয় ও প্রাপ্তি নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিসে ১০ দিনের গুনাহ মাফের কথা ওঠে এসেছে। যে কারণে গুনাহ মাফ হয় তাহলো-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গোসল করে জুমার (নামাজ পড়ার) জন্য এলো। এরপর তার জন্য যত রাকাত নামাজ ভাগ্যে ছিল তা আদায় করলো। এরপর ইমামের খুতবা শেষ করা পর্যন্ত চপু করে থাকলো (খুতবা শুনলো) এবং তাঁর (ইমামের) সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করলো, তার জন্যে (ওই ব্যক্তির জন্য) দুই জুমার মাঝের ও অতিরিক্ত আরো তিন দিনের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম)

    হাদিসের আলোকে ১০ দিনের গুনাহ মাফ পাওয়ার জন্য জুমার দিন যে কাজগুলো করতে হবে, তাহলো-

    ১. গোসল করা।

    ২. মসজিদে প্রবেশ করে খুতবার আগে যত রাকাত সম্ভব নামাজ পড়া।

    ৩. চুপ থেকে ইমামের খুতবা শোনা।

    ৪. ইমামের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা।

    সুতরাং জুমার মুসল্লিদের উচিত, এ দিন গোসল করা, মসজিদে গিয়ে খুতবার আগে যতটুকু সম্ভব নামাজ পড়া। চুপ থেকে খুতবা শোনা এবং ইমামের সঙ্গে জুমার আদায় করা। আর এর বিনিময়ে মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তির ১০ দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।

    আল্লাহ তাআলা জুমার সব মুসল্লিকে নিয়মিত এ আমল করে ১০ দিনের গুনাহ থেকে মুক্তির তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যে তাসবিহ পড়লে আমলের পাল্লা ভারী হয়

    যে তাসবিহ পড়লে আমলের পাল্লা ভারী হয়

    ইসলামিক ডেস্কঃঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, অল্প অক্ষর বিশিষ্ট দুটি বাক্যের একটি তাসবিহ; যা মিজানের পাল্লায় ভারী। এ বাক্য দুটি পরম করুনাময় আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ভালোবাসেন। এ তাসবিহটি কী?

    ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।’ দুটি কলেমা (বাক্য) দয়াময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়, জবানে (উচ্চারণে) খুবই সহজ, আমলের পাল্লায় অত্যন্ত ভারী। হাদিসে পাকে বিষয়টি এভাবে ওঠে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দুটি কলেমা (বাক্য) দয়াময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়, মুখে (উচ্চারণে) খুবই সহজ কিন্তু আমলের পাল্লায় অত্যন্ত ভারী। (তাহলো)-

    سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْم

    ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।’

    অর্থ : আমরা আল্লাহ তাআলার প্রশংসা সহকারে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, মহান আল্লাহ অতীব পবিত্র।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    হাদিসটিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, অল্প অক্ষর বিশিষ্ট তবে মিজানের পাল্লায় ভারী এ দুটি বাক্যকে পরম করুণাময় আমাদের রব তাবারাকা ওয়া তাআলা মহব্বত করেন: (তা হচ্ছে,) ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম’ অর্থ : আমরা আল্লাহ তাআলার প্রশংসা সহকারে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, মহান আল্লাহ অতীব পবিত্র। কারণ, এ দুটি কালিমা তাসবিহ এবং আল্লাহর শানের সঙ্গে যা প্রযোজ্য নয় তা থেকে এবং যাবতীয় ত্রুটি থেকে তার পবিত্র হওয়াকে অর্ন্তভুক্ত করে। আর আজমত দ্বারা গুণান্বিত করে এ জাতীয় পবিত্রতার ওপর আরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ এ তাসবিহটি বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যেসব বিষয়ের ওপর ঈমান আনা আবশ্যক

    যেসব বিষয়ের ওপর ঈমান আনা আবশ্যক

    ইসলামিক ডেস্কঃঃ দীর্ঘ একটি হাদিস। এর একটি অংশে জিবরিল আলাইহিস সালাম আগন্তুকের বেশে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ঈমান কি? তিনি বললেন, তুমি আল্লাহ তাআলাকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে। তাঁর ফেরেশতা, তাঁর আসমানি কিতাব, তাঁর রাসুলগণ ও আখেরাতকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে। আর এটাও বিশ্বাস করবে যে, পৃথিবীতে যা কিছুই ঘটে, আল্লাহর পক্ষ থেকেই ঘটে, চাই তা ভালো হোক কিংবা মন্দ হোক। এটাই ঈমান।’ (মুসলিম)

    এ অংশটুকু হাদিসে জিবরিল নামে দীর্ঘ একটি হাদিসের অংশ। একদিন হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম মানুষের রূপ ধারণ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে অনেক প্রশ্ন করেন। তন্মধ্যে ঈমান কী? এ প্রশ্নটিও ছিলো।

    হাদিসের ব্যাখ্যা

    ঈমানের আসল অর্থ হলো- কারো ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। সে কারণে তার কথাকে সত্য বলে মেনে নেওয়া। মানুষ তখনই কারো কথাকে সত্য বলে গ্রহণ করে, যখন তার সত্যবাদিতা সম্পর্কে অটল বিশ্বাস রাখে। বিশ্বাস ও আস্থাই হলো ঈমানের মূল কথা। আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুলগণের মাধ্যমে যা যা এসেছে, তার সবকটিকে সত্য বলে গ্রহণ করা মুমিন হওয়ার জন্য অপরিহার্য। এ হাদিসে ঈমানের সেই মৌলিক বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। যে বিষয়গুলোর ওপর ঈমান আনা আবশ্যক। আর তাহলো-

    ১. আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস

    আল্লাহর প্রতি ঈমানে অর্থ হলো তিনি অনাদি ও অনন্তকাল ধরে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। তিনিই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৃষ্টিজগতের রব। সৃষ্টি ও শাসন পরিচালনায় তার কোনো শরিক নেই। তিনি সব রকমের ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত ও পবিত্র। তিনি যাবতীয় সদগুণাবলীর অধিকারী এবং সব কল্যাণ ও মহত্বের উৎস।

    ২. ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস

    আল্লাহর কাজে ও প্রশংসায় নিয়োজিত ফেরেশতা যে আছে, তাদের অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং এ বিষয়টি স্বীকার করা যে, তারা অত্যন্ত পবিত্র ও নিষ্পাপ। ফেরেশতারা কখনও আল্লাহর হুকুম অমান্য করে না। সব সময় আল্লাহর ইবাদত করেন। আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য তারা সব সময় প্রস্তুত থাকেন। দুনিয়ার সৎকর্মশীল বান্দাদের জন্য তারা দোয়া করতে থাকেন।

    ৩. আসমানি কিতাবের ওপর বিশ্বাস করা

    আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে যত নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন এসব যুগে যুগে আদেশ-নিষেধ ও উপদেশ দিয়ে যেসব গ্রন্থ ও নির্দেশাবলী পাঠিয়েছেন; সেসব গ্রন্থকে সত্য বলে বিশ্বাস স্থাপন করা। এসব আসমানি কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ গ্রন্থ আল কোরআনুল কারিমের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। কোরআন নাজিল করার পর আগের সব আসমানি কিতাবের বিধান রহিত করা হয়েছে। কোরআনুল কারিমের ওপর এ মর্মে বিশ্বাস স্থাপন করা যে, এটি ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত। এ কিতাব ছাড়া অন্য কোনো কিতাব নেই; যার দ্বারা মহান আল্লাহ তাআলার কাছে পৌছা যায়

    ৪. রাসুলগণের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা

    নবি-রাসুলগণের ওপর ঈমান আনার তাৎপর্য হলো এই যে, যতজন নবি-রাসুল আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন; তাদের সবাইকে সত্য বলে স্বীকৃতি দেওয়া। তাঁরা সবাই ছিলেন সত্যবাদী। এ বিশ্বাসও করা যে, তাঁরা কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই অবিকল আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সর্বশেষ নবি হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ ও অনুকরণেই রয়েছে মানুষের মুক্তি ও পরিত্রাণ।

    ৫. আখেরাতের ওপর ঈমান

    আখেরাত এমন একটি দিন। যে দিনটি আসবে অবধারিত। যেদিন সব মানুষের কৃতকর্মের বিচার অনুষ্ঠিত হবে। যার কাজ ভালো হবে সে মুক্তি পাবে এবং পুরস্কৃত হবে। আর আমল খারাপ হবে সেদিন সে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে।

    ৬. তাকদিরের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা

    এর অর্থ এই মর্মে বিশ্বাস স্থাপন করা যে, দুনিয়াতে যা কিছু হচ্ছে বা ঘটবে; তা কেবল আল্লাহর হুকুমেই সংঘটিত হচ্ছে বা হবে। এখানে শুধু তারই হুকুম চলে। এমন নয় যে, আল্লারহ এক রকম চান আর বিশ্বজগত অন্যভাবে চলছে। বরং সব কিছুই আল্লাহর হুকুমে পরিচালিত হচ্ছে। তকদিরের ভালো মন্দ সব কিছুর আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় এ বিষয়ের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত বিষয়গুলো ওপর পরিপূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস স্থাপন করার মাধ্যমে নিজেদের ঈমানকে পরিপূর্ণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ঘুমের আগের এক আমলে মিলবে ২ নেয়ামত

    ঘুমের আগের এক আমলে মিলবে ২ নেয়ামত

    ইসলামিক ডেস্কঃ ঘুম আল্লাহ তাআলার একটি নেয়ামত। তিনি রাতকে ঘুমের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আবার রাতের কিছু সময় তাকে স্মরণ ও তাঁর ইবাদতের কথাও বলেছেন। আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ঘুমের আগের এক আমলে ২টি নেয়ামত দান করবেন। সেই আমল ও নেয়ামত দুটি কী?

    ঘুমের আগের ছোট্ট আমলটি হলো- অজু করে ঘুমানো। কেউ যদি ঘুমানোর জন্য বিছানায় যাওয়ার আগে অজু করে নেয় এবং তারপর ঘুমায় তবে মহান আল্লাহ ওই বান্দাকে দুটি নেয়ামত দান করবেন। নেয়ামত দুটির বর্ণনা হাদিসে এভাবে এসেছে-

    ১. ক্ষমার জন্য ফেরেশতা নিযুক্ত

    হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু বর্ননা করেছেন, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘তোমরা তোমাদের শরীরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করো, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোমাদেরকে পরিচ্ছন্ন করে দেবেন। আর যখন আল্লাহর কোনো বান্দা অজু করে বিছানায় ঘুমাতে যায়, আল্লাহ ওই ব্যক্তির সঙ্গে (তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনায়) একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে দেন। ঘুমের মধ্যে ওই বান্দা যখনই নড়াচড়া করে কিংবা এপাশ-ওপাশ করে তখনই ওই ফেরেশতা তার জন্য এ বলে দোয়া করে-

    اَللَّهًمَّ اغْفِرلِعَبْدِكَ

    ‘আল্লাহুম্মাগফির লি-আবদিকা’

    অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার এ বান্দাকে ক্ষমা করে দিন। কেননা সে পবিত্রতা অর্জন করে ঘুমিয়েছে।’ (তাবারানি)

    অজু করে বিছানায় শোয়া ব্যক্তি যখন ঘুমিয়ে পড়ে, ফেরেশতা তখন ঘুমায় না। যখনই পবিত্রতা অর্জনকারী ঘুমে নড়া-চড়া করে কিংবা এপাশ-ওপাশ করে তখনই নিযুক্ত ফেরেশতা তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।

    ২. হতাশা-অশান্তি দূর হয়

    মানুষ অনেক হতাশা, দুঃশ্চিন্তা কিংবা অশান্তিতে ভোগে। একটি সময় এসব দুঃশ্চিন্তা ও অশান্তি নিয়ে মানুষ ঘুমাতে যায়। যদি কোনো ব্যক্তি হতাশা-দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে চায়, আল্লাহর কাছ থেকে কোনো চাহিদা পূরণ করে নিতে চায়, তবে তার জন্য একটি আমলই যথেষ্ট। সেটি হচ্ছে ঘুমের আগে অজু করা। হাদিসে এসেছে-

    নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো বান্দা যখন অজু করে পবিত্র হয়ে ঘুমায় আর ঘুমানোর পর যদি কোনো কারণে রাতে তার ঘুম ভেঙে যায় তবে সে যেন (একটু হলেও) আল্লাহর জিকির করে। যদি কেউ আল্লাহ জিকির করার পর তার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা করে তবে আল্লাহ তাআলা তাকে (চাহিদা মোতাবেক) তা-ই দিয়ে দেন।’ (মুসনাদে আহমদ)

    ঘুমোতে যাওয়ার আগে অজুর এ আমলটি মুমিন মুসলমানের জন্য একেবারেই সহজ। অজুতে না আছে কোনো ক্ষতি আর না আছে কষ্ট। সময়ও বেশি প্রয়োজন হয় না। তাই ঘুমের আগে অজু করার মাধ্যমে আমরা পেতে পারি আল্লাহর ক্ষমা ও হতাশা-অশান্তি থেকে মুক্তি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে অজু করে ঘুমানোর তাওফিক দান করুন। অজু করে ঘুমানোর মাধ্যমে উল্লেখিত নেয়ামতগুলো পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ফেতনামুক্ত মৃত্যু ও ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া

    ফেতনামুক্ত মৃত্যু ও ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া

    ইসলামিক ডেস্কঃ নবিজি বিশ্ববাসীন জন্য রহমত। উম্মতের মায়ায় নবিজি কেঁদেছেন। তাদের দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে উপদেশ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। দুনিয়ার সব অনিষ্ট থেকে মুক্ত থাকতে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার দোয়া শিখিয়েছেন। এসবই ছিল উম্মতের জন্য ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। এমনকি তিনি উম্মতকে ফেতনামুক্ত মৃত্যু এবং ক্ষমা প্রার্থনায় চমৎকার একটি দোয়ায় সাহায্য প্রার্থনা করতে বলেছেন। কী সেটি?

    নবিজি ক্ষমার দোয়া করেছেন এবং দারিদ্রদের ভালোবাসাও কামনা করেছেন। যখন কোনো জাতির ওপর পরীক্ষাস্বরূপ কোনো ফেতনা আসে, সে ফেতনা থেকে বাঁচার দোয়াও করেছেন। নবিজির দোয়াটি হলো-

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ وَأَنْ تَغْفِرَ لِي وَتَرْحَمَنِي وَإِذَا أَرَدْتَ فِتْنَةَ قَوْمٍ فَتَوَفَّنِي غَيْرَ مَفْتُونٍ

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ وَحُبَّ عَمَلٍ يُقَرِّبُ إِلَى حُبِّكَ

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ফিলাল খাইরাতি ওয়া তারকাল মুনকারাতি ওয়া হুব্বাল মাসাকিনি ওয়া আন তাগফিরালি ওয়া তারহামানি ওয়া ইজা আরাদতা ফিতনাতা ক্বাওমিন ফা-তাওয়াফ্ফানি গাইরা মাফতুন। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুব্বাকা ওয়া হুব্বা মান ইয়ু হিব্বুকা ওয়া হুব্বা আমালীন ইয়ুক্বাররিবু ইলা হুব্বিকা।

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে সৎ কাজ করার, অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার ও দরিদ্রদের ভালোবাসার তাওফিক দিন। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। আমার উপর দয়া করুন। আর আপনি যখন কোনো জাতিকে কোনো ফেতনায় (পরীক্ষা) ফেলার ইচ্ছা করেন, তখন আমাকে ফেতনাহমুক্ত মৃত্যু দান করুন।

    হে আল্লাহ! আমি আপনার ভালোবাসা প্রার্থনা করি। যাঁরা আপনাকে ভালোবাসে, তাঁদের ভালোবাসাও প্রার্থনা করি এবং এমন আমলের ভালোবাসা প্রার্থনা করি, যেই আমল আমাকে আপনার ভালোবাসার কাছে পৌঁছে দেবে।’ (তিরমিজি)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ফেতনার জামানায় দারিদ্রের জামানায় আমলের কমতির জামানায় তারই ওপর ভরসা করার তাওফিক দান করুন। উল্লেখিত বিষয়গুলোতে তারই সাহায্য লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • পবিত্র আশুরা আগামী ৯ আগস্ট

    পবিত্র আশুরা আগামী ৯ আগস্ট

    ইসলামিক ডেস্ক ::: বাংলাদেশের আকাশে আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যায় পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই আগামীকাল (রোববার) থেকে শুরু হচ্ছে মহররম মাস ও নতুন হিজরি বর্ষ ১৪৪৪। আর আগামী ৯ আগস্ট (১০ মহররম) দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

    শুক্রবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. আ. আউয়াল হাওলাদার।

    গণমাধ্যমে পাঠানো ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    সভায় আউয়াল হাওলাদার জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও হিজরি ১৪৪৪ সনের মহররম মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।

    তাই শনিবার (৩০ জুলাই) জিলহজ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। আর রোববার (৩১ জুলাই) থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ৯ আগস্ট (১০ মহররম) মঙ্গলবার দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে, যোগ করেন অতিরিক্ত সচিব হাওলাদার।

    হিজরি সনের প্রথম মাস হচ্ছে মহররম। আশুরার দিন দেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকে। শিয়ারা বিশেষভাবে আশুরা পালন করে থাকে।

    কারবালা প্রান্তরে হযরত মুহাম্মদ (স.) এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেনের (রা.) শাহাদাতবরণের শোকাবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মূলত আমাদের দেশে আশুরা পরিচিত। তবে ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র আশুরা আরও কিছু তাৎপর্যময় ঘটনায় উজ্জ্বল হয়ে আছে। আশুরার রোজা (আশুরার দিন এবং আগে বা পরে একদিন) রাখার বিষয়ে বিশেষ ফজিলতের কথা বলা হয়েছে হাদিসে।

    আশুরার দিনে ফেরাউনের হাত থেকে নবী মূসা (আ.) ও তার অনুসারীদের মুক্তি পাওয়া ছাড়া আর কোনো ঘটনা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। আশুরার দিনে হযরত আদমের (আ.) তাওবা কবুল, মহাপ্লাবনের পর নূহের (আ.) নৌকা জুদী পর্বতের ওপর থামা ও ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করার কথা অনির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো কোনো সাহাবী-তাবিই থেকে বর্ণিত আছে।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারুক আহম্মেদ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেনুর মিয়া, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার এডিসি (সাধারণ) মো. ইলিয়াস মেহেদী, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান ও লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ প্রমুখ।

  • আশুরা কবে জানা যাবে আজ

    আশুরা কবে জানা যাবে আজ

    ইসলামিক ডেস্কঃ হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম। মাসের ১০ তারিখ পবিত্র আশুরা। ১৪৪৪ হিজরি সনের মহররম মাসের চাঁদ দেখা এবং আশুরার তারিখ নির্ধারণে শুক্রবার (২৯ জুলাই) সভায় বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

    এদিন সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এ সভা বসবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।

    বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ টেলিফোন এবং ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

  • হঠাৎ অশ্লীল কিছু চোখে পড়লে যে দোয়া পড়বেন

    হঠাৎ অশ্লীল কিছু চোখে পড়লে যে দোয়া পড়বেন

    ইসলামিক ডেস্কঃ অশ্লীলতা পৃথিবীতে বিপর্যয় নামিয়ে আনে। অশ্লীলতার বিস্তার ঘটলে একের পর এক বিপদ নেমে আসে। এর মাধ্যমে মানুষের দুনিয়া ও আখিরাত ধ্বংস হয়। এজন্য আল্লাহ তায়ালা অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসলিম সমাজও মানুষকে সব ধরনের অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। কেননা এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩২)

    হজরত আবু দারদা রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন কোনো ব্যক্তি ব্যভিচার করে, তখন ঈমান তাকে ছেড়ে চলে যায় এবং তার মাথার উপর ছাউনির মতো হয়ে যায়, যখন সে এই কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তখন ঈমান তার কাছে ফিরে আসে।- আবু দাউদ, ৪/ ২৯৩

    চলাফেরার পথে বিভিন্ন অশ্লীল বিষয় আমাদের চোখে পড়ে। যা বড় ধরণের পাপাচারের দিকে নিয়ে যায়। বর্তমানে প্রযুক্তি অপব্যবহারের ফলে মানুষ নানান ধরনের অন্যায়-অপরাধ তথা অশ্লীলতায় নিয়োজিত হচ্ছে।

    ইমাম কুরতবী রহ. বলেন, চোখ অন্তরে কোনো কিছু প্রবেশের বড় দরজা। চোখের কারণেই মানুষের পদস্খলনটি বেশি হয়। ফলে চোখ থেকে অধিক সতর্ক হতে হবে। নিষিদ্ধ বস্তু ও ফিতনার আশঙ্কা থাকে এমন সব বস্তুর দিকে তাকানো থেকে চোখকে অবনত রাখতে হবে। চোখ অবনত রাখার অর্থ, একজন মুসলিম নিষিদ্ধ বস্তুর দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকবে, সে শুধু বৈধ বিষয়সমূহ দেখবে। আর যদি অনিচ্ছায় কোনো নিষিদ্ধ বস্তুর দিকে নজর পড়ে যায়, তবে সাথে সাথে তা ফিরিয়ে নেবে। দৃষ্টিকে দীর্ঘায়িত করবে না।

    আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জা স্থানের হেফাজত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।’ সূরা: নূর, ৩০।

    অশ্লীলতা ও মনের খারাপ আসক্তি থেকে রক্ষা পেতে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সাহাবিকে একটি দোয়া শিখিয়েছেন। দোয়াটি হলো,

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّي

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন শাররি সাময়ি, ওয়া মিন বাচারি ওয়া মিন শাররি লিসানি ওয়া মিন শাররি ক্বালবি ওয়া মিন শাররি মানিয়্যি।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কানে মন্দ কথা শোনা থেকে আশ্রয় চাই। চোখ দিয়ে মন্দ কিছু দেখা থেকে আশ্রয় চাই। জিহ্বা দিয়ে মন্দ কিছু বলা থেকে আশ্রয় চাই। অন্তরের খারাপ চিন্তা থেকে আশ্রয় চাই। দেহের কামনা-বাসনার খারাপ চিন্তা থেকেও আশ্রয় চাই।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ,২০/১৪৮৪)

    এছাড়া আরো একটি দোয়ার কথা এসেছে হাদিসে,

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি।’

    অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি, ১৯/১৪৮৪)