Category: ইসলাম

  • পরিবারের জন্য খরচ যখন ইবাদত

    পরিবারের জন্য খরচ যখন ইবাদত

    ইসলামিক ডেস্কঃ একটি ফার্সি গল্পের ঘটনা। এক ব্যক্তি প্রতিদিন একটি দোকান থেকে ছয়টা রুটি কিনে নিয়ে যায়। একদিন দোকানি কৌতুহল থেকে তাকে জিজ্ঞেস করেন—ভাই আপনি প্রতিদিন ছয়টা রুটিই নেন, এগুলো দিয়ে কী করেন?

    তিনি বলেন, ‘দুটো দিয়ে দেনা শোধ দিই, দু’টো ধার দিই, একটা ফেলে দিই, আরেকটি নিজে খাই।’ দোকানী যারপরনাই কৌতুহলী হয়ে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন—’দেনা শোধ দিই মানে বাবা-মাকে খাওয়াই, তারা একসময় আমাকে খাইয়েছে; ধার দিই মানে ছেলে-মেয়েকে খাওয়াই, ওরা বৃদ্ধ বয়সে ফেরত দেবে; ফেলে দিই মানে ওটা বৌকে খাওয়াই, সে আমাকে কোনো দিন খাওয়ায়নি আর কোনো দিন খাওয়াবেও না, আরেকটি তো নিজে খাই।’

    কেবল ‘আমল করা’ আর আল্লাহর জন্য ‘আমল করার মধ্যে অনেক তফাত আছে। যেমন ধরুন—পরিবারের সদস্যদের ব্যয়ভার বহন করা একটি কাজ। এটি কিন্তু ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই করে থাকে। আপনিও করেন। কিন্তু কেন করেন? উত্তর হতে পারে—’আরে ভাই এটা কোনো প্রশ্ন হলো না কি, আমার পরিবারের ব্যায়ভার আমি বহন করবে না তো কে করবে?’ কিংবা উত্তর হতে পারে উল্লিখিত গল্পের ব্যক্তির মতো। হাদিসে পাকে এসেছে-

    হজরত আবু মাসউদ আল-বদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—’নিঃসন্দেহে কোনো মুসলিম যখন তার পরিবারের জন্য খরচ করে তা সাদাকা হিসেবে গন্য হবে যদি সে তাকে (ইবাদাত) মনে করে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    কেনা-কাটায় পকেটের পয়সা সবারই যাবে, এতে কিন্তু কারোরই মাফ নেই। কিন্তু কারোটা নিছক খরচ হবে আর কারোটা ইবাদাত হিসেবে গৃহীত হবে—তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে নিয়তের উপর। নিয়ত যদি ঠিক থাকে তাহলে বৌয়ের রুটিটাও আর ফেলে দেওয়ার খাতায় উঠবে না।

    আপনি যখন পরিবারের জন্য বাজার থেকে মাছ কিনেন, গোস্ত কিনেন, শাক-সবজি কিনেন, যখন তাদের জন্য জামা-কাপড় কিনে দেন, ডাক্তারের ফি দেন, ওষুধ কিনেন, পড়ালেখার জন্য খাতা-পেন্সিল কিনে আনেন—কখনো কি মনের মধ্যে ইবাদাতের অনুভুতি থাকে?

    কখনো সচেতনভাবে অস্ফুট আওয়াজে ঠোট নাড়িয়ে কেবল আল্লাহকে শুনিয়ে বলেছেন—’ও আল্লাহ এই খরচ আমি কেবল তোমার সন্তুষ্টির জন্য করছি, তুমি কবুল করো’…?

    হয়তো বলেন নি, হয়তো মনেই হয়নি, হয়তো ভেবেই দেখা হয়ে ওঠেনি এভাবে। পেছনে যতো পয়সা জলে গেছে—তা তো গেছেই। আজ থেকে আর নয়। আসুন, আমরা এক্ষুনি একটি সাধারণ নিয়ত করে নিই যে—পরিবারের ব্যয়ভার আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করবো।

    আর সবসময় মনে না থাকলেও মাঝে মধ্যে কেনা-কাটার সময় সচেতনভাবে একটু বলি—

    اِنَّمَا نُطۡعِمُکُمۡ لِوَجۡهِ اللّٰهِ لَا نُرِیۡدُ مِنۡکُمۡ جَزَآءً وَّ لَا شُکُوۡرًا

    ‘ইন্নামা নুতইমুকুম লিওয়াজহিল্লাহ, লা নুরিদু মিনকুম জাযাআন ওয়া লা শুকুরান’

    ‘আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তোমাদেরকে খাওয়াই; তোমাদের থেকে না এর কোনো প্রতিদান চাই, না কোনো কৃতজ্ঞতা চাই’…। (সুরা আল-ইনসান/দাহর : আয়াত ৯)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে প্রতিটি কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    ফেসবুক পোস্ট থেকে…

  • ইসলামে যে ৪ মাস বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন

    ইসলামে যে ৪ মাস বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন

    ইসলামিক ডেস্কঃ ইসলামে যে ৪ মাস বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন
    আরবি চন্দ্র বছরের ১২ মাসের মধ্যে চারটি মাস বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা কোরআন শরীফে বলেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি, যা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী সেই দিন থেকে চালু আছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি মাস মর্যাদাপূর্ণ। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান’। (সুরা তাওবাহ, আয়াত ৩৬)।

    এই ৪ মাস হলো- জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব। এসব মাসে যুদ্ধবিগ্রহ, কলহবিবাদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আবার এই ৪ মাসের মধ্যে অন্যতম ‘জিলহজ’ মাস। কারণ জিলহজ মাস হজের মাস। হজের তিনটি মাস শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ। এর মধ্যে প্রধান হলো জিলহজ।

    কোরআন শরীফে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হজ সম্পাদন সুবিদিত মাসসমূহে। অতঃপর যে কেউ এই মাসগুলোয় হজ করা স্থির করে, তার জন্য হজের সময়ে স্ত্রীসম্ভোগ, অন্যায় আচরণ ও কলহবিবাদ বিধেয় নহে। তোমরা উত্তম কাজে যা কিছু করো, আল্লাহ তা জানেন এবং তোমরা পাথেয়ের ব্যবস্থা করবে, আত্মসংযমই শ্রেষ্ঠ পাথেয়। হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ, তোমরা আমাকে ভয় করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ১৯৭)।

    ‘জিলকদ’ মাসে ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাত ইবাদত ও আমল না থাকলেও আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত মর্যাদার ৪ মাসের একটি। আল্লাহ তাআলা এ মাসে যে কোনো রক্তপাত, যুদ্ধ-বিগ্রহ বা বাদানুবাদকে হারাম করেছেন। মুসলিম উম্মাহ মাসটি ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করবে। হজ, কোরবানি ও জিলহজের রোজার প্রস্তুতিতে বিশ্রাম নেবে। এটিও ইবাদতের অন্তর্গত।

    লিসানুল আরব ও ইবনে মানজুর-এর তথ্য মতে, তৎকালীন যুগে জিলকদ মাসে আরবের লোকেরা বাণিজ্য থেকে ফিরে আসতো, যুদ্ধ থেকে ফিরে আসতো এবং বিশ্রাম গ্রহণ করতো। তাছাড়া ঋতুর পরিবর্তনে এই সময়টায় স্থানীয় আরবের লোকজনের হাতে তেমন কোনো কাজও থাকতো না।

    হিজরি বছরের প্রথম মাস ‘মহররম’। হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রস্তাবনায় মহররম মাসকে হিজরি বছরের প্রথম মাস হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। মহররম মাসের ১০ম দিনকে ‘আশুরা’ বলা হয়। এ দিন আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এবং তাঁর জাতিকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এ উপলক্ষ্যে ইসলামের আগমনের আগে থেকেই ইয়াহুদিরাও রোজা রাখতেন।

    আশুরার রোজা রাখার ফজিলত অনেক বেশি। এ দিনের রোজা রাখার ফজিলত বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহর কাছে আশা করি তিনি বিগত এক বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (মুসলিম)

    আরবি চন্দ্র বছরের সপ্তম মাস ‘রজব’। এ মাসের মর্যাদা উপলব্ধি করতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ হাদিসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা অন্তরের) জমিন চাষাবাদ করল না আর শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে মনের) জমিন আগাছামুক্ত করল না; সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না।’ (বায়হাকি)

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মাসে রোজা রাখতেন এবং বেশি বেশি বরকত পেতে দোয়া করতেন; উম্মতকেও দোয়া করতে বলতেন-
    اَللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِىْ رَجَبَ وَ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ
    উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’
    অর্থ: ‘হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; রমজান মাস আমাদের নসিব করুন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে চারটি মাসের ফজিলত, মর্যাদা ও আমলের প্রতি গুরুত্বারোপ করার তাওফিক দান করুন। এই মাসসমূহে বেশি বেশি ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • পরকালের আজাব থেকে বাঁচতে দুনিয়ায় কী দোয়া পড়বেন

    পরকালের আজাব থেকে বাঁচতে দুনিয়ায় কী দোয়া পড়বেন

    ইসলামিক ডেস্কঃ পরকাল মানুষের আসল ঠিকানা। পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের জন্য কল্যাণ কামনা করাই মুমিনের একমাত্র কাজ। পরকালকে নিয়েই মুমিনের সব চিন্তা-ভাবনা। সে কারণেই মুমিন মুসলমান দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণের সঙ্গে সঙ্গে পরকালে আল্লাহর ভয়াবহ আজাব থেকে বাঁচতে এ দুনিয়াতেই বেশি বেশি দোয়া করে। সে দোয়াটি কী?

    নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া সম্পর্কে হাদিসে পাকে ঘোষণা করেছেন, ‘দোয়াই ইবাদত; দোয়াই ইবাদতের মূল।’ এ কারণেই দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণের পাশাপাশি পরকালের আজাব থেকে বাঁচতে মুমিন মুসলমান এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়েন-

    اَللهُمَّ اَتِنَا فِىْ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّ فِىْ الْاَخِرَةِ حَسَنَةً وَّ قِنَا عَذَابَ النَّار

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদদুনইয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখেরাতি হাসানাতাঁও ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের দুনিয়াতে ও পরকালে কল্যাণ দান করুন। আর জাহান্নাম থেকে আমাদের নাজাত দিন।’

    দোয়াটি সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনা এমন

    হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন। (গিয়ে) দেখলেন, (অসুস্থতায়) সে অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য শুকিয়ে পাখির মত হয়ে গেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি কি আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে কিছু কামনা করেছিলে? সে বললো- ‘হ্যাঁ’। আমি বলেছিলাম-

    ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে পরকালে যে শাস্তি দেবেন; তা দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করুন।’

    (এবার) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ! তোমার এমন শক্তি নেই যে, তুমি তা (পরকালের শাস্তি) বরদাশত করবে? তবে তুমি এরূপ দোয়া করবে যে-

    اَللهُمَّ اَتِنَا فِىْ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّ فِىْ الْاَخِرَةِ حَسَنَةً وَّ قِنَا عَذَابَ النَّار

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদদুনইয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখেরাতি হাসানাতাঁও ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের দুনিয়াতে ও পরকালে কল্যাণ দান করুন। আর জাহান্নাম থেকে আমাদের নাজাত দিন।’

    এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য দোয়া করলেন। আল্লাহ তাকে নিরাময় দান করলেন।’ (মুসলিম)

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, দুনিয়াতে জীবিত থাকা অবস্থায় পরকালের শাস্তি থেকে বেঁচে থাকতে সুন্নাতের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দোয়া করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরকালের আজাব থেকে বাঁচার জন্য উল্লেখিত দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মিতব্যয়িতা সম্পর্কে ইসলামের বিধান

    মিতব্যয়িতা সম্পর্কে ইসলামের বিধান

    ইসলামিক ডেস্কঃ আল্লাহতায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন। দিয়েছেন আমাদের বেঁচে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন সব। অক্সিজেন, পানি, গ্যাস, নবায়নযোগ্য শক্তি, ফলমূল, ফুল-ফসল সব দিয়ে ভরে রেখেছেন আমাদের চারপাশ। এসব জীবনোপকরণ থেকে আমাদের যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু খাওয়া ও গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

    পাশাপাশি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভক্ষণ ও গ্রহণে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আহার এবং পান কর, আর অপচয় করো না; তিনি (আল্লাহ) অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না। ’ (সুরা আরাফ : ৩২)।
    শুধু খাদ্য নয়; গ্যাস, বিদ্যুৎ কোনোটিই অপচয় করার জায়েজ নেই।

    ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটেরও অন্যতম কারণ অপচয়। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ফ্যান বা লাইটের সুইচ বন্ধ করেছি কি-না তা আমরা অনেকে খেয়াল করি না। প্রয়োজন অপ্রয়োজনের বিবেচনা না করে কেবল আভিজাত্যের প্রতিযোগিতায় এসিসহ নানা বৈদ্যুতিক জিনিসপত্রের ব্যবহার করেন অনেকে।
    টয়লেট থেকে বের হয়ে লাইটটি বন্ধ করি না। অপ্রয়োজনেই সারারাত ঘরের লাইট জ্বালিয়ে রাখি, সামান্য কারণে আলোকসয্যা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার করে বিদ্যুৎ অপচয় করছি। বাড়ির মালিকই তো বিদ্যুৎ বিল দেন, ভাড়াটিয়া হয়ে আমি কেন কম ব্যবহার করব- এমন মানসিকতা অনেকের মাঝেই কাজ করে। ইসলামে তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রসুলুল্লাহ (সা.) অপচয়ের বিরুদ্ধে এতই কঠোর অবস্থানে ছিলেন যে, একটু পানিও অপ্রয়োজনে খরচ করতে নিষেধ করেছেন।

    একদা রসুলুল্লাহ (সা.) হজরত সা’দকে (রা.) অজুতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যয় করতে দেখে বললেন, ‘হে সা’দ! অপচয় করছ কেন? হজরত সা’দ (রা.) বললেন, অজুতে কি অপচয় হয়? নবীজি (সা.) বললেন, হ্যাঁ। প্রবাহমান নদীতে বসেও যদি তুমি অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করো তা অপচয়’ (ইবনে মাজা)। অপচয়কারীর একটি পরিণাম হলো, দারিদ্র্য তাকে দ্রুত ধরে ফেলবে আর আল্লাহ তাকে পথ প্রদর্শন করেন না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, নিশ্চয় আল্লাহ অপচয়কারী ও মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না। (সুরা মুমিনুন : ২৮)।
    আমার উপার্জিত টাকা আমি যেভাবে ইচ্ছে খরচ করব, অপচয়-অপব্যয় করব সমস্যা কী- এমন চিন্তা অনেকে করেন। না, উপার্জন ও খরচের ক্ষেত্রেও আমরা জবাবদিহির মুখোমুখি হব। উপার্জন হালাল হলেও তা হালাল পথে খরচ হয়েছে কি-না, অপচয় অপব্যয়মুক্ত ছিল কি-না সে ব্যাপারে হাশরের ময়দানে আল্লাহতায়ালার কাছে জবাব দিতে হবে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন পাঁচটি বিষয়ে জিজ্ঞাসিত না হওয়া পর্যন্ত একজন আদম সন্তানের পা সরাতে পারবে না। যার মধ্যে রয়েছে সে সম্পদ কোত্থেকে উপার্জন করেছে। সম্পদ কোন পথে ব্যয় করেছে। অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে। ’ (তিরমিজি)। অপচয়-অপব্যয়ের কারণে আমার উপার্জিত সম্পদ যেন জাহান্নামে যাওয়ার কারণ না হয় সে ব্যাপারে অবশ্যই সতর্কতা কাম্য। অপব্যয়কারীকে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা শয়তানের ভাই হিসেবে অভিহিত করে ভর্ৎসনা করেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, আত্মীয়-স্বজনকে তার হক দাও এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয় অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই আর শয়তান তো তার প্রতিপালকের প্রতি বড়ই অকৃতজ্ঞ। (সুরা বনি ইসরাইল ২৬-২৭)।

    বিদ্যুৎ আমাদের জতীয় সম্পদ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা কারণে সাময়িক যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা মোকাবিলায় শুধু সরকার নয়, জনগণেরও আন্তরিক হওয়া উচিত। একজনের অপচয়ের কারণে সংকট বাড়লে অন্য মুসলমান কষ্ট পাবে। যার কারণে অন্যরা কষ্ট পায় সে প্রকৃত মুসলমান হিসেবে গণ্য হবে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যার কষ্ট থেকে আশপাশের মানুষেরা নিরাপদ নয় সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (বুখারি, মুসলিম)। আমরা সচেতন হয়ে অপচয় বন্ধ করলে জাতীয় সম্পদ রক্ষা হবে, এ বিদ্যুতে অন্যরা প্রয়োজন পূরণ করতে পারবেন, আমি গুনাহ থেকে বাঁচব, পাশাপাশি খরচ কমিয়ে অর্থ জমিয়ে দান সদকা কিংবা ভালো কাজে খরচ করে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারব। যারা অপচয় এবং কৃপণতার পথ পরিহার করে মিতব্যয়িতার পথ অবলম্বন করবে তারা আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কৃত হবেন। আল্লাহ তাদের নিজের বান্দা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এরশাদ হয়েছে, ‘(রহমানের বান্দা তো তারাই) যারা অপব্যয়ও করে না আবার কৃপণতাও করে না। তাদের পন্থা হয় এতদুভয়ের মধ্যবর্তী’ (সুরা ফুরকান : ৬৭)। দয়ালু আল্লাহতায়ালার বান্দা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জনে আমাদের সব ধরনের অপচয়-অপব্যয় পরিহার করে মিতব্যয়ী হতে হবে।

  • আনন্দ-বেদনায় মুমিনের দোয়া

    আনন্দ-বেদনায় মুমিনের দোয়া

    ইসলামিক ডেস্কঃ হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা এবং সুখ ও দুঃখ প্রতিটি মানুষের জীবনের নিত্যসঙ্গী। মুমিন সব সময় আল্লাহর প্রতি রাজি এবং খুশি। সে সব সময় মহান রবের কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন করে। হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা এবং সুখ-দুঃখে মুমিন আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতায় দোয়া করে। কী দোয়া করে মুমিন?

    আনন্দ ও বেদনার পুরো সময়টিতে নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হাদিসে দিকনির্দেশনা এসেছে। সব সময় আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা ও আশ্রয় চাওয়ার দোয়া শেখানো হয়েছে। তাহলো-

    اَللَّهُمَّ اِنِّى اَسْئَالُكَ الْعَدْلَ فِىْ الْغَضَبِ وَ الرِّضَا

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আদলা ফিল গাদাবি ওয়ার রিদা।’

    অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ক্রোধ ও সন্তুষ্টি উভয় অবস্থায়ই মধ্যমপন্থা কামনা করি।

    কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা হলো, সব সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রন করা। মহান রবের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। কোরআনে েএসেছে-

    সুন্নায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে উপদেশ দেয়া হয়েছে। আবেগ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    لِّکَیۡلَا تَاۡسَوۡا عَلٰی مَا فَاتَکُمۡ وَ لَا تَفۡرَحُوۡا بِمَاۤ اٰتٰىکُمۡ ؕ وَ اللّٰهُ لَا یُحِبُّ کُلَّ مُخۡتَالٍ فَخُوۡرِۣ

    ‘এটা এ জন্য যে, তোমরা যা হারিয়েছ তাতে যেন তোমরা বিমর্ষ না হও এবং যা তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন তার জন্য তোমরা আনন্দিত না হও। ‌গর্বকারী ও অহংকারীদের আল্লাহ পছন্দ করেন না।’ (সুরা হাদিদ : আয়াত ২৩)

    মুমিন মুসলমানের উচিত নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের উপর আমল করা। তিনি বলেছেন, ‘আমাকে দু’টি শব্দ উচ্চারণ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। তাহলো-

    দুঃখের সময় বোকামিসুলভ (হায়! হায়!) শব্দ

    আর অন্যটি হলো (আনন্দের অতিমাত্রায়) পাপসুলভ (হুররে! বা হাহ্হা) শব্দ।

    (আল্লাহর পক্ষ থেকে) নেয়ামত পেলে (পাপ হয় এমন শব্দে) ‘হুররা বা হাহ্হা’ করা। আর বিপদের সময় বোকিামিবশতঃ হায়!, আফসোস করা। অর্থাৎ বড় নিঃশ্বাস ফেলা।’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা এবং সুখ ও দুঃখ সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা ও ধৈর্য ধারণ করার মাধ্যমে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার তাওফিক দান করুন। গর্ব ও অহংকার থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। দুঃখ ও আনন্দের অতিশয্যে তাঁর অবাধ্যতা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যেসব কাজ ছেড়ে দিলে জান্নাত পাবে নারী

    যেসব কাজ ছেড়ে দিলে জান্নাত পাবে নারী

    ইসলামিক ডেস্কঃ হজরত নূহ ও লুত আলাইহিস সালামের স্ত্রীদের জাহান্নামের অধিবাসী বলা হয়েছে। আবার ফেরাউনের স্ত্রী হজরত আছিয়াকে মুমিন নারীদের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে জান্নাতি বলা হয়েছে। বিশেষ দুটি গুণের কারণে বিবাহিত ঈমানদার নারীরা পাবে জান্নাত। গুণ দুটি কী?

    বিবাহিত ঈমানদার নারীরা বিশেষ ২টি গুণের কারণে পাবে চিরস্থায়ী জান্নাত। তাদের জন্য জান্নাতের মধ্যে নির্মাণ করা হবে আলাদা ঘর। যেখান তারা আল্লাহর দিদারও পাবে। নারীদের বিশেষ গুণ দুটি হলো স্বামীর ব্যাপারে আমানতদারিতা ও কল্যাণ কামনা করা। তাহলো-

    ১. স্বামীর দোষা প্রচার না করা তার প্রশংসা ও সহযোগিতা করা। অর্থাৎ অন্য মানুষের কাছে স্বামী দোষ বা কুৎসা বলে বেড়ানো থেকে বিরত থাকা।

    ২. স্বামীকে অভিশাপ না দিয়ে তাদের জন্য কল্যাণে দোয়া করা। অর্থাৎ স্বামীর জন্য বদদোয়া বা তাদের কথা ও কাজের অকল্যাণ কামনা না করা।

    স্ত্রীরা কারণে-অকারণে স্বামীদের সঙ্গে এ দুটি কাজই বেশি করে থাকে। সামান্য কারণেই স্বামীকে দোষারোপ করে কিংবা কথায় কথায় অভিশাপ দিয়ে থাকে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

    কেননা এ দুইটি কারণই একজন ঈমানদার নারীকে নিশ্চিত জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে পয়গাম্বর নূহ ও লূত আলাইহিস সালামের স্ত্রীদের কথা উল্লেখ করে বলেন-

    ‘আল্লাহ অবিশ্বাসীদের জন্য নূহ ও লূতের স্ত্রীদের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন; তারা আমার দুই নেককার বান্দার স্ত্রী ছিল। কিন্তু তারা তাদের স্বামী সঙ্গে খেয়ানত করেছিল। তারা (নূহ ও লূত আলাইহিস সালাম) আল্লাহর মোকাবেলায় তাদের (স্ত্রীদের) কোনো কাজেই আসতে পারেনি। দুই জনকে বলে দেয়া হয়েছে যাও, জাহান্নামে প্রবেশকারীদের সঙ্গে তোমরাও প্রবেশ কর।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ১০)

    এ আয়াতে খেয়ানত বলতে নবীদের স্ত্রীরা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল এটি বুঝানো হয়নি বরং তারা নবিদের সঙ্গে ঈমানের পথে হাটেনি বরং তারা নবিদের বিরুদ্ধে ইসলামের শত্রুদের সহযোগিতা করেছিল।

    নবিদের কাছে যারা ঈমান নিতে আসতো তাদের তথ্য অন্যের কাছে দিয়ে দিতো। নবিদের ব্যাপারে লোকদের বলে বেড়াতো- এ লোক একজন পাগল। তারা তাদের স্বামী নামে চোগলখুরী করতো। তাদের নামে কুৎসা রটনা বা বদনাম বলে বেড়াতো। যার ফলে নবীদের সঙ্গে সংসার করা সত্বেও তারা জাহান্নামী।

    পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলা বিশ্বাসীদের (নারীদের) উদ্দেশ্যে ফেরাউনের স্ত্রী হজরত আসিয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। যিনি ফেরাউন ও তার বাহিনীর অত্যাচারে আল্লাহর সাহায্য চেয়েছেন ঠিকই ফেরাউনের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ বা বদদোয়া করেনি। আবার তার কোনো দোষও বলে বেড়াননি। আল্লাহ বলেন-

    ‘আল্লাহ তাআলা বিশ্বাসীদের জন্য ফেরাউনের স্ত্রীর (আসিয়া) দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। যখন সে দোয়া করলো- হে আমার রব! আমার জন্য তোমার কাছে জান্নাতে একটি ঘর বানিয়ে দাও। আমাকে ফেরাউন ও তার খারাপ কাজ-কর্ম থেকে রক্ষা করো এবং আমাকে অত্যাচারি সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ১১)

    এ আয়াতের আলোকে বুঝা যায় যে, ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া স্বামী অবিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও তার ব্যাপারে বদদোয়া করেনি এবং তার কোনো দোষও বর্ণনা করেনি বরং তার অত্যাচার ও দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার হওয়ার আবেদন করেছেন। আল্লাহ তাআলা স্বামীদের অধিকারের ব্যাপারে বিশ্বাসী নারীদের জন্য এ আয়াত তুলে ধরেছেন।

    এ আয়াতের তাফসিরে এসেছে, ফেরাউনের স্ত্রীর নাম ছিল আসিয়া। তিনি হজরত মুসা আলাইহিস সালামের আহ্বানে ঈমান এনেছিলেন। ফেরাউন তার হাত ও পায়ে পেরেক দিয়ে আটকিয়ে মাথার ওপ গরম তেল ঢেলে দিয়েছিলেন। যার ফলে তার মাথার চুল ও চামড়াগুলো ওঠে গিয়েছিল। সে সময় ফেরেশতারা তার সামনে জান্নাতের দৃশ্য তুলে ধরেছিলেন। ফলে ফেরাউনের শাস্তি তার কাছে সহজ হয়েগিয়েছিল। আর তখন তিনি আল্লাহর কাছে উল্লেখিত দোয়া করেছিলেন।

    সুতরাং প্রত্যেক ঈমানদার নারীর উচিত যে, স্বামীর ব্যাপারে চোগলখুরী না করা। স্বামীদের দোষ বলে বেড়ানো থেকে বিরত থাকা। স্বামীর জন্য বদদোয়া বা অভিশাপ না দেয়া। বরং স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞপনের পাশাপাশি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা। তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। ফলে তারা পাবে সুনিশ্চিত জান্নাত।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারীকে কুরআনে এ দুই আয়াত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে স্বামীদের আনুগত্য করার তাওফিক দান করুন। সব সময় স্বামীদের পাশে থেকে তাদের কল্যণমূলক কাজে সহযোগিতা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • পরকালে অপমান থেকে বাঁচার দোয়া

    পরকালে অপমান থেকে বাঁচার দোয়া

    ইসলামিক ডেস্কঃ পরকালের লাঞ্ছনা, অপমান ও শাস্তি থেকে মুক্তি কে না চায়। আল্লাহর রহমতে সিক্ত ব্যক্তিরাই পাবে পরকালের মুক্তি ও নাজাত। মহান আল্লাহ বান্দাকে পরকালে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া থেকে মুক্তির জন্য কোরআনুল কারিমে একটি প্রার্থনা তুলে ধরেছেরন। কী সেই দোয়া?

    আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও পরকালের অপমান থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর শেখানো ভাষায় তাঁরই কাছে প্রার্থনা করা জরুরি। তিনি যদি বান্দার প্রতি দয়া করেন, তবেই মুক্তি। তাই পরকালের অপমান থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে এভাবে বেশি বেশি দোয়া করা-

    رَبَّنَا وَ اٰتِنَا مَا وَعَدۡتَّنَا عَلٰی رُسُلِکَ وَ لَا تُخۡزِنَا یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اِنَّکَ لَا تُخۡلِفُ الۡمِیۡعَادَ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা ওয়া আতিনা মা ওয়া আত্তানা আলা রুসুলিকা ওয়া লা তুখযিনা ইয়াওমাল কিয়ামাহ; ইন্নাকা লা তুখলিফুল মিয়আদ।’

    অর্থ : ‘হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে আপনার রাসুলগণের মাধ্যমে যা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা দান করুন। আর কেয়ামতের দিন আপনি আমাদেরকে অপমান করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯৪)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দোয়া কবুলের দিনক্ষণ ও সময়গুলোসহ সব সময় এ দোয়া বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মুসলিম-অমুসলিমের ভালো কাজের জন্য দোয়া

    মুসলিম-অমুসলিমের ভালো কাজের জন্য দোয়া

    ইসলামিক ডেস্কঃ কেউ কারো ভালো কাজ দেখলে কী বলবে? এ ভালো কাজের জন্য কী দোয়া করতে হবে তাও এসেছে হাদিসের বর্ণনায়। চাই সে মুসলিম হোক কিংবা অমুসলিম হোক। শুকরিয়া জানানো, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা কিংবা দোয়া করা সম্পর্কিত দোয়ার এই ভাষাগুলো কী?

    মুসলিম হোক কিংবা অমুসলিম হোক, কেউ কারো উপকার করলে কিংবা কেউ ভালো কাজে এগিয়ে এলে তার জন্য দোয়া করার দিকনির্দেশনা এসেছে হাদিসে। তাহলো-

    অমুসলিমের জন্য দোয়া
    ভালো কাজ করা ব্যক্তি যদি অমুসলিম হয় তবে তার জন্যও রয়েছে ছোট্ট একটি দোয়া। তাহলো-
    جَمَّلَكَ اللهُ
    উচ্চারণ : ঝাম্মালাকাল্লাহ
    অর্থ : আল্লাহ আপনাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করুন।

    মুসলিমের জন্য দোয়া
    ভালো কাজ করা ব্যক্তি যদি মুসলিম হয় তবে তার জন্যও রয়েছে ছোট্ট একটি দোয়া। নবিজী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিম উম্মাহর যে কোনো ভালো কাজের বিনিময়ে এ দোয়া বলার নসিহত পেশ করেছেন-
    جَزَاكَ اللهُ خَيْرًا
    উচ্চারণ : ঝাযা-কাল্লা-হু খাইরান। (তিরমিজি)
    অর্থ : আল্লাহ তাআলা আপনাকে (কাজের) উত্তম বদলা দান করুন।

    আল্লাহ তাআলা সবাইকে ভালো কাজের বিনিময়ে উত্তম ভাষায় মুসলিম-অমুসলিম উভয়ের জন্য দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মুমিনদের প্রতি হতাশ না হওয়ার উপদেশ

    মুমিনদের প্রতি হতাশ না হওয়ার উপদেশ

    ইসলামিক ডেস্কঃ  মুমিনরা কখনো হতাশ হয় না, সুখে-দুঃখে আল্লাহর প্রতি ভরসা করে। তারা সব সময় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। মহান কোরআনুল কারিমের মুমিনদের হতাশ না হওয়ার উপদেশ দেন, দুঃশ্চিন্তা না করার উপদেশ। এ উপদেশেই মুমিনরা কঠিন বিপদেও যেমন মনোবল হরারায় না তেমনি হতাশও হয় না। কোরআনুল কারিমের মহান আল্লাহ মুমিনদের প্রতি উপদেশগুলো এভাবে তুলে ধরেছেন-

    وَ لَا تَهِنُوۡا وَ لَا تَحۡزَنُوۡا وَ اَنۡتُمُ الۡاَعۡلَوۡنَ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ

    ‘আর তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না, আর তোমরাই বিজয়ী যদি মুমিন হয়ে থাকো।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৩৯))

    আয়াতের সার-সংক্ষেপ

    আলোচ্য আয়াতে মুমিনদের হতাশ না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্রটি-বিচ্যুতি ও ভুল বুঝাবুঝির কারণে ওহুদের যুদ্ধে প্রথম পর্যায়ে জয়লাভ করার পর কিছুক্ষণের জন্য মুসলিমরা পরাজয় বরণ করে। যার ফলশ্রুতিতে মুসলিমদের সত্তরজন সাহাবি শাহাদাতবরণ করেন। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহত হন। কিন্তু এ সবের পরও আল্লাহ তাআলা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেন এবং শত্রুরা পিছু হটে যায়। এ সাময়িক বিপর্যয়ের কারণ ছিল তিনটি-

    এক. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তীরন্দাজ বাহিনীর প্রতি যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, পারস্পরিক মতভেদের কারণে তা শেষ পর্যন্ত পালিত হয়নি।

    দুই. খোদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিহত হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে মুসলিমরা নিরাশ হয়ে পড়ে। হতাশা হয়ে যায়। ফলে সবাই হীনমনোবল ও হতোদ্যম হয়ে পড়ে।

    তিন. মদিনা শহরে অবস্থান গ্রহণ করে শক্ৰদের মোকাবেলা করার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশ পালনে যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল, সেটাই ছিল সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মুসলিমদের এ তিনটি ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণেই তারা সাময়িকভাবে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন।

    তবে এ সাময়িক পরাজয় অবশেষে বিজয়ের রূপ ধারণ করেছিল সত্য; কিন্তু মুসলিম যোদ্ধারা আঘাতে জর্জরিত ছিলেন। মুসলিম বীরদের মৃতদেহ ছিল চোখের সামনে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেও হতভাগারা আহত করে দিয়েছিলো। সর্বত্র ঘোর বিপদ ও নিরাশার ছায়া বিস্তার করেছিল।

    মুসলিম মুজাহিদগণ নিজেদের ক্রটি-বিচ্যুতির জন্যেও বেদনায় মুষড়ে পড়েছিলেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় প্রবল হয়ে দেখা দিয়েছিল-

    এক. অতীত ঘটনার জন্য দুঃখ ও বিষাদ।

    দুই. এই আশঙ্কা যে, ভবিষ্যতের জন্য মুসলিমগণ যেন দুর্বল ও হতাশ না হয়ে পড়ে এবং বিশ্ব-নেতৃত্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত এ জাতি অঙ্কুরেই মনোবল হারিয়ে না ফেলে।

    তাই আল্লাহ তাআলা মুমিন মুসলমানদের উপদেম দিচ্ছেন। এ দুইটি ছিদ্রপথ বন্ধ করার জন্যই আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমের এ আয়াত নাজিল করেছেন। বলেছেন, তোমরা ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের মধ্যে দূর্বল ও শিথিলতা আসতে দিয়ো না এবং অতীতের জন্যও বিমর্ষ হয়ে যেয়ো না। যদি তোমরা ঈমান ও বিশ্বাসের পথে সোজা হয়ে থাক এবং আল্লাহ্ তাআলার ওয়াদার উপর ভরসা রেখে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য ও আল্লাহর পথে জেহাদে অনড় থাক; তবে তোমরাই জয়ী হবে।

    অতীতে যে সব ক্রটি-বিচূতি হয়ে গেছে, তার জন্য দুঃখ ও শোক প্রকাশে সময় ও শক্তি নষ্ট না করে ভবিষ্যতে সংশোধনের চিন্তা করা দরকার। ঈমান, বিশ্বাস ও রাসুলের আনুগত্য উজ্জল ভবিষ্যতের দিশারী। এগুলো হাতছাড়া হতে দেওয়া যাবে না। তবেই তোমরা জয়ী হবে। পরের আয়াতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন-

    اِنۡ یَّمۡسَسۡکُمۡ قَرۡحٌ فَقَدۡ مَسَّ الۡقَوۡمَ قَرۡحٌ مِّثۡلُهٗ ؕ وَ تِلۡکَ الۡاَیَّامُ نُدَاوِلُهَا بَیۡنَ النَّاسِ ۚ وَ لِیَعۡلَمَ اللّٰهُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ یَتَّخِذَ مِنۡکُمۡ شُهَدَآءَ ؕ وَ اللّٰهُ لَا یُحِبُّ الظّٰلِمِیۡنَ

    ‘যদি তোমাদেরকে কোন আঘাত স্পর্শ করে থাকে তবে তার অনুরূপ আঘাত উক্ত কওমকেও স্পর্শ করেছে। আর এইসব দিন আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে আবর্তন করি এবং যাতে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে জেনে নেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহীদদেরকে গ্রহণ করেন। আর আল্লাহ যালিমদেরকে ভালবাসেন না।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪০)

    এ আয়াতেও অন্য এক ভঙ্গিমায় মহান আল্লাহ মুসলিমদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন যে, ওহুদ যুদ্ধে তোমাদের কিছু লোক আহত হয়েছে তো কি হয়েছে? তোমাদের বিরোধী দলও তো বদরের যুদ্ধে এবং ওহুদ যুদ্ধের প্রথম দিকে এইভাবেই আহত হয়েছিল। আর মহান আল্লাহ তাঁর হিকমতের দাবিতে হার-জিতের পালা পরিবর্তন করতে থাকেন। কখনো বিজয়ীকে পরাজিত করেন, আবার কখনো পরাজিতকে করেন বিজয়ী। পরের আয়াতে মহান রব সুসংবাদ ঘোষণা করেন যে-

    وَ لِیُمَحِّصَ اللّٰهُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ یَمۡحَقَ الۡکٰفِرِیۡنَ

    ‘আর যাতে আল্লাহ পরিশুদ্ধ করেন ঈমানদারদেরকে এবং ধ্বংস করে দেন কাফিরদেরকে।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪১)

    ওহুদ যুদ্ধে মুসলিমরা তাঁদের অবহেলার কারণে সাময়িকভাবে যে পরাজয়ের শিকার হন, তাতেও ভবিষ্যতের জন্য এমন কয়েকটি যৌক্তিকতা নিহিত রয়েছে, যা মহান আল্লাহ পরের আয়াতে বর্ণনা করেছেন।

    প্রথমত : মহান আল্লাহ ঈমানদারদেরকে অন্যদের থেকে পৃথক করে দেখিয়ে দেন। (কারণ, ধৈর্য ও সুদৃঢ় থাকা ঈমানের দাবি।) যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তে এবং মুসিবতের সময় যাঁরা ধৈর্য ও সুদৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন, অবশ্যই তাঁরা সকলেই মুমিন।

    দ্বিতীয়ত : কিছু লোককে শাহাদতের মর্যাদা দানে ধন্য করেন

    তৃতীয়ত : ঈমানদারদেরকে তাঁদের সমস্ত পাপ থেকে পবিত্র, পরিশুদ্ধ বা বিশুদ্ধ করেন। করা। আর পবিত্র ও পরিশুদ্ধ বলতে, পাপ থেকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করা। (ফাতহুল কাদির)

    চতুর্থত : কাফেরদের ধ্বংস সাধন। কারণ, সাময়িকভাবে জয়লাভে তাদের অবাধ্যতা ও দাম্ভিকতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে এই জিনিসই তাদের ধ্বংস ও বিনাশের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে হতাশা, দুবলতা ও হীনমনোবল থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তাঁর উপদেশাবলী গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মোতাবেক জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ক্ষতিকর জ্ঞান থেকে বাঁচার দোয়া

    ক্ষতিকর জ্ঞান থেকে বাঁচার দোয়া

    ইসলামিক ডেস্কঃ ভালো জ্ঞান অমূল্য সম্পদ। ভালো জ্ঞান ও জ্ঞানীর দ্বারা সবাই উপকৃত হয়। কিন্তু এমন অনেক জ্ঞান আছে যা মানুষকে ধ্বংস করে। এসব ক্ষতিকর জ্ঞান থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর কাছে ধরনা দেওয়ার বিকল্প নেই। তাহলে ক্ষতিকর জ্ঞান থেকে বাঁচার দোয়া কী?

    নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্ষতিকর জ্ঞান থেকে মহান আল্লাহর কাছে এভাবে নিরাপদ আশ্রয় চেয়েছেন-
    نَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ وَ مِنْ قَلْبٍ لَا تَخْشَعُ
    উচ্চারণ : ‘নাউজুবিল্লাহি মিন ইলমিন লা ইয়ানফাউ ওয়া মিন ক্বালবিন লা তাখশাউ।’
    অর্থ : আল্লাহর কাছ থেকে এমন ইলম থেকে আশ্রয় চাই যা উপকারী নয়। আর এমন অন্তর থেকে আশ্রয় চাই; যাতে আল্লাহর ভয় নেই।’ (তাফসিরে কাবির)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঈমান ধ্বংসকারী ইলম থেকে হেফাজত করুন। ক্ষতিকর জ্ঞান থেকে বাঁচিয়ে রাখুন আমিন।