Category: প্রশাসন

  • রিফাত হত্যায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে আদালতে সোপর্দ

    রিফাত হত্যায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে আদালতে সোপর্দ

    অনলাইন ডেস্ক:

    বরগুনা শহরের কলেজ রোড এলাকায় প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় পাঁচ আসামিকে আদালতে তোলা হয়েছে। আজ সোমবার গ্রেপ্তারকৃত আসামি সাইমুন, সাগর, অলি, নাজমুল এবং তানভীরকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে তোলা হয়।

    আদালতে তোলা আসামিদের মধ্যে অলি এ মামলার ১১ নম্বর আসামি। বাকি সবাই সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার। অলি এবং তানভির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শুনানী চলছিলো।

    এদিকে বেলা তিনটার দিকে রিফাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অগ্রগতি বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে সংবাদ সম্মেলন করেন বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, আরো একজন আসামিকে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করা যাবে না।

    এ সময় পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, রিফাত হত্যাকাণ্ডের সকল আসামি ধরতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে খুব শিগগিরই সকল আসামিকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হবে পুলিশ। এ নিয়ে পর্যন্ত মোট নয়জন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানান তিনি।

    এ হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা হলেন এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি চন্দন ওরফে জয় চন্দ্র সরকার এবং ৯ নম্বর আসামি মো. হাসান। এ ছাড়া সন্দেহভাজন আসামি মো. নাজমুল হাসান, তানভির, মো. সাগর এবং কামরুল হাসান সাইমুন, ১১ নম্বর আসামি অলি এবং টিকটক হৃদয়সহ আরো একজন।

    এদিকে হত্যাকাণ্ডের ৫দিন পেরিয়ে গেলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে এ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা নয়নবন্ডসহ রিফাত, রিশানসহ অন্যরা।

  • সাভারে হেলে পড়েছে ৬ তলা ভবন

    সাভারে হেলে পড়েছে ৬ তলা ভবন

    সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন পাশের তিনতলা ভবনের ওপর হেলে পড়ছে।

    এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন দুটি ভবন সিলগালা করেছে। নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আবাসিক ওই ভবন দুটিতে থাকা বাসিন্দাদের।

    রবিবার রাত ৮টার দিকে হেমায়েতপুরের জয়নাবাড়ি এলাকার মজিবর রহমানের মালিকানাধীন তারামন ভিলা নামে ছয়তলা ও আইয়ুব আলীর মালিকানাধীন রৌদ্রছায়া নামে তিনতলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন দুটি সিলগালা করে দেয় সাভার উপজেলা প্রশাসন।

    সাভার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার লিটন আহমেদ বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজুর রহমানের নেতৃত্বে হেমায়েতপুরের জয়নাবাড়ি এলাকায় হেলে পড়া দুটি বহুতল ভবন পরিদর্শনে যায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

    পরে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় ভবন দুটিতে বসবাসরত সমস্ত বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    এ সময় ছয়তলা ভবনটির নকশা না মেনে অনুমোদনহীন ভাবে তৈরি করা হয়েছে বিধায় তা পাশের ভবনের উপর হেলে পড়ায় দুটি ভবনই সিলগালা করে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

    ইউএনও জানান, অনুমোদন না নিয়ে ভবন তৈরির বিষয়টি তদন্ত পূর্বক পরবর্তীতে মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • পিরোজপুরে মুদি ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় গভীর রাতে আটক ৩

    পিরোজপুরে মুদি ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় গভীর রাতে আটক ৩

    পিরোজপুরের মুদি ব্যবসায়ী আবদুল হালিম হাওলাদারকে (৬০) হত্যার ঘটনায় তিন জনকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্যরা।

    রোববার (৩০ জুন) রাতে তাদের পিরোজপুর জেলার সদর থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়।

    আটকরা হলেন- পিরোজপুর জেলার সদরের রায়েরকাঠি এলাকার মৃত শাহ আলম শেখের ছেলে সিরাজুল ইসলাম শেখ (২২), একই এলাকার ওমর ফারুক শেখের ছেলে হৃদয় শেখ দুলু (১৭), ও মনির দরানীর ছেলে মিন্টু দরানী (৩৯)।

    রাতে র‌্যাব-৮ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এরই মধ্যে গ্রেফতার এ আসামিদের পিরোজপুর জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি আবদুল হালিম হাওলাদারকে হত্যার ব্যাপারে গোয়েন্দা নজরদারি চলমান রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদেরও অল্প সময়ের মধ্যে আটক করা হবে।

    গত বুধবার (২৬ জুন) সকালে পিরোজপুর সদরের রায়েরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে পুকুর পাড়ে একটি নালার মধ্য থেকে মুদি ব্যবসায়ী আবদুল হালিমের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

  • ওসি মোয়াজ্জেমের অভিযোগ গঠন শুনানি ১০ জুলাই

    ওসি মোয়াজ্জেমের অভিযোগ গঠন শুনানি ১০ জুলাই

    ফেনীর মাদরাসায় গায়ে আগুন দিয়ে হত্যার শিকার নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে করা মামলায় সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ১০ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

    রোববার মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। এদিন মোয়াজ্জেম হোসেনের আইনজীবী অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। বিচারক সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ১০ জুলাই দিন ধার্য করেন।

    অপরদিকে আসামির আইনজীবী আদালতে আরও দুটি আবেদন করেন, প্রথমত তিনি এজলাসে পুলিশের উপস্থিতিতে আসামির সঙ্গে আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলার সুযোগ চান, দ্বিতীয়ত মামলার আর্জিতে বর্ণিত (সংযুক্ত) পেনড্রাইভের কপির জন্য আবেদন করেন। আদালত পেনড্রাইভের কপির মঞ্জুর করলেও এজলাসে কথা বলার আবেদন মঞ্জুর করেননি।

    এর আগে রোববার সকাল ৯টার দিকে মোয়াজ্জেম হোসেনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে আদালতে আনা হয়। এসময় তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা ২টার দিকে তাকে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়।

    আদালতের হাজতখানার ওসি পুলিশের পরিদর্শক মইনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস সামশ জগলুল হোসেনের আদালতে তার বিচারকাজ চলবে। রোববার ওই মামলার চার্জ গঠন শুনানির জন্য এ দিন ধার্য ছিল।

    এর আগে ২৪ জুন জেল কোড অনুযায়ী ওসি মোয়াজ্জেমের ডিভিশনের বিষয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

    ১৭ জুন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস শামস জগলুল হোসেন ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১৬ জুন রাজধানীর শাহবাগ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    ২৭ মে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার বাদী সুমন আসামি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। আদালত বাদীর আবেদন আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এদিন সকালে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদর দফতরের সিনিয়র এএসপি রিমা সুলতানা।

    গত ১৫ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (প্রত্যাহার হওয়া) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আদালত তার জবানবন্দি নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত।

    গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। এমন অভিযোগ উঠলে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন।

    মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না। ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

    ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ওসির সামনে অঝোরে কাঁদছেন নুসরাত। সেই কান্নার ভিডিও করছিলেন সোনাগাজী থানার ওসি। নুসরাত তার মুখ দুই হাতে ঢেকে রেখেছিলেন। তাতেও ওসির আপত্তি। বারবারই ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনো তোমাকে কাঁদতে হবে।’

    মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওসি মোয়াজ্জেম অনুমতি ছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে নুসরাতকে জেরা এবং তা ভিডিও করেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি মোয়াজ্জেম অত্যন্ত অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষায় একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছেন নুসরাতকে। নুসরাতের বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নও করতে দেখা যায় ওসি মোয়াজ্জেমকে।

    অধ্যক্ষের নিপীড়নের ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এরপর গত ৬ এপ্রিল সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। এ সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়।

  • ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগে নতুনরা প্রাধান্য পাবেন

    ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগে নতুনরা প্রাধান্য পাবেন

    আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, শিগগিরই রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা হিসেবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হবে এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুনরা বেশি প্রাধান্য পাবেন।

    আজ সোমবার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ১৪২তম রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

    বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকও বক্তৃতা করেন।

    আনিসুল হক বলেন, ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যারা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আছেন আমি তাদেরকে পদত্যাগ করতে বলেছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমার কাছে এখন পর্যন্ত ৮৭ জনের পদত্যাগপত্র পৌঁছে গেছে।

    হলি আর্টিজানের মামলার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী এই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। হলি আর্টিজানের ঘটনায় যারা নিহত হয়েছে আমি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

    মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে এটা নিতান্তই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এই ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই মামলার তদন্ত ও বিচার কাজ অত্যন্ত দ্রুত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

  • স্বরূপকাঠি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : যেকোন সময় ভবন ধসে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা

    স্বরূপকাঠি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : যেকোন সময় ভবন ধসে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা

    অনলাইন ডেস্ক:

    পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯ বেড দিয়ে চলছে ৫০ বেডের কার্যক্রম। দুটি ভবন নিয়ে ৫০ বেডের এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি ভবনে ৩১ এবং অন্য ভবনটিতে ১৯ টি বেডের ব্যবস্থা রয়েছে। ৩ তলা বিশিষ্ট ৩১ বেডের ভবনটি ষাটের দশকে নির্মিত হয়েছে।

    বর্তমানে ওই ভবনটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে ভবনটির দুই তৃতীয়াংশ দেয়াল, পিলার ও ছাদের পলেস্তারা খসে রড ও পাইপ বেরিয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে ছাদের পলেস্তারা খসে রোগীসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীরাও আহত হয়েছেন। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ৩১ বেডের ওই ভবনটির নিচ তলায় একটি রুমে ঝুঁকি নিয়ে জরুরী বিভাগের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    বাকি ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যেকোন সময় ভবনটি ধসে ঘটে যেতে পারে হতাহতসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, পরিত্যক্ত ভবনটিতে একদল মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে। ২০১০ সালে নির্মিত ১৯ বেডের ভবনটিতেই চলছে পুরো ৫০ বেড ও প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম। প্রায় ৩ লক্ষ জনসংখ্যার এ উপজেলার জন্য হাসপাতালটিতে শুধু এ উপজেলারই নয় পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর, কাউখালী, বানারীপাড়া ও ঝালকাঠি উপজেলার সীমান্তবর্তী জনগণও এখানেই চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।

    হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে গড়ে প্রতিদিন ইনডোরে ৮০/১০০ ও আউটডোরে ২০০/২৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। কখোনো কখোনো ইনডোরে ১৫০ থেকে ২০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. আসাদুজ্জামান জানান, শুধু সিট সংকটই নয় ২১ জন ডাক্তারের স্থলে ৬ জন ডাক্তার দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে নানা রকমের বেগ পোহাতে হয় ওখানে কর্মরত ডাক্তার ও নার্সদের এমনকি রোগীদের সঠিকভাবে চিকিৎসাও দিতে পারেন না তারা। সমাজ সেবক মহিবুল্লাহ বলেন, পুরোনো ভবনটির অবস্থা এতটাই নাজুক যেকোন সময় তা ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহম্মেদ সিকদার জানান, হাসপাতালের ৩১ বেডের পুরোনো ভবনটি ভেঙে সেখানে অতিদ্রুত ১০০ বেডের একটি ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।

  • রিফাত হত্যার দায় স্বীকার করলেন দুইজন, তিনজন রিমান্ডে

    রিফাত হত্যার দায় স্বীকার করলেন দুইজন, তিনজন রিমান্ডে

    বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে দুই অভিযুক্ত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

    সোমবার বিকেলে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়্যাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর কাছে স্বেচ্ছায় তারা এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

    আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়া দুজন হলেন, এ মামলার এজাহারভুক্ত ১১ নম্বর আসামি অলি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা অভিযুক্ত তানভীর। পরে আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    এছাড়াও এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার হয়ে তিনদিন রিমান্ড শেষে নাজমুল হাসানকে একই আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে আদালত তার পাঁচ দিনেরই মঞ্জুর করেন।

    আর সাগর ও সাইমুন নামের অপর দুজনকে পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ।

    সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আদালত এ আদেশ দেন। আদেশ শুনে আদালত প্রাঙ্গনে থাকা রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পরেন।

    এ বিষয়ে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ১১ নম্বর আসামি অলি ও হত্যাকাণ্ডেরর ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেফতার করা তানভীর আদালতে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়ার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়াও এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা সাগর, সাইমুন ও নাজমুল আহসানকে ৫ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তাদের প্রত্যেকের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    এদের মধ্যে নাজমুল আহসান আগেও তিনদিনের রিমান্ডে ছিল। তিনদিনের রিমান্ড শেষে আজ আবারও তার ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, এ মামলার ১২ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয় গ্রেফতার হলেও তিনি বরগুনা জেলা পুলিশের কাছে পৌঁছায়নি। তাই তাকে আদালতে তোলা সম্ভব হয়নি।

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশাকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ আরও দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা। রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা রিফাত শরীফকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

  • সাক্ষ্য দিতে আদালতে নুসরাতের দুই বান্ধবী

    সাক্ষ্য দিতে আদালতে নুসরাতের দুই বান্ধবী

    আদালতে সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত হয়েছেন ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির দুই বান্ধবী ও সহপাঠী নিশাত সুলতানা ও নাসরিন সুলতানা ফূর্তি। সোমবার (০১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

    প্রথমে নিশাত সুলতানার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এরপর সাক্ষ্য দেবেন নাসরিন সুলতানা ফূর্তি। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর হাফেজ আহাম্মদ সাংবাদিকদের জানান, সাক্ষ্যগ্রহণের তৃতীয়দিন আদালতের কাঠগড়ায় এ মামলার ১৬ আসামিকে হাজির করা হয়েছে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) মামলার বাদী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। যা শেষ হয় রোববার (৩০ জুন)।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, সহপাঠী নিশাত সুলতানাকে মারধর করা হচ্ছে- এমন খবর দিলে মাদ্রাসার ছাদে যান নুসরাত। পরে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আর আরেক সহপাঠী নাসরিন সুলতানা ফূর্তিকেও যৌন হয়রানি করেছে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা।

    এর আগে গত ২৭ জুন অভিযোগ গঠনের ছয়দিনের মাথায় ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদীপক্ষের তিনজন সাক্ষীকে আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য উপস্থাপন করা হয়। ২০জুন সাক্ষ্যগ্রহণের এই আদেশ দেন আদালত।

    এ মামলার চার্জশিট জমা দেওয়ার আগে সাতজন সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

    গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

    মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতহানির মামলা তুলে না নেওয়ায় তাকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে; যা মৃত্যুশয্যায় নুসরাত বলে গেছেন। ১০ এপ্রিল ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুসরাতের মৃত্যু হয়।

    পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ফেনীর পরিদর্শক মো. শাহ আলম আদালতে মোট ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন।

    অভিযোগপত্রের ১৬ আসামি হলেন- মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহ সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

    এ মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অন্য পাঁচজনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে পিবিআই। আদালত তা অনুমোদন করে।

    এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলেছে।

    এছাড়া যৌন হয়রানির মামলার পর নুসরাতের জবানবন্দি গ্রহণের সময় তার ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সাইবার আইনে মামলা হওয়ার পর সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে।

  • শাহবাগ থানায় ডিআইজি মিজান

    শাহবাগ থানায় ডিআইজি মিজান

    ডিআইজি মিজানকে কি শাহবাগ থানায় আনা হবে? কখন আনা হবে জানেন কিছু। সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় শাহবাগ থানা কম্পাউন্ডে পরিচিত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এ প্রশ্ন করছিলেন এক গণমাধ্যমকর্মী।

    একজন প্রশ্ন করলেও উত্তর কি আসে তা জানতে- এ সময় কান পাতেন আরও বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। পুলিশ কর্মকর্তা না সূচক জবাব দিলে হতাশ হন সবাই, তবে এখানে আনার সম্ভাবনা রয়েছে শুনে যে যার জায়গায় অবস্থান নেন।

    ডিআইজি মিজান হাইকোর্টে জামিন নিতে গিয়ে গ্রেফতার হন আজ। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে খবর আসে তাকে শাহবাগ থানায় আনা হচ্ছে। এর মিনিট কয়েক পরই তাকে আনা হয়।

    আগে থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা এসে বসে ছিলেন। ৫টা ৫৫ মিনিটে তাকে পুলিশি প্রহরায় আনা হয়। তাকে ওসি আবুল হাসানের কক্ষে রাখা হয়েছে।

    আজ দুদকের মামলায় সাময়িক বরখাস্ত পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠাতে শাহবাগ থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

    জামিন আবেদনের শুনানি শেষে আদালত বলেন, ‘তিনি (ডিআইজি মিজান) পুলিশের ভাবমূর্তি ধ্বংস করে দিয়েছেন। আমরা তাকে পুলিশের হাতে দিয়ে দিচ্ছি।’

    এরপর দুই বিচারপতি এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন। পরে আদালতের আদেশটি কোর্ট প্রশাসন শাহবাগ থানাকে জানালে পুলিশের রমনা বিভাগের একজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ও শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান হাইকোর্টে আসেন।

    এর আগে নারী নির্যাতনের অভিযোগে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হওয়া মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু এই তদন্ত করতে গিয়ে দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    গত ১৯ জুন, আদালত এক আদেশে মিজানুর রহমানের স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত ২৪ জুন তিন কোটি ২৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

  • ডিআইজি মিজান গ্রেফতার

    ডিআইজি মিজান গ্রেফতার

    পুলিশের বিতর্কিত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিনের জন্য গেলে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এসময় মিজানকে তাৎক্ষণিক হাইকোর্ট পুলিশের হাতে তুলে দেন আদালত।

    এরপর তাকে পুলিশের রমনা জোনের ডিসির হাতে তুলে দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

    হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন।

    এসময় আদালত বলেন, মিজানুর রহমান প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়ে পুলিশ বিভাগের ইমেজ ধ্বংস করেছেন। যেটা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে কাম্য নয়।

    এরপর আদালত মিজানকে গ্রেফতারের নির্দেশ ও মামলার আসামি তার ভাগনেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

    আদালতে মিজানের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী ও আমিনুল ইসলাম। দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম।

    এর আগে দুদকের মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন মিজানুর রহমান। জামিন আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্টে উপস্থিত হন তিনি।

    ডিআইজি মিজানের আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান জানান, আগাম জামিন পেলে আবেদনকারী (মিজান) দেশ ত্যাগ করবেন না, আবেদনে এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

    এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, ডিআইজি মিজানের জামিন আবেদন অনেকটা স্পর্শকাতর। রোববার সকালে ১৯ নম্বর কোর্টে যখন তার জামিন আবেদন দাখিল করা হয়, তখন আমরা সেখানে ছিলাম। পরে আদালত কাল বা পরশু শুনানি করতে পারেন বলে জানানো হয়। তবে তার জামিনের আগে দুদকের বক্তব্য শুনতে চান বলেও আদালত আমাকে জানিয়েছিল। অর্থাৎ আদালত বলেছেন, ‘ডিআইজি মিজানের জামিন আবেদনের বিষয়ে দুদকের আইনজীবীর বক্তব্য না শুনে কোনো আদেশ দেব না।’

    উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রীকে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।

    এছাড়া এক সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) হয়। নারী নির্যাতনের অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

    দুদক কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিজানকে সাময়িক বরখাস্তের একটি প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। পরে ২৫ জুন মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

    অন্যদিকে মিজানের ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। যদিও নারী নির্যাতন, ঘুষ প্রদান, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে দুই বছর ধরে মিজানুরের নাম আলোচনায় এলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

    ২৪ জুন ৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগনে পুলিশের কোতোয়ালি থানার এসআই মো. মাহমুদুল হাসানকে আসামি করা হয়।