Category: প্রচ্ছদ

  • গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে যে সিদ্ধান্ত নিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

    গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে যে সিদ্ধান্ত নিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

    গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সব গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত হওয়া কমিটি।

    রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, সরকার আইন-শৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থা তথা বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বিশেষ শাখা, গোয়েন্দা শাখা, আনসার ব্যাটালিয়ন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা বাহিনী, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), কোস্টগার্ডসহ দেশের আইন প্রয়োগ ও বলবৎকারী কোনো সংস্থার কোনো সদস্য কর্তৃক জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিশন অব ইনকোয়ারি গঠন করেছে।

    কমিশনের প্রথম সভা ৮ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে গুলশানে কমিশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিশনের সব সদস্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কমিশনের কার্যক্রম সরকারি ছুটি ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত যথারীতি পরিচালিত হবে।

    ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সব গুমের ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিশন গঠন করেছে সরকার। কমিশনের প্রধান মনোনীত হয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মাইনুল ইসলাম চৌধুরী।

    এর আগে গত ২৭ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই কমিশন গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

  • পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে টাস্কফোর্স গঠন হচ্ছে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

    পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে টাস্কফোর্স গঠন হচ্ছে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

    বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে টাস্কফোর্স গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই দৃশ্য মান হবে অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়া।

    রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, পাচার কৃত অর্থ উদ্ধারে একটি ঘটনায় ১৬ বছর লেগেছে। তবে এখন বেশি সময় লাগবে না। এ নিয়ে সরকার কাজ করছে।

    তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাতে মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক লুটপাটকারী ধরা হয়েছে।

  • খুনি-ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রনায়কদের পরিণতির নিদর্শন হবে গণভবন: নাহিদ

    খুনি-ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রনায়কদের পরিণতির নিদর্শন হবে গণভবন: নাহিদ

    ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারী ও খুনি রাষ্ট্রনায়কদের পরিণতি কেমন হয়, তার নিদর্শন বিশ্বের বুকে রাখার জন্যই গণভবনকে জাদুঘর করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম।

    তিনি বলেন, যেকোনো ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারী ও খুনি রাষ্ট্রনায়কদের কি পরিণত হয়, তা বিশ্বের বুকে একটা নিদর্শন হিসেবে রাখার জন্য গণভবনকে জাদুকর করা হচ্ছে। আর জনগণই যে রাষ্ট্রক্ষমতার আসল মালিক, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ ভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘরে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    শনিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে গণভবন পরিদর্শনকালে তিনি এসব এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, এজন্য একটি কমিটি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এ কাজ সম্পন্ন করা হবে। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও যারা জাদুঘর বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের পরামর্শ নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    উপদেষ্টা জানান, মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্রুততম সময়ে গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘরের রূপান্তর করা হবে। এ জাদুঘরে ১৬ বছরের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিনের ঘটনা, শহীদদের তালিকা, স্মৃতি এসব কিছুর একটি সামগ্রিক উপস্থাপনা থাকবে। পাশাপাশি কিছু ডিজিটাল উপস্থাপনা থাকবে।

    নাহিদ বলেন, অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা ৫ আগস্ট নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। জনগণের বিজয়কে ধারণ করে রাখার উদ্দেশ্যে গণভবনের বর্তমান ভগ্নাবশেষ অক্ষত রেখেই জাদুঘরে রূপান্তর করা হবে, যা জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

    এসময় শিল্প উপদেষ্টা আজিজুর রহমান খান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি এবং বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনগণের ওপর অত্যাচার, গুম, খুনের স্মৃতি সংরক্ষণ করে রাখার জন্য গণভবনকে জাদুঘরের রূপান্তরিত করা হবে। পরবর্তীতে জনসাধারণের জন্য তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

  • বরিশালে শহিদি মার্চ কর্মসূচি পালিত

    বরিশালে শহিদি মার্চ কর্মসূচি পালিত

    বরিশালে পালিত হয়েছে শহিদি মার্চ কর্মসূচি। ব্রজমোহন কলেজের জিরো পয়েন্ট থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা এ মিছিল বের করেন।

    এতে বিএম কলেজ ছাড়াও অন্য আরও বেশ কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

    বিএম কলেজ হয়ে মিছিলটি কলেজ রোড, নতুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা, সিএন্ডবি রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    মিছিলের সম্মুখে ছিলেন গুলিবিদ্ধ হয়ে চোখ হারানো এক যুবক।

    এ সময় ছাত্র নেতারা বলেন, হাজারও ছাত্র-জনতার জীবনের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে সব ধরনের বৈষম্য প্রতিরোধে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

  • আ.লীগ সরকার পতনের একমাস, যে বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

    আ.লীগ সরকার পতনের একমাস, যে বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

    আজ ৫ সেপ্টেম্বর, গত আগস্টের এই দিনেই ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে পতন হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। সেই গণঅভ্যুত্থানের এক মাস পূর্তিতে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    তিনি বলেছেন, আমাদের তরুণ বিপ্লবীরা দেশের মানুষের মনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন জাগিয়ে দিয়েছে তা পূরণে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শহিদদের আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে চাই। এক নতুন যুগের সূচনা করতে চাই।

    গত ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ৮ অগাস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা নিলাম- শদিদদের রক্ত এবং আহত ভাইবোনদের আত্মত্যাগকে জাতি হিসাবে আমরা কিছুতেই ব্যর্থ হতে দেবো না। যে সুযোগ তারা আমাদের জন্য তৈরি করে দিয়েছেন, সে সুযোগকে আমরা কখনো হাতছাড়া হতে দেবো না।

    যুগান্তর পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ইউনূসের বার্তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

    আসসালামু আলাইকুম,

    আজ আমরা বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম মাস উদযাপন করছি। ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় বিপ্লবের জন্য শত শত ছাত্র এবং সর্বস্তরের মানুষ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে।

    তারা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছে যার নেতৃত্বে নৃশংস একটি গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে। শেখ হাসিনা একটি দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্র এবং একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি রেখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। আমাদের বাংলাদেশকে এর পূর্ণ গৌরবে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব আমাদের।

    আজ আমি সেই সাহসী তরুণ, শ্রমিক, দিনমজুর, পেশাজীবীদের স্মরণ করছি যারা জঘন্য হত্যাকারী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে মোকাবিলা করতে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিল। স্মরণ করছি আন্দোলন চলাকালে নিহত সাংবাদিকদের। আজ আমি এই বিপ্লবে শাহাদাত বরণকারী সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

    আমি অভিবাদন জানাই হাজার হাজার মানুষকেও যারা আহত হয়েছেন, প্রাণঘাতী আঘাতের শিকার হয়ে চিরজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন, কিংবা চক্ষু হারিয়েছেন।

    গত মাসে, আমাকে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তখন আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং সমস্ত জানা এবং অজানা শহিদদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমার সকল সীমাবদ্ধতা সত্তেও এই দায়িত্ব গ্রহণ কেরছি।

    আমাদের তরুণ বিপ্লবীরা দেশের মানুষের মনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন জাগিয়ে দিয়েছে তা পূরণে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শহিদদের আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে চাই। এক নতুন যুগের সূচনা করতে চাই।

    আমার প্রিয় তরুণেরা,

    তোমরা তোমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের শপথ নিয়েছিলে। শহর ও গ্রামীণ জনপদের দেয়ালে আঁকা তোমাদের স্বপ্নগুলো এখনো নানা রঙের সাজ নিয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

    বিপ্লবের সময়, তোমরা পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ঘুমহীন রাত কাটিয়েছো এবং দিনে নিষ্ঠুর শাসনকে প্রতিহত করার জন্য পরস্পরের থেকে চির বিদায় নিয়ে রাস্তায় নেমেছো। বিপ্লব শেষ হওয়ার পর তোমরা দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাঁদের উপাসনালয় পাহারা দিয়েছো এবং সারা দেশে ট্রাফিক পরিচালনা করার দায়িত্ব নিয়েছো। আমি জানি তোমাদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই এখন সময় পড়াশোনায় ফেরার। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়েছে। আমি তোমাদেরকে ক্লাস ও ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কেননা বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে আমাদের একটি সুশিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্মের দরকার।

    মাত্র একমাস হলো অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তা স্বত্তেও আমরা বিপ্লবের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এর কাজ শুরু করেছি। আমাদের প্রথম কাজ জুলাই ও আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। গণহত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের নেতৃত্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করার জন্য আমরা জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তাঁরা এদেশে এসেছেন এবং তাঁদের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

    এছাড়া আমি জুলাই এবং আগস্ট মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্রাইব্যুনাল তৈরি করার প্রয়াসে শীর্ষ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের সাথেও কথা বলেছি। আমরা খুনিদের প্রত্যর্পণ এবং স্বৈরাচারের সময় দুর্নীতিবা ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ ও আমলারা যে পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে তা দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই। এজন্য বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ শুরু করেছি।

    আমাদের প্রধান দায়িত্বগুলির মধ্যে একটি হল বিপ্লবের সময় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হাজার হাজার মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। হাসিনার দুর্বৃত্তরা তাদের চোখ লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছোড়ায় অসংখ্য তরুণ শিক্ষার্থী দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করবো তাঁদের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে। আমরা শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছি। মূল তালিকা হয়ে গেছে। এখন শুধু দূরদূরান্তে যাদের লাশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করে তথ্যগুলিতে পূর্ণাঙ্গতা দেয়া হচ্ছে। আহত শত শত মানুষ যাদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং শহিদদের পরিবারের দেখাশোনার জন্য একটি ফাউন্ডেশন এখন তৈরির শেষ পর্যায়ে আছে। যাদের শাহাদাতের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে আমরা তাঁদের কখনোই ভুলবো না।

    সম্প্রতি আমরা বলপূর্বক গুম থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন সনদে স্বাক্ষর করেছি। ফলে স্বৈরাচার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ‘গুম সংস্কৃতি’ এর সমাপ্তি ঘটানোর জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি। আলাদাভাবে, আমরা ফ্যাসিবাদী শাসনের ১৫ বছরে বলপূর্বক গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করার জন্য একটি কমিশন গঠন করছি। যেসব পরিবার তাদের নিখোঁজ পিতা, স্বামী, পুত্র এবং ভাইদের পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর ধরে যন্ত্রণার সাথে অপেক্ষা করছেন, আমরা আপনাদের বেদনায় সমব্যাথী।

    আয়নাঘরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই আমরা বলপূর্বক গুমের শিকার ভাইবোনদের কষ্ট ও যন্ত্রণা সম্পর্কে জানতে পারবো।

    গত মাসের শেষের দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া আমার ভাষণে আমাদের সরকার এ পর্যন্ত যেসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার গ্রহণ করেছে আমরা তার একটা প্রতিবেদন তুলে ধরেছি। আমরা রাজনৈতিক দল, সম্পাদক, ব্যবসায়ী নেতা, সুশীল সমাজের নেতা এবং কূটনীতিকদের সাথে ক্রমাগতভাবে বৈঠক করে যাচ্ছি। তারা আমাদের সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। আমরা আমাদের বিদেশী বন্ধুদের কাছ থেকে প্রচুর সমর্থন পেয়ে অভিভূত হয়েছি। আমাদের সাহসী এবং দেশপ্রেমিক প্রবাসীরাও জাতি পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছেন। আমি তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    আজ এই স্মৃতিময় বিষাদ দিনে আমি শহিদদের প্রতিটি পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের প্রতি জানাই অসীম কৃতজ্ঞতা। আমি সকল শহিদ পরিবারের সদস্যদের রাজধানীতে আমন্ত্রণ জানাবো, কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁদের সঙ্গে দেখা করব। আমি তাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে আমরা কখনই শহিদদের স্বপ্নের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব না।

    আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুঃশাসন ও স্বৈরাচার দ্বারা সৃষ্ট ক্ষত পূরণ করা। এজন্য আমাদের প্রয়োজন একতা ও সমন্বয়।

    আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা নিলাম শহিদদের রক্ত এবং আহত ভাইবোনদের আত্মত্যাগকে জাতি হিসাবে আমরা কিছুতেই ব্যর্থ হতে দেবো না। যে সুযোগ তারা আমাদের জন্য তৈরী করে দিয়েছেন সে সুযোগকে আমরা কখনো হাতছাড়া হতে দেবো না। আজ তাদের স্মৃতিময় দিনে আবারো প্রতিজ্ঞা করলাম তাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়বোই।

    মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন।

    প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস

  • গণভবনকে জাদুঘর করা হবে: উপদেষ্টা আসিফ

    গণভবনকে জাদুঘর করা হবে: উপদেষ্টা আসিফ

    গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্প‌তিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলবিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের (কেবিনেট) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হ‌য়ে‌ছে।

    উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শে‌ষে সন্ধ‌্যায় রাজধানীর ফ‌রেন সা‌র্ভিস একা‌ডে‌মি‌তে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে এ তথ‌্য জানান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

    তিনি ব‌লেন, গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে পরিণত করা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণভবন যেমন ছিল তেমন রেখে স্মৃতি জাদুঘর করা হবে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    আসিফ মাহমুদ ব‌লেন, সাউথ কোরিয়ায় এমন স্মৃতি মেমোরিয়াল করা হয়েছিল। আরও অন‌্য দেশেও হয়েছে। তাদের থেকে জেনে গণভবনকে স্মৃতি জাদুঘর করা হবে। সেখানে ফ্যাসিবাদী সরকারের কর্মকাণ্ড প্রদর্শিত হবে।

  • ববি ও বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বরিশাল

    ববি ও বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বরিশাল

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ও বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মঙ্গলবার রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ১৫৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় উভয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠা‌নের চার‌টি বাস এবং বিএম কলেজের প্রশাসনিক ভবনসহ ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়।

    রাত সা‌ড়ে ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত হওয়ার ঘটনা স্বীকার করেছেন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, নগরের বাংলাবাজার এলাকার ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের বাসিন্দা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসনুভা চৌধুরী জোয়ার পরিবারের সঙ্গে জমি নিয়ে প্রতিবেশী এক পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

    সোমবার রাতে বিএম কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী সমন্বয়ক পরিচয়ে সেই বিরোধ নিরসনে জোয়ার বাড়ি গেলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। সে সময় জোয়া সাহায্য চেয়ে ফেসবুকে লাইভ করেন। এরপর তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা এলে বিএম কলেজের সেই শিক্ষার্থীরা তাদের মারধর করেন।

    এ ঘটনায় জোয়া গতকাল বরিশাল কোতোয়ালি থানায় অমি, মোস্তাফিজুর রহমানসহ চার যুবকের নামে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার মানববন্ধন করেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। ওদিকে মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাতের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে গতরাত ১০টার দিকে নগরীর বটতলা এলাকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে চাঁদাবাজির অভিযোগে মারধর করেন।

    এরপর রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে করে ঘটনাস্থলে যান। সে সময় বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা সেই বাসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন এবং চালকসহ ১৫ থেকে ২০ জনকে মারধর করেন।

    এসব ঘটনার সূত্র ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে হামলা-ভাঙচুর চালান।

    তারা রাত ১টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত বিএম কলেজের প্রশাসনিক ভবন, তিন‌টি হল এবং শ্রেণিকক্ষ ভাংচুর করেন। পরে ক্যাম্পাসজুড়ে ভাংচুর করেন ববি শিক্ষার্থীরা।

    রাত পৌনে ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা। প্রায় ১ ঘন্টা চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন তারা। এক সেনাসদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও তার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

    তবে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতা‌ধিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, ভোর সা‌ড়ে ৫টা পর্যন্ত সংঘর্ষ হ‌য়ে‌ছে। সকাল সা‌ড়ে ৬টার পর পরিস্থিতি পু‌রোপু‌রি নিয়ন্ত্রণে আ‌সে।

    তবে সকাল ৮টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএম কলেজ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সেনাবাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে।

    বিএম ক‌লে‌জের শিক্ষার্থীরা বলেন, পা‌রিবা‌রিক বিষয় নিয়ে যে সংঘ‌র্ষ হয়েছে তা মেনে নিতে পারছি না। এ ঘটনায় আমা‌দের প্রায় ৪৫ শিক্ষার্থী আহত হ‌য়ে‌ছেন।

    ব‌বি শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী‌কে আট‌কে রে‌খে‌ছিল বিএম ক‌লে‌জের শিক্ষার্থীরা।

    এ‌দি‌কে নিখোঁজ ছয় শিক্ষার্থী‌কে বু‌ঝে পে‌য়ে‌ছেন ভা‌রপ্রাপ্ত ভি‌সি ড. মো. মুহসীন উ‌দ্দীন। বিএম ক‌লেজের অধ্যক্ষ আ‌মিনুল হক ও ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের ভা‌রপ্রাপ্ত ভি‌সি মুহসীন উদ্দি‌ন স্বাক্ষ‌রিত এক‌টি যৌথ বিবৃ‌তি বুধবার সকালে এ প্রতি‌বেদকের হাতে আ‌সে।

    সেখা‌নে উ‌ল্লেখ করা হয়েছে, বিএম ক‌লেজ কর্তৃপক্ষ ও সাধা‌রণ শিক্ষার্থী‌দের কাছ থে‌কে বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী‌কে বু‌ঝে নি‌য়ে‌ছে বিশ্ব‌বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বিএম কলেজে ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের ওই ছয় শিক্ষার্থীকে বিএম ক‌লে‌জে হামলার সময় আটক হয়। ক‌লে‌জের কেন্দ্রীয় মস‌জি‌দে তা‌দের আট‌কে রাখা হয়। প‌রে বিশ্ব‌বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কা‌ছে হস্তান্তর করা হয়।

    বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ের বাংলা বিভা‌গের প্রধ‌ান ড. উন্মেষ রায় জানান, হামলায় আহত হয়েছে শতা‌ধিক শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৩৩ জ‌ন হাসপাতালে ভর্তি।

    সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ ক‌রে‌ছেন ব‌রিশা‌লের সাধারণ মানুষ। তা‌দের আশঙ্কা, এ ঘটনা অ‌নেক দূর গড়া‌বে।

  • বরিশালসহ ৭ মেট্রোপলিটনে নতুন পুলিশ কমিশনার

    বরিশালসহ ৭ মেট্রোপলিটনে নতুন পুলিশ কমিশনার

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশসহ দেশের সাত মেট্রোপলিটন পুলিশে নতুন কমিশনার পদায়ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব মো. মাহাবুবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    কে কোন মেট্রোপলিটনের কমিশনার হলেন— পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত ডিআইজি ও ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হাসিব আজিজকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি), এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) অতিরিক্ত ডিআইজি ও ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত মো. রেজাউল করিমকে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি),সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ও ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত খোন্দকার রফিকুল ইসলামকে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি), ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও সুপারনিউমারারি ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানকে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও সুপারনিউমারারি ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত মো. জুলফিকার আলী হায়দারকে খুলনা মহানগর পুলিশ (কেএমপি), পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অতিরিক্ত ডিআইজি ও সুপারনিউমারারি ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত মো. মজিদ আলীকে রংপুর মহানগর পুলিশ (আরপিএমপি) এবং ডিএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও সুপারনিউমারারি ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত আমিনুল ইসলামকে বরিশাল মহানগর পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • টেস্টে বিদেশের মাটিতে এটাই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য?

    টেস্টে বিদেশের মাটিতে এটাই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য?

    পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই সিরিজ জয়কে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে দেখছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।

    টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের সাফল্য এসেছে কালেভদ্রে। যেটুকু সাফল্য এসেছে তার বেশিরভাগই আবার ঘরের মাঠে স্পিন সহায়ক উইকেটে খেলে। তবে এবার পাকিস্তানে ঘটেছে ব্যতিক্রমী ঘটনা।

    পেস সহায়ক উইকেটেও নিজেদের জহর দেখিয়েছেন টাইগার স্পিনাররা। আবার পেসাররাও পিছিয়ে ছিলেন না। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তো পাকিস্তানের দশ উইকেটের সবকটি পেসাররাই ঝুলিতে পুরেছেন। আর ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক-লিটনরা দলকে আস্থা জুগিয়েছেন।

    সবমিলিয়ে টিম পারফরম্যান্সে বিদেশের মাটিতে এমন ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। পরিসংখ্যান বলছে, জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর তৃতীয় কোনো দেশের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয় করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে ২০০৯ সালে সিরিজ জয় করেছিল বাংলাদেশ। আর জিম্বাবুয়ের মাঠে তাদের বিপক্ষে ২০২১ সালের সিরিজ জয়ের ব্যবধান ছিল ১-০। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতার নিরিখে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজ জয় নিশ্চিতভাবেই আগের দুই সিরিজের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে থাকবে।

  • নিয়োগ বাতিল হলো ৩ রাষ্ট্রদূতসহ ২৪ কর্মকর্তার

    নিয়োগ বাতিল হলো ৩ রাষ্ট্রদূতসহ ২৪ কর্মকর্তার

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব বাদে প্রশাসন ক্যাডারের ২৪ জনের চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাদের নিয়োগ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    এতে বলা হয়, সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের শর্তানুসারে এসব কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হলো।

    জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে।