Category: প্রশাসন

  • বরিশালে ‘কল্লাকাটা’ আতঙ্ক, সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেনা অভিভাবকরা

    বরিশালে ‘কল্লাকাটা’ আতঙ্ক, সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেনা অভিভাবকরা

    শুক্রবার রাত তখন ১২টা। নগরীর ডেফুলিয়া নিবাসী আমেনা বেগম গভীর ঘুমে নিমগ্ন। অত্যন্ত গরমে জানালা খুলেই ঘুমিয়েছে সে। হঠাৎ হাটার শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় তার। ঘুম ভেঙ্গে জানালার বাইরের রাস্তায় যা দেখলো তাতে সে ভয়ে আতঙ্কিত। সে দেখলো এক লোক সাজি বোঝাই করে বাচ্চাদের কাটা মাথা নিয়ে যাচ্ছে। এরপর আমেনা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে স্বজোরে কল্লা কাটা, কল্লা কাটা বলে চিৎকার দেয়।

    মধ্য রাতে তার চিৎকারের শব্দে চারপাশ থেকে লোকজন লাঠি-শোটা নিয়ে ছুটে আসে কল্লা কাটা ধরতে। পরে সাজি সমেত লোকটাকে ধরে ফেলে। কিন্তু ঘটনা ছিলো ভিন্ন লোকটির মাথার সাজিতে আসলে কোন শিশুর কল্লা ছিলো না। ছিলো বড়শি। সে রাতে মাছ ধরতে বের হয়েছে। অপরদিকে সে আমেনার বাড়ির প্রতিবেশী।

    এভাবে বরিশাল জেলা ও অন্যান্য জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ছেলে ধার (কল্লাকাটা) আতঙ্ক। চায়ের দোকানের আড্ডায়, হাট-বাজার, বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বাসা-বাড়িতে কয়েকদিন যাবৎ এই আতঙ্ক বিরাজ করছে।

    এভাবেই ছেলে ধরা আতঙ্কে বিদ্যালয়ে সন্তানদের একা ছাড়ছে না বাবা-মায়েরা। আবার সময়ের অভাবে অনেক অভিভাবকরা সাথে যেতে না পারায় সন্তানকেও স্কুলে পাঠাচ্ছে না।

    ফলে বিদ্যালয়গুলোতে শিশুশিক্ষার্থীদের সংখ্যাও কমে গেছে।

    আজ রবিবার বিকাল পর্যন্ত শহর ও গ্রামগঞ্জের পাড়া-মহল্লায় সংবাদ আশে কল্লাকাটা ও ছেলে ধরা নেমেছে। বেশ কয়েকটি স্থান থেকে কল্লাকেটে শিশুদেরকে নিয়ে যাওয়ার ধুর্মজাল সৃষ্টি হয়েছে।

    ধারণা করা হয়, সম্প্রতি শিশু অপহরন ও হত্যার বেশ কিছু ঘটনায় শিশু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অভিভাবকরা। কতিথ ছেলে ধরা আতঙ্কে ভ’গছে সবাই।

    ছেলে ধারা আতঙ্কের কথায় কমপক্ষে পাঁচ জনকে কথিত ছেলে ধরা অপরাধে বরিশালের বিভিন্ন যায়গা থেকে আটক করেছে পুলিশ, এছাড়াও গত বৃহস্পতিবার নগরীর গ্রীর্জামহল্লা এলাকা থেকে ছেলেধরা সন্ধেহে এক মহিলাকে আটক করে কোতয়ালি থানায় সোপর্দ করে জনতা।

    একইদিনে কাউনিয়ায় শিশু অপহরনের চেষ্টায় অভিযোগ এনে এক যবককে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

    এদিকে চরফ্যাশন উপজেলার আহম্মেদপুর ইউনিয়নের ফরিদাবাদ গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, চরফ্যাশন কলোনির দশ জনের কল্লা কেটে নিয়ে গেছে। তাই তিনি তার সন্তানদেরকে মোবাইল ফোনে নাতি-নাতনিকে সতর্ক রাখার পরামর্শ দেন।

    এব্যাপারে বরিশালের পুলিশ সুপার বিষয়টি পুরোপুরি গুজব বলে জানান। অপহরন কিংবা অন্য কোন অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে এমন বিষয় তার জানা নেই বলেও জানান।

    তবে তিনি একথাও বলেন- আমাদের কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ আসেনি, তবে কোন এলাকায় সন্দেহজনক নতুন লোক দেখলে নিকটস্থ পুলিশকে যেন যানানো হয়।

    জেলা প্রসাশক এস,এম অজিয়র রহমান জানান- গুজবে কান না দেয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ রইল এক শ্রেণির ফালতু লোকেরা আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে ।

  • শ্রমিকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ

    শ্রমিকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ

    অনলাইন ডেস্ক :

    দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিকদের ডাকা অবরোধ কর্মসূচিতে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলন কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদসহ ১১ জন শ্রমিক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

    বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়োগের দাবিতে শ্রমিকদের ডাকা অবরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয়দিন রোববার বেলা ১১টার দিকে এ লাঠিচার্জ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশের লাঠিচার্জে কমপক্ষে ২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

    পুলিশের হাতে আটক অন্য শ্রমিক নেতারা হলেন- আরিফুল ইসলাম, মাজেদুল ইসলাম, মনোয়ার হোসেন, আব্দুল আজাদ, মমিনুল ইসলাম, মাজেদুল হক, জিয়াদুল হক ও শাহিনুর রহমান।

    এদিকে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটক শ্রমিক নেতাদের মুক্তির দাবি করে আবারও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। পুলিশের লাঠিচার্জের পর আন্দোলরত শ্রমিকরা সংগঠিত হয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন। একই সঙ্গে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিক অধিকার আন্দোলন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবি শাহাজান। এ সময় কমিটির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, আরিফ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফুলবাড়ী শাখার সাধারণ সম্পাদক নুর আলমসহ অনান্য শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    স্থানীয়রা জানান, রোববার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এতে হঠাৎ লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। এতে কয়েকজন আহত হন এবং কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।

    শ্রমিক অধিকার আন্দোলন কমিটির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও আরিফ বলেন, শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবি পূরণের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ আমাদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। পুলিশের লাঠিচার্জে কমপক্ষে ২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

    তবে পুলিশ বলছে, আন্দোলনকারীদের বারবার অনুরোধ করেও সড়ক থেকে সরানো যায়নি। পরে তাদেরকে ধাওয়া দিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, আন্দোলনকারীরা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকালীন একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে উন্নয়নকাজ করেছিল। এখন উন্নয়নকাজ শেষ। আবার যখন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে জনবল প্রয়োজন হবে তখন তাদের কাজে লাগানো হবে। এখন জনবলের প্রয়োজন নেই।

    ১১ জন শ্রমিক নেতাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়পুকুরিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সুলতান মাহমুদ বলেন, আন্দোলনকারীরা দাবি আদায়ের নামে ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর সড়ক অবরোধ করে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। এতে করে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। জনদুর্ভোগ দূর করতে তাদের ধাওয়া দিয়েছে পুলিশ। ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বড়পুকুরিয়া বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটের উন্নয়নকাজের স্থানীয় অভিজ্ঞ শ্রমিকরা উৎপাদনকাজে কর্মী হিসেবে নিয়োগের দাবিতে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে অবরোধ কর্মসূচি দেয়। এরই অংশ হিসেবে রোববার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা।

  • জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হতে পারেন মিন্নি

    জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হতে পারেন মিন্নি

    নতুন একটি সিসিটিভি ফুটেজে ‘স্বাভাবিকভাবে’ হাঁটার কারণে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন বরগুনায় নিহত শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। মামলার এক নম্বর সাক্ষী মিন্নি। যে কোনো সময় পুলিশি হেফাজতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে। মিন্নি বর্তমানে পুলিশি নিরাপত্তায় বরগুনায় তার বাবার বাসায় অবস্থান করছেন।

    শনিবার বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা গেছে। ভিডিওটি ৯ মিনিট ৩ সেকেন্ডের। ভিডিও ফুটেজটির ৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে দেখা গেছে, নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ ১০-১২ জন রিফাতকে মারধর করতে করতে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে বের হচ্ছে। এদের মধ্যে একজন পেছন থেকে রিফাতকে ধরে রেখেছে। বাকি দুজন দুই হাত ধরেছে। ৫ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ফুটেজে মিন্নিকে দেখা যায়, তার বাম হাতে একটি পার্স ছিল। সে পারস হাতে স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিল। একবার ডানেও তাকিয়েছেন কলেজের দিকে।

    ৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে যখন নয়নের সঙ্গীরা রিফাতের মাথায় হাত দিয়ে আঘাত করেন তখনও স্বাভাবিক ছিলেন মিন্নি। ৫ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে যখন সব বন্ধুরা একসঙ্গে রিফাতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তখন প্রথমবারের মতো দৌড়ে যান মিন্নি। প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তখন দা বের করে কোপানো শুরু হয়। পেছন থেকে মিন্নিকে প্রতিরোধ করতে দেখা যায়।

  • বরিশালে রাতের উদ্ধার হওয়া মাদক সকালে গায়েব!

    বরিশালে রাতের উদ্ধার হওয়া মাদক সকালে গায়েব!

    অনলাইন ডেস্ক :

    বর্তমান সরকার মাদককে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করলেও সারাদেশের থেকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার প্রেক্ষাপট দেখা যায় অনেকটা ভিন্ন। গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ মাদক নিয়ে একের পর এক জন্ম দিচ্ছে বিতর্ক।

    বর্তমান এই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ছরোয়ার। তিনি আগমনের পর থেকেই গৌরনদীতে বেড়ে গেছে মাদকের খুচরা, পাইকারী বেচা-কেনা। পাইকারি বিক্রেতাসহ ছোট-বড় কারবারীরা হয়েছে আরও সক্রিয়

    সম্প্রতি এই মাদক আর মাদক ব্যবসায়ী নিয়ে আরেক নয়া বিতর্কের জন্ম দিয়েছে গৌরনদী থানা পুলিশ। যার প্রমাণ মিলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে।

    গত ৫ জুলাই গভীর রাতে গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের কটকস্থল থেকে ২০ বোতল ফেন্সিডিল ও ৮০ পিচ ইয়াবাসহ গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় মাদক বিক্রেতা মামুন ঘরামী।

    সেই আটক হওয়া মামুন ও মাদকসহ পুলিশের একটি ছবি রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ওই ছবিতে গ্রেফতারকৃত মামুনের সামনে ২০ বোতল ফেন্সিডিল ও ৮০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট দেখা যায়।

    কিন্তু সকালের আলো ফুটতেই মামুনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মাদকের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় কমে যায় মাদকের পরিমান। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় মামুনের নিকট থেকে ১৫ বোতল ফেন্সিডিল ও ৩৯ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

    এরপরই মূলত বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গৌরনদী থানা পুলিশের প্রতি নিন্দার ঝড় ওঠে। অনেকেই ফেসবুকে পুলিশ সদস্য সম্বলিত গ্রেফতার হওয়া মামুন ও তার সামনে থাকা মাদক নিয়ে নানামুখি প্রশ্ন তোলে। কেউ কেউ ছবিটি পোস্ট করে লিখেছেন ছবি নাকি কথা বলে তাহলে কোনটা সত্য? মামলার এজাহার নাকি পুলিশসহ ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবি ?

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি ওসি গোলাম ছরোয়ার।

  • শিশু পার্কে অসামাজিক কার্যকলাপ, শতাধিক তরুণ-তরুণী আটক

    শিশু পার্কে অসামাজিক কার্যকলাপ, শতাধিক তরুণ-তরুণী আটক

    অনলাইন ডেস্ক :

    ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার পৌর শেখ রাসেল শিশু পার্কে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে শতাধিক যুবক-যুবতীকে আটক করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। পরে তাদেরকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

    রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. বায়েজুদুর রহমানের নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমান আদালতটি পরিচালিত হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, অনেকদিন ধরেই পার্কটিতে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছিলো। আজ এ অভিযানটিকে এলাবাসী সাধু বাদ জানায়।

    এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. বায়েজুদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিশু পার্কটিতে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছে।

    আজ জেলা প্রশাসকের নিদের্শে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

  • ধর্ষণের পর আত্মহত্যা, হেনস্থার অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

    ধর্ষণের পর আত্মহত্যা, হেনস্থার অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

    রাজশাহীর মোহনপুরে আত্মহননকারী সেই স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বর্ষাকে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে ফরেনসিক প্রতিবেদনে। ইতোমধ্যে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

    রাজশাহীর সহকারী পুলিশ সুপার সুমন দেব এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ২৭ জুন রাজশাহীর শিশু ও নারী নির্যাতন আদালত-২ এ বর্ষার ফরেনসিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বর্ষাকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এখন এ মামলাটিতে ধর্ষণের অপরাধের ধারাটিও যুক্ত হবে।

    পুলিশ সূত্র জানায়, মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষাকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে প্রতিবেশী মুকুল। গত ২৩ এপ্রিল এ নির্যাতনের পর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে তার পরিবারকে হেনস্থা করেন মোহনপুর থানার ওসি আবুল হোসেন। চারদিন ধরে মামলা না নিয়ে নানাভাবে টালবাহানা করেন ওসি। অবশেষে পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহর হস্তক্ষেপে চারদিন পর ২৭ এপ্রিল মামলা নেন ওসি।

    ওই মামলায় মুকুলসহ ও বর্ষার সহপাঠী সোনিয়াসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। এরপর থেকে মুকুলের পরিবারের সদস্যরা বর্ষাকে নানা ধরনের কটূক্তির পাশাপাশি অপবাদ দিতে থাকে। এ অপমানে গত ১৬ মে নিজ ঘরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বর্ষা। এরপর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন তার বাবা। এ মামলাতে মুকুল ও তার মাসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় মুকুলসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। মুকুল এখনো জেলহাজতে রয়েছে। বর্ষার আত্মহনন মামলা তদন্তের স্বার্থে ওসি আবুল হোসেনকে গত ২০ মে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।

    আত্মহত্যার আগে সুমাইয়া আক্তার বর্ষা এক চিঠিতে লিখেছে, ‘প্রিয় বাবা-মা তোমাদের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি তোমাদের থেকে অনেক কিছু পেয়েছি, অনেক আদর, অনেক ভালোবাসা। কিন্তু একটা মেয়ের কাছে তার মানসম্মান সবচেয়ে বড়। আমি আমার লজ্জার কথা সবাইকে বলতে বলতে নিজের কাছে অনেক ছোট হয়ে গেছি। প্রতিদিন পরপুরুষের কাছে এসব বলতে বলতে আমি আর পারছি না। অপরাধীকে শাস্তি দিলেই তো আমার মানসম্মান ফেরত পাব না। তাই আমাকে ক্ষমা করো।’

  • বরিশালে নামাজের জন্য বাড়িছাড়া করলেন স্বামী, দুনিয়া ছাড়লেন স্ত্রী

    বরিশালে নামাজের জন্য বাড়িছাড়া করলেন স্বামী, দুনিয়া ছাড়লেন স্ত্রী

    নিউজ ডেস্ক:

    বরিশালের মুলাদী উপজেলার রামচর গ্রামের আরিফ হোসেন হাওলাদারের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার (২৬)। সময়-অসময়ে তিনি নামাজ আদায় করতেন।

    এ কারণে তিন মাস আগে স্বামী আরিফ স্ত্রী ইয়াসমিনকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। ইয়াসমিন বেগম বাবার বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। এরপর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

    শনিবার সকালে বাবার বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে ইয়াসমিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত ইয়াসমিন উপজেলার নাজিরচর ইউনিয়নের চিলমারী গ্রামের মোহাম্মদ হোসেন মৃধার মেয়ে। ইয়াসমিন-আরিফ দম্পতির সাত বছরের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৮ বছর আগে ইয়াসমিনের সঙ্গে আরিফ হোসেনের বিয়ে হয়। দুই বছর ধরে ইয়াসমিন সময়-অসময়ে নামাজ আদায় করতেন। এ কারণে প্রায় তিন মাস আগে আরিফ তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এরপর ইয়াসমিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বাবার বাড়িতে বিষণ্নতা পেয়ে বসে তাকে।

    নিহত ইয়াসমিনের বাবা মোহাম্মদ হোসেন মৃধা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে তার মেয়ে নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েন।

    শনিবার সকালে তাদের পার্শ্ববর্তী একটি পরিত্যক্ত ঘরের একটি টিন খোলা দেখে সন্দেহ হয় এবং সেখান দিয়ে ইয়াসমিনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন।

    খবর পেয়ে মুলাদী থানা পুলিশ ইয়াসমিনের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে।

    মুলাদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান জানান, ইয়াসমিনের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ধারণা করা হচ্ছে মানসিক রোগে ভুগছিলেন ইয়াসমিন।

    এ কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। স্বামীর বাড়িতে তার ওপর মানসিক নির্যাতন চালানো হতো কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ যুদ্ধ ঘোষণা করেছে: পুলিশ প্রধান

    মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ যুদ্ধ ঘোষণা করেছে: পুলিশ প্রধান

    পুলিশ প্রধান (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, মাদক আমাদের সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।

    একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে মাদক বড় অন্তরায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশ পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ আন্দোলনকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

    এ আন্দোলনে নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে হবে দেশের মেধাবী তরুণ সমাজকে।

    শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের পিএসসি কনভেনশন হলে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত সদস্যবৃন্দের কৃতি সন্তানদের ‘মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান ২০১৯’ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

    আইজিপি বলেন, একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই আমরা এগিয়ে যেতে পারি। আমরা সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা চাই না। আমরা চাই মানবিক মূল্যবোধ, চারিত্রিক ও নৈতিকতা সম্পন্ন আলোকিত মানুষ, যারা সমাজ ও দেশকে আলোকিত করতে পারবে, যাদের দেখে অন্যরা উৎসাহিত হবে।

    অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে আইজিপি বলেন, সন্তানের কাছে বাবা-মা হলেন রোড মডেল। সন্তান পরিবার থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। আপনাদের সন্তানদের খোঁজ-খবর রাখুন। তাদেরকে সময় দিন। তিনি সন্তানদের আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

    র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর পরিধি অনেক বেড়েছে, পুলিশের প্রতি মানুষের প্রত্যাশাও দিন দিন বাড়ছে। এ প্রত্যাশা পূরণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। পুলিশ সদস্যদের মেধাবী সন্তানদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জ্ঞান-বিজ্ঞানে তোমাদেরকে এগিয়ে থাকতে হবে।

    বেগম হাবিবা জাবেদ বলেন, স্বীকৃতি মানুষের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এটা আবার মানুষের মধ্যে অহংকারও তৈরি করে। এক্ষেত্রে সর্তক থাকার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

    সভাপতির বক্তব্যে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, মেধাবৃত্তি চালুর ফলে পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের মাঝে মেধার চর্চা বাড়বে। এতে অন্যরাও উৎসাহিত হবে, অনুপ্রাণিত হবে। অনুষ্ঠানে আইজিপি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ তুলে দেন।

    অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন-পুনাক সভানেত্রী মিসেস হাবিবা জাবেদ, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং অতিরিক্ত আইজিপি (এএন্ডও) ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য করেন- এআইজি (হেলথ এন্ড এডুকেশন) তাপতুন নাসরীন।

    উল্লেখ্য, বর্তমান আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর আগ্রহে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে ২০১৮ সাল থেকে পুলিশ পুলিশ হতে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।

  • বরগুনায় রিফাত হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ: নয়ন বন্ড নয়, ঘটনার মূল ভূমিকায় ছিল রিফাত ফরাজি

    বরগুনায় রিফাত হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ: নয়ন বন্ড নয়, ঘটনার মূল ভূমিকায় ছিল রিফাত ফরাজি

    বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যায় অভিযুক্তরা সকাল থেকেই কলেজের সামনে নানা পরিকল্পনা করতে থাকে। এক সময় কলেজ থেকে তারা জোর করে রিফাতকে বের করে নিয়ে যায়। পুরো হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওইদিন সরাসরি ১৫ থেকে ২০ জন জড়িত ছিল। সময় টিভি ১২:০০

    কিলিং মিশনে মূল ভূমিকা পালন করে দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজি। মাত্র ২ মিনিটের মধ্যেই তাদের মিশন শেষ করে চলে যায় ‘বন্ড বাহিনী’। সময় সংবাদের হাতে আসা একটি সিসিটিভির ফুটেজে পুরো ঘটনার এমনই তথ্য মিলেছে।

    বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পরিকল্পনাকারী নয়ন বন্ড হলেও কিলিং মিশনে মূল ভ‚মিকা পালন করে দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজি। সময় সংবাদের হাতে আসা ঘটনার দিনের একটি সিসিটিভি ফুটেজে এ চিত্র দেখা গেছে।

    সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া রিফাত শরিফ ঘটনার দিন সকাল ১০টায় তার স্ত্রী মিন্নিকে নিতে সাদা একটি মোটরসাইকেলে কলেজে আসে।

    ১০টা ৩ মিনিটে বন্ড বাহিনীর প্রধান রিফাত ফরাজি ৬ থেকে ৭ জনকে নিয়ে কলেজ গেটের বাইরে গিয়ে অপেক্ষ করতে থাকে। দুই থেকে তিন মিনিট পরে আরো ২ থেকে ৩ জনকে কলেজে পাঠায় সে। ১০ টা ৯ মিনিটে ওই ২ থেকে ৩ জনসহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে রাস্তার উল্টো পাশে অবস্থান নেয়। এক মিনিট পরে ঘাতক রিফাত ফরাজি গেটের কাছে এসে আরো দুটি ছেলেকে কিছু নির্দেশনা দিয়ে উল্টো দিকে পাঠায়।

    ১০ টা ১২ মিনিটে কলেজ থেকে বেরিয়ে রিফাত গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করে। ঠিক ১০টা ১৩ মিনিটে রিফাত ফরাজি নিহত রিফাত শরিফকে কলেজেরে গেটে এসে বন্ড বাহিনীর সহায়তায় জোর করে নয়ন বন্ডের কাছে নিয়ে যায়।

    সেখানে সবাই তাকে কিল ঘুষি মারতে থাকলে রিফাত ফরাজি ও একজন দৌড়ে গিয়ে তিনটি রামদা নিয়ে আসে। রিফাতের দুই হাতের দুটি দায়ের একটি নয়নকে দেয় ও আরেকটি দিয়ে নিজেই কোপাতে শুরু করে।

    ১০ টা ১৫ মিনিটে নয়ন, রিফাতসহ বন্ড বাহিনী কলেজ গেটের সামনে থেকে চলে যায়। আর ঘটনার ৮ মিনিট পরে দু’জন পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করে।

  • আগৈলঝাড়ায় গাঁজাসহ দুই ব্যবসায়ি গ্রেফতার

    আগৈলঝাড়ায় গাঁজাসহ দুই ব্যবসায়ি গ্রেফতার

    অনলাইন ডেস্ক:

    বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গাঁজাসহ দুই ব্যবসায়িকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    থানা সুত্রে জানা গেছে, মাদক কেনা বেচার গোপন খবরে পেয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার পয়সারহাট ব্রীজের উপর থেকে বরিশাল কোতোয়ালী থানার মজিদপুর (পেটকাটা) গ্রামের মো. আশ্রাব আলীর ছেলে মো. শহীদুল ইসলাম (৩৬) ও আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর চাঁদত্রিশিরা গ্রামের মৃত সেকেন্দার বখতিয়ারের ছেলে মো. তরিকুল ইসলাম বখতিয়ার (২২) কে গাঁজাসহ এসআই দেলোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গ্রেফতার করেন।

    রাতেই এসআই দেলেয়ার হোসেন গ্রেফতারকতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করেছেন, গ্রেফতারকৃতদের শনিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।