Category: প্রচ্ছদ

  • পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও সিটি মেয়রের প্রচেষ্টায় প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বরিশালের  খালগুলো

    পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও সিটি মেয়রের প্রচেষ্টায় প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বরিশালের খালগুলো

    দখল-দূষণের কবলে হারিয়ে যাওয়া বরিশাল নগরীর ২৪টি খালের মধ্যে প্রধান ৭টি খালের প্রাণ ফেরাতে খনন কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর ফলে নগরীর কোলঘেঁষে বয়ে যাওয়া আমানতগঞ্জ, জেলখাল, রূপাতলী খাল, পলাশপুর খাল, সাগরদী খাল, চাঁদমারী খাল এবং ভাটারখাল দীর্ঘদিন পরে হলেও অস্তিত্ব ফিরে পেতে যাচ্ছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) আসনের সংসদ সদস্য পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম ও সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহর প্রচেষ্টায় খালগুলো পুনরায় নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। একইসঙ্গে ম্যাপ অনুযায়ী উদ্ধার হচ্ছে দখলকৃত খালের পাড়। খনন কাজ শেষ হলে নগরীর প্রায় সাড়ে ৫ লাখ বাসিন্দা জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাবে। পর্যায়ক্রমে নগরীর মধ্যে থাকা ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ছোটবড় ৪৬ খালও আসবে সংস্কারের আওতায়।

    জানা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে বরিশালে ৪৬টি খালের অস্তিত্ব ছিল। তবে স্বাধীনতা পরবর্তীতে তা কমে দাঁড়ায় ২৪টিতে। বর্তমানে বড়-ছোট মিলিয়ে টিকে থাকা ২৪টি খালও পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে। দখল-দূষণ আর অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে টিকে থাকা খালগুলো মরাখালে পতিত হচ্ছে। আর হারিয়ে গেছে ২২টি খাল। এরমধ্যে এখন প্রাথমিকভাবে ৭টি প্রধান খালের খনন শুরু হওয়ায় আনন্দে ভাসছে ওইসব এলাকার বাসিন্দারা।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বরিশাল নগরীর ৭টি খাল খননে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় পলাশপুর খাল (১ কিলোমিটার ৭০০ মিটার), ১ কোটি ৯ লাখ টাকায়, আমানতগঞ্জ খাল (২ কিলোমিটার ৫০ মিটার) ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকায়, সাগরদী খাল (৯ কিলোমিটার) ২৮ লাখ টাকায়, রুপাতলী খাল (১ কিলোমিটার) ৩২ লাখ টাকায়, চাঁদমারি খাল (১ কিলোমিটার ৪২১ মিটার) ৪ লাখ টাকায়, ভাটার খাল (১৬০ মিটার) ও ২৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় জেল খালের (২ কিলোমিটার) সর্বমোট ১৯ কিলোমিটারে পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

    নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা মাহিমুল হাসান এমদাদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক জোয়ারে খাল উপচে সড়কে হাঁটুপানি জমে থাকে। ফলে তখন আমাদের যাতায়াতসহ স্বাভাবিক কাজ কর্ম বন্ধ হয়ে যায়। এখন খাল খনন হলে হয়তো ওই দুর্ভোগ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মিলবে।

  • বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : জাহিদ ফারুক

    বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : জাহিদ ফারুক

    নিজস্ব প্রতিবেদক :::: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। তার স্বপ্ন ছিল একটি সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন একটি সমৃদ্ধশালী উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশের। আমরা সবাই মিলে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করব। আমাদের লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ। রোববার (১৪ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দ্বিতীয় মেয়াদে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক তার প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, বিগত পাঁচ বছরের আপনাদের নিষ্ঠা আন্তরিকতার সঙ্গে কর্মতৎপরতা মন্ত্রণালয়কে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে। আগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দের মধ্যে সবোর্চ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, কাজ ধীর গতিতে করা যাবে না, যথাযথ গতি ও প্রক্রিয়া কাজ সম্পাদন করতে হবে। প্রকল্পের কাজ ঠিকাদাদের দেওয়ার সময় তাদের আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। বছরের শুরুতে যার যার এলাকার প্রকল্প পরিদর্শন করে প্রতিবেদন পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধান প্রকৌশলীদের আরও আন্তরিক হতে হবে। প্রত্যেকে যার যার অধীনস্থদের কাজ তদারকি করবেন। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে হবে। এ বছর এপিএতে (বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি) পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় চার নম্বরে রয়েছে। আগামীতে লক্ষ্য হতে হবে এক অথবা দুই নম্বর অর্জনের।

  • নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক সোমবার

    নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক সোমবার

    নতুন মন্ত্রিসভা প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছে সোমবার (১৫ জানুয়ারি)। জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক হবে।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার (১৩ জানুয়ারি) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাড়িতে মন্ত্রিপরিষদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন।

    বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে কিছু জানা না গেলেও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ই হবে প্রথম বৈঠকের মূল বিষয়। এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আগামীর পথচলার দিকনির্দেশনা দেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১১ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে নতুন সরকার গঠন করা হয়। এ সরকারে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

  • সৎ কর্মের উত্তম পুরস্কার পেলেন জাহিদ ফারুক

    সৎ কর্মের উত্তম পুরস্কার পেলেন জাহিদ ফারুক

    বাংলাদেশ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় দফা দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বরিশাল সদর ৫ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীম। গত ৭ জানুয়ারি বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন তিনি। বুধবার এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণের পরপরই আলোচনায় আসে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এবারও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন। সন্ধ্যার পরে জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায় বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহিদ ফারুক প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় আছেন।

    এরআগে তাকে মন্ত্রি পরিষদ সচিব ফোন করেছেন বলে জাহিদ ফারুক নিজেই মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন। তাছাড়া তিনি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে আলহামদুলিল্লাহ পোস্ট করেছেন।

    জাহিদ ফারুক তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর মন্ত্রি পরিষদ সচিব তাকে ফোন করে বেশ কিছু বিষয় জানতে চেয়েছেন। ২০১৮ সালেও অনুরুপভাবে তাকে ফোন করা হয়েছিল। এবং পরবর্তীতে তাকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জাহিদ ফারুককে নিয়োগ করেছিলেন।

    গত ৫ বছর নিরালস পরিশ্রম এবং সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে তিনি বেশ প্রশংসাও কুড়িয়েছেন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৯ ডিসেম্বর বরিশালে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাহিদ ফারুকের সততার কথা জানিয়ে গেছেন। এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে বরিশাল সদর আসনে মনোনয়ন দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছিলেন।

    এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে জাতীয় দৈনিকগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের সফল মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের একটি তালিকা প্রকাশ করে। সেই সংবাদে জাহিদ ফারুককে সফল প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করা হয়।

    গত ৫ বছর জাহিদ ফারুক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করলেও এবার তাকে একই স্থানে রাখা হবে কী না তা নিশ্চিত নয়। এমনকি প্রতিমন্ত্রীও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু বলতে পারছেন না।

    অভিজ্ঞ মহল মনে করছে, জাহিদ ফারুক নদীবেস্টিত জনপদের সংসদ সদস্য হওয়ায় তাকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের শীর্ষ পদে বসানো হয়েছিল। দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি সফলতার স্বাক্ষর রাখায় এবারও তাঁকে প্রতিমন্ত্রী করার ঘোষণা এসেছে। ধারনা করা হচ্ছে, এবারও তাকে একই মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

    তবে এনিয়ে জাহিদ ফারুক আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না করলেও বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে যেখানে দায়িত্ব দেবেন, তিনি সেখানেই বসার জন্য প্রস্তুত আছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার পাশাপাশি সংসদীয় এলাকার বাসিন্দা ও ভোটারদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    জাহিদ ফারুককে দ্বিতীয় দফা প্রতিমন্ত্রী করার সিদ্ধান্তের খবরে বরিশালে তাঁর কর্মী-অনুসারীরা উদ্বেলিত। এক্ষেত্রে অনেকের মন্তব্য হচ্ছে, সৎ কর্মের প্রতিদান পেয়েছেন জাহিদ ফারুক, যার প্রাথমিক ধাপ শুরু হয়েছিল এবার সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে।’

  • ২৫ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি

    ২৫ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি

    রাষ্ট্রপতি ২৫ জন মন্ত্রী ও ১১ জন প্রতিমন্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    ৩৬ জনের তালিকা সম্বলিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ১১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) তাদেরকে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদে নিয়োগদান করেছেন।

    মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া পূর্ণ মন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন- আ. ক. ম মোজাম্মেল হক, ওবায়দুল কাদের, নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, আসাদুজ্জামান খান, ডা. দীপু মনি, মো. তাজুল ইসলাম, মুহাম্মদ ফারুখ খান, আবুল হাসান মাহমুদ আলী, আনিসুল হক, হাছান মাহমুদ, আবদুস শহীদ, সাধন চন্দ্র মজুমদার, র আ ম ওবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, আব্দুর রহমান, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, আবদুস সালাম, মহিবুল হাসান চৌধুরী, ফরহাদ হোসেন, ফরিদুল হক খান, জিল্লুল হাকিম, সাবের হোসেন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, নাজমুল হাসান পাপন, ইয়াফেস ওসমান, ড. সামন্ত লাল সেন।

    প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন- বেগম সিমিন হোসেন রিমি, নসরুল হামিদ, জুনাইদ আহমেদ পলক, মো. আলী আরাফাত, মহিবুর রহমান, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জাহিদ ফারুক, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, রুমানা আলী, শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আহসানুল ইসলাম।

    প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২২২টিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। একাদশ সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে পেছনে ফেলে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ৬২ জন; যাদের মধ্যে ৫৯ জন আওয়ামী লীগেরই নেতা। আর জাতীয় পার্টির আসন অর্ধেকের বেশি কমে নেমেছে ১১টিতে। দুটিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের শরিক দল জাসদ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং একটিতে জয় পেয়েছে কল্যাণ পার্টি। একটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।

    এদিকে, বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে নতুন মন্ত্রিসভায়। নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি বিদায়ী মন্ত্রিসভার অনেকেই। আর প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছেন ১৪ জন। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ৩৭ জন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ শপথ নিচ্ছেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। ইতোমধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রীর তালিকা প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

  • দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ আজ, শপথ বুধবার

    দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ আজ, শপথ বুধবার

    অনলাইন ডেস্ক ::: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৮ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হবে আজ। এরপর বুধবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের নিচতলা শপথকক্ষে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

    সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরই মধ্যে শপথগ্রহণের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।

    এছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    সংবিধানের বিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করতে হবে। শপথগ্রহণের পরই তিনি কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবেন।

    নিয়মানুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পর শপথের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্পিকারের কাছে তা পাঠাবে ইসি সচিবালয়। সংসদ নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে শপথের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকতে হবে।

  • বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনে এমপি নির্বাচিত হলেন যারা…

    বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনে এমপি নির্বাচিত হলেন যারা…

    অনলাইন ডেস্ক ::: নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সারাদেশের ন্যায় বরিশাল বিভাগেও শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রোববার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে চলে ভোট গ্রহণ। এবার বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে গড়ে ৪১ দশমিক ১০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম। রবিবার সন্ধ্যায় ভোট গনণা শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

    কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বিভাগটিতে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ এবারের নির্বাচন। এছাড়া বিভাগের ২১টি আসনে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্রে চমকে খুশির আমেজ বিরাজ করছে দক্ষিনাঞ্চবাসীদের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহনকে অনেকেই সাধুবাত জানিয়েছেন।

    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪ বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনে বিজয়ী হলেন যারা-

    বরিশাল-১:

    বরিশাল-১ আসনের ১২৯টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৭৭ ভোট পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির ছেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী পেয়েছেন ৪ হাজার ১শ’ ২২ ভোট।

    বরিশাল-২:

    বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের ১৩৬ কেন্দ্রে ১৪ দলের প্রার্থী ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন নৌকা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী একে ফাইয়াজুল হক রাজু ঈগল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩১ হাজার ১৬২ ভোট।

    বরিশাল-৩:

    বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের ১২৪ কেন্দ্রে জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু লাঙ্গল প্রতীকে ৫১ হাজার ৮১০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আতিকুর রহমান ট্রাক প্রতীক নিয়ে ২৪ হাজার ১শ’ ২৩ ভোট পেয়েছেন।

    বরিশাল-৪:

    বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের ১৪৯ কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী পংকজ নাথ ঈগল প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির মো. মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৭৫ ভোট।

    বরিশাল-৫:

    বরিশাল-৫ (সদর) আসনের ১৭৬ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের জাহিদ ফারুক নৌকা প্রতীক নিয়ে ৯৭ হাজার ৭০৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সালাহউদ্দিন রিপন ট্রাক প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৩৭০ ভোট।

    বরিশাল-৬:

    বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের ১১৩ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের আবদুল হাফিজ মল্লিক নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬০ হাজার ১০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শামসুল আলম ট্রাক প্রতীক নিয়ে ৩৯ হাজার ৩৭৪ ভোট পেয়েছেন।

    পটুয়াখালী-১:

    পটুয়াখালী-১ (সদর-মির্জাগঞ্জ-দুমকি) আসনে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার ৮১ হাজার ৫০৮ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস পার্টির ডাব প্রতীকের প্রার্থী নাসির উদ্দিন তালুকদার পেয়েছেন ২৬ হাজার ৮৭৪ ভোট।

    পটুয়াখালী-২:

    পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আ স ম ফিরোজ ১ লাখ ২৪ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. মহসীন হাওলাদার পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৮ ভোট।

    পটুয়াখালী-৩:

    পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বর্তমান এমপি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস এম শাহজাদা ৯৪ হাজার ৪১৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজিবির সাবেক মহাপরিচালক মেজর (অব.) আবুল হোসেন পেয়েছেন ৫৯ হাজার ২৪ ভোট।

    পটুয়াখালী-৪:

    পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বর্তমান এমপি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মহিব্বুর রহমান মহিব ৫৬ হাজার ২৫৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তিনবারের সাবেক এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪২০ ভোট।

    ঝালকাঠি-১:

    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর (বীর উত্তম)। তিনি ৯৫ হাজার ৪৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাকের পার্টির আবু বকর সিদ্দিক গোলাপ ফুল প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন এক হাজার ৬২৪টি। এছাড়াও অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ট্রাক প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আবুল কাশেম ফখরুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৭০ ভোট।

    ঝালকাঠি-২:

    ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর- নলছিটি) আসনে ১৪৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আমির হোসেন আমু ১ লাখ ৩৭ হাজার এক ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী নাসির উদ্দিন এমরান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ৩১৭ ভোট। এছাড়াও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এন. পি পি) প্রার্থী মো. ফোরকান হোসেন আম প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ভোট।

    পিরোজপুর-১:

    পিরোজপুর-১ আসনে আবারো বিজয়ী হয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম। তিনি পেয়েছেন ৮৫,৪১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঈগল) সাবেক এমপি ও পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল পেয়েছেন ৭৫,৪৮৭ ভোট।

    পিরোজপুর-২:

    পিরোজপুর-২ আসনের বিজয়ী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ। বেসরকারী ফলাফলে দেখা গেছে-তিন উপজেলা মিলিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ ঈগল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন এক লাখ ১ হাজার ৪৯৬ ভোট আর নৌকা নিয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পেয়েছেন ৭১ হাজার ৫২১ ভোট।

    পিরোজপুর-৩:

    পিরোজপুর-৩ আসনে চারবারের সাংসদ স্বতন্ত্র প্রার্থী(ঈগল প্রতীক) ডা. রুস্তুম আলী ফরাজিকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে স্বস্তন্ত্র প্রার্থী(কলারছড়ি প্রতীক) শামীম শাহজাহান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বিজয়ী কলারছড়ি প্রতীকে শামীম শাহনেওয়াজ পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৩০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ঈগল প্রতীকে ডা. রুস্তুম আলী ফরাজি পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৬২১ ভোট।

    ভোলা-১:

    ভোলা-১ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন তোফায়েল আহমেদ। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের এ প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৫২ ভোট। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ী তোফায়েল আহমেদের সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়া লাঙল প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৫ হাজার ৫১৯ ভোট।

    ভোলা-২:

    ভোলা-২ আসনে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থী আলী আজম মুকুল। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৩২৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গজনবী (জেপি) পেয়েছেন ৩ হাজার ১৯১ ভোট।

    ভোলা-৩:

    ভোলা-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থী নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মেজর (অব.) মো. জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ১৭ হাজার ৮৮৬ ভোট।

    ভোলা-৪:

    ভোলা-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মিজানুর রহমান (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৫ হাজার ৯২৮ ভোট।

    বরগুনা-১:

    বরগুনা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম সরোয়ার টুকু নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৬১,৭৪২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম সরোয়ার ফোরকান পেয়েছেন ৫৮,১৪৭ ভোট। এদিকে ৫ বারের নির্বাচিত নৌকার প্রার্থী অ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু পেয়েছেন ৫৪,০৯৮ ভোট।

    বরগুনা-২:

    বরগুনা-২ আসনে বেসরকারিভাবে সুলতানা নাদিরা নির্বাচিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনে সুলতানা নাদিরা নৌকা প্রতীকে ৪৬ হাজার ৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী নোঙ্গর প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) মনোনীত প্রার্থী দলের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ড. আব্দুর রহমান খোকন পেয়েছেন ১ হাজার ২৭ ভোট। তাছাড়া ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান ৫১৫ ভোট।

    এদিকে বাংলাদেশে নির্বাচনের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। টানা চতুর্থবারের মতো বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি। ২৯৯ আসনে ভোট হয় যার মধ্যে ২২২টিতে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    উল্লেখ গত ১৫ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ ২৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ১৯৬৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অনেক প্রার্থী নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেন। ৪২ হাজার ২৪টি ভোটকেন্দ্র এবং ২,৬০,৮৫৮টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১১ কোটি ৯৩ লাখ ৩৩ হাজার ১৫৭ জন।

  • বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকার জাহিদ ফারুক শামীম জয়ী

    বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকার জাহিদ ফারুক শামীম জয়ী

    বরিশাল-৫ সদর আসনে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম। রোববার দিনভর ভোট শেষে রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম এই আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।

    ফলাফল অনুযায়ী, ১৭৬টি কেন্দ্রে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৭০৬। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহ উদ্দিন রিপন ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৩৭০ ভোট।

    জাহিদ ফারুক প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৬২ হাজার ৩৩৬ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

  • এই বিজয় জনগণের বিজয়: শেখ হাসিনা

    এই বিজয় জনগণের বিজয়: শেখ হাসিনা

    আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন, জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন, এই বিজয় জনগণের বিজয়।

    সোমবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে গণভবনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন

    শেখ হাসিনা বলেন, আটবার নির্বাচন করেছি।, এবার আবার। এবার জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র ছিল। বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষ উন্নত জীবনের অধিকারী হবে। বাবা যে আদর্শ নিয়ে কাজ করেছেন, আমাকে সেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

    তিনি বলেন, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট। আমার পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। আমার ছোট বোন শেখ রেহানা আর আমি বেঁচে যাই। ছয় বছর আমরা রিফিউজি ছিলাম। খুব কষ্টকর জীবন। ১৯৮১ সালে দেশের মানুষ আমাকে দেশে আনে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিলিটারি ডিক্টেটররা আমার দলকে রাজনীতি করতে দেয়নি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে তাদের ক্ষমতায় বসায়। ওই অবস্থায় আমি দেশে ফিরি। আমার লক্ষ্য ছিল, মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। আমার চলার পথ সহজ ছিল না।

    মৃত্যুকে বারবার কাছ থেকে দেখেছি। বাবার আদর্শ নিয়ে কাজ করছি। মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছি। ২১ বছর পর সরকার গঠন করে মানুষের জন্য কাজ শুরু করি।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। এবারের নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী মনোনয়ন করার পাশাপাশি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। মানুষের স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। এ বিজয় জনগণের বিজয়।

    তিনি বলেন, একটি দল নির্বাচন বর্জন করেছে। মিলিটারি ডিক্টেটর থেকে যে দল সৃষ্টি তারা নির্বাচন ভয় পায়, কারণ তাদের জনসমর্থন থাকে না।

    বিদেশি বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের বাংলাদেশে আসার জন্য তিনি নিজের, পরিবার ও দেশের মানুষের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আপনারা নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবেন, আমাদের দেশের কথা বলবেন। আমাদের দেশটা অনেক সুন্দর।

    এসময় দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক, বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে পুতুলসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • অনেক ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত চলছে: শেখ হাসিনা

    অনেক ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত চলছে: শেখ হাসিনা

    যেসব দেশ মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দেয়নি তাদের চক্রান্ত এখনো থামেনি মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেক ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত চলছে।

    মঙ্গলবার বিকেলে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, অনেক ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত চলছে। যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন দেয়নি, তাদের চক্রান্ত এখনও থেমে যায়নি। আর যেহেতু তারা জানে আমরা কারো কাছে মাথা নত করি না, সেজন্য চক্রান্ত আরও বেশি।

    শেখ হাসিনা বলেন, আমি জাতির পিতার কন্যা কারো কাছে মাথা নত করি না, মাথা নত করব না।

    সবাইকে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একমাত্র নৌকা মার্কায় ভোট পেলেই আমি সরকারে আসতে পারব। আর উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়তে পারব। বাংলাদেশ কখনো পিছিয়ে যাবে না।

    শেখ হাসিনা বলেন, আরও কাজ বাকি। আমাদের এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। এই দেশ গড়ে তুলতে হলে কাকে দরকার আপনারা বলেন। কে ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে উঠবে?

    আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নৌকা মার্কা, এই নৌকা মার্কা আপনারা জানেন, নূহ নবীর নৌকা মার্কা, মহাপ্লাবন থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করেছিল এই নৌকা। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে এই নৌকা মার্কা।

    তিনি বলেন, একমাত্র নৌকা ক্ষমতায় আসলেই দেশের মানুষের উন্নতি হয়। ওই অস্ত্র হাতে নিয়ে অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘনকারীরা ক্ষমতায় এলে দেশের কোনো উন্নতি হয় নাই। উন্নতি হয়েছে একমাত্র যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল।

    স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, নৌকা ডিজিটাল বাংলাদেশ দিয়েছে আর আগামী দিনের আমাদের তরুণ সমাজ আছে তাদের জন্য ২০৪১ সালে এই বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি ফরিদপুর, মাগুরা এবং রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চান।

    জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম হক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর-১ আসনে নৌকার প্রার্থী আব্দুর রহমান, মাগুরা-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান।

    এর আগে সড়ক পথে ঢাকা থেকে ফরিদপুর আসেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বেলা সোয়া ৩টায় সমাবেশস্থলে আসেন তিনি। শেখ হাসিনার আগমনকে ঘিরে পুরো শহরে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।

    সকাল থেকে ঢাক-ঢোল, বাদ্যযন্ত্রের তালে নেচে-গেয়ে উৎসব করতে করতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মাঠে আসেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, সমর্থকরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপুলসংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থক জড়ো হন মাঠে। সমাবেশ মাঠে নৌকার আদলে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। আশপাশের এলাকায় কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    গত ডিসেম্বর ২০ সিলেটে হজরত শাহজালাল ও হজরত শাহ পরানের মাজার জিয়ারত এবং এরপর সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন আওয়ামী লীগ প্রধান।

    নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।