Category: ক্রিকেট

  • ক্রিজে টিকে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ’

    চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে অসাধারণ ব্যাটিং করেও বোলারদের ব্যর্থতায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ দল। সফরকারীদের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি মিরাজ-তাইজুল-মুস্তাফিজরা।

    জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে শনিবার এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রান দিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল। ৬৭.৩ ওভার বোলিং করে ২১৯ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট। পাশাপাশি ১৩টি মেডেন ওভারও করেছেন তাইজুল।

    দিন শেষ সাংবাদিকদের জানালেন চট্টগ্রামে ব্যাট করে টিকে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। উইকেট যে ব্যাটসম্যানদের নেই, তা বলবো না। পঞ্চম দিনে বোলাররা বিভিন্ন জায়গা থেকে বোলিং করে। রাউন্ড দ্যা উইকেটে, ওভার দ্যা উইকেটে। এ কারণে বিভিন্ন জায়গা রাফ হয়ে যায়। একেকটা ব্যাটসম্যানকে একেক দিক থেক আক্রমণ করে। এভাবে রাফ হওয়ার কারণে অনেক সময় খারাপ বলও কঠিন হয়ে যায়। আমার মনে হয়, আমাদের টিকে থাকা কঠিনই হবে। খুব একটা সহজ হবে না। আর স্টাম্প টু স্টাম্প বল করলে তো তাহলে হয়তো সহজ হবে। কিন্তু রাফ জায়গাটা ব্যবহার করলে কঠিন হবে।

    ম্যাচ বাঁচাতে হলে কি করতে হবে এনিয়ে কি ভাবছেন, এমন প্রশ্নে জবাবে এই স্পিনার বলেন, ভাবার অনেক কিছু আছে। আবার কিছুই নেই। আমার মনে হয় আমাদের ম্যাচটা বাঁচাতে হবে। পঞ্চম দিনে কাজটা কঠিন হবে। তারপরও আমাদের ব্যাটসম্যানরা ভালো খেলতে পারে হয়তো। ইনশাল্লাহ আমরা ভালো কিছু করবো।

  • রাজ্জাকের একাদশের বাইরে থাকা নিয়ে যা বললেন সুজন

    রাজ্জাকের একাদশের বাইরে থাকা নিয়ে যা বললেন সুজন

    বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের টেস্ট স্কোয়াডে আবদুর রাজ্জাকের অন্তর্ভুক্তিতে চমকে উঠেছিল সবাই। মূলত, সাকিব আল হাসান ত্রিদেশীয় সিরিজে চোটে পড়ায় জরুরি ভিত্তিতে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাই সবাই মনে করেছিল হয়তো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাদা পোশাকে দেখা যাবে তাকে। কিন্তু না, এমনটা হয়নি। দলে থেকেও মূল একাদশের বাইরে তিনি। আর তাতেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

    এদিকে সাকিবের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে প্রথম টেস্টে দেখা গেছে কোনো টেস্ট না খেলা সানজামুল ইসলামকে। ২৮ বছর বয়সি এই স্পিনার ৩৭ ওভার বোলিং করে মেডেন নিয়েছেন মাত্র ২টি। ৩.৪৫ ইকোনমি রেটে রান দিয়েছেন ১২৮।

    এ ব্যাপারে গতকাল দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন বললেন, ‘রাজ্জাকের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আছে, তবে অনেক দিন সে জাতীয় দলের সেটআপে ছিল না। সানজামুলের প্রতি আমাদের আত্মবিশ্বাস বেশি ছিল। সে সেটআপে ছিল, অনেক দিন ধরে আছে জাতীয় দলের সঙ্গে। রাজ্জাকের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। আমরা ভেবেছি যে সানজামুল হয়তো এই কন্ডিশনে বেশি দিতে পারবে। এখানে অন্য কোনো কারণ নেই।’

    আকস্মিকভাবে রাজ্জাককে ডাকা আনার ব্যাপারে খালেদ মাহমুদ সুজন আরও বলেন, পরিকল্পনা ছিল বলেই রাজ্জাককে নেয়া হয়েছে দলে। হঠাৎ করে নিয়ে আসা হয়নি। তবে দল নির্বাচনে যখন আমরা বসেছি, অধিনায়ক ছিল, আমরা চিন্তা করেছি রাজ্জাককে একটু সময় দেয়া দরকার। আরেকটু কাজ করলে হয়তো ওর জন্য সহজ হবে।

  • আইপিএলে মনের মতো দল গড়লেও হতাশ প্রীতি

    আইপিএলে মনের মতো দল গড়লেও হতাশ প্রীতি

    আইপিএলে এবার একদম ঢেলে দল সাজিয়েছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। সাফল্য পেতে নিলামের টেবিলে মরিয়া ছিলেন প্রীতি জিনতারা। তাই রবিচন্দ্রন অশ্বিন, লোকেশ রাহুল, হরভজন সিংদের মতো জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারদের দলে নিয়েছে তারা।

    তবে মনের মতো দল গড়লেও এখনও আফসোস করছেন প্রীতি জিনতা। নিলামের পরেই কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানেই প্রীতি জিনতাকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘নিলামের পরে যে বিষয়ে আমার খারাপ লেগেছে তা হল সন্দীপ শর্মাকে ধরে রাখতে না পারা। তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা ভীষণ দুঃখজনক ছিল। তবে এটাই দেখে ভাল লাগছে যে নিলামে তার জন্য রীতিমতো যুদ্ধই বেধে গিয়েছিল।’’

    এখানেই না থেমে প্রীতি আরও বলেছেন, ‘‘এটাই প্রমাণ করে যে কঠোর পরিশ্রমী, যার সঙ্গে কাজ করাটাই মজার, সে পুরস্কৃত হবেই। আমরা তাকে হারালেও দিনের শেষে ও কিন্তু বিজয়ী। স্যান্ডি তোমাকে অভিনন্দন, তোমাকে আমি মিস করব।’’

    সন্দীপ শর্মাকে নিলামের টেবিলে ৩ কোটি টাকা দিয়ে কিনে নেয় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। শুধুমাত্র প্রীতি জিনতাই নন, ‘বন্ধু’ হরভজনকে ধরে রাখতে না পেরে একইভাবে হতাশ হয়েছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মালিক নীতা আম্বানীও। ‌‌

  • মাহমদুল্লাহ’র ব্যাটে চড়ে ৫০০ ছাড়াল বাংলাদেশ

    মাহমদুল্লাহ’র ব্যাটে চড়ে ৫০০ ছাড়াল বাংলাদেশ

    চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মাহমদুল্লাহ’র ব্যাটে চড়ে ৫০০ রানের ঘর ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ। এদিন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৫তম অর্ধশতকের দেখা পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশের ‘সাইলেন্ট কিলার’ খ্যাত এ ক্রিকেটার ৯২ বল খেলে ১টি ছক্কা ও ৪টি চারের মারে অর্ধশতক পূর্ণ করেন।

    এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৯ উইকেটে ৫০০ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। উইকেটে আছেন মাহমুদউল্লাহ ৭৭  ও মুস্তাফিজুর রহমান ২ রানে অপরাজিত আছেন।

    এদিেকে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই মুমিনুল হকের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তারপর মোসাদ্দেকও ফিরে গেছেন ব্যক্তিগত ৮ রানে। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ ও মিরাজের দৃঢ়তায় ৪০০ রানের ঘর ছাড়ায় বাংলাদেশ। তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি মিরাজ-মাহমুদউল্লাহর জুটিও। অযথা তৃতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউটের শিকার হন মিরাজ। ব্যক্তিগত ২০ রানে ফিরেন তিনি।

    এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন চার উইকেট হারিয়ে ৩৭৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ১৭৫ ও মাহমুদুল্লাহ ৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন। তবে আজ ১৭৬ রানে ফিরে যান মুমিনুল।

  • বিশ্বাস করি আমরাই এগিয়ে থাকব: মাহমুদুল্লাহ

    চট্টগ্রামে আগামীকাল থেকে মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার টেস্ট সিরিজ। বাংলাদেশকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল জিতে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে টিম শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে, স্বাগতিক টাইগাররাও ছেড়ে কথা বলতে নারাজ।

    ঘরের মাঠে খেলা বলে নিজেদের এগিয়ে রেখেছেন টাইগার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে ফেবারিট হিসেবে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারবো না। শ্রীলঙ্কা টেস্টে ভালো করছে। আমাদের হোম কন্ডিশনে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এবং বিশ্বাস করি আমরা এগিয়ে থাকব। আমি বিশ্বাস করি আমাদের যে টিম ব্যালেন্স আছে…যদিও সাকিব নেই, তারপরও দল ব্যালেন্স আছে। ভালোমানের স্পিনার এবং পেস বোলার আছে। এবং ইতিবাচক ব্যাটসম্যান আছে। আশা করছি আমরা যে কোনো মূহুর্তে ভালো কিছুর আশা করতে পারি।’

    ভালো ফলের জন্য মাহমুদুল্লাহ দলগত পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার মতে, ‘সবাই দলগতভাবে ভালো পারফরম্যান্স করে তাহলে অধিনায়কত্ব করা খুব সহজ হয়ে যায়। আমরা সব সময় দল হিসেবে ভালো পারফর্ম করি। এবারও আমাদের লক্ষ্য থাকবে দলগতভাবে ভালো পারফর্ম করা। ওই জিনিসটা যদি করতে পারি তাহলে আমার জন্য সহজ হয়ে যাবে। দলে কম-বেশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে এবং জুনিয়র ক্রিকেটাররা সবাই বেশ সহায়ক। সেদিক থেকে আমি বলবো আমার জন্য ভালো হবে।’

    উল্লেখ্য, ইনজুরির কারণে দলের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে পাচ্ছে না দল। সাকিবের অভাব পূরণ সম্ভব নয়।

  • মাশরাফিকে জরিমানা

    মাশরাফিকে জরিমানা

    ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে লঙ্কান ওপেনার ধানুশকা গুনাতিলাকাকেও সতর্ক করা হয়েছে।

    তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে আইসিসির কোড অব কন্ডাক্টের ২.১.৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মাশরাফিকে ম্যাচ ফি’র ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।এছাড়া একই সঙ্গে ধানুশকা ও মাশরাফির নামের পাশে ১টি ডি মেরিট পয়েন্ট যোগ হয়েছে।

    ম্যাচ শেষে ম্যাচ রেফারি ডেভিড বোনের কাছে দুই ক্রিকেটারই নিজেদের দোষ শিকার করে নেওয়ায় আর কোনও শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

    উল্লেখ্য, ফাইনাল ম্যাচের লঙ্কান ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে কুসাল মেন্ডিসকে আউট করেন মাশরাফি। তাকে আউট করে উদযাপনটা বেশ কড়াভাবেই করেন মাশরাফি। আর বাংলাদেশ ইনিংসে তামিম আউট হওয়ার পর ধানুশকা তাকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান। ফলে তাকেও শাস্তি দেওয়া হয়।

  • ২ কোটিতে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে সাকিব

    সাকিব আল হাসানের জন্য কেকেআরের সমর্থন বেশি ছিল বাংলাদেশে। প্রথম থেকে কলকাতার হয়ে খেলা সাকিবকে ছেড়ে দিয়েছে শাহরুখ খান। তাই এই বাংলাদেশি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে লুফে নিয়েছে টম মুডির সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।

    এবারের আইপিএলেরের নিলামে সাকিবকে কিনতে লড়াইয়ে নামে রাজস্থান র‍্যায়েলস ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে। শেষ পর্যন্ত ২ কোটিতে তাকে হায়দরাবাদ কিনতে সক্ষম হয়। তাই এবারের আসরে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারকে দেখা যাবে হায়দ্রাবাদের জার্সিতে।

  • ফাইনালে বাংলাদেশের সঙ্গী শ্রীলঙ্কা না জিম্বাবুয়ে? সমীকরণ যা বলছে

    ফাইনালে বাংলাদেশের সঙ্গী শ্রীলঙ্কা না জিম্বাবুয়ে? সমীকরণ যা বলছে

    ত্রিদেশীয় সিরিজে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করা বাংলাদেশ। ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য নিয়মরক্ষার হলেও লঙ্কানদের জন্য জয়ের বিকল্প নেই। যদিও কাছাকাছি হারলে বড় ক্ষতি হবে না। তবে বড় ব্যবধানে হারলেই বিদায় নিতে হবে হাথুরুসিংহের শিষ্যদের। আবার ম্যাচটি ড্র কিংবা পরিত্যক্ত হলে ফাইনালে উঠে যাবে শ্রীলঙ্কা। আর শ্রীলঙ্কা হেরে গেলে দেখা হবে নেট রানরেট। কারণ তখন দু’দলেরই পয়েন্ট হবে ৪।

    এখন পর্যন্ত যে অবস্থা সেখানে জিম্বাবুয়ের থেকে নেট রান রেটে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের যেখানে -০.৯৮৯, সেখানে নেট রান রেট -১.০৮৭। ফলে বাংলাদেশে যদি আজ প্রথমে ব্যাট করে ২৫০ বা ৩০০ রান করে এবং ৬৯ রানের বেশি ব্যবধানে জেতে তাহলে বাদ পড়বে শ্রীলঙ্কা। তবে বাংলাদেশ ২০০ রান করলে লঙ্কানদের ১৩৪ রান করলেই হবে। তখন জিম্বাবুয়ের আশা শেষ হয়ে যাবে। আবার লঙ্কানরা যদি আগে ব্যাটিং করে ২০০ রানের বেশি করে এবং বাংলাদেশ সেই রান যদি ৩৭.৪ ওভারের মধ্যে পেরিয়ে যায় তাহলে আর ফাইনাল খেলা হবে না লঙ্কানদের। তখন আগামী ২৭ জানুয়ারি ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা যাবে জিম্বাবুয়েকে।

  • হাথুরুর লঙ্কাকে বিশাল ব্যবধানে হারাল টিম টাইগার

    হাথুরুর লঙ্কাকে বিশাল ব্যবধানে হারাল টিম টাইগার

    শংকা ছিল সদ্য সাবেক হওয়া প্রধান কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে টাইগারদের সব নাড়ি নক্ষত্র লঙ্কান ক্রিকেটারদের কাছে ফাঁস করে দিয়েছেন। কিন্তু হাথুরুর একসময়ের সহকারী রিচার্ড হ্যালসল রেগেমেগে আসল সত্যটা বলেছিলেন, মাঠে তো আর হাথুরু গিয়ে খেলে আসবেন না। সেই সত্যই বাস্তবে রচিত হল আজ। মাশরাফি বাহিনীর কাছে ১৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেল প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হারা শ্রীলঙ্কা। টাইগারদের টানা দুই ম্যাচ জয়ের বিপরীতে টানা দুই ম্যাচ হারল হাথুরুসিংহের শিষ্যরা।

    ৩২১ রানের বিশাল টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ২ রানেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। ব্যাট হাতে ‘ডাক’ মারলেও তৃতীয় ওভারেই কুশল পেরেরাকে (১) সরাসরি বোল্ড করে দেন অল-রাউন্ডার নাসির হোসেন। এরপর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন অপর ওপেনার উপুল থারাঙ্গা এবং উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নিরোশান ডিকাভেলা। দলীয় ৪৩ রানে থারাঙ্গাকে (২৫) ফিরিয়ে প্রতিরোধ ভাঙেন অধিনায়ক মাশরাফি।

    লঙ্কানদের তৃতীয় উইকেটেরও পতন ঘটান মাশরাফি। তিন নম্বরে নামা কুশল মেন্ডিসকে রুবেল হোসেনের তালুবন্দি করেন টাইগার ক্যাপ্টেন। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নিরোশান ডিকাভিলাকে (১৬) দারুণ একটি শর্ট লেন্থ ডেলিভারিতে বোল্ড করে প্রথম শিকার ধরেন মুস্তাফিজ। অধিনায়ক চান্ডিমালকে (২৮) অসাধারণ দ্রুততায় সাকিব রান-আউট করে দিলে মহাবিপদে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা।

    এরপর লংকান শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ২৬তম ওভারে পরপর দুই বলে তিনি ফিরিয়ে দেন অ্যাশরে গুনারত্নে (১৬) এবং ভানিদু হাসরাঙ্গাকে (০)। টাইগারদের জয়টা তখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ৭ নম্বরে নেমে ১৪ বলে ২৯ করা থিসারা পেরেরাকে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি করে তৃতীয় শিকার ধরেন সাকিব। রুবেলের বলে বোল্ড হয়ে যান লাকমল (১)। আকিলা ধনঞ্জয়া (১৪) রুবেলের বলে সাকিবের তালুবন্দি হতেই ৩২.২ ওভারে ১৫৭ রানেই অল-আউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।

    এর আগে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩২০ রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। দলকে চমৎকার সূচনা এনে দেন তামিম ইকবাল এবং এনামুল হক বিজয়। শুরুতেই ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়ার পর তামিমের সঙ্গে ৭১ রানের জুটি গড়েন বিজয়। অতঃপর ৩৭ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ৩৫ রান করে থিসারা পেরেরার বলে উইকেটকিপার নিরোশান ডিকাভেলার গ্লাভসবন্দি হন এনামুল।

    তবে ৭২ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ক্যারিয়ারের ৪০তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। হাফ সেঞ্চুরির পর হাত খুলতে শুরু করেন তামিম। টার্গেট দশম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ৮৪ রানেই থামতে হল তাকে। আকিলা ধনঞ্জয়ার বলে ডিকাভেলার গ্লাভসবন্দি হওয়ার আগে ১০২ বলের ইনিংসে মেরেছেন ৭টি চার এবং ২টি ছক্কা। সাকিবের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে তার জুটি ৯৯ রানের।

    তিন নম্বর পজিশনের মান রেখে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব। অষ্টম সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যেতে যেতে গুনারত্নের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে থামতে হল তাকে। আউট হওয়ার আগে  সাকিবের সংগ্রহ ৬৩ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৬৭ রান। অপর প্রান্তে হাত খুলে খেলছিলেন মুশফিক। ৩ চার ১ ছক্কায় ক্যারিয়ারের ২৮তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিলেন ৪২ বলে। ভায়রা ভাই মাহমুদ উল্লাহ তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে ২৩ বলে ২৪ রান করে নুয়ান প্রদিপের শিকার হন তিনি।

    মুশফিকের সঙ্গী হন সাব্বির। ৫২ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ওভার বাউন্ডারিতে ৬২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে থিসারা পেরেরার ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে যান মুশফিক। ২৮৪ রানে দল তখন দারুণ পজিশনে। অধিনায়ক মাশরাফি উইকেটে এসে বাউন্ডারি হাঁকালেও ৬ রানের বেশি করতে পারেননি। নাসির ফিরেন ‘গোল্ডেন ডাক’ মেরে। তবে শেষের দিকে সাব্বিরের (২৪*) ব্যাটিং দাপটে স্কোর ৩০০ ছাড়িয়ে যায়। সুরঙ্গা লাকমলের করা শেষ ওভারে সাব্বির-সাইফ নেন ১৯ রান। টাইগারদের স্কোর দাঁড়ায় ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩২০ রান।

  • মুস্তাফিজ ও মুশফিককে নিয়ে যা বললেন সাকিব

    মুস্তাফিজ ও মুশফিককে নিয়ে যা বললেন সাকিব

    মিরপুরে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় দিয়ে বছর শুরু করেছে বাংলাদেশ। ৮ উইকেটের বড় জয়ে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ৩ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি করেছেন ৩৭ রান। আর তাই দিন শেষে ম্যাচ সেরার পুরস্কারটা তার হাতেই উঠল।

    অবশ্য জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে মুশফিক, তামিম ও মুস্তাফিজকে ক্রেডিট দিতে ভুলে যাননি টেস্ট স্কিপার।

    মুশফিকের উইকেট কিপিং প্রসঙ্গে সাকিব বলেন- আমার মনে হয় মুশফিক ভাই ভালো পিক করেছে। কারণ ডাউন দ্য লেগে যে কোনো কিপারের জন্য ক্যাচ ধরা কঠিন। আজকে উনার দিনটা ভালো ছিল। বেশকিছু ক্যাচও ধরেছেন তিনি।

    মুস্তাফিজের পারফরম্যান্সেও মুগ্ধ সাকিব বললেন- ‘মুস্তাফিজ সব সময়ই ভালো বোলিং করেছে। একজন মানুষ সব ম্যাচে উইকেট পাবে, এটা সম্ভব নয়। আমি মনে করি মুস্তাফিজ সব সময়ই ভালো বোলিং করে। এই ম্যাচেও ভালো করেছে।’.

    এছাড়া এদিন তামিম ইকবালের ৮৪ রানে ইনিংস, রুবেল হোসেনের ১০০ উইকেট প্রাপ্তি, সানজামুলের বোলিং ও অধিনায়ক মাশরাফির প্রশংসাও করেন সাকিব।