Category: ইসলাম

  • পবিত্র হজ আজ, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান

    পবিত্র হজ আজ, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান

    আজ সোমবার পবিত্র হজ। ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়ালমুল্ক্’। অর্থাৎ—‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’ এই ধ্বনিতে আজ মুখরিত আরাফাতের ময়দান।

    তালবিয়া পাঠ করে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে পাপমুক্তির আকুল বাসনায় লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান (হাজি) আজ মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে থাকবেন। কেউ পাহাড়ের কাছে, কেউ সুবিধাজনক জায়গায় বসে ইবাদত করবেন।

    মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা দেবেন মদীনার মজিদে নববীর ইমাম ও খতিব ড. হোসাইন বিন আব্দুল আজিজ আল শাইখ।

    হজ ভিসা নিয়ে যারা সৌদি আরবে গিয়ে অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে স্বল্প সময়ের জন্য আনা হবে। কারণ, আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়া হজের অন্যতম ফরজ।

    পবিত্র হজ পালন করতে গত বুধবার সারা বিশ্বের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান কেউ গাড়িতে বা হেঁটে মিনায় পৌঁছান। ভাষা, বর্ণ ও লিঙ্গের ভেদাভেদ ভুলে বিশ্বের ২০ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান এ বছর হজ পালনের লক্ষ্যে মিনা থেকে আরাফাতে সমবেত হয়েছেন।

    আজ আরাফাতের ময়দানে খুতবার পর জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন হাজীরা। তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। রাতে সেখানে অবস্থান করবেন খোলা মাঠে। শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকে।

    মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা কেউ ট্রেনে, কেউ গাড়িতে, কেউ হেঁটে মিনায় যাবেন এবং নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন। মিনায় বড় (জামারায়) শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে (ন্যাড়া করে) গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় বদল করবেন। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন।

    কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় ‘সায়ি’ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। সেখান থেকে তারা আবার মিনায় যাবেন। মিনায় যত দিন থাকবেন, তত দিন তিনটি (বড়, মধ্যম, ছোট ) শয়তানকে ২১টি পাথর মারবেন। আবার মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফ করার পর নিজ নিজ দেশে ফিরবেন। যারা হজের আগে মদিনায় যাননি, তারা মদিনায় যাবেন।

    সৌদি হজ মন্ত্রণালয় ও মোয়াচ্ছাসা কার্যালয় সূত্র জানায়, মক্কা, মিনা ও আরাফাতের ময়দানে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে সব হাজীকে বিনা মূল্যে খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ সব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান হাজিদের নানা উপহার দিচ্ছে। সকাল থেকে সারা দিন হেলিকপ্টার মিনার চারপাশ টহলরত থাকে।

    জামারায় শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের পর হাজিদের পশু কোরবানির প্রস্তুতি নিতে হয়। তারা মঙ্গলবার কোরবানি দেবেন। অধিকাংশ হাজী নিজে বা বিশ্বস্ত লোক দিয়ে মুস্তাহালাকায় (পশুর হাট ও জবাই করার স্থান) গিয়ে কোরবানি দেন। কেউ কেউ ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকে (আইডিবি) রিয়াল জমা দিয়ে কোরবানি দেন।

    এদিকে, আজ সোমবার কাবা শরিফের গায়ে পরানো হবে নতুন গিলাফ। প্রতিবছর (৯ জিলহজ) হজের দিন হাজিরা সব আরাফাতের ময়দানে থাকেন এবং মসজিদে হারামে মুসল্লির সংখ্যাও থাকে কম। হাজিরা আরাফাত থেকে ফিরে এসে কাবা শরিফের গায়ে নতুন গিলাফ দেখতে পান। নতুন গিলাফ পরানোর সময় পুরোনো গিলাফটি সরিয়ে ফেলা হয়। পুরোনো গিলাফ কেটে মুসলিম দেশের সরকার প্রধানদের উপহার দেওয়া হয়।

  • স্বজনদের বিদায় দিতে চায় না মন

    স্বজনদের বিদায় দিতে চায় না মন

    ইমিগ্রেশন শেষ হয়েছে ঘণ্টাখানেক আগেই। সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইট টাইম হলেও কাকডাকা ভোরেই হজযাত্রীরা আশকোনা হজ ক্যাম্পে হাজির হন। স্বজনরা চোখের জলে বিদায় জানান হজযাত্রীকে। কিন্তু বিদায় দিলেও মনটা মানতে চায় না। আর তাইতো হজ ক্যাম্প থেকে হজযাত্রীরা যখন বাসে উঠে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন, তখনও স্বজনরা কেউ বের হওয়ার রাস্তার মুখে কেউ রেলগেটের সামনে আবার কেউবা বিমানবন্দরে প্রবেশের মুখে অশ্রুসিক্ত নয়নে হজযাত্রীদের একনজর দেখতে অপেক্ষায় থাকেন।

    বাসে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে হজযাত্রীদের একজন ৭-৮ বছর বয়সী ছেলেকে কাঁদতে দেখে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে নিরাপত্তাপ্রহরীরা আটকে দেন। বাসে উঠে বাবাও চোখের জলে বিদায় নেন।

  • সৌদিতে পৌঁছেছেন ৬৭,০০০ বাংলাদেশি হজযাত্রী, আরও ২ জনের মৃত্যু

    সৌদিতে পৌঁছেছেন ৬৭,০০০ বাংলাদেশি হজযাত্রী, আরও ২ জনের মৃত্যু

    চলতি বছর পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব এসে আরও দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, গাজীপুর সদর উপজেলার সালেমা খানম (৬৪) তাঁর পাসপোর্ট নং BE0838281 এবং খুলনা সদর উপজেলার আব্দুর রাজ্জাক মিয়া (৬২) তাঁর পাসপোর্ট নং BM0683441।

    মক্কা বাংলাদেশ হজ অফিস জানায়, গতকাল রবিবার মক্কায় আরও ২ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এবার হজ করতে এসে সৌদিতে মারা গেলেন ১০ বাংলাদেশি।

    মৃত সালেমা খানম এমজি এয়ার ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে হজ পালনের উদ্দেশ্যে গত ২৭ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরব আসেন। মৃত আব্দুর রাজ্জাক আনিকা এভিয়েশনের মাধ্যমে হজ পালনের জন্য গত ১৬ জুলাই সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবে আসেন।

    এদিকে ২৯জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯৩টি এবং সৌদিয়ার ৯৬টি মোট ১৮৯টি ফ্লাইটে ৬৭হাজার ২৭২জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

  • হজে গুনাহ মাফ হয়

    হজে গুনাহ মাফ হয়

    দয়ালু আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দা হাজীদের হজ কবুল করেন, তাদের অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেন। ফলে তারা কাবাঘর থেকে  মাসুম বাচ্চার মতো নিষ্পাপ হয়ে বাড়ি ফেরেন।

    হজ আর্থিক সামর্থ্যের অধিকারী মুসলমানের জন্য অবশ্যপালনীয় ইবাদত। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হজ। তবে এটি শুধু ধনীদের জন্য অবশ্য পালনীয়। যেমন ইসলামের আরেকটি স্তম্ভ জাকাতও কেবল ধনীদের জন্য পালনীয়।

    হজের আসল পাথেয় হলো তাকওয়া। মুমিনরা হজ পালনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ পায়। এ সুযোগ যারা পায় তারা সত্যিকার অর্থে সৌভাগ্যবান।

    হজ সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য এমন একটি অবশ্যপালনীয় ইবাদত যে, কেউ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ পালনে কার্পণ্য করলে সে আল্লাহর বিরাগভাজন হবে।

    সূরা আলে ইমরানের ৯৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মানুষের ওপর আল্লাহর হক এই যে, কাবাঘর পর্যন্ত আসার সামর্থ্য যাদের আছে তারা হজ করার জন্য এখানে আসবে। যারা প্রত্যাখ্যান করবে (অর্থাৎ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ করতে আসবে না) তারা জেনে রাখুক যে, আল্লাহ সৃষ্টিজগতের মুখাপেক্ষী নন।’ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা হজ পালনে অনীহা প্রদর্শন করে মহানবী (সা.)-এর হাদিসে তাদের কঠোরভাবে ভর্ত্সনা করা হয়েছে।

    হজ পালন উপলক্ষে হাজীরা রসুল (সা.)-এর রওজা জিয়ারতের জন্য মদিনায় যান। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘মদিনা জিয়ারত করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।’ আবু দাউদ।

    তিনি আরও বলেন, রওজা জিয়ারতকারীরাও অশেষ সৌভাগ্যের অধিকারী। এর মাধ্যমে দুটি কবুল হজের সওয়াব পাওয়া যায়।

    হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমান যখন কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে সালাম করে আল্লাহ তখন আমার রুহ ফিরিয়ে দেন এবং আমি তার সালামের জবাব দিই। মুসনাদে আহমাদ।

    হজ পালনের জন্য অবশ্যই পাথেয় দরকার। সারা দুনিয়া থেকে মুমিনরা হজের জন্য আরাফায় যান। এজন্য হজ পালনকারীদের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব ইবাদতের মতো হজের জন্য আসল পাথেয় হলো তাকওয়া। অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি ভয় বা তাঁর হুকুম তামিল করার ঐকান্তিক বাসনা।

    সূরা বাকারার ১৯৭ নম্বর আয়াতেও এ বিষয়টি নির্দেশিত হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘হজের সফরের জন্য পাথেয় সঙ্গে নিয়ে যাবে। তবে তাকওয়াই হচ্ছে সর্বোত্তম পাথেয়।’ এ বছর দুনিয়ার যেসব মুসলমান আল্লাহর মেহমান হিসেবে মক্কায় যাচ্ছেন পরম করুণাময় তাদের সবাইকে সুস্থভাবে হজ পালনের তওফিক দিন।

    লেখক :  ইসলামবিষয়ক গবেষক।

  • চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ

    চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ

    বাংলাদেশের আকাশে আজ সন্ধ্যায় পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল শনিবার সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, আজ বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে। তাই আগামীকাল সারাদেশে ঈদ উদযাপিত হবে।

    এর আগে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বাদ মাগরিব চাঁদ দেখার খবর পর্যালোচনা করতে বৈঠকে বসবে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে আয়োজিত এ বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের দিন তারিখ ঘোষণা করা হয়।

  • চাঁদ দেখা গেছে, কাল মালয়েশিয়ায় ঈদ

    চাঁদ দেখা গেছে, কাল মালয়েশিয়ায় ঈদ

    মালয়েশিয়ার আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল শুক্রবার দেশটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হবে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিশ্চিতকরণ সভা শেষে সরকারের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা সূত্রে জানা যায়, ইয়াং দ্বি-পারতুং আগং এবং প্রধানমন্ত্রী চাঁদ দেখা কমিটির সাথে একমত পোষণ করেছেন। তাই মালয়েশিয়ায় আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র উদুল ফিতর পালন করা হবে।

  • অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত হলে ঈদের প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররমে

    অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত হলে ঈদের প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররমে

    অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত হলে আসন্ন ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের পরিবর্তে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন।

    রবিবার দুপুরে নগর ভবনে ঈদের জামাত নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। সভায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    পুরো বিষয়টি ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালনা করবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ঈদের জামাতের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। থাকবে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    সাঈদ খোকন বলেন, আগামী ১৪ জুন (বৃহস্পতিবার) সংবাদ সম্মেলনে চূড়ান্তভাবে জানানো হবে, ঈদের কয়টি জামাত কখন অনুষ্ঠিত হবে। এবার একসঙ্গে ৮৫ হাজার মানুষ জামাতে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আগামী ১৪ জুন স্পেশাল ফোর্সের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • মাহে রমজান গুনাহ মাফের নিশ্চয়তা দেয়

    মাহে রমজান গুনাহ মাফের নিশ্চয়তা দেয়

    রমজান হলো গুনাহ মাফের মাস। স্বয়ং রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সুসংবাদ দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন, ‘যে লোক রমজান মাসের রোজা রাখবে ইমান ও চেতনাসহকারে (সওয়ারের আশায়) তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ হয়ে যায়।’ বুখারি, মুসলিম।

    এটি এমন এক পবিত্র মাস, যে মাসে আল্লাহর কৃপা বান্দার জন্য উন্মুক্ত হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কাছে রমজান মাস উপস্থিত। এটি অত্যন্ত বরকতময় মাস। আল্লাহ এ মাসে তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যায়, এ মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এ মাসে বড় বড় ও সেরা শয়তানগুলো আটক রাখা হয়। আল্লাহর জন্য এ মাসে একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে লোক এই রাতের মহাকল্যাণ লাভ থেকে বঞ্চিত থাকল, সে সত্যই বঞ্চিত ব্যক্তি।’ নাসায়ি, মুসনাদে আহমদ ও বায়হাকি।

    রোজাদারদের আখেরাতে পুরস্কৃত করা হবে নানাভাবে। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে লোক এক দিন আল্লাহর পথে রোজা রাখবে, আল্লাহ তার মুখমণ্ডল জাহান্নাম থেকে সত্তর বছর দূরে সরিয়ে রাখবেন।’ বুখারি, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ ও মুসলিম।

    হাদিসে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আখেরাতের জীবনে রোজা ও কোরআন চর্চাকারীদের জন্য আল্লাহর দরবারে শাফায়াতকারী হিসেবে আবির্ভূত হবে।

    আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রোজা ও কোরআন রোজাদার বান্দার জন্য শাফায়াত করবে, রোজা বলবে, হে আল্লাহ! আমি এ ব্যক্তিকে দিনে খাবার ও অন্যান্য কামনা-বাসনা থেকে ফিরিয়ে রেখেছি। আপনি আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কোরআন বলবে, হে আল্লাহ! আমি এ ব্যক্তিকে রাতের নিদ্রা থেকে ফিরিয়ে রেখেছি। আপনি আমাদের সুপারিশ গ্রহণ করুন। আল্লাহ তাদের সুপারিশ গ্রহণ করবেন।’ হাকিম, আহমদ। রমজানে গুনাহ মাফের জন্য আমাদের বেশি বেশি ইবাদত করতে হবে। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজের মনকে আল্লাহমুখী করার প্রয়াস চালাতে হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রোজা পালন ও পাপমুক্ত হওয়ার  তাওফিক দান করুন।

    লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

  • ১৪ রমজান

    ১৪ রমজান

    জাতীয় অনলাইন দৈনিক বাংলার মুখ ২৪ ডটকম এর সৌজণ্যে প্রতিদিনের সেহরী ও ইফতারের সময়সূচী –

  • যে দেশের মুসলিমরা সবচেয়ে দীর্ঘ সময় রোজা রাখেন

    যে দেশের মুসলিমরা সবচেয়ে দীর্ঘ সময় রোজা রাখেন

    বিভিন্ন দেশের সূর্যের অবস্থান ও সময়ের হিসেব আলাদা হওয়ায় ইফতারের সময়টা ভিন্ন ভিন্ন হয়। আমাদের দেশে সন্ধ্যার সময় ইফতার হলেও এমনও দেশ রয়েছে যেখানে অপেক্ষা করতে হয় রাত ১১টা পর্যন্ত। এমনই অবস্থা উত্তর মেরুর কাছাকাছি দেশ আইসল্যান্ডে। এখানে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রোজা পালন করতে হচ্ছে মুসলিমদের।

    পাকিস্তান থেকে কর্মসূত্রে আইসল্যান্ডে এসেছিলেন সুলেমান। বিবিসি’কে তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ২২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয় তাঁকে। কারণ ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা করতে হয়। যেহেতু রাত ১১টার আগে সূর্য অস্ত যায় না। তাই না খেয়েই অতক্ষণ থাকেন তিনি। বিশ্বে এই দেশই সবথেকে দীর্ঘ সময় ধরে রোজা পালন করে থাকে।

    আইসল্যান্ডে বছরের এই সময়টাতেই দিন হয় অনেক দীর্ঘ। সূর্য অস্ত যায় রাত প্রায় এগারটায়, আবার উদয় হয় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অর্থাৎ ভোর চারটের দিকে। তাই খাওয়ার জন্য ওই কয়েক ঘণ্টাই পাওয়া যায়।