Category: ইসলাম

  • তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

    তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

    বিশ্ব ইজতেমায় আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম ইসমাইল মণ্ডল (৬৫)। বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। আজ শনিবার সকালে ছেলে জাহিদ হাসানের সঙ্গে তিনি টঙ্গী এসেছিলেন। শনিবার ভোর থেকে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। টঙ্গীতে ইজতেমা ময়দানের ১ নম্বর প্রবেশ ফটকে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে ৫০ থেকে ৬০ জন আহত হন।

    এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আহত লোকজনকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল ও উত্তরার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত গাজীপুর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা–ডিবির পরিদর্শক এ কে এম কাওসার চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। নিহত ব্যক্তির মাথায় আঘাত রয়েছে। ধারালো কিছু বা বাঁশজাতীয় কোনো লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ভোরে বিশ্ব ইজতেমা পরিচালনাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। মাওলানা জুবায়ের ও দিল্লির মাওলানা সাদের অনুসারী দুই পক্ষের হাজার হাজার মুসল্লি পৃথকভাবে টঙ্গীতে ইজতেমা ময়দান ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আবদুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া হয়ে আশুলিয়ার দিকে সড়কে অবস্থান নেন।

    নিহত ইসমাইলের ছেলে জাহিদ হাসান বলেন, তাঁর বাবা আলুর ব্যবসা করতেন। জাহিদ হাসানের সঙ্গে আজ সকালে তিনি টঙ্গী আসেন। তাঁর বাবা সাদপন্থী। সাদবিরোধীরা মাঠে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সাদপন্থীরা মাঠে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। ধাক্কাধাক্কির সময় তাঁর বাবা সামনে ছিলেন। তাঁর মাথায় আঘাত লেগেছিল। সাদবিরোধীরা ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করেন তাঁকে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কামারপাড়া থেকে একদল মুসল্লি লাঠিসোঁটা হাতে ইজতেমা ময়দানের ১ নম্বর প্রবেশদ্বারে প্রতিপক্ষের অনুসারীদের ওপর হামলা চালান। মুহূর্তের মধ্যে স্থানটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আধা ঘণ্টা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলার পর পুলিশের হস্তক্ষেপে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।

    দুই পক্ষের বিরোধিতার কারণে আসছে বছরের বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত ঘোষণা করে সরকার। ১৫ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তাবলিগ জামাতের বিবদমান দুই পক্ষ ছাড়াও পুলিশের আইজি, ধর্মসচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আগামী জানুয়ারিতে বিশ্ব ইজতেমা হওয়ার কথা ছিল।

    প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারের ওই ঘোষণার পর থেকে সময়ে–সময়ে দুই পক্ষ জায়গায় জায়গায় অবস্থান নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালায়। সবশেষ আজ ভোর থেকে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

  • যে গোনাহ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন প্রিয়নবি

    যে গোনাহ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন প্রিয়নবি

    শামীম ইসলাম:

    গোনাহের পর ক্ষমা প্রার্থনাকারীকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তাআলা প্রিয়নবিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি ক্ষমা চান আপনার ও মুমিন নারী-পুরুষের দোষ-ত্রুটির জন্য।’ (সুরা মুহাম্মদ : আয়াত ১৯)

    হাদিসে এসেছে মানুষ যদি গোনাহ না করত আল্লাহ এ জাতিকে ধ্বংস করে দিয়ে অন্য জাতি নিয়ে আসতেন। যাতে তারা গোনাহ করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। তবে সব গোনাহের ব্যাপারে মুমিন মুসলমানকে সতর্ক থাকতে হবে।

    এমন কিছু গোনাহের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক। যেগুলো হাদিসের পরিভাষায় সবচেয়ে বড় গোনাহ। যে ব্যাপারে প্রিয়নবি সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছন।

    একবার হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জানতে চাইলেন যে, ইয়া রাসুলুল্লাহ! সবচেয়ে বড় গোনাহ কী? অতঃপর প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদিসটি বর্ণনা করেন-

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সবচেয়ে বড় গোনাহ কোনটি? তিনি বললেন-

    > কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করা অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।
    অতপর তিনি বললেন, তারপর কোনটি? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
    > তোমার সঙ্গে খাবে, এ ভয়ে সন্তানকে হত্যা করা।
    তিনি আবার বললেন, তারপর কোনটি? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
    > তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে জিনা (ব্যভিচার) করা।
    তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথার সত্যতা ঘোষণা করে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাজিল করেন- ‘আর যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে না।’ (বুখারি)

    প্রথম কথা হলো
    আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা যাবে না। এটা সবচেয়ে বড় গোনাহ। যা আল্লাহ তাআলা কখনো ক্ষমা করবেন না।

    দ্বিতীয়ত
    নিজেদের সন্তানকে হত্যা করাও সবচেয়ে বড় অপরাধ। অনেক সময় দেখা যায়, গর্ভে সন্তান চলে আসে, বিভিন্ন অজুহাতে বাবা-মা কিংবা পরিবারের সদস্যরা সে সন্তানকে অকালে গর্ভপাতের মাধ্যমে নষ্ট করে ফেলে। যা কোনোভাবেই উচিত নয়। কেননা এটি সবচেয়ে বড় গোনাহের একটি।

    তৃতীয়ত
    জিনার মতো মারাত্মক অপরাধ থেকে বিরত থাকা। কেননা নারী পুরুষের চারিত্রিক পবিত্রতা ও শৃঙ্খলার জন্য আল্লাহ তাআলা বিয়ের ব্যবস্থা রেখেছেন। তা সত্ত্বেও অন্যের স্ত্রীর প্রতি কুদৃষ্টি ও অবৈধ মেলামেশা করা। ইসলাম এটাকে কোনোভাবেই সমর্থন করে না। বরং এ পর্যায়ের জিনাকারীর শাস্তি পাথর মেরে হত্যা করার বিধান প্রণয়ন করেছে ইসলাম।

    সুতরাং আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করে, সন্তান হত্যা না করে জিনা-ব্যাভিচারে লিপ্ত না হয়ে অন্তরে আল্লাহ ভয় ও ভালোবাসা পোষণ করাই ঈমানদারের একমাত্র কাজ।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসে ঘোষিত সবচেয়ে বড় গোনাহগুলো থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • গোরস্থান মসজিদ নির্মানে সহযোগিতার চেক দিলেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    গোরস্থান মসজিদ নির্মানে সহযোগিতার চেক দিলেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    অনলাইন ডেক্স:

    মন্ত্রী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর মাধ্যমে বিসিসিতে বরাদ্ধকৃত অর্থ থেকে নগরীর গোরস্থান মসজিদ নির্মানের সহযোগিতার চেক মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    এ সময় বরিশাল গোরস্থান আন্জুমানের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক, মাহাবুব উদ্দিন আহম্মেদ,বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান,সাইদুর রহমান রিন্টু,২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সাইদ মান্না সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    উল্যেক্ষ্য,হাসানাত আবদুল্লাহ্ বরিশাল আন্জুমান গোরস্থানের পুরাতন  জরাজীর্ন মসজিদ টি ভেঙ্গে পুনরায়,আধুনিক ও উন্নত মানের বৃহৎ আকারের নতুন গোরস্থান মসজিদ নির্মানে সর্বাত্তক সহযোগিতা করে আসছেন।

  • বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে তাবলিগের দুই পক্ষ মুখোমুখি

    বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে তাবলিগের দুই পক্ষ মুখোমুখি

    টঙ্গীর তুরাগ নদের পাড়ে বিশ্ব ইজতেমা মাঠের সব কটি ফটকে কড়া পাহারা বসিয়েছে তাবলিগ জামাতের এক পক্ষ। সেখানে কে আসছেন, কেন আসছেন, কোথায় যাবেন—খুঁটিনাটি নানা বিষয় তদারক করছেন তাঁরা। কারও কথায় অমিল পেলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন গেট থেকে।

    প্রতিবছর তাবলিগ জামাতের সবচেয়ে বড় সম্মিলন বিশ্ব ইজতেমা এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক মাস ধরে এখানে মাদ্রাসাছাত্ররা যেভাবে পাহারা দিচ্ছে, তার গতি–প্রকৃতি অন্য রকম বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

    তাবলিগ–সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ দিনের জোড় (সম্মিলন) এবং ১১-১৩ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত তিন দিনের ইজতেমা করার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। অপরদিকে তাবলিগের দেওবন্দপন্থীরা ডিসেম্বরের ৭ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত জোড় এবং আগামী বছরের জানুয়ারির ১৮ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত তিন দিন ইজতেমার ঘোষণা দিয়েছেন। দুই পক্ষের বিবদমান বিরোধের জেরে দেওবন্দপন্থীরা মাঠ দখল করে সতর্ক পাহার ব্যবস্থা করেছেন বলে তাবলিগ জামাত সূত্রে জানা গেছে।

    এদিকে তাবলিগের মাঠ দখলমুক্ত করার দাবিতে গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাদপন্থীরা। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইনজীবী মো. ইউনুস মোল্লা। উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল মো. রফিকুল ইসলাম, মুফতি আনোয়ার আবদুল্লাহ, মো. সাইফুল্লাহ প্রমুখ।

    সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তাবলিগের অপর পক্ষটি উগ্রপন্থায় বিশ্বাসী। তারা কোমলমতি মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে লাঠিসোঁটা দিয়ে ইজতেমা মাঠ পাহারায় বসিয়ে দিয়েছে। এর আগেও মাদ্রাসার এসব শিশুকে মারকাজ মসজিদে হামলা, দখল, হাঙ্গামাসহ বিভিন্ন অপকর্মে ব্যবহার করা হয়েছে। এ অবস্থায় তাঁরা (সাদপন্থী) যেন ৩০ ডিসেম্বর শুরু হওয়া পাঁচ দিনের জোড় ও ১১ জানুয়ারি থেকে তিন দিনের ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে করতে পারেন,সে জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে ইজতেমা মাঠে গিয়ে দেখা যায়, চলাচলের জন্য চারটি ফটক সচল রাখা আছে। প্রতিটি ফটকে পাহারা রয়েছে। কেউ লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন, আবার কেউ গেটের পাশে চেয়ারে বসে লোকজনের দিকে খেয়াল রাখছেন। ভেতরে ঢুকতে চাইলে পরিচয় ও বিস্তারিত জানতে চান তাঁরা। টঙ্গী বাটা গেটে ছিলেন ডেমরা এলাকার তাবলিগ জামাতের আমির মো.আবদুল ওয়াদুদ।

    তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ইজতেমা সর্বস্তরের মানুষের জন্য। প্রতিবছর এখানে হাজার মানুষের ঢল নামে। কিন্তু একটি চক্র এই ইজতেমা নষ্ট করার জন্য নানা ধরনে চক্রান্ত করছে। আমরা যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করব।’ এ জন্যই গেটে পাহারা বসানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পাহারা সব সময় থাকে। এখন হয়তো জোরদার করা হয়েছে।

    ইজতেমা মাঠের ভেতরে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ও হকার জানান, গত কয় দিনে বিভিন্ন জায়গা থেকে তাবলিগের লোকজন ভেতরে ঢুকতে চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

    নাম না প্রকাশের শর্তে একজন মুরব্বি বলেন, সাদপন্থীরা যাতে এখানে ইজতেমা করতে না পারে, সে জন্য সবাই পাহারা দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সাদ কান্ধলভীর কোনো অনুসারীকে এ মাঠে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তবে তাঁরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে আসলে আবার ঢুকতে পারবে।

    এ ব্যাপারে জানতে পুরো মাঠের দায়িত্বে থাকা আমির মো. ইখলাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কোন ইতাত পার্টির (সাদ অনুসারী) লোক এখানে আসতে পারবে না। ঈমান থাকতে হবে।

  • নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চরমোনাই মাহফিল শুরু

    নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চরমোনাই মাহফিল শুরু

    ওয়াজ-মাহফিল ও ধর্মীয় সভার ওপর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করে বরিশালের চরমোনাই দরবার শরিফে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক মাহফিল।

    তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার মাহফিলের নিয়মে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহফিল সংশ্লিষ্টরা।

    সোমবার জোহরের নামাজের পর উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে মাহফিলের সূচনা করেন চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। উদ্বোধনী বয়ানে পীর রেজাউল করীম বলেন, চরমোনাইয়ের বার্ষিক মাহফিলে এসে দুনিয়ার কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের সুযোগ নেই। এখানে শুধুমাত্র আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য সঠিক পথ দেখানো হয়।

    চরমোনাই পীর আরও বলেন, কেউ যদি দুনিয়ার উদ্দেশ্য হাসিলের নিয়তে চরমোনাইতে এসে থাকেন তবে তাকে নিয়ত পরিবর্তন করতে হবে এবং মাহফিলের আলোচনা শুনে সে অনুযায়ী নিজের জীবন পরিচালনা করতে হবে।

    নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চরমোনাই মাহফিল শুরু

    চরমোনাই মাদরাসার অধ্যক্ষ পীরের বড় ভাই সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানি বলেন, প্রতি বছর দুটি বার্ষিক মাহফিলের দ্বিতীয় দিন ওলামা মাশায়েখ মহাসমাবেশ এবং তৃতীয় দিন ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এবার যেহেতু একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে চলার স্বার্থে ওলামা মাশায়েখ মহাসমাবেশ ও ছাত্র আন্দোলনের মহাসমাবেশ বাতিল করা হয়েছে। এবার তিনদিনের মাহফিলে ধর্মীয় আলোচনার বাইরে রাজনৈতিক আলোচনা করা হবে না।

    মাহফিলের মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়তউল্লাহ বলেন, মাহফিলে লাখ লাখ মুসুল্লির সমাগম ঘটেছে। মাহফিলকে কেন্দ্র করে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট অস্থায়ী হাসপাতাল করা হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসায় সেখানে ৪০ জন ডাক্তার রয়েছেন। মাহফিলের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নিজস্ব প্রায় ৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবী দিনরাত পরিশ্রম করছেন। আগামী ২৯ নভেম্বর সকালে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মাহফিল শেষ হবে।

  • নামাজে’ তাজমহলের পবিত্রতা নষ্ট,তাই শুদ্ধিকরণ করতে ‘আরতি’! ভারতে তোলপাড়

    নামাজে’ তাজমহলের পবিত্রতা নষ্ট,তাই শুদ্ধিকরণ করতে ‘আরতি’! ভারতে তোলপাড়

    নামাজ আদায়ের ফলে প্রেমের স্মৃতিসৌধ তাজমহলের পবিত্রতা নাকি নষ্ট হয়েছে, তাই পবিত্রতা ফিরিয়ে আনতে তাজমহল চত্বরেই ধূপ-ধুনো দিয়ে পূজা-আরতি করার অভিযোগ উঠল ভারতের কট্টরপন্থী হিন্দু গোষ্ঠী বজরং দলের এক নারী নেত্রী ও তার দুই সঙ্গীর বিরুদ্ধে।

    শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন এক দৃশ্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড়। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই) ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ)-এর পক্ষ থেকে ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় বজরং দলের (আরবিডি) নারী শাখার জেলা সভাপতি মীনা দিবাকর নিজেও বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ‘আমরা ধূপকাঠি, দেশলাই আর গঙ্গাপানি নিয়ে তাজমহল চত্বরে প্রবেশ করি এবং মসজিদে আরতি করি। আমরা আসলে জায়গাটি পবিত্র করছিলাম। কেননা এটি একটি শিব মন্দির। প্রতিদিন নমাজ পড়ে এই মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে।

    তিনি আরও জানান ‘তেজো মহালয়া বা শিব মন্দিরের জন্যই তাজমহল তার পরিচিত পেয়েছে। এই স্থানে কেবলমাত্র শুক্রবারই নামাজ আদায়ের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও অন্য দিনগুলোতেও এখানে নামাজ আদায় করা হচ্ছে।

    তাই আমরা আরতি করে জায়গাটাকে পবিত্র করছি।’ কর্তৃপক্ষের উচিত সপ্তাহের অন্য দিন নামাজ আদায় ঠেকানো না হলে তাদের পূজা-আরতি করাও রোধ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মীনা দিবাকর। তাঁর সাফ যুক্তি ‘তারা (মুসলিম) যদি কোরআন সাথে করে নিয়ে এসে নামাজ আদায় করতে পারে, তবে আমরা কেন ধূপ-গঙ্গাপানি সাথে করে এনে আরতি করতে পারবো না?

    তবে বিষয়টি নিয়ে এএসআই বা সিআইএসএফ’এর পক্ষ থেকে কোন যথোপযুক্ত ব্যখ্যা দেওয়া হয়নি। তাজমহলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এএসআই-এর সহকারী কর্মকর্তা অঙ্কিত নামদেব জানান, ‘আমরা আরতি-র ভিডিওটির ব্যাপারে জানতে পেরেছি। সেই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

    সিআএসএফ-এর কমান্ডান্ট ব্রীজ ভূষণ জানান, ‘বিষয়টি এখনও আমার কাছে আসেনি, যদি এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটে তার যথার্থতা যাচাই করে দেখা হবে।

    কংগ্রেসের সিটি ইউনিটের সভাপতি হাজি জামিউদ্দিন কুরেশি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মীনা দিবাকরসহ যারা তাজমহল চত্বরে আরতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার আগুন জ্বালানোর প্রচেষ্টা হচ্ছে বলেও কুরেশির অভিযোগ।

    উল্লেখ্য, তাজমহলে নামাজের আদায়ের লক্ষ্যে প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশের পরই ২০১৩ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া-এর পক্ষ থেকে তাজমহলের ভিতর মুমতাজ মসজিদে শুক্রবারে জুমার নামাজ আদায়ের ওপর বিদেশিদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

  • বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত নয়,পরে তারিখ ঘোষণা হবে: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত নয়,পরে তারিখ ঘোষণা হবে: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত নয়, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরামর্শক্রমে পরে তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুক্রবার মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়েছে, এমন খবর গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এই বিবৃতি দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। সঠিক সিদ্ধান্ত হলো, বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত হয়নি, তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পরামর্শক্রমে পরবর্তী সময় বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করা হবে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা ও তাবলিগ জামাতের বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সভায় তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভির বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার লক্ষ্যে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল শিগগিরই ভারতের দেওবন্দে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রতিনিধিদল ভারতের দেওবন্দ থেকে এসে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পরামর্শক্রমে ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

    প্রসঙ্গত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সভায় তাবলিগ জামাতের বিবদমান দুই পক্ষ ছাড়াও পুলিশের আইজি, ধর্মসচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সেই সভার সিদ্ধান্তের বরাত দিয়ে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা স্থগিতের খবর প্রকাশ করে দেশের গণমাধ্যমগুলো।

  • প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) থেকে আদি পিতা আদম (আ.) পর্যন্ত পূর্বপুরুষগণের নামের তালিকা

    প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) থেকে আদি পিতা আদম (আ.) পর্যন্ত পূর্বপুরুষগণের নামের তালিকা

    প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) থেকে আদি পিতা আদম (আ.) পর্যন্ত পূর্বপুরুষগণের নামের তালিকা

    একনজরে দেখে নিন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) থেকে আমাদের আদি পিতা হজরত আদম (আ.) পর্যন্ত পূর্বপুরুষগণের নামের তালিকা

    ১. হযরত মুহম্মদ মুস্তাফা (স)
    ২. তাঁহার পিতা আব্দুল্লাহ
    ৩. তাঁহার পিতা আব্দুল মোত্তালিব
    ৪. তাঁহার পিতা হাসিম
    ৫. তাঁহার পিতা আব্দ মানাফ
    ৬. তাঁহার পিতা কুছাই
    ৭. তাঁহার পিতা কিলাব
    ৮. তাঁহার পিতা মুরাহ
    ৯. তাঁহার পিতা কা’ব
    ১০. তাঁহার পিতা লুই
    ১১. তাঁহার পিতা গালিব
    ১২. তাঁহার পিতা ফাহর
    ১৩. তাঁহার পিতা মালিক
    ১৪. তাঁহার পিতা আননাদর
    ১৫. তাঁহার পিতা কিনান

    ১৬. তাঁহার পিতা খুজাইমা
    ১৭. তাঁহার পিতা মুদরাইকা
    ১৮. তাঁহার পিতা ইলাস
    ১৯. তাঁহার পিতা মুদার
    ২০. তাঁহার পিতা নিজার
    ২১. তাঁহার পিতা মা’দ
    ২২. তাঁহার পিতা আদনান
    ২৩. তাঁহার পিতা আওয়াদ
    ২৪. তাঁহার পিতা হুমাইসা
    ২৫. তাঁহার পিতা সালামান
    ২৬. তাঁহার পিতা আওয
    ২৭. তাঁহার পিতা বুয
    ২৮. তাঁহার পিতা কামওয়াল

    ২৯. তাঁহার পিতা ওবাই
    ৩০. তাঁহার পিতা আওয়ান
    ৩১. তাঁহার পিতা নাসিদ
    ৩২. তাঁহার পিতা হিযা
    ৩৩. তাঁহার পিতা বালদাস
    ৩৪ . তাঁহার পিতা ইয়াদলাফ
    ৩৫. তাঁহার পিতা তাবিখ
    ৩৬. তাঁহার পিতা জাহিম
    ৩৭. তাঁহার পিতা নাহিস
    ৩৮. তাঁহার পিতা মাখি

    ৩৯. তাঁহার পিতা আ”য়েফ
    ৪০. তাঁহার পিতা আবকার
    ৪১. তাঁহার পিতা উবাইদ
    ৪২. তাঁহার পিতা আদ দাহা
    ৪৩. তাঁহার পিতা হামদান
    ৪৪. তাঁহার পিতা সানবার
    ৪৫. তাঁহার পিতা ইয়াসরিবি
    ৪৬. তাঁহার পিতা ইয়াহজিন
    ৪৭. তাঁহার পিতা ইয়ালহান
    ৪৮. তাঁহার পিতা ইরাওয়া
    ৪৯. তাঁহার পিতা আইযি

    ৫০. তাঁহার পিতা যিশান
    ৫১. তাঁহার পিতা আইছার
    ৫২. তাঁহার পিতা আফনাদ
    ৫৩. তাঁহার পিতা আইহাম
    ৫৪. তাঁহার পিতা মুকাসির
    ৫৫. তাঁহার পিতা নাহিস
    ৫৬. তাঁহার পিতা যারিহ
    ৫৭. তাঁহার পিতা সামি
    ৫৮. তাঁহার পিতা মায্যি
    ৫৯. তাঁহার পিতা ইওয়াদ
    ৬০. তাঁহার পিতা ইরাম

    ৬১. তাঁহার পিতা হিদার
    ৬২. তাঁহার পিতা হযরত ইসমাইল (আঃ)
    ৬৩. তাঁহার পিতা হযরত ইবরাহিম (আঃ)
    ৬৪. তাঁহার পিতা তারক
    ৬৫. তাঁহার পিতা নাহুর
    ৬৬. তাঁহার পিতা সারুয
    ৬৭. তাঁহার পিতা রা’উ
    ৬৮. তাঁহার পিতা ফাহিয
    ৬৯. তাঁহার পিতা আবীর

    ৭০. তাঁহার পিতা আফরাহশাদ
    ৭১. তাঁহার পিতা সা’ম
    ৭২. তাঁহার পিতা হযরত নূহ (আঃ)
    ৭৩. তাঁহার পিতা লামিক
    ৭৪. তাঁহার পিতা মাতু সালিখ
    ৭৫. তাঁহার পিতা হযরত ঈদ্রীস (আঃ)
    ৭৬. তাঁহার পিতা ইয়ারিদ
    ৭৭. তাঁহার পিতা মালহালিল
    ৭৮. তাঁহার পিতা কিনান
    ৭৯. তাঁহার পিতা আনস
    ৮০. তাঁহার পিতা হযরত শীস (আঃ)
    ৮১. তাঁহার পিতা হযরত আদম (আঃ)

  • বছরের শ্রেষ্ঠ দশদিন কোনগুলো এবং কেন শ্রেষ্ঠ? এই দশদিনে কী কী আমল করতে হয়?

    বছরের শ্রেষ্ঠ দশদিন কোনগুলো এবং কেন শ্রেষ্ঠ? এই দশদিনে কী কী আমল করতে হয়?

    শামীম ইসলাম:

    বছরের শ্রেষ্ঠ দশদিন কোনগুলো এবং কেন শ্রেষ্ঠ? এই দশদিনে কী কী আমল করতে হয়?- আল্লাহ মহান সৃষ্টিকারী, তিনি পালনকর্তা এবং তিনিই একমাত্র রব-প্রতিপালক। পৃথিবীর সব কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন এবং তার নির্দেশনায় সব কিছু সংগঠিত হয়।

    রাত-দিন সবই আল্লাহ মহানের সৃষ্টি। ভালো-মন্দ একমাত্র তারই নিয়ন্ত্রণে আবর্তিত হয়। বারো মাস সৃষ্টি করে আল্লাহ মহান যেমন রমজানকে শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা দিয়েছেন, তেমনি সব দিনের মাঝে দশটি দিনকে বছরের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

    কোন দশদিন বছরের শ্রেষ্ঠ দশদিন?

    পবিত্র কুরআনে আল্লাহ মহান ইরশাদ করেন, ‘কসম ভোরবেলার। কসম দশ রাতের।’ [সূরা আল-ফাজর, আয়াত : ১-২] উল্লেখিত আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ মহান ‘দশ রাতের কসম’ বলে আরবি জিলহজ মাসের দশদিনের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

    সব বিজ্ঞ মুফাসসির এই ব্যাপারে একমত। এছাড়া বিখ্যাত মুফাসসির ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘এ মতটিই সবার পছন্দ এবং এটিই সঠিক মত’।

    হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘পৃথিবীর দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিনগুলো হলো জিলহজ মাসের প্রথম দশদিন। [মুসনাদ বাযযার : ১১২৮; মুসনাদ আবী ইআলা : ২০৯০]

    পবিত্র কুরআন ও হাদিসে রাসূলের (সা.) বর্ণনা থেকে এ কথা প্রতীয়মান যে, আরবি জিলহজ মাসের প্রথম দশদিন বছরের শ্রেষ্ঠ দশ দিন।

    কেন এই দশটি দিন শ্রেষ্ঠ?

    বিভিন্ন কারণে এই দশটি দিনকে বছরের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। কোরআন-হাদিসের আলো যে সব কারণে এই দশটি দিনকে বছরের শ্রেষ্ঠ দিন বলা হয় তা হলো-

    ১. আল্লাহ মহান এই দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে কসম খেয়েছেন।

    ২. রাসূল (সা.) এই দশটি দিনকে শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

    ৩. এই দশদিনের মাঝে রয়েছে ঐতিহাসিক আরাফাহ দিবস।

    ৪. এই দশদিনে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে কুরবানির আমল।

    ৫. এই দিনগুলোতে আল্লাহ মহান তার জিকিরের প্রবর্তন করেছেন।

    এই দশদিনে কী কী আমল করতে হয়?

    হজরত ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘এমন কোনো দিন নেই যার আমল জিলহজ মাসের এই দশ দিনের আমল থেকে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। [বুখারী : ৯৬৯; তিরমিজি : ৭৫৭]

    এই দশদিনে যেসব আমল করা যেতে পারে-

    ১. পবিত্র হজ ও ওমরা পালন করা- হজরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘এক উমরা থেকে আরেক উমরা এতদুভয়ের মাঝের গুনাহগুলোর কাফফারা এবং মাবরূর হজের প্রতিদান কেবলই জান্নাত।’[বুখারী : ১৭৭৩; মুসলিম : ৩৩৫৫]

    ২. সিয়াম বা রোজা রাখা- হজরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ বলেছেন, সিয়াম বা রোজা ছাড়া আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য; শুধু সিয়াম বা রোজা ছাড়া। কারণ, তা আমার জন্য। তাই আমিই এর প্রতিদান দেব। সিয়াম বা রোজা ঢাল স্বরূপ।’[বুখারী : ১৯০৪; মুসলিম : ২৭৬২]

    ৩. তাকবির ও তাহমিদ এবং তাসবিহ ও তাহলিল পাঠ করা– হজরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘এ দশ দিনে নেক আমল করার চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় ও মহান কোনো আমল নেই।

    তাই তোমরা এ সময়ে তাহলিল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) ও তাহমিদ (আল-হামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি করে পড়।’[বাইহাকী, শুআবুল ঈমান : ৩৪৭৪; মুসনাদ আবী আওয়ানা : ৩০২৪]

    ৪. কুরবানী করা- এ দিনগুলোর দশম দিন সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কুরবানি করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। কেউ কেউ বলেছেন কুরবানি করা ওয়াজিব। কারণ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর নবীকে কুরবানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত বা নামাজ আদায় করুন ও কুরবানি করুন।’ {সূরা আল-কাউসার, আয়াত : ০২}

    ৫. বিভিন্ন আমল- এছাড়া এই দশদিনে ফরজ নামাজ গুরুত্বের সাথে আদায় করা, রাতে-দিনে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা। দান-সদকাহ বেশি বেশি করা। জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানির পূর্ব পর্যন্ত নখ, মাথার চুল, গোঁফ, নাভি ও বগলের নিচের পশম না কাটা ইত্যাদি আমল অনুমোদিত।

  • জামায়াত ৬১ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম তুলবে

    জামায়াত ৬১ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম তুলবে

    জাতীয় সংসদের ৬১টি আসনে মনোনয়ন ফরম তুলবে জামায়াতে ইসলামী। ইতিমধ্যে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শুরু করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন।

    স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হারিয়েছে। এ অবস্থায় দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন বলে দলটির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়।

    ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুর রহমানের জন্য মনোনয়ন ফরম কেনা হয়েছে। গতকাল বিকেলে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাঁর পক্ষে মনোনয়ন নেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি লস্কর মোহাম্মদ তসলিমসহ কয়েকজন নেতা।

    অবশ্য অনেক আগে থেকে শোনা যাচ্ছিল শফিকুর রহমান নিজ এলাকা মৌলভীবাজার-২ আসনের বদলে সিলেট সদর আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী। এখন ঢাকা-১৫ আসন থেকে কেন মনোনয়ন ফরম নিলেন, এ বিষয়ে দলীয় একটি মাধ্যমে শফিকুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। তবে বক্তব্য চেয়ে প্রশ্ন পাঠালে তাঁর পক্ষে লিখিত জবাব দেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে শফিকুর রহমানকে এ আসনে প্রার্থী হতে অনুরোধ করা হয়েছে। শফিকুর রহমান জামায়েতের পক্ষ থেকে জোটের সঙ্গে লিয়াজোঁ কমিটির প্রধান, তাই দল ও জোটের মধ্যে সমন্বয় রক্ষার জন্য তাঁর ঢাকায় অবস্থান প্রয়োজন।

    ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত হামিদুল্লাহ খান। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদারের কাছে পরাজিত হন।

    পাবনা-১ আসন থেকে জামায়াতের সাবেক আমির (যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত) মতিউর রহমান নিজামী দুবার সাংসদ হয়েছিলেন। তাঁর ছেলে নাজিব মোমেনকে প্রার্থী করা হবে বলে প্রচার ছিল। কিন্তু গতকাল পাবনা-১ (সাঁথিয়া ও বেড়ার একাংশ) আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম নেন জামায়াতের নেতা আবদুল বাসেত। গতকাল জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনে দলটির ফজলুর রহমান মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন।

    গত রোববার চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) আসন থেকে জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১৫ আসন (সাতকানিয়া) থেকে আ ন ম শামসুল ইসলাম মনোনয়ন ফরম নেন।

    জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা না হওয়ায় জামায়াতের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন। দর-কষাকষির কৌশল হিসেবে ৬১টি আসনে তারা মনোনয়ন ফরম তুলবে।

    তবে বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, সমঝোতা হলে এবার জামায়াতকে ২০–২৫টি আসন ছাড় দেওয়া হতে পারে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাদের ৩৫টি আসন দেওয়া হয়েছিল।

    এদিকে বিএনপি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো এক চিঠিতে ২০-দলীয় জোটের শরিক আটটি নিবন্ধিত দলকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে বলেছে। বিএনপির মহাসচিব এই চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, মনোনয়ন চূড়ান্ত করার সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আসনে জোটগত মনোনীত প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দের জন্য লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।

    জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হলে জামায়াতের প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন।