Category: প্রশাসন

  • জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, ইউপি সদস্যসহ গ্রেফতার ১৪

    জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, ইউপি সদস্যসহ গ্রেফতার ১৪

    জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে পটুয়াখালীর গলাচিপায় রিয়াজ মুন্সি নামে এক যুবককে প্রতিপক্ষের লোকজন পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার সকালে তিনি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে মারা গেছেন। এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে গলাচিপার পানপট্টি ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে ওই যুবককে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করা হয়। এ ঘটনায় আজ সকাল পর্যন্ত এক ইউপি সদস্যসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে গলাচিপা থানা পুলিশ।

    গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার মোর্শেদ জানান, পানপট্টি ইউনিয়নের উত্তর তুলারাম গ্রামের কালা মুন্সি গংদের সাথে একই এলাকার ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রফিক হাওলাদার গংদের সাথে জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনায় আদালতে দেওয়ানী মামলাও চলমান রয়েছে। এ নিয়ে এলাকার চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা শালিস মীমাংসাও করেন। জমিখণ্ডটি রফিক মেম্বারের বাড়ির কাছে হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে চাষ করতে যায় তারা। এ সময় কালা মুন্সির ছেলে রিয়াজ (২৪) তাদের বাধা দেন। পরে রফিক মেম্বার ও তার লোকজন একত্রিত হয়ে রিয়াজকে লাঠি (মুগর) দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পটুয়াখালী থেকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর সকালে মারা যান রিয়াজ।

    এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সকাল পর্যন্ত ইউপি সদস্য রফিকসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় ওসি।

  • রিফাত শরীফের খুনিদের সন্ধানে এসপির স্ট্যাটাস

    রিফাত শরীফের খুনিদের সন্ধানে এসপির স্ট্যাটাস

    ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের সন্ধান চেয়েছেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম রশিদুল হক। স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে দিবালোকে হত্যাকাণ্ডটি দেশের মানুষকে মর্মাহত করেছে। মহামান্য হাইকোর্ট এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের হাতে সোপর্দ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সাড়ে ১০টার দিকে তার আইডি থেকে স্ট্যাটাস দিয়ে অভিযুক্তদের সন্ধান চান তিনি।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত আট জনের ছবিসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করে সন্ধান চেয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন রশিদুল হক।

    সেই স্ট্যাটাস মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। অভিযুক্তদের কারো সন্ধান পেলে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে সকলের প্রতি আহবান জাননো হয়।

  • অপরাধীদের রাতারাতি গ্রেফতার করা সম্ভব নয়: কাদের

    অপরাধীদের রাতারাতি গ্রেফতার করা সম্ভব নয়: কাদের

    বরগুনায় রিফাত হত্যায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। অপরাধ ঘটার পর রাতারাতি অপরাধীদের গ্রেফতার করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    তিনি বলেন, কোনো অপরাধ সংগঠনের পর অপরাধীরা পালানোর চেষ্টা করে এটাই স্বাভাবিক। তাই অপরাধীদের রাতারাতি গ্রেফতার করা সম্ভব হয় না। বরগুনায় রিফাত হত্যায় জড়িত ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ যাতে পালাতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিএনপি সরকারের সময় ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কেউ অপরাধ করে পার পাই না। অপরাধ করে আমাদের এমপি কারাগারে আছে। সুতরাং বর্তমান সরকারের সময় অপরাধ করলে তার শাস্তি পেতেই হবে।

  • সাংবাদিকতার আড়ালে ডাকাতি, অবশেষে ধরা

    সাংবাদিকতার আড়ালে ডাকাতি, অবশেষে ধরা

    পুলিশসহ সবার চোখ ফাঁকি দিতে ‘সেফ গার্ড’ হিসেবে সাংবাদিকতা পেশা বেছে নেয় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য ও সর্দার মো. হোসেন আলী (৩২)। ডাকাতি করার আগে অভিনব কৌশল হিসেবে গলায় আইডি কার্ড ঝুঁলিয়ে ক্যামেরা হাতে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে খোঁজ নিতেন- কোথায় কোন বাড়িতে ডাকাতি করলে ভালো টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যাবে।

    বৃহস্পতিবার সোনারগাঁ উপজেলার একটি ডাকাতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে বারদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দৈনিক দেশ পত্রিকার ফটো সাংবাদিক পরিচয় দানকারী ডাকাত হোসেন আলীকে গ্রেফতারের পর এমন ভয়ঙ্কর তথ্য পায় পুলিশ।

    গ্রেফতার হোসেন আলী রূপগঞ্জ উপজেলার বরফা আঁটিপাড়া এলাকার মৃত সিদ্দিকের ছেলে।

    সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ জানান, গত ১৫ জুন গভীর রাতে সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের ভিটিকান্দি গ্রামের মনজুর হাজির বাড়ির গেটের তালা কেটে ভেতরে ঢুকে বাড়ির সদস্যদের হাত-পা বেঁধে ডাকাতি করে তারা। এসময় ওই বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয় ডাকাতরা। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানার একটি ডাকাতি মামলা করা হয়। পরে প্রযুক্তির সাহায্যে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গতকাল বুধবার (২৬ জুন) পাঁচ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হলে তারা সবাই সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ভিটিকান্দি গ্রামের মনজুর হাজির বাড়িতে ডাকাতির কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এসময় কথিত সাংবাদিক হোসেন আলী তাদের দলের সর্দার বলে জানায় তারা।

    পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) রাতে সোনারগাঁ উপজেলার বারদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত হোসেন আলীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে সাংবাদিক পেশার আইডি কার্ড, ডাকাতি করা মালামাল, নগদ টাকা ও মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।

    জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাত হোসেন জানায়, তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে আরও তিনটি ডাকাতি মামলা রয়েছে। তার দলের সদস্যরা ডাকাতি করে যে মালামাল পায় তার অর্ধেক ভাগ সে একাই পায়, বাকি অর্ধেক অন্যরা ভাগ করে নেয়।

    ডাকাত হোসেন পুলিশকে জানায়, হোসেন আলী সাংবাদিক হওয়ার কারণ একটাই লোকজন যাতে আমাকে অপরাধী না ভাবে। সে জন্যই দৈনিক দেশ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য প্রথম বিশ হাজার টাকা দেই কর্তৃপক্ষকে এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা এবং দৈনিক দেশ পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে নবায়নের জন্য ৫ হাজার টাকা দিতে হয়।

  • বরগুনায় ঘাতক রিফাত ও নয়নকে দু’দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ

    বরগুনায় ঘাতক রিফাত ও নয়নকে দু’দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ

    বরগুনায় স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার আলোচিত ঘটনার দু’দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে হতাশা ব্যক্ত করেছে সচেতন মহল। তবে পুলিশ বলছে হত্যার মূল হোতাদের ধরতে র‌্যাব ও পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। শিগগিরই দেশবাসীকে কাঙ্ক্ষিত খবরটি দিতে পারবেন তারা।

    বরগুনার নাগরীক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল জাগো নিউজকে বলেন, আজ আমরা একটি সুন্দর সকাল প্রত্যাশা করেছিলাম। যে সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমরা রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের গ্রেফতারের খবর পাব। কিন্তু ঘটনার দু’দিন অতিবাহিত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের এই সুখবরটুকু দিতে পারেনি। তারা আমাদের হতাশ করেছে।

    এদিকে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ ও র‌্যাবের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

    এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, ‘রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। আর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা অজ্ঞাত এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

    বাকি আসামিরা পুলিশের নজরদারিতে আছে জানিয়ে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, আমরা দেশবাসীকে খুব দ্রুতই প্রত্যাশিত একটি সংবাদ দিতে পারব।

    প্রসঙ্গত, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশাকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ আরও দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা। রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়।

    পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

  • পিরোজপুরে পুলিশ কর্মকর্তাকে এলোপাতাড়ি কোপাল মামলার আসামি

    পিরোজপুরে পুলিশ কর্মকর্তাকে এলোপাতাড়ি কোপাল মামলার আসামি

    পিরোজপুরের কাউখালীতে মমালার তদন্তে গেলে পুলিশের এক এএসআইকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, উপজেলার জয়কুল গ্রামে অভিযোগের তদন্তে গেলে এ হামলার শিকার হয়েছেন থানা পুলিশের (এএসআই) রফিকুল ইসলাম।

    গুরুতর জখম রফিকুল ইসলামকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

    কাউখালী থানা অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, জয়কুল গ্রামের মৃত হানিফ হাওলাদারে ছেলে হায়দার আলী হাওলাদারের বিরুদ্ধে একই গ্রামের হ্যাপি বেগমের একটি অভিযোগের সরে জমিন তদন্তে জন্য থানার এএসআই রফিকুল ইসলাম থানার কনেস্টবল কাদেরকে নিয়ে হায়দার আলীর বাড়িতে গিয়ে তাকে ডাক দিলে হায়দার দরজা খুলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এএসআই রফিকের ওপর হামলা চালায়।

    এ সময় হামলাকারী তার দুই হাত ও গালে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে। আসামিকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

  • রিফাতের হত্যাকারীদের পক্ষে কোনো আইনজীবীকে না দাঁড়ানোর আহ্বান মোহাম্মদ নাসিমের

    রিফাতের হত্যাকারীদের পক্ষে কোনো আইনজীবীকে না দাঁড়ানোর আহ্বান মোহাম্মদ নাসিমের

    রিফাত শরীফের হত্যাকারীদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবীকে না দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।

    তিনি বলেন, ‘বেশি টাকা নিয়ে আপনারা এ সন্ত্রাসীদের পক্ষে দাঁড়াবেন না। আপনারা বিবেক দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করবেন। শুধু টাকার জন্য খুনিদের পক্ষ কেন নেবেন? সন্ত্রাসীদের আইনি সহায়তা দেবেন না। তাদের পক্ষে দাঁড়াবেন না।’

    রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে শুক্রবার বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন সাবেক এ মন্ত্রী। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    ১৪ দলর মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউকে খাতির করেন না। তিনি বিশ্বজিৎ ও নুসরাত হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছেন। রিফাত ফরাজিকেও খাতির করবেন না। রিফাত ফরাজি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাই আমি অনুরোধ করব, কোনো আইনজীবী রিফাতের মতো সন্ত্রাসীদের আইনি সহায়তা দেবেন না। তাদের পক্ষে দাঁড়াবেন না।’

    বরগুনার রিফাত শরীফের হত্যাকারীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়দাতাদের গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এ সদস্য আরও বলেন, ‘এ সব খুনিকে যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে তাদেরও গ্রেফতার করতে হবে। কারণ তাদের অশ্রয় না দিলে তারা এতবড় দুঃসাহস দেখাতে পারতো না। একটা যুববকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করার মতো সাহস তারা দেখায় কীভাবে?’

    নাসিম বলেন, ‘শুধু খুনিদের গ্রেফতার করলেই হবে না। এরা রাজনৈতক আশ্রয়ে থেকে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। এদের স্থানীয় পুলিশও সহযোগিতা করে। এরা সন্ত্রাসী। তাদের কোনো দল নেই। এরা বিএনপি-জামায়াতের চেয়েও ভয়ঙ্কর।’

    শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সম্পর্কে নাসিম বলেন, ‘তিনি ছিলেন একজন মহিয়সী নারী। তিনি ক্যান্সার নিয়ে ঘাতকদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করেছেন। তিনি শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এ মামলা হয়েছিল বিএনপির আমলে। এ জন্য খালেদা জিয়ার বিচার হওয়া উচিত।’

    সংগঠনের নেত্রী দিনাত জাহান মুন্নির সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিলীপ রায়, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

  • রিফাত হত্যাঃ বরিশাল জুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারী, চলছে তল্লাশী

    রিফাত হত্যাঃ বরিশাল জুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারী, চলছে তল্লাশী

    নিজস্ব প্রতিবেদক :: রগুনায় স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফ (২২) কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর থেকে বরিশালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তৎপরতা জোরদার করেছে। বিশেষ করে পুলিশ গোটা বরিশাল জুড়ে গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানোর পাশাপাশি তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করছে।

    বৃহষ্পতিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত দেড়টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঞা।

    তিনি বলেন, রিফাত শরীফকে হত্যার ঘটনায় জড়িত কোন আসামী যাতে পালাতে না পারে সেজন্যই পুলিশের এই তৎপরতা। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম-পিপিএম জানান, বিভাগের মধ্যে বরিশালে একটি বৃহৎ নদী বন্দর ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড রয়েছে।  নদী ও সড়কপথ ব্যবহার করে যাতে কেউ পালাতে না পারে সেজন্য বরিশাল জুড়ে তল্লাশী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এটি রিফাত শরীফ খুন হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে। যা আসামীরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত চলমান থাকবে

    এদিকে বৃহষ্পতিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে বরিশাল নদী বন্দর এলাকায় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তল্লাশী চালানোর সময় সন্দেহজনক ৪ যুবককে আটক করে। যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। পরে রিফাত হত্যার সাথে কোন যোগসাজেশ না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হলে পরিবারের জিম্মায় রাতেই ছেড়ে দেয়া হয়।

    থানা পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, আটক ৪ জনের মধ্যে ১ জনের বিষয়ে সন্দেহ জোরদার হওয়ায় বরগুনা জেলা পুলিশের সহায়তাও নেয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত রিফাত হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কোন প্রমান পাওয়া যায়নি তাদের কাছ থেকে।

    উল্লেখ্য বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিবরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফ (২২) নামে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করে সাবেক স্বামী নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা। গুরুতর আহত রিফাতকে প্রথমে বরগুনা সদর হাসপাতাল ও পরে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল (শেবাচিম) কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

    পরে সেখানে বিকেল সোয়া ৪ টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রপচারের সময় রিফাতের মৃত্যু হয়। রিফাতের মৃত্যুর খবর ও কোপানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নরেচরে বসে স্থানীয় প্রশাসন। ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের সনাক্ত করে তাদের ধরতে অভিযানে নেমে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন।

  • বরগুনায় রিফাতকে কুপিয়ে হত্যায় জড়িত ১৩ জন শনাক্ত : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বরগুনায় রিফাতকে কুপিয়ে হত্যায় জড়িত ১৩ জন শনাক্ত : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক :: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বরগুনায় স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে স্বামী রিফাতকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আমরা ১৩ জন শনাক্ত করেছি। এর মধ্যে চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও শিগগিরই গ্রপ্তার করা হবে। যে দলেরেই হোক, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওয়তায় আনা হবে।

    শুক্রবার (২৮ জুন) পুরান ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের ইতিহাস ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণ ও পারিপার্শ্বিক উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ ও গোয়েন্দা সসদস্যরা অত্যন্ত দক্ষ। আমাদের নজর এড়িয়ে কেউ পার পায়নি। রিফাত হত্যায় যারা জড়িত, তাদের অধিকাংশই ধরা পড়েছে। বাকি যে কয়েকজন আছে, তারা অচিরেই ধরা পড়বে— এটা নিশ্চচিত থাকুন।

    তিনি বলেন, বরগুনায় যে ঘটনা ঘটেছে, সেটি কেন ঘটেছে তদন্ত করে জানানো হবে। তবে এটি দুঃখজনক। এ ঘটনায় পুলিশ বসে নেই। যতগুলো ঘটনাই ঘটুক বাংলাদেশে, পুলিশের দক্ষতা-সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ফেনীর মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণের ঘটনাতেও আমি বলেছি, আমরা কাউকে ছাড় দেবো না। সেখানে দেখেছেন, আমাদের দলের যারা ওই ঘটনায় জড়িত ছিল, তাদেরও আমরা ছাড় দিইনি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছেন। তাই আপনারা যারা সন্দেহ করছেন, আমাদের দলের কেউ জড়িত থাকলে ছাড় পাবে— আপনাদের এই ধারণা ভুল।

    এর আগে, বুধবার (২৬ জুন) সকালে বরগুনা কলেজের সামনের সড়কে প্রকাশ্যে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনেই তার স্বামী রিফাত শরীফকে চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেন নয়ন বন্ডসহ তার সহযোগীরা। মিন্নি চেষ্টা করেও তাদের নিবৃত করতে পারেননি।

  • রিফাত হত্যাকাণ্ডে পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই: পুলিশ সুপার

    রিফাত হত্যাকাণ্ডে পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই: পুলিশ সুপার

    বরগুনায় স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই বলে জানিয়েছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

    পুলিশ সুপার বলেন, রিফাত শরীফের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল যায় এবং পুলিশের সহযোগিতায় আহত রিফাত শরীফকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা রিফাত শরীফকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে সে সময়ও পুলিশ বেশ সহযোগিতা করে।

    তিনি আরও বলেন, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের কোনো দায়িত্বে অবহেলা আছে কি-না তা জানার জন্য আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম। সেই কমিটিও পুলিশের কোনো দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পায়নি।

    এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, রিফাত শরীফের হত্যাকারীদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। আসামিদের গ্রেফতার এড়াতে কোনো চাপ নেই। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার এড়াতে যদি কোনো চাপ আসে, সেই চাপ উপেক্ষা করার শক্তি এবং সামর্থ বাংলাদেশ পুলিশের আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত শরীফ। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে বখাটে নয়ন ও তার সহযোগীরা রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা। রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নি দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) চন্দন, হাসান ও নাজমুল আহসান নামে তিন আসামিকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।