Category: প্রশাসন

  • মাথা কাটা ও ছেলে ধরার গুজব ছড়ানো সেই ব্যক্তি আটক

    মাথা কাটা ও ছেলে ধরার গুজব ছড়ানো সেই ব্যক্তি আটক

    ভোলায় মোবাইলে কল, ফেসবুকে পোস্ট ও ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে মাথা কাটা এবং ছেলে ধরার গুজব ছড়ানো আব্দুল সহিদ হাওলাদারকে (২৪) আটক করেছে পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে গুজব ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত একটি স্মার্ট ফোন জব্দ করা হয়।

    আটক আব্দুল সহিদ হাওলাদার ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আলী হাওলাদারের ছেলে।

    বুধবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে চরফ্যাশন উপজেলার চর মাদ্রাজ থেকে আটক করে পুলিশ।

    চরফ্যাশন থানা পুলিশের ওসি সামছুল আরেফিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল সহিদ হাওলাদার ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামের মানুষকে ফোন করে এবং ফেসবুকে পোস্ট এবং ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে শিশুদের মাথা কেটে নেয়া হচ্ছে ও ছেলে ধরারা শিশুদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে এমন গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল।

    গত ২-৩ দিন ধরে তাকে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছিল, কিন্তু সে একের পর এক স্থান পরিবর্তন করার কারণে তাকে ধরা যায়নি।

    তিনি আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালিয়ে গুজব ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত স্মার্ট ফোনসহ তাকে আটক করি।

    ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে দোষ স্বীকার করেছে এবং এ কাজে তার সঙ্গে আরও দু’জন রয়েছে বলে জানান।

    আপাতত তাদের নাম প্রকাশ করা যাবে না। ওই দু’জনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

    তিনি আরও বলেন, আটক আব্দুল সহিদ হাওলাদার বলেন, তাকে এ গুজব ছড়ানোর জন্য কোনো একটি চক্র উৎসাহিত করেছে।

    উল্লেখ্য, ৮-১০ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন মানুষকে ফোন করে, ফেসবুকে এবং ম্যাসেঞ্জারের গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে মাথা কাটা ছবি, ভয়ভীতিমূলক লেখা পোস্ট এবং ম্যাসেঞ্জারে পাঠিয়ে মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছিল।

  • সাক্ষ্য দিতে এসে নুসরাতের মা অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালে

    সাক্ষ্য দিতে এসে নুসরাতের মা অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালে

    সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে আদালতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন মা শিরিনা আক্তার।

    সাক্ষ্য ও জেরার শেষ পর্যায়ে এসে বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে তিনি প্রথমে উত্তেজিত হয়ে কাঁপতে থাকেন। পরে অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।

    এসময় তাঁকে ফেনী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

    শিরিনা আক্তারের ছেলে মাহমুদুল হাসান নোমান ও মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবি এম শাহজাহান সাজু জানান, বুধবার মামলার ১২ নম্বর সাক্ষী, নুসরাতের মা শিরিনা আক্তারের সাক্ষ্য ও জেরার ধার্য্য তারিখ ছিল। এদিন সকাল সোয়া ১১টায় তিনি সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেন। সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর সাক্ষ্য শেষ হলে তাঁকে জেরা করেন আসামী পক্ষের আইনজীবি গিয়াস উদ্দিন নান্নু, কামরুল হাসান, মাহফুজুল হক, ফরিদ উদ্দিন খান নয়ন, নুরুল ইসলাম ও আহসান কবির বেঙ্গলসহ কয়েকজন আইনজীবি। দুপর আড়াইটা পর্যন্ত একটানা জেরা চলছিল।

    এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে কাঁপতে থাকেন শিরিনা। এসময় তিনি অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।

    অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর ছেলে নোমান, বাদি পক্ষের আইনজীবি শাহজাহান সাজুসহ সেখানে থাকা কয়েকজন স্বজন তাঁকে বহন করে নীচে নিয়ে আসেন এবং সোনাগাজী থানা পুলিশ ও আদালত পুলিশের সহযোগিতায় আইনজীবির গাড়িযোগে ফেনী সদরের রাজাঝীর দিঘীর পাড়ের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ফেনী শাখার জরুরী বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

    জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বুধবার বিকেলে বলেন, তিনি (শিরিনা) অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। অতিরিক্ত উত্তেজিত হবার ফলে এমনটা হতে পারে। তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কিছু সময়ের মধ্যেই তাঁর জ্ঞান ফিরে আসে। তিনি সুস্থ আছেন।

    চিকিৎসক বলেন, কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পর তাঁর বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হবে এবং অপরাপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে পরামর্শক্রমে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে।

    তিনি বলেন, ইচ্ছে করলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে পারেন। তবে তাঁর কয়েকদিনের বিশ্রাম প্রয়োজন বলে মতামত দেন ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন। সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় শিরিনার ছেলে নোমান বলেন, মা কিছুটা ভালো আছেন। তবে আরো কিছু সময় তাঁকে হাসপাতালে থাকতে হবে। এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান তিনি।

    নুসরাতের পিতা এ কে এম মুসা স্ত্রীর অসুস্থ হবার খবর পেয়ে ফেনী হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে আসেন। তিনি বলেন, উনি গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ। ইতোমধ্যে তাঁকে ফেনীর শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়কের আল কেমী হাসপাতালে দুইদিন রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

    বাদি পক্ষের আইনজীবি শাহজাহান সাজু বলেন, উনি আগে থেকেই কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছিল। তাই বিচারক তাঁকে সাক্ষীর ডকে দাঁড় না করিয়ে নিজের কাছাকাছি একটি স্থানে বসান এবং অত্যন্ত যত্নের সাথে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

    কিন্তু আসামি পক্ষের আইনজীবিদের মধ্যে কয়েকজনের কিছু প্রশ্নে তিনি উত্তেজিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

  • অবশেষে ছাত্রাবাস থেকে তুলে নেয়া মাহাথিরকে ফিরে পেলো পরিবার

    অবশেষে ছাত্রাবাস থেকে তুলে নেয়া মাহাথিরকে ফিরে পেলো পরিবার

    বরিশালের বাবুগঞ্জে রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ছাত্রাবাস থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থী মাহাথির মোহাম্মদ বিন ফরিদকে (১৭) ফিরে পেয়েছে তার পরিবার।

    গত ১ জুলাই রাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে বরগুনায় তার সন্ধান মেলে। বুধবার (১০ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাহাথির মোহাম্মদের বাবা মো. ফরিদ উদ্দিন।

    তিনি বলেন, ছেলেকে ফিরে পাওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। একইসঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও আপনাদের (সাংবাদিকদের) ধন্যবাদ জানাই। আজ থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরিটি (জিডি) তুলে নেবো।

    তবে পুলিশের একটি সূত্র বলছে, মাহাথিরকে ১ জুলাই রাতে ছাত্রাবাস থেকে তুলে নেওয়ার পর তার সন্ধান মেলে বরগুনা জেলা ডিবি পুলিশের কাছ থেকে। অবশ্য মাহাথির মোহাম্মদ বিন ফরিদ এতোদিন কোথায় কিভাবে কাদের কাছে ছিলো তা জানা যায়নি।

    বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব উল আলম মাহাথির মোহাম্মদের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মাহাথিরকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তার বাবা ফরিদ উদ্দিন ও কৃষি প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউটের অধ্যক্ষ গোলাম মো. ইদ্রিস আলাদা দু’টি জিডি করেন।

    অধ্যক্ষের জিডি সূত্রে জানা যায়, ১ জুলাই ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ৭-৮ জন লোক নিজেদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসের ১ নম্বর গেটে দায়িত্বরত নুরুল ইসলামকে তালা খুলতে ধমক দেন। তিনি ভয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই গেট খুলে দেন।

    এরপর ওই লোকেরা ছাত্রাবাসে গিয়ে ২০৬ নম্বর কক্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাহাথির মোহাম্মদ বিন ফরিদকে ধরে তাদের সঙ্গে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি কলেজ অধ্যক্ষকে অবহিত করা হলে তিনি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনার সত্যতা পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশকে অবহিত করেন এবং জিডি করেন।

    মাহাথির মোহাম্মদের বাবা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠি এলাকার বাসিন্দা মো. ফরিদ উদ্দিনের জিডি সূত্রে জানা যায়, ১ জুলাই ভোর থেকে তার ছেলের সন্ধান ছাত্রাবাসে পাওয়া যাচ্ছিলো না। সম্ভাব্য সব যায়গায় খোঁজ-খবর নিয়ে ছেলের সন্ধান না পেয়ে তিনি থানা পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং জিডি করেন।

    মো. ফরিদ উদ্দিন বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের গাড়ির চালক হিসেবে কর্মরত থাকায় মাহাথিরের সেখানে যাতায়াত ছিলো বলে তখন জানা যায়।

  • পরনে পুলিশের পোশাক, হাতে ওয়াকিটকি, ডাকাতিই ছিল তাদের কাজ

    পরনে পুলিশের পোশাক, হাতে ওয়াকিটকি, ডাকাতিই ছিল তাদের কাজ

    অনলাইন ডেস্ক:

    পরনে পুলিশের পোশাক, কাঁধে র‌্যাংক ব্যাজ, হাতে ওয়াকিটকি নিয়ে মাইক্রোবাসে ঘুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও মোটা অংকের টাকা বহনকারী ব্যক্তিদেরকে টার্গেট করে ডাকাতি করাই ছিল এদের কাজ।

    পুলিশ সেজে ডাকাতি করা এমন চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগ।

    গ্রেফতারকৃত ডাকাত দলের সদস্যরা হলো- মোঃ আলাউদ্দিন (৪৮), মোঃ সবুজ মিয়া (৪৮), মোঃ রাসেল মাহমুদ সরকার (৩৬), মোঃ জুয়েল শিকদার (৪২), নিবাস কুমার সরকার ওরফে স্বপন (৩৩), মোঃ রাসেল (২৪), মোঃ দবিরুল মিয়া (৩২) ও মোঃ হাসানুল বান্না (২৫)।

    এসময় তাদের নিকট হতে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিপসাইন লাগানো এসআই পদ মর্যাদার র‌্যাংক ব্যাজসহ ০১ সেট জেলা পুলিশের ইউনিফর্ম, ০১টি স্কুল ব্যাগ, পুলিশ মনোগ্রাম খচিত ০১টি চামড়ার বেল্ট, ০১ জোড়া হ্যান্ডকাপ, ০২টি ওয়াকিটকি, ০১টি রামদা, ০১টি চাপাতি, মাইক্রোবাসের ড্যাশবোর্ডের সামনে বাংলায় পুলিশ লেখা একটি স্টিকার, ০১টি সিগন্যাল লাইট, ০১টি বেতের লাঠি, ০১টি হাইচ মাইক্রোবাস, ০১টি টিভিএস মোটরসাইকেল ও ডাকাতি করা ১০,৪৯,০০০ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

    ডিবি সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সেজে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করছে একটি চক্র। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ৯ জুলাই ১৯.৪৫টায় গোয়েন্দা দক্ষিণ বিভাগের গাড়ি চুরি/ছিনতাই প্রতিরোধ ও উদ্ধার টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ রফিকুল আলমের নেতেৃত্বে একটি দল রাজধানীর গুলিস্তান হকার্স মালিক সমিতি মার্কেটের বিপরীত পার্শ্বে অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৮ সদস্যকে উল্লেখিত সরঞ্জামাদিসহ গ্রেফতার করে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তাঁতী বাজার এলাকার স্বর্ণ ব্যাবসায়ী ও ঢাকা শহরের মোটা অংকের টাকা বহনকারীরাই ছিল তাদের প্রধান টার্গেট। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের মাইক্রোবাসে তুলে ভয়ভীতি দিয়ে স্বর্ণের বার, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়।

    এ সংক্রান্তে শাহবাগ থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে বিজ্ঞ আদালতে আজ ১০ জুলাই ধৃত ডাকাতদের প্রেরণ করা হয়েছে।

  • গুজবের মাথা টানতে এবার মাঠে নেমেছে পুলিশ

    গুজবের মাথা টানতে এবার মাঠে নেমেছে পুলিশ

    পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ পরিচালনায় মানুষের কাটা মাথা লাগবে’ বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা গুজব ছড়িয়েছেন তাদের ধরতে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।

    পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এই পোস্টটির উৎপত্তি ও যারা ছড়িয়ে এটি নিয়ে ইস্যু তৈরি করেছে তাদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।

    সোমবার রাত থেকেই গুজব রটনাকারীদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি টিম।

    দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করে ভাইরাল করেছেন এমন ১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপ থেকে তাদের সন্ধান চেয়ে পোস্ট দেয়া হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ইউনিট এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। তাদের প্রোফাইল, টাইমলাইন, ব্যাকগ্রাউন্ড এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পোস্ট শেয়ারকারীদের মধ্যে কয়েকজন তরুণীও রয়েছেন।

    এ ছাড়া কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেলেও তাদের নিয়ে ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। সেগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

    পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) মো. সোহেল রানা  বলেন, ‘পদ্মা সেতু দেশের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প। এ প্রকল্পের সাথে বাংলাদেশের ইমেজ জড়িত। একটি মহল এই উন্নয়ন ব্যাহত করার জন্য এ ধরনের গুজব রটিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, যা একটি গুরুতর অপরাধ। অনেকে না বুঝেই এটি শেয়ার করে অপরাধের অংশীদার হয়েছেন। তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। শনাক্তের পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ইউনিট টিমও অপরাধীদের শনাক্তে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতারে অভিযানও চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ১৫টি ফেসবুক গ্রুপ শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১০ লাখের বেশি মেম্বার রয়েছেন। সেসব গ্রুপে যারা গুজবের পোস্টটি শেয়ার করেছেন তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। এ ছাড়া অনেকে কাটা মাথার ছবি শেয়ার করেছেন, সেগুলোর সোর্স জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ইতোমধ্যে মিয়ানমারের রাখাইনের নানা ছবি শেয়ার করার প্রমাণ পেয়েছেন তারা। এ ছাড়া পদ্মা নদী ও সেতুর নির্মাণকাজের ছবিকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে ফটোশপের মাধ্যমে মানুষের কাটা মাথার ছবি টেবিলের ওপর বসানোর প্রমাণ পেয়েছেন তারা।

    র‍্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. এমরানুল হাসান  বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো গুজব রটনাকারীদের শনাক্তে কাজ করে র‍্যাব। যারা এসব রটিয়েছেন তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    এদিকে গুজবের বিষয়ে মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে দেয়া একটি চিঠিতে পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লিখেছেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ পরিচালনায় মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এটি একটি গুজব। এর কোনো সত্যতা নেই। এমন অপপ্রচার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

    পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। মূল সেতুর ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৯২টি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০টি পিয়ারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে, যা এখন দৃশ্যমান। ৩০ জুন পর্যন্ত মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি ৮১ শতাংশ, নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ৫৯ শতাংশ এবং প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭১ শতাংশ।

    বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি তৈরির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের আওতাধীন চায়না মেজর ব্রিজ নামক একটি কোম্পানি। কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর। প্রাথমিকভাবে এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি নকশা পরিবর্তন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ভূমির পরিমাণ ও পরামর্শকের সংখ্যা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় আরও ৮ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।

  • বরগুনায় স্ত্রীর মামলায় কারাগারে স্বামীর মৃত্যু

    বরগুনায় স্ত্রীর মামলায় কারাগারে স্বামীর মৃত্যু

    বরগুনা পারিবারিক আদালতে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় জেলহাজতে থাকা অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দিনমজুর স্বামী আ. রাজ্জাকের (২৩) মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার ভোর ৪টার দিকে বরগুনা জেলা কারাগারের ভেতরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আ. রাজ্জাকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। মৃত আ. রাজ্জাক বামনা উপজেলার দক্ষিণ রামনা গ্রামের মো. তৈয়ুব আলীর ছেলে।

    বরগুনার জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে আ. রাজ্জাক অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুধবার ভোর ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরিরত অবস্থায় আ. রাজ্জাকের সঙ্গে একই গ্রামের প্রতিবেশী মো. সুলতান হোসেনের মেয়ে হাওয়া বেগমের (১৯) বিয়ে হয়। বিয়ের ছয় মাস যেতে না যেতেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্বামী আ. রাজ্জাক স্ত্রী হাওয়া বেগমকে চট্টগ্রামে রেখে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন।

    পরে স্ত্রী হাওয়া বেগম স্বামীর বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু তাদের পারিবারিক কলহ চরম পর্যায়ে পৌঁছালে স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে থাকা অবস্থায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতে মামলা করেন। আদলতের বিচারক ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ. খালেক জমাদ্দার স্বামীকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কিন্তু স্বামী আ. রাজ্জাক ওই রায় মেনে না নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে সব প্রকার যোগযোগ বন্ধ রাখেন।

    গত বছরের ১৩ নভেম্বর স্ত্রী হাওয়া বেগম বরগুনা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত স্বামীকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করে ওয়ারেন্ট জারি করেন। গত ১২ জুন তাকে গ্রেফতার করে বরগুনা আদালতে পাঠালে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন বিচারক। ২৮ দিন জেলহাজতে থাকা অবস্থায় বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

  • কারাগারে ধর্ষিতা নাবালিকা হলো মা, বাবা হলো দুই পুলিশ

    কারাগারে ধর্ষিতা নাবালিকা হলো মা, বাবা হলো দুই পুলিশ

    অনলাইন ডেস্ক : 

    পুলিশের নিরাপত্তা হেফাজতে ধর্ষণের শিকার হয়ে পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছে এক নাবালিকা। বর্তমানে ওই কিশোরী ও তার ছেলে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর শিশু উন্নয়ন (মহিলা) কেন্দ্রে রয়েছে।

    এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ঢাকার কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করা যায়নি।

    ঢাকার চার নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে গত ২৫ জুন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের (মহিলা) তত্ত্বাবধায়ক তাসনিম ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলা নম্বর-২৯ (৬) ১৯।

    আসামিরা হলেন, গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইনসে কর্মরত নায়েক সাইফুল ইসলাম ও কনস্টেবল রোকসানা এবং ঢাকা জেলার ধামরাই থানার ধুনি গ্রামের আবদুল হাইয়ের ছেলে নাঈম হাসান। মামলাটির তদন্ত করছেন কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মওদুদ হাওলাদার।

    মামলার অভিযোগে বলা আছে, রাজধানীর কাফরুলের একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে ছাত্রীর বাবা ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল কাফরুল থানায় মামলা করেন।

    অভিযোগে বাদী বলেন, ২০১৮ সালের ১৭ মার্চ বাদীর স্ত্রী তার মেয়েকে স্কুলে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে নিয়ে যান। মেয়েকে অনুষ্ঠানস্থলে রেখে স্ত্রী বাথরুমে যান। ফিরে এসে মেয়েকে আর পাননি। পরে জানতে পারেন আসামি নাঈম হাসান ও জনৈক মোতালেবসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাদের মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।

    পরে বাদীর মেয়েকে গত বছর ১৬ এপ্রিল উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত তখন তাকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন (মহিলা) কেন্দ্রে নিরাপদ হেফাজতে পাঠায়।

    কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ আল সামী আদালতকে জানান, ওই নাবালিকা ২৭ সপ্তাহের গর্ভবতী।

    ওই নাবালিকা জানায়, ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ফেরার সময় রাজধানীর কোতয়ালি থানার একটি রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। সেখানে আসামি নাঈম হাসানের সঙ্গে তার দেখা হয়। ওই রেস্টুরেন্টেই তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়।

    নাবালিকার বাবা গত ১২ মার্চ ওই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল জড়িতদের চিহ্নিত করতে শিশু উন্নয়ন (মহিলা) কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দেয়। তদন্ত করে ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালকে জানায়, ঘটনার দিন ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই ভিকটিম নাবালিকাকে নায়েক সাইফুল ও কনস্টেবল রোকসানা আদালতে নিয়ে আসেন। তাদের হেফাজতে থাকা অবস্থায়ই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এর পর ২০ মে ট্রাইব্যুনাল অপহরণ মামলার আসামি নাঈম হাসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করতে আদেশ দেয়।

    এ ছাড়া নাবালিকাকে আদালতে নিয়ে আসা নায়েক সাইফুল ও কনস্টেবল রোকসানার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকার চার নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নির্দেশ দেন।

    সেই আদেশ অনুযায়ী গত ২৫ জুন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক তাসনিম ফেরদৌস বাদী হয়ে ধর্ষণের মামলাটি করেন। মামলায় আসামি তিন জন গ্রেপ্তার হননি।

    ঢাকার চার নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর ফোরকান মিয়া জানান, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল ঘটনাটি জানার পর তদন্তের নির্দেশ দেন।

    তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলা করার নির্দেশ দেওয়ার পর কোতয়ালি থানায় মামলা হয়। গর্ভবতী হওয়া নাবালিকা গত ২৭ এপ্রিল শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল হাসপাতালে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। মা ও শিশু এখনও শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রেই রয়েছে।

    ‘অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যদের কারণ দর্শাতে বলেছে আদালত। তারা জবাব দিলে বিরুদ্ধে আদালত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলবে। তবে এটা দেখবেন গাজীপুরের জেলা পুলিশ।’

    আসামি নাঈম হাসানের আইনজীবী আহসান হাবীব বলেন, ‘এই মামলায় আদালত থেকে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কী না সেটা আমার জানা নে

  • ওরা ৪৪ তরুণ তরুণী সৌভাগ্যবান পেলেন পুলিশে চাকরি

    ওরা ৪৪ তরুণ তরুণী সৌভাগ্যবান পেলেন পুলিশে চাকরি

    কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়াই যোগ্যতার ভিত্তিতে বরিশালে মাত্র ১শ’ টাকায় পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি পেয়েছেন ৪৪ জন। রোববার রাতে তারা চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পান।
    বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়- সরকারি কোষাগারে ১শ’ টাকা জমা দিয়ে গত ১ জুন বরিশাল পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত কনস্টেবল পদের জন্য বাছাইয়ে অংশ নেন ১ হাজার ৮৫০ জন প্রার্থী। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর শারীরিক কসরত এবং ডাক্তারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য মনোনীত হন ৬০৯ জন। ২ জুন লিখিত পরীক্ষা অংশ নেওয়ার পর ৪ জুন প্রকাশিত ফলাফলে উত্তীর্ণ হন ১২৩ জন। পরে ৬ জুনের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন ৪৪ জন। রবিবার রাতে মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। চূড়ান্ত নিয়োগ পাওয়া ৪৪ জনের মধ্যে ১৩ জন নারী ও ৩১ জন পুরুষ।

    চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতরা বলেন, ‘সরকারি কোষাগারে ১০৩ টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও আমরা জমা দিয়েছি ১শ’ টাকা। সব প্রার্থীর পক্ষে এসপি স্যার (পুলিশ সুপার) নিজে ৩ টাকা করে জমা দিয়েছেন। কোনও ধরনের অবৈধ লেনদেন ছাড়া চাকরি পাওয়ায় তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

    বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১২৩ জনের সবাই যোগ্যতা সম্পন্ন। তারপরও পুলিশ হেড কোয়াটার্সের কঠোর অনুশাসন মেনে ও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে ৪৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।’

  • সায়মা হত্যার দোষ স্বীকার করে ঘাতক হারুনের জবানবন্দি

    সায়মা হত্যার দোষ স্বীকার করে ঘাতক হারুনের জবানবন্দি

    অনলাইন ডেস্ক :

    সায়মাকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক হারুন অর রশিদ।

    সোমবার (৮ জুলাই) তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আরজুন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন মহানগর হাকিম।

    উল্লেখ্য, রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রামের স্কুলছাত্রী সামিয়া আফরিন সায়মাকে (৭) ধর্ষণ করে হারুন অর রশিদ। এরপর নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকে সায়মা। মৃত ভেবে সায়মার গলায় রশি দিয়ে টেনে রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে রেখে পালিয়ে যায় সে।

    আব্দুল বাতেন বলেন, ‘হারুন পারভেজের খালাতো ভাই। পারভেজের বাসায় দুই মাস ধরে থেকে তার রঙের দোকানে কাজ করে আসছিল।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই ভবনের ছয়তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকত সায়মা। বাবা আব্দুস সালাম নবাবপুরের একজন ব্যবসায়ী। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সায়মা নার্সারিতে পড়ত সে।

  • বরগুনায় রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত শ্রাবন গ্রেফতার

    বরগুনায় রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত শ্রাবন গ্রেফতার

    নিউজ ডেস্ক :: বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আরিয়ান শ্রাবন নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিফাত শরীফ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হুমায়ুন কবির।

    তবে তদন্তের স্বার্থে শ্রাবনকে কখন ও কোথা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা জানায়নি পুলিশ। আরিয়ান শ্রাবন বরগুনা শহরের গোলাম সরোয়ার সড়কের ইউনুস সোহাগের ছেলে।

    এ বিষয়ে ওসি (তদন্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরিয়ান শ্রাবনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ তাকে আদালতে তোলা হতে পারে।’

    এর আগে গত ১ জুলাই (সোমবার) আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ১১ নম্বর আসামি মো. অলিউল্লাহ অলি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা তানভীর একই আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

    এরপর গত ৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রিফাত হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি চন্দন ও ৯ নম্বর আসামি মো. হাসানও একই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ৫ জুলাই (শুক্রবার) একই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের ফুটেজ দেখে শনাক্ত হওয়া ও তদন্তে বেরিয়ে আসা অভিযুক্ত মো. সাগর ও নাজমুল হাসান।

    এছাড়াও এ মামলার দ্বিতীয় আসামি রিফাত ফরাজি সাতদিনের এবং ১২ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয়সহ সন্দেহভাজন অভিযুক্ত সাইমুন ও রাফিউল ইসলাম রাব্বি পাঁচদিনের রিমান্ডে রয়েছেন।