Category: প্রশাসন

  • রিফাত হত্যার দায় স্বীকার করছে আরও ২ আসামি

    রিফাত হত্যার দায় স্বীকার করছে আরও ২ আসামি

    রিফাত শরীফ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে মো. সাগর ও নাজমুল হাসান নামে আরও ২ আসামি। শুক্রবার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে আটটার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করা হলে তার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। সেই সঙ্গে কামরুল হাসান সাইমুনকে আরও ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এর আগেও সাইমুনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। নতুন করে হত্যার দায় স্বীকার করা মো. সাগর গত ২৬ জুন পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছিল। ০০৭ গ্রুপে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় গত ৩০ জুন সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ূন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে গত পহেলা জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত ১১ নম্বর আসামি অলি ও তানভীর এবং বৃহস্পতিবার রাতে মামলার ৪ নম্বর আসামি চন্দন ও ৯ নম্বর আসামি মো. হাসান হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এ নিয়ে ৬ জন আসামি রিফাত হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

    বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড মঙ্গলবার ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। দ্বিতীয় আসামি রিফাত ফরাজীকে বুধবার রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মামলার দ্বিতীয় আসামি রিফাত ফরাজীকে ৭ দিন এবং ১২ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয় ও রাফিউল ইসলাম রাব্বীকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বরগুনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • ‘ওসির রুমে আমাকে মারতে মারতে রক্তাক্ত করা হয়’

    ‘ওসির রুমে আমাকে মারতে মারতে রক্তাক্ত করা হয়’

    অনলাইন ডেস্ক :

    বোনকে মারধর ও স্কুল থেকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে গভর্নিং বডির সদস্যদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে চেয়েছিলেন আল-আমিন। এ কারণে, তাকে থানায় নিয়ে হেনস্তা করেন গভর্নিং বডির সদস্য সুইটি আক্তার শিনু। এমনকি রূপনগর থানার ওসির রুমে নিয়ে তাকে মারধর করতে করতে কান থেকে রক্ত বের করে ফেলেন থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোকাম্মেল।

    শনিবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) মিলনায়তনে নিজের এ নির্যাতনের কথা জানান আল-আমিন।

    তিনি বলেন, আমার বোন তামান্না আক্তার মুক্তি রূপনগরের কামাল আহম্মেদ মজুমদার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে স্কুলের শাপলা নামের একজন শিক্ষিকার বাসায় প্রাইভেট পড়তো। গত জুনে আমরা তার কাছে প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করি। উনি আমাদের কাছ থেকে ২০ দিনের বেতন পেতেন। এই টাকা না দেয়ায় ২৭ জুলাই শাপলা ক্লাসের মৌমিতা নামে এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে আমার বোনকে মারধর করান। এতে আমার বোন মারাত্মকভাবে আহত হয়। তাকে দুইটা পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়নি।

    ‘আহত বোনের বিচার চাইতে আমি স্কুলে যাই। বিচার না পেয়ে স্কুলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার ঘোষণা দেই। তখন গভর্নিং বডির সদস্য সুইটি আক্তার শিনু আমাকে নিয়ে রূপনগর থানায় যান। সেখানে ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোকাম্মেল আমাকে মারধর করেন এবং তৎকালীন ওসি শাহ্ আলমের রুমে নিয়ে যান। সেখানে আমি ওসি শাহ্ আলম, মোকাম্মেল এবং সুইটি ছিলেন। তখন মোকাম্মেল আমাকে বেধরক মারতে থাকেন। ওসি সাহেব আমাকে সুইটির কাছে মাফ চাইতে বলেন। আমি সুইটির কাছে মাফ চাই। উনি আমাকে গালি দিয়ে বলেন, ‘পা ধরে মাফ চা।’ আমি পা ধরে মাফ চাইলে ইন্সপেক্টর মোকাম্মেল আমাকে নিয়ে থানা হাজতে ঢোকান”,- যোগ করেন আল-আমিন।

    তিনি বলেন, একই দিনে আমাকে তিন বার হাজতে ঢোকানো হয়, আবার ৩ বার বের করানো হয়। পরে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে আমাকে থানা থেকে ছাড়া হয়।

    আল-আমিন ও তামান্নার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘থানার তদন্ত অফিসার (মোকাম্মেল) আমার ছেলেকে বলেছেন, এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তোকে মিথ্যা মামলা দিয়ে সারাজীবন জেলে কাটানোর ব্যবস্থা করব, নতুবা ক্রসফায়ার দিয়ে মেরে ফেলব।

    তিনি বলেন, বিষয়টি সুরাহার জন্য সুইটি, মোকাম্মেল ও থানার এসআই কামরুল আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। অন্যথায় হয়রানির পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়। এ কথা শোনার পর আমি আমার ছেলেকে কয়েকদিনের জন্য বাড়ির বাইরে পাঠিয়ে দেই।

    এদিকে এ ঘটনায় গত ৮ জুন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং মিরপুর বিভাগের ডিসি অফিসে অভিযোগ দাখিল করেন তোফাজ্জল হোসেন।

    মারধর, টাকা দাবি ও মিথ্যা মামলায় ধরিয়ে দেয়ার হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে সুইটি আক্তার শিনু বলেন, এসব অভিযোগ বানোয়াট। এটা স্কুলের ব্যাপার, ছাত্রীর সঙ্গে ছাত্রীর মারামারি হয়েছে। আপনারা স্কুলে আসেন, সবার সঙ্গে জিজ্ঞেস করে রিপোর্ট করেন। এ বিষয় নিয়ে যখন তারা আমার কাছে আসে, তখন ছেলেটির (আল-আমিন) সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয়, একপর্যায়ে সে আমাকে ধাক্কা দেয়। আমি পুলিশে ফোন দিলে, পুলিশ এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়। আমার এক মামার অনুরোধে আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করিনি

    রূপনগর থানা সূত্রে জানা গেছে, থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ আলম বদলি হয়ে বর্তমানে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগে রয়েছেন। থানায় মোকাম্মেল হক নামে একজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন, যার পদবী ইন্সপেক্টর-অপারেশন্স।

    হুমকির বিষয়ে ইন্সপেক্টর-অপারেশন্সের মোকাম্মেলের কাছে জানতে দুই বার তার সরকারি মোবাইলে ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

  • রিফাত হত্যা: আরো ২ আসামির জবানবন্দি

    রিফাত হত্যা: আরো ২ আসামির জবানবন্দি

    রিফাত শরীফ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে মামলার ৪ নম্বর আসামি চন্দন ও ৯ নম্বর আসামি মো. হাসান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গাজী মো. সিরাজুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হলে তার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ূন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে পহেলা জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত ১১ নম্বর আসামি অলি ও তানভীরও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এ নিয়ে ৪ জন আসামি রিফাত হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

    বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড মঙ্গলবার ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। দ্বিতীয় আসামি রিফাত ফরাজীকে বুধবার রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মামলার দ্বিতীয় আসামি রিফাত ফরাজীকে ৭ দিন এবং ১২ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয়, সন্দেহভাজন আসামি মো. সাগর, কামরুল হাসান সাইমুন, নাজমুল হাসান ও রাফিউল ইসলাম রাব্বীকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বরগুনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • বরগুনায় এখনো আতঙ্কের নাম সন্ত্রাসী রিফাত-রিশান, যদি মুক্তি পায়

    বরগুনায় এখনো আতঙ্কের নাম সন্ত্রাসী রিফাত-রিশান, যদি মুক্তি পায়

    বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি রিফাত ও রিশান। আপন এই দুই ভাই সরাসরি রিফাত শরীফ হত্যায় অংশ নিয়েছিল। নিহতের বাবা দুলাল শরীফের দায়ের করা মামলায় এই দুই ভাই পর্যায়ক্রমে ২য় ও ৩য় আসামি। এদের মধ্যে রিফাত ফরাজীকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বরগুনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে রিশান এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। নির্যাতিতদের আতঙ্ক, রিফাত-রিশান ছাড়া পেলে তারা কি এলাকায় থাকতে পারবেন!

    অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরের ধানসিঁড়ি সড়কে দুলাল ফরাজীর ছেলে রিফাত ও রিশান। বরগুনা কলেজিয়েট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক ও ২০১৪ সালে বরগুনা জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করে। এরপরই সে বরিশালের ইনফ্রা পলিটেকনিকে ভর্তি হয়। ভর্তির পরপর মাদকাসক্ত হয়ে পরে রিফাত। পরপর সেমিষ্টারে অকৃতকার্য হওয়ার পর সে বরগুনায় চলে আসে। স্থানীয়দের কাছে একটি আতঙ্কের নাম রিফাত ফরাজী। রিফাতের হাতে অসংখ্য মানুষ লাঞ্ছিত হয়েছেন। প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের ওপর হামলা, মারধর রিফাতের কাছে ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এসব কারণে কয়েকবার গ্রেপ্তার হলেও অজ্ঞাত কারণে খুব স্বল্প সময়েই মুক্তি পায় সে।

    ২০১৭ সালের প্রথম দিকে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ডিকেপি এলাকার ডাক্তারবাড়ী রোডের বাসিন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেনের বাসার সামনে বখাটেদের নিয়ে আড্ডা দেয়ার প্রতিবাদ করায় ওই বাসায় রিফাত ফরাজীর নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। ওইসময় তারা দেলোয়ারের ঘরের আসবাবপত্র কুপিয়ে তছনছ করে হুমকি দিয়ে যায়। বর্তমানে ঝালকাঠি সদর থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, রিফাত প্রতিনিয়ত নেশা করত এবং তার সঙ্গে অনেক প্রভাবশালীর ছেলেরা আড্ডা দিত। আমার বাসায়ও চাপাতি নিয়ে হামলা চালিয়েছিল রিফাত ফরাজী। ওই ঘটনার পরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু কিছুদিন পরই সে ছাড়া পেয়ে যায়।

    ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় কুকুরের বাচ্চা নিয়ে বিরোধীতার জেরে তৌহিদুল ইসলাম তারিক (২১) নামের এক প্রতিবেশীকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে রিফাত ও রিশান ফরাজী। এ ঘটনার পরের দিন তারিকের বাবা মো. এমাদুল বাদী হয়ে ১৬ জুলাই বরগুনা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এ মামলা ১৮ তারিখ তাকে আটক করে পুলিশ। কিন্ত মাত্র দু’সপ্তাহের ব্যবধানে ছাড়া পায় রিফাত।

    তৌহিদুল ইসলাম তারিক জানান, কুকুরের বাচ্চা নিয়ে রিফাত ফরাজীর সঙ্গে একদিন সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। তখন রিফাত ফরাজী আমাকে কুপিয়ে জখম করার হুমকি দেয়। রিফাত ফরাজীর ভয়ে আমি দেড় মাস রিফাত ফরাজীর বাসার সামনে দিয়ে না গিয়ে আধা কিলোমিটার পথ ঘুরে বাসায় যাওয়া-আসা করতাম।

    একই বছর রিফাত ফরাজী বরগুনার হোমিও চিকিৎসক ডা. আলাউদ্দিন আহমেদের ডিকেপি রোডের বাসার ছাত্র মেসে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে বাসায় থাকা সব ছাত্রদের জিম্মি করে, তাদের ১৪টি মোবাইল ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে ডা. আলাউদ্দিন আহমেদের ছেলে ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ডিকেপি রোডে আমাদের ভাড়া দেওয়া বরগুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেসে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে ১৪টি মোবাইল ছিনতাই করেন রিফাত ফরাজী। এ ঘটনায় বরগুনা সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ করলে পুলিশ রিফাত ফরাজীর বাবা দুলাল ফরাজীকে আটক করে। পরে দুলাল ফরাজী রিফাতের কাছ থেকে ছিনতাই করা ১৪টি মোবাইলের মধ্যে ১১টি উদ্ধার করেন। আর বাকি তিনটি মোবাইল উদ্ধার করতে না পেরে নতুন মোবাইল কিনে দিয়ে থানা থেকে মুক্তি পান।

    বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা মারজানা মনি বলেন, ২০১৭ সালের রমজানে আমার একমাত্র ছোট ভাই হাফেজ মো. মেহেদী হাসান বরগুনার হোমিও চিকিৎসক আলাউদ্দিন ডাক্তারের বাসা সংলগ্ন মসজিদে তারাবির নামাজ পড়ায়। তখন রিফাত ফরাজী একদিন মেহেদীর কাছ থেকে স্যামস্যাং গ্যালাক্সি কোর প্রাইম মডেলের বিদেশ থেকে আনা একটি ফোন ছিনিয়ে নেয়। বিষয়টি রিফাত ফরাজীর মা-বাবাসহ স্থানীয় অনেককে জানানোর পরও আমার ভাইয়ের মোবাইলটি কেউ উদ্ধার করে দিতে পারেননি। পরে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করার পর সাড়ে সাত হাজার টাকার বিনিময়ে মোবাইলটি ফিরিয়ে দিয়ে হুমকি দেয় রিফাত ফরাজী। পরে রিফাত ফরাজীর হুমকিতে ওই এলাকা ছেড়ে একপ্রকার পালিয়ে আসে আমার ভাই। গতবছরের শেষের দিকে ক্রোক এলাকার লন্ড্রি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করে রিফাত বাহীনি।

    আবুল কালাম বলেন, আমার বড় ভাইয়ের সাথে জনৈক মন্টু মিয়ার জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। ভাড়াটিয়া হিসেবে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে সে আমার ভাইকে মারতে এসে ভুলে আমায় মারধর করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনদিন পর আমার জ্ঞান ফেরে। সম্প্রতি দীঘির পাড় এলাকায় আজিম মোল্লার ম্যাচে হানা দিয়ে ছাত্রদের মুঠোফোন কেড়ে নেয় রিফাত বাহিনী।

    আজিম মোল্লা জানান, মাস দুয়েক আগে আমার ম্যাচে হানা দেয় রিফাত বাহিনী। পরে আমি আড়াই হাজার টাকার বিনিময়ে একটি মোবাইল ফেরত আনি। ক্রোক এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, বরগুনা পলিটেকনিকের ছাত্রদের ছাত্রাবাসে হানা দিয়ে মুঠোফোন ও ল্যাপটপ জিম্মি করে টাকা আদায় করা। কেজিস্কুল এলাকার প্রায় সবগুলো ম্যাচের শিক্ষার্থীদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে অর্থ আদায় করেছে এই রিফাত ও তার বাহিনী। কালাম মোল্লা, বাদল মিয়াসহ বেশ কয়েকজন জানান, রিফাত প্রতিনিয়তই ম্যাচে হানা দিয়ে ছাত্রদের ফোন ল্যাপটপ জিম্মি করে টাকা আদায় করত।

    কলেজে ছিল রিফাত-রিশান বাহিনী আতঙ্ক
    সকাল থেকে রিফাত বাহীনির আনাগোনা ছিল বরগুনা সরকারি কলেজে। মেয়েদের উত্ত্যক্তকরণ, নতুন শিক্ষার্থীদের ০০৭ গ্রুপের সদস্য করাসহ কলেজ ক্যাম্পাসে মাদকের আখড়া বসিয়ে ছিল রিফাত বাহিনী। ছোট ভাই রিশানের দায়িত্ব ছিল বন্ড গ্রুপের নতুন সদস্য যুক্ত করা এবং ঐ সদস্যদের পর্যবেক্ষণ করা। রিশান প্রায় প্রতিটি ঘটনায় যুক্ত থাকলেও খুব একটা প্রকাশ্যে আসতো না। কলেজ ক্যাম্পাসে আড্ডা ও বখাটেপনায় অতিষ্ঠ থাকলেও রিফাত বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতো না।

    বরগুনা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, রিফাত বাহিনীর অত্যাচারে সাধারন শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও তিনি আমলে নিতেন না। বরগুনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ মুঠো ফোনে বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটখাট ঘটনা অহরহ ঘটে। আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসলে আমি ব্যবস্থা নিয়েছি। আমি এদেরকে দুবার পুলিশে সোপর্দ করেছিলাম। ঘটনার দিন কি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন, জানতে চাইলি তিনি বলেন, ঘটনা আমার ক্যম্পাসের বাইরে ঘটায় গুরুত্ব দেইনি। সন্ধ্যার পরে ভিডিও দেখার পর গুরুত্ব অনুধাবণ করি।

    এতসব ঘটনার জনক রিফাত ফরাজী ও তার দলের বিরুদ্ধে কেউ মুখ না খোলায় তেমন একটা আইনের আওতায়ও আসেনি তারা। মামলা বা অভিযোগ তো দূরে থাক, কেউ এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই সাহস পায়নি। যে মুখ খুলেছে তাকেই লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। তবে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে বরগুনা থানায় রিফাতের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় আটক হলেও রাতারাতি জামিনে এসে ফের একই কাজে লিপ্ত ছিল এই বাহিনী।

    মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ রিফাতকে বরগুনা থেকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে হাজিরের পর তাকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িত সবশেষ ব্যক্তিটিকেও আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত আমরা অভিযান চালিয়ে যাবো। অপরাধীকে অপরাধী বিবেচনায় আমাদের কার্যক্রম চলবে, প্রভাবশালী বিবেচনায় না’।

    উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বুধবার সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে রিফাত শরীফকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে যখম করে সন্ত্রাসীরা। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে বরিশাল সেবাচিমে নিয়ে যাওয়া হলে বিকেল সোয়া চারটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। হামলার আগের রাতে রিফাত ফরাজী জিরো জিরো সেভেন ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে হত্যার পরিকল্পনা ও সদস্যদের উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেয়। ঘটনার পর থেকে রিফাত ও রিশান উভয়ে পলাতক থাকলেও মঙ্গলবার রাতে রিফাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

  • বরিশালে জাল সনদে পুলিশে চাকরি, বাবা-মেয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট

    বরিশালে জাল সনদে পুলিশে চাকরি, বাবা-মেয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট

    অনলাইন ডেস্ক :

    বরিশালে জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদ দিয়ে নারী কনস্টেবল পদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাবা ও মেয়ের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

    বৃহস্পতিবার (০৪ জুলাই) আদালতের সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) কাছে চার্জশিট জমা দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. ফরিদুজ্জামান।

    অভিযুক্তরা হলেন- বরিশাল বন্দর থানার চরকেউটিয়া এলাকার মৃত করিম গাজির ছেলে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য (সুবেদার) আব্দুল লতিফ গাজী ও তার মেয়ে নারী পুলিশ কনস্টেবল মিল্কী আক্তার।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, বাবা আব্দুল লতিফ গাজীর নামের জাল মুক্তিযোদ্ধার সনদ দিয়ে ২০১০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নারী কনস্টেবলের চাকরি পান মিল্কী আক্তার। চাকরিতে যোগদানের পর মিল্কীর বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাছাই শেষে জানা যায় সেটি জাল।

    এর আগে ৬ মাসের ট্রেনিং শেষ করে কনস্টেবল হিসেবে বরিশাল মহানগর পুলিশে যোগ দেন মিল্কী আক্তার। পরে পুলিশ হেডকোটার্সের নির্দেশে রিজার্ভ পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেন ২০১৮ সালের ৬ জুন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

  • মোবাইলে কথা বলা অবস্থায় ওভারব্রিজ থেকে স্কুলছাত্রীর লাফ

    মোবাইলে কথা বলা অবস্থায় ওভারব্রিজ থেকে স্কুলছাত্রীর লাফ

    গায়ে স্কুল ড্রেস, কাঁধে বইয়ের ব্যাগ। নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলস্টেশনের ওভারব্রিজে উঠে মোবাইলে কথা বলছিল একটি মেয়ে। এমন দৃশ্য স্টেশনে অপেক্ষারত ট্রেনযাত্রীসহ রেল পুলিশের চোখ এড়ায়নি। হঠাৎ করে মেয়েটি মোবাইলে কথা বলা অবস্থায় ওভারব্রিজ থেকে লাফিয়ে পড়ে।

    বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওভারব্রিজ থেকে লাফিয়ে পড়ে মারাত্মক আহত হয় স্কুলছাত্রী। বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই ছাত্রী। ধারণা করা হচ্ছে আত্মহত্যার জন্য ওভারব্রিজ থেকে লাফ দিয়েছিল স্কুলছাত্রী।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই স্কুলছাত্রী সৈয়দপুর শহরের কয়ানিজপাড়া মহল্লার ঠিকাদার মফিজুল ইসলাম লেবুর মেয়ে লিয়ানা সরকার লোপা (১৫)। সে স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

    বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় লোপা। কিন্তু বিদ্যালয়ে না গিয়ে সৈয়দপুর রেলস্টেশনে গিয়ে কিছু সময় ঘোরাঘুরি করে সে। পরে রেলস্টেশনের ওভারব্রিজে উঠে মোবাইলে কথা বলছিল।

    রেলস্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষায় থাকা আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই স্কুলছাত্রী মোবাইলে কথা বলতে বলতে ওভারব্রিজ থেকে লাফ দেয়। এতে মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যায় সে। রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কর্তব্যরত পুলিশ ও লোকজন তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর হাসপাতালে ভর্তি করে।

    পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ওই ছাত্রীর অভিভাবকরা হাসপাতালে ছুটে আসে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    সৈয়দপুর হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেয়েটির বাম পায়ের হাঁটুর ওপরের হাঁড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানের বেশ কিছু হাড় ভেঙে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক বলেন, ওভারব্রিজ থেকে ওই স্কুলছাত্রীর লাফিয়ে পড়ার কারণ জানা যায়নি। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

  • ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত, শিক্ষক কারাগারে

    ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত, শিক্ষক কারাগারে

    চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর সময় যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওমর ফারুক (৩৫) নামে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    গত সোমবার (১ জুলাই) শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউপির চিতোষী বাজারের ইয়াসিন মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেফতার ওমর ফারুক রায়শ্রী দক্ষিণ ইউপির শিবপুর গ্রামের হাজি বাড়ির নেছার আহমেদের ছেলে এবং চিতোষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

    ওই ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবর বিকেলে ওই ছাত্রীর মা তার নানার বাড়ি ও বাবা জীবিকার প্রয়োজনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতে যান। মেয়েটি প্রতিদিনের মতো তার বিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে শিক্ষক ওমর ফারুকের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। ওই সময় শিক্ষক ওমর ফারুক তার সঙ্গে থাকা চার বান্ধবীকে ছুটি দিয়ে তাকে থাকতে বলেন। মেয়েটি শিক্ষকের কথা মতো থেকে যায়।

    পরে সবার অনুপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে শিক্ষক ওমর ফারুক মেয়েটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন এবং তাকে দিয়ে যৌন নির্যাতন করেন।

    পরদিন বিদ্যালয়ে গিয়ে মেয়েটি তার দুই বান্ধবীকে বিষয়টি খুলে বললে তারা তার বাবাকে জানায়। পরে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে শিক্ষক ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

    শাহরাস্তি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিদায় সম্ভাষন জানালো মুক্তিযোদ্ধা সংসদ

    নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিদায় সম্ভাষন জানালো মুক্তিযোদ্ধা সংসদ

    ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আশ্রাফুল ইসলাম’র নলছিটি থেকে বদলীজনিত বিদায় উপলক্ষে এক বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নলছিটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

    আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে ডেপুটি কমান্ডার (সাবেক) তাজুল ইসলাম চৌধুরী’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী ইউএনও মোঃ আশ্রাফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমান্ডার (সাবেক) আব্দুল হাকিম মোল্লা,জেলা কমান্ডের সহকারী কমান্ডার এ.টি.এম.শাহজাহান,উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এ.বি.এম. হারুন অর রশিদ,আহসান হাবিব আকন,হাবিব হাওলাদার,শেখ হাবিবুর রহমান,মাকসুদ হোসেন,আব্দুল হালিম খলিফা,রুস্তম আলী খলিফা প্রমুখ। বিদায়ী বক্তব্যে ইউএনও আশ্রাফুল বলেন,কেবল একজন নির্বাহী অফিসার হিসেবেই নয়,একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমাকে নলছিটির পিতৃতুল্য মুক্তিযোদ্ধাগন সবসময় আমাকে আন্তরিকতার সাথে সহাযোগীতা করেছেন।

    মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নয়নে ও সহায়তা প্রাপ্তিতে সরকার নির্ধারিত কার্যক্রমে তারা আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন। আমি সৌভাগ্যবান যে,ইউএনও হিসেবে আমার প্রথম পোস্টিং নলছিটিতে এবং আমি এখনকার সহানুভুতিশীল মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে অনেক সঠিক পরামর্শ পেয়েছি।

    আমি যতদিন বেচে থাকবো নলছিটির সম্মানিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বরন রাখবো বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সকলের কাছে দোয়া চান এবং কাজের মাঝে ভুলত্রুটি গুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করেন।

  • আগৈলঝাড়ায় ১৫৬টি বিদ্যালয়ে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

    আগৈলঝাড়ায় ১৫৬টি বিদ্যালয়ে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

    নিউজ ডেস্ক:

    সরকারের ঘোষিত ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ করে দিতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পজেলার ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও ৮৬টি বিদ্যালয়ে ১২২টি সাউন্ডবক্সসহ ১৫৬টি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষন কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রী), বরিশাল-১ আসনের এমপি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।

    আজ বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাসের সভাপতিতে উপজেলা পরিষদ হল রুমে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি। পরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিদের হাতে সরকারের আধুনিক শিক্ষা উপকরণ প্রদান করেন তিনি।

    ওই সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুনীল কুমার বাড়ৈ, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, আবু সালেহ মোঃ লিটন সেরনিয়াবাত, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা খান, ভাইস চেয়ারম্যান মলিনা রানী রায়, রফিকুল ইসলাম তালুকদার, শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল হক তালুকদার, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার, ইলিয়াস তালুকদার, বিপুল দাসসহ সরকারী কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

  • আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড পছন্দ করি না: হাইকোর্ট

    আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড পছন্দ করি না: হাইকোর্ট

    অনলাইন ডেস্ক :

    বরগুনায় রিফাত শরীফকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার অগ্রগতি জানানার সময় হাইকোর্ট বলেছেন, ‘আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড পছন্দ করি না।’

    বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার একেএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাসার রিফাত হত্যা মামলার সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরেন।

    তিনি আদালতকে বলেন, ‘এই মামলার কোনো আসামি দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে পারেনি। এরই মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ৫ জন আসামি এবং সন্দেহভাজন ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটির প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। শত শত পুলিশ র‍্যাব মাঠে কাজ করছেন আসামিদের ধরতে।’

    এসব তথ্য জানার পর আদালত বলেন, ‘আমরা এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং (বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড) পছন্দ করি না। আর একদিনেই এই নয়ন বন্ড তৈরি হয়নি। তাকে লালন করা হয়েছে। ক্রিমিনাল বানানো হয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বরগুনায় রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন।

    সেদিন আদালত বলেন: ‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি আগে এরকম ছিল না। অনেকে দাঁড়িয়ে দেখেছেন। কেউ প্রতিবাদ করলেন না। সমাজ কোথায় যাচ্ছে? আমারা সবাই মর্মাহত।’

    এরপর আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে বলেন: বরগুনা যেহেতু সুন্দরবন এবং বর্ডারের কাছে সেহেতু আইজিপিকে ইনফর্ম করুন যাতে আসামিরা বর্ডার ক্রস করতে না পারে। প্রয়োজনে সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি করুক।’

    সেসময় আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এ বিষয়ে আদেশ চাইলে আদালত বলেন: যেহেতু মামলা হয়েছে সেহেতু আমরা আদেশ দিচ্ছি না। কিন্তু কোনো অনিয়ম বা অবহেলা হচ্ছে কিনা আমরা তা নজরে রাখব এবং আগামী বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আবার অগ্রগতি জানব।

    তারই ধারাবাহিকতায় আজ আদালতে এ মামলার অগ্রগতি জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

    গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে দশটার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের পাশে রিফাতকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে কয়েকজন যুবক। সেসময় নানাভাবে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেও বাঁচতে পারেনি রিফাত।

    ওই ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক রিফাতকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর আঘাত করছে। আর তাদের হাত থেকে স্বামীকে রক্ষার চেষ্টা করছেন রিফাতের স্ত্রী মিন্নি। এবং তিনি চিৎকার করে সাহায্য চাচ্ছেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে অনেকে উপস্থিত থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।

    হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় রিফাতকে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রিফাতকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    এরপর গত ২৭ জুন সকালে নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তাতে বরগুনা শহরে চিহ্নিত সন্ত্রাসী সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড এবং তার সহযোগী রিফাত ফরাজী ও তার ছোট ভাই রিশান ফরাজীসহ ১২ জনকে আসামি এবং আরও চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

    এরই মধ্যে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড গত মঙ্গলবার ভোরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।