Category: ইসলাম

  • এবার ইসলামী আন্দোলনের ১০ দফা

    এবার ইসলামী আন্দোলনের ১০ দফা

    সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এবার ১০ দফা দাবি দিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি করেছেন।

    আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের এক মহাসমাবেশে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে যায়নি। বর্তমান সংসদের কোনো নৈতিক বৈধতা নেই। এই অবৈধ সংসদ বহাল রেখে কোনো নির্বাচন দেশবাসী মেনে নেবে না।

    ‘দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে’ এই সমাবেশ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

    নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানান ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ রেজাউল করিম। দাবিগুলো হলো: তফসিল ঘোষণার আগেই বর্তমান সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সব নিবন্ধিত দলের মতামত নিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা ​দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করতে হবে, নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে এবং রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, দুর্নীতিবাজদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে গ্রেপ্তার করা শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রণীত বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে।

    এ সব দাবি আদয়ের লক্ষ্যে ১২ অক্টোবর ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ অক্টোবর সব জেলায় বিক্ষোভ, ১৬ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।
    এর আগে পৃথক কর্মসূচিতে বিএনপি এবং ড. কামাল হোসেন ও বদরুদ্দোজা চৌধুরীর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে একই ধরনের দাবি জানিয়েছিল। এর মধ্যে ঐক্য প্রক্রিয়া পাঁচ দফা, আর বিএনপি ৭ দফা দাবি জানিয়েছিল।

    মুফতি রেজাউল করিম বলেন, বিগত ১০ বছরে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতেও জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। নির্লজ্জভাবে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন কেউই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি। মানুষ আর তামাশার নির্বাচন দেখতে চায় না। আগামী নির্বাচনে অন্যায়-অবিচার, জুলুমকারীদের ও দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান তিনি।

    একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন নিজের অবস্থান জানান দিতে চেয়েছে। সমাবেশে সারা দেশ থেকে নেতা-কর্মীদের ঢাকায় আনা হয়। তাদের অনেকের হাতে ছিল দলীয় প্রতীক হাতপাখা। জুমার নামাজের পর সমাবেশ শুরু হলেও সকালেই উদ্যান ভরে যায়। বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক বাইরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

    ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার হত্যা, টিপাইমুখে ভারতের বাঁধ নির্মাণ, ব্যাংক, শেয়ারবাজারে লুটপাট, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ​ কেন্দ্র করে সুন্দরবন ধ্বংস এবং ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামকে অভিযানের মুখে বিতাড়িত করার জন্য সরকারকে দায়ী করে এর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামকে, আমাদের ভাইদের গুলি করে হত্যা করেছে। রক্তের দাগ কখনো মোছা যাবে না। কওমি শিক্ষার সনদ দিয়ে এই রক্ত ঢাকা যাবে না।’

    নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলাম। তারা ব্যর্থ হয়েছে। আর এখন আওয়ামী লীগ নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে, বাকস্বাধীনতা হরণ করছে, গুম, খুন চলছে। এর মধ্যে আর থাকতে চাই না। সোনার বাংলা, ডিজিটাল বাংলাদেশের খেলা শেষ। আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ।’

    ইসলামী আন্দোলন কেন কোনো জোটে যাচ্ছে না, তার ব্যাখ্যা দেন দলের মহাসচিব ইউনূছ আহমাদ। তিনি বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন এ দেশের মানুষের শেষ সম্বল। এটা শেষ করতে চাই না। এ জন্য কোনো দুর্নীতিবাজের সঙ্গে আমরা জোট করি না।’
    সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল হুদা ফয়েজী, আশরাফ আলী আকন, এ টি এম হেমায়েত উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান, খালেদ সাইফুল্লাহ, গাজী আতাউর রহমান, ইমতিয়াজ আলম, আতিকুর রহমান প্রমুখ।

  • যে সকল মুসলিমরা এ পর্যন্ত নোবেল পুরুস্কার পেয়েছেন

    যে সকল মুসলিমরা এ পর্যন্ত নোবেল পুরুস্কার পেয়েছেন

    নোবেল পুরস্কার হচ্ছে আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। নোবেল পুরস্কার সর্বপ্রথম প্র্রবর্তিত হয় ১৯০১ সালে।

    পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে সফল ও অনন্যসাধারণ গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবকল্যাণে দৃষ্টান্তমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ওই বছর থেকে ধারাবাহিক এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সর্বোচ্চ এ পুরস্কারের সুদীর্ঘ ইতিহাসে মোট ১২ জন মুসলিম ব্যক্তিত্ব নোবেলের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

    তাদের ব্যাপারে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো। মুহাম্মদ আনওয়ার সাদাত মুহাম্মদ আনওয়ার সাদাত (১৯৭৮ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন) মিশরের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি আনওয়ার সাদাত ছিলেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রথম মুসলমান।

    ১৯৭৩ সালে মিশরের সিনাই উপদ্বীপ উদ্ধারের জন্য ইয়ম কিপুর যুদ্ধে তিনি মিশরের নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৭ সালে ছয়দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল তা দখল করে নিয়েছিল। এরপর তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসেন এবং মিশর-ইসরায়েল শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির কারণে আনোয়ার সাদাত ও ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী মেনাখেম বেগিম ১৯৭৮ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।

    মুহাম্মদ আবদুস সালাম (১৯৭৯ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন)আবদুস সালাম প্রফেসর মুহাম্মদ আবদুস সালাম। তিনি পাকিস্তানী তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী। ১৯৭৯ সালে স্টিভেন ওয়াইনবার্গ ও শেল্ডন লি গ্ল্যাশোর সঙ্গে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। দুর্বল তড়িৎ তত্ত্ব আবিষ্কারের জন্য তারা এ পুরস্কার পেয়েছিলেন।

    এ তত্ত্বের মাধ্যমে তড়িৎ চৌম্বক বল এবং দুর্বল নিউক্লীয় বলকে একীভূত করা সম্ভব হয়েছিল। নাজিব মাহফুজনাজিব মাহফুজ (১৯৮৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন) নাজিব মাহফুজ নোবেল বিজয়ী মিশরীয় সাহিত্যিক। ১৭ বছর বয়স থেকে নাজিব মাহফুজ লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৩৯ সালে তার প্রথম উপন্যাস ‘আবাসুল আকদার’ প্রকাশিত হয়। জীবনে মোট ৩০টি উপন্যাস লিখেলও ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৭ সালের মধ্যে প্রকাশিত ‘কায়রো ট্রিলজি’ তাকে আরবি সাহিত্যের অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরে।

    এতে তিনি ইংরেজ শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার সময়কালীন মিশরের ঐতিহ্যবাহী শহুরে জীবনধারা নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলেন। উচ্চ মার্গীয় এ উপন্যাসের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৮৮ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। উপন্যাসের পাশাপাশি ১০০ টিরও বেশি ছোটগল্প রচনা করেছেন। অধিকাংশগুলো ইংরেজিতে অনুদিত হয়েছে।

    ইয়াসির আরাফাত (১৯৯৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন) তার পুরো নাম মুহাম্মদ আবদেল রহমান আব্দেল রউফ আরাফাত আল-কুদওয়া আল-হুসাইনি। প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ নাম ইয়াসির আরাফাত। তিনি ছিলেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী একজন নেতা। ১৯৯৪ সালে ঐতিহাসিক অসলো চুক্তি স্বাক্ষরের পর আইজাক রবিন, শিমন পেরেজ ও ফিলিস্তিনের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাত যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

    শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার লাভকারী প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলমান তিনি। আহমদ জুয়েল হাসান আহমদ জুয়েল হাসান (১৯৯৯ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন) ফেমটোসেকেন্ড স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করে মাইক্রোস্কোপি আবিষ্কারের জন্য রাসায়নিক ক্ষেত্রে গবেষণা করে ১৯৯৯ সালে তিনি রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি প্রথম মুসলিম রসায়নবিদ ও দ্বিতীয় মুসলিম বিজ্ঞানি হিসেবে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন।

    শিরিন এবাদিশিরিন এবাদি (২০০৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন) তিনি প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে শান্তিতে নোবেল লাভ করেন। এছাড়াও তিনি প্রথম ও একমাত্র ইরানী যাকে শান্তির জন্য এ সম্মান দেওয়া হয়। শিরিন এবাদি ব্যক্তিগতভাবে আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদান রাখার জন্য তিনি এ পুরস্কার লাভ করেন। মুহাম্মদ আল-বারাদেয়িমুহাম্মদ আল-বারাদেয়ি (২০০৫ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন) মুহাম্মদ আল-বারাদেয়ি মিশরের উপরাষ্ট্রপতি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর ডিরেক্টর জেনারেল ছিলেন। তিনি দ্বিতীয় মিশরীয়, যাকে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারে প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৫ সালে তিনি ও আইএইএ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

    ড. মুহাম্মদ ইউনুসড. মুহাম্মদ ইউনুস (২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন) ড. মুহাম্মদ ইউনুস বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি একমাত্র ও প্রথম বাঙালি মুসলিম, যাকে শান্তির জন্য এ সম্মান দেওয়া হয়। আরেকটু ফারাক করে বললে, তিনি একমাত্র ও প্রথম বাংলাদেশি এবং নোবেল পুরস্কার বিজয়ী তৃতীয় বাঙালি। ওরহান পামুকওরহান পামুক (২০০৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন) ওরহান পামুক একজন তুর্কি ঔপন্যাসিক, চিত্রনাট্য সম্পাদক ও শিক্ষক।

    ২০০৬ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হন। তুরস্কের অন্যতম প্রধান লেখক ওরহানের বই বিশ্বের ৬০টিরও অধিক ভাষায় ও ১০০টিরও বেশি দেশে এবং ১৪ মিলিয়নের বেশি বিক্রি হয়েছে। ফলশ্রুতিতে তিনি তুরস্কের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কথাসাহিত্যিক হিসেবে খ্যাতি ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার সর্বাধিক প্রসিদ্ধ উপন্যাস হচ্ছে ‘নিউ লাইফ’। তাওয়াক্কুল কারমানতাওয়াক্কুল কারমান (২০১১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন) তাওয়াক্কুল কারমান একজন ইয়েমেনি সাংবাদিক ও ইয়েমেনের আল-ইসলাহ রাজনৈতিক দলের প্রবীণ সদস্য।

    একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবেও কারমান দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি ‘উইমেন জার্নালিস্ট উইথআউট চেইন্স’ নামক নারী সাংবাদিকদের একটি দলকে নেতৃত্ব দেন। ২০০৫ সালে তিনি এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ২০১১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন। তিনিই প্রথম ইয়েমেনীয় ও প্রথম আরবি নারী হিসেবে এ পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তিনি দ্বিতীয় মুসলিম নারী ও দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে নোবেল শান্তি পদক লাভ করেন।

    মালালা ইউসুফ জাইমালালা ইউসুফ জাই (২০১৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন) মালালা একজন পাকিস্তানি শিক্ষা আন্দোলনকর্মী। তিনি সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তান

  • জার্মানিতে  উদ্বোধন হলো ইউরোপের সবচেয়ে বড় মসজিদ কলোনিয়া জামে মসজিদ।

    জার্মানিতে উদ্বোধন হলো ইউরোপের সবচেয়ে বড় মসজিদ কলোনিয়া জামে মসজিদ।

    শনিবার জার্মানিতে উদ্বোধন হলো ইউরোপের সবচেয়ে বড় মসজিদ কলোনিয়া জামে মসজিদ। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এটি উদ্বোধন করেন। মসজিদটিতে একসঙ্গে চার হাজার লোক নামাজ পড়তে পারবেন। মসজিদ কমপ্লেক্সে রয়েছে বিশাল হল রুমবিশিষ্ট সেমিনার কক্ষ, অমুসলিমদের সামনে ইসলামের উদার ও শান্তির পরিচয় তুলে ধরতে পরিচিতি রুম ও বিশাল ক্লাস রুম।

  • “মসজিদে কুবা” দুনিয়ায় ফজিলতপূর্ণ চারটি মসজিদের একটি

    “মসজিদে কুবা” দুনিয়ায় ফজিলতপূর্ণ চারটি মসজিদের একটি

    মসজিদে কুবা বা কুবা মসজিদ (আরবি:مسجد قباء)  সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত। এটি ইসলামের প্রথম মসজিদ। হিজরতের পর মুহাম্মদ (সা.) এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। এখানে তিনি বেশ কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন। মসজিদটি মদিনা শরিফের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। এর দূরত্ব মসজিদে নববী থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মতো।

    রাসুল (সঃ) নবুওয়াত পাওয়ার পর এটাই প্রথম মসজিদ, এমনকি ইসলামের এবং উম্মতে মোহাম্মদির প্রথম মসজিদ। মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী এবং মসজিদে আকসার পরই মসজিদে কুবার সম্মান ও ফজিলত। এ মসজিদের আলোচনা কোরআনে করা হয়েছে এবং মসজিদ সংলগ্ন অধিবাসীদের একটি বিশেষ গুণের প্রশংসা করা হয়েছে।

    মসজিদে কুবায় নামাজ আদায়ে অত্যাধিক ফজিলত রয়েছে। মসজিদে কুবায় নামাজের ফজিলতের কথা অসংখ্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন- হযরত ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অশ্বারোহণ করে কিংবা হেঁটে মসজিদে কুবায় আগমন করতেন এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন।

    অন্য এক হাদিসে রয়েছে, প্রতি শনিবারে রাসুল সা. কুবায় আগমন করতেন। (বুখারি-মুসলিম)। আরেক হাদিসে বর্ণিত আছে, মসজিদে কুবায় নামাজ আদায় করার সওয়াব একটি ওমরাহর সমপরিমাণ। (তিরমিজি) রাসুল সা. আরো ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নিজের ঘরে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সুন্নাত মোতাবেক অজু করে) মসজিদে কুবায় আগমন করে নামাজ আদায় করে তাকে একটি ওমরাহর সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে। (ইবনে মাজাহ) তাই তো রাসুল সা. এর যুগ থেকেই প্রতি শনিবার মসজিদে কুবায় নামাজ আদায় করার জন্য গমন করা মদিনাবাসীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। বর্তমানেও তাদের এই আমল অব্যাহত রয়েছে।

    হজরত মোহাম্মদ (সা.) পবিত্র রবিউল আওয়াল মাসের প্রথম দিন আল্লাহর নির্দেশে মক্কা থেকে মদিনা অভিমুখে হিজরত করেন। আর এ হিজরতের মধ্য দিয়ে মদিনা শহরকে কেন্দ্র করে ইসলাম ও কোরআনের বাণী বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। রাসূলের (সা.) হিজরতের পর সাহাবীরাও পর্যায়ক্রমে মদিনা গমন করেন। হজরত মোহাম্মদ (সা.) নিজ হাতে কুবা মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করেন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মূলত তারই তত্ত্বাবধানে মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। হজরত মোহাম্মদ (সা.) বেশ কয়েকরাত এই মসজিদে অবস্থান করেন এবং কসর নামায আদায় করেন।

    ‘কুবা’ একটি কূপের নাম। এই কূপকে কেন্দ্র করে যে বসতি গড়ে উঠেছে তাকে কুবা মহল্লা বলা হয়। এই যোগসূত্রে মসজিদটির নামকরণ হয় মসজিদে কুবা। নবী করিম (সা.) মদিনায় হিজরতের প্রথম দিন কুবায় অবস্থানকালে এ মসজিদের  ভিত্তি স্থাপন করেন এবং নির্মাণকাজে সাহাবাদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। ইতিহাসবিদরা বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন এর ভিত্তি স্থাপন করেন, তখন কেবলার দিকের প্রথম পাথরটি নিজ হাতে স্থাপন করেন।

    মসজিদে কুবা শুরু থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফা সংস্কার ও পুনর্নিমাণ করা হয়। নবীর আমলের পর ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান ( রা.) তার খেলাফতকালে মসজিদে কুবার সংস্কার ও পুনর্নিমাণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে আরও বেশ কয়েকবার এই মসজিদের পুনর্নিমাণ ও সংস্কার করা হয়। সবশেষ ১৯৮৬ সালে মসজিদটি পুনর্নিমাণ করা হয়। এই মসজিদ নির্মাণে পুরো মসজিদে এক ধরনের সাদাপাথর ব্যবহার করা হয়, যা অন্যকোনো মসজিদে সাধারণত দেখা যায় না।

    চারটি উঁচু মিনার, ছাদে ১টি বড় গম্বুজ এবং ৫টি অপেক্ষাকৃত ছোটো গম্বুজ রয়েছে। এ ছাড়া ছাদের অন্য অংশে রয়েছে গম্বুজের মতো ছোটো ছোটো অনেক অবয়ব। মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আসেন। মসজিদে নারী ও পুরুষদের নামাজের জায়গা ও প্রবেশ পথ আলাদা। অজুর জায়গাও ভিন্ন। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মসজিদের ভেতরের কারুকাজও বেশ মনোমুগ্ধকর। মূল মসজিদ ভবনের মাঝে একটি খালি জায়গা আছে, সেখানেও নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। দামি কারপেট বিছানো মেঝেতে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন, রয়েছে জমজম পানির ব্যবস্থা।

  • মুহাম্মদ শব্দের অর্থ হলো প্রশংসিত’

    মুহাম্মদ শব্দের অর্থ হলো প্রশংসিত’

    হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামানুসারে বিশ্বব্যাপী নবজাতক সন্তানদের নাম ‘মুহাম্মদ’ রাখা জনপ্রিয় হচ্ছে।

    ভারতীয় উপমহাদেশে সাধারণত মুসলমানদের নামের শুরুতে ‘মুহাম্মদ’ লেখার রীতি দীর্ঘকালের। তবে নামের শুরুতে ‘মুহাম্মদ’ লেখা কোনো ধর্মীয় বিধান নয়। উপমহাদেশ ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে সাধারণত এ প্রচলন দেখা যায় না।

    তবে পশ্চিমা বিশ্বে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামানুসারে নবজাতক সন্তানের মূল নাম ‘মুহাম্মদ’ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। এ তালিকায় প্রথমেই চলে আসছে ব্রিটেনের নাম।

    ব্রিটিশ পরিসংখ্যান অফিস ঘোষণা থেকে জানা যায়, লন্ডনে শিশুদের প্রিয় নাম হিসেবে মুহাম্মাদ নামটি দশম স্থানে অবস্থান করছে।

    লন্ডনের পশ্চিম মিডল্যান্ডস এবং ইয়র্কশায়ারের সবচেয়ে অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘মুহাম্মদ’ নাম।

    উল্লেখ্য যে, ‘মুহাম্মদ শব্দের অর্থ হলো প্রশংসিত’। এ নাম পবিত্র কুরআনের একটি সুরার নাম করণ করা হয়েছে। কুরআনের ৪টি সুরায় এ নামটি ৪ বার এসেছে। আর তাহলো সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪৪, সুরা আহজাব : আয়াত ৪০, সুরা মুহাম্মদ : আয়াত ২ এবং সুরা ফাতাহ : আয়াত ২৯)

  • ফজর নামাজ থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত আমলের ‍ফজিলত

    ফজর নামাজ থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত আমলের ‍ফজিলত

    মানুষের বাস্তব জীবনে সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণ দুনিয়া ও পরকালের সফলতার একমাত্র পথ। ফজরের মাধ্যমে মানুষের দিন শুরু হয়। দিনের শুরুতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জামাআতের সঙ্গে ফজর নামাজ আদায় করতেন। অতঃপর সূর্য ওঠা পর্যন্ত (আধা ঘণ্টা) কিছু সময় বসে জিকির-আজকার করতেন।

    ফজরের নামাজ আদায়ের পর নামাজের স্থানে বসে তাসবিহ তাহলিলের এ আমলে রয়েছে অনেক ফজিলত। হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সময় নিজে সূর্যোদয়ের আগে নামাজের স্থান থেকে ওঠতেন না বরং তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার, তেলাওয়াতসহ বিভিন্ন নেক আমলে অতিবাহিত করতেন। এ সামান্য সময়ের ফজিলত বর্ণনায় হাদিসে এসেছে-

     > হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফজর নামাজ আদায় করতেন, তখন (সূর্য পুরোপুরি ওঠে মাকরূহ ওয়াক্ত শেষ হয়) নামাজ (চাশতের নামাজ) জায়েজ হওয়ার সময় পর্যন্ত তাঁর বসার স্থান থেকে ওঠতেন না।

    তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করার পর নামাজ জায়েজ হওয়ার সময় পর্যন্ত তাঁর বসার স্থানে বসে থাকবে, ওই ব্যক্তি একটি মকবুল হজ ও একটি মকবুল ওমরার সাওয়াব অর্জন করবে।’

    > হজরত জাবের ইবনে সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফজরের নামাজ আদায় করতেন তখন সূর্য ভালোভাবে ওঠা পর্যন্ত তাঁর বসার স্থানে চারজানু হয়ে বসে থাকতেন।’

    হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফজরের নামাজ আদায় করতেন তখন তাঁর নামাজের স্থানে বসে থাকতেন। মানুষেরা তার চারদিকে বসত। সূর্যোদয় পর্যন্ত তিনি এভাবে থাকতেন। এরপর তিনি একে একে তাঁর সব স্ত্রীদের ঘরে গিয়ে তাদেরকে সালাম দিতেন এবং তাঁদের জন্য দোয়া করতেন।’

    > হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ফজরের নামাজের পরে সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে রত কিছু মানুষের সঙ্গে বসে থাকা আমার কাছে ইসমাইল আলাইহি সালামের বংশের ৪ জন ক্রীতদাসকে মুক্ত করার চেয়ে বেশি প্রিয়।

    অনুরূপভাবে আসরের নামাজের পরে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে রত কিছু মানুষের কাছে বসে থাকা আমার কাছে ৪ ক্রীতদাস মুক্ত করার চেয়েও বেশি প্রিয়।’

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই ফজরের নামাজের পর নামাজের স্থানে সূর্যোদয় পর্যন্ত অবস্থান করে জিকির-আজকার, কুরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল ও নসিহতের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করতেন।

    পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবাগণও সুযোগমতো ফজরের নামাজের পর মসজিদে কিংবা ঘরে সূর্যোদয় হওয়া পর্যন্ত বসে ব্যক্তিগতভাবে জিকির-আজকার করতে ভালোবাসতেন।

    বিখ্যাত তাবেয়ি মুদরিক ইবনে আওফ বলেন, আমি চলার পথে দেখলাম হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু ফজরের নামাজ আদায় করে বসে আছেন। আমি বললাম, বসে রয়েছেন কেন? তিনি বললেন, ‘সূর্যোদয়ের জন্য অপেক্ষা করছি।’

    বিখ্যাত তাবেয়ি আবু ওয়াইল বলেন, আমি একদিন ফজরের নামাজের পর হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলাম। আমরা তার ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলাম। তিনি বললেন, ‘প্রবেশ কর।’ আমরা বললাম, ‘কিছু সময় আমরা অপেক্ষা করি, হয়ত বাড়ির কারো কোনো প্রয়োজন থাকতে পারে।’ তখন তিনি আমাদের দিকে ফিরে বসে তাসবিহ করতে থাকলেন।

    তিনি বললেন, ‘হে আব্দুল্লাহর বাড়ির মানুষেরা, তোমরা গাফলতির চিন্তা করেছিলে!’ এরপর তিনি তার দাসিকে বললেন, দেখ তো সূর্য উঠেছে কিনা। সে বলল, ‘না’। পরে তৃতীয়বার যখন তিনি তাকে বললেন, ‘সূর্য ওঠেছে কিনা দেখ।’ তখন সে বলল, হ্যাঁ, সূর্য ওঠেছে।
    তখন তিনি বললেন, আল্লাহর সব প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে এই দিনটিও উপহার দিলেন। তিনি এই দিনে আমাদেরকে ক্ষমা করলেন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি প্রদান করেননি।

    মনে রাখতে হবে

    আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো মানুষই মুক্তি পাবে না। এমনটিই বলেছেন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রতি রহমত করতে কিংবা ক্ষমা করতে নেক আমল খুঁজবেন। তাইতো প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের জন্য অনেক ছোট ছোট কাজের বড় বড় প্রাপ্তির ঘোষণা দিয়েছেন। তন্মধ্যে ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জিকির-আজকার অনেক কার্যকরী।

    নেক আমল যেভাবে মানুষকে মুক্তি দিতে পারবে না আবার নেক আমল ছাড়া রহমতও লাভ করা যাবে না। তাই জীবনে সফলতা লাভে আল্লাহর রহমত কামনার পাশাপাশি নেক আমলের বিকল্প নেই।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ফজরের নামাজের পর নামাজের স্থানে বসে সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে জিকির-আজকার, তাসহিব-তাহলিল ও কুরআন তেলাওয়াত করে সময় অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মহাসাগরে ভাসমান মসজিদ, প্রতি ৩ মিনিট পরপর খুলে যায় ছাদ

    মহাসাগরে ভাসমান মসজিদ, প্রতি ৩ মিনিট পরপর খুলে যায় ছাদ

    অদ্ভুত সুন্দর একটি মসজিদ। এর অবস্থান মরক্কোয়। দূরের কোনো জাহাজ থেকে দেখলে মনে হয়, ঢেউয়ের বুকে যেন মসজিদটি দুলছে আর মুসল্লিরা যেন নামাজ পড়ছেন পানির ওপর। দৃষ্টিনন্দন পানিতে ভাসমান এ মসজিদটির নাম গ্র্যান্ড মস্ক হাসান–২ বা দ্বিতীয় হাসান মসজিদ।

    বাদশাহ দ্বিতীয় হাসান কাসাব্লাঙ্কা শহরে এ মসজিদটি তৈরি করেছেন। মসজিদটির নির্মাণ কাজ করেছেন ফরাসি কোম্পানি বয়গিসের প্রকৌশলীরা। আর এর নকশা তৈরি করেছিলেন ফরাসি স্থপতি মিশেল পিনচিউ। একে ভাসমান মসজিদ বলার কারণ মসজিদটির তিনভাগের একভাগ আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর অবস্থিত।

    মসজিদটিতে প্রায় ১ লাখ মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। এর মিনারের উচ্চতা ২০০ মিটার। আর মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা ৬৫ মিটার। মসজিদের ছাদটি প্রতি ৩ মিনিট পরপর যান্ত্রিকভাবে খুলে যায় বলে এর ভেতরে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। তবে বৃষ্টির সময় ছাদটি খোলা হয় না।

    ২২.২৪ একর জায়গার ওপর অবস্থিত এ মসজিদের মূল ভবনের সঙ্গেই আছে লাইব্রেরি, কোরআন শিক্ষালয়, ওজুখানা এবং কনফারেন্স রুম। ২৫০০ পিলারের ওপর স্থাপিত এ মসজিদের ভেতরের পুরোটাই টাইলস বসানো। মসজিদ এলাকার আশপাশে সাজানো আছে ১২৪টি ঝরণা এবং ৫০টি ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি।

    মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৮৭ সালের আগস্ট মাসে। প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক ও কারুশিল্পীর পরিশ্রমে এটি প্রায় সাত বছরে নির্মিত হয়। ১৯৯৩ সালের ঈদে মিলাদুন্নবীর দিনে মসজিদটির উদ্বোধন করা হয়। সেসময় এটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে ৮০ কোটি ডলার।

  • শোকের মিছিলে কারবালা স্মরণ

    শোকের মিছিলে কারবালা স্মরণ

    মুসলিম বিশ্বের কাছে মহররম মানেই বেদনা, মহররম মানেই কান্না। আরবি বর্ষপঞ্জি হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। হিজরি ৬১ সনের মহররম মাসের ১০ তারিখে কারবালার প্রান্তরে বিয়োগান্তক এক ঘটনার অবতারণা হয়। এদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেইন (রা.) এবং তার পরিবার ও অনুসারীরা ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন।

    এ দিনটিকে স্মরণ করেই সারা বিশ্বের শিয়া মতাবলম্বী ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করে থাকেন। এ মিছিল থেকে মূলত কারবালার ঘটনার শোকাবহ দৃশ্যায়ন করা হয়। মিছিলে বুক চাপড়ে, মাতম করে শোক প্রকাশ করেন শিয়া ধর্মাবলম্বীরা।

     শহীদ হোসেইন স্মরণে আয়োজিত মিছিলে থাকে ক্রন্দন। মুখে থাকে শোকের গান- ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হার কারবালাকে বাদ’, ‘কাঁদে কোন ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে’, ‘শির দেগা নেহি দেগা আমামা।’ শহীদের প্রতি সালাম জানিয়ে পড়া হয়, ইয়া শহীদ সালাম আলাইকা, ইয়া মশহুদ সালাম আলাইকা।

    শুক্রবার সকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসনি দালান থেকে বের হয় তাজিয়া মিছিল। একই সঙ্গে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বকশিবাজার, লালবাগ, পল্টন, মগবাজার থেকেও আশুরার মিছিল বের হয়।

    তাজিয়া মিছিলে অংশ নেয়া শিয়া ধর্মাবলম্বী মুসল্লিরা বলছেন, কারবালার প্রান্তরে ইসলামের ঝাণ্ডা তুলে ধরতে গিয়ে মহানবীর দৌহিত্র হযরত হোসাইন (রা.) জীবন দিয়েছেন। সেদিন তিনি শহীদ হলেও বিপদগামীদের কাছে মাথা নত করেননি। এটাই ইসলামের শিক্ষা। সেই কারবালার ইতিহাস ভুলে না গিয়ে মুসলমানদের উচিৎ শিক্ষা নেয়া।

    karbala-(2)

    হোসনি দালান থেকে বের হওয়া মিছিলে দেখা যায় কারবালার ঘটনার শোকাবহ দৃশ্যায়ন। মিছিলে বুক চাপড়ে, মাতম করে শোক প্রকাশ করেন শিয়া ধর্মাবলম্বী যুবকেরা। ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ স্লোগানে মাতম করতে দেখা যায় যুবকদের।

    নিজের বুকে সজোরে চাপড়াতে চাপড়াতে, মুখে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতম তুলে পুরান ঢাকার সরু গলিটি ধরে বেরিয়ে আসেন হাজারো মুসল্লি। মিছিলে থাকা তরুণ-তরুণী সবারই খালি পা। পরণে কালো পোশাক। অনেকের হাতে বিশাল দণ্ড, মাথায় শোকের কালো পতাকা।

    গলির দু’ধারে দাঁড়িয়ে মিছিল এগিয়ে যাওয়া দেখতে বোরকা পরিহিত নারীদের ভিড়ও ছিল লক্ষ্যনীয়।

    মিছিলের পেছনে ‘দুলদুল’ নামে সুসজ্জিত ঘোড়াটিকে টেনে নিয়ে আসা হয় সামনে। মিছিলে ব্যবহৃত একটি ঘোড়াকে প্রতিকী রক্তে রাঙানো হয়েছে। অনেক যুবককে আবেগতাড়িত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘোড়ার পদচুম্বন করতেও দেখা যায়। কেউ আতর কেউ বা সুগন্ধি গোলাপ জল ছিটিয়ে শোকের আবহকে আরও বাড়িয়ে তোলেন। মিছিলে তাজিয়া এবারও তৈরি করা হয়েছে ইমাম হোসেইন (রা.)-এর সমাধির আদলে।

    মিছিল থেকে বেজে ওঠে গান, ‘ফোরাত নদীর বুকে জেগেছিল কত ঢেউ, তবু একফোঁটা পিপাসার জল মুখে তুলে দেয়নি কেউ। হায় হোসেইন! হায় হোসেইন! তুমি কেঁদেছিলে পিপাসায়।’

    তাজিয়া মিছিলের মূল দায়িত্ব পালন করে আসছে হোসেইনি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও মিছিলের সমন্বয়ক সাইয়েদ গোলাম মহসিন জাগো নিউজকে বলেন, কারবার শোককে শক্তিতে রুপ দিতেই আমরা প্রতি বছর এ দিনে মিছিল করে থাকি। কেউ যাতে ভুলে না যাই ইমাম হোসেইন নিজের জীবন দিয়ে ইসলামের পতাকা রক্ষা করে গেছেন।

    সাজিদুল ইসলাম নামে মিছিলে অংশগ্রহণকারী বলেন, ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে ১০ অক্টোবর কারবালার প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসেইন (রা.) এবং ইয়াজিদের ২২ হাজার সুসজ্জিত সৈন্যবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। ইয়াজিদের সেনারা ইমামের বাহিনীকে ফোরাতের পানি থেকে বঞ্চিত করেছিল।

    পিপাসার্ত ইমাম হোসেইন (রা.)-এর পুত্র হযরত আজগর শত্রুর নিক্ষিপ্ত তীরে আঘাতপ্রাপ্ত হন। ইমাম হোসেইন (রা.) কারবালা প্রান্তরে ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, আত্মত্যাগের এক অপূর্ব মূর্ত প্রতীক উঠেছিলেন। চোখের সামনে ক্ষুধার্ত-পিপাসায় কাতর আপন পরিজনের মৃত্যু ম্লান মুখমণ্ডলি তাকে সংকল্পচ্যুত করতে পারেনি। এসব আমাদের সহিষ্ণুতা শিক্ষা দেয়।

    karbala-(3)

    নারী, পুরুষের পাশাপাশি শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণে তাজিয়া মিছিল শেষ হয় পৌনে ১টার দিকে। রাজধানীর ঝিগাতলা সংলগ্ন লেকের পাশে এসে শেষ হয় তাজিয়া মিছিল। লেকের পাশে এসে নফল নামাজ আদায় ও দোয়া পাঠ করেন মিছিলে অংশগ্রহণকারী অনেক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।

    হোসনি দালানের সুপারিনটেনডেন্ট এম এম ফিরোজ হোসাইন জাগোনিউজকে বলেন, তাজিয়া মিছিল সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আশুরার পবিত্রতা রক্ষা, উদযাপনে শৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাব ও পুলিশের বিশেষ সহযোগীতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

    ২০১৫ সালের ২৪ অক্টোবর আশুরা উপলক্ষে হোসনি দালানের শোক মিছিলে গ্রেনেড হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ ঘটনায় একজন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকে আশুরার তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করে আসছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় রাখতে চায়নি পুলিশ। আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া শোক মিছিলে ডিএমপির পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইমামবাড়া সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।

    মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের আর্চওয়ে দিয়ে প্রবেশ করতে হয়েছে। এ ছাড়া মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে প্রত্যেক দর্শনার্থীর দেহ তল্লাশী করে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করানো হয়।

  • মুসলিমদের প্রতিটি বাড়িতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নজরদারি!

    মুসলিমদের প্রতিটি বাড়িতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নজরদারি!

    মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের উপরে চরম নির্যাতন চালাচ্ছে সরকার। দীর্ঘদিনের নির্যাতন এখন মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে বলেও উঠছে অভিযোগ। চীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ জমা পড়ল জাতিসংঘে। অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

    চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে বাস করে উইঘুর নৃগোষ্ঠীর মুসলিমরা। এই সম্প্রদায় চীনে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ। অনেক উইঘুর নৃগোষ্ঠেীর মানুষকে ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে বলেও শোনা যায়। ক্যাম্পে থাকা ব্যক্তিদের উপরেও চলে নির্মম অত্যাচার।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে উইঘুর সম্প্রদায়ের মানুষদের নির্বিচারে আটক করে নিরাপত্তারক্ষীরা। বাধা দেওয়া হয় নিত্যদিনের ধর্মীয় অনুশাসনে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্বার্থেও ব্যবহার করা হয় তাঁদের।

    আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হচ্ছে ডিজিটাল উপায়ে সম্প্রতি জিনজিয়াং প্রশাসন উইঘুরদের উপরে কড়া নজরদারি শুরু করেছে। উইঘুর মুসলিমদের প্রতিটি বাড়িতে বসানো হয়েছে কিউআর কোড। এই উপায়ে দূরে থেকেও ডিজিটাল পদ্ধতিতে নজরদারি চালানো হয় প্রতিটি বাড়িতে।

    এই উপায়ে কোন বাড়িতে কে কখন ঢুকছে বা বাইরে বেরোচ্ছে তার উপরে চলে নজরদারি। বাইরে থেকে কেউ আসলেও সেদিকেও নজর রাখে প্রশাসন। কেন আসা হয়েছে? সেই প্রশ্নই করা হয় আগন্তুককে। উত্তর সন্দেহজনক হলেই নিরাপত্তারক্ষীরা তুলে নিয়ে যায়। যদি সন্দেহ দৃঢ় হয় কিন্তু প্রমাণ না মেলে তাহলে ডিএনএ টেস্টের মতো পরীক্ষার সম্মুখীনও হতে হয়।

    স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন যে বাড়িতে সাধারণ গল্প করা হলে বা গান গাইলে সেটাও রেকর্ড করা হয়। প্রশাসনের যদি কিছু বেগতিক মনে হয় তাহলেই চলে নির্যাতন।

    যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি অনৈতিক মনে হচ্ছে না। তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে জিনিজিয়াং প্রদেশে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে ইসলামিক জঙ্গিরা। সেই কারণেই নিরাপত্তাজনিত কারণে একগুচ্ছ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ক্যাম্পে অত্যাচারের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে জিনজিয়াং প্রশাসন।

  • নাইট ক্লাবে আজান-দরুদ পড়িয়ে প্রশংসায় ভাসছেন যুবক

    নাইট ক্লাবে আজান-দরুদ পড়িয়ে প্রশংসায় ভাসছেন যুবক

    নাম গুশ মিফতাহ। তিনি ইন্দোনেশিয়ার একজন ধর্মপ্রচারক। নাইট ক্লাবে উপস্থিতদের আজান, কালিমা ও দরুদ পড়িয়ে প্রশংসায় ভাসছেন এই যুবক।

    এ ঘটনা এক সপ্তাহ আগের। ইন্দোনেশিয়ার বাতি শহরের অবস্থিত সবচেয়ে বড় নাইট ক্লাব ‘বসি ভিভিআইপি ক্লাব’ এ উপস্থিত অতিথিদের সামনে স্টেজে উঠেন ওই যুবক। এরপর মাইক নিয়ে তিনি আজান দেন। আজানের পরে তিনি কালিমা পড়েন এবং দরুদ পড়েন। তার সঙ্গে উপস্থিত অতিথিদেরও পড়তে অনুরোধ করলে সবাই একসঙ্গে দরুদ পড়েন।

    এই ঘটনার দৃশ্য ভিডিও করা হয়। এক সপ্তাহ আগে গুশ মিফতাহ সেই ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকউন্টে ও ইউটিউবে প্রকাশ করেন।

    মিফতাহর ওই ভিডিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সামাজিক মাধ্যম ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে।

    গুস মিফতাহ স্থানীয় একটি ইসলামিক বোর্ডিং ‘ওরা আজি পেসান্ত্রেন’ এর প্রধান কর্মকর্তা।

    সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নাইট ক্লাবের স্টেজে গায়ক বা জকি’র স্থানে দাঁড়িয়ে মিফতাহ। তার হাতে মাইক্রোফোন। সামনে বসে আছেন কয়েকশ অতিথি।

    মিফতাহ অতিথিদের উদ্দেশে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে প্রথমে ‘আল্লাহু আকবর’, আল্লাহু আকবর’ বলে আজানের কিছু অংশ উচ্চারণ করেন। এরপর তিনি কালিমা ও পরে দরুদ পড়া শুরু করেন।

    একপর্যায়ে মিফতাহ উপস্থিত অতিথিদের ও তার সঙ্গে দরুদ পড়তে আহ্বান জানালে সবাই মিলে দরুদ পড়া শুরু করেন।