Category: ইসলাম

  • শেখ হাসিনা প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি ইসলামকে ভালোবাসেন: আল্লামা মাসঊদ

    শেখ হাসিনা প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি ইসলামকে ভালোবাসেন: আল্লামা মাসঊদ

    বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা চেয়ারম্যান ও শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, কওমি মাদরাসা শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি প্রদান করে শেখ হাসিনা প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি ইসলাম ও উলামায়ে কেরামকে ভালোবাসেন।

    তিনি বলেন, শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি না থাকার কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারছিল না, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে এখন বিশ্বের দরবারে শিক্ষিত হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার উদ্যোগে আলেম-জনতা ঐক্য গড়ার আহ্বানে, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতি বিরুদ্ধে ৪ দিনব্যাপী ঐতিহাসিক পথযাত্রার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামছুল ইসলামের সভাপতিত্বে সুনামগঞ্জ পুরান বাস স্ট্যান্ডে ওই সমাপনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

    দুর্নীতি দেশের উন্নতি নষ্ট করে দেয় দাবী করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, দুর্নীতি একটি সামাজিক ব্যাধি। সমাজের সর্বত্র দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এদেশের এই উন্নয়নের ধারা আকড়ে রাখতে হলে আমাদেরকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের আওয়াজটা উঠাতে হবে, যাতে করে মানুষ সচেতন হতে পারে।

    মাদক যুবসমাজকে নষ্ট করে দিচ্ছে মন্তব্য করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, বাংলাদেশ একটি ধর্মপ্রাণ দেশ। এদেশের যুবকরা ধর্মপ্রেমী। ইসলাম, ধর্ম ও দ্বীনের প্রতি এতো টান অন্যান্য দেশের যুবকদের মাঝে কমই দেখা যায়। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে কিছু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি আমাদের দেশের উন্নতি সহ্য করতে না পেরে আমাদের যুব সমাজকে মদ-নেশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকাসক্ত করে তাদের জীবনকে নষ্ট করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। যদি যুবকদের জীবন নষ্ট করে দিতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ আর কখন বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না।

    তাবলীগের বর্তমান বিবাদ প্রসঙ্গে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, সারা বিশ্বে সুন্দর একটা দাওয়াতি কাজ চলছিল। তাবলীগের সাথীরা পৃথিবীর সর্বত্রে দ্বীনের প্রচার-প্রসার করছিল। কিছুদিন আগে যারা একই দস্তরখানায়, এই প্লেটে বসে একসাথে খানা খেয়েছে, এখন তাদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা ইহুদী-খৃষ্টানদেরকে সহ্য করতে পারে কিন্তু তার অপর পক্ষের সাথীকে সহ্য করতে পারে না।

    তিনি বলেন, মসজিদে মসজিদে মারামারি জন্যে ইসলাম আসেনি। ইসলাম প্রেম ও ভালোবাসার ধর্ম। ইসলাম মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়।

    আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, হযরত ইলিয়াস রহ. উম্মতের মধ্যে বিভক্তি করার জন্যে তাবলীগ জামায়াত তৈরি করেননি। হযরত ইলিয়াস রহ. ইসলামের প্রচার-প্রসার, মানুষের দ্বীনের হেফাজত, জনসাধারণকে উলামায়ে কেরামের সঙ্গে জুড়িয়ে দেয়ার জন্যে তাবলীগ জামায়াত তৈরি করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার জন্যে নয়। কাউকে নাস্তিক-মুরতাদ বলে ফতোয়া দেয়া জন্যে নয়।

    তিনি বলেন, দ্বীনকে মহব্বতের নামে মসজিদে মসজিদে মারামারি করে, মসজিদ থেকে কাউকে বের করে দেয়ার জন্যে ইসলাম আসেনি।

    আল্লামা মাসঊদ বলেন, মানুষের মধ্যে পরস্পরের প্রেম-ভালোবাসাকে ইসলাম পছন্দ করে। বিভাজন-বিদ্বেষকে নয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- ‘আল্লাহর জন্যে মানুষকে ভালোবাসা’। তাবলীগের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ভুলে আলেম-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাবলীগের কাজকে বেগবান করার আহ্বান জানান তিনি।

    ঐতিহাসিক পথযাত্রা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা ইয়াহয়া মাহমুদ বলেন, আল্লামা মাসঊদ উলামায়ে কেরামের অভিভাবক। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী মানবকল্যাণে শান্তির ফতোয়া প্রকাশ করে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন কওমি মাদরাসায় কোন জঙ্গি নেই।

    জনসভায় বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুর রহীম কাসেমী, মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাইফী, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা আবু সুফিয়ান যাকী, মুফতি তাজুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা সদরুদ্দিন মাকনুন, মাওলানা আইয়ুব আনসারী, মাওলানা আব্দুল আলীম ফরীদী, মাওলানা সাঈদ নিজামী, দারুল হাদিস তেঘরিয়া মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা আনোয়ার হুসাইন, মাওলানা আবদুল্লাহ প্রমুখ।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার উদ্যোগে আলেম-জনতা ঐক্য গড়ার আহ্বানে, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতি বিরুদ্ধে দেশব্যাপি ঐতিহাসিক পথযাত্রা ৬ অক্টোবর শনিবার সকাল ১১টার দিকে যশোরের চাঁচড়ার মোড়ের জনসভা মাধ্যমে শুরু করেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। এরপর খুলনার শহীদ হাদীস পার্ক, গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়া, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, মাদারীপুরের শিবচর, মুন্সিগঞ্জের কুচিয়া মোড়া কলেজ মাঠ, নরসিংদীর ভেলানগর, ভৈরবের দুর্জয় মোড়,ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বিশ্বেরোড, হবিগঞ্জে মিরপুর বাহুবল,মৌলভীবাজার, সিলেট ও সর্বশেষ সুনামগঞ্জ পুরান বাস স্ট্যান্ড সর্বশেষ জনসভা ও সমাপনী দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

  • সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন চায় ইসলামী দলগুলো

    সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন চায় ইসলামী দলগুলো

    সংবিধানের মধ্যে থেকেই ইসলামী দলগুলো সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসতে চায়। আজ মঙ্গলবার ১২টি ইসলামী দলের নেতারা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপ শেষে এ কথা বলেন।

    গণভবন থেকে সংলাপ শেষে বের হওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলগুলোর নেতারা। ১ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে শুরু হওয়া সংলাপের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে বসছেন।

    সংলাপ ভালো হয়েছে জানিয়ে ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক হোক, নির্দলীয় বা সর্বদলীয় সরকার এটা নিয়েই তো দ্বন্দ্ব চলছে। সরকার বলছে এখন সংবিধানের বাইরে যাওয়া যাবে না। অন্যরা বলছে সংবিধানের মধ্যেই এই দ্বন্দ্বের সমাধান সম্ভব। তাহলে তো একটা ঐক্য হয়েছেই। আমরাও সংবিধানের মধ্যে থেকেই দ্বন্দ্বের সমাধান করতে বলেছি।

    বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরিয়ত মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জি হুজুর বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি।’ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাচ্ছেন কি না জিজ্ঞেস করতে তিনি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়েন।

    আন্‌জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়’র চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘কোন জোটে যাব তা এখনই বলতে পারছি না। আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি।

    জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমির ফয়সল মুজাদ্দেদী বলেন, ‘সংলাপে সার্বিক রাজনীতির বিষয়ে কথা হয়েছে। আমরা আগাগোড়া মহাজোটের সাথেই আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। বারবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তো কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে গিয়ে আমরা দেখব কতটুকু নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। যদি একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় তবে সেটা হবে আমাদের জাতির জন্য এক মাইলফক।’ তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঐক্যফ্রন্ট হোক বা অন্য দলগুলো হোক তাদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স এর কো–চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল বলেন, সবাই সরকারের নির্বাচনের পাশে থাকতে চায়। সমর্থন দিতে চায়। সংবিধান রক্ষা করে বিধিবিধান ঠিক রেখে যেন নির্বাচন হয়। এই সরকারের উন্নয়ন ও ইসলামের প্রচার প্রচারণায় তাদের অবদানের জন্য পাশে আছি, থাকব।

    মুসলিম লীগের স্থায়ী কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটা সংলাপ আর কী, সবাই প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেছে। আমরা বলেছি, আপনারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এসেছিল। সংবিধান সংশোধন হয়েছিল। ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে এই ব্যবস্থার অধীনেই আপনারা নির্বাচন করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। এর বাইরে আর কি কিছু বলতে হবে?’

  • আল্লামা আহমদ শফীকে স্বাধীনতা পদক দেওয়ার দাবি

    আল্লামা আহমদ শফীকে স্বাধীনতা পদক দেওয়ার দাবি

    আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে স্বাধীনতা পদক দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শোলাকিয়ার পেশ ইমাম মাওলানা মাসউদ।

    আজ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি মঞ্চে থাকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ দাবি জানান। বিস্তারিত আসছে….

  • যারা ইসলামের শিক্ষা দেন তাদের অবহেলিত থাকতে দেওয়া যায় না

    যারা ইসলামের শিক্ষা দেন তাদের অবহেলিত থাকতে দেওয়া যায় না

    আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ আয়োজিত শোকরানা মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা দ্বীন ইসলামের খেদমত করছেন তাদের মাঝে উপস্থিত হতে পারাটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। যারা দ্বীন ইসলামের শিক্ষা দেন তারা কেন অবহেলিত থাকবেন? তাদের অবহেলিত থাকতে দেওয়া যায় না।

    আজ বরিবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত শোকরানা মাহফিলে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতি বিল জাতীয় সংসদে পাস করায় এ শোকরানা মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামের প্রচার ও প্রসারে কাজ করে গেছেন। এ দেশে যাতে বিশ্ব ইজতেমা হয় তিনি সে ব্যবস্থা করে গেছেন। তার নেতৃত্বে আমরা ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) তে সদস্যপদ লাভ করি। হাজীরা যাতে সহজে-কম খরচে হজ করতে যেতে পারে সেজন্য তিনি জাহাজ ক্রয় করেছিলেন।

    শোকরানা মাহফিলে কওমি সদস্যদের বিরুদ্ধে করা সকল হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতি বিল জাতীয় সংসদে পাস করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

  • প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনায় অনেক প্রস্তুতি হেফাজতের

    প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনায় অনেক প্রস্তুতি হেফাজতের

    রাকিব সিকদার নয়ন:

    কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ায় আগামী ৪ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা জানাতে হবে শুকরানা মাহফিল।

    মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর পীরজঙ্গী মাজার মাদ্রাসায় এ শুকরানা মাহফিলের প্রস্তুতি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে এ সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুকরানা মাহফিল সফলের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    এ মাহফিলে কাদিয়ানিদের সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণা, ইসলামবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করা এবং আলেম, ইমাম ও ছাত্র-শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হয়রানির মামলা প্রত্যাহারের দাবি তোলা হবে। শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে শুকরানা মাহফিলে যোগ দেবেন সারাদেশের হেফাজত ইসলামপন্থী কওমি আলেম ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবারের শুকরানা মাহফিল প্রস্তুতি কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান আশরাফ আলী। এতে উপস্থিত ছিলেন মুফতি মুহাম্মাদ ওয়াক্কাস, বেফাক মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল কুদ্দুছ, মাওলানা মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম, মুফতি রুহুল আমীন, মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল বছীর, মাওলানা মুহাম্মাদ আরশাদ রহমানী, মাওলানা মুফতি মুহাম্মাদ আলী, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি নূরুল আমীন, মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া এবং মাওলানা মুহাম্মাদ সফিউল্লাহ।

    এছাড়া ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রায় দেড় হাজার মুহতামিম ও আলেম উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। মাহফিলে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক ও উচ্চ শ্রেণির ছাত্রদের উপস্থিতির দায়িত্ব দেওয়া হয় বেফাকসহ ছয়টি কওমি শিক্ষাবোর্ডের ওপর।

  • মহানবী (স.) কে কটূক্তি না করতে ইউরোপীয় আদালতে রুল জারি

    মহানবী (স.) কে কটূক্তি না করতে ইউরোপীয় আদালতে রুল জারি

    মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) কে নিয়ে কোনোরকম কটূক্তি না করতে রুল জারি করেছে ইইউ আদালত। বৃহস্পতিবার ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস (ইসিএইচআর) এ রুল জারি করে।

    ২০১১ সালের করা এক অস্ট্রিয় নারীর অভিযোগের বিচারের রায়ে নবী মুহাম্মদ (স.) কে কোনোরুপ অপমানজনক বক্তব্য দেয়া যাবে না সমর্থন জানিয়ে এই রুল জারি করে তারা।

    এ মর্মে ইসিএইচআর জানায়, ইসলামের নবীকে নিয়ে কুটূক্তি কোনোমতেই কারও বাকস্বাধীনতার মধ্যে পড়েনা।

    উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ‘বেসিক ইনফরমেশন অন ইসলাম’ শীর্ষক সেমিনারে নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) কে নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন এক অস্ট্রিয় নারী।

    ধর্মীয় আদর্শকে অবমাননা ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধর্মীয় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগে ২০১১ সালে ফেব্রুয়ারিতে ওই নারীকে ৪৮০ ইউরো (সাড়ে ৫শ’ ডলার) অর্থদণ্ড দেয় অস্ট্রিয়ার আদালত।

    ওই নারী এর বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার নিম্ন ও উচ্চ আদালতে যান। কিন্তু সেখানে আদালত তার অভিযোগ গ্রহণ না করায় তিনি ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস (ইসিএইচআর) এ অভিযোগ করেন।

    ওই নারীর অভিযোগ দীর্ঘ সময় বিচার বিশ্লেষণের পর ইইউ আদালত বৃহস্পতিবার ওই নারীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা দেয়। এর আগে ধর্মীয় ব্যাক্তিত্বকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা এবং সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর পক্ষের কোনো অভযোগ পেলে আদালত পদক্ষেপ নেবে বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল অস্ট্রিয়ার আদালত।

    সে সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ইসিএইচআর জানায়, অন্য ধর্মের অনুসারীদের অনুভূতি সুরক্ষিত রাখতে ও ধর্মীয় শান্তি সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ রুল জারি করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ায় মোট জনসংখ্যা ৮.৮ মিলিয়ন, যেখানে ৬ লাখ মুসলিম অধিবাসী রয়েছেন।

  • বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মসজিদ বানাবে সৌদি

    বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মসজিদ বানাবে সৌদি

    বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মসজিদ নির্মাণ করতে চায় সৌদি সরকার। সৌদি সরকারই এ মসজিদ নির্মাণের সমস্ত ব্যয় বহন করতে ইচ্ছুক।

    সোমবার রাতে রাজধানীর হোটেল রেডিসনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ ইচ্ছা প্রকাশ করেন সফররত সৌদি প্রতিনিধি দল।

    উক্ত বৈঠকে মসজিদটি সৌদি বাদশাহর নামে নির্মাণ করতে চায় সৌদি সরকার বলে জানান সৌদি প্রতিনিধি দল।

    মসজিদটি নির্মাণের জন্য জমি নির্বাচন, আর্কিটেকচারাল ডিজাইন ও আনুষঙ্গিক খরচের বাজেট দিলে তারা মসজিদ নির্মাণের সমুদয় অর্থ বহন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধি দলটি।

    সৌদি সরকারের ইচ্ছাপ্রকাশের এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ধর্ম সচিব আনিছুর রহমান।

    রাজউকের সঙ্গে আলাপ করে পূর্বাচলে পাঁচ-ছয় বিঘা জমি খুঁজে করবেন বলে জানান তিনি।

    বৈঠকে ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মোট ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণকাজ শুরু হয়ে গেছে জানিয়ে সৌদি প্রতিনিধি দলের সামনে একটি ভিডিও উপস্থাপন করে বাংলাদেশ প্রতিনিদি দল।

    এসময় বাংলাদেশ সরকার এসব মসজিদ নির্মাণে সৌদি সরকারের আর্থিক সহায়তা কামনা করে।

    ভিডিওটি দেখার পর সৌদি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এ উদ্যোগেকে স্বাগত জানায় এবং তারা এ ব্যাপারে এক মাসের মধ্যে কত অনুদান দেবেন তা জানিয়ে দেন।

    তবে তারা এ মুহূর্তে রাজধানী ঢাকায় কয়েক বিঘা এলাকাজুড়ে সৌদি বাদশাহর নামে একটি বড় মসজিদ স্থাপনের আশা ব্যক্ত করেন।

    উক্ত সভায় বাংলা‌দেশ সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যস‌চিব মো. ন‌জিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সাম‌রিক স‌চিব মেজর জেনা‌রেল মিয়‌া মো. জয়নুল আবে‌দিন, ধর্মস‌চিব মো. আনিছুর রহমান, অর্থ মন্ত্রণাল‌য়ের অর্থ বিভা‌গের ভারপ্রাপ্ত স‌চিব আবদুর রউফ তালুকদার, ব‌হিঃসম্পদ বিভা‌গের অতি‌রিক্ত স‌চিব মোহাম্মদ শামসুল আলম, ধর্ম মন্ত্রণাল‌য়ের অতি‌রিক্ত স‌চিব ডা. মোয়া‌জ্জেম হো‌সেন, ইসলামী ফাউ‌ন্ডেশ‌নের মহাপ‌রিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজাল ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যাল‌য়ের মহাপ‌রিচালক মো. আ‌জিজুর রহমান।

    সফররত সৌ‌দি প্র‌তি‌নি‌ধি দ‌লের সদস্যরা হলেন, সৌ‌দি অর্থ মন্ত্রণাল‌য়ের উপ‌দেষ্টা ফাহাদ আল ওতাইবি, সৌ‌দি ইসলা‌মিক অ্যা‌ফেয়ার্স, দাওয়াহ ও গাই‌ডেন্স বিষয়ক মন্ত্রণাল‌য়ের অফিস ডাই‌রেক্টর শেখ আহ‌মেদ আলী রু‌মি, অর্থ মন্ত্রণাল‌য়ের প্র‌কৌশলী মুতলাক আল খাতা‌নি, অর্থ বিভা‌গের প্র‌তি‌নি‌ধি টার‌কি আল আলা‌বি ও বাংলা‌দেশে সৌ‌দি দূতাবা‌সের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স।

  • হার্টের ব্যথায় যে দোয়া পড়বেন

    হার্টের ব্যথায় যে দোয়া পড়বেন

    শামীম ইসলাম:

    হার্ট বা হৃদপিণ্ড মানুষের শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এ হৃদপিণ্ড সম্পর্কে হাদিসে পাকে এসেছে যে, মানুষের শরীরে একটি গোস্তের টুকরো আছে, যার এ টুকরোটি সুস্থ থাকবে, তার পুরো শরীরই সুস্থ থাকবে। আর যার এ গোস্তের টুকরোটি অসুস্থ হয়ে যাবে, তার পুরো শরীরই অসুস্থ হয়ে যাবে। আর তা সুস্থ রাখার উপায় হলো আল্লাহর জিকির।

    মানুষের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি হার্ট বা হৃদপিণ্ড বর্তমান সময়ে অনেক বেশি রোগ-ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। হার্ট বা হৃদপিণ্ডের ব্যথা বা যে কোনো রোগের সম্মুখীন হলেই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

    তবে কুরআনুল কারিমের আমলেও হৃদপিণ্ডের ব্যথা ও ব্যধি থেকে মুক্ত থাকা যায়। যারা নিয়মিত কুরআনের আমল করবে আল্লাহ তাআলা তাদের হৃদপিণ্ডের ব্যথাসহ যাবতীয় রোগ-ব্যধিগুলো দূর করে দেবেন। দোয়াটি হলো-

    Doa-Inner

    উচ্চারণ : আল্লাজিনা আমানু ওয়া তাত্বমাইন্নু ক্বুলুবুহুম বিজিকরিল্লাহি আলা বিজিকরিল্লাহি তাত্বমাইন্নুল ক্বুলুবু।’ (সুরা রাদ : আয়াত ১৩)

    আমল
    যে ব্যক্তি সুরা রাদের উল্লেখিত আয়াত নিয়মিত ৪১ বার পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার হার্ট বা হৃদপিণ্ডের ব্যথা ও রোগ-ব্যধি দূর করে দেবেন।

    আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী বেশি বেশি জিকির করাও জরুরি। সুতরাং আল্লাহর স্মরণ ও কুরআনের আমলই মানুষকে হার্ট বা হৃদপিণ্ডের যাবতীয় রোগ-ব্যধি ও ব্যথা থেকে মুক্ত রাখতে পারে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হার্ট বা হৃদপিণ্ডের যত্ন নেয়ার পাশাপাশি নিয়মিত কুরআনের আমল করার তাওফিক দান করুন। বুকের সব ধরনের ব্যথা থেকে হেফজাত করুন। আমিন।

  • কেবল মক্কা আর মদিনা ছিল দৃশ্যমান,আর পৃথিবীর বাকি সবই ছিল অন্ধকার: সুনিতা উইলিয়াম

    কেবল মক্কা আর মদিনা ছিল দৃশ্যমান,আর পৃথিবীর বাকি সবই ছিল অন্ধকার: সুনিতা উইলিয়াম

    মহাকাশ অঙ্গনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা সম্পর্কে সুনিতা উইলিয়াম নিজেই বলেছেন যে, ‘আমি যখন পৃথিবী থেকে প্রায় ২৪০ মাইল উপরে উঠলাম, তখন পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে পৃথিবীপৃষ্ঠে দুটি তারা (আলো) দেখতে পেলাম।

    এর পর একটি টেলিস্কোপের মাধ্যমে আলো দুটি দেখার চেষ্টা করলে দেখি, একটি আলোর অবস্থান মক্কায় আর অন্যটি মদিনায়। এই দৃশ্য দেখার পর আমি প্রচণ্ডভাবে অভিভূত হই এবং তখনই ইসলাম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিই। পরে ইসলাম গ্রহণ করে ফিরে এসে।

    একটি নভোযান পাঠানো হলো বরাবরের মতোই মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা থেকে। ২০০৬ সালের কথা। যে অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল মহাকাশের খোঁজখবর সংগ্রহ করাই।

    অন্য গবেষকদের সঙ্গে সে নভোযানে অবস্থান করছিলেন সুনিতা উইলিয়াম। মহাকাশ গবেষণাযানটি যখন পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ২৪০ মাইল উপরে, হঠাৎ নিচের দিকে চোখ আটকে যায় সুনিতার। পৃথিবী পৃষ্ঠে তারার মতো তিনি দুটি আলো জ্বলতে দেখলেন।

    তখন চিন্তায় পড়ে গেলেন সুনিতা; ভাবলেন, পৃথিবীপৃষ্ঠে তো কোনো আলোকশিখা থাকার কথা নয় এভাবে জ্বলে থাকার মতো। সঙ্গীদের ডেকে দেখালেন এবং টেলিস্কোপের সাহায্যে আলো দুটিকে নির্ণয় করার চেষ্টা চালালেন।

    তবে এই আলোকরশ্মি দুটি কি? নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হলো সুনিতার। আরো কাছে, আরো পরিষ্কারভাবে দেখলেন, আলো দুটির কেন্দ্রস্থল পৃথিবীর মক্কা ও মদিনা। মহাকাশমুখি এই আলোকরশ্মি দুটি বিকিরিত হচ্ছে মক্কা শহরের কেন্দ্রস্থল ও মদিনা শহরের কেন্দ্রস্থ থেকে।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুনিতা উইলিয়াম ১৯৬৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ায়ো অঙ্গরাজ্যের ‘ইউক্লিডে’ জন্মগ্রহণ করেন। বাবা দীপক পাণ্ডে ও মা বনি পাণ্ডে উভয়ই ছিলেন ভারতীয় হিন্দু।

    সব জল্পনা-কল্পনা এবং সন্দেহ-কানাকানির ইতি টেনে গত রমজান মাসে ওমরাহ পালন করতে এসে নিজের মুসলমান হওয়ার ঘোষণা দিলেন সুনিতা উইলিয়াম এবং গর্ব করে বললেন, ‘আমি এখন একজন মুসলমান, এটা ভাবতেই আমার ভালো লাগছে।

    নাসার প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক সুনিতার ইসলাম গ্রহণ করা বিষয়ে তাঁকে চেনেন বা জানেন এমন অনেকের মন্তব্য ছিল অনেকটাই এরকম- ‘আর কারো পক্ষে সম্ভব হলেও সুনিতার পক্ষে এটা কখনো সম্ভব নয়। কারণ সে ছিল ইসলাম বিদ্বেষী’।

    আর আমি এখন একজন মসলমান।’ ইসলাম গ্রহণ করা নিয়ে শত জল্পনা-কল্পনার ইতি টেনে ওমরাহ পালন করতে আসা সুনিতা উইলিয়াম জেদ্দার হোটেল হিলটনে বসে এভাবেই ব্যক্ত করছিলেন তাঁর ইসলাম গ্রহণ করার কাহিনী।

    সাংবাদিকদের শোনাচ্ছিলেন তাঁর মুসলমান হওয়ার রোমাঞ্চকর গল্প। এ সময় তিনি ইসলাম গ্রহণ করার নেপথ্যে থাকা ঘটনা ব্যক্ত করার পাশাপাশি উত্তর দেন উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও।

    যে দেশে কোন মসজিদ নেই, গোপনে নামাজ পড়েন মুসলমানেরা!

    ‘জানেন এই থিম্পুতে ৯টি গির্জা আছে। অথচ কোনো মসজিদ নেই। আমরা মুসলমানেরা তো কম নই। আপনি মিডিয়ার লোক। যদি পারেন ভুটানে মসজিদ নেই এ বিষয়ে কিছু একটা করেন।’ ক্ষোভের সাথে কথাগুলো বলছিলেন হাজী আবদুল কাদের। ভারতের বিহারের এই মুসলমান বিয়ে করেছেন ভুটানি এক মহিলাকে।

    থাকেন থিম্পুতে। গোশত আর মাছের ব্যবসা আছে তার। থিম্পুর কক টাওয়ারসংলগ্ন নারজিন ল্যাম সড়কে তার গোশতের দোকান। ভারতের ব্যাঙ্গালুর থেকে গরুর হালাল গোশত আমদানি করে বিক্রি করেন থিম্পুতে। থিম্পুতে একমাত্র ওই দোকানেরই এক অংশে নামাজ ঘর বানিয়েছেন তিনি।

    ছোট পরিসরের এই রুমেই হয় জুমার নামাজ। পায়ের ব্যথার জন্য থিম্পু ইমটাটে ভারতীয় গ্রিফ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকা নামাজ ঘরে যেতে পারেন না তিনি। তাই ১২-১৩ বছর আগে বিশেষ অনুমতি নিয়ে এই নামাজ ঘর বানিয়েছেন তিনি। এই নামাজ ঘরের মুসল্লিরা আবার হাতেগোনা ৩০-৩৫ জন। শুধু জুমার নামাজই পড়ার সুযোগ পান এখানে।

    মুসল্লিরা সবাই ভারত থেকে থিম্পুতে রুটি-রুজির জন্য আসা নিম্ন আয়ের গরিব মুসলমান। অন্যদের এখানে নামাজ পড়তে দিতে চান না আবদুল কাদের। তাকে দেয়া অনুমতির খবর জানাজানি হলে যদি ঝামেলা পোহাতে হয়। ভারতীয় মুসলমান আজিবর, রিপন শেখদের দেয়া তথ্য, ‘ভুটানে কাজ করা ভারতীয় শ্রমিকদের ৯০ শতাংশই মুসলমান’।

    এই নামাজ ঘরের ছবি তুলতে গেলে ভীষণ আপত্তি এই মুসলমানদের। ‘ভাই আপনি যদি ছবি তোলেন এবং তা জানাজানি হয়ে যায় তাহলে এখানে আমাদের নামাজ পড়াই বন্ধ হয়ে যাবে।’ অনুরোধ নামাজিদের। এর পরও নিউজের প্রয়োজনে একটি ছবি তুলেছি।

    ২০১৩ সালে বিজেএমসি ফুটবল দলের সাথে ভুটান সফরের সময় এই হালাল গোশতের দোকানের সন্ধান পেয়েছিলাম ভারতীয় এক মুসলমানের কাছ থেকে। তখন জানতাম না এখানে যে নামাজ হয়। সে সময় থিম্পুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন তথ্য দিয়েছিলেন, ‘এখানে প্রকাশ্যে নামাজ পড়া নিষেধ। বাংলাদেশ দূতাবাসে আমরা জুমার নামাজের ব্যবস্থা করলেও পরে ভুটান সরকারের নির্দেশে তা বন্ধ করতে হয়।

    ২০১৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ম্যাচ কভার করতে থিম্পুতে গিয়ে হোটেল গাসেলের কর্মচারী মইনুলের কাছে জানতে পারি থিম্পুতে বাংলাদেশীরা এক জায়গায় জুমার নামাজ পড়েন। সে স্থানকে মইনুলরা নাম দিয়েছেন ‘বাংলাদেশ’।

    সময় স্বল্পতায় মইনুল সেখানে নিয়ে যেতে পারেননি। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল কভার করতে গিয়ে এই গোশতের দোকান কাম নামাজ ঘরের সন্ধান পাই। কিন্তু আমাকে সেখানে জুমার নামাজ পড়ার অনুমতি প্রথমে দিতে চাইছিলেন না হাজী কাদের। কারণ আমি বিদেশী। এসেছি বাংলাদেশ থেকে। কিছুক্ষণ পর অবশ্য দিলেন সবুজ সঙ্কেত।

    কিন্তু পরদিন আসরের নামাজ পড়তে গেলে বাধা দেন আবদুল কাদের। শেষ পর্যন্ত অনুরোধের সূরে বললেন, ‘ভাই দয়া করে আপনি আর এখানে নামাজ পড়তে আসবেন না। আজ পড়ে যান। এর পর থেকে আপনার হোটেলেই নামাজ আদায় করে নেবেন।’

    নেপথ্য উল্লেখ করলেন, ‘আপনি বাইরের লোক। আপনি এখানে নামাজ পড়তে আসেন এটা জানাজানি হয়ে গেলে আমি খুব সমস্যায় পড়ে যাবো। বিশেষ অনুমতি নিয়ে আমি এখানে নামাজের ব্যবস্থা করেছি। আমরা কয়েক জনের জন্য।’

    এরপর কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে তার অসহায় আত্মসমর্পণ, জানেন এভাবে কতজনকে যে আমি এখানে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছি। এতে অনেক পাপ হয়েছে আমার। কিন্তু কী করব। আমি যে নিরুপায়। এখন আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করলেই হলো।

    ২০১৭ সালে ভারতের কুচবিহার থেকে আসা ইমাম মুর্শিদে আলমের ইমামতিতে জুমার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছিল। ২০১৮ সালের আগস্টে ইমাম হিসেবে পেয়েছি নজরুল ইসলামকে। অক্টোবরে আর নজরুলকে পাইনি।

    তাকে নতুন করে ভুটানে কাজের অনুমতি দেয়নি ভুটান সরকার। তাই ফিরে গেছেন ভারতে। ৮-৯ বছর আগে নজরুলকে ভুটানি পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল এখানে নামাজ পড়ার জন্য। ফলে এর পর থেকে তারা গোপনে শুধু জুমার নামাজ পড়ে এই গোশতের দোকানে। আগে এখানে খতম তারাবিও হতো। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়।

    ভুটানে প্রাণী জবাই করা নিষেধ। ফলে কোরবানি দেয়ার জন্য ভারতীয় মুসলমানেরা চলে যান তাদের দেশে। অবশ্য ভুটানে গরু, ছাগল, মহিষ জবাই নিষিদ্ধ হলেও এর গোশত খেতে কোনো সমস্যা নেই। তাই ভারত থেকে জবাই করা এসব প্রাণীর গোশত আমদানি করা হয়। সাধারণ শ্রমিকের কাজও করে না ভুটানিরা। এই শ্রমিকও ভারতের। এতে ভুটানিদের টাকা চলে যায় প্রতিবেশী দেশটিতে। এখন তা বুঝতে পারছে ভুটানিরা।

    কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার দেশ ভুটান। রাস্তায় কোনো গাড়ি হর্ন বাজায় না। জেব্রা ক্রসিংয়ে মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকলে দেখলে গাড়ির ড্রাইভাররা থামিয়ে দেন গাড়ি। জনগণ নির্বিঘেœ পারাপার করেন রাস্তা।

    কেউ জেব্রা ক্রসিং ছাড়া রাস্তা পার হলে পুলিশের হাতে ধরা পড়লে অর্থদণ্ড দিতে হয়। প্রকাশ্যে ধূমপান নিষেধ। মদপানে বেশ এগিয়ে ভুটানিরা। কিন্তু তা করতে হয় নির্দিষ্ট স্থানে। ভুটানের প্রতিটি দোকানই যেন একটি মিনিবার।

    কোনো চোর ডাকাত নেই। রাস্তায় গাড়ি রেখে রাতে বাড়ি চলে যান স্থানীয়রা। সবাইকে অবশ্য গাড়ি রাখার জন্য পয়সা দিতে হয় সরকারের ভাণ্ডারে। সবার জন্য গাড়ি রাখার নির্দিষ্ট জায়গা আছে। থিম্পুর গাসেল হোটেলের মালিক সনম জানান, ‘আমরা ভুটানিরা চোর নই। চুরি চামারির ঘটনা ঘটায় ভারত থেকে আসা লোকেরা।’

    ভুটানিরা যে সৎ এর প্রমাণও মিলল। থিম্পুর চাংলিমাথান স্টেডিয়ামের গ্যালারির এক কোণায় ব্যাগ রেখে অন্যত্র গিয়ে দেখলাম কেউ আমার ব্যাগটি ছুঁয়েও দেখেনি। এবার সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবলের ফাইনালের দিন ভুটানে কর্মরত বাংলাদেশী নাশিদ ভুল করে গ্যালারিতে তার ছাতা রেখে চলে চান। এক ঘণ্টা পর ফিরে এসে নির্দিষ্ট স্থানেই পান তার ছাতাটি। কেউ নেয়নি। মোটামুটি লেখাপড়া জানা সব ভুটানিই ভালো ইংরেজি জানেন। জাতি হিসেবে বেশ ভদ্র।

    ২০০২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ছয়বার ভুটান সফরে তাদের এমনই পেয়েছি। তবে এখন দেশটির যুবসমাজ পর্নোগ্রাফি ও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। পরিসংখ্যানে তা ধরা পড়েছে। জানান স্থানীয় কুইনসেল পত্রিকার সাংবাদিক সনম ছোডেন। মিডিয়ার অবশ্য কোনো স্বাধীনতা নেই।

    সরকার বা আমলাদের বিরুদ্ধে কোনো নিউজ হলে চাকরি হারাতে হয় ওই সাংবাদিককে। তবে নাগরিকদের লেখাপড়া ও চিকিৎসা ফ্রি। সরকারি খরচেই তাদের লেখাপড়া ও চিকিৎসা। ভুটানে ডাক্তারদের প্রাইভেট চিকিৎসা নিষিদ্ধ। সবাইকে কাজ করতে হয় সরকারি হাসপাতালে।

    রাজাকে তারা খুব সম্মান করেন। নীতি ও নিষ্ঠাবান রাজা খুবই জনপ্রিয়। এত নিয়ম মানা দেশে মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য কোনো মসজিদ থাকবে না তা মেনে নেয়া কষ্টকর। মূলত বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে স্থানীয় মুসলমানের সংখ্যা খুব কম। তারা ভয়ে মুসলমান হিসেবে পরিচয়ও দিতে চান না।

    জানান ভারতীয় মুসলমান মুহাম্মদ হোসেন। পর্যটক হিসেবে আসা মুসলমানদের নামাজ সারতে হয় হোটেলে বা ঘরে। অবশ্য এবার বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর শাবাব বিন আহমেদ জানান, আগে কী হয়েছে তা আমি জানি না। তবে আমরা এখন দূতাবাসে নামাজের ব্যবস্থা করেছি।

    জুমার নামাজও হয় সেখানে। রাষ্ট্রদূত জিষ্ণু রায় চৌধুরী জানান, মাঝে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ ছিল বাংলাদেশ দূতাবাসে। তবে এখন যারা নামাজ পড়তে আসেন তাদের গেটে নাম ঠিকানা লিখে এরপর নামাজ পড়তে আসতে হয়।’ গাড়ির গ্যারেজে জুমা ও ঈদের নামাজের ব্যবস্থা।

    দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, নতুন যে স্থানে বাংলাদেশ দূতাবাস নির্মাণ করা হবে সেখানে নামাজের জন্যও নির্দিষ্ট স্থান থাকবে।

    ভুটানে অবস্থানরত ভারতীয় মুসলমানেরা এখন তাকিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের দিকে। বাংলাদেশ দূতাবাস যদি একটি মসজিদ বানায় তাহলে তাদের নিয়মিত নামাজের একটি জায়গা হবে। ভারত থেকে আসা বর্ষীয়ান আবদুল হাকিমের মতে, ভুটান সরকারের সাথে চমৎকার সম্পর্ক বাংলাদেশের।

    এখন বাংলাদেশ সরকার যদি একটু জোর চেষ্টা চালায় তাহলে আমরা ভুটানে একটি মসজিদ পাবো নামাজের জন্য।’ তিনি ও আবদুল কাদের জানালেন, ‘ভুটানের ততীয় রাজা আগে ঈদের নামাজের সময় শুভেচ্ছা জানাতে আসতেন। তিনি আশ্বাসও দিয়েছিলেন মসজিদের জন্য জায়গা দেয়ার। পরে তা আর হয়নি।’

    বিশ্বের প্রায় সব দেশের রাজধানীতেই মসজিদ আছে। অথচ ব্যতিক্রম ভুটান। পুরো দেশের কোথাও নামাজের জায়গা নেই। কেন মসিজদ নির্মাণ করতে দেয়া হচ্ছে না। স্থানীয় ভুটানিদের মতে, মসজিদ নির্মাণ হলে তা হবে ইসলামের একটি সেন্টার। এতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ভুটানিরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে যাবে। এ আতঙ্কেই মসজিদ নির্মাণে বাধা দেয়া।

  • বিশ্বের সবচেয়ে ছোট কোরআন প্রদর্শনী তুরস্কে

    বিশ্বের সবচেয়ে ছোট কোরআন প্রদর্শনী তুরস্কে

    তুরস্কে মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআনের সবচেয়ে ছোট পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনী চলছে। বৃহস্পতিবার তুর্কি গণমাধ্যম ইয়েনিসাফাক এ খবর দিয়েছে।

    এদিন দেশটিতে প্রথমবারের মতো ক্ষুদ্রতম শিল্পকর্মের প্রদর্শনী শুরু হয় আয়ডিন প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় কুসাদাসি জেলায়। এতে নেকাতি কর্কমাজ নামের একজন ক্যালিগ্রাফি আর্টিস্টের হাতে লেখা বিশ্বের সবচেয়ে ছোট এই কোরআনসহ বিভিন্ন শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে, যেগুলো খালি চোখে দেখা অসম্ভব। এটি মাইক্রোস্কোপ ছাড়া পড়া সম্ভব নয়।

    কর্কমাজ বিশ্বের তিনজন ক্ষুদ্র ভাস্কর্য নির্মাতাদের একজন। তিন বছরে এক সেন্টিমিটার পরিমাপের এই কোরআন তৈরি করেছেন তিনি। একটি সুই বা পিনের মাথায় রাখা সম্ভব এটি। এক্ষেত্রে তিনি চুল দিয়ে তৈরি একটি ব্রাশ ব্যবহার করেছেন। অসামান্য এই কাজের জন্য তিনি রাতকেই বেছে নিয়েছেন।