Category: প্রচ্ছদ

  • সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ

    সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ

    সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেওয়া প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, ১১ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংস্কারের জন্য প্রাথমিকভাবে ছয়টি কমিশন গঠন এবং কমিশনের প্রধানদের নাম ঘোষণা করেন।

    সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসাবে ড. শাহদীন মালিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এই কমিশনের প্রধান হিসেবে তার পরিবর্তে আলী রীয়াজের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলী রীয়াজ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক, আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র অনাবাসিক ফেলো ও আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের (এআইবিএস) প্রেসিডেন্ট।

  • অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না: তারেক রহমান

    অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না: তারেক রহমান

    ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হাজারও শহিদের রক্তের বিনিময়ে লাখো কোটি জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফসল উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই সরকারের কোনো কোনো কার্যক্রম সবার কাছে হয়তো সাফল্য হিসেবে বিবেচিত নাও হতে পারে। কিন্ত এই সরকারের ব্যর্থতা হবে আমাদের সবার ব্যর্থতা, বাংলাদেশের পক্ষের গণতন্ত্রকামী জনগণের ব্যর্থতা। এটি আমাদের প্রত্যেকের মনে রাখতে হবে। সুতরাং এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। দেশ-বিদেশ থেকে নানা রকমের উস্কানিতেও জনগণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ হতে দেবে না। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাতে নিজেরাই নিজেদের ব্যর্থতার কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সে ব্যাপারে তাদেরকেও সতর্ক থাকতে হবে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সমাবেশে যুক্ত হন।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, রাষ্ট্র-রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম সংস্কারের লক্ষ্যে ২০২৩ সালেই বাংলাদেশের পক্ষের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। তবে, ঘোষিত ৩১ দফাই শেষ কথা নয়। বিএনপি মনে করে, রাষ্ট্র কিংবা রাজনীতি, সব ক্ষেত্রেই সংস্কার কার্যক্রম একটি ধারাবাহিক এবং চলমান প্রক্রিয়া। সুতরাং রাষ্ট্র এবং রাজনীতি সংস্কারে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির আরো প্রয়োজনীয় পরিবর্তন পরিমার্জনকেও বিএনপি স্বাগত জানায়।

    স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের সমালোচনা কের তিনি বলেন, লাখো শহীদের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্র-রাজনীতি শাসন প্রশাসন হওয়ার কথা ছিল গভর্নমেন্ট অফ দ্য পিপল বাই দ্য ফর দ্য পিপল। অথচ গত ১৫ বছর বাংলাদেশে মাফিয়া শাসন চালু করা হয়েছিল। দেশে বিদেশে পলাতক স্বৈরাচার বিনাভোটের সরকারের পরিচয় হয়ে উঠেছিল গভর্নমেন্ট অফ দ্য মাফিয়া বাই দ্য মাফিয়া ফর দ্য মাফিয়া।

    তারেক রহমান বলেন, এই মাফিয়া চক্র দেশকে সর্বক্ষেত্রে ভঙ্গুর করে দিয়েছিলো। দেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর ঋণ নির্ভর এবং পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। মাফিয়া চক্র দেশের ব্যাংকগুলো দেউলিয়া করে দিয়েছে। গত দেড় দশকে দেশ থেকে ১৭ লক্ষ কোটি টাকার বেশি পাচার করে দিয়েছে।

    ৫ই আগস্টের পতিত স্বৈরাচারের বেপরোয়া দুর্নীতি আর লুটপাটের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ বর্তমানে ১০০ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশে আজ যে শিশুটি জন্ম নিয়েছে কোনো কারণ ছাড়াই সেই শিশুটিরও মাথা পিছু ঋণ কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা।

    হাসিনা সরকার রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মাফিয়া চক্র দেশকে শুধু অর্থনৈতিক ভাবেই ভঙ্গুরকরে দেয়নি। দেশের আর্থ-সামাজিক সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক রীতিনীতিকেও ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রতি সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান অকার্যকরকরে ফেলা হয়েছিল। খোদ ফ্যাসিবাদকেই বিচার বিভাগের সূতিকাগারে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। একটি রাষ্ট্র কতটা সভ্য এবং গণতান্ত্রিক সেটি দেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর আচরণে স্পষ্ট হয়ে উঠে। কিন্তু মাফিয়া চক্র দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকেও সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, অন্যায় অনিয়ম আর অরাজকতার বিরুদ্ধে গণবিস্ফোরণে মাফিয়া চক্রের প্রধান দেশ ছেড়ে পালানোর পর/দেশে মাফিয়া শাসন-শোষণের অবসান ঘটেছে। পতিত স্বৈরাচারের পলায়নের মধ্য দিয়ে একটি -গণতান্ত্রিক-মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পথে প্রধান বাধা দূর হয়েছে। তবে বাধা দূর হলেও মাফিয়া চক্রের রেখে যাওয়া ১৫ বছরের জঞ্জাল দূর হয়নি। এই জঞ্জাল দূর করে জনগণের বাংলাদেশে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করছে। তবে মাফিয়া চক্রের প্রধান হাসিনা দেশ ছেড়ে পালালেও মাফিয়া চক্রের বেনিফিশিয়ারি অপশক্তি প্রশাসনের অভ্যন্তরে থেকে কিংবা রাজনীতির ছদ্মাবরণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ কিংবা যেকোনো দেশেই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত সরকার অবশ্যই জনগণের সরকার। তাই জনগণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। রাখবে। তবে কোনো এক পর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জবাবদিহিও কিন্তু নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হয়। সুতরাং, জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সব সংস্কার কার্যক্রমের প্রথম এবং প্রধান টার্গেটও হওয়া জরুরি।

    তারেক রহমান বলেন, এজন্যই অগ্রাধিকারভিত্তিতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত জবাবদিহিমূলক সরকার এবং সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া দরকার। কারণ, জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া সংস্কার কার্যক্রমের প্রক্রিয়ায় জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া উন্নয়ন-গণতন্ত্র কিংবা সংস্কার কোনোটিই টেকসই এবং কার্যকর হয় না। একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিটি ভোটারের ভোট প্রদানের অধিকার নিশ্চিত করে ভোটারদের কাঙ্খিত প্রতিনিধি নির্বাচন করারঅধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

    তিনি বলেন, সেই লক্ষ্যে বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন জনপ্রশাসনের সংস্কার এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে ‘সক্ষম এবং উপযুক্ত’ গড়ে তুলতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তবে বিএনপি মনে করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এজেন্ডা সেটিংয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে না পারলে গণঅভুত্থানের সাফল্য ব্যাহত করতে ষড়যন্ত্রকারী চক্র নানা সুযোগ নিতে পারে। এর কিছু আলামত ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এবারের গণঅভ্যুথানের চরিত্র অতীতের যে কোনো গণঅভ্যুত্থানের চেয়ে ব্যতিক্রম। কেন ব্যতিক্রম? কারণ পলাতক স্বৈরাচারের অবৈধ শাসনকালে সব গণতান্ত্রিক অধিকার মানবাধিকার হারিয়ে জনগণ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বও হারাতে বসেছিল। তাই, এবারের গণঅভ্যুথানের মধ্য দিয়ে কেবল মানুষের অধিকারই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা পেয়েছে। দেশ এবংজনগণ এখন গুম খুন অপহরণ আর বিভীষিকাময় ‘আয়নাঘরে’র আতংকমুক্ত, স্বাধীন। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার পর এবার দেশ এবজনগণের স্বাধীনতা সুরক্ষায় প্রথম কাজ হতে হবে, রাষ্ট্র এবং সমাজে মানুষের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

    বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে বারো কোটি ভোটার। এরমধ্যে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় প্রায় আড়াই কোটি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে। ভোটার হওয়ার পর তরুণ প্রজন্মের এই আড়াই কোটি ভোটার একটি জাতীয় নির্বাচনেও ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। ভোট দিয়ে তারা তাদের কাঙিক্ষত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেনি। কিংবা তাদের নিজেরাও কেউ ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়নি। বিএনপি মনে করে, দেশের জনশক্তির অর্ধেক নারী এবং তারুণ্যের এই বৃহৎ অংশকে, রাজনৈতিক অংশীদারিত্বের বাইরে রেখে একটি বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। সংবিধান কিংবা প্রবিধানে যাই থাকুক জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা না গেলে সংস্কার প্রক্রিয়ায় জনগণকে সম্পৃক্ত করা না গেলে শেষ পর্যন্ত কোনো সংস্কার কার্যক্রমেরই কার্যকরী ফল পাওয়া যাবে না।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ। আরও বক্তব্য দেন চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ।

    সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ঢাকা বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুলসহ বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী। ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত আছেন।

  • সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে বরিশাল, খাল ভরাটকে দুষছেন বাসিন্দারা

    সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে বরিশাল, খাল ভরাটকে দুষছেন বাসিন্দারা

    অনলাইন ডেস্কঃ ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি খাল খনন এবং ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার অব্যাহত থাকলেও কোনোভাবেই জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণ মিলছে না বরিশাল নগরীর বাসিন্দাদের। এজন্য খাল ভরাট করে সড়ক ও মার্কেট নির্মাণকে দায়ী করছেন নগরবাসী।

    সাগরে নিম্নচাপের কারণে গতকাল শনিবার থেকে আজ রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে আবার কখনও মুষলধারে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর বেশির ভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নগরীর বটতলার মোড় থেকে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ পর্যন্ত হাঁটুসমান পানি। এ সড়কের সঙ্গে থাকা ২০টির বেশি শাখা সড়কও পানিতে ডুবে আছে। একইভাবে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

    নগরীর বটতলাবাসী বিদ্রুপ করে বলেন, ‘আকাশে মেঘ আসলেই সেখানকার সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। নগরীর কোথাও পানি না থাকলে বৃষ্টি হলে সেখানে পানি জমবেই। এ অবস্থা চলে আসছে খাল ভরাটের পর থেকে। বটতলা মসজিদ মোড় এলাকায় খাল ভরাট করে জেলা পরিষদ গড়ে তুলেছে বহুতল মার্কেট। এরপর খাল ভরাট করে সরু ড্রেন করা হয়েছে। এতে করে বৃষ্টির পানিতে ড্রেন ভরে তা সড়কে সয়লাব হয়।’

    প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘কীর্তনখোলা নদীর সঙ্গে সংযোগ ভাটার খালটি জিলা স্কুলের সামনে থেকে হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে বটতলা ও চৌমাথা হয়ে সাগরদী খালের সঙ্গে মিশেছে। ওই সময় ভারী বর্ষণে কোনোদিন ওই এলাকায় পানি জমেনি। কিন্তু খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। ওই সড়কের পানির চলে যায় ১৫ থেকে ২০টি শাখা সড়কে। যার ফলে বাসা থেকে বের হওয়ার মতো কোনও পরিস্থিতি থাকে না। এজন্য সিটি করপোরেশন থেকে ড্রেন পরিষ্কার করানো হলেও তাতেও মিলছে না সমাধান। বৃষ্টিতে কোথাও পানি না জমলে আমাদের এলাকায় পানি থাকবেই। আর এ কারণে জলাবদ্ধতার খবর নিতে সাংবাদিকরাও ভিড় করেন এ এলাকায়।’

    নগরীর কাউনিয়া সাবান ফ্যাক্টরি এলাকার বাসিন্দা মো. অলি বলেন, ‘বোঝার পর থেকেই আমি আমাদের এলাকার সড়ক বছরের বেশির ভাগ সময় পানির নিচে দেখে আসছি। ভারী বৃষ্টির প্রয়োজন হয় না, সামান্য বৃষ্টি হলেও সড়কটি পানির নিচে চলে যায়। বর্তমানে একই অবস্থা বিরাজ করছে। সড়কে থাকা পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা পানি মিশে দুর্গন্ধময় পরিবেশ বিরাজ করছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ওই পানি পেরিয়ে মসজিদে যাওয়ার পর কারও অজু থাকে না। আবারও অজু করে নামাজে দাঁড়াতে হয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে এক যুগের বেশি সময় ধরে সিটি করপোরেশনের দ্বারস্থ হলেও আজ না কাল এভাবে বছরের পর বছর পেরিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা এলাকাবাসী ওই পানিতে চলাচল করতে করতে এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।’ একই কথা জানালেন সেখানকার বাসিন্দারা।

    সার্কুলার রোডের বাসিন্দা মো. তুহিন জানান, তাদের এলাকায় একসময় খাল ছিল। সেই খাল ভরাট করে সড়ক নির্মাণের পর থেকে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকায় পানিতে সয়লাব থাকে। একই অবস্থা কালুশাহ সড়কেরও। সেখানে তৃতীয় এবং পঞ্চম পরিষদের দুই মেয়রের বাসভবন হওয়া সত্ত্বেও বৃষ্টি হলে ওই সড়ক দিয়েও চলাচল কষ্টকর হয়ে যায়। একইভাবে পানিতে তলিয়ে থাকে পলিটেকনিক সড়কও। এ জলাবদ্ধতা নিয়ে বহু নিউজ হয়েছে। কিন্তু তাদের দুর্ভোগ আজও কমেনি বলে জানালেন তুহিন।

    নগরীর বাসিন্দা আলফাজ উদ্দিন বলেন, ‘ড্রেন পরিষ্কার থেকে শুরু করে খাল খননে কিছু সমস্যা কেটেছে। তবে কীর্তনখোলা নদীতে জোয়ারের পানিতে বেশির ভাগ সময় নগরীতে পানি ওঠে যায়। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় জোয়ার ও বৃষ্টি একসঙ্গে হলে। তখন হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। অবশ্য বছরের পর বছর ধরে এ অবস্থা চলায় এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।’ এ পানি থেকে কবে নিস্তার মিলবে তার সদুত্তরও কেউ দিতে পারছে না বলে জানালেন আলফাজ।

    বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশে নগরীর কালুখা বাড়ির বাসিন্দা মো. মিরাজ বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই আমতলার মোড় থেকে শুরু করে কালুখার বাড়ি এবং সিকদাপাড়া সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। আগে স্বাধীনতা পার্কটি একটি ধানি জমি ছিল। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী এলাকা ছিল নিচু জমি। এরসঙ্গে বেশ কিছু বড় বড় পুকুর ছিল। তা ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের কারনে সামান্য থেকে ভারী বৃষ্টি, যা হোক না কেন সড়ক থাকে পানির নিচে। আর এ অবস্থা শুরু হয় সিটি করপোরেশন ঘোষণার পর ভবন বৃদ্ধির কারণে।’

    ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুস্তুম আলী বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকে বেড়েছে পানির সঙ্গে যুদ্ধ। ভারী বর্ষণ এবং কীর্তনখোলায় জোয়ারের পানি এলাকা সয়লাব হয়ে যায়। আর সেই পানি সরতে অনেকদিন সময় লাগে। বছরের বেশির ভাগ সময় ওই পানি দিয়েই চলাচল করতে হয়। ছেলেমেয়ের স্কুল, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের একই অবস্থা।’

    এদিকে সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খাল ভরাট করে নগরীতে নির্মাণ করেছে বহুতল মার্কেট ও সড়ক। আর এতেই নগরে বাড়ছে জলাবদ্ধতা।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, ‘অপরিকল্পিত ড্রেনেজ-ব্যবস্থা, খাল খনন না করা, জলাশয় ভরাটের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ২০১০ সালের মাস্টারপ্ল্যানে নগরীতে ৪৬টি খালের নাম পাওয়া গেলেও এখন কোনোমতে অস্তিত্ব টিকে আছে মাত্র ৭টির। আর নগরীতে বর্তমানে জলাশয় টিকে আছে মাত্র ১০ শতাংশ। ফলে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহের জায়গা না থাকায় এ দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন। সেখানে ৩০টি ওয়ার্ড রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমবেশি পানি থাকে। দীর্ঘদিন পর এ বছরের শুরুর দিকে ৭টি খাল খনন করা হয়। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে। তাতেও জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই মিলছে না নগরবাসীর।’

    সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে ৭টি খান খনন করা হয়েছে। এ ছাড়া ড্রেনে যাতে পানি আটকে না যায় এ জন্য ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে।’

    শহর রক্ষা বাঁধের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া এ ব্যাপারে কেউ উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে না। তবে বিষয়টি সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনায় রয়েছে।’

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ‘কীর্তনখোলা নদীর পানি বাড়েনি। বিভিন্ন সময় সমীক্ষা চালিয়ে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। সমস্যা দেখা দিয়েছে নগরীর খাল, ডোবা, নালা ও পুকুর ভরাট করে বহুতল বাড়ি থেকে শুরু করে সড়ক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ কারণে নদী ও বৃষ্টির পানি জায়গা না পেয়ে সড়ক প্লাবিত করছে। নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় ইতোমধ্যে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ৭টি খাল খনন করা হয়েছে। এতে করে জলাবদ্ধতা অনেক কমে এসেছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কীর্তনখোলা নদীর নগরীর প্রান্তে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ। বাঁধটি দেওয়া গেলে বিভিন্ন সময় বৃষ্টির সঙ্গে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নগরী প্লাবিত হয়। সে থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব ছিল। এর সঙ্গে ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং প্রতিবছর নগরীর মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের পুনঃখনন অব্যাহত রাখতে হবে। সেজন্য সিটি করপোরেশনকেও এগিয়ে আসতে হবে।’ তারা সাহায্য চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সাহায্য করতে প্রস্তত বলে জানান তিনি।

  • সবার সহযোগিতায় নতুন বরিশাল উপহার দিতে চাই : নতুন জেলা প্রশাসক

    সবার সহযোগিতায় নতুন বরিশাল উপহার দিতে চাই : নতুন জেলা প্রশাসক

    বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, আমি ব্যক্তি স্বার্থে নয়, জনগণের স্বার্থে কাজ করতে চাই। আমি দিতে এসেছি, আর নেয়ার দায়িত্ব আপনাদের।

    আমি চাই সকলের সহযোগিতায় নতুন বরিশাল উপহার দিতে।
    রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

    আমি দুর্নীতিকে সহ্য করবো না জানিয়ে তিনি বলেন, আমি যতদিন আছি বরিশালে জনগণের স্বার্থ ছাড়া ব্যক্তি স্বার্থের কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না। আর গুণগত মান নিশ্চিত করে যথাসময়ে প্রকল্প শেষও করতে হবে। আমি চাই প্রকল্পের বিষয় জনগণ থেকে শুরু করে সবাই অবগত থাকবে, তাই প্রকল্প স্থলে পুরো কার্যক্রম সাইনবোর্ডে টানিয়ে দেয়া হবে।

    সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ আমার কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ছাত্র আন্দোলনের স্পিরিট টাকে ধরে নতুন দেশ গড়ার প্রত্যয়ে যাত্রা শুরু করেছি। আমরা শহিদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।

    মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক গৌতম বাড়ৈ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মনদীপ ঘরাই, বরিশাল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, বরিশাল টেলিভিশন মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হুমায়ুন কবির, ইত্তেফাকের বরিশাল ব্যুরো প্রধান শাহিন হাফিজ, রিপোর্টার্স ইউনিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুশফিক সৌরভ, নাগরিক টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান তন্ময় তপু প্রমুখ।

  • শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম হত্যা মামলার প্রতিবেদন ১৫ অক্টোবর

    শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম হত্যা মামলার প্রতিবেদন ১৫ অক্টোবর

    মুদি দোকানদার আবু সায়েদকে হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

    রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকী আল ফারাবী এ দিন ধার্য করেন।

    এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল।কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেননি।এজন্য আদালত মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন ওই দিন ধার্য করেন।

    এর আগে ১৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে এসএম আমীর হামজা নামে এক ব্যক্তি মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর শেখ হাসিনাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে মোহাম্মদপুর থানাকে নির্দেশ দেন আদালত। মোহাম্মদপুর থানা পরদিন মামলার মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে।

    মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত কমিশনার মো. হারুন অর রশীদ ও যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।

    কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে গত ১৯ জুলাই বিকাল ৪টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন বছিলায় ৪০ ফিট চৌরাস্তায় আবু সায়েদ নিহত হন।এরপর গণআন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এটিই প্রথম মামলা হয়।এরপর তার বিরুদ্ধে সারা দেশে শতাধিক মামলা হয়েছে।

    মামলার বাদী আদাবর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী এসএম আমীর হামজা শাতিল। তিনি সচেতন নাগরিক হিসেবে একজন নিরীহ নাগরিক হত্যার বিচার চেয়ে এই মামলা করেন।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা মিছিল সমাবেশ করে। ওই সব শান্তিপূর্ণ মিছিলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। বহু ছাত্র-জনতা নিহত ও আহত হন। গত ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে বসিলার ৪০ ফিট এলাকায় ছাত্র-জনতা শান্তপূর্ণ মিছিল সমাবেশ করছিল। সেখানেও পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। রাস্তা পার হওয়ার সময় স্থানীয় মুদি দোকানদার আবু সায়েদ মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। তিনি ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন।

    মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, নিহত সায়েদকে তার গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদায় নতুন বস্তি প্রধান হাটে নিয়ে দাফন করা হয়। তার মা, স্ত্রী, ছেলে সন্তান সেখানেই থাকেন। এ কারণে তারা ঢাকায় এসে মামলা করতে অপারগ। এজন্য বিবেকের তাড়নায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মামলাটি করেছেন তিনি।

  • মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যে কথা হলো

    মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যে কথা হলো

    মার্কিন প্রতিনিধিদল অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানার আগ্রহ ব্যক্ত করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব এম জসীম উদ্দিন।

    রোববার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি একথা জানান।

    তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তরের সহকারী আন্ডারসেক্রেটারি ব্রেন্ট নেইম্যানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করছে। কিছুক্ষণ আগে তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব, রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাণিজ্য সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে সূচিত বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সরকার এরইমধ্যে যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে সে সব পদক্ষেপ সম্পর্কে আমরা প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেছি।

  • শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছেন: ড. ইউনূস

    শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছেন: ড. ইউনূস

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে উদ্ভাবন করতে হবে। বর্তমান সরকার শিক্ষা, অর্থ, শ্রম খাত, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, বেসামরিক প্রশাসন এবং ব্যবসার পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এসব সংস্কারে নেদারল্যান্ডস সরকারের সহযোগিতা চাই।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইরমা ভ্যান ডুরেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ সহযোগিতা চান তিনি।

    ডাচ রাষ্ট্রদূত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তার দেশের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন, নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের সঙ্গে কৃষি, সামুদ্রিক, শিল্প, যুব, অর্থনীতি, শ্রম, পরিবেশ এবং বন্যা ব্যবস্থাপনাসহ সবক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করবে।

    অধ্যাপক ইউনূস ডাচ রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নেদারল্যান্ডসের নেতৃত্ব ও ব্যবসায়ীসহ সবার সঙ্গে আমার দীর্ঘ ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে।

    এ সময় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ক্যাম্পে বেড়ে ওঠা রোহিঙ্গাদের অবশ্যই শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। শিক্ষার অভাবে তাদের ভবিষ্যৎ যেন অন্ধকার না হয়।

    ডাচ রাষ্ট্রদূত ইরমা ভ্যান ডুরেন জানান, তারা কৃষি, পানিসহ সম্ভাব্য ব্যবসার ক্লাস্টারে আরও ডাচ বিনিয়োগ আনবেন।

    বৈঠকে এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক কাজী রাসেল পারভেজ এবং ডেপুটি ডাচ রাষ্ট্রদূত থিজ ওয়াউডস্ট্রা উপস্থিত ছিলেন।

  • আমু ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক, আলোচনায় তার পালিত মেয়েও

    আমু ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক, আলোচনায় তার পালিত মেয়েও

    গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতাদের দায়ের করা প্রথম তিনটি মামলায় আসামি করা হয়নি সাবেক এমপি আমির হোসেন আমুকে। ১৪ দলের এই সমন্বয়ক ঝালকাঠিতে ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক।

    অর্থবিত্তে ঠিক কতটা ফুলেফেঁপে উঠেছিলেন সাবেক এমপি আমির হোসেন আমু তা জানা সম্ভব না হলেও তার সঙ্গে থাকা ছোট নেতারাও বনে গেছেন কোটিপতি। ৫ আগষ্টের আগ পর্যন্ত দোর্দণ্ড প্রতাপে ঝালকাঠি শাসন করা এই আওয়ামী লীগ নেতার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানে না কেউ। তার বিত্তের ভান্ডার দেখাশোনা করা ফখরুল মজিদ কিরনও আত্মগোপনে। সম্পর্কে ভায়রা এই কিরনের মাধ্যমেই ঠিকাদারি আর চাকরিসহ সব সেক্টর থেকে পার্সেন্টেজ আদায় করতেন আমু। যার সর্বশেষ চালানের পাঁচ কোটি টাকা ৫ আগস্ট রাতে উদ্ধার হয় ঝালকাঠি শহরের রোনালস রোডে থাকা সাবেক এই মন্ত্রীর বাসভবন থেকে। ওই ঘটনায় সেফ্র একটি সাধারণ ডায়রি করা ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ৩৫ দিনেও।

    আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমুর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস কখনোই পায়নি কেউ। মৃদু প্রতিবাদেও ধ্বংস হয়ে যেত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। কেবল আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপি নেতারাও ভয়ে কখনো কথা বলত না তার বিরুদ্ধে। যেন সবার কাছেই জ্যান্ত আতঙ্ক ছিলেন ১৪ দলের সমন্বয়ক এই নেতা। হাসিনা সরকারের পতনের পর ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতাদের করা প্রথম তিনটি মামলায় আসামি করা হয়নি তাকে। বিষয়টি নিয়ে কথা উঠলে ২ সেপ্টেম্বর দায়ের হওয়া সর্বশেষ মামলায় অনেকটা দায়সারাভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় তার নাম। তাও সেই মামলার বাদী হননি বিএনপির দায়িত্বশীল কেউ।

    পরিচয় না প্রকাশের শর্তে ঝালকাঠির একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘ক্ষমতার আমল কেবল নয়, ক্ষমতার বাইরে থাকলেও আমু প্রশ্নে নেতিবাচক কিছু বলার সাহস পেত না কেউ। অথচ ঝালকাঠিতে হেন দুর্নীতি নেই যা করেননি এই নেতা। সব দপ্তরের ঠিকাদারি কাজে নির্দিষ্ট অঙ্কের পার্সেন্টেজ দিতে হতো তাকে। টিআর কাবিখা আর সংসদ-সদস্যদের নামে বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও নিতেন টাকা।’

    নলছিটি উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ে গত বছর নৈশপ্রহরী, অফিস সহকারী ও আয়া পদে তিনজন লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে আমির হোসেন আমুর নির্ধারিত প্রতিনিধিকে। কেবল আমি নই, সব বিদ্যালয়সহ সব ধরনের নিয়োগেই ছিল একই নিয়ম।’

    ঝালকাঠি সড়ক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যত ধরনের ঠিকাদারি টেন্ডার, সব ক্ষেত্রেই আমুকে দিতে হতো টাকা। ঠিকাদার নির্বচান প্রশ্নেও তার সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। ই-টেন্ডার চালু হওয়ার পরও নানা কৌশলে টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। কথা না শুনলে কেবল বদলি নয়, শারীরিক মানসিকভাবেও হতে হতো হেনস্তা।’ সড়ক বিভাগের মতো এলজিইডি, শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তর, গণপূর্ত, থানা প্রকৌশলী এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন বিভাগসহ সব ক্ষেত্রেই ছিল একই অবস্থা।

    বেপরোয়া এই অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে গত ১৬ বছর ধরে শত শত কোটি টাকা আয় করলেও দেশে আমির হোসেন আমুর তেমন কোনো সম্পদের সন্ধান মেলেনি। ঝালকাঠির রোনালস রোডে ভবন, বরিশাল নগরীর বগুড়া রোডে প্রাসাদসম আলীশান বাড়ি এবং রাজধানী ঢাকার ইস্কাটনে বেশ বড়সড় একটি বাগানবাড়ি রয়েছে তার।

    আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর তেমন একটি ভরসা ছিল না তার। অথবা এমনও হতে পারে যে ব্যাংকে গেলে ছিল ধরা পড়ার ভয়। বস্তায় বস্তায় টাকা তিনি রাখতেন বাড়িতে। যার প্রমাণ মেলে ৫ আগস্ট। বিক্ষুব্ধ জনতা ওইদিন হামলা ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেয় তার রোনালস রোডের বাড়িতে। ভাঙচুর চলাকালেই বহু মানুষকে দেখা গেছে বাড়ি থেকে বান্ডিল বান্ডিল টাকা নিয়ে বের হতে। তারপরও আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের লোকজন সেখান থেকে উদ্ধার করে কয়েক বস্তা ভর্তি টাকা। গোনার পর যার সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ কোটিরও বেশি। একই সঙ্গে উদ্ধার হয় মোটা অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা। ঝালকাঠির মতো বরিশাল নগরীতে থাকা আমুর প্রাসাদেও হামলা ভাঙচুর হয় সেদিন। সেখান থেকেও বান্ডিল বান্ডিল টাকা নিয়ে বের হয় হামলাকারীরা।

    যার বাড়িতেই থাকে বস্তা বস্তা টাকা সেই মানুষটার দেশে মাত্র তিনটি বাড়ি ছাড়া আর কিছু নেই- ভাবতেই যখন খটকা লাগে ঠিক তখনই আলোচনায় আসে তার পালিত মেয়ে সুমাইয়া হোসেনের নাম। ব্যক্তি জীবনে নিঃসন্তান আমু তার শ্যালিকা মেরী আক্তারের কন্যা এই সুমাইয়াকে পালক হিসেবে নেন আরও বহু বছর আগে। বর্তমানে দুবাইতে থাকা এই সুমাইয়ার বিয়েও হয়েছে দুবাই প্রবাসী এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর সঙ্গে। অবৈধ পন্থায় আয় করা শতকোটি টাকা ওই মেয়ের কাছে পাঠিয়েছেন আমু, এটাই আলোচনা ঝালকাঠি শহরে।

    পরিচয় না প্রকাশের শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘এমন কোনো সেক্টর নেই যেখান থেকে টাকা পেতেন না আমু। সব টাকাই নগদে পৌঁছাত তার কাছে। লেনদেনের মাধ্যম হিসাবে কাজ করতেন ভায়রা ফখরুল মজিদ কিরন। এই কিরনও ছিলেন একটি রহস্যময় চরিত্র।

    শিল্পমন্ত্রী থাকাকালে আমুর এপিএস ছিলেন কিরন। সর্বশেষ সরকারে আমুকে মন্ত্রী করা না হলেও তার সংস্পর্শেই থেকে যান তিনি। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো আমুর পাশাপাশি সদ্য সাবেক সরকারে দায়িত্ব পালন করা শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ুনেরও এপিএস ছিলেন কিরন।

    ঝালকাঠির বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, আলোচিত এই কিরনের বাড়ি ঢাকা বিভাগের নরসিংদী জেলায়। সর্বশেষ শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ুনের আপন ছোট ভাই কিরন তার নিজের এলাকা বাদ দিয়ে পড়ে থাকতেন ঝালকাঠি। কেবল সম্পদ ভান্ডারের দেখাশোনা আর পার্সেন্টেজ আদায় নয়, নির্বাচনি এলাকায় আমুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও দেখাশোনা করতেন তিনি।

    পরিচয় না প্রকাশের শর্তে নলছিটি উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমুর সঙ্গে দেখা করতে হলে অনুমতি নিতে হতো কিরনের। উন্নয়নমূলক সব কাজের ভাগ-বাটোয়ারা করতেন তিনি। তার কথার বাইরে বলতে গেলে এক পা-ও চলতেন না আমু। পরিস্থিতি এমন ছিল কিরন যেন ছিলেন আমুর ছায়া। এই কিরনের মাধ্যমেই নির্বাচনি এলাকা থেকে শত শত কোটি টাকা কামিয়েছেন আমু। যার প্রায় পুরোটাই এখন দুবাইতে তার মেয়ে সুমাইয়ার কাছে আছে বলে ধারণা সবার। এসব ব্যাপারে কথা বলার জন্য আমু ও কিরনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি কাউকে। মোবাইলে খুদে বার্তা দিয়েও মেলেনি উত্তর।

    ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম বলেন, সাবেক এমপির বাসা থেকে পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় আমরা একটি সাধারণ ডায়রি করেছি। টাকা জমা আছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

  • ২৫ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ

    ২৫ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ

    দেশের ২৫টি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা, ফরিদপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রংপুর, গাইবান্ধা, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, বগুড়া, জয়পুরহাট, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, চাঁদপুর, গাজীপুর, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার, খুলনা ও গোপালগঞ্জে নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    এতে বলা হয়, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • বরিশালে মসজিদের মাইকে বিএনপি প্রতিহতের ঘোষণা, ছাত্রলীগ নেতা আটক

    বরিশালে মসজিদের মাইকে বিএনপি প্রতিহতের ঘোষণা, ছাত্রলীগ নেতা আটক

    সরকার পতনের চৌত্রিশ দিন পর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের দখল থেকে মুক্ত হয়েছে বরিশালের বঙ্গবন্ধু কলোনি। রোববার দুপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রবেশ ঠেকাতে কলোনির মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয় কলোনি দখল করে রাখা আওয়ামী লীগ ক্যাডার ছাত্রলীগ নেতা আল-আমিন ও তার বাহিনী।

    এরপর বিএনপি নেতাকর্মীরা কলোনিতে প্রবেশ করলেই হামলা চালানো হবে- এমন প্রস্তুতি নেয় তারা। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে আল-আমিনকে গ্রেফতার করার সময় তাদের হামলায় দুই পুলিশ ও এক সেনাসদস্য আহত হন।

    আল-আমিনকে গ্রেফতারের খবরে কলোনির অন্তত দেড় সহস্রাধিক পরিবারসহ স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। এ বাহিনীর ভয়ে স্থানীয়রা আতঙ্কে ছিলেন।

    এর আগে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়ার সময় আল-আমিনকে বলতে শোনা যায়- ‘এই কলোনিতে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী প্রবেশ করতে পারবে না। আপনাদের যার কাছে যা কিছু আছে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করতে রাস্তায় আসুন।’

    এর আগে ৪ আগস্ট নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মজিবুর রহমানের সহযোগী ছাত্রলীগ নেতা আল-আমিন ও তার বাহিনী বিএনপির ৫ নেতাকর্মীকে কুপিয়ে জখম করে। তাদের হামলায় সেদিন গুরুতর আহত হন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌস, আসলাম, তানজিল, সুমন ও রিমন। সেই ঘটনায় একজনের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বাকি চারজনও গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক হুমায়ুন বলেন, গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে কলোনিতে তাণ্ডব চালিয়েছে আল-আমিন বাহিনী। সমগ্র বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও বরিশাল নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ড ছিল ওই বাহিনীর দখলে। শুধু তাই নয়, কাউন্সিলর মজিবুর রহমানের ছত্রছায়ায় এই সন্ত্রাসী বাহিনী চালিয়ে যাচ্ছিল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। সাধারণ জনগণ তো দূরের কথা থানা পুলিশও আল-আমিন বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে ভয় পেত।

    এ কথার সত্যতা মিলেছে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ৪ আগস্ট ঘটনার পরপরই আমরা সিনিয়র অফিসার ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আল-আমিন বাহিনীর বিষয়ে কথা বলেছি। রোববারের ঘটনায় আল-আমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    গ্রেফতারকৃত আল-আমিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দায়ের হওয়া ১৩টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।