Category: নারী ও শিশু

  • বান্ধবীর বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে কলেজছাত্রীর ‘আত্মহত্যা’”

    তানজিল ‍ শুভ

    বরিশালে বান্ধবীর বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে এ্যানিটা (১৭) নামে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেল সাড়ে ৫টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ্যানিটার মৃত্যু হয়। বিষয়টি জানিয়েছেন হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের ইউনিট-১ এর চিকিৎসক ডা. নাহিদ। আত্মহননকারী এ্যানিটা বরিশাল নগরের ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের বাসিন্দা মাইকেলের মেয়ে এবং সরকারি বরিশাল কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে নগরের বটতলা আদমআলী হাজী গলির চারতলা বিশিষ্ট আরআর ম্যানশনের ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে তিনি আত্মহননের চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিক তাকে মুমুর্ষু অবস্থায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

    কলেজছাত্রীর বান্ধবী আরআর ম্যানেশনের ভাড়াটিয়া স্বপনের মেয়ে শ্রেয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুপুরে এ্যানিটা তার বাসার সামনে এসে কল দেয়। বাথরুমে থাকায় ফোন ধরতে না পারায় এ্যানিটা ঘরে না ঢুকে সরাসরি চতুর্থ তলায় ছাদে চলে যায়।’ তিনি বলেন, ‘বাথরুম থেকে বের হয়ে ঘরে গিয়ে মোবাইলে এ্যানিটার একটি এসএমএস দেখে দেরি না করে দ্রুত দৌড়ে ছাদে চলে যাই। কিন্তু পৌঁছানোর আগেই এ্যানিটা ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে যায়। তবে তার মোবাইলটি ছাদেই পড়ে ছিলো।

    এ বিষয়ে কোতয়ালি মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার (উপ-পরিদর্শক) সত্য রঞ্জন খাসকেল বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাস্থলে অফিসারও পাঠানো হয়েছে। তবে এটি সত্যিই আত্মহত্যা, নাকি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তা তদন্তসাপেক্ষে বেরিয়ে আসবে।’””””!

  • স্ত্রীর বড় বোনকে দফায় দফায় ধর্ষণ, ভগ্নিপতি গ্রেফতার

    স্ত্রীর বড় বোনকে দফায় দফায় ধর্ষণ, ভগ্নিপতি গ্রেফতার

    রাজবাড়ীর কালুখালীতে স্ত্রীর বড় বোনকে ধর্ষণের অভিযোগে এরশাদ মণ্ডল (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের গেট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এরশাদ কালুখালী উপজেলার দামুকদিয়া গ্রামের বকু মণ্ডলের ছেলে।

    কালুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খান বেল্লাল হোসেন জানান, ১৩ নভেম্বর এরশাদের স্ত্রীর বড় বোন কালুখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, তার স্বামীর বাড়ি ও তার ছোট বোনের স্বামী এরশাদের বাড়ি একই গ্রামে। তাদের বাড়িতে এরশাদ যাতায়াত করতো। এক পর্যায়ে এরশাদ তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ৫ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে এরশাদ তাকে ধর্ষণ করে। এসময় তার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। এর আগেও গত ৮ আগস্ট রাত ১০টার দিকে এরশাদ তার স্ত্রীর বড় বোনকে ধর্ষণ করেন।

  • প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে তরুণীকে পুড়িয়ে মারল যুবক

    প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে তরুণীকে পুড়িয়ে মারল যুবক

    প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে তরুণীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারল এক বখাটে যুবক। চেন্নাইয়ের আড়মবক্কম এলাকার সরস্বতীনগরে এই ঘটনা ঘটে।

    দীর্ঘদিন ধরে ২২ বছরের ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করত আকাশ। কলেজ ড্রপ আউট আকাশের প্রস্তাবে রাজি হননি তরুণী। সম্প্রতি আকাশ জানতে পারে ওই তরুণীর বিয়ে ঠিক করেছে তার পরিবার।

    এরপরই সোমবার কেরোসিন নিয়ে ওই তরুণীর বাড়িতে যায় আকাশ। তরুণীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় সে। চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা আকাশকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তরুণীকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর জখম হন তার মা ও বোন।

  • এক বছরের ভালোবাসা ,বিয়ের পরদিন শেষ

    এক বছরের ভালোবাসা ,বিয়ের পরদিন শেষ

    এক বছর ধরে ভালোবাসার সম্পর্কের পর পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে আমার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রিফাতুজ্জামান রিফাতের। কিন্তু বিয়ের পরদিনই রিফাতের ভালোবাসা শেষ হয়ে যায়। বিয়ের পরদিন রিফাত থানায় আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করে জানিয়েছে, তাকে নাকি আমি জোর করে বিয়ে করেছি। আমি এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দিয়ে সমাধান চেয়েছি।

    এদিকে, সাতক্ষীরা থানা পুলিশের ওসি (আইসিটি) মহিদুল ইসলাম আমাকে বলেছেন, তুমি দুই লাখ টাকা নিয়ে ওকে ডিভোর্স দাও। আর সাতক্ষীরা সদরের এমপির ভাই মাহি আলমও একই কথা বলে আমাকে চাপ দিচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে ওসি মহিদুল ইসলাম জানান, তিনি এ ধরনের কোনো কথা ওই মেয়েকে বলেননি। তদন্তের জন্য রিপার সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন সাতক্ষীরা সদরের লাবসা গ্রামের সাবিনা ইয়াসমীনের মেয়ে নাজমা সুলতানা রিপা। তার স্বামী রিফাত কালিগঞ্জ উপজেলার ঘুষুড়ি রাজাপুর গ্রামের আসাদ গাজির ছেলে। তিনি বর্তমানে সাতক্ষীরা ফায়ার স্টেশনে চাকরি করেন।

    রিপা বলেন, গত ৬ অক্টোবর রিফাতের সঙ্গে আমার বিয়ের একদিন পর থানায় অভিযোগ দেয় রিফাত। এদিকে, দুই লাখ টাকা নিয়ে পুলিশের মীমাংসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্বামী রিফাত ১৫ অক্টোবর রিপাকে পিটিয়ে ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ ঘটনার পর গত কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে রিপা আরও বলেন, আমি আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করি রিফাতের বিরুদ্ধে। আদালত সাতক্ষীরা থানাকে একটি এফআইআর করার নির্দেশ দেন। থানায় রেকর্ডকৃত মামলা নম্বর ৭৪।

    এরই মধ্যে স্বামী রিফাতের দেয়া মামলায় রিপার মামলার সাক্ষী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ও ম্যারেজ রেজিস্ট্রার মো. সাইদুজ্জামানসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। তার ম্যারেজ রেজিস্ট্রার সাইদুজ্জামানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, রিফাতের বিরুদ্ধে মামলা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি। বরং রিফাতের দেয়া মামলায় রিপার পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কেউ কেউ জামিনে রয়েছেন।

    এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের অফিসে ২৪ অক্টোবর তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। তাতেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানান রিপা। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে রিপার মা সাবিনা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।

  • মা-ছেলেকে হত্যা : তৃতীয় স্ত্রীর জবানবন্দি, স্বামী কারাগারে

    রাজধানীর কাকরাইলে মা ও ছেলেকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার নিহতের স্বামী আবদুল করিমের তৃতীয় স্ত্রী শারমীন মুক্তা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপরদিকে করিমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

    মঙ্গলবার দুই দফা রিমান্ড শেষে তাদের ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানার পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) আলী হোসেন। এসময় করিমকে কারাগারে আটক রাখার ও তার তৃতীয় স্ত্রীর জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন তিনি।

    আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব আসামি শারমীন মুক্তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এবং ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল হক আসামি করিমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    এর আগে ১০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আমিরুল হায়দার চৌধুরী প্রত্যেককে তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৩ নভেম্বর ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম তাদের ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    উল্লেখ্য, ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় কাকরাইলের আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম রোডের ৭৯/এ বাড়িতে মা ও ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন শামসুন্নাহার (৪৫) ও তার ছেলে শাওন (ও লেভেল শিক্ষার্থী)। নিহতের স্বামী আবদুল করিম পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী। তিনি আদা-রসুন-পেঁয়াজের আমদানিকারক।

    এ ঘটনায় ২ নভেম্বর নিহত শামসুন্নাহারের ভাই আশরাফ আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে নিহতের স্বামী আব্দুল করিম, তার তৃতীয় স্ত্রী শারমীন মুক্তা, মুক্তার ভাই জনিসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে। মামলার পর নিহতের স্বামী আব্দুল করিম ও তার তৃতীয় স্ত্রী শারমীন মুক্তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

  • বরিশালে ভারপ্রাপ্ত কারা ডিআইজি সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

    বরিশালে ভারপ্রাপ্ত কারা ডিআইজি সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

    বরিশাল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কারা ডিআইজি ও বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার আজিজুল হক সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ দায়ের হয়েছে । ১৩ নভেম্বর সোমবার এক মহিলা কারারক্ষী বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমণ ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগ দায়ের করেন। এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমনের মাধ্যমে কারারক্ষী সাম্মি আকতার অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে কারা সুপার আজিজুল হক সহ তার অপকর্মের সহযোগী কারারক্ষী নিজাম ও শেখ ফরিদকে অভিযুক্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে সাম্মি বলেন, নিজামের বাড়ি বরিশাল হওয়ার পরেও সুপারের সহায়তায় তিনি বরিশাল কারাগারে চাকুরী করে। কারা সুপার আজিজুলের স্ত্রী ঢাকায় চাকুরী করায় আজিজুল বরিশালে বাসায় একা থাকে।সাম্মী ঢাকা থেকে বদলী হয়ে গত ১২ জানুয়ারি বরিশালে এসে সুপারের কাছে রিপোর্ট করে। আজিজুল ১৫ জানুয়ারি সাম্মিকে ঝালকাঠি জেলা কারাগারে পোষ্টিং দেয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রেষণে বরিশাল কারাগারে এনে কারাভ্যন্তরে কোন দায়িত্ব না দিয়ে বন্দী সাক্ষাত স্লিপ কাটার দায়িত্ব দেয়। প্রায়ই আজিজুল তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে। এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অন্যত্র বদলী ও চাকুরী হারাবার ভয় দেখিয়ে সরাসরি কুপ্রস্তাব দেয় এবং যৌন নিপীড়ন করে। লোকলজ্জা ও ইজ্জতের ভয়ে বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করলেও আজিজুল আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত ১৮ অক্টোবর রাত ৯ টায় অভিযুক্ত নিজাম ও শেখ ফরিদ তার বাসায় এসে বন্দী সাক্ষাৎ স্লিপের হিসেব দেয়ার জন্য সুপার বাসায় ডাকে বলে জানায়। বাসায় যেতে রাজী না হলে নিজাম ও ফরিদ জোরাজুরি করে চাকুরীর ক্ষতি করার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে সাম্মী অভিযুক্তদের সাথে কারাগারের পাশে আজিজুলের বাসায় যায়। নিজাম ও ফরিদ বাহিরে পাহারায় থাকে। আজিজুল তাকে জোড়পূর্বক ধর্ষণ চেষ্টা করে। ডাক চিৎকার দিলে অন্য কারারক্ষীরা ছুটে আসলেও উর্দ্ধতন কতৃপক্ষ হওয়ায় কেহ আজিজুলের বাসায় যেতে সাহস পায়নি। দুএকজন যাওয়ার চেষ্টা করলে নিজাম ও ফরিদের বাধা পেয়ে ফিরে যায়। সাম্মি ধস্তাধস্তি করে খাট থেকে নিচে পড়ে বুকে আঘাত পেয়েও দৌড়ে নিজের বাসায় চলে আসে। ২০ অক্টোবর শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কারা সুপার সাম্মিকে অন্যত্র বদলী ও চাকুরী খেয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। একইসাথে জেলার বদরুদ্দোজাকে বাসভবন তালা মেরে রাখার নির্দেশ দেয়। জেলার সাম্মির বাসায় তালা মেরে রাখে। সাম্মি নিজ বাসায় যেতে পারছেনা। এভাবে অভিযোগ দাখিলের পর আদালত অভিযোগ শুনানীর জন্য রেখে দেন বলে আদালত সূত্র জানায়।

  • বাবা-মা কালো, তবে ছেলে কেন ফর্সা? সন্দেহবশত ছেলেকে খুন!

    বাবা-মা দু’জনের গায়ের রঙ কালো। তবু সন্তান ফর্সা।

    আর সেটাই কাল হল। বাবার হাতে প্রাণ গেল ওই শিশুপুত্রের। ভারতের বজবজে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেশীদের অভি‌যোগ, ছেলে ফর্সা হওয়াতেই সন্দেহের বশে তাকে খুন করেছে বাবা।

    শুনতে আশ্চ‌র্য লাগলেও বজবজের এম এন সরকার রোডের বাসিন্দা শেখ ফিরোজের বিরুদ্ধে সন্তান হত্যার অভি‌যোগ উঠেছে। প্রতিবেশীদের অভি‌যোগ, সন্তান জন্মের পর থেকেই স্ত্রীর উপরে অত্যাচার করত শেখ ফিরোজ। সন্তান তার নয়, এই ছিল তার মূল অভি‌যোগ। মাঝেমধ্যেই সেই অত্যাচার চরমে উঠত।

    রবিবার রাতে ছেলেকে লেপ মুড়ি দিয়ে শুইয়ে রেখেছিলেন মা।

    অভি‌যোগ, তখনই তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে ফিরোজ। তবে বাড়ির লোকজনের দাবি, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা লাগা ও সর্দির কারণে শ্বাস আটকে মারা গেছে ওই শিশু।

    মৃত শিশুর মা ফিরোজার মুখেও একই দাবি। সংবাদ মাধ্যমে ফিরোজা জানান, ‘ছেলে ফর্সা হওয়ায় ফিরোজ আমার সঙ্গে ঝগড়া করতো। বলতো আমি কালো আর আমার ছেলে ফর্সা হয় কী করে? ও আমার ছেলে নয়। তুই এখানে থাকবি না, বাপের বাড়ি চলে ‌যা। গতকাল দুপুরেও ঝগড়া হয়। ‘

    প্রতিবেশীদের আরও অভি‌যোগ, রবিবার দুপুরেও ওই শিশুকে খুন করার হুমকি দেয় ফিরোজ। ফলে তার প্রতি সন্দেহ আরও জোরাল হচ্ছে। সোমবার দুপুরে আড়াই মাসের ওই শিশুপুত্রের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে ‌যায় বজবজ থানার পুলিশ।

    ঠিক কী কারণে মৃত্যু তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

  • খুলনায় ২২ দিনে ইভটিজিংয়ের শিকার ৩ ছাত্রীর আত্মহত্যা

    খুলনায় ২২ দিনে ইভটিজিংয়ের শিকার ৩ ছাত্রীর আত্মহত্যা

    শেখ সুমন

    খুলনায় দিন দিন বেড়ে চলেছে বখাটের দৌরাত্ম্য। ২২ দিনের ব্যবধানে খুলনা মহানগরী, দাকোপ ও বাজুয়া ইউনিয়নে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে ৩ ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে এসব ছাত্রীদের উত্যক্ত করতো বখাটেরা। এমন ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।

    জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর রাতে মহানগরীর হরিণটানা বাগমারা এলাকায় বখাটেদের হুমকিতে আত্মহননের পথ বেছে নেয় মেধাবী স্কুলছাত্রী সামছুন্নাহার চাঁদনী। ওই রাতে বখাটেরা বাড়িতে এসে তাকে অপহরণের চেষ্টা করেছিল। একইভাবে বখাটের নির্যাতনে ৬ নভেম্বর দাকোপ সরকারি এল বি কে মহিলা কলেজের ছাত্রী জয়ী মন্ডল ও ২৭ অক্টোবর বাজুয়া এসএন ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী বন্যা রায় আত্মহত্যা করেন। এছাড়া ২ নভেম্বর দুপুরে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ইভটিজিংয়ের শিকার খুলনা আযমখান কমার্স কলেজের আরেক ছাত্রী। এসব ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে থানায় ৩টি মামলা হয়েছে।

    নারীবাদী সংগঠন খুলনা প্রগতিশীল নারী সমাজের সদস্য সচিব সুতপা বেদজ্ঞ জানান, সহজলভ্য ইন্টারনেটের যথেচ্ছ ব্যবহার ও রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। বখাটেদের উৎপাত বন্ধ করার জন্য তিনি এসব অপরাধীদের দ্রুত কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

    এদিকে সর্বশেষ ১২ নভেম্বর খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় ইভটিজিংয়ের ঘটনা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসানের সভাপতিত্বে ওই সভায় বখাটেদের দৌরাত্ম্য ও তৎপরতা রুখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ আরেফ জানান, জনগণ এগিয়ে না এলে পুলিশের একার পক্ষে ইভটিজিং নির্মূল করা কঠিন। ইভটিজিং প্রতিরোধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

  • গৌরনদীতে সৎ মায়ের নির্যাতন

    গৌরনদীতে সৎ মায়ের নির্যাতন

    সৎ মায়ের অমানুষিক নির্যাতনে একটি কানের অর্ধেক ছিড়ে ঝুলে গেছে শিশু সাইমুনের (৮)। হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে জেলার গৌরনদী উপজেলার টরকী নবীনগর গ্রামে। জানা গেছে, ওই গ্রামের হালিম হাওলাদারের প্রথম স্ত্রী ছয়বছর পূর্বে মারা যায়। এরপর সাথী বেগমকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন হালিম। সৎ মা সাথীর জ্বালাতনে অতিষ্ঠ হয়ে হালিম তার প্রথম স্ত্রীর পুত্র সাইমুনকে কসবা শরীফবাড়ি নূরানী মাদ্রাসার ভর্তি করে সেখানকার বোর্ডিংয়ে রাখেন। দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্র সাইমুন জানায়, শুক্রবার বিকেলে সে বাড়িতে এসে ওইদিন রাতে বাড়িতে থাকায় তার সৎ মা তাকে গালিগালাজের একপর্যায়ে অমানুষিক নির্যাতন করে। এতে তার একটি কানের অর্ধেক ছিড়ে ঝুলে যায়। এসময় সাইমুনের চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে শিশু সাইমুনের পিতা হালিম বাড়িতে পৌঁছে স্থানীয় এক চিকিৎসকের মাধ্যমে সাইমুনের চিকিৎসা করায়। সৎ মা কর্তৃক শিশুকে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনায় ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • শরীয়তপুরে ৬ নারীকে ধর্ষণ করে ভিডিও ছড়ালেন ছাত্রলীগ নেতা!

    শরীয়তপুরে ৬ নারীকে ধর্ষণ করে ভিডিও ছড়ালেন ছাত্রলীগ নেতা!

    শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন হাওলাদারের (২২) বিরুদ্ধে ৬  নারীর আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

    জানা যায়, প্রথমে গ্রামের এক গৃহবধূর গোসলখানায় গোপন ক্যামেরা লাগিয়ে রাখেন তিনি।

    এরপর ভিডিও দেখিয়ে তাকে ফাঁদে ফেলে তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। সে ঘটনাও গোপনে ভিডিও ধারন করেন আরিফ। পরে সেই ভিডিও এলাকার মানুষের হাতে এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন তিনি। এ ভাবে প্রতারণা করে ছয় জন নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন তিনি।   ওই নারীদের ধর্ষণের দৃশ্যর ভিডিও গ্রামের মানুষের মুঠোফোনে ছরিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আপত্তিকর ওই ভিডিও ও ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছরিয়ে পরেছে।

    স্থানীয় গ্রামবাসী জানায়, আরিফ ভেদরগঞ্জ উপজেলার ফেরাঙ্গিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। সে স্থানীয় একটি কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র। ২০১৫ সালের জুন মাসে তাকে নারায়নপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়।

    সে প্রতারণা করে যাদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ভিডিও ধারণ করেছে তাদের মধ্যে দু‘জন স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্রী, দু‘জন গৃহবধূ এবং বাকি দু‘জনের পরিচয় এখনও জানা সম্ভব হয়নি।

    গত ১৫ অক্টোবর থেকে ওই নারীদের সাথে আরিফের ধর্ষণের ভিডিও গ্রামের যুবক ও তরুণদের মুঠোফোনে ছড়িয়ে পরে। ১৭ অক্টোবর থেকে ওই ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে ছড়াতে থাকে।
    ভুক্তভোগী নারীরা লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি নিয়ে কোন মামলা করেননি। এদের মধ্যে একজন গৃহবধূর স্বামী প্রবাশে থাকেন। ওই নারীর শ্বশুর-শাশুরী তাকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। আরেক গৃহবধূ গ্রাম থেকে চলে গেছেন।   কলেজ ছাত্রীরা লোকলজ্জার ভয়ে কলেজে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন।

    ভুক্তভোগী এক গৃহবধূর বোন বলেন, আমার বোনের কম বয়স। আরিফের প্রতরণার ফাঁদে পড়েছে। তাকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেছে। ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে কয়েকদফায় অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আতঙ্কে ও লোক লজ্জার ভয়ে এখনও মামলা করিনি।

    ভুক্তভোগি এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, আরিফ আমাকে শেষ করে দিয়েছে। এখন সমাজে কিভাবে মুখ দেখাব। মরে যাওয়া ছারা কোন পথ রইল না।

    নারায়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন তালুকদার বলেন, কোন সুস্থ মস্তিস্কের মানুষ এ কাজ করতে পারেনা। এ ঘটনাটি এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক ঘৃনা ও নিন্দার সৃষ্টি করেছে। আমি আরিফের বাবাকে নিদের্শ দিয়েছি তাকে হাজির করার জন্য। বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ ও আওয়ামী লীগের নেতাদের জানানো হয়েছে। তাকে পাওয়া গেলে সামাজিকভাবে বিচার করা হবে।

    ভেদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাগ রাড়ী  বলেন, আরিফ এমন চরিত্রহীন মানুষ এটা আমাদের জানা ছিলনা। সে একাধিক নারীর সাথে প্রতারণা করে ভিডিও ধারণ করেছে তা ক্ষমা করা জায়না। এঘটনা জানার সথে সাথে আমরা ওই এলাকায় খোঁজ খবর নেই। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে সকল ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেই। আর আরিফ হোসেনকে শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

    ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মেহেদি হাসান বলেন, ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক মেয়েদের ধর্ষণের ভিডিও ছরিয়ে দেয়ার বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ না পাওয়া গেলে কিভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    জানতে চাইলে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভেদরগঞ্জের ছাত্রলীগের নেতা যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা বড় ধরনের একটি সাইবার ক্রাইম। পুলিশ অভিযুক্ত ওই ছেলেকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। যে কোন উপায়ে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।