Category: প্রচ্ছদ

  • বরিশালের ৫৩ চেয়ারম্যান পলাতক, সেবা ব্যাহত

    বরিশালের ৫৩ চেয়ারম্যান পলাতক, সেবা ব্যাহত

    অনলাইন ডেস্কঃ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন বরিশালের ৫৩ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সেই সাথে বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর ও মামলার শিকার হয়েছেন ১৩ জন চেয়ারম্যান।

    আবার কোথাও কোথাও চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। যদিও আত্মগোপনে থাকা অনেক ইউপি চেয়ারম্যানরা গোপনে অফিসে গিয়ে স্বাক্ষর করে আসছেন, কেউ বা সচিবের মাধ্যমে বিভিন্ন ফাইল নিয়ে তাতে স্বাক্ষর করছেন।

    আবার কেউ কেউ গোপনে অফিসে এসে ছবি তুলে গোপনেই চলে যাচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যানের দাবী হামলা মামলার ভয়ে তারা প্রকাশ্যে আসছেন না। সেক্ষেত্রে জেলার ৮৮ জন ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে মাত্র ২৯ জন স্বশরীরে পরিষদে এসে দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার ১০ উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও নারী ইউপি সদস্য মিলে সহস্রাধিক জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরে জেলার বেশিরভাগ নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিয়েছেন।

    কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন সুবিধামত স্থানে। নিজ কার্যালয়ে আসছেন না অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি। এতে জন্মসনদ, মৃত্যুনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ কোনা প্রকার সেবা পাচ্ছে না নাগরিকরা।

    আলী আশরাফ নামে কলসকাঠি ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে জন্মনিবন্ধনের কাজে পরিষদে আসলেও চেয়ারম্যান-মেম্বার কাউকে পাইনি।

    জরুরি প্রয়োজন থাকলেও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের জন্য ভোগান্তিতে পড়েছি। বিষয়গুলো বিবেচনা করে সাধারণ নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে দ্রুত একটি নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।

    আবুল কালাম নামে আরেক সেবাপ্রার্থী বলেন, জানিনা কতদিন আমাদের এভাবে ভোগান্তি পোহাতে হবে। সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে দ্রুত কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি করছি। এদিকে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদে সচিব ও উদ্যোক্তাদের দেখা গেছে।

    জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন বাপ্পি অফিসে আসেন না, রয়েছেন আত্মগোপনে।

    একই অবস্থা আন্দারমানিক ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খোকন, বিদ্যানন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহে আলম মীর, চাঁনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বাহাউদ্দিন ঢালী, গোবিন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান বেল্লাল মোল্লা, চরএককরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আঃ মকিম তালুকদার, চরগোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সামছুল বারী (মনির), জাংগালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাদের ফরাজী, মেহেন্দিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মেঃ হারুন-অর-রশীদ ও জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনির হাওলাদারের।

    এছাড়া উপজেলার লতা ইউপি চেয়ারম্যান আবু রাশেদ মনি’র বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    মামলা নিয়ে পালাতক অবস্থায় রয়েছেন উলানিয়া (দক্ষিণ) ইউপি চেয়ারম্যান মিলন চৌধুরী ও উলানিয়া (উত্তর) ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল ইসলাম জামাল মোল্লা।

    এছাড়া এই উপজেলার ভাসানচর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম চুন্ন অসুস্থ থাকায় তিনি পরিষদে আসতে পারছেন না। উপজেলার দড়িচরখাজুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা রাড়ি গত এক সপ্তাহ আগে স্টক করে ইন্তেকাল করেছেন।

    উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইফসুফ হাওলাদারের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। তিনি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    সাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদার সম্প্রতি মাছের ঘের নিয়ে দ্বন্দের জেরে ঘটে যাওয়া ডাবল হত্যা মামলার আসামী হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

    এ ছাড়া আত্মগোপনে রয়েছেন বরাকোটা ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট মো: সহিদুল ইসলাম মৃধা, গুঠিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো: আওরাঙ্গজেব, হারতা ইউপি চেয়ারম্যান অমল মল্লিক, জল্লা ইউপি চেয়ারম্যান বেবী রাণী দাস, ওটরা ইউপি চেয়ারম্যান এম.এ. খালেক ও শোলক ইউপি চেয়ারম্যান সরদার আব্দুল হালিম। তবে উপজেলার শিকারপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল মাঝি অসুস্থ থাকায় তিনিও পরিষদে যেতে পারছেন না।

    বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নুরে আলমের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এ ছাড়া উপজেলার মাধবপাশা ইউপি চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমান বরিশাল জেলা বিএনপির অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় পালাতক অবস্থায় রয়েছেন।

    স্বশরীরে পরিষদে আসছেন না জাহাঙ্গীরনগর (আগরপুর) ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল আহসান খান, চাঁদপাশা ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, দেহেরগতি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মশিউর রহমান।

    তবে নিয়মিত অফিস করছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আক্তার-উজ-জামান মিলন। তার দাবী, সব সহ্য করে তিনি পরিষদ পরিচালনা করছেন।

    বানারীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আঃ জলিল ঘরামী হামলা ভাংচুরের শিকার হয়েছেন। মামলা খেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন চাখার ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মুজিবুল ইসলাম টুকু।

    এছাড়া আত্মগোপণে রয়েছেন বিশারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম শান্ত, ইলুহার ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম। তবে উদয়কাঠি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রাহাদ আহম্মেদ ননি আমেরিকার সিটিজেন হওয়ায় প্রায় সব সময়ই তিনি দেশের বাহিরে থাকেন।

    এই উপজেলায় পরিষদ চালাচ্ছেন বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান শ্যামল চক্রবর্ত্তী, সলিয়াবাকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: সিদ্দিকুর রহমান ও সৈয়দকাঠী ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেন মৃধা।

    গৌরনদী উপজেলার বার্থী আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার, বাটাজোর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আঃ রব হাওলাদার ও নলচিড়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা আত্মগোপনে রয়েছেন। নানা কৌশলে অফিস করছেন মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু অফিস, চাঁদশী ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, খাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নুর আলম সেরনিয়াবাত ও শরিকল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক হোসেন মোল্লা। হিজলা উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানরা পরিষদে আসলেও পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসছেন না। তারা হচ্ছেন ধুলখোলা ইউপি চেয়ারম্যান জামাল ঢালী, হরিনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তৌফিকর রহমান, বড়জালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ এনায়েত হোসেন হাওলাদার, গুয়াবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান তালুকদার, হিজলা গৌরবদী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম মিলন ও মেমানিয়া মোঃ নাসির উদ্দিন।

    মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো: জসিম উদ্দিন হামলার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলার অন্যান্য ইউপি চেয়ারম্যানরা নানা কৌশল করে পরিষদে আসছেন। এরা হচ্ছেন বাটামারা ইউপি চেয়ারম্যান মো: সালাহ উদ্দিন, চরকালেখা ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, কাজিরচর ইউপি চেয়ারম্যান মো: মন্টু বিশ্বাস, মুলাদী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল আহসান, নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: মোস্তাফিজুর রহমান ও সফিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবু মুসা।

    আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউপি চেয়ারম্যান বিপুল দাস ও রাজিহার ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইলিয়াস তালুকদার আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে অফিস করছেন বাগধা ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি, গৈলা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল হোসেন ও রত্নপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার। জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউপি চেয়ারম্যান আশ্রাফুজ্জামান খান থোকন অফিসে আসেন না। একই ভাবে অফিসে আসছেন না চরামদ্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাহাব উদ্দিন খোকন, কলসকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না। চরাদী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ৫ আগষ্টের অনেক আগেই দেশ ছেড়ে আমেরিকা চলে গেছেন। এছাড়া অন্যান্য ইউপির চেয়ারম্যানরা বিশেষ কাজ ছাড়া অফিসে আসছেন না। যেমন দাড়িয়াল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সহিদুল ইসলাম হাওলাদার, দুর্গাপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মো: হানিফ তালুকদার, ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম শফিকুর রহমান, গারুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম কাইয়ুম খান, কবাই ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল হক তালুকদার, নলুয়া ইউপি চেয়ারম্যান আ.স.ম ফিরোজ আলম খান, পাদ্রিশিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল হাসান, রঙ্গশী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বশির উদ্দিন। এছাড়া নিয়মিত অফিস চালিয়ে যাচ্ছেন নিয়ামতি ইউপি চেয়ারম্যান মো: হুমায়ুন কবির ও দুধল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম মোর্শেদ খান।

    বরিশাল সদর উপজেলার কাশীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন মোল্লার বাড়িতে হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। একই অবস্থা রায়পাশা-কড়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহরিয়ার বাবু এলাকায়।

    সেখানে ইতোমধ্যে প্যানেল চেয়ারম্যানও গঠন করা হয়েছে। এছাড়া আত্মগোপণে রয়েছেন চাঁদপুরা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদ হোসেন, চরবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাহতাব হোসেন সুরুজ, শায়েস্তাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আরিফুজ্জামান মুন্না ও টুংগীবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাদিয়া রহমান।

    অফিস করছেন চন্দ্রমোহন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল হক, চরমোনাই ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মো: জিয়াউল করিম ও জাগুয়া ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়াতুল্লাহ খান। যে সব জায়গায় চেয়ারম্যানরা অনুপস্থিত রয়েছেন সেখানে কাজ চালিয়ে নিতে প্যানেল চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব পালন করতে পরিপত্র জারি করেছে সরকার। এমন অবস্থায় কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে বরিশালের বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বাবুগঞ্জের এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমি এলাকায় আছি, পরিষদেও যাই। যদি সরকার চায় পদে থাকবো, না চাইলে সরে যাবো”।

    বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার বলেন, গত ৫ তারিখ থেকে অনেক ইউপি চেয়ারম্যান অনুপস্থিত রয়েছেন। তাদের পরিষদ আসার জন্য বলা হয়েছে। অনেকেই সমন্বয় কমিটির মিটিং আসেছেন।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগ বরিশালের উপ-পরিচালক গৌতম বাড়ৈ বলেন, কর্মস্থলে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যানদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে জানতে চেয়েছিল। পরে আমরা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছি। যে সব ইউপিতে চেয়ারম্যানরা কোন ভাবেই আসতে পারছে না সেখানে নিবন্ধক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

  • বন্যায় মৃত বেড়ে ৬৭, সবচেয়ে বেশি ফেনীতে

    বন্যায় মৃত বেড়ে ৬৭, সবচেয়ে বেশি ফেনীতে

    টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

    সোমবার বিকাল ৩টার দিকে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    মন্ত্রণালয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বন্যা আক্রান্ত জেলার ১১টি জেলা হলো– ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, সিলেট, লক্ষীপুর ও কক্সবাজার। চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ও কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। মৌলভীবাজার এর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে।
    বন্যা প্লাবিত উপজেলা ৬৮টি। ক্ষতিগ্রস্ত ৫০৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৬৭টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় আছে।

    বন্যায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪২ জন, নারী ৭ জন ও শিশুর সংখ্যা ১৮। কুমিল্লায় মারা গেছেন ১৭ জন, ফেনীতে ২৬ জন, চট্টগ্রামে ৬ জন, খাগড়াছড়িতে ১ জন, নোয়াখালীতে ১১ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় ১ জন, লক্ষীপুরে ১ জন, কক্সবাজারে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জন। মৌলভীবাজারে নিখোঁজ আছেন ১ জন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পানিবন্দি লোকদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য মোট ৩ হাজার ৬১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় মোট ৩ লাখ ৬ হাজার ৭৪১ জন লোক এবং ৩২ হাজার ৮৩০টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে মোট ৪৭২টি মেডিক্যাল টিম চালু রয়েছে।

  • বেক্সিমকো পাচার করেছে ১৩৫ মিলিয়ন ডলার: সিআইডি

    বেক্সিমকো পাচার করেছে ১৩৫ মিলিয়ন ডলার: সিআইডি

    বেক্সিমকো গ্রুপ ১৮টি কোম্পানির মাধ্যমে পণ্য রপ্তানি করে সেই রপ্তানি মূল্য ফেরত না এনে অন্তত ১৩৫ মিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

    ডিআইজি-অর্গানাইজড ক্রাইম (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) কুসুম দেওয়ান এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, সিআইডির আর্থিক অপরাধ ইউনিট বেক্সিমকোর এই অসঙ্গতিগুলোকে ‘বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচার’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

    সিআইডির ডেটাবেজ অনুসারে, অ্যাপোলো অ্যাপারেলসের মাধ্যমে প্রায় ২৩ মিলিয়ন ডলার, বেক্সটেক্স গার্মেন্টসের মাধ্যমে ২৪ মিলিয়ন ডলার, ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়্যার অ্যান্ড অ্যাপারেলসের মাধ্যমে ২৫ দশমিক দুই মিলিয়ন ডলার এবং এসেস ফ্যাশনের মাধ্যমে ২৪ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে।

    এর সবই বেক্সিমকো গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান, যার ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা।

    সিআইডি ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান জানান, গ্রুপটি পণ্য রপ্তানির জন্য ক্রেডিট লেটার খুলে ৮০ শতাংশ মূল্যের বিপরীতে স্থানীয়ভাবে ঋণ নিয়েছে। এরপর আর রপ্তানির অর্থ ফেরত আনেনি এবং ঋণগুলোও পরিশোধ করেনি। তিনি বলেন, বেক্সিমকো গ্রুপ এভাবে অর্থপাচার করেছে।

    সিআইডি ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের আরেক কর্মকর্তা জানান, তারা প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন যে সালমান এফ রহমান পচারের অর্থ দুবাই, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে আবাসন খাতে বিনিয়োগ করেছেন।

    সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান সৌদি আরবে একটি বড় ওষুধ কোম্পানি খুলেছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট সিআইডি কর্মকর্তা। সৌদি আরবের ওই কোম্পানির বেশিরভাগ অর্থ বাংলাদেশ থেকে গেছে বলেও জানান তিনি।

    কুসুম দেওয়ান বলেন, প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থপাচার আইনে মামলা হবে।

    প্রাথমিক তদন্তে সিআইডির আর্থিক অপরাধ ইউনিট জানতে পেরেছে, বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে গত ১৫ বছরে সাতটি ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ঋণের মধ্যে ৫ হাজার ২৮ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে, যার চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান নিজেই।

    তদন্তের সঙ্গে জড়িত এক সিআইডি কর্মকর্তা জানান, ব্যবসায়িক গ্রুপটি রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের প্রধান শাখা থেকে অন্তত ২১ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

    সিআইডির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বেক্সিমকো ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ২৯৫ কোটি টাকা; সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী থেকে ৫ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং এবি ব্যাংক থেকে ৬০৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

    আর্থিক অপরাধ ইউনিট তাদের ডেটাবেজ সংগ্রহের জন্য সাতটি ব্যাংকে টিম পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির স্পেশাল সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ বসির উদ্দিন।

    সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানির নামে বিদেশে ঋণের অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে মার্কেট থেকে দৃশ্যমানভাবে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ২০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

    একটি দোকান কর্মচারীকে হত্যার মামলায় গত ১৩ আগস্ট থেকে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন সালমান এফ রহমান।

  • বন্যা দুর্গত এলাকায় তিন মাস স্পেশাল ওএমএস

    বন্যা দুর্গত এলাকায় তিন মাস স্পেশাল ওএমএস

    সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ভয়াবহ বন্যায় ১৪ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল ও আটা সরবরাহের লক্ষ্যে দুর্গত এলাকার পৌরসভা/ইউনিয়ন পর্যায়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল ওএমএস কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

    রোববার (১ সেপ্টেম্বর) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের সার্বিক খাদ্য পরিস্থিতিসহ আভ্যন্তরীণ খাদ্য সংগ্রহ, মজুত পরিস্থিতি ও বন্যা দুর্গত জেলাগুলোতে সরকারি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেন খাদ্যসচিব ইসমাইল হোসেন।

    খাদ্য সচিব, এ স্পেশাল ওএমএস ওই এলাকাগুলোর ২৩০টি কেন্দ্রে দেওয়া হবে। প্রতিকেন্দ্রে ১ টন চাল ও ১ মে.টন আটা হিসেবে প্রতিদিন ২৩০ টন চাল ও ২৩০ টন আটা বিক্রয় করা হবে।

    সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর ২০২৪ খ্রি. মাসে এ কার্যক্রমে সর্বমোট ১৪ হাজার ৪৯০ মে.টন চাল ও ১৪ হাজার ৪৯০ মে.টন আটা বিক্রয় করা হবে।

    প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, প্রতি কেজি খোলা আটা ২৪ টাকা এবং প্যাকেট আটা (২ কেজির প্রতি প্যাকেট) ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করা হবে।

    খাদ্যসচিব ইসমাইল হোসেন বলেন, বন্যা দুর্গত এলাকায় যে কেউ এ সেবা নিতে পারবে।

    এই ৩ মাসে চাল বাবদ ৪১ কোটি ১২ লাখ টাকা ও আটা বাবদ ৪৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মোট ৯০ কোটি ৬৮ লাখ ১৮৬৮২ (নব্বই কোটি আটষট্টি লক্ষ আঠারো হাজার ছয়শত বিরাশি) টাকা খাদ্য ভর্তুকি খাদ্য মন্ত্রণালয় হতে দেয়া হবে।

    অন্যদিকে সারাদেশে ওএমএস কার্যক্রমের তথ্য দিয়ে সচিব জানান, বর্তমানে সারাদেশের সকল সিটি কর্পোরেশন, শ্রমঘন ৪টি জেলা (ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী), সারাদেশের সকল জেলা সদর পৌরসভায় ওএমএস খাতে চাল ও আটা বিক্রি করা হচ্ছে।

    সারাদেশে সর্বমোট ৯১২টি কেন্দ্রে (৯১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯১০টি কেন্দ্রে চাল ও আটা এবং ২টি কেন্দ্রে শুধু আটা) দৈনিক মোট ৯১০ মে.টন চাল ও ১,২৬০.৫০ মে.টন আটা ওএমএস কার্যক্রমে বিক্রি চলমান আছে।

    এরমধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ১১৮টি দোকান, ৭০টি ট্রাক এবং ইনোভেশনের আওতায় ৩টি কেন্দ্রসহ মোট ১৯১ টি কেন্দ্রে ওএমএস কার্যক্রম চলমান আছে।

  • বন্যায় ১১ জেলায় ৫২ জনের মৃত্যু

    বন্যায় ১১ জেলায় ৫২ জনের মৃত্যু

    দেশে চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ জন পুরুষ, ৬ জন নারী ও ৭ শিশু রয়েছেন। বুধবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ৩১ জন।

    বৃহস্পতিবার চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজা এ তথ্য জানান।

    ৫২ জনের মধ্যে কুমিল্লায় ১৪, ফেনীতে ১৭, চট্টগ্রামের ৬, খাগড়াছড়িতে ১, নোয়াখালীতে ৮, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১, লক্ষ্মীপুরে ১, কক্সবাজারের ৩ ও মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৌলভীবাজারে একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত সচিব।

    কে এম আলী রেজা বলেন, সিলেট জেলা থেকে প্রাপ্ত আজকের তথ্য মোতাবেক বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হয়েছে। ৬৮ উপজেলা বন্যা প্লাবিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন বা পৌরসভা ৪৯২টি। ১১ জেলায় মোট ১০ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৯ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৪ লাখ ৮০ হাজার ৪৬৩ জন।

    তিনি বলেন, পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় দিতে মোট ৩ হাজার ৪০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মোট ৫ লাখ ২ হাজার ৫০১ জন লোক এবং ৩৬ হাজার ৪৪৮টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

    ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য মোট ৫৯৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত সচিব।

    বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সবপর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সংগৃহীত মোট এক লাখ ৪ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, কাপড় ও পানি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

    তিনি বলেন, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে মোবাইল ও টেলিফোন যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। বন্যাপরবর্তী পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

  • উপদেষ্টাদের দেশ-বিদেশ সফরকালে নতুন রাষ্ট্রাচার

    উপদেষ্টাদের দেশ-বিদেশ সফরকালে নতুন রাষ্ট্রাচার

    রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কাজে বিদেশে ও দেশের অভ্যন্তরে সফরকালে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিদায় সংবর্ধনা ও স্বাগত জানানোর ক্ষেত্রে নীতি-নির্ধারণ করে নতুন নির্দেশাবলী জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার এ রাষ্ট্রাচার জারি করা হয়।

    বিদেশ সফর

    বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে উপদেষ্টাদের গমন ও প্রত্যাবর্তনকালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অথবা যুগ্ম সচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।

    দেশের অভ্যন্তরে সফর

    ১. দেশের অভ্যন্তরে সফরকালে উপদেষ্টাদের অভিপ্রায় অনুযায়ী তাদের ঢাকা ত্যাগ ও প্রত্যাবর্তনস্থলে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের উপদেষ্টার একান্ত সচিব উপস্থিত থাকবেন।

    ২. জেলা সদরে যথাসম্ভব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা উপদেষ্টাকে আগমন ও বিদায়ের স্থানে অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন।

    ৩. জেলা সদরে উপস্থিত থাকার জন্য জেলা প্রশাসক অথবা পুলিশ সুপারের নিজের সরকারি সফর বাতিল বা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে না। এরূপ ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উপদেষ্টাকে অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন। তবে জেলা প্রশাসক আগেই নিজের সফরসূচি জারি করে থাকলে উপদেষ্টার সফরসূচি পাওয়ার পরই উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হবেন যে, জেলা প্রশাসকের সদরে থাকা আবশ্যক কিনা। উপদেষ্টা এরূপ ইচ্ছা প্রকাশ করলে সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক তার সফরসূচি বাতিল করবেন।

    ৪. উপজেলা সদর অথবা উপজেলার অন্য কোনো স্থানে উপদেষ্টার সফরকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা উপদেষ্টাকে অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন। আবশ্যক না হলে জেলা প্রশাসক কিংবা পুলিশ সুপারের এক্ষেত্রে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই।

    ৫. উপদেষ্টার আগমন ও প্রস্থানের সময় আবশ্যক না হলে বিমানবন্দর বা রেলস্টেশনে জেলা প্রশাসক ঢাকা বা চট্টগ্রাম বা কক্সবাজারের উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। পুলিশ সুপার কক্সবাজার বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।

    ৬. কোনো জেলা বা উপজেলায় উপদেষ্টার আগমন বা প্রস্থানের সময় আশপাশের জেলার বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হলে ট্রানজিট স্থানে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের উপস্থিতির প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে ট্রানজিট স্থানে জেলা প্রশাসকের উপযুক্ত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

    ৭. উপদেষ্টাদের আগমন ও প্রস্থানের সময় বিভাগীয় কমিশনার অথবা সংশ্লিষ্ট রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশের (ডিআইজি) উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। বিভাগীয় কমিশনার সদর দপ্তরে উপস্থিত থাকলে উপদেষ্টার আগমনের পর তিনি তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন।

    ৮. উপদেষ্টাদের সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

    ৯. দেশের অভ্যন্তরে উপদেষ্টার রেলযোগে ভ্রমণকালে রেলওয়ে পুলিশ নিচের নির্দেশাবলী অনুসরণ করবে-

    ক. উপদেষ্টার সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ সুপার তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট রুটের সব পুলিশ স্টেশন বা ফাঁড়িকে অবহিত করবেন।

    খ. যে স্টেশনে উপদেষ্টা ট্রেন থেকে অবতরণ ও ট্রেনে পুনরায় আরোহণ করবেন অথবা কোনো জংশনে যে স্থানে ট্রেন বদলের প্রয়োজন হবে, সেসব স্থানে পুলিশের একজন পরিদর্শক বা উপপরিদর্শক উপস্থিত থাকবেন।

    গ. রেলযোগে চট্টগ্রামে গমন ও প্রস্থানের সময় সেখানে চট্টগ্রাম রেলওয়ের পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন।

    সাধারণ নির্দেশাবলী

    ১. উপদেষ্টাদের সফরসূচি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে যথাসময়ে পাঠাতে হবে। সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে তাও যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাতে হবে।

    ২. সার্কিট হাউস বা সরকারি রেস্ট হাউস ব্যতীত নিজ বাড়ি কিংবা অন্যত্র অবস্থানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রাচার সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশাবলী প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

    ৩. সফরসূচি প্রণয়নের সময় সফরটি সরকারি না ব্যক্তিগত, তা উপদেষ্টাদের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করতে হবে। সরকারি সফরের সময় উপদেষ্টাদের জন্য যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ব্যক্তিগত সফরের জন্য যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হলে এ সংক্রান্ত সেবার মূল্য পরিশোধের প্রচলিত নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

    ৪. উপদেষ্টার একান্ত সচিব বা সহকারী একান্ত সচিবেরা উপদেষ্টার ইচ্ছা অনুযায়ী এতৎসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

    ৫. মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কাজে বিদেশে গমন ও দেশে প্রত্যাগমনের সময় বিমানবন্দরে এবং দেশের অভ্যন্তরে সফরকালে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার (প্রটোকল)–সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১৮ এপ্রিল ২০১৮ তারিখের ০৪.০০.০০০০.৪২৩.২২.০০১.১৪.৬২ নম্বর স্মারকে জারিকৃত নির্দেশাবলী এতদ্বারা বাতিল করা হলো।

  • প্রভাবশালীদের নামে-বেনামে ঋণ আত্মসাতের হিসাব হচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

    প্রভাবশালীদের নামে-বেনামে ঋণ আত্মসাতের হিসাব হচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

    ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করা শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নামে-বেনামে কত টাকা ঋণ আত্মসাৎ করেছে, তার হিসাব করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং তা বিদেশে পাচার করেছেন, যার সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ চলমান।

    এ আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ লক্ষাধিক কোটি টাকার ওপরে মর্মে ধারণা করা যায় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    প্রভাবশালীদের নাম উল্লেখ না করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে ইতোমধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংকের পর্ষদগুলো পুনর্গঠন করা হয়েছে। অবশিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হবে। নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত এসব অর্থের প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং তাদের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থের প্রকৃত পরিমাণ নির্ণয়ের লক্ষ্যে অডিট কার্যক্রম শুরু করা হবে।

    অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিচারের প্রতি সরকারের কঠোর মনোভাবের ইঙ্গিত করে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে বলা হয়, ব্যাংকসমূহের নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইউই, সিআইডি ও দুদকের সহায়তা নিয়ে আত্মসাৎকারীদের স্থানীয় সম্পদ অধিগ্রহণ ও বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে। অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা চেয়ে ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছে সরকার।

    শীঘ্রই ব্যাংকিং কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে বলা হয়, কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যাংকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করবে এবং ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠনের জন্য ছয়মাসের মধ্যে একটি বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের লক্ষ্য হলো সকল আর্ন্তজাতিক মানদণ্ড পরিপালনে সক্ষম একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং খাত গড়ে তোলা। তবে এই উদ্দেশ্যে সফল করতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সময়, আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা ও অর্থের প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার অর্থ আত্মসাৎকারীদের দেশি-বিদেশি সম্পদ অধিগ্রহণ এবং বিদেশ হতে ফেরত এনে ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে।

    ব্যাংকগুলোর এই পুনর্গঠন এবং আর্থিক খাতের কাঠামোগত সংস্কার সময় সাপেক্ষ ব্যপার। তবে সরকার বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার ব্যপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। -বাসস

  • ২০ খেলাপির হাতে ৫০০০ কোটি টাকা

    ২০ খেলাপির হাতে ৫০০০ কোটি টাকা

    ঋণ কেলেঙ্কারি, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মে গত ১৫ বছর ব্যাপক আলোচনায় ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। বিশেষ করে হলমার্ক কেলেঙ্কারির কারণে ২০১১ সালে প্রথম আলোচনায় আসে ব্যাংকটি। শুধু হলমার্ক নয়, টি এন্ড ব্রাদার্স, রূপসী, মডার্ন স্টিলসহ ২০ গ্রাহকের ৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে পড়েছে।

    এক কথায় নির্দিষ্ট কয়েকটি গ্রাহকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রের অর্থে গঠিত ব্যাংকটি। চলতি বছর ব্যাংকটিকে এসব গ্রাহক থেকে আদায়ের লক্ষ্য দিয়েছিল আড়াই হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ৫ মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের বিতরণ করা মোট ঋণের ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশই দেওয়া হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি খাতের ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে। এরই মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে এর উল্লেখযোগ্য অংশ। চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে আটকা পড়েছে ৫ হাজার ৮১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে এসব খেলাপি গ্রাহক থেকে ২ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অথচ বছরের পাঁচ মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ১১৪ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সোনালী ব্যাংক ৯৩ হাজার ৯৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর ১২ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকাই খেলাপি হয়ে পড়েছে, যা মোট ঋণের ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এর বড় অংশই গেছে হাতেগোনা কয়েকজনের পকেটে। প্রভাবশালী এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে না পারায় সোনালী ব্যাংক ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

    ব্যাংকটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ মে পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ খেলাপির তালিকায় আছে টি এন্ড ব্রাদার্স গ্রুপ। সোনালী ব্যাংকের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল শাখায় এই গ্রাহকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৯০ কোটি টাকা। বর্তমানে এই গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসাবে রয়েছেন জিনাত ফাতেমা।

    একই শাখায় গ্রাহক হলমার্ক গ্রুপের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৮২ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ২০১০-১২ সালের মধ্যে জালিয়াতি করে রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা নিয়েছিল। এসংক্রান্ত মামলায় এখন কারাগারে আছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ।

    জানতে চাইলে হলমার্ক গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক শামিম আল মামুন বলেন, ‘হলমার্কের ঘটনা তো ১২-১৩ বছর হয়ে গেছে। ঋণ পরিশোধ করতে হলে চেয়ারম্যান ও এমডির কারামুক্তি প্রয়োজন। তারা মুক্ত হলে সম্পদ বিক্রি করে দায় পরিশোধের ব্যবস্থা করা যেত। কিন্তু আদালত কোনোভাবেই তাদের মুক্তি দিচ্ছেন না।’

    তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখার গ্রাহক রূপসী গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ৪৬৫ কোটি টাকা। চতুর্থ অবস্থানে চট্টগ্রামের লালদিঘী করপোরেট শাখার গ্রাহক মডার্ন স্টিল মিলসের খেলাপি ৪৪৮ কোটি টাকা। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রতনপুর গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠান শুধু সোনালী ব্যাংক নয়, আরও কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও ঋণখেলাপি। ট্রাস্ট ব্যাংকের এসংক্রান্ত এক মামলায় রতনপুর গ্রুপের মালিক মাকসুদুর রহমান ও তার দুই ছেলে মিজানুর রহমান এবং মারজানুর রহমানকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

    পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে তাইপেই বাংলা ফেব্রিক্স। প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণ ৩৪৮ কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে নেওয়া এই ঋণ দীর্ঘদিন ধরেই খেলাপি হয়ে আছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘গ্যাস সমস্যা আর ক্রয়াদেশ না থাকায় ঋণটি খেলাপি হয়ে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ঋণ পুনঃতপশিল করার চিন্তা আছে।’

    ষষ্ঠ অবস্থানে ফেয়ার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩১৫ কোটি টাকা। ২০১২ সালে খেলাপি হওয়া প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন জসিম আহমেদ। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি।

    এছাড়া নারায়ণগঞ্জ করপোরেট শাখার রহমান গ্রুপের ৩১৪ কোটি, লোকাল অফিসের অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ৩০০ কোটি, একই শাখার মুন্নু ফেব্রিক্সের ২৫৫ কোটি, দিলকুশা করপোরেট শাখায় লীনা গ্রুপের ২১৫ কোটি, লালদিঘী করপোরেট শাখায় রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস ২১৪ কোটি, লোকাল অফিসে মাগুরা পেপার মিলসের ২০৩ কোটি, একই শাখার এপেক্স উইভিং অ্যান্ড ফিনিশিং ১৫৬ কোটি, বিশ্বাস গার্মেন্টসের ১৫৫ কোটি, রেজা জুট ট্রেডিংয়ের ১৫১ কোটি, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ১৩১ কোটি, সোনালী জুট মিলস ১২৭ কোটি, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ১১৪ কোটি, সুপ্রিম জুট অ্যান্ড নিটিংয়ের ১০৪ কোটি এবং শরীফ জুট ট্রেডিংয়ের ৯৩ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে।

  • এবার ফারাক্কার ১০৯ গেট খুলে দিল ভারত

    এবার ফারাক্কার ১০৯ গেট খুলে দিল ভারত

    ভারতের বিহার ও ঝাড়খণ্ডে বন্যার জেরে ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেট খুলে দিয়েছে ভারত। সোমবার গেট খুলে দেওয়া হয়। এতে একদিনে বাংলাদেশে ঢুকবে ১১ লাখ কিউসেক পানি। বাঁধ খুলে দেওয়ায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদসহ বাংলাদেশেও।

    বন্যা পরিস্থিতি ও পাহাড়ি ঢলের বিষয়ে আগে থেকে বাংলাদেশকে তথ্য দেওয়া হচ্ছে বলে ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

    সোমবার ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিবেশী দুই রাজ্যে বন্যার জেরে পানির চাপ পড়েছে। তবে স্বস্তির বিষয়, এখনও নেপাল থেকে পাহাড়ি ঢল নামেনি। ফারাক্কা ব্যারাজ এলাকায় পানি বিপৎসীমার ৭৭ দশমিক ৩৪ মিটার ওপর দিয়ে বইতে থাকায় বাধ্য হয়ে গেট খুলতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ফিডার ক্যানেলেও পানির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।

    ফারাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আর দেশ পাণ্ডে বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ সবসময় এলার্ট রয়েছে। প্রতিমুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে। খুব কম সময়ের মধ্যে যেভাবে পানির চাপ তৈরি হয়েছে তাতে ১০৯ গেটের সবকটি খুলে না দিল ব্যারাজের ওপর বড় চাপ তৈরি হচ্ছিল। বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারত। আপাতত ফিডার ক্যানেলে ৪০ হাজার কিউসেক ও ডাউন স্ট্রিমে ১১ লাখ কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে।

    এদিকে ২০ আগস্ট থেকে দেশের ১১টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। সেগুলো হলো ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। এসব জেলার ৭৭টি উপজেলা আক্রান্ত হয়েছে। মোট ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৯০১টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা ৫০ লাখ ৯৩ হাজার ৫৩০।

  • বন্যায় ১১ জেলায় ১২ লাখ পরিবার পানিবন্দি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩

    বন্যায় ১১ জেলায় ১২ লাখ পরিবার পানিবন্দি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩

    চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫৭ লাখ এক হাজার ২০৪ জন।

    সোমবার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান বন্যায় এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন দুইজন।

    এই ২৩ জনের মধ্যে কুমিল্লায় ছয় জন, ফেনীতে এক জন, চট্টগ্রামে পাঁচ জন, খাগড়ছড়িতে এক জন, নোয়াখালীতে পাঁচ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে এক জন ও কক্সবাজারে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

    বন্যা আক্রান্ত ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। মোট ১১ জেলার ৭৪ উপজেলা বন্যা প্লাবিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন/পৌরসভা ৫৫০টি। ১১ জেলায় মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫৭ লাখ এক হাজার ২০৪ জন।

    পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য মোট তিন হাজার ৮৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মোট চার লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

    দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি সমতল হ্রাস অব্যাহত আছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকাগুলোতে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়নি এবং উজানের নদ-নদীর পানি সমতল হ্রাস অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত আছে।

    মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোতে পানি সমতল বিপদসীমার নিচে নেমে এসেছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে।