Category: প্রশাসন

  • রিফাত ফরাজী ৭ দিনের রিমান্ডে

    রিফাত ফরাজী ৭ দিনের রিমান্ডে

    বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামি রিফাত ফরাজীর সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার বিকেলে রিফাত ফরাজীর সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি রিফাত ফরাজীর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    হত্যা মামলায় রিফাত ফরাজী এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি এবং কিলিং মিশনের পরিকল্পনাকারী। ওই হত্যার ঘটনায় সরাসরি অংশ নিয়ে রিফাত শরীফকে প্রথমে কোপানো শুরু করেন তিনি।

    মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ তাকে বরগুনা থেকে গ্রেফতার করে।

    গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রীর সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা আক্তার মিন্নি হামলাকারী সাব্বির আহমেদ নয়ন (নয়ন বন্ড) ও রিফাত ফরাজীর সঙ্গে লড়াই করেও তাদের থামাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    এ ঘটনায় নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ২৭ জুন হত্যা মামলা দায়ের করেন রিফাত শরীফের বাবা মো. আ. হালিম দুলাল শরীফ।

  • প্রকাশ্যে ধূমপান করায় ৮ জনকে জরিমানা করলেন ম্যাজিস্ট্রেট

    প্রকাশ্যে ধূমপান করায় ৮ জনকে জরিমানা করলেন ম্যাজিস্ট্রেট

    পাবলিক প্লেসে প্রকাশ্যে ধূমপান আইনত দণ্ডনীয়। এই আইন অমান্য করে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে ধূমপান করছিলেন ধূমপায়ীরা।

    এ অবস্থায় মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আটজনকে আটক করে জরিমানা করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুই হাজার ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার তাসনীম জাহানের নেতৃত্বে এ অভিযান চলে।

    অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার তাসনীম জাহান বলেন, অভিযান চলাকালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ৪-এর উপধারা-২ লঙ্ঘন করায় সাতজনকে জরিমানা করা হয়েছে।

    smoking

    একই আইনের ৫-এর (ছ) ধারা লঙ্ঘন করে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়স্থলে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের দায়ে আরেকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। এই আটজনের কাছ থেকে মোট দুই হাজার ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

    তাসনীম জাহান আরও বলেন, পাবলিক প্লেসে ধূমপান করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পাবলিক প্লেসে ধূমপানের ফলে ধূমপায়ী নিজে ক্ষতিগ্রস্তের পাশাপাশি তার আশেপাশে থাকা অধূমপায়ীরা সমান ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে জনস্বার্থে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

  • গণধর্ষণের জরিমানা ১০ হাজার টাকা

    গণধর্ষণের জরিমানা ১০ হাজার টাকা

    ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় দুই সন্তানের জননীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে রাজ্জাক ও সজীব নামের দুই যুবক।

    সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের নৈকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার দুদিন পার হলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে থানায় অভিযোগ কিংবা মামলা করতে পারেননি গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ।

    ঘটনা জানাজানি হলে মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশ ডাকে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। সালিশ-বৈঠকে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর ইজ্জতের মূল্য ও চিকিৎসা খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

    এ অবস্থায় বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমানের কাছে বিস্তারিত ঘটনা জানান গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ। পরে গৃহবধূকে থানায় গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন চেয়ারম্যান।

    গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর ভাষ্য, ‘রাস্তাঘাটে চলাফেরার সময় অনেক আগ থেকে রাজ্জাক ও সজীব আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।

    সোমবার সন্ধ্যায় আমি গোয়ালঘরে গরু বাঁধতে যাই। এ সময় গোয়ালঘরের পাশে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা রাজ্জাক ও সজীব আমার মুখ চেপে ধরে তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। আমাকে গণধর্ষণের সময় অজ্ঞাত আরও দুই যুবক পাশে দাঁড়িয়েছিল।

    গৃহবধূ বলেন, এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। সেই সঙ্গে আমাকে বিচারের আশ্বাস দেয় তারা।

    এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে সালিশ ডাকা হয়। সালিশে আমার ইজ্জত ও চিকিৎসা খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে ঘটনাটি চেপে যেতে বলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তাদের প্রস্তাব না মেনে বুধবার সকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে ঘটনাটি খুলে বলি। বিষয়টি শুনে আমাকে মামলা করার পরামর্শ দেন চেয়ারম্যান।

    স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত সজীব রাজাপুর উপজেলার নৈকাঠি গ্রামের হারুন-অর-রশিদের ছেলে ও রাজ্জাক মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে।

    এ ব্যাপারে সাতুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এটি একটি জঘন্য ঘটনা। বিস্তারিত শুনে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদ হোসেন বলেন, বুধবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ। দুই ধর্ষককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • মুখ বেঁধে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার

    মুখ বেঁধে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার

    অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার হাজিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইন উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

    বুধবার সকালে জেলা কৃষি ফার্ম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রী (১৪) বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষক আইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে বারহাট্টা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক আইন উদ্দিন গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে তার (প্রধান শিক্ষক ) কক্ষের শৌচাগারে জড়িয়ে ধরেন। পরে ওড়না দিয়ে মেয়েটিকে মুখ বেঁধে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

    এ সময় ভয়ে মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক তার চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে সুস্থ করে তোলেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি কাউকে না জানাতে ছাত্রীকে শিক্ষক আইন উদ্দিন ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। মেয়েটি ওই দিন স্থানীয় দোকান থেকে ঘুমের ওষুধ সংগ্রহ করে বাড়িতে গিয়ে তা খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। ঘটনা জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষককে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী কয়েক দফা মানববন্ধনও করেন।

    ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বলে, হেড স্যার গত জানুয়ারির শেষ দিকে আমার এক বান্ধবীকে ওই শৌচাগারের ভেতরে নিয়ে এ রকম করেছিলেন। বিষয়টি আমি দেখে ফেলায় তিনি আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছিলেন।

    এরপর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে আমাকে স্যার তার কক্ষে ডেকে নিয়ে খাবার খাওয়ার কয়েকটি প্লেট ধুতে বলেন। আমি শৌচাগারে প্লেটগুলো ধুতে গেলে তিনি কৌশলে সেখানে গিয়ে প্রথমে একটি তোয়ালে দিয়ে আমার মাথা ও মুখ ঢেকে ফেলেন। পরে আমার ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। আমার জ্ঞান ফিরলে তিনি বলেন, তুই ওই ঘটনাটি যেহেতু দেখে ফেলেছিলে তাই তোকেও এমন করলাম। বিষয়টি এখন কাউকে জানালে তোকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিব এমনকি মেরে ফেলব।

    এদিকে ফেব্রুয়ারি মাসের অপর ঘটনায় আরেক ছাত্রীর দায়ের করা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আসেন প্রধান শিক্ষক আইন উদ্দিন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বুধবার সকালে নিম্ন আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে শিক্ষক আইন উদ্দিন জানতে পারেন যে, ২৮/২/ ২০১৯ তারিখের ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের আরেক ছাত্রী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছে। এ খবর পেয়ে শহরের কৃষি ফার্মের ভেতর দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় ডিবি পুলিশের এসআই শরিফুল হক ও এসআই জাকির হোসেন তাকে গ্রেফতার করেন।

    জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ্ নূর এ আলম জানান, বুধবার সকাল ৯টায় বারহাট্টা থানার ধর্ষণচেষ্টা মামলায় ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

  • চিকিৎসকের ভুলে মৃত্যু মুখে তানিয়া, আদালতে মামলা

    চিকিৎসকের ভুলে মৃত্যু মুখে তানিয়া, আদালতে মামলা

    ভুল চিকিৎসায় গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার অভিযোগে ভৈরবের মেডিল্যাব হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কে এন এম জাহাংগীর আলমসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে (মামলা নং ১৮২/২০১৯ ইং)। মামলার অপর দুই আসামি হলেন- হাসপাতালের মালিক ডা. জাহাংগীর আলমের স্ত্রী তামান্না ফেরদৌসী এবং চিকিৎসক ডা. হাফিজা খাতুন।

    ভুক্তভোগী গৃহবধূ তানিয়া বেগমের (১৯) বাড়ি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর গ্রামে। গত রোববার তার বাবা আক্কাছ আলী বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে এই মামলা করেন।

    গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে মামলার শুনানি শেষে আদালত ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) ঘটনাটি তদন্ত করে রিপোর্ট দাখিল করার জন্য আদেশ দিয়েছেন।

    অভিযোগে জানা গেছে গত ১৭ মে তানিয়া বেগমের পেটে ব্যাথা শুরু হলে তাকে ভৈরবের মেডিল্যাব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ভর্তির পর ডা. কে এন এম জাহাংগীর আলম ও ডা. হাফিজা খাতুন পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে তার বাবাকে জানান রোগীর পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে এবং গর্ভে ৪ মাসের সন্তান। সে অনুযায়ী তানিয়ার চিকিৎসা করেন তারা। দুইদিন পর সুস্হ হলে তানিয়া বাড়ি ফিরে যায়।

    এরপর গত ২০ মে আবার পেটে ব্যথা শুরু হলে তাকে ওই হাসপাতালে আনা হয়। তখন আবারও পরীক্ষা করে ডাক্তাররা জানান তার কিডনি ফুলে গেছে। চিকিৎসকদের দুই রকম কথায় রোগীর পিতার সন্দেহ হয়। পরে গত ২১ মে তানিয়াকে ওই হাসপাতাল থেকে নিয়ে বাজিতপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার ডাক্তাররা জানান তানিয়ার কিডনি ফুলেনি, পিত্তথলীতেও কোনো পাথর নেই। অ্যাপেন্ডিসাইটিস ফেটে গেছে। মেডিল্যাব হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।

    এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অপারেশনের পর এখন সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।

    এদিকে চাচা সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন কৃষক পরিবারের সন্তান তানিয়ার ভুল চিকিৎসার কারণে এ পর্যন্ত তাদের ৭/৮ লাখ টাকার মত খরচ হয়েছে।

    বাবা আক্কাছ আলী এই প্রতিনিধির কাছে আজ (বুধবার) সকালে মামলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ভৈরবের মেডিল্যাব হাসপাতালের ডা. কে এন এম জাহাংগীর আলমের ভুল চিকিৎসার কারণে তার মেয়ে আজ মৃত্যুর মুখে। এখনও পর্যন্ত ৭/৮ লাখ টাকা খরচ করে মেয়েকে সুস্থ করতে পারেননি। তাই আদালতে বিচার চেয়ে মামলা করেছেন।

    উল্লেখ্য ডা. কে এন এম জাহাংগীর আলম ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। হাসপাতালটির মালিকানা তার স্ত্রী তামান্না ফেরদৌসীর। তিনি বক্তব্য দিতে রাজী হননি।

    এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ডা. কে এন এম জাহাংগীর আলমের সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে তিনি সরকারিভাবে ট্রেনিং নিতে ৭ দিনের জন্য মালয়েশিয়া গেছেন।

    হাসপাতালের পার্টনার মো. শাহীন জানান, এ বিষয়ে ডা. জাহাংগীর আলম বিদেশ থেকে আসার পর বক্তব্য দেবেন। তবে তিনিও এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দিতে রাজী হননি।

  • ওসি মীর খায়রুল কবিরে মুগ্ধ লালমোহনবাসী

    ওসি মীর খায়রুল কবিরে মুগ্ধ লালমোহনবাসী

     কিছু কিছু মানুষের সুন্দর হাসি ও মার্জিত ব্যবহারে শুধু মানুষের মন নয়, পাষাণের হৃদয়ও গলে যায়। যে সুন্দর ব্যবহার একেবারেই সাদামাটা,আপন করে নেয়ার মত নির্মল মায়াভরা। যে মার্জিত মিষ্টি ব্যবহার করা মানুষটির মুখের দিকে তাকালে মনে হয়- এ তো আমারই আপনজন, আমার মনের মতন। যাদের এমন প্রাণখোলা হাসি, মার্জিত আচরন তাদের দিকে তাকালে, মন যতই খারাপ থাকুক না কেন, ভালো হয়ে যায়।
    হ্যাঁ, এমন দুঃখ-কষ্ট ভোলানো ওসি খায়রুল কবীরের সুন্দর ব্যবহার  দেখছেন লালমোহনবাসী। তার  অমায়িক ব্যবহারে বেশি মুগ্ধ হচ্ছে মানুষ। তিনি যেন জনসাধারণেরই একজন। নেই অহংকার, নেই ক্ষমতার দাম্ভিকতা।তার মার্জিত ব্যবহারই  বলে দেয়, পুলিশ জনগনের বন্ধু!  সাধারন জনগন মনে করছেন, ওসি খায়রুল কবীর লালমোহনের জন্য আশীর্বাদ। সদালাপী, হাস্যোজ্জ্বল, বিনয়ী, বন্ধুসুলভ, আদর্শবান এই মানুষটি অল্প সময়ে লালমোহনের সকল সংবাদকর্মীরও প্রিয় পাত্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার বন্ধুসুলভ সুন্দর আচরনে সকল সংবাদকর্মীরাও আপ্লুত।
    ওসি খায়রুল কবীর ২০১৮ইং সনের ৮ই ফেব্রুয়ারী লালমোহন থানায় যোগদান করেন। এর পুর্বে তিনি ভোলা জেলার সদর থানায় কর্মরত ছিলেন। লালমোহনের বহুল আলোচিত সমালোচিত ওসি হুমায়ুন কবীরের বদলীর পর তিনি তার স্থলাভিষিক্ত হন। লালমোহন থানায় যোগদানের পরই  তিনি সকল পুলিশ সদস্যদের নিয়ে লালমোহন সদরে মহড়া দেন। পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে তিনি মাদক নির্মুলে তার কঠোর অবস্থান ও  জিরো  টলারেন্সে সর্ব মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হন। মাদকের সাথে সম্পৃক্ত যে কারো বিরুদ্ধে তিনি নূন্যতম আপোষ করেন নি। বাল্য বিবাহ,ইভটিজিং সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে তার দৃঢ় অবস্থান সকলের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।
    সামাজিক,জায়গা জমি,ব্যক্তিগত বিরোধজনিত সমস্যাগুলো সামাজিক শালিষীর মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা করছেন। মানবাধিকার লঙ্গন জনিত যে কোন সংবাদ তার নিকট আসা মাত্রই তিনি ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। মানবিকতায় অসহায় মানুষের আইনী সাহায্যর শেষ ভরসাস্থল হয়ে উঠছেন তিনি। অনেক অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে তিনি আশা ভরসার শেষ ভরসাস্থল হয়ে উঠছেন তিনি। তার কার্যক্রমে সাধারন মানুষ মুগ্ধ হয়ে বলছেন,এমন মানবিক হৃদয়সম্পন্ন, বিশাল হৃদয়ের মানুষ তারা লালমোহন থানায় কখনো পান নি৷ লালমোহনের সাধারন জনগনের দাবী তিনি যেন তার চাকুরীর শেষ সময় পর্যন্ত লালমোহনেই সেবা প্রদান করেন।
  • পিঠে তিনটি গুলি লেগে বুক দিয়ে বেরিয়ে যায় নয়ন বন্ডের

    পিঠে তিনটি গুলি লেগে বুক দিয়ে বেরিয়ে যায় নয়ন বন্ডের

    অনলাইন ডেস্ক :

    বরগুনায় প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড (২৫) মঙ্গলবার ভোর রাতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

    বরগুনা সদর উপজেলার পুরাকাটা এলাকায় পায়রা নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে।

    তার নিহতের পর ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, নয়নের পিঠে বন্দুকের তিনটি গুলি বিদ্ধ হয়ে বুক দিয়ে বেরিয়ে গেছে।

    বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে তিন জন চিকিৎসক নয়নের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    নয়নের নিহতের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, নয়ন বন্ডকে পুলিশ ধরার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সে অস্ত্র প্রদর্শন করেছে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়ে নয়ন নিহত হয়।

    তবে এ বিষয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়নকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিচারিক আদালতে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

  • রিকশাচালককে ডেকে নিয়ে ইয়াবায় ফাঁসাল পুলিশ!

    রিকশাচালককে ডেকে নিয়ে ইয়াবায় ফাঁসাল পুলিশ!

    অনলাইন ডেস্ক :

    গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এক ভিক্ষুকের রিকশাচালক ছেলেকে থানায় ডেকে নিয়ে ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    এ ব্যাপারে গাজীপুরের পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভিক্ষুক আয়েস আলী। বুধবার দুপুরে আয়েস আলী সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।

    আয়েস আলীর অভিযোগ, আমার ছেলে কাউছার (২৭) পেশায় রিকশাচালক। যাত্রীদের প্রয়োজনে দূর-দূরান্তে রিকশা নিয়ে যায়। গত ২০ জুন রাতে উপজেলার কাপাইশ গ্রামের মোন্তাজ উদ্দিন দর্জির ছেলে রাসেল দর্জিকে নিয়ে ছৈলাদি গ্রামে যায় কাউছার। তাকে নিয়ে ফেরার পথে ওই গ্রামের তমিজ শেখের ছেলে গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) বোরহান শেখ তাদের গতিরোধ করে। এ সময় রাসেল দর্জির শরীর তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

    বিষয়টি জানাজানি হলে একই গ্রামের সফুর উদ্দিন শেখের ছেলে তাইজুল ইসলাম, মৃত সামছু শেখের ছেলে বাদল শেখ ও মফিজ উদ্দিন ওরফে বুইড্ডা শেখের ছেলে জয়নাল শেখ বিষয়টির সমঝোতা করেন। এ সময় চৌকিদার বোরহানকে আর্থিক সুবিধা দেয়ার প্রলোভন দেখালে ইয়াবা রেখে তাদের ছেড়ে দেয়। পরের দিন (২১ জুন) এ ঘটনায় সমঝোতাকারী তাজুলের বিকাশ নম্বরে দুই হাজার টাকা পাঠায় কাউছার। স্থানীয়রা বিষয়টি জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি গ্রাম পুলিশ সিদ্দিকের মাধ্যমে থানায় জানান।

    ওইদিন রাতে থানা পুলিশের এসআই আব্দুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স ও দুই গ্রাম পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে রাসেলকে বাড়ি থেকে আটক করে। ২২ জুন সকালে গ্রাম পুলিশ বোরহান কাইছারকে ফোনে ডেকে আনে এবং চৌকিদার বোরহানের কাছে রাখা ৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রাম পুলিশ সিদ্দিককে সঙ্গে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।

    কিন্তু ওই রাতে এসআই আব্দুর রহমান বাদী হয়ে থানায় ৪৪ পিস ইয়াবা জব্দ দেখিয়ে কাউছারের নামে একটি (নং ২৩) মামলা করেন। পরদিন (২৩ জুন) সকালে রাসেলকে থার্টিফোরে এবং কাউছারকে মাদক মামলায় গাজীপুর আদালতে পাঠায়।

    এদিকে, পুলিশ রাসেলকে বাড়ি থেকে আটক করলেও আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে তাকে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার দুর্বাটি গ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে।

    আয়েস আলী বলেন, আমি গরিব এবং টাকা দিতে পারিনি বলে রাসেলের কাছ থেকে উদ্ধার করা ইয়াবা দিয়ে আমার ছেলে কাউছারকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন এসআই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি মঙ্গলবার এসপি ও ডিসি স্যারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।

    এ বিষয়ে জানতে পুলিশের এসআই আব্দুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি তিনি। পরে থানায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

    এর আগে থানা পুলিশের ওসি মো. আবুবকর মিয়া স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে থানায় ডেকে নিয়ে এসআই আব্দুর রহমানের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। ওই সময় রাসেলকে নিজ বাড়ি থেকে আটকের কথা বলেন ওসি। কিন্তু রাসেলকে আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় অন্য স্থানের কথা।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরে ওসি বলেন, মামলার প্রয়োজনে পুলিশ যেকোনো স্থানের কথা উল্লেখ করতে পারে। তাতে কোনো সমস্যা নেই।

    এ বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শামসুন্নাহার বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ হলেও তাকে ছাড় দেয়া হবে না।

  • ঘুষ নিয়েও দুধের শিশুসহ মাকে জেলে পাঠালেন এসআই!

    ঘুষ নিয়েও দুধের শিশুসহ মাকে জেলে পাঠালেন এসআই!

    মা চায়না খাতুন থানা পুলিশের হাজতে। সেই মাকে মুক্ত করতে মেয়ে তার নিজের গয়না বন্ধক রেখে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই দেলোয়ারকে। কিন্তু পুলিশ ওই টাকা নিয়েও ১৩ মাসের দুধের শিশুকন্যাসহ চায়না খাতুনকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। এখন মা চায়না বেগম ও দুধের শিশু বোন কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন।

    চায়নার পরিবারের অভিযোগ, শত্রুতাবশত প্রতিবেশীরা চার বোতল ফেনসিডিল দিয়ে তিন সন্তানের জননী চায়না বেগমকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশে দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করে ভুক্তভোগী পরিবার।

    কালীগঞ্জ শহরের ব্রিকফিল্ড এলাকার বাসিন্দা আটক চায়নার স্বামী আব্দুস ছালাম জানান, রোববার সকাল ৬টার দিকে ঘুম থেকে ওঠে বাড়ির কাজ শেষে গরু বাঁধতে যাচ্ছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী সেলিমের ছেলে ইমনসহ ১০-১২ জন যুবক তার বাড়িতে আসে। তারা বাড়ি সংলগ্ন প্রতিবেশী শিল্পী খাতুনের চালের ওপর চার বোতল ফেনসিডিল পায়। ওই ফেনসিডিল চায়না বেগমের দাবি করে যুবকরা তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে পুলিশে দেয়।

    খবর পেয়ে সকালেই চায়নার মেয়ে চাপালী গ্রামের সাজুর স্ত্রী ছালমা তার মাকে দেখতে থানায় যায়। এ সময় থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন মেয়ে ছালমাকে জানান মাকে মুক্ত করতে হলে ৫০ হাজার টাকা লাগবে। তাকে ছেড়ে দিতে শেষ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকার চুক্তি হয়।

    এদিকে দিনমজুর চা-দোকানি বাবা আব্দুস ছালামের পক্ষে ওই টাকা দেয়া সম্ভব না হওয়ায় বিপাকে পড়েন মেয়ে ছালমা। বাধ্য হয়েই তার গলার দুটি স্বর্ণের চেইন ও দুটি কানের দুল বাজারের একটি জুয়েলারিতে ৩০ হাজার টাকায় বন্ধক রাখেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছালমা থানায় গিয়ে এসআই দেলোয়ার হোসেনকে ওই টাকা দেন। টাকা নিয়ে আটক চায়নাকে দুপুরের পর ছেড়ে দেবে বলে জানায় পুলিশ।
    এরপর দুপুরে না ছেড়ে রাতে ছাড়বে বলে জানায়। কিন্তু না ছেড়ে পরদিন সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে আটক চায়নার কোলে থাকা ১৩ মাসের দুধের শিশুসহ তাকে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।

    এদিকে পুলিশের কবলে পড়ে স্ত্রী, দুধের শিশুকন্যা ও মেয়ের গয়না হাতছাড়া হওয়ায় দিশেহারা বাবা আব্দুস ছালাম বিচারের আশায় এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

    তবে আসামি ছাড়তে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে থানা পুলিশের এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, চায়না মাদক ব্যবসায়ী। জনতা তাকে মাদকসহ থানায় সোপর্দ করায় জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

    কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি ইউনুচ আলী বলেন, এসআই দেলোয়ার আসামির পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি আমি জানি না। তবে ঘটনাটি সত্য হলে ওই পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। তবে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।

  • ‘০০৭’ খেল খতম, জনমনে স্বস্তি

    ‘০০৭’ খেল খতম, জনমনে স্বস্তি

    বরগুনায় সড়কে প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি নয়ন বন্ড আজ মঙ্গলবার ভোররাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। ‘০০৭’ গ্রুপের প্রধান ছিলেন তিনিই। তাই তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বরগুনাসহ আশেপাশের এলাকার মানুষের মনে স্বস্তি বিরাজ করছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা রকমের অনুভূতিও প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

    তসলিমা হাসান তমা নামে একজন লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল হাতে নিয়ে এমন একটা নিউজ পেলাম সত্যি অনেক অনেক ভালো ভালো লাগতেছে। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লার দরবারে লক্ষ কোটিবার শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।’

    এম কামাল হোছাইন নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘রিফাত হত্যাকারী নয়ন বন্ড ক্রসফায়ার হওয়ায় জনমনে স্বস্তি। আলহামদুলিল্লাহ।’

    ‘ধন্যবাদ প্রশাসনকে। এই রকম ভাবে প্রত্যেকটা নরপশুদের অপরাধের শাস্তি প্রকাশ্যে কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। ভেঙে দেওয়া হউক অপরাধীদের বিষদাঁত। আর যেন কেউ অপরাধ না করার সাহস পায়,’ লিখেছেন রিমন ভুইয়ান নামে আরেকজন।

    জাহাঙ্গীর কবির মৃধা নামে একজন লিখেছেন, “এখন সময়ের দাবি- ‘নয়ন বন্ড তৈরির কারখানার কারিগরদের মুখোশ উন্মাচিত করা হোক!’”

    ‘ধন্যবাদ পুলিশ সুপারকে নয়ন বন্ডকে গুলি করে মারার জন্য। খুনির কোনো দল নাই, লিখেছেন মো. শফিকুল ইসলাম রিপন নামে আরেকজন।

    আজ বরগুনা শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে পায়রা নদীর তীরে পুরাঘাটা নামক স্থানে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন নয়ন বন্ড। রিফাতকে হত্যা ছাড়াও আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার অভিযোগ ছিল। জানা গেছে, প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকায় এতদিন তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে নারাজ ছিল এলাকার মানুষ।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় জানান, নানা ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে নয়নকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারের পরপরই তাকে মুক্ত করে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা।

    তাদের দাবি, প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় নয়ন বন্ড তৈরি করেন ‘০০৭’ বাহিনী। ওই বাহিনীর মিশনে ঝরেছে একাধিক মানুষের রক্ত, ছিনতাই হয়েছে কলেজ ক্যাম্পাসের আবাসিক-অনাবাসিক ছাত্রদের মোবাইল, ল্যাপটপ, মানিব্যাগ। এ ছাড়া ঘটেছে একাধিক ব্যক্তিকে নারী দিয়ে ফাঁসানোর মতো ঘটনা।

    সর্বশেষ ২৬ জুন সকালে বরগুনা শহরের কলেজ রোড এলাকায় প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করেন এই ‘০০৭’ বাহিনীর সদস্যরা। ঘটনার পরদিন সকালে রিফাতের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় মামলা করেন।

    ওই মামলার প্রধান আসামি ছিলেন সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড। পুলিশের তথ্য মতে, নিহত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার নয়জন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন।

    এ ব্যাপারে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, নয়ন বন্ডের সঙ্গে থেকে যারা রিফাত শরীফকে নির্মমভাবে হত্যা করে বরগুনা জেলাকে কলঙ্কিত করেছে, তাদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে বরগুনা জেলাকে কলঙ্ক মুক্ত করতে হবে।