Category: প্রশাসন

  • রাজধানীতে বন্ডের ৫ কোটি টাকার পণ্য জব্দ

    রাজধানীতে বন্ডের ৫ কোটি টাকার পণ্য জব্দ

    জাহাঙ্গীর লেমিনেশন, স্ট্যান্ডার্ড ট্রেড সেন্টার এবং বুশরা লেমিনেশন নামের রপ্তানিমুখী এ তিন প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধা পাওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনাশুল্কে আমদানি করা পণ্য সংগ্রহ করে অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি করে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।

    গতকাল শনিবার ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট আরামবাগ ও ফকিরাপুলে অবস্থিত এ তিনটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং কাজে ব্যবহৃত বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় আট টন বিওপি ফিল্ম জব্দ করেছে। এর দাম প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

    এ সময় প্রতিষ্ঠান তিনটির হিসাব-নিকাশের কাগজপত্র, দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক জব্দ করা হয়। ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের উপকমিশনার রেজভী আহমেদের নেতৃত্বে ৩২ জনের একটি দল এ অভিযানে অংশ নেয়।

    সঙ্গে ছিলেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

    রেজভী আহমেদ জানান, আরামবাগের ২৯১ ইনার সার্কুলার রোডের জাহাঙ্গীর লেমিনেশন ও স্ট্যান্ডার্ড ট্রেড সেন্টার এবং ফকিরাপুলের বুশরা লেমিনেশনে অভিযান চালায় ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের একটি দল। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় আট টন পণ্যের বাজার মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

    প্রতিষ্ঠান তিনটি এসব পণ্যের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এসব পণ্য বন্ড সুবিধা পাওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে। এ তিন প্রতিষ্ঠানের জব্দ করা কাগজপত্র ও কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক থেকে তথ্য নিয়ে আরো বিস্তারিত তদন্ত শেষে কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯ আইন মামলা করা হবে।

    প্রসঙ্গত, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বন্ড সুবিধায় আমদানি হওয়া পণ্য চোরাচালানের মাধ্যমে কালোবাজারে বিক্রি করছে। এতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা দেশীয় শিল্প খাত ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। বন্ডের এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। তারই অংশ হিসেবে অবৈধ পণ্য উদ্ধারের এই অভিযান।

  • পুলিশকে বিট দিয়ে বরিশাল নগরীতে চলছে ফিটনেসবিহীন থ্রি হুইলার

    পুলিশকে বিট দিয়ে বরিশাল নগরীতে চলছে ফিটনেসবিহীন থ্রি হুইলার

    বরিশাল নগরীতে ট্রাফিক পুলিশের অবৈধ কার্যক্রমের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে জনমনে। শুধুমাত্র মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান করেই ক্ষ্যান্ত থাকেন বিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা। তবে ফিটনেস বিহীন যানবাহন থেকে শুরু করে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা থ্রি হুইলারগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।খবর দৈনিক যুগান্তরের।

    তাদের দাবী, নগরীতে চলাচল করা থ্রি হুইলার যান থেকে টোকেন বানিজ্য করেই মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা পকেটে আসে ট্রাফিক পুলিশের হর্তাকর্তাদের। কথিত রয়েছে এই টাকা বিএমপি’র শীর্ষ কর্মকর্তাদের পকেটেও গিয়ে থাকে। তবে মোটরসাইকেল চালকদের কাছ থেকে তেমন সুবিধা না পাওয়ায় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও মামলা অথবা উৎকোচের খড়গ নামে মোটরসাইকেল চালকদের ঘারে। এই নিয়ে অনেক স্থানে একাধিকবার ঝামেলা হলেও বিষয়টি বিএমপি পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ততটা গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে দাবী একাধিক ভুক্তভোগীর। আর এই ধরণের অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে অবস্থা ধারণ করবে বলেও জানান তারা।

    শফিকুল মাতুব্বর নামে নগরীর হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা এলাকার বাসিন্দা জানান, চলতি মাসেই চৌমাথা এলাকায় এক মোটরসাইকেল চালকের সাথে ট্রাফিক পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডা বাঁধে। পরে স্পটে গিয়ে গিয়ে জানতে পারি ট্রাফিক পুলিশের ওই সার্জেন্ট মোটরসাইকেল চালকের কাছে কাগজপত্র দেখতে চায়। এরপর মোটরসাইকেল চালক কাগজপত্র দেখালেও ওই ট্রাফিক সার্জেন্ট তার কাছে ২ হাজার টাকা উৎকোচ দাবী করে। তবে মোটরসাইকেল চালক তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুই জনের সাথে বাকবিতন্ডা বাঁধে। একপর্যায়ে সাধারণ মানুষ জড় হয়ে গেলে গনপিটুনি খেতে হয় ওই ট্রাফিক সার্জেন্টকে।

    নাসির উদ্দিন নামে নগরীর গোরস্থানরোড এলাকার বাসিন্দা জানান, ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। আমিও ভোগান্তির শিকার হয়েছিলাম। তবে সেই সময় একজন টিআই আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করলেও উপস্থিত মানুষের কারণে সে সফল হতে পারেনি। সব অভিযান মোটরসাইকেলের উপরেই করে ট্রাফিক পুলিশ। অটো মাহিন্দ্রার দিকে তাদের তেমন কোনো নজর নেই। কেননা সেখান থেকে প্রতি মাসে বিট আসে।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) খায়রুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমি এই প্রথম শুনেছি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা এই বিষয়ে কোনো প্রমান পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাহাবুদ্দিন খান বলেন, আমার সিনিয়র অফিসারদের মাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়ে এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, নগরীতে অনেক যানবাহন অবৈধভাবে চলাচল করে। যার অধিকাংশই পুলিশ বিটে চলাচল করছে। এর মধ্যে ব্যাটারী চালিত অটো (হলুদ অটো), গ্যাস চালিত অটো (নীল অটো) ও মাহিন্দ্রা রয়েছে। কিন্তু এসব অবৈধ যানের বিরুদ্ধে অভিযান না চললেও পাড়া মহল্লার মোড়ে মোড়ে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এর কারণ হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের কোনো ইউনিটি নেই যে তারা আন্দোলন করবে। তাই ব্যক্তি পর্যায়ে চাপ দিয়ে আর্থিক সুবিধা নিতে পারে ট্রাফিক পুলিশ।

  • গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে রক্ষা পেল আইডিয়ালের ছাত্রী

    গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে রক্ষা পেল আইডিয়ালের ছাত্রী

    ফিল্মি স্টাইলে অপহরণের শিকার হয়েছিল ফারাবি হুসাইন (১৫) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী। সে রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ মুগদা শাখার দশম শ্রেণীর ছাত্রী।

    শনিবার দুপুরে স্কুলের সামনে দাঁড়ানো অবস্থায় একদল দুর্বৃত্ত তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়।

    এ সময় অপহরণকারীরা নেশাজাতীয় কিছু দিয়ে মেয়েটিকে অচেতন করে ফেলে। পরে বিকাল ৪টার দিকে ওই মাইক্রোবাসটি ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জে পৌঁছালে মেয়েটি কৌশলে গাড়ির দরজা খুলে রাস্তায় লাফিয়ে পড়ে দৌড়ে পাশের একটি ফলের দোকানে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পায়।

    ফলের দোকানের মালিক দেলোয়ার হোসেন জানান, মেয়েটি দৌড়ে এসে তার দোকানের সামনে পড়ে যায়। ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিল না। ওর সঙ্গে থাকা আইডি কার্ড থেকে জানা যায় মেয়েটি আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ মুগদা শাখার দশম শ্রেণীর ছাত্রী।
    সেবাশশ্রুষা করার পর কিছুটা সুস্থ হলে সে তার বাবার মোবাইল নাম্বার জানায়। খবর পেয়ে মেয়েটির বাবা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

    জানা যায়, মেয়েটির বাবার নাম অ্যাডভোকেট সেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী। তিনি ঢাকা বারের আইনজীবী। বাসা রাজধানীর বাসাবো এলাকায়।

    সেকান্দার আলী জানান, সকালে পরীক্ষা দিতে স্কুলে যায় ফরাবি। পরীক্ষা শেষে স্কুলের সামনে সে দাঁড়িয়ে ছিল। তখন একটি মাইক্রোবাস তার সামনে এসে দাঁড়ায়। কিছু বুঝে উঠার আগেই ছো মেরে তাকে গাড়িতে তুলে নেয়। এ সময় তাকে অচেতন করে ফেলে দুর্বৃত্তরা।

    কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ফারাবি জানায়, ওই গাড়িতে আরো কয়েকটি মেয়ে ছিল। তার মতো ওদেরও অপহরণ করা হয়েছে। তাকে গাড়িতে তোলার পর মুখে কিছু একটি চেপে ধরা হয়। এতে অর্ধ অচেতন হয়ে পড়ে সে। তবে মাঝে মাঝে সে অপহরণকারীদের কথা শুনতে পাচ্ছিল। এক পর্যায়ে সে গাড়ির সুইচ চেপে দরজা খুলে রাস্তায় লাফিয়ে পড়ে।

    এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন, মেয়েটি সম্ভবত পাচারকারীদের হাতে পড়েছিল। তবে বুদ্ধির জোরে সে বেঁচে গেছে। খবর পেয়ে মেয়েটির বাবা-মা আসলে ওকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    ওসি আরও জানান, মেয়েটির বাবা মুগদা থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মুগদা থানা পুলিশ চাইলে তাদের সহযোগিতা করা হবে।

  • আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন ডিআইজি মিজান

    আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন ডিআইজি মিজান

    অনলাইন ডেস্ক: ৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের মামলায় পুলিশের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া আলোচিত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।

    রোববার (৩০ জুন) তার আগাম জামিনের আবেদনের অনুলিপি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

    বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

    সোমবার (২৪ জুন) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ সংস্থাটির পরিচালক মনজুর মোর্শেদ বাদী হয়ে মামলাটি (মামলা নম্বর ১) দায়ের করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।

    এর আগে দুদকের কমিশন সভায় মামলাটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

    মামলার আসামিরা হলেন- ডিআইজি মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসান ও ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান।

    গত বছরের ৩ মে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডিআইজি মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

    ২০১৮ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে এক সংবাদ পাঠিকাকে জোর করে বিয়ে করার সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। ওই ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরসহ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

    এরপর নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে বিতর্কিত এই ডিআইজিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়। পরে ২৫ জুন তাকে বরখাস্তের কথা সাংবাদিকদের জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    এদিকে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিপুল অংকের অবৈধ সম্পদের খোঁজ পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    অনুসন্ধান শেষে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির।

    ডিআইজি মিজান ছাড়াও তার এক ভাই ও ভাগ্নের নামে করা মামলায় সম্পদসহ ৪ কোটি ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়।

  • জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি মন্ত্রী গ্রেফতার

    জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি মন্ত্রী গ্রেফতার

    ইসরাইলের পুলিশ রোববার বলেছে, তারা ফিলিস্তিনের জেরুজালেম বিষয়ক মন্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ওই কর্মকর্তার এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    ইসরাইলি পুলিশের মুখপাত্র মিকি রোসেনফেল্ড বলেন,জেরুজালেমে কর্মকাণ্ডের জন্য’ ফিলিস্তিনের জেরুজালেম বিষয়ক মন্ত্রী ফাদি আল-হাদামিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, সাম্প্রতি আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সে চিলির প্রেসিডেন্টের পরিদর্শন করার জন্যই তাকে গ্রেফতার করা হয়ে থাকতে পারে।

    মঙ্গলবার, হাদামি চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরার সাথে পবিত্র স্থানটিতে সফর করেন। এতে ইসরাইল ক্ষুব্ধ হয়।

    ইসরাইল এই ঘটনাকে চিলির প্রেসিডেন্টের এই সফরের আগে সান্টিয়াগোর সাথে তাদের যে চুক্তির ও সমঝোতা হয়েছে তার লংঘন বলে অভিহিত করে।

  • পুঠিয়ায় আনসার আল ইসলামের ৫ সদস্য গ্রেফতার

    পুঠিয়ায় আনসার আল ইসলামের ৫ সদস্য গ্রেফতার

    রাজশাহীর পুঠিয়ার বেলপুকুর থেকে আনসার আল ইসলামের ৫ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৫ এর সদস্যরা।

    শনিবার দিবাগত গভীর রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    রবিবার সকালে র‌্যাব-৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও কোম্পানি অধিনায়ক এটিএম মাইনুল ইসলাম জানান, আটক জঙ্গিদের কাছ থেকে ১টি পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন, ৫ রাউন্ড গুলি, ২৪টি ককেটল, ১০টি জিহাদি বই, ৮টি জিহাদি নোটবই জব্দ করা হয়েছে।

    আটকরা হলেন- ভরুয়াপাড়া গ্রামের আনসার আলীর স্ত্রী আফরোজা বেগম (৫৫), তার ছেলে আনিসুর রহমান ওরফে সাদ্দাম (৩০), একই গ্রামের আজিজুল আলমের ছেলে রুহুল আমিন (৩১) ও নিজাম উদ্দিনের ছেলে মামুন-অর-রশিদ (৩৭) এবং ক্ষুদ্রজামিরা গ্রামের সিদ্দিক তালহার ছেলে আবু তালহা (২১)।

    র‌্যাবের অতিরিক্ত এসপি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পুঠিয়ার বেলপুকুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত আনসার আল ইসলামের ৫ সদস্যকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ২৪টি ককটেল, একটি পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি, দু’টি ম্যগিজিন, ১০টি জিহাদি বই ও ৮টি জিহাদি নোটবই উদ্ধার করা হয়। আটকদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

  • পুলিশি হয়রানির ভয়ে বিপদগ্রস্তকে উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেনি

    পুলিশি হয়রানির ভয়ে বিপদগ্রস্তকে উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেনি

    বরগুনার রিফাত হত্যার পর আবারও আলোচনায় একটি প্রশ্ন। প্রত্যক্ষদর্শীরা কেউ কেউ ঘটনার ভিডিও ধারণ করলেও আক্রান্তকে রক্ষায় এগিয়ে যায়নি কেউ। একইভাবে ২০১৬ সালে সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কোপানো হয় প্রকাশ্যে। একইভাবে বিশ্বজিৎকে পুরনো ঢাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ব্লগার অভিজিৎ রায়কেও প্রকাশ্যে কোপানো হয়। প্রকাশ্যেই কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয় লেখক হুমায়ূন আজাদকে। এসব ঘটনাতে প্রতক্ষদর্শী অনেকে ছবি তুললেও কেউ রক্ষা করতে এগিয়ে যায়নি। কিন্তু কেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুই হামলাকারীর ভয় নয়, পুলিশি হয়রানির শিকার হওয়ার ভয়ে এখন আর কেউ কাউকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসে না। ডয়চে ভেলে

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নেহাল করিম এজন্য দোষ দিচ্ছেন মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়কে৷ তিনি বলেন, প্রথমত আমাদের সমাজ থেকে মানবিকতা অনেক দূরে চলে গেছে৷ এখন শিক্ষায় কোনো মানবিক বা নৈতিক পাঠ নেই৷ অভিভাবকরাও সন্তানদের প্রতিবাদ করার পরিবর্তে নিজেকে রক্ষা বা বাঁচানোর কথা বলেন৷ আর এটা হয়েছে নিরাপত্তা ও বিচারহীনতার কারণে৷ এখানে এখন প্রতিবাদ করলে, কোনো বিপদগ্রস্তকে উদ্ধার করলে উল্টো নিজে বিপদে পড়তে হয়।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বুলবুল বলেন, কেউ যদি হত্যাকা-ের শিকার হন বা বিপদে পড়েন তখন যারা তাকে রক্ষায় এগিয়ে যান, তাদের শতকরা ৯৯ ভাগ উল্টো পুলিশি হয়রানির শিকার হন৷ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হরে দরে আটক করে৷ কে অপরাধী আর কে উদ্ধারকারী তা দেখে না৷ এরপর শুরু হয় বাণিজ্য৷ অপরাধীরা অনেক ক্ষমতাবান৷ কেউ এগিয়ে গেলে তাকেও শেষ করে দিতে পারে তারা৷ তিনি মনে করেন, এই যখন পরিস্থিতি, তখন দূরে থেকে ঘটনার ভিডিও করাও একটা সাহসের কাজ৷ এর মাধ্যমে অন্তত অপরাধী চিহ্নিত হয়৷ বিচার পাওয়া যায়৷ রিফাতের ঘটনার ভিডিও যদি না থাকতো, তাহলে এটা ধামাচাপা পড়ে যেতো।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান মনে করেন, ‘‘সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে- এই আদর্শ নগর সভ্যতায় আর নেই৷ এটা থাকা সম্ভবও নয়। এখানে রাষ্ট্র ও সরকারকে ভূমিকা পালন করতে হবে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হলে ৯১১-এ ফোন করে দিতো, সাথে সাথে পুলিশ এসে পড়তো। আমাদের এখানে ৯৯৯ আছে কিন্তু সাধারণ মানুষ তত জানে না৷ যদি রিফাতকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে যেতেন, তিনিও হত্যার শিকার হতে পারতেন৷ আবার যারা অপরাধী তারাও গণপিটুনিতে নিহত হতে পারতো। তখন আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রশ্ন উঠতো। এখন মানুষ নিজের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি ভাবে৷ সে নিজে নিরাপদ থাকতে চায়।

    তিনি বলেন, ভিডিও করার ঘটনা শুধু আমাদের দেশে নয়, বিশ্বের উন্নত দেশেও ঘটে৷ নিজে নিরাপদ থেকে ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরার এই প্রবণতা খারাপ নয়, বরং আমি এটাকে ভালো মনে করি৷ এর মাধ্যমে অপরাধীদের চিাহ্নত করা যায়৷ এর ফলেই আমরা রাজিব ও রাকিব হত্যার বিচার অনেক দ্রুত হতে দেখেছি৷

  • শিশু শাহীনের ভ্যান নিয়ে যাওয়া সেই ছিনতাইকারীদের খুঁজছে পুলিশ

    শিশু শাহীনের ভ্যান নিয়ে যাওয়া সেই ছিনতাইকারীদের খুঁজছে পুলিশ

    অনলাইন ডেস্ক :

    পরিবারের অভাবের তাড়নায় মাঝে মধ্যে ভ্যান চালাতো ১৪ বছর বয়সী শাহীন মোড়ল। ভ্যানটি শাহীনের বাবা হায়দার আলীর। তবে লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার কষ্ট লাঘবের জন্য শাহীনও স্কুল ছুটির দিন ভ্যান নিয়ে বের হতো রোজগারের আশায়। এভাবেই ভালোভাবে দিন পার হচ্ছিল যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের বাসিন্দা শাহীনের পরিবারের।

    গত শুক্রবার সকালে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করে শাহীনের ভ্যানটি ভাড়া করে কে বা কারা। ছুটির দিন হওয়ায় ভ্যান নিয়ে বেরিয়ে পড়ে শাহীন। দুপুরের দিকে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়া ইউনিয়নের শার্শা এলাকায় শাহীনের মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তার ভ্যান ও সঙ্গে থাকা মোবাইলটি নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। অচেতন অবস্থায় ঘটনাস্থলেই পড়ে থাকে রক্তে ভেজা শিশু শাহীন।

    ঘটনাস্থলে জ্ঞান ফিরলে কান্নাকাটির শুরু করে শাহীন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসার পর তারা খবর দেয় থানায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহীনকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত শাহীনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শনিবার দুপুরে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই শনিবার গভীর রাতেই তার অপারেশন করা হয়। তবে রোববার সন্ধ্যায় ৬টা পর্যন্ত জ্ঞান ফেরেনি তার।

    কেশবপুর উপজেলার ৫নং মঙ্গলকোর্ট ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য শিশু শাহীনের প্রতিবেশী জহির রায়হান জানান, শাহিন ছোট মানুষ। ভালো ছেলে। স্থানীয় গোলাগাটা মাদরাসায় সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। অভাবের তাড়নায় ছুটির দিন বাবার ভ্যানটি চালায় সে। পরিবারটিও খুব অসহায়। বসতভিটা ছাড়া কিছুই নেই তাদের। শুক্রবার সকালে মোবাইলে কল করে ডেকে নিয়ে নৃশংস এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

    এ ঘটনায় কারা জড়িত থাকতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শাহীনের এলাকায় কোনো শত্রু নেই। কারও সঙ্গে কখনও ঝগড়া হয়েছে এমনটাও শুনিনি। তবে এলাকায় যারা মাদকাসক্ত তারাই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা তার। পুলিশ প্রশাসন চাইলে মোবাইলের কললিস্ট তুলে যাচাই করলেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কারা সেটি উদঘাটন হবে। আমরা অপরাধীদের শাস্তি চাই।

    এদিকে, অমানবিক ও নৃশংস এ ঘটনাটির রহস্য উৎঘাটনে তৎপর পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও ছিনতাই হওয়া মোবাইল ও ভ্যান উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশের একাধিক টিম। রোববার বেলা ৪টায় কেশবপুর উপজেলায় মঙ্গলকোর্ট গ্রামে শিশু শাহীনের বাড়িতে যান সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইলতুৎমিশ ও পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলাম।

    সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, অমানবিক ও নৃশংস এ ঘটনার তদন্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ছিনতাই হওয়া ভ্যান ও মোবাইল উদ্ধার করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই আমরা অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পারবো।

    ঘটনার বিবরণ জানিয়ে তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে শাহীন যখন বাড়ি থেকে বের হয় তখন একজন যাত্রী ছিল। তদন্তকালে আমরা জেনেছি প্রথমে সে একজন যাত্রী নিয়ে মঙ্গলকোর্ট বাজারে যায়। এরপর সেখান থেকে তিনজন যাত্রী নিয়ে সাগরদাড়ি এলাকায় আসে। তারপর সাগরদাড়ি পার হয়ে পাটকেলঘাটা থানা এলাকা ও সাতক্ষীরা জেলার মধ্যে প্রবেশ করে।

    তিনি বলেন, পাটকেলঘাটা থানার মধ্যে এক কিলোমিটার আসার পর তাকে একটি পাট ক্ষেতে নিয়ে যায় তারা। তারপর শাহিনকে কুপিয়ে তার ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে শাহীনের কান্নাকাটির আওয়াজ পেয়ে স্থানীয়রা পাটকেলঘাটা থানা পুলিশে খবর দেয়। সেখান থেকে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ শাহিনকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরে আমাদের তত্বাবধানে তাকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেলে।

    পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান আরও বলেন, এ ঘটনায় শিশু শাহিনের বাবা হায়দার আলী বাদী হয়ে আজ্ঞাতনামা তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দিয়েছেন। সাতক্ষীরা ও যশোর জেলা পুলিশ মামলাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শিশু শাহিনের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছে।

  • মুলাদীতে গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

    মুলাদীতে গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

    অনলাইন ডেস্ক:

    বরিশালের মুলাদীতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত (২৫) নামের এক গৃহবধূ।

    শনিবার (২৯ জুন) দিবাগত রাতে থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমক্স থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় মুলাদী উপজেলার চর ডিগ্রি এলাকার ভাড়া বাসায ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার করে সে।

    নিহত জান্নাত (২৫) স্থানীয় ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন এর স্ত্রী। তাদের তিন বছর বয়সি একটি কণ্যা সন্তান রয়েছে। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান জানান, প্রায় ১০ বছর পূর্বে হিজলার কাউরিয়া গ্রামের জান্নাতের বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা ও ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ফারুকের সাথে। এরপর গত প্রায় ৮ বছর ধরে তারা মুলাদী উপজেলার চর ডিগ্রি গ্রামে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো।

    নিহতের স্বামীর বরাত দিয়ে ওসি বলেন, মুঠোফোনে কথা বলাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর সাথে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। শনিবার সন্ধ্যায়ও এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে মুঠোফোনেও ঝগড়া হয়। পরবর্তীতে ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে জান্নাত।

    বাড়িওয়ালা বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়দের সহায়তায় জান্নাতকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

  • রিফাত হত্যাকারীদের তালিকা সীমান্তে, বেনাপোলে সর্বোচ্চ সতর্কতা

    রিফাত হত্যাকারীদের তালিকা সীমান্তে, বেনাপোলে সর্বোচ্চ সতর্কতা

    বরগুনায় স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা মামলার আসামিরা যাতে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য যশোরের বেনাপোল ও শার্শার বিভিন্ন সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শনিবার বিকেল থেকে এই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে ইমিগ্রেশন পুলিশ, থানা পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    সতর্কতা জারির বিষয়টি বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ, থানা পুলিশ ও বিজিবি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

    শনিবার বিকেলে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে গিয়ে দেখা যায়, সতর্কতার কারণে বহিরাগতদের ইমিগ্রেশন ভবনে প্রবেশ নিষেধ রয়েছে। পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে যাত্রীর চেহারা ও ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলিয়ে তবেই ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে।

    এদিকে সীমান্ত এলাকাতেই বিজিবির বাড়তি সতর্কতা দেখা গেছে। সন্দেহ হলেই বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে বিভিন্ন প্রয়োজনে চলাচলকারী মানুষজনদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

    বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে রিফাত হত্যা মামলার আসামিরা যাতে বেনাপোল ইমিগ্রেশন হয়ে ভারতে যেতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি পাসপোর্টযাত্রীর পাসপোর্ট মেশিনে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলে রিফাত হত্যার আসামিদের বেনাপোল চেকপোস্ট ব্যবহার করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ছবি, নাম-ঠিকানাসহ যাবতীয় সবকিছু তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে ভারতে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হচ্ছে।

    Benapole-Borguna-Madar

    যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সেলিম রেজা জানান, সীমান্ত পথে যাতে রিফাত হত্যাকারীরা কোনোভাবে ভারতে পালাতে না পারে, এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদেরকে আসামিদের তথ্য পাঠিয়েছে। বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় আছে। সীমান্ত পথে পালাতে গেলেই তারা ধরা পড়বে।

    খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার জানান, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমেও সীমান্তে চলাচলকারী লোকজনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পরপরই যাতে কেউ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিজিবির টহল ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

    গত বুধবার সকাল ১০টায় বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে। স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বারবার সন্ত্রাসীদের বাধা দিয়েও রক্ষা করতে পারেননি স্বামীকে। এ ঘটনায় রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে অভিযুক্ত করে ও আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার পটুয়াখালী থেকে এক সন্দেহভাজন যুবককে আটক করা হয়েছে।