Category: প্রশাসন

  • খুনের পর রক্তাক্ত কাটা মাথা নিয়ে থানায়

    খুনের পর রক্তাক্ত কাটা মাথা নিয়ে থানায়

    মন্দিরে ঘুমন্ত লিটন ঘোষ (৫৫) নামের এক শ্রমিকের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ব্যাগে ভরে থানায় গিয়ে হাজির হয়েছেন লবু দাস (৪৫) নামে এক ব্যক্তি।

    মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরের গৌর মন্দিরের নাট মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।

    লিটন ঘোষ কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর এলাকার মতি ঘোষের ছেলে। এ ঘটনায় লবু দাসকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লবু দাস উপজেলা সদরের নাছিরপুরের পরমানন্দ দাসের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, লবু দাস একজন চিহ্নিত মাদকসেবী। মাস ছয়েক আগে মতি দাস নামে তার এক চাচাকে হত্যার ঘটনায়ও সে অভিযুক্ত। এ ঘটনায় সম্প্রতি সে জামিনে ছাড়া পেয়ে আসে।

    গৌর মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল চন্দ্র চৌধুরী জানান, লিটন ঘোষ নাসিরনগর উপজেলা সদরের ঘোষপাড়ায় তার আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। লবু দাস ও লিটন ঘোষ পূর্ব পরিচিতও ছিলেন না।

    মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মন্দিরে ঘুমিয়েছিলেন। এ সময় লবু ধারালো দা দিয়ে লিটনকে হত্যা করে। এরপর শরীর থেকে মাথা আলাদা করে সেটি বাজারের ব্যাগে করে নিজেই থানায় নিয়ে যায়।

    নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজেদুর রহমান জানান, লিটন ঘোষ শ্রমিকের কাজ করেন। সে নাসিরনগরে তার বোনের বাড়িতে এসেছিল। কী কারণে তিনি খুনের শিকার হলেন আমরা এখনো বুঝতে পারছি না।

    তিনি বলেন, লবু ব্যাগে করে থানায় মাথা নিয়ে আসে। সে বলে আরও মাথা আনবে। আমরা ধারণা করছি লবু দাস মানসিক রোগী।

    এ ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • লোকনৃত্যে দেশসেরা বরিশাল অমৃতলাল দে মহাবিদ্যালয়ের চিন্ময়

    লোকনৃত্যে দেশসেরা বরিশাল অমৃতলাল দে মহাবিদ্যালয়ের চিন্ময়

    লোকনৃত্যে দেশসেরা হয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেছে ঝালকাঠি সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র চিন্ময় পাল।

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বুধবার জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

    শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি। সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন।

    এ ছাড়াও ঝালকাঠির কন্যা শান্তা ইসলাম লোক সংগীতে তৃতীয় স্থান অধিকার করে শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে। বিজয়ীদেরকে মেডেল, সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

    চিন্ময় পাল ঝালকাঠি শহরের বান্দাঘাট এলাকার কাঠালতলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মৃত. নেপাল চন্দ্র পাল ও গৃহিণী সীমা পালের ছেলে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম শ্রেণিতে পড়ুয়া অবস্থায় নৃত্যাঙ্গণে পদার্পণ করে। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে জেএসসি উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়।

    সেখান থেকে ২০১৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। সে বর্তমানে ঝালকাঠি সরকারি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সে নৃত্যাঙ্গণে বেশ কৃতিত্ব অর্জন করে। নৃত্যাঙ্গণে প্রবেশকালে নৃত্য শিক্ষক ছিলেন দেবাশীষ সেন গুপ্ত এবং পরবর্তীতে বরিশালের মুরাদুজ্জামানের কাছে নৃত্যের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে চিন্ময়।

    এ কৃতিত্ব অর্জনে ঝালকাঠির সবার সহযোগিত ছিল বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন লোকনৃত্যে দেশসেরা চিন্ময় পাল। চিন্মুয় পালের এ গৌরব অর্জনে তাকে ধন্যবাদ প্রকাশ করেছেন ঝালকাঠি সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আনছার উদ্দিন।

    অপরদিকে ঝালকাঠিতে সঙ্গিতাঙ্গণে পরিচিত শান্তা ইসলাম ৫ম বারের মতো সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জন করেছে। লোকসঙ্গীত পরিবেশ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করে পুরস্কার গ্রহণ করেছে অতিথিদের কাছ থেকে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বুধবার জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।

    শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রধান অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি। সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। এর আগে চারবার সঙ্গীত পরিবেশন প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে বিজয় অর্জন করে পুরস্কার পান।

    শান্তা ইসলামের ছোটকাল থেকে সঙ্গীতের প্রতি ঝোঁক ছিল। শহরের একটি কিন্ডার গার্টেন থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে জিপিএ ৪.০৬ পেয়ে মানবিক বিভাগে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়। বর্তমানে সে বরিশাল অমৃতলাল দে মহাবিদ্যালয়ে দ্বাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করছে।

  • বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল ময়নাতদন্তে রিফাতের শরীরে ৮টি কোপের চিহ্ন পেলেন চিকিৎসকরা

    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল ময়নাতদন্তে রিফাতের শরীরে ৮টি কোপের চিহ্ন পেলেন চিকিৎসকরা

    অনলাইন ডেস্ক:

    বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার স্বামী শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফের (২৫) শরীরে আটটি কোপের চিহ্ন পেয়েছেন চিকিৎসকরা।

    একই সঙ্গে ঘাড়ের রগ ও শরীরে বড় বড় ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    বৃহস্পতিবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রিফাত শরীফের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে এসব কথা জানান চিকিৎসকরা। বেলা ১১টা থেকে ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত রিফাতের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়।

    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জামিল হোসেনের নেতৃত্বে ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. মাইদুল হোসেন ও ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. তন্নী নিহত রিফাতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।

    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জামিল হোসেন বলেন, রিফাত শরীফের শরীরে মারাত্মক আঘাত করা হয়েছে। তার গলা, মাথা ও বুকের ওপর তিনটি বড় ক্ষত রয়েছে। তার গলার রগ কেটে গেছে। গলার রগ কেটে প্রচুর রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে।

    এছাড়া ভারী অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত করা হয়েছে। তার ডান হাত এবং বাম হাতে দুটি বড় ক্ষত রয়েছে। রিফাতের শরীরে সাত-আটটি বড় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যেসব আঘাতে বড় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ক্ষত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে রিফাত মারা যান।

    এদিকে, মেয়ের জামাইয়ের মরদেহ আনতে মর্গে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন নিহত রিফাতের শ্বশুর মোজাম্মেল হোসেন।

    এ সময় মোজাম্মেল হোসেনকে হাসপাতালের মর্গ থেকে বের করে দেন রিফাতের বন্ধুরা। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের মর্গের সামনে আসেন রিফাতের শ্বশুর মোজাম্মেল হোসেন।

    এ সময় স্থানীয় সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরেন। কয়েকজন সাংবাদিক তার কাছে জামাই রিফাত হত্যার কারণ জানতে চান। তখন তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, এটি নারীঘটিত ঘটনা হলেও আমার মেয়ের সঙ্গে খুনিদের কোনো পরিচয় ছিল না। আমার মেয়েকে খুনিরা উত্ত্যক্ত করতো। জামাই এ ঘটনার প্রতিবাদ করেছিল বলেই তাকে খুন করা হয়েছে।

    এ সময় রিফাতের কয়েকজন বন্ধু মোজাম্মেল হোসেনের ওপর চড়াও হন। সেই সঙ্গে মোজাম্মেল হোসেনকে মিথ্যাবাদী উল্লেখ করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন রিফাতের বন্ধুরা। এ সময় রিফাতের কয়েকজন বন্ধু মোজাম্মেল হোসেনের দিকে তেড়ে যান।

    এ ঘটনার কারণ জানতে চাইলে নিহত রিফাতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মঞ্জুরুল আলম জন, বিল্লাল হোসেন, নাজমুলসহ কয়েজনজন জানান, মিন্নির বাবা সাংবাদিকদের মিথ্যা বলছেন। তার মেয়ের সঙ্গে খুনিদের পরিচয় ছিল। বিষয়টি আমরা আগে থেকেই জানতাম। নয়নের সঙ্গে মিন্নির আগে থেকে সম্পর্ক আছে, সেটিও আড়াল করেছেন মিন্নির বাবা। এসব বিষয় তদন্ত করলে সব সত্য বেরিয়ে আসবে। মিন্নির বাবা সবই জানেন এবং মিন্নিও অনেক বিষয় জানেন।

    প্রসঙ্গত, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশাকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা। রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়।

    পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

  • রিফাতের জানাজায় মানুষের ঢল

    রিফাতের জানাজায় মানুষের ঢল

    বরগুনায় স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যা করা রিফাত শরীফের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। রিফাত শরীফের জানাজায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে।

    এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রিফাতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে মরদেহ নিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বরগুনার নিজ বাড়িতে পৌঁছায় একটি অ্যাম্বুলেন্স। অ্যাম্বুলেন্স বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

    rifat

    জানাজায় ইমামতি করেন বরগুনা কামিল (মডেল) মাদরাসা জামে মসজিদের ইমাম ক্বারী মো. সোলায়মান।

    জানাজায় অন্যান্যের মধ্যে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরগুনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক আলহাজ মো. জাহাঙ্গীর কবীর, বরগুনা জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বরগুনার সাবেক সংসদ সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন, বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, জেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল আহসান মহারাজ, সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবুসহ এলাকাবাসী অংশ নেন।

    জানাজায় উপস্থিত সবার কাছে রিফাতের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রর্থনা করেন রিফাতের বাবা মো. দুলাল শরীফ এবং চাচা আজিজ শরীফ।

    এ সময় তারা রিফাতের রুহের মাগফেরাত কামনার জন্য সবার কাছে দোয়া চান।

    rifat

    জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ছিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।

    এ সময় তারা নিহত রিফাতের হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান এবং তাদের যে কোনো সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশাকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা। রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি।

    তারা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

  • রিফাত হত্যায় জড়িত সকলকে গ্রেফতার করা হবে: ডিআইজি

    রিফাত হত্যায় জড়িত সকলকে গ্রেফতার করা হবে: ডিআইজি

    অনলাইন ডেস্ক:

    রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাস্থল ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বরিশাল পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন- গতকাল একটি নৃশংস হত্যার ঘটনা ঘটেছে বরগুনায়। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি।

    আমরা তাদের পেছনে লেগেছি, এদের গ্রেপ্তার করবো, আইনের আওতায় এনে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে তিনি বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে ওই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বরগুনা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
    বরগুনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে। একটা নৃশংস ঘটনা ঘটলে তার ফলাফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটা দেখাতে চাই আমরা।
    উল্লেখ্য, বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের ফেরাতে পারেননি। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। তারা চেহারা লুকানোরও কোনো চেষ্টা করেনি।
    গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। দুই মাস আগে রিফাত ও মিন্নির বিয়ে হয়।
  • বরগুনার বাড়িতে রিফাতের মরদেহ, একনজর দেখতে জনতার ঢল

    বরগুনার বাড়িতে রিফাতের মরদেহ, একনজর দেখতে জনতার ঢল

    দিনে-দুপুরে স্ত্রীর সামনে সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারানো রিফাত শরীফের (২২) মরদেহ বরিশাল থেকে বরগুনায় তার নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে। রিফাতকে একনজর দেখতে  স্থানীয় জনতা ভীড় করেছে।

    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের মর্গ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) বিকেলে রিফাতের মরদেহ তার সদর উপজেলার ৬ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের উত্তর বড়লবনগোলা গ্রামে পৌঁছায়।
    বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

    এর আগে, দুপুর ১টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের মর্গ থেকে রিফাতের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে সড়কপথে বরগুনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তার বন্ধু-স্বজনরা।

    বুধবার (২৬ জুন) সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা স্ত্রীর সামনেই কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রিফাত শরীফকে। পরে বিকেলে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
    ওই ঘটনার ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরইমধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
  • বরিশাল শেবাচিমে ইন্টার্ন হোষ্টেল থেকে চিকিৎসক নিঁখোজ

    বরিশাল শেবাচিমে ইন্টার্ন হোষ্টেল থেকে চিকিৎসক নিঁখোজ

    পাঁচদিন ধরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পি.জি.টি কোর্সে অধ্যয়নরত ডাঃ এ.এস.এম সাইদ সোহাগ নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি ঝিনাইদহ জেলার মহেষপুর উপজেলার সরুপপুর এলাকার মৃত মশিউর রহমানের ছেলে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় বুধাবর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করছেন নিঁখোজ চিকিৎসকের বড়ভাই শামীম সরোয়ার। সাধারণ ডায়েরিতে বড়ভাই শামীম সরোয়ার উল্লেখ করেছেন, সাইদ সোহাগ শেবাচিম হাসপাতালের ইন্টার্নী হোস্টেলের নিচতলার একটি কক্ষে থাকতো।

    গত ২৩ জুন ভোররাত আনুমানিক সাড়ে চারটায় তন্ময় নামে একলোক মোবাইলে তাকে জানায় সাইদ সোহাগকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সে তার কক্ষেও নেই। শামীম সরোয়ার তার ভাইয়ের মোবাইলে কল করলে প্রথমে কল রিসিভ হয়নি। পরে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। এবং এরপর থেকেই সে নিঁখোজ রয়েছে।

    তবে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কেউ তাদের অবহিত করেননি, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
  • শিশু ধর্ষণে ইমামসহ দু’জনের কারাদণ্ড

    শিশু ধর্ষণে ইমামসহ দু’জনের কারাদণ্ড

    পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া এক শিশুকে মক্তবে পড়তে গেলে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগের মামলায় ঢাকার ধামরাই এলাকার একটি মসজিদের ইমামসহ দুজনকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু ফোরকান মোহাম্মদ মারুফ চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ইমাম সেলিম হোসেন ও তার সহযোগী জামাল। সেলিম হোসেন ধামরাই থানার বাসনা গ্রামের মিরাজ হোসেনের ছেলে। জামাল একই থানার দিঘল গ্রামের বছর উদ্দিন ওরফে বুদ্ধুর ছেলে।

    রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আনোয়ারুল কবীর বাবুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, ইমাম ও তার সহযোগীকে ২০১২ সালে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(২) (৭) ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

    রায় ঘোষণার সময় জামাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ইমাম সেলিম হোসেন জামিন নিয়ে পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

    মামলার বিবরণে জানা গেছে, পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া ওই শিশু মসজিদের মক্তবে পড়তে গেলে ধামরাই এলাকার ওই মসজিদের ইমাম সেলিম তাকে ফুসলিয়ে নিজ কক্ষে নিয়ে যায়।পরে সেলিম শিশুটিকে ধর্ষণ করে আর তার সহযোগী জামাল ধর্ষণের চিত্র মোবাইলে ধারণ করে। পরে ওই দুজন ২০১৪ সালের ২৬ মে ধর্ষণের ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। ওই ঘটনায় ধামরাই থানায় শিশুটির বাবা মামলা করেন।

  • রিফাত হত্যায় পুলিশ বসে নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রিফাত হত্যায় পুলিশ বসে নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বরগুনায় দিন-দুপুরে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

    বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের ইন্টারন্যশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দুঃখজনক ঘটনা। এ ঘটনা কেন ঘটেছে তা তদন্তের পর ডিটেইল জানানো হবে। ঘটনার পর পুলিশ কিন্তু বসে নেই। আমি আপনাদের জোর গলায় বলতে পারি পুলিশ এখন পিছিয়ে পড়া অবস্থায় এখন নেই। আমি সব সময় বলি আপনি যদি ১০ বছর আগের পুলিশ আর এখনকার পুলিশ চিন্তা করেন তাহলে ভুল করবেন। আমাদের পুলিশ এখন অনেক দক্ষ এবং ইনফরমেড। আমার কাছে এ মুহূর্তের খবর হলো ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার হয়েছে। বাকি যে কয়জন নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা হবে।’

    এর আগে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশসেরা ৯ নারী ও এক পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তার হাতে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন অ্যাওয়ার্ড ২০১৯ তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

    অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নারী পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজা লিজা, তাপতুন নাসরীন, জান্নাতুল ফেরদৌস, শম্পা রানী সাহা, ফহমিদা হক শেলী, মিনা মাহমুদা, মাফুজা বেগম, নুসরাত জাহান, আতিকা ইসলাম। এছাড়া এবার প্রথমবারের মতো কোনো পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে এই অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন সিএমপির কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসীন।

    অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের শুভেচ্ছ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় পুরুষের পাশাপাশি নারী সদস্যরাও অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে। নারী সদস্যরা বিশ্ব শান্তি রক্ষায়ও অবদান রাখছে। সরকার পুলিশকে জেন্ডার সংবেদনশীল বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, এবার প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে আয়োজন করা হচ্ছে ‘বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’ বিতরণ অনুষ্ঠান। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খানম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের সভাপতি সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম বিপিএম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নূরুল আলম নিজামী, ডিআইজি গোলাম ফারুক, পুনাক সভাপতি হাবিবা জাবেদসহ নগর ও জেলা পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা।

  • ২০ জনের অধিক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে স্বীকার করলেন শিক্ষক

    ২০ জনের অধিক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে স্বীকার করলেন শিক্ষক

    নিউজ ডেস্ক:

    আপত্তিকর ছবি তুলে অসংখ্য ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জে দুই স্কুলশিক্ষককে গণধোলাই দিয়েছেন এলাকাবাসী ও অভিভাকরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে র‌্যাব ও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

    এ সময় লম্পট ওই দুই শিক্ষকের ফাঁসির দাবিতে র‌্যাব ও পুলিশের সামনে স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

    বৃহস্পতিবার সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কান্দাপাড়ার অক্সফোর্ড হাইস্কুলে এ ঘটনা ঘটে।

    এলাকাবাসী জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম আট বছর ধরে স্কুলটিতে অংক ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন।
    দীর্ঘ এ সময়ে অসংখ্য ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি তুলে ধর্ষণ করেছেন তিনি। ছাত্রীদের কোচিং করানোর জন্য তার বাসা ছাড়াও স্কুলের পাশে বুকস গার্ডেন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করেন। এলাকায় তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রচার হলে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই স্কুলে যান। এ সময় আরিফুল ইসলাম তার মোবাইলে থাকা আপত্তিকর ছবি ডিলিট করেন।

    কিন্তু এলাকাবাসী মোবাইলটি উদ্ধার করে এলাকার একটি মোবাইলের দোকানে নিয়ে সফটওয়ারের মাধ্যমে ছবিগুলো উদ্ধার করেন। ছবিগুলো দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। পরে তারা ওই স্কুলে হামলা চালান। এ সময় স্কুলের লম্পট শিক্ষক আরিফুল ইসলাম ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারকে গণধোলাই দেয়া হয়।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকার লম্পট শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে সহযোগিতা করে আসছিলেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়ার সময় ওই শিক্ষকের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়। ওই মেয়ে এখন ৯ম শ্রেণিতে পড়ছে। এখনও লম্পট শিক্ষকের কাছ থেকে পরিত্রাণ পায়নি তার সন্তান। সন্তান তাকে না জানানোয় তিনিও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি। গত দু-তিনদিন আগে জানতে পেরেছেন।

    এলাকাবাসী জানান, ওই শিক্ষককে সহযোগিতা করতেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকার। তিন মাস আগে স্কুলের এক শিক্ষিকাকেও ওই শিক্ষক যৌন হয়রানি করে। তিনি এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলে প্রধান শিক্ষক আরিফুলকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনেন।

    র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন (পিপিএম) জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আরিফুলেল মোবাইল থেকে ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনেক ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেছি। তার মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। ২০ জনের অধিক ছাত্রীকে ওই শিক্ষক ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ করেছে, যা প্রাথমিকভাবে ওই শিক্ষকই আমাদের কছে স্বীকার করেছে।