Category: প্রশাসন

  • বিচারের জন্য আদালতে দৌড়াতে হলো না : মিন্নি

    বিচারের জন্য আদালতে দৌড়াতে হলো না : মিন্নি

    বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড (২৫) পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার খবরে আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছেন রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।

    আজ মঙ্গলবার সকালে বরগুনা সদরের বুড়িরচর ইউনিয়নের পূর্ব বুড়িরচর গ্রামে বন্দুকযুদ্ধে নয়ন বন্ড নিহত হয়েছেন বলে বাবার কাছ থেকে প্রথমে জানতে পারেন মিন্নি। তাৎক্ষণিক আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। নয়ন বন্ডের নিহত হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বলেন, শোকে বিধ্বস্ত আমি, ঠিক এমন একটা খবরের অপেক্ষায় ছিলাম।

    মঙ্গলবার সকালে বাবা এসে বললেন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে নয়ন বন্ড। এ খবর শুনেই সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছি। কারণ বিচারের জন্য আদালতে দৌড়াতে হলো না। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। ওরা ধরা পড়বে কি পড়বে না খুব শঙ্কায় ছিলাম। বিচার হবে কি হবে না তা নিয়ে ছিল আতঙ্ক। নয়নের নিহতের মধ্য দিয়ে সব শঙ্কা এবং আতঙ্ক দূর হয়েছে। মিন্নি বলেন, নয়ন বন্ডের নেতৃতে দিনদুপুরে চোখের সামনে আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে তারা। নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

    এতে আমি অনেক খুশি হয়েছি। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের আমি শাস্তি চাই। তারাও যেন কঠোর শাস্তি পায় এই প্রার্থনা করি। নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় আমরা পুরো পরিবার খুশি হয়েছি উল্লেখ করে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল বলেন, আজকের দিনটি শুরু হলো একটা খুশির খবর দিয়ে। বাজারে গিয়ে সবার মুখে বন্দুকযুদ্ধে নয়ন বন্ডের নিহতের খবর শুনে তড়িঘড়ি করে এসে খবরটা মিন্নিকে জানাই। শুনার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর শুকরিয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিলো মেয়ে।

    গত কয়েকদিন ধরে বিধ্বস্ত ছিল মেয়েটি। এ খবর শুনে অনেক খুশি হয়েছে মিন্নি। আমরা সবাই খুশি, বাকিদের যেন এমন শাস্তি হয় সেই কামনা করি। তিনি বলেন, নয়ন বন্ড এবং ফরাজী ধরা না পড়ায় আমরা আতঙ্কে ছিলাম। সে আতঙ্ক কেটেছে। বিচারের জন্য দৌড়াতে হলো না। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত বিচার পাইয়ে দিয়েছেন।

    আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ। এখন বাকিদের শাস্তি হলেই রিফাতের আত্মা শান্তি পাবে। উল্লেখ্য, বরগুনায় স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোররাতে বরগুনার পুরাকাটা এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিহত নয়ন বন্ড বরগুনা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কলেজ রোড এলাকার মৃত মো. আবুবক্কর সিদ্দিকের ছেলে এবং রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি ছিলেন।

  • বালু পড়াও সাপের ভয় কাটেনি শিক্ষার্থীদের

    বালু পড়াও সাপের ভয় কাটেনি শিক্ষার্থীদের

    বরিশালের মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের রাঘুয়া কাজিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাপের আতঙ্ক কাটাতে এবার সাপুড়ে এনে বিদ্যালয় থেকে সাপ ধরে নেয়া এবং বালু পড়া ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে। তবুও শিক্ষার্থীদের সাপের ভয় কাটেনি।

    সোমবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা শিক্ষা অফিস সাপুড়ে এনে বিদ্যালয় থেকে সাপ ধরে নেওয়ায় এবং বালু পড়া ছিটিয়ে দিয়ে আশ্বাস দেয়ার পরও শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের শঙ্কা কাটেনি।

    উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. মনিরুল হক জানান, রাঘুয়া কাজিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাপ আতঙ্ক দেখা দেওয়ায় জেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশে পটুয়াখালী জেলা থেকে দুই জন সাপুড়ে এনে ২টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু আরও বড় ধরনের বেশ কয়েকটি সাপ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাপুড়েরা। তবে বড় সাপ ধরতে না পারায় আপাতত বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আসতে সাহস পাচ্ছে না।

    উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আকবর কবির জানান, দ্রুত সাপ অপসারণের জন্য সাপুড়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু দুই জন সাপুড়ে বিদ্যালয়ের বড় সাপ উদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে বিদ্যালয়টি সাময়িক বন্ধ রেখে দ্রুত মেঝে ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ করা হবে।

    এদিকে সাপের ভয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় আসছে না আর সন্তানের নিরাপত্তার জন্য অভিভাবকরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না। ফলে কত দিনে বিদ্যালয়ের পড়ালেখা শুরু হবে তা কেউ বলতে পারছেন না।

    বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী তাদের কক্ষে সাপ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করে। ওই সময় তাদের কক্ষে থাকা সকল শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। শিক্ষকরা ওই সাপটি মেরে ফেলার পর পরই কক্ষের ভাঙ্গা মেঝের গর্ত থেকে একাধিক সাপ বেরিয়ে আসতে শুরু করলে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যায়। ওই দিন দুইটি সাপ মারা হয়।

    শনিবার সকালে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা বিদ্যালয় এসে কেচিগেটের সঙ্গে সাপ পেঁচানো দেখে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের মেঝের কিছু অংশ ভেঙ্গে সাপের ডিম, বাচ্চা ও অগণিত সাপ দেখতে পায়। ওই দিন ১৭টি সাপ মারা হয়।

    রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্থানীয়রা ওই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ থেকে অন্তত ৪২টি সাপ মেরে ফেলেন।

    সোমবার দুপুরে সাপুড়ে নিয়ে এসে আরো দুইটি সাপ ধরা হয়। কয়েক দিন ধরে শ্রেণিকক্ষে সাপের উপদ্রবের কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া বন্ধ রেখেছে।

  • পুলিশের বর্ণনায় নয়ন বন্ডের ক্রসফায়ার

    পুলিশের বর্ণনায় নয়ন বন্ডের ক্রসফায়ার

    নিউজ ডেস্ক :

    বরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামী সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন্ড বন্ড পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। এঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়।

    মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রিফাত হত্যা মামলার আসামীরা বরগুনার পুরাকাটা এলাকায় আছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাতুল্লাহ তাহেরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেখানে অভিযানে যায়।
    সেসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে।

    পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে নয়ন বন্ডের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সন্ত্রাসীদের হামলায় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। ১টি পিস্তল, ৩টি দাও, ১টি গুলি ও ২টি গুলির খোসা জব্দ করে পুলিশ।

    এ সময় পুলিশের ৪ কর্মকর্তাসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, দুটি শর্টগানের কার্তুজের খালি খোসা ও তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
    আহতরা হলেন- বরগুনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান হোসেন, বরগুনা সদর থানায় কর্মরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান, ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান ও বরগুনা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. হাবিবুর রহমান।

    আহতদের মধ্যে বরগুনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান হোসেন ও বরগুনা সদর থানায় কর্মরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি দুজনকে বরগুনা পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নয়ন বন্ডের বন্দুক যুদ্ধের বিস্তারিত ঘটনা জানতে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

    ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পুরাকাটা এলাকায় অবস্থান করছে। তারা পুরাকাটা সংলগ্ন পায়রা নদী দিয়ে ট্রলার যোগে বরগুনা সদর উপজেলা ত্যাগ করে অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    পরে এমন তথ্যের ভিত্তিতে বরগুনার পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিএম আশ্রাফ উল্যাহ তাহেরের নেতৃত্বে ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে পুরাকাটার ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় নয়ন বন্ড তার ৫-৭ জন সহযোগীকে নিয়ে পুলিশের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। পরে আত্মরক্ষার জন্য পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।

    পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন আরও বলেন, দুই পক্ষের গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণকারীরা পিছু হটলে পুরাকাটা এলাকার মজিদ মিলিটারীর বাড়ির পূর্বপাশে পায়রা নদীর বেড়ি বাঁধের পাশে তল্লাশি চলাকালে গুলিবিদ্ধ একটি মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ। এদিকে গোলাগুলির শব্দ পেয়ে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ডের বলে শনাক্ত করেন তারা।

  • আদালতের ভেতরেও ফোনে কথা বললেন ‘আত্মবিশ্বাসী’ মিজান

    আদালতের ভেতরেও ফোনে কথা বললেন ‘আত্মবিশ্বাসী’ মিজান

    অনলাইন ডেস্ক :

    মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১ টা। জামিনের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতের কক্ষে ঢুকেই ডান দিকের সারির শেষ বেঞ্চে বসলেন পুলিশের বরখাস্ত হওয়া উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান। পাশেই বসা ছিলেন তার আইনজীবী টিমের দুজন জুনিয়র অ্যাডভোকেট। পেছনে ছিলেন ৮-১০ জন পুলিশ সদস্য।

    আদালতে ঢোকার পর স্বাভাবিকই ছিলেন তিনি! কনস্টেবল, এসআই ও ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলছিলেন। এর পরপরই নিজের পকেট থেকে ফোন বের করলেন। সামনে থাকা আইনজীবীকে ফোন দিলেন। চারপাশ থেকে শুরু হলো গুঞ্জন। এরপর ফোন রাখেন পকেটে। কিছুক্ষণ পর পর আবার বের করে কথা বলছেন
    প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবীরা বললেন, একজন আসামি কোনোভাবেই পুলিশের হেফাজতে থেকে কথা বলতে পারেন না। অথচ ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা আদালতে জজের সামনে বসে ফোনে কথা বলছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ডিআইজি মিজানের পকেটে থাকা ফোনটি তার বাড়িতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবলের। গতকাল রাত থেকেই তাকে দেয়া হয়েছে ফোনটি। এটাতেই যোগাযোগ করছেন তিনি।

    কীভাবে একজন আসামি আদালতের ভেতর ফোনে কথা বলেন জানতে চাইলে পুলিশের ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কেউ কোনো উত্তর দেননি।

    এদিকে আদালতের ভেতর স্বাভাবিক ছিলেন ডিআইজি মিজান। অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতে ঢুকেই দেখা করেন তার সঙ্গে। জিজ্ঞেস করেন, ‘কী মিজান সাহেব, খবর কী? কেমন চলছে সব’। মিজান উত্তর দিলেন, ‘আমি হান্ড্রেড পার্সেন্ট ওকে (ঠিক) আছি।’

    এরপর শুরু হয় জামিন শুনানি। কাঠগড়ায় ওঠেন ডিআইজি মিজান। সেখানেও হাসিমুখ ছিল তার, ছিলেন আত্মবিশ্বাসী!

    ঘণ্টাব্যাপী শুনানি মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন তিনি। একসময় বাম দিকে কাঠের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন।

    শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডিআইজি মিজানুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।

    এই নির্দেশের পরও মুচকি হাসি দেন মিজান। চলে যান পুলিশের সঙ্গে গাড়িতে।

    এর আগে মঙ্গলবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় শাহবাগ থানা থেকে ডিআইজি মিজানকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী জামিনের আবেদন করেন। আদালতে জামিনের পেছনে কয়েকটি ধারা বর্ণনা করলেও ‘মিজানকে অসুস্থ’ বলে দাবি করেন তার আইনজীবী।

    অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল তার জামিনের বিরোধিতা করেন। অসুস্থতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আদালতে আসলে সবাই অসুস্থ হয়ে যায়।’ তার কথা শুনে আদালতের সবাই হাসতে থাকেন।
    এর আগে সোমবার হাইকোর্টে আগাম জামিনের জন্য গেলে ডিআইজি মিজানকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। এ সময় মিজানকে তাৎক্ষণিক হাইকোর্ট পুলিশের হাতে তুলে দেন আদালত। গ্রেফতারের পর তাকে শাহবাগ থানায় নেয়া হয়।

    এ সময় হাইকোর্ট মন্তব্য করেন, মিজানুর রহমান প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়ে পুলিশ বিভাগের ইমেজ ধ্বংস করেছেন। যেটা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে কাম্য নয়।

    এরপর আদালত তাকে গ্রেফতার ও মামলার অপর আসামি ডিআইজি মিজানের ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসানকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

    উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রীকে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।

    এছাড়া এক সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) হয়। নারী নির্যাতনের অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

    দুদক কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিজানকে সাময়িক বরখাস্তের একটি প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। পরে ২৫ জুন মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

    অন্যদিকে মিজানের ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। যদিও নারী নির্যাতন, ঘুষ প্রদান, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে দুই বছর ধরে মিজানুরের নাম আলোচনায় এলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

    ২৪ জুন ৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগনে পুলিশের কোতোয়ালি থানার এসআই মো. মাহমুদুল হাসানকে আসামি করা হয়।

  • চলন্ত বাসে নার্সকে ধর্ষণ, নাম বদলে রাস্তায় নামছে ‘স্বর্ণলতা’

    চলন্ত বাসে নার্সকে ধর্ষণ, নাম বদলে রাস্তায় নামছে ‘স্বর্ণলতা’

    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চলন্ত বাসে নার্স তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার অন্যতম আসামি বোরহান এখনও গ্রেফতার হয়নি।

    জব্দকৃত বাসের ভেতরে এখনও লেগে আছে তানিয়ার রক্ত। শোকে মুহ্যমান তানিয়ার পরিবার। কিন্তু এরই মধ্যে নাম পরিবর্তন করে ফেলেছে স্বর্ণলতা পরিবহনের বাসগুলো। আবারও রাস্তায় চলাচলের চেষ্টা চলছে।

    অভিযোগ রয়েছে, স্বর্ণলতা পরিবহনের বাসগুলোর রঙ পরিবর্তন করে অন্য নামে চালানোর চেষ্টা করছেন বাস মালিক ও পরিবহন নেতারা। এরই মধ্যে রঙ করে বাসের নাম পরিবর্তন করা হয়। কটিয়াদী এক্সপ্রেস নাম দিয়ে চালানোর চেষ্টা করে বাধার মুখে ব্যর্থ হয়ে এবার ‘বাংলার সয়েল’ নামে আবারও বাসগুলো রাস্তায় নামানোর চেষ্টা চলছে। গাজীপুরের কাপাসিয়ার তরগাঁও এলাকার কমিউনিটি সেন্টারের পাশের একটি গ্যারেজে বাসগুলো রং করে নতুন নামকরণের প্রক্রিয়া চলছে।

    জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ বিআরটিএর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আরটিসির অনুমোদন না থাকলেও মালিক সমিতির প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করে আবারও অন্য নামে স্বর্ণলতা পরিবহন রাস্তায় নামানোর চেষ্টা চলছে।

    এরই মধ্যে ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ‘ঢাকা-কটিয়াদী ভায়া কাপাসিয়া রুটে গাড়ি চলাচলের জটিলতা নিরসনে’র এজেন্ডা দিয়ে আগামীকাল বুধবার ঢাকায় জরুরি সভার আহ্বান করেছে। এতে উপস্থিত থাকার জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কাছে চিঠি দিয়েছে মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন সমিতি। গত ১৭ জুন এ চিঠি দেয়া হয়।

    kisho-rape

    গত ৬ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সড়কে গজারিয়া বিলপাড় এলাকায় স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে শাহিনুর আক্তার তানিয়া (২৩) নামে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে কর্মরত এক নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

    এরপর থেকেই স্বর্ণলতা পরিবহনের গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। নিহত শাহিনুর আক্তার তানিয়া (২৩) কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে।

    এ ঘটনায় স্বর্ণলতা বাসের চালক কাপাসিয়ার নূরুজ্জামান (৩৯) ও হেলপার লালন মিয়াকে (৩৩) পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

    তবে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত বোরহান নামে এক আসামিকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ব্যাপারে স্বর্ণলতা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. পাভেল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    তবে ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. আ. মালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাসগুলোর রুট পারমিট ও বিআরটিএর অনুমোদন আছে। তাই আরটিসির অনুমতি দরকার নেই। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্যই সমিতির সভা ডাকা হয়েছে।

  • বরিশাল নগরীর জগদীশ সারস্বত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চুরি

    বরিশাল নগরীর জগদীশ সারস্বত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চুরি

    রিপোর্টার//শামীম ইসলাম:

    বরিশাল নগরের কালিবাড়ি রোডস্থ জগদীশ সারস্বত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কক্ষেচুরির ঘটনা ঘটেছে।

    তবে এতে কিছু বিল ভাউচার ছাড়া অন্য কোন মালামালাখোয়া যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

    মঙ্গলবার (০২ জুলাই) সকাল ১০ টার দিকে ওই কক্ষের তালা খুলতে গিয়ে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থানা পুলিশকে অবহিত করে।

    পরে থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নাইট গার্ড বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম জানান, সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কক্ষের তালা খুলতে গিয়ে কর্মচারী রাশেদ তা আগে থেকেই খোলা দেখতে পান।

    এরপর তিনি বিষয়টি অফিস সহায়ক সন্ধ্যা রানী চক্রবর্তীকে জানালে তিনি আমাদের জানান। তাৎক্ষনিক কোতোয়ালি থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি নাইট গার্ড বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন।

    তিনি বলেন, ২/১ দিনের মধ্যেই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভা হওয়ার কথা। সে অনুযায়ী কিছু বিল ভাইচার রেডি করা হচ্ছিলো। দূর্বৃত্তরা শিক্ষকদের রুমের তালা খুলে সে ভাউচারগুলো নিয়ে গেছে, আর কোন মালামাল খোয়া গেছে কিনা তার অনুসন্ধান চলছে।

    পাশাপাশি এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি।

  • নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার খবরে যা বললেন মিন্নি

    নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার খবরে যা বললেন মিন্নি

    অনলাইন ডেস্ক :

    বরগুনায় প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে রিফাত শরিফকে হত্যার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার খবরে স্বস্তি  প্রকাশ করেছেন হত্যাকান্ডের শিকার রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

    তিনি বলেন, সকালে যখন বাবা তাড়াহুড়া করে এসে বললো- নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে, এটা শুনেই আলহামদুলিল্লাহ বলেছি। বিচারের জন্য আমাকে অপেক্ষা করতে হল না।

    মিন্নি বলেন, আমার চোখের সামনে যারা আমার স্বামীকে কুপিয়ে মেরেছে, তাদের অন্যতম নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। আমি এতে অনেক খুশি হয়েছি।

    তিনি আরো বলেন, সরাসরি যারা অংশগ্রহণ করে যারা আমার স্বামীকে কুপিয়ে মেরেছে, তাদেরও আমি এমন শাস্তি চাই। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, তিনি আমাদের জন্য ন্যায় বিচারের ব্যবস্থা করেছেন।

    মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন জানান, শুরু থেকেই আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা পাচ্ছিলাম। নয়ন বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে, এতে আমার সদ্য বিধবা হওয়া মেয়ে যেমন শান্তি পেয়েছে, ঠিক তেমনই আমার জামাই রিফাত, সেও কবর থেকে শান্তি পাবে।

    এ ঘটনায় বাকি যেসব আসামি পলাতক রয়েছে তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিতে পারলেই আমরা সবাই ন্যায় বিচার পাব।

    বন্দুক যুদ্ধের বিষয়টি সকালে নিশ্চিত করে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবীর হোসেন মাহমুদ বলেন, রিফাত হত্যাসহ ১১ মামলার আসামি নয়নকে গ্রেফতারে বুড়ির চরে অভিযানে গেলে পুলিশের ওপর গুলি চালান নয়ন বন্ড। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে নয়ন বন্ডের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, শর্টগানের দু’টি গুলির খোসা এবং দেশীয় তিনটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

  • বাবুগঞ্জের কলেজ হোস্টেল থেকে ছাত্রকে তুলে নিয়ে গেছে অস্ত্রধারীরা

    বাবুগঞ্জের কলেজ হোস্টেল থেকে ছাত্রকে তুলে নিয়ে গেছে অস্ত্রধারীরা

    বাবুগঞ্জে অবস্থিত রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষন ইনিষ্টিটিউটের ছাত্রাবাস থেকে ২য় সেমিস্টারের এক ছাত্রকে গভীর রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাধা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে গিয়েছে বলে জানা গেছে। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া ছাত্রের নাম মাহাথির মোহাম্মাদ। তার গ্রামের বাড়ি গৌরনদী উপজেলায়।

    এ ঘটনায় কলেজ কতৃপক্ষ সংবাদ লেখার আগে পর্যন্ত কোনধরনে আইনী প্রক্রিয়ায় না গেলেও এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছে নিখোঁজ ছাত্রের পিতা মোঃ ফরিদ হোসেন।

    জিডি নং-৪২,তাং-০১-০৭-১৯।

    ডায়েরী সুত্রে ও সরোজমিনে গিয়ে জানাযায়, রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় ক্যাম্পাসের মূল ফটকের দারোয়ানকে ভয়ভিতি দেখিয়ে চাবি নিয়ে ছাত্রাবাসে প্রবেশ করে ৮/১০ জনের সাদা পোশাকধারী একটি দল। এসময় তারা ২০৫ ও ২০৬ নং কক্ষে তল্লাশী চালায়। পরে ২০৬ নং কক্ষ থেকে মাহাথির মোহাম্মাদকে তুলে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় উপস্থিত ছাত্রদের বলে যায় মাহাথির বরগুনার রিফাত হত্যার সাথে জড়িত, সে অনলাইন গ্রুপ ০০৭ এর সদস্য।

    এদিকে তুলে নেওয়া ছাত্রের পরিবারের দাবি, কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সংস্থা মাহথিরকে গ্রেফতার বা আটকের বিষয় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়নি।

    প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ গোলাম মোঃ ইদ্রিস বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সংস্থা ক্যাম্পাসে প্রবেশের জন্য অনুমতি নেয়নি। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ৮/১০ অস্ত্রধারিকে দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    এয়ারপোর্ট থানার ওসি মাহাবুব উল আলম জানায়, এধরনের কাউকে ডিবি পুলিশ অথবা অন্য কোন সংস্থা থানায় হস্তান্তর করে নি।

    গভীর রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাধা পোশাকধারীরা ছাত্র তুলে নেওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

    উল্লেখ্য মাহাথির মোহাম্মাদ এর বাবা মোঃ ফরিদ হোসেন বরগুনা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের গাড়ির ড্রাইভার হিসাবে কর্মরত থাকায় বরগুনা মাহাতিরের যাতায়াত ছিলো। এই কারনেই রিফাত হত্যা মামলার সাথে জরিত থাকার সন্ধেহ করছে সহপাটিরা।

  • শাহীনের ভ্যানটি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা হয় আগে রাতে

    শাহীনের ভ্যানটি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা হয় আগে রাতে

    অনলাইন ডেস্ক:

    সাতক্ষীরায় রড দিয়ে মাথা রক্তাক্ত করে শিশু শাহিনের ব্যাটারিচালিত ভ্যান ছিনতাই করার ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে যশোরের কেশবপুর উপজেলার বাজিতপুর গ্রাম থেকে ঘটনার মূল আসামি নাইমুল ইসলাম নাইমকে আটক করা হয়।

    তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বিকেলে ভ্যানটির ক্রেতা ও ভ্যানের ব্যাটারি ক্রেতাকে আটক করে পুলিশ।

    মামলার প্রধান অভিযুক্ত নাইমুল ইসলাম নাইম (২৪) কেশবপুর উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের বাবর আলী মোড়লের ছেলে।

    ভ্যান ক্রেতা আরশাদ পাড় অরফে নুনু মিস্ত্রি (৬৫) সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার আলাইপুর গ্রামের মৃত ধোলাই পাড়ের ছেল। ভ্যানটির চারটি ব্যাটারি ক্রেতা বাকের আলী (৪৫) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গোবিন্দকাটি গ্রামের মৃত হামজের আলীর ছেলে।

    সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান জানান, শিশু শাহীনের ওপর নৃশংস ঘটনাটি সাতক্ষীরা ও যশোর জেলা পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে।

    টানা ৭২ ঘণ্টা পুলিশ ঘটনার রহস্য উৎঘাটন ও ভ্যানটি উদ্ধারে একযোগে কাজ করেছে।

    southeast

    ঘটনার বিবরণ জানিয়ে তিনি বলেন, গত ২৭ জুন প্রধান অভিযুক্ত নাইমুলসহ তিনজন গোপনে মিটিং করে।

    নাইমুলের মোবাইল থেকে শাহীনকে ফোন দিয়ে বলে যে, আগামীকাল (২৮ জনু) সকালে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একটা ভাড়া রয়েছে। তুই সকালে কেশবপুর বাজারে চলে আসিস।

    একই সঙ্গে তারা ৩৫০ টাকা ভাড়া ঠিক করে। পরের দিন শুক্রবার সকালে নাইমের ফোন থেকে সকালে ফোন করে শাহীনকে কেশবপুর বাজারে আসতে বলে। শাহীন কেশবপুর বাজারে এসে দেখে নাইমুলসহ তিনজন গাজীরমোড়ে বসে আছে।

    পরে তারা শাহীনের ভ্যানে করে কেশবপুর হাসপাতালের সামনে দিয়ে সরসকাটি চৌগাছা হয়ে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়া আমজামতলা মোড়ে ফাঁকা জায়গা দেখে শাহীনকে ভ্যান থামাতে বলে। তাদের কথায় শাহীন সেখানে ভ্যান থামায়।

    পুলিশ সুপার আরও বলেন, পরে তারা ভ্যান থেকে নেমে শাহীনকে বলে যে, ভ্যান দিয়ে তুই বাড়ি চলে যা এবং বাড়িতে গিয়ে এ সম্পর্কে কিছু জানালে তোকে মেরে ফেলবো। শাহীন ভ্যান দিতে রাজি না হলে তারা ক্ষিপ্ত হয় তার ওপর। তখন তারা ভ্যানের সিটের উপর লোহার সঙ্গে শাহীনের মাথা জোরে কয়েকবার আঘাত করে। এতে অচেতন হয়ে পড়ে শাহীন।

    পরে তাকে ওই অবস্থায় পাটক্ষেতে ফেলে চারজন ভ্যানটি নিয়ে সাতক্ষীরা সদরের ঝাউডাঙ্গা এলাকায় রওনা হয়। ঝাউডাঙ্গা বাজারে এসে প্রথমে বাকের আলীর কাছে চারটি ভ্যানের ব্যাটারি ৬ হাজার ২৩৬ টাকায় বিক্রি করে।

    পরে সাতক্ষীরার কলারোয়া বাজারে গিয়ে মির্জাপুর মোড়ে আরশাদ পাড় অপরফে নুনু মিস্ত্রির কাছে ভ্যানটি সাড়ে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। পরে তারা টাকা ভাগ করে নিয়ে কেশবপুর নিজ বাড়িতে চলে যায়।

    তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে এখনও কয়েকজন জড়িত রয়েছে। যাদের নাম এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের আটক করা হবে।

    southeast

    প্রসঙ্গত, শাহীন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। সোমবার তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হয়েছে। তবে অক্সিজেন লাগানো আছে।

    সে ‘মা-মা’, ‘আল্লাহ-আল্লাহ’ বলে ডাকছে। কেউ ডাকলে সাড়া দিচ্ছে। তার অপারেশন সফল হয়েছে, শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।

    সোমবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শাহীনকে দেখতে এসে একথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক।

    চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, তার ওষুধপত্র, চিকিৎসায় যা যা প্রয়োজন হাসপাতাল থেকে সব দেয়া হচ্ছে। তার প্রতি আমাদের বিশেষ নজর আছে, প্রধানমন্ত্রীও তার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।

    তিনি বলেন, আমরা চাই না কেউ এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হোক। আল্লাহর রহমতে শাহীন সুস্থ হয়ে তার কাজে ফিরে যাবে।

  • পুলিশ বিভাগের ইমেজ ধ্বংস করেছেন ডিআইজি মিজান

    পুলিশ বিভাগের ইমেজ ধ্বংস করেছেন ডিআইজি মিজান

    অনলাইন ডেস্ক::

    সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান পুলিশ বিভাগের ইমেজ ধ্বংস করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

    হাইকোর্ট বলেন, তিনি (ডিআইজি মিজান) প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়ে পুলিশ বিভাগের ইমেজ ধ্বংস করেছেন। যেটা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে কাম্য নয়।

    এ সময় আদালত তাকে তাৎক্ষণিক পুলিশের হাতে তুলে দেন এবং ডিআইজি মিজানকে কাস্টডিতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    আদালতে আজ ডিআইজি মিজানের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী ও আমিনুল ইসলাম।