Category: ইসলাম

  • যেকোন মূল্যে টঙ্গীতে ইজতেমা হবে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

    যেকোন মূল্যে টঙ্গীতে ইজতেমা হবে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

    সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ইজতেমা আয়োজনের চেষ্টা চলছে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, এদিকে যেকোন মূল্যে টঙ্গীতে এই আয়োজন করা হবে মন্তব্য করেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

    বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাবলিগ জামায়াতের মুরুব্বিদের সাথে বৈঠক শেষে এ মন্তব্য করেন তারা।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দু’পক্ষকে একসাথে এনে  ইজতেমা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিবেন।

    ধর্মপ্রতিমন্ত্রী বলেন, একপক্ষের উপস্থিতি কম থাকায় বুধবার আবারো বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে দ্বিমত থাকলেও টঙ্গির ময়দানে একসাথে ইজতেমা করার আহ্বান জানান তিনি।

    এদিকে তাবলীগের সাদ পন্থি মুরব্বি আশরাফ আলী জানান, সরকার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে একসাথে ইজতেমা করা সম্ভব। তবে দুপক্ষকে এক করা এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, বিশ্ব তাগলীগের প্রধান মুরব্বি মাওলানা সা’দ। তিনি উপস্থিত না থাকলে বিদেশি মেহমান আসবে না বলেও মন্তব্য করেন আশরাফ আলী।

  • কুমিল্লায় হিন্দু থেকে মুসলমান হলেন একই পরিবারের ৫ জন!

    কুমিল্লায় হিন্দু থেকে মুসলমান হলেন একই পরিবারের ৫ জন!

    ২০১৩ সালে গাজীপুর আব্দুস সালাম মসজিদের খতিব, মাওলানা আব্দুল মালেক এর হাত ধরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের হাটির পাড় গ্রামের প্রদীপ কুমার সাহা সহ পরিবারের পাঁচসদস্য।

    তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর সাড়ে চার বছর পর আসলেন নিজ গ্রামে। বাঁধা ছিল সমাজ এবং তাদের সনাতন ধর্মের পরিবাররা। এ খবর পাওয়ার পর হাটি পাড় মুসলিম সমাজ ওই পরিবারকে এলাকা আশার জন্য আহবান করে।

    স্থানীয় মুসলিমদের আশ্বাস পেয়ে দীর্ঘদিন পর তারা নিজ গ্রামে আসেন। তাদের আগমন উপলক্ষে স্থানীয় মুসলিম মাতব্বররা ও মসজিদের খতিব মাওলানা মোতাহের হোসেন উৎসাহ উদ্দীপনা যোগায়।

    বর্তমানে প্রদীপ কুমার সাহা মুসলিম হওয়ার পর নতুন নাম রাখা হয় নুর মোহাম্মদ । তার সাথে ছিলেন তার দুই ছেলে স্ত্রী ও শাশুড়ি।

    বড় ছেলে যার সনাতন ধর্মের নাম ছিল ইমন সাহা, মুসলমান হওয়ার পর তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ ইসমাইল হাসান। ছোট ছেলের নাম ছিল সৈকত সাহা, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তার বর্তমান নাম মোঃ শাহাদাত হোসেন।

    তার স্ত্রী সরস্বতী যার বর্তমান নাম খাদিজাতুল কোবরা এবং নূর মোহাম্মদের শাশুড়ির নাম ছিল সুমি রানী, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তার নাম রাখা হয় ফাতেমা-তুজ-জোহরা।

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিজ ভূমে ফিরে এক প্রতিক্রিয়ায় নুর মোহাম্মদ বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে ইসলাম ধর্মের কোরআন ও হাদিসের বাণী এবং বিভিন্ন আলেম ওলামাদের বয়ান থেকে শুনার পর মনে হয় ইসলাম ধর্ম তার নাজাতের জন্য যথেষ্ট এবং আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম সর্বশেষ নবী বলে মনে করেন।

    ইসলাম ধর্ম সঠিক মনে করে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এসময় তার বড় ছেলে ইসমাইল হোসেন বলেন, ইসলাম ধর্ম পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম তাই সে তার বাবা-মা ছোট ভাই এবং তার নানুকে নিয়ে পবিত্র ধর্ম ইসলাম কে গ্রহণ করেন।

    আমাদের ধর্ম ত্যাগের কথা শুনে পূর্বের ধর্মাবলম্বীরা গত বৃহস্পতিবার দলবল নিয়ে এসে তারা মানসিক টর্চার শুরু করেন। পরে স্থানীয় মসজিদের খতিব সহ এলাকার লোকজন শুনে ছুটে গিয়ে সহযোগীতা করেন।

    নুরমোহাম্মদ বলেন, মুসলিম সমাজের সকলেই আমার পাশে আছেন এবং আগামী দিনেও তারা আমার পাশে থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আগামী দিনে আমার বিপদে আমার সমাজসহ দেশবাসীর কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।

    মাওলানা মো: তাহের বলেন, বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ইসলাম ধর্মের প্রতি উদার অনেক ভূমিকা রয়েছে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

    উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন-আহবায়ক কামাল হোসেন বলেন, আমরা সামাজিকভাবে এই নব মুসলিম পরিবারকে সহযোগিতা করছি। আমাদের পাশাপাশি অত্র উপজেলা সহ দেশ-বিদেশের সকল মুসলমান যদি সামমান্য কিছু অর্থ দিয়ে তাদের সহযোগীতা করতে পারেন তা হলে তাদের প্রতিষ্টিত হতে সময় লাগবে না। কারণ পূর্বের সনাতন ধর্মে পরিবার পরিজনরা তাদের সকল সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছে।

  • পাগলা মসজিদের দানবাক্সে আবারও মিলল কোটি টাকা

    পাগলা মসজিদের দানবাক্সে আবারও মিলল কোটি টাকা

    বরাবরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে কোটি টাকার দান পাওয়া গেছে। তিন মাস ছয় দিন পর শনিবার (১৯ জানুয়ারি) দানবাক্স খোলা হয়েছে। এবার দান বাক্সে মিলেছে এক কোটি ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৩ টাকা।

    Related image

    এদিন সকালে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলা হয়। সিন্দকের টাকাগুলো প্রথমে বস্তায় ভরা হয়। এরপর শুরু হয় গণনার কাজ। বিকেলে গণনা শেষে দানের এ টাকার হিসাব পাওয়া যায়। এছাড়াও দানবাক্সে পাওয়া গেছে সোনা ও রূপার অলংকার এবং বৈদেশিক মুদ্রা।

    কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজির হোসেন, মো. শরীফুল আলম ও সাগুফতা হক টাকা গণনার কাজ তদারকি করেন। এ সময় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, তিন মাস পরপর মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এবার তিন মাস ছয়দিন পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। গণনা করে নগদ ১ কোটি ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৩ টাকা পাওয়া যায়।

    Related image

    তিনি আরও জানান, টাকাগুলো রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখায় জমা করা হয়েছে। আর যে সোনা ও রূপার অলংকার পাওয়া গেছে, তা আগে পাওয়া অলংকারের সাথে যোগ করে সিন্দুকে রেখে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও দানে পাওয়া ছাগল, হাস-মুরগি প্রতি সপ্তাহেই নির্ধারিত দিনে নিলামে বিক্রি করা হয়।

    উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ১৩ অক্টোবর মসজিদের দানবাক্স খুলে গণনা করে ১ কোটি ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৫ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।

  • ১ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে ‘বিশ্ব হিজাব দিবস’

    ১ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে ‘বিশ্ব হিজাব দিবস’

    আগামী ১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ‘বিশ্ব হিজাব দিবস।’ গত ৬ বছর থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে এ দিবস পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। এবারও সিটি হলের বারান্দায় ঐদিন বেলা ১২টায় সকলে জড়ো হবেন। মিলিত হবেন সংবাদ সম্মেলনে। দাবি জানাবেন, হিজাব বিরোধী মনোভাব পরিহারের, ধর্ম ও জাতিগত বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হবার।

    এ কর্মসূচির প্রবক্তা বাংলাদেশি এ্যাক্টিভিস্ট মাজেদা-এ-উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর আগে নাজমা খান নামক এক বাংলাদেশি ছাত্রী জ্যামাইকায় আক্রান্ত হন। বাংলাদেশি পোশাকে তিনি পথ পাড়ি দিচ্ছিলেন বলেই বিদ্বেষমূলক আচরণের কবলে পড়েন। সেই ঘটনার প্রতিবাদ, নিন্দা এবং সর্বসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যে শুরু হওয়া হিজাব দিবস এবারও উদযাপিত হবে ঐ একই চেতনায়। কারণ এখনও ধর্মীয় পোশাক, জাতিগত কারণে বৈষম্যের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে সর্বত্র। এবারের কর্মসূচিতে নাজমা খানও থাকবেন।

    উল্লেখ্য, নাজমা খানই হচ্ছেন এই কর্মসূচির উদ্যোক্তা। তার পাশে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়েছেন মাজেদার মত নারী জাগরণের কর্মীরা। মাজেদা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার খর্ব করার বিরুদ্ধে নিরবতা অবলম্বনের সুযোগ নেই। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। হিজাব দিবসে সে সুযোগ দেয় সকল অধিকার সচেতন মানুষকে। আপনি কোন ধর্মের-বর্ণের-গোত্রের, সেটি বড় কথা নয়, আপনি একজন মানুষ- এ চেতনায় জড়ো হন হিজাব দিবস’র কর্মসূচিতে।

    মাজেদা বলেন, আমরা নিউইয়র্ক স্টেট পার্লামেন্টে ‘ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে’র দাবি জানিয়েছিলাম। ২০১৬ সালে সে বিল উঠিয়েছিলেন স্টেট সিনেটর রোকসানা জে পারসুয়াদ। সেটি পাশ হয়েছে ‘জাতীয় সিলেব্রেশন ডে’ হচ্ছে ‘ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে’ শিরোনামে।  হিজাব ডে’র সাথে ইতিমধ্যেই সংহতি প্রকাশ করেছেন ৪৫ দেশের ৭০ জনের অধিক রাষ্ট্রদূত, খ্যাতনামা রাজনীতিক, স্কলারসহ টাইম ম্যাগাজিন, সিএনএন-এর মত বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম। এবারের হিজাব দিবসের  স্লোগান হচ্ছে, ‘হিজাব ইজ মাই ফ্রিডম’, ‘হিজাব ইজ মাই প্রটেকশন’, ‘হিজাব ইজ মাই চয়েস’, ‘হিজাব ইজ মাই কভার’ ইত্যাদি।

  • হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ১০ হাজার টাকা কমাল সরকার

    হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ১০ হাজার টাকা কমাল সরকার

    অনলাইন ডেস্ক:

    ২০১৯ সালে হজযাত্রীদের বিমানের ভাড়া ৩৮ হাজার ১৯১ টাকা থেকে ১০ হাজার কমিয়ে ২৮ হাজার করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এ কথা জানিয়ে বলেন, এবছর হজে যাওয়া যাত্রীদের বিমান ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার প্রত্যেক হজযাত্রীকে ভাড়া দিতে হবে এক লাখ ২৮ হাজার টাকা। যা গতবছরের চেয়ে ১০ হাজার ১৯১ টাকা কমেছে।

    এ সময় হজ পালনে জড়িত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে মুসল্লিদের পরিবহনে ভালোমানের প্লেন ব্যবহারের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী৷

    এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

  • শিক্ষকদের তথ্য চেয়ে দেড় হাজার মাদরাসায় চিঠি

    শিক্ষকদের তথ্য চেয়ে দেড় হাজার মাদরাসায় চিঠি

    অনলাইন ডেস্ক:

    দেড় হাজারেরও বেশি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার (অনুদানপ্রাপ্ত) শিক্ষকদের তথ্য চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর। মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    অধিদফতর জানায়, দেশে এক হাজার ৫১৯টি অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলো বন্ধ রয়েছে। কিছু দাখিল পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। অনুদানভুক্ত অনেক শিক্ষক বর্তমানে কর্মরত নেই। আবার অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন কর্মরত থেকেও অনুদান পাচ্ছেন না। এসব সমস্যা নিরসন এবং অনুদান সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করতেই শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ জন্য অনুদানভুক্ত ও অনুদানবিহীন এসব মাদরাসার শিক্ষকদের তথ্য পাঠাতে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে।

    জানা গেছে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করে কর্মরত শিক্ষকের নাম, পদবি, ইনডেক্স নম্বর, জন্ম তারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ, যোগদান ও অনুদানভুক্তির তারিখ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং এসব শিক্ষকদের সম্পর্কে মন্তব্য মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরে পাঠাতে বলা হয়েছে। ৩০ জানুয়ারির মধ্যে এসব তথ্য পাঠাতে হবে।

    মাদরাসা অধিদফতর সূত্র আরও জানায়, অনুদানবিহীন যেসব শিক্ষক অধিদফতরে ইতিমধ্যে অনুদানপ্রাপ্তির আবেদন করেছেন তাদেরও অনুদান প্রাপ্তিতে নতুন করে আবেদন করতে হবে। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার নীতিমালার অনুচ্ছেদ ১৭ অনুযায়ী উপজেলা বা থানা ইবতেদায়ি শিক্ষা কমিটির সভাপতির প্রতিস্বাক্ষরসহ আবেদন করতে হবে। এছাড়া আবেদনের সময় এমপিও প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযোজন করতে হবে।

  • বলিউড ছেড়ে ইসলাম প্রচারে আত্ননিয়োগ করেছিলেন অভিনেতা কাদের খান

    বলিউড ছেড়ে ইসলাম প্রচারে আত্ননিয়োগ করেছিলেন অভিনেতা কাদের খান

    বলিউড ছেড়ে ইসলাম প্রচারে- কাদের খান একজন বিখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা, কমেডিয়ান, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখক এবং পরিচালক। তিনি ১৯৭০ সাল থেকে একবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ৪৫০ টিরও বেশি হিন্দি এবং উর্দু সিনেমায় অভিনয় করেছেন এবং ২৫০ টিরও বেশি ভারতীয় সিনেমার সংলাপ লিখেছেন।

    চলুন যেনে নেয়া যাক এই অভিনেতার তিনি বলিউড ছেড়ে ইসলামের দিকে চলে আসার কাহিনী। কাদের খান ১৯৩৫ সালের ২২ অক্টোবর আফগানিস্তানের কাবুলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কাবুল আফগানিস্তানের আফগান পশতুন বংশোদ্ভুদ। তার পিতা মৌলভী আব্দুর রহমান যিনি কান্দাহারের বাসিন্দা ছিলেন। তার মাতা ইকবাল বেগম ছিলেন বর্তমান পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের পিশিন জেলার অধিবাসী। তিনি পবিত্র কুরআনে হাফেজ ছিলেন। তার পরিবার কানাডা এবং হল্যান্ডে বাস করে। তার তিন ছেলে কানাডায় বাস করে। কাদের খান ভারত ও কানাডার নাগরিক ছিলেন। কাদের খানের বাবা মৌলভী আব্দুর রহমান শুধু ধর্মীয় পণ্ডিত ছিলেন না, তিনি আরবি ভাষা ও ইসলামিক সাহিত্যে স্নাতকোত্তরও ছিলেন। তিনি হল্যান্ডে চলে যান। সেখানে তিনি নিজে ইসলামিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ১৯৯০ সালের শুরুর দিকে কাদের খানের পিতা মৃত্যুর পূর্বে সেখানে ডেকে পাঠালেন এবং প্রতিষ্ঠানের উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিলে প্রথমে কাদের খান রাজি হননি। তিনি যুক্তি হিসেবে বলেন, ইসলাম সম্পর্কে তার জ্ঞান কম।

    তখন কাদের খানের পিতা জানতে চাইলেন, বলিউডে যোগ দেয়ার আগে ‍তুমি কি সেই জগৎটাকে জানতে? তিনি আরো বলেন, সিনেমার গল্প লেখা বা কথোপকথন লেখার বিষয়ে তার প্রথমে কোন জ্ঞান ছিল না, তিনি শিখেছিলেন এবং বলিউডে বেশ নাম করেছেন। তাই, একইভাবে তিনি ইসলাম, আরবি ও উর্দু সম্পর্কেও শিখতে পারবেন। কাদের খানের পিতার এই কথা তাকে ব্যাপক প্রভাবিত করে। এর ফলে তিনি ১৯৯৩ সালে ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ এন্ড এরাবিক লিটারেচারে ভর্তি হন। পিতার ইচ্ছার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নার্সারি লেভেল থেকে স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য তিন স্তরে ইসলামী শিক্ষা, শরিয়াহ আইন এবং অনুরূপ বিষয়ের জন্য বিভিন্ন ইসলামিক কোর্স কারিকুলাম তৈরি করেন। এই কোর্সের অন্যতম দিক ছিল অতি সহজেই একজন সাধারন মানুষ যাতে কুরআন বুঝতে পারেন। এমনকি অমুসলিমরাও যাতে সহজেই ইসলামিক শিক্ষা লাভ করতে পারেন। এছাড়াও তিনি দুবাইয়ে কেকে ইন্সটিটিউট অব এরাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন। পরবর্তীতে কানাডায় তিনি আরবি ভাষা ও পবিত্র কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন ইসলামিক আইনের উপর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেন।

    ২০০৫ সালের দিকে কাদের খানের ইসলামিক সেন্টারগুলো পূর্ণরুপে চলতে থাকে। পিতার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত ও পরিতৃপ্ত হন।

    এছাড়াও সারা জীবন তিনি ভারতের সাধারণ মুসলামানদের মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি চাইতেন মুসলিম যুবকেরা শিক্ষায় ও কারিগরি দক্ষতা দিয়ে স্বাধীনভাবে নিজেদের স্থান তৈরি করে নিতে পারে।
    তার অসুস্থতার পূর্বে কাদের খান তার শিক্ষাকেন্দ্রগুলোর জন্য বিভিন্ন দেশে শাখা স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, লন্ডন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। ভারতে মুসলিম সমাজে তার অবদানের জন্য আমেরিকান ফেডেরাশন অব মুসলিম ফ্রম ইন্ডিয়া (AFMI) স্বীকৃতপ্রাপ্ত হয়।
    কাদের খান ২০১৪ সালে পবিত্র হজ পালন করেন। এভাবেই তিনি বলিউড থেকে দূরে চলে আসেন। আর ইসলাম প্রচারে নিজেকে নিয়োগ করেছিলেন।

     

  • বিবি হালিমার ঘরে যেভাবে বেড়ে ওঠেন বিশ্বনবি

    বিবি হালিমার ঘরে যেভাবে বেড়ে ওঠেন বিশ্বনবি

    বিশ্বনবির জন্মকালীন সময়ে মক্কার লোকেরা নিজেদের সন্তানদেরকে মক্কা শহর থেকে পল্লী গ্রামে পাঠিয়ে দিতেন। যাতে তারা গ্রামের সুন্দর ও উন্মুক্ত পরিবেশে সুস্থ ও মজবুতভাবে বেড়ে ওঠতে পারে। সে আলোকে প্রিয়নবিও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তাকেও সুন্দর প্রতিপালন দুগ্ধ পানের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল।

    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের কিছুদিন পর মক্কা পল্লীর হাওয়াযেন গোত্রের বনি সাদ বিন বকর শাখার কতিপয় দুগ্ধদানকারী নারী নবজাতক নেয়ার জন্য পবিত্র নগরী মক্কায় আসেন। সে দলে হজরত হালিমা সাদিয়াও ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী হারিস বিন আবদুল্লাহ।

    সে বছরটি ছিল মারাত্মক দুর্ভিক্ষ ও অভাব-অনটনের। অভাবের তাড়নায় নিঃস্ব যেসব নারীর দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিল তারা দুগ্ধপোষ্য শিশু গ্রহণের ব্যকুল ছিল। হজরত হালিমা সাদিয়ার দুগ্ধপোষ্য শিশুর নাম ছিল আব্দুল্লাহ।

    হজরত হালিমা সাদিয়া স্বামী ও শিশু সন্তান আব্দুল্লাহসহ একটি বযস্ক সাওয়ারীর পিঠে চড়ে দুগ্ধপোষ্য সন্তান লাভের আশায় পবিত্র নগরী মক্কায় এসে পৌছলেন। কিন্তু অন্যদের তুলনায় তাদের আসতে দেরি হয়ে যায়।

    পথিমধ্যে ক্ষুধার যন্ত্রণায় শিশু আবদুল্লাহ সারারাত কান্নাকাটি করে, ফলে তারা বিনিদ্র রজনী অতিবাহিত করে। সন্তানের ক্ষুধা নিবৃত্ত করার মতো দুধ ছিল হজরত হালিমা সাদিয়ার বুকে এবং সাওয়ারীর পালানে।

    হালিমার মক্কায় আগমন

    দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্লান্ত ও অবসন্ন গোটা কাফেলা পবিত্র নগরী মক্কায় এসে উপস্থিত হয়। কাফেলার সবাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। কারণ তিনি ছিলেন পিতৃহীন, ইয়াতিম। যথাযথ পারিশ্রমিক ও উপঢৌকন না পাওয়ার ভয়ে তারা প্রিয়নবিকে এড়িয়ে গেলন।

    আগত কাফেলার সবাই শিশু পেয়ে যায় কিন্তু হজরত হালিমা কোনো শিশু পায়নি। আর বাকী ছিলেন শুধু শিশু মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। হজরত হালিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু এ ইয়াতিম শিশু মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিতেই স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং জেদ ধরেন যে, এ ইয়াতিম শিশুকেই সে গ্রহণ করবে।

    হালিমার স্বামী তাকে বলল- ‘ইয়াতিম শিশু মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিতে পার, হতে পারে আল্লাহ তাআলা তার মাঝে আমাদের জন্য কোনো কল্যাণ রেখেছেন।’

    শিশু মুহাম্মদকে গ্রহণ

    বিবি হালিমা শিশু মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গেই অনুভব করলেন যে, তার স্তন দুটি দুধে পরিপূর্ণ। তা থেকে শিশু মুহাম্মদকে দুধ পান করালেন। তার সন্তান আব্দুল্লাহকেও দুধ পান করালেন।

    যে বয়স্ক ও দুর্বল সাওয়ারিতে করে তারা মক্কায় এসেছেন, সে সাওয়ারী অন্যদের সাওয়ারী থেকে শক্তিশালী ও তার পালনেও দুধে ভরপুর হয়ে গেল। তা থেকে হজরত হালিমার স্বামী হারিস দুধ দোহন করে তারা উভয়ে তৃপ্তিসহকারে দুধ পান করলেন।

    হজরত হালিমার স্বামী তখন স্ত্রীকে বললেন, হে হালিমা! জেনে রেখো, তুমি এক মহান কল্যাণময় শিশু পেয়েছ। হজরত হালিমা বলেন, ‘আমারও তা-ই মনে হয়।’ শুরু হলো শিশু মুহাম্মদকে নিয়ে হালিমার পথচলা।

    হালিমার গৃহে শিশু মুহাম্মদ

    মক্কায় আসার পথে যে বাহনে আসতে বিবি হালিমার কষ্ট হয়েছিল এবং তারা কাফেলা থেকে পিছিয়ে পড়েছিল। সে সাওয়ারী শিশু মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়ে গোটা কাফেলাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চললো।

    কাফেলার সহযাত্রী নারীরা বলতে লাগলো, হে আবু যুয়াইবের কন্যা! একটু দাঁড়াও এবং আমাদের জন্য অপেক্ষা কর। এটা কি সেই সাওয়ারী নয়, যেটায় চড়ে তুমি আমাদের সঙ্গে এসেছিলে?

    হজরত হালিমা সাদিয়া বললেন, ‘হ্যাঁ’। তারা বলল, ‘আল্লাহর কসম! এ সাওয়ারী আগের অবস্থার পুরোপুরি উল্টো।’

    হাওয়াযেন গোত্রে শিশু মুহাম্মদ

    হজরত হালিমা শিশু মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়ে নিজ গৃহে এসে উপস্থিত হলেন। আল্লাহর একান্ত মেহেরবানি যে, সবাই যখন অভাব-অনটনে নিমজ্জিত, তখন হালিমার গৃহে বেইছে স্বচ্ছলতার সুবাতাস।
    যেখানে গোত্রের কারো ভেড়া ও ছাগলের পাল পেট পুরে খেতে পারে না এবং দুধ দেয় না সেখানে হজরত হালিমার ভেড়া ও ছাগলের পাল পেট ভরে খায় এবং পালান ভর্তি দুধ দেয়। আর তাতে দ্রুত হজরত হালিমার অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। সাবলম্বী হয়ে ওঠে হজরত হালিমার পরিবার।

    শিশু মুহাম্মদের বেড়ে ওঠা

    হজরত হালিমার গৃহে প্রিয়নবির আগমনই ছিল মহান আল্লাহর একান্ত রহমত। যে কারণে পুরো গোত্র দুর্ভিক্ষগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও তার গৃহ ছিল সার্বিকভাবে স্বচ্ছল। এর এটি ছিল প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক বিশেষ মুজিজা।

    আল্লাহ তা’আলা একান্ত রহমত ও বরকতা দ্বারা হালিমার ঘরকে সাহায্য করেন। ক্ষুধা ও ভয় থেকে প্রিয়নবিসহ বিবি হালিমার পুরো পরিবারকে হেফাজত করেন। আর এভাবেই নিরাপদে বিবি হালিমার ঘরে বেড়ে ওঠেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

    আল্লাহ তা’আলা ইয়াতিম শিশু মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এভাবে দুর্ভিক্ষের মাঝে সাহায্য করেছিলেন। যা ইসলাম ও মুসলমানসহ বিশ্ব মানবতার জন্য এক মহান শিক্ষা।

  • ক্যালিফোর্নিয়া সুপ্রিম কোর্টে প্রথম মুসলিম বিচারপতি

    ক্যালিফোর্নিয়া সুপ্রিম কোর্টে প্রথম মুসলিম বিচারপতি

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হয়েছেন হালিম ধানিদিনা। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো মুসলিম বিচারপতি হিসেবে তিনিই আইন বিভাগে সর্বোচ্চ এই পদ লাভ করলেন। সম্প্রতি আদালতের আপিল বিভাগের উচ্চ পদে তাকে এ পদোন্নতি দেয়া হয়। খবর পিবিএস নিউজের।

    তার এ নিয়োগ ক্যালিফোর্নিয়ার ঐতিহাসিক ঘটনা হিসাবে বিবেচনা করছেন স্থানীয়রা। আমেরিকাজুড়ে ইসলামফোবিয়ার এই দুঃসহ সময়ে হালিম ধানিদিনার এমন সাফল্য আমেরিকান মুসলিমদের মনে বেশ আশা ও উৎসাহ সঞ্চার করেছে।

    হালিমের জন্ম আমেরিকার শিকাগোতে। তবে তার মা বাবা দুইজনই ভারতীয়। বিয়ের পর তারা ভারতের গুজরাট থেকে প্রথমে পূর্ব আফ্রিকায় স্থনান্তরিত হন। এরপর সেখান থেকে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

    হালিম বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার সুপ্রিম কোর্টে প্রথম মুসলিম হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার বিষয়ে আমি খুব বেশি চিন্তা করিনি এবং তা আশা কিংবা কল্পনাও করিনি। তার কৃতিত্বপূর্ণ পদোন্নতি ও নিয়োগের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় মুসলমানরা বেশ খুশি হয়েছে। তার মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ান মুসলমানদের সঙ্গে লস এঞ্জেলেসের ইহুদিদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে বলে তাদের বিশ্বাস।

    মার্কিন আদালতের একমাত্র মুসলিম বিচারক হিসাবে কাজ করতে গিয়ে ধানিদিনাকে বৈষম্যমূলক ও লাঞ্ছনাকর বিভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। ইসলামফোবিয়া ও ভিনদেশি হওয়ায় দেশীয় বিভিন্ন নিয়ম-নীতি মোকাবেলা করে আসতে হয়েছে তাকে। অনেকে তার গণতান্ত্রিক ভূমিকা নিয়ে সন্দেহও পোষণ করেছিল। কিন্তু হালিম অকাট্যভাবে বলে দিয়েছেন, আমি বিব্রতকর ও পরিণামদর্শী মন্তব্যগুলো মোকাবেলা করার কৌশল রপ্ত করে নিয়েছি। আর আমি এও বুঝতে শুরু করেছি যে, আমার মতো কোনো মুসলিম বিচারক না হলে, তাকে এত ধরনের ভীতিপূর্ণ মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হতো না।

    বিচারক অ্যান্ড্রু কিম তার সহকর্মী ধানিদিনা সম্পর্কে বলেন, বিচারব্যবস্থা বিষয়ে যখন আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি, তখন স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছি যে অভিজ্ঞতা-দক্ষতা এবং জুরির সঙ্গে মজবুত সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে হালিমের জন্য অপূর্ব-সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।

    তার অন্যান্য সহকর্মীরা দৃঢ়তার সঙ্গে আশা করেছেন যে, তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে বিচারমন্ত্রণালয়ে অনুসরণীয় নিয়ম-পদ্ধতি ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।

    বিচারবোর্ডের সভাপতি আন্দ্রেস রাসেল ধানিদিনা সম্পর্কে বলেন, গত চার বছর ধরে তাকে আমি চিনি। আমেরিকায় সে খুব কঠিন সময় পার করে এসেছে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ ও আন্তরিকতা অভূতপূর্ব। আমার বিশ্বাস আমরা একসঙ্গে চমৎকার ও সুচারুভাবে কাজ করতে পারবো।

  • কাবাঘরের জমিনটুকু হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম জমিন

    কাবাঘরের জমিনটুকু হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম জমিন

    সলামী জ্ঞানের তথ্যমতে পৃথিবীতে ভূমির সৃষ্টি হয় মক্কায় অবস্থিত কাবা ঘরের স্থলকে কেন্দ্র করেই। হাদিস মতে, কাবার নিচের অংশটুকু অর্থাৎ কাবাঘরের জমিনটুকু হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম জমিন। বিশাল সাগরের মাঝে এর সৃষ্টি। ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হতে থাকে। এভাবে সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। পরে এক মহাদেশ থেকেই সৃষ্টি হয় সাত মহাদেশের।

    মুসলমানরা মনে করে, পৃথিবীতে মহান রাব্বুল আলামীনের অনন্য নিদর্শন পবিত্র কাবা শরিফ। ভৌগোলিকভাবে গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে বরকতময় পবিত্র কাবার অবস্থান- এটাও অনেকের জন্য আশ্চর্যজনক বিষয়।

    সৃষ্টির আদিকাল থেকেই আল্লাহ পবিত্র কাবা শরিফকে তার মনোনীত বান্দাদের মিলনমেলাস্থল হিসেবে কবুল করেছেন।

    দুনিয়াজুড়ে মুসলমানদের এই কিবলা তথা কাবা শরিফ সম্পর্কে নানা বিষয় জানতে আমরা সবসময়েই আগ্রহী হই- তবে এর সবটা হয়তো জানা হয় না। এই সুযোগে কাবা সম্পর্কিত কিছু আশ্চর্যজনক তথ্য জেনে নেয়া যাক। অনেকেই হয়তো এ বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত নন। আসুন, বিষয়গুলো জেনে নেওয়া যাক-

    ১) কাবা শরিফের সংস্কার:

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা ও শত্রুদের আক্রমণের কারণে বেশ কয়েকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পবিত্র কাবা শরিফ। তাই বেশ কয়েকবারই ক্ষতিগ্রস্ত কাবাকে পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে।

    সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য মতে, কাবাকে এ পর্যন্ত ১২ বার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। বিভিন্ন বিপর্যয়ের হাত থেকে সংরক্ষণ করতে কাবা শরিফকে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে আধুনিক ও শক্তিশালী প্রযুক্তির প্রয়োগে সংস্কার করা হয়। কাবা পুনঃসংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে ১৯৯৬ সালে হাতিমে কাবাও পুনঃনির্মাণ করা হয়।

    পবিত্র কাবা শরিফ নির্মাণ-পুনঃনির্মাণে বিভিন্ন যুগে হজরত আদম (আ.), হজরত ইব্রাহিম (আ.), হজরত ইসমাইল (আ.) এবং আখেরি নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)ও অংশগ্রহণ করেছিলেন।

    ২) কাবার গিলাফের রং পরিবর্তন:

    ‘কিসওয়া’ হলো কালো রংয়ের কাপড়। যা দ্বারা কাবা শরিফকে ঢেকে দেয়া হয়। কিন্তু অনেকেরই জানা নেই যে এ কিসওয়া বা গিলাফ সবসময় কালো ছিল না।

    প্রথমদিকে জরহাম গোত্রের শাসনামলে তাদের নিয়মানুযায়ী কিসওয়া দ্বারা কাবা শরিফের আচ্ছাদন সর্বপ্রথম শুরু হয়।

    পরবর্তীতে প্রিয়নবী (সা.) ইয়েমেনি সাদা কাপড় দিয়ে পবিত্র কাবাকে ঢেকে দেন। বিভিন্ন খলিফাদের আমলে লাল, সাদা, সবুজ রঙের কিসওয়াও ব্যবহার করা হতো। আব্বাসীয় খলিফাদের আমলে পবিত্র কাবার কিসওয়া হিসেবে বিভিন্ন রঙের ব্যবহার বন্ধ করে কালো রঙের কিসওয়া ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তখন থেকেই কিসওয়ার জন্য কালো রঙটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

    ৩) আকৃতি পরিবর্তন:

    নবী ইব্রাহিমের (আ.) আমল থেকেই মূলত পবিত্র কাবা শরিফ আয়তক্ষেত্র আকৃতির ছিল। ইসলামের আগমনের পূর্বে কুরাইশরা যখন পবিত্র কাবাকে পুনঃনির্মাণ করে তখন তহবিলের অভাবে পবিত্র কাবা শরিফের পুরো কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি তারা। যে স্থানটি তখন নির্মাণ করতে পারেনি সেই স্থানটিকে বলা হয় ‘হাতিমে কাবা’। এটি কাবারই অংশ। এ কারণে হাতিমে কাবাকে তাওয়াফে অন্তর্ভূক্ত করতে হয়। যা একটি ছোট্ট গোলাকার প্রাচীর দ্বারা চিহ্নিত।

    ৪) দরজা-জানালা:

    মূল কাবা শরিফে দুটি দরজা অন্তর্ভূক্ত ছিল। একটি দরজা ছিল প্রবেশের জন্য অন্যটি বাহির হওয়ার জন্য। এছাড়াও পবিত্র কাবা শরিফের দেয়ালে একটি জানালাও ছিল। বর্তমানে পবিত্র কাবা শরিফে রয়েছে একটি মাত্র দরজা এবং কোনো জানালা নেই, যদিও কাবা শরিফের ছাদে ওঠার জন্য ভিতরে একটি দরজা রয়েছে।

    ৫) ভেতরে কী আছে?

    এই প্রশ্ন অনেকেরই। পবিত্র কাবা শরিফের ভেতরে ভিত্তি মজবুতে তিনটি পিলার রয়েছে; যেগুলোর প্রত্যেকটি লিন্টারের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। পারফিউম ব্যবহারের জন্য পিলারের মধ্যে একটি ছোট বাক্স আকৃতির টেবিল রয়েছে। তিনটি খুঁটি বা স্তম্ভে ঝুলে আছে বিভিন্ন ডিজাইনের প্রদীপমালা।

    পবিত্র কোরআনের আয়াতের কারুকার্যখচিত সবুজ কাপড় কাবা শরিফের দেয়ালের ওপরের অংশে জুড়ে রয়েছে। পাশের দেয়ালে একটি স্বর্ণনির্মিত দরজা রয়েছে যেটাকে ‘বাব আল তাওবা’ বলে ডাকা হয়। যেটি ছাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় ব্যবহৃত হয়।

    ৬) হাজরে আসওয়াদ:

    পবিত্র কাবা শরিফের এক কোণে সংযুক্ত ‘হাজরে আসওয়াদ’ কালো পাথরটি আগে আকারে বড় ছিল। বর্তমানে এ পাথরটি ভেঙে ৮ টুকরায় বিভিন্ন সাইজে বিভক্ত। যা একটি সিলভার রংয়ের ফ্রেমে একত্র করে কাবা শরিফের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে লাগানো।

    পাথরটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা বন্যাসহ অনেকবার চুরি ও জালিয়াতির চেষ্টার কারণে অনাকাঙ্খিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হাজরে আসওয়াদের প্রথম সিলভার ফ্রেমটি তৈরি করেছিলেন আবদুল্লাহ বিন জুবাইর।

    ৭) চাবির জিম্মাদার:
    প্রাক ইসলামি যুগ থেকে এখন পর্যন্ত কাবা শরিফের চাবি একটি পরিবারের কাছেই রয়েছে।

    সম্মানিত এই পরিবারটি হলো বনু তালহা গোত্র। এ গোত্র গত ১৫শ শতাব্দী ধরে এ দায়িত্ব পালন করছে। এটি ওই পরিবারের জ্যৈষ্ঠ সদস্যরা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন।

    ৮) বার্ষিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম:
    বছরে দুই বার এর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়। প্রথমবার করা হয় শাবান মাসে আর দ্বিতীয় বার করা হয় জিলকদ মাসে। এ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বনু তালহা তথা আলশিবি পরিবারের লোকেরাই করে থাকেন।

    পবিত্র জমজমের পানি, তায়েফ গোলাপ জল এবং বহু মূল্যবান ‘ঊড’ তৈল দিয়ে একটি পরিষ্কার মিশ্রণ তৈরি করে তা দিয়েই পবিত্র কাবা শরিফ পরিষ্কার করা হয়। পবিত্র নগরী মক্কার গভর্নর এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে আমন্ত্রণ জানান।

    ৯) দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত:

    একটা সময়ে পবিত্র কাবা শরিফের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এ পবিত্র ঘরে প্রবেশ করে ইবাদাত-বন্দেগিও করতো। হজের সময় তীর্থযাত্রীরা ইচ্ছা করলে এতে প্রবেশ করতে পারতো।

    কিন্তু হাজিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ঘরের নিরাপত্তার জন্যই এখন কেউ ইচ্ছা করলেও অভ্যন্তরে যেতে পারে না। এটা এখন মাঝে মাঝে বিশেষ বিশেষ মেহমানদের জন্য খোলা হয়।

    ১০) তাওয়াফ:
    পবিত্র কাবা শরিফ সম্পর্কে অবিশ্বাস্য হলেও চিরন্তন সত্য যে, এর চারদিকে ঘোরা অর্থাৎ তাওয়াফ কখনো বন্ধ হয় না।

    তবে হ্যাঁ, নামাজের সময় যখন মুয়াজ্জিন জামাতের জন্য ইক্বামাত দেন ঠিক নামাজের সময় তাওয়াফকালীন অবস্থায় যে যেখানে থাকে সেখানে দাঁড়িয়েই নামাজে অংশগ্রহণ করে। নামাজের সালাম ফিরানোর সঙ্গে সঙ্গে আবার তাওয়াফ শুরু হয়ে যায়।

    শুধু তাই নয়, যখন বন্যার কারণে পানিতে তাওয়াফ চত্ত্বর তলিয়ে গিয়েছিল তখনো মানুষ সাঁতার কেটে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করতো।