জাতীয় অনলাইন দৈনিক বাংলার মুখ ২৪ ডটকম এর সৌজণ্যে প্রতিদিনের সেহরী ও ইফতারের সময়সূচী
Category: ইসলাম
-

সেহরী ও ইফতারের সময়সূচী
১১ রমজান | ২৮ মে ২০১৮ জাতীয় অনলাইন দৈনিক বাংলার মুখ ২৪ ডটকম এর সৌজণ্যে প্রতিদিনের সেহরী ও ইফতারের সময়সূচী

-

প্রতিদিন জমজমের পানির ১০০টি নমুনা পরীক্ষা
সারা বিশ্বে মুসলিমদের কাছে পবিত্র জমজমের পানি। রমজান মাস উপলক্ষ্যে প্রতিদিন জমজমের পানির ১০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। দর্শনার্থী ও হাজীরা মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে (কাবা শরিফ) নামাজ আদায় করতে এসে জমজমের পানি পান করেন।
তাদের পানের জন্য এ পানি নিরাপদ এবং জীবানুমুক্ত কি না- তা নিশ্চিত করতেই প্রতিদিন এ পরীক্ষা করা হচ্ছে। যেসব জায়গায় জমজমের পানি পাওয়া যায় সব জায়গা থেকে এসব নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে ।
মক্কায় ৬৬০টি স্থানে জমজমের পানি পানের ব্যবস্থা আছে। এছাড়া ২৫ হাজার কনটেইনারে করে করে জমজমের পানি সরবরাহ করা হয়। মসজিদুল হারামের ভেতরে ৩৫২টি স্টেইনলেস স্টিলের ট্যাংকে পবিত্র এ পানি সংরক্ষণ করা হয়। সূত্র: সৌদি গেজেট
-

তৃতীয় তারাবিহর তেলাওয়াত নিয়ে আলোচনা
১৯ মে শনিবার বাদ ইশা তৃতীয় তারাবিহতে কুরআনুল কারীমের ৪নং পারার শুরু সূরা আলে ইমরানের ৯২ নং আয়াত ‘লান্তানালুল র্বিরা হাত্তা তুন্ফিকু মিম্মা তুহিব্বুন’ থেকে ৫নং পারার ১০নং পৃষ্ঠার শেষ সূরা নিসার ৮৭ নং আয়াতের শেষাংশ ‘ওয়া মান আস্দাকু মিনাল্লাহি হাদীসা’ পর্যন্ত তেলাওয়াত করা হবে।
আমরা অনেক সময় অত্যন্ত পাতলা ও নামকাওয়াস্তে কমমূল্যে যাকাতের কাপড় বিতরণ করে থাকি। এমনকি আমরা যা ফেলে দেই সেরকম উচ্ছিষ্ট খাবার অপরকে দান করে থাকি। এসব বিষয়ে সূরা আলে ইমরানের ৯২ নং আয়াতে বলা হয়েছে, তোমরা কস্মিনকালেও কল্যাণ লাভ করতে পারবে না; যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে দান না কর। এ প্রসঙ্গে বুখারী শরীফে হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে নবী কারীম (সা.) বলেন, তোমাদের কেহ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের ভাইয়ের জন্য ওই জিনিস পছন্দ না করবে যা সে তার নিজের জন্য পছন্দ করে।
একই সূরার ১১০ নং আয়াতে উম্মতে মুহাম্মাদীর শ্রেষ্ঠত্ব সম্বন্ধে বলা হয়েছে, ‘কুনতুম খাইরা উম্মাতিন উখরিজাত লিন্নাস’ অর্থাৎ তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত। মানুষের কল্যাণের জন্য তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, তোমরা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করবে। এ প্রসঙ্গে বুখারী শরীফের ৪৫৫৭ নং হাদীসে বলা হয়েছে, তোমরা হলো শ্রেষ্ঠ উম্মত। মানুষের কল্যাণের জন্যেই তোমাদের বের করে আনা হয়েছে। যারা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করবে সেই উম্মত নিজেরা যদি অসৎ কাজে জড়িত হয় তবে দাওয়াতের কাজ বাধাগ্রস্ত হবে। আমরা অনেক সময় একটা ভাল কাজ করতে গিয়েও সাহস হারিয়ে ফেলি। পিছে কে কি বলবে, সে ভাবনায়।
এ প্রসঙ্গে ১৩৯ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ওয়ালা তাহিনু, ওয়ালা তাহযানু। অর্থাৎ তোমরা হীনবল ও বিষন্ন হয়ো না। যদি তোমরা মুমিন হও তাহলে তোমরাই বিজয়ী হবে। অতএব, ভাল কাজ করতে টেনশানের কোন কারণ নেই। সকল বিষয়ে আল্লাহই হেফাজত করবেন। তবে প্রকৃত মুমিন হতে হবে।
দুনিয়ার ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে অনেকে মাওলাকে ভুলে রয়েছি। এটা আদৌ উচিৎ নয়। এ বিষয়ে সূরা আলে ইমরানের ১৯৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, মাতাউন ক্বালীল। তোমরা যে ভোগ বিলাস করতেছ তা একেবারে নগণ্য ও স্বল্প সময়ের জন্য। তারপর তোমাদের স্থান হবে জাহান্নাম। ওটা কতই না নিকৃষ্ট স্থান! উত্তরাধিকারীরা কে কত অংশ পাবে সূরা নিসায় তা সুস্পষ্ট বয়ান করা হয়েছে।
ওই সূরার ১০ নং আয়াতে বলা হয়েছে যারা অন্যায়ভাবে ইয়াতিমের মাল ভক্ষণ করল তারা যেন নিজেই নিজের পেটে আগুন ভরল। যারা ইয়াতিমখানা চালান এমনকি যাদের হাতে ইয়াতিমের মাল বন্টিত হয় ওইসব নেতাদের এ আয়াত বিষয়ে অত্যন্ত চৌকান্না থাকতে হবে। অনেকে সুন্নাতকে এড়িয়ে যাওয়ার ফন্দি খোঁজে। অথচ সূরা নিসার ৮০ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মাইয়্যিত্বিউর রাসূলা ফাক্বাদ আতায়াল্লাহ।’ অর্থাৎ যে রাসুলের অনুগত হয় সে আল্লাহরই অনুগত হয়ে থাকে। কাজেই সুন্নাতকে এড়িয়ে চলা হবে বোকামীর নামান্তর।
আমরা বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে গিয়ে ভাল ভাল কথা শুনেও আমলে নেই না। আল্লাহর কথা পর্যন্ত ভ্রুক্ষেপ করি না। অবলীলায় অমান্য করে চলা হয়ে থাকে কুরআনের বানী। এটা কতই না জঘণ্য আচরণ! আজকের তৃতীয় তারাবিহতে সর্বশেষ যে আয়াত তেলাওয়াত করা হবে তাতে বলা হয়েছে, ওয়া মান আসদাক্বু মিনাল্লাহি হাদীসা। অর্থাৎ আল্লাহর কথার চেয়ে আর কার কথা বেশি সত্য হতে পারে? এর আগের অংশে বলা হয়েছে, লাইয়াজমায়ান্নাকুম ইলা ইয়াওমিল ক্বিয়ামাতে লা রাইবা ফীহ্। অর্থাৎ ক্বিয়ামতে অবশ্যই সবাইকে জমায়েত করা হবে। এতে কোন সন্দেহ নেই।
এ কথা জানার পরও যারা উদাসীন হয়ে থাকবে তাদের ব্যাপারে বলা হয়েছে, উলায়িকা কাল আনয়াম, বালহুম আদ্বাল। অর্থাৎ ওরা চতুষ্পদ প্রাণীর সমতুল্য এমনকি তার চেয়েও অধম। তৃতীয় তারাবীহতে তিলাওয়াতকৃত দেড় পারায় অনেক আলোচনার মধ্যে এতটুকুর উপর আলোকপাত করা হলো। আল্লাহ পাক আমাদেরকে এর উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
লেখক: খতীব, দিউ বায়তুস সালাম জামে মসজিদ, কলেজ রোড, ফুলপুর, ময়মনসিংহ।
-

অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাস পবিত্র মাহে রমযান
হুজাইফা রহমানঃ
চন্দ্র মাসের এক অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাস পবিত্র মাহে রমযান। এ মাসের ফযীলত অপরিসীম। নীচে ধারাবাহিকভাবে রমযান মাসের কিছু ফযীলত তুলে ধরা হল : ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি রুকন হল সিয়াম। আর এ সিয়াম পালন করা হয় এ মাসেই। আল্লাহ তা’আলা বলেন : {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} অর্থাৎ হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। (বাকারাহ : ১৮৩) এ মাসের সিয়াম পালন জান্নাত লাভের একটি মাধ্যম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَبِرَسُولِهِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وآتى الزَّكَاةَ وَصَامَ رَمَضَانَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনল, সলাত কায়েম করল, যাকাত আদায় করল, রমযান মাসে সিয়াম পালন করল তার জন্য আল্লাহর উপর সে বান্দার অধিকার হল তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেয়া। (বুখারী) রমযান হল কুরআন নাযিলের মাস {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ} অর্থাৎ “রমাযান মাস- যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকেদের পথ প্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।” (আল-বাকারা : ১৮৫) সিয়াম যেমন এ মাসে, কুরআনও নাযিল হয়েছে এ মাসেই। ইতিপূর্বেকার তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জীলসহ যাবতীয় সকল আসমানী কিতাব এ মাহে রমযানেই নাযিল হয়েছিল। (সহীহ আল জামে) এ মাসেই জিবরীল আলাইহিস সালাম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুরআন শুনাতেন এবং তাঁর কাছ থেকে তিলাওয়াত শুন্তেন। আর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনের শেষ রমযানে পূর্ণ কুরআন দু’বার খতম করেছেন। (মুসলিম) রমযান মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। إِذَا جَاءَ رَمَضَانَ فُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةَ وَأُغْلِقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَصُفِّدَتِ الشَّيَاطِيْنَ (وَفِيْ لَفْظٍ سُلْسِلَتِ الشَّيَاطِيْنَ) “যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় আর জাহ্ান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদের আবদ্ধ করা হয়।” (মুসলিম) আর এজন্যই এ মাসে মানুষ ধর্ম-কর্ম ও নেক আমলের দিকে অধিক তৎপর হয় এবং মসজিদের মুসল্লীদের ভীড় অধিকতর হয়। এ রমযান মাসের লাইলাতুল কদরের এক রাতের ইবাদত অপরাপর এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশী অর্থাৎ ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশী সাওয়াব হয় এ মাসের ঐ এক রজনীর ইবাদতে। (ক) আল্লাহ তা’আলা বলেন : {لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ . تَنَزَّلُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ . سَلامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ} অর্থাৎ “কদরের একরাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেশতা আর রূহ (জিরীল আঃ) তাদের রব্ব-এর অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজে দুনিয়ায় অবতীর্ণ হয়। (এ রাতে বিরাজ করে) শান্তি আর শান্তি- তা ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত থাকে।” (সূরা ক্বদর : ৪-৫) (খ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : …..لله فِيْهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حَرُمَ خَيْرُهَا فَقَدْ حَرُمَ “এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল সে মূলতঃ সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল।” এ পুরো মাস জুড়ে দু’আ কবূল হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : لِكُلِّ مُسْلِمٍ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ يَدْعُوْ بِهَا فِيْ رَمَضَانَ (أحمد) অর্থাৎ “এ রমযান মাসে প্রত্যেক মুসলমান আল্লাহর সমীপে যে দু’আই করে থাকে-তা মঞ্জুর হয়ে যায়।” এ মাসে মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : إِنَّ للهَِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عُتَقَاء فِيْ كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ وَإِنَّهُ لِكُلِّ مُسْلِمٍ فِيْ كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ دَعْوَة مُسْتَجَابَة অর্থাৎ মাহে রমাযানে প্রতিরাত ও দিনের বেলায় বহু মানুষকে আল্লাহ তা’আলা জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঘোষণা দিয়ে থাকেন এবং প্রতিটি রাত ও দিনের বেলায় প্রত্যেক মুসলিমের দু’আ- মুনাজাত কবূল করা হয়ে থাকে।
-

কেনো রোজা ভেঙে যায়?
হুজাইফা রহমানঃ
রোজা একটি ফারসি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে দিন। যেহেতু এই আমলটি দিনের শুরু থেকে শেষাংশ পর্যন্ত পালন করা হয় তাই একে রোজা বলা হয়। আর আরবিতে এর নাম সাওম বা সিয়াম। যার শাব্দিক অর্থ কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোজা। ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি সবল মুসলমানের জন্য রমজান মাসের প্রতিদিন রোজা রাখা ফরজ বা অবশ্য পালনীয়। রোজার নিয়ত (নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।) অর্থ: হে আল্লাহ! আগামীকাল পবিত্র রমযান মাসে তোমার পক্ষ হতে ফরয করা রোজা রাখার নিয়ত করলাম, অতএব তুমি আমার পক্ষ হতে কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।
রোজা ভঙের কারণ
১. ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে। ২. স্ত্রী সহবাস করলে। ৩. কুলি করার সময় হলকুমের নিচে পানি চলে গেলে (অবশ্য রোজার কথা স্মরণ না থাকলে রোজা ভাঙবে না)। ৪. ইচ্ছাকৃত মুখভরে বমি করলে। ৫. নস্যি গ্রহণ করলে, নাকে বা কানে ওষুধ বা তেল প্রবেশ করালে। ৬. জবরদস্তি করে কেউ রোজা ভাঙালে। ৭. ইনজেকশান বা স্যালাইনের মাধ্যমে দেহে ওষুধ পৌঁছালে। ৮. কংকর, পাথর বা ফলের বিচি গিলে ফেললে। ৯. সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ইফতার করার পর সূর্যাস্ত হয়নি দেখা গেলে। ১০. পুরা রমজান মাস রোজার নিয়ত না করলে। ১১. দাঁত থেকে মটর দানা পরিমান খাদ্যদ্রব্য বের করে গিলে ফেললে। ১২. ধূমপান, ইচ্ছাকৃত লোবান বা আগরবাতি জ্বালিয়ে ধোঁয়া গ্রহণ করলে। ১৩. মুখ ভর্তি বমি গিলে ফেললে। ১৪. রাত আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর পানাহার করলে। ১৫. মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সুবহে সাদিকের পর জাগরিত হলে।
রোজার মাকরুহ
১. অনাবশ্যক কোনো জিনিস চিবানো বা চেটে দেখা। ২. কোনো দ্রব্য মুখে দিয়ে রাখা। ৩. গড়গড়া করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেয়া। কিন্তু পানি যদি নাক দিয়ে গলায় পৌঁছে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। ৪. ইচ্ছাকৃত মুখে থুথু জমা করে গিলে খেলে। ৫. গীবত, গালা-গালি ও ঝগড়া-ফ্যাসাদ করা। ৬. সাড়া দিন নাপাক অবস্থায় থাকা। ৭. অস্থিরতা ও কাতরতা প্রকাশ করা। ৮. কয়লা চিবিয়ে অথবা পাউডার, পেস্ট ও মাজন ইত্যাদি দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা।
ইফতারের দোয়া
(আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।) অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক দ্বারা ইফতার করছি।
-
চাঁদ দেখা যায়নি, রোজা শুক্রবার
সন্ধ্যায় দেশের কোথাও পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই মুসলমানদের সিয়াম সাধনার (রোজা) মাস রমজান শুরু হচ্ছে শুক্রবার (১৮ মে)। আগামী ১২ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ও ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।
রমজান শেষেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের দেখা মিলবে। এবার শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে।
অন্যদিকে মঙ্গলবার পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যেও বৃহস্পতিবার থেকে রমজান শুরু হচ্ছে।
সভায় ধর্মমন্ত্রী জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সন্ধ্যায় বাংলাদেশের কোথাও হিজরি ১৪৩৯ সনের রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১৭ মে) শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। শুক্রবার থেকে রমজান মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ১২ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে (রমজানের ২৭তম রাত) পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার রাতে (এশার নামাজের পর) ২০ রাকাত বিশিষ্ট তারাবি নামাজ শুরু হবে। রোজা রাখতে শেষ রাতে সেহরি খাবেন মুসলমানরা। ঢাকায় প্রথম দিন সেহরির শেষ সময় রাত ৩টা ৪৬ মিনিট। শুক্রবার প্রথম রোজার দিন ইফতারের সময় ৬টা ৩৯ মিনিট।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি এবং ত্যাগের মাস। রমজান রহমত (আল্লাহর অনুগ্রহ), মাগফেরাত (ক্ষমা) ও নাজাত (দোজখের আগুন থেকে মুক্তি)- এ তিন অংশে বিভক্ত। এ মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী-সহবাস ও যে কোনো ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে রোজা পালন করেন মুসলমানরা।
এ মাসের শেষ অংশে রয়েছে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম কদরের রাত। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, এ মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ পাক ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেন।
সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বি এইচ হারুন, ধর্মসচিব মো. আনিছুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর শেখ মো. আবদুল্লাহ, সিরাজউদদীন আহমেদ, মিসবাহুর রহমান চৌধুরী, ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমাদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. সামছুদ্দিন আহমেদ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, লালবাগ শাহী মসজিদের খতিব মাওলানা আবু রায়হান ও চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
-

চাদঁ দেখা যায়নি, মধ্যপ্রাচ্যে রোজা শুরু বৃহস্পতিবার
সৌদি আরবের আকাশে মঙ্গলবার (১৫ মে) রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ মে) থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে রোজা শুরু হবে। মঙ্গলবার রাতে সৌদি বাদশার উপদেষ্টা তুর্কি আল শেইখ আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিন, সৌদি আরবের আকাশের কোথাও রমজান মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হলো। সে হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে রমজান মাসের তারিখ গণনা শুরু হবে।
এদিকে, রমজান মাসে ইবাদত-বন্দেগি সুন্দর-সুশৃঙ্খল ও নিরবিচ্ছিন্ন করতে মক্কার হারাম শরীফ, মদীনার মসজিদে নববীসহ অন্য মসজিদগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
রোজাদারদের ইফতার করাতে মসজিদের পাশে ছোট-বড় তাবু টাঙানো হয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে করে রোজাদারদের জন্য বিভিন্ন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সিগনালগুলোতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইফতারির প্যাকেট বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে, রমজান উপলক্ষ্যে সুপার মার্কেটগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রে মূল্য ছাড় দিয়েছে।
-

পবিত্র কাবা শরিফের অজানা ৭টি তথ্য
-
কাবা শরিফের সংস্কার : পবিত্র কাবা শরিফ বেশ কয়েকবার প্রাকৃতিক বিপর্যয় বন্যা এবং আক্রমণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতএব কারণে পবিত্র কাবা বেশ কয়েকবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে।
-

কাবার কিসওয়ার (গিলাপ) রং পরিবর্তন : কিসওয়া হলো কালো রংয়ের কাপড়। যা দ্বারা কাবা শরিফ ঢেকে দেয়া হয়। এ কিসওয়া সব সময় কালো ছিল না।
-

কাবার আকৃতি পরিবর্তন : হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আমল থেকেই মূলত পবিত্র কাবা শরিফ আয়তক্ষেত্র আকৃতির ছিল। ইসলামের আগমনের পূর্বে কুরাইশরা যখন পবিত্র কাবাকে পুনঃনির্মাণ করেন।
-

কাবার দরজা-জানালা : মূল কাবা শরিফে দুটি দরজা অন্তর্ভূক্ত ছিল। একটি দরজা ছিল প্রবেশের জন্য অন্যটি ছিল বাহির হওয়ার জন্য। এছাড়াও পবিত্র কাবা শরিফের দেয়ালে একটি জানালাও ছিল।
-

হাজরে আসওয়াদ : পবিত্র কাবা শরিফের কোণে সংযুক্ত ‘হাজরে আসওয়াদ’ কালো পাথরটি বড় ছিল। বর্তমানে এ পাথরটি ভেঙে ৮ টুকরায় বিভিন্ন সাইজে বিভক্ত। যা একটি সিলভার রংয়ের ফ্রেমে একত্র করে কাবা শরিফের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে লাগানো।
-

কাবা শরিফের চাবির জিম্মাদার : এটা আশ্চর্যজনক নয় যে, প্রাক ইসলামি যুগ থেকে এখন পর্যন্ত কাবা শরিফের চাবি একটি পরিবারের কাছেই রয়েছে।
-

কাবা শরিফের পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম : বছরে দুই বার এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়। প্রথমবার করা হয় শাবান মাসের আর দ্বিতীয়বার করা হয় জিলকদ মাসে।
-



