Category: প্রশাসন

  • ডিআইজি মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত

    ডিআইজি মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত

    অবশেষে পুলিশের বিতর্কিত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল তার বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে মিজানকে বরখাস্ত করা হয়। এটা আইনি প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ বলে মন্তব্য করেন পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা।

    জানা যায়, গত সোমবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ দুদকের পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ ডিআইজি মিজানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানসহ চারজনের সাড়ে ৪ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে সোয়া তিন কোটি টাকার সম্পদই অবৈধ।

    মামলায় ডিআইজি মিজান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না (৫০), ছোটভাই মাহবুবুর রহমান (৫০) ও ভাগ্নে পুলিশের কোতোয়ালি থানার এসআই মাহমুদুল হাসান (২৯)।

    দুদকের সংশোধিত বিধিতে নিজস্ব দপ্তরে করা এটিই প্রথম মামলা। দুদক আইন ২০০৪ ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনসহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলাটি করেছে দুদক।

    মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মিজানের নামে ও বেনামে অর্জিত ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪৪৩ টাকার সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার ৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। যার মধ্যে ৩ কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার ৪২১ টাকার হিসাব গোপন করেছেন। এর আগে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশের কারণে ২০১৮ সালের ১ আগস্ট তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। এতে তিনি ১ কোটি ১০ লাখ ৪২ হাজার ২৬০ টাকার স্থাবর ও ৪৬ লাখ ২৬ হাজার ৭৫২ টাকার অস্থাবর সম্পদ প্রদর্শন করেন।

    দুদকের তদন্তে পাওয়া যায়, মিজান তার ভাগনে মাহমুদুল হাসানের নামে ২৪ লাখ টাকা দিয়ে গুলশানের পুলিশ প্লাজায় কনকর্ডে ২২১ বর্গফুট আয়তনের দোকান বরাদ্দ নেন। মিজানুর রহমান নিজে নমিনি হয়ে তার ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানের নামে ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর ওয়ান ব্যাংক কাওরান বাজার শাখায় ৩০ লাখ টাকা এফডিআর করেন।

    দুদকে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর পর এফডিআরটি সুদে আসলে ৩৮ লাখ ৮৮ হাজার ৫৭ টাকা তুলে নেন। যা তিনি আয়কর বিবরণীতে দেখাননি। ডিআইজি মিজান তার ভাই মাহবুবুর রহমানের নামে ১ বেইলি রোডে ৬৫ লাখ টাকায় ২৪০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট কেনেন। ফ্ল্যাটে মিজান নিজেই থাকেন।

    মিজানুর রহমান তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্নার নামে কাকরাইলের ৬৩/১, পাওনিয়ার রোডে সামাদ ট্রেড সেন্টারে ১৭৭৬ বর্গফুটের বাণিজ্যিক ফ্ল্যাট কেনেন। যা নগদে এক কোটি ৭৭ লাখ টাকা নির্মাণ কোম্পানিকে পরিশোধ করেন। ২০১৬ সালের ১৬ জুন ফ্ল্যাটটি তার ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানের নামে দলিল রেজিষ্ট্রি করেন। রেকর্ডপত্রে মিজানুর অর্থের জোগানদাতা হলেও সম্পদ বিবরণীতে ঐ টাকার হিসাব গোপন করছেন। মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আসামিদের এসব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা আছে।

  • সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ৬৬ বারের মতো পেছালো

    সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ৬৬ বারের মতো পেছালো

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৬৬ বারের মতো দিন ধার্য করেছে আদালত। প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য আগামী ৫ আগস্ট নতুন দিন ধার্য করে আজ বুধবার (২৬ জুন) এই আদেশ দেয়া হয়।

    আজ বুধবার মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা র‌্যাব প্রতিবেদন দাখিল না করার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস নতুন এ দিন ধার্য করেন।

    ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। ৪দিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

  • বরিশাল আইনজীবী সমিতির ৭ আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    বরিশাল আইনজীবী সমিতির ৭ আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    বরিশাল আইনজীবী সমিতির অপেশাদার আইনজীবির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে আইনজীবী সমিতি। আজ (২৫ জুন) এক সভায় দুইজনের মেম্বারশিপ বাতিল করেছে। বাকি পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা বার কাউন্সিলে সুপারিশ করবেন বলে জানিয়েছেন সভাপতি ওবায়েদুল্লাহ সাজু

    তিনি জানান, আইন পেশার অন্তরালে সমাজ বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা করায় বরিশাল অইনজীবী সমিতি দুজনের চেম্বার বাতিলেন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আরও পাঁচজনের মেম্বারশিপ বাতিল

    জানা গেছে, বেশ কয়েকজন আইনজীবী দির্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পরেছেন।

    এছাড়া আইনজীবী হয়েও অপেশাদার হিসেবে আদালতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন।এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আ্যাডভোকেট মিলন ও লিখনের চেম্বার বাতিল করা হয়।

    এছাড়া অ্যাডভোকেট রুমি, তানভির, মিজান, জুয়েল ও মাছুমের সনদ বাতিলের জন্য ঢাকা বার কাউন্সিলে সুপারিশ পাঠানো হবে বলে ওই সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

  • ঘুষ নেয়ার ভিডিও করায় সাংবাদিককে পেটাল পুলিশ

    ঘুষ নেয়ার ভিডিও করায় সাংবাদিককে পেটাল পুলিশ

    রংপুরের গঙ্গাচড়ায় গাড়ি আটক করে পুলিশের ঘুষ নেয়ার ভিডিও ধারণের সময় একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের রিপোর্টার ও ক্যামেরাম্যানকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকেলে গঙ্গাচড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গঙ্গাচড়া মডেল থানার এসআই আব্দুল করিমসহ ৩ কনস্টেবলকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গঙ্গাচড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান।

    ওই টিভি চ্যানেলের রংপুর ব্যুরো প্রধান শাহ বায়েজিদ আহমেদ বলেন, সোমবার বিকেলে গঙ্গাচড়া উপজেলার গঙ্গাচড়া ডিগ্রি কলেজের সামনে গাড়ি আটকে চাঁদাবাজি করছিলেন গঙ্গাচড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল করিম ও আরও তিন পুলিশ কনস্টেবল। এ ঘটনার ভিডিও করতে গেলে ওই চার পুলিশ সদস্য ক্যামেরাম্যান শাহিন আলম ও রাফির ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এ সময় তিনি বাধা দিতে এগিয়ে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়। এছাড়া ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ারও চেষ্টা করেন ওই পুলিশ সদস্যরা। পরে থানায় গিয়ে মৌখিক অভিযোগ দিলে এসআইসহ আরও তিন কনস্টেবলকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

    এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। এ ঘটনায় এসআই আব্দুল করিম, নায়েব শাহাজালালসহ দুই কনস্টেবল তারেক আজিজ ও আব্দুল হালিমকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।

    রংপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-এ) সাইফুর রহমান বলেন, চার পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে বলে শুনেছি। এ সংক্রান্ত কাগজ এখনও হাতে পাইনি।

  • নলছিটিতে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

    নলছিটিতে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

    অনলাইন ডেস্ক:

    ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি ধান কেনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে তিনি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কমমূল্যে ধান কিনে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

    জানা যায়, এক হাজার চল্লিশ টাকা মন দরে গত ২১ মে থেকে নলছিটিতে প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা কৃষি বিভাগ প্রথম দফায় ১৫১ মেট্রিকটন ধান ক্রয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে। কৃষকদের কাছ থেকে চিটা ও ময়লামুক্ত ১৪ ভাগ আদ্রতার ধান সংগ্রহ করে সংরক্ষণের নিয়ম থাকলেও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার সেচ্ছাচারিতায় তা মানা হচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসন খাদ্য গুদামে প্রভাবশালী চক্রকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি যাতে কৃষক ধান বিক্রি করতে পারে সে বিষয় তৎপর থাকলেও গুদাম কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট সব উদ্যোগ নষ্ট করে দিচ্ছেন।

    স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ধান কেনা অভিযান শুরু হলে কৃষকরা ধান দেওয়ার জন্য নমুনা নিয়ে উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের কাছে আর্দ্রতা পরীক্ষা করাতে যান। ধানের মান ভালো না, এমন অজুহাতে প্রান্তিক কৃষকের ধান ফিরিয়ে দিয়েছেন গুদাম কর্মকর্তা । অথচ সেই ধানই কৃষকের কাছ থেকে না কিনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তা গুদামে সরবরাহ করেছেন সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতরা। ফলে কৃষকরা সরাসরি খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহ করতে না পেরে ন্যায মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে খাদ্যগুদাম ঘুরে দেখা যায়, দালাল ফড়িয়াদের মাধ্যমে সরবরাহকৃত ধান যাচাই-বাছাই না করে তাৎক্ষণিকভাবে গুদামজাত করা হচ্ছে। কিন্তু কৃষকদের পক্ষ থেকে ধান নিয়ে আসা হলে ওই ধান নিয়ে নানা রকম জটিলতা ও তালবাহানা করে কৃষকদের ধান পুনরায় রোদে শুকিয়ে নিয়ে আসার কথা বলে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। অথচ ওই ধানই ধার্যকৃত মুল্যর কম দামে গুদাম সিন্ডিকেট ক্রয় করে কর্মকর্তার মাধ্যমে গুদামজাত করছেন।

    গৌড়িপাাশা গ্রামের কৃষক ও স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর জামাল হোসেন খান বলেন, তিন বার রোদে শুকিয়ে ফ্যানের বাতাসে ধান ও চিটা পৃথক করে প্রায় এক টন ধান নিয়ে এসেছি খাদ্যগুদামে বিক্রির জন্য। আমাকে ওই ধান নিয়ে পুরো একদিন অপেক্ষার পর গুদাম কর্মকর্তার সহযোগীদের মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে গুমাদজাত করতে হয়েছে। যারা গুদাম কর্মকর্তার সেচ্ছাচারিতা উপেক্ষা করে গুদামে ধান দিতে পেরেছেন তাদের মধ্যে চেক বিতরণেও সময়ক্ষেপন করার অভিযোগ রয়েছে। গুদামের তাঁর অনুসারীরা ধান বিক্রি কার কৃষকদের দ্রুত চেক পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থনৈতিক লেনদেন করার প্রমান পাওয়া গেছে। এতে কৃষকদের ভোগান্তির নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

    এব্যাপারে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. আনোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সরবারহকৃত কৃষকদের তালিকা মোতাবেক ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৮০ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। গুদামে কোন সিন্ডিকেট নেই, এখানে সরকারি বিধিমোতাবেক প্রকৃত কৃষকরা ধান বিক্রি করে চেক নিয়ে যাচ্ছেন।
    ঝালকাঠি জেলা এলএসডি মাহাজারুল আনোয়ার (সংরক্ষণ ও চলাচল) বলেন, নলছিটি খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার নামে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
    নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, মাপে বেশি নেওয়া কিংবা কোন আর্থিক সুবিধা নিয়ে ধান ক্রয় করার প্রমান পাওয়া গেলে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  • হোটেলে মিললো ২ বস্তা কনডম

    হোটেলে মিললো ২ বস্তা কনডম

    কুমিল্লা মহানগরীর শাসনগাছা এলাকায় ঈশিতা নামের একটি আবাসিক হোটেলে র‌্যাবের অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ২ বস্তা কনডম ও ৩৫০ পিচ ইয়াবা। অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৩ জনকে। জরিমানা করা হয় ১৩ পতিতাকে।

    মঙ্গলবার বিকেলে র‌্যাব-১১ সিপিসি-২ কুমিল্লার একটি টিম এ অভিযান চালায়। র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ সিপিসি-২ কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদারের নেতৃত্বে হোটেলটিতে অভিযান চালানো হয়।

    তিনি জানান, হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে খদ্দেরসহ ১০ পতিতাকে আটক করার পর জনপ্রতি ২০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়াও মাদক সেবন কেনাবেচা ও অসামজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে খদ্দের ও হোটেলের স্টাফসহ ১৩ জনকে ৩ মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    অপরদিকে আটক হোটেল ম্যানেজার মামুন (২৮) ও পলাতক হোটেল মালিক আ. রহিমকে আসামি করে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হবে বলেও র‌্যাব জানিয়েছে।

    রাতে র‌্যাবের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, নগরীর অন্যান্য আবাসিক হোটলেও অভিযোগ পেলে অভিযান চালানো হবে, অভিযানের পর ওই আবাসিক হোটেলটিকে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।

  • হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে শাস্তি

    হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে শাস্তি

    ফেনী জেনারেল হাসপাতালে (আধুনিক সদর হাসপাতাল) অভিযান চালিয়ে চার ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিকে জরিমানা ও দালাল চক্রের ৭ সদস্যকে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বুধবার সকালে ফেনী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরের জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে র‌্যাব সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করে।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত ফেনীর সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান ২৫০ শয্যার ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম ও শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দালালদের উৎপাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং সেবাগ্রহিতারা অতিষ্ঠ। এমন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার র‌্যাব-৭ এর সদস্যদের নিয়ে সরেজমিনে অভিযান চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরের জামান চৌধুরী। এ সময় ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম (৩২), আনোয়ার পারভেজ (২৮), ফারুক আহমেদ (৪০) ও আবু সালমানকে (২৫) এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

    একই অভিযানে ফেনী শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দালাল চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. ফিরোজ (৫০), মো. আফছার (৪২), মো. সুজন (২০), মো. নয়ন (৩৫), মো. শরীফ (৫০), টুটন মজুমদার (২৭) ও শাখাওয়াত হোসেনকে (১৮) ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    অভিযানে র‌্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার মো. জুনায়েদ জাহিদী, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আবু তাহের পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • বরিশালে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন দন্ড, ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্রের

    বরিশালে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন দন্ড, ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্রের

    কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন স্বশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

    আজ বুধবার দুপুরে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু শামীম আজাদ এ রায় প্রদান করেনন।

    ধর্ষণের ঘটনার পর জন্ম নেওয়া শিশুটিকে ধর্ষক আবু বক্কর সিদ্দিকের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন আদালত। একইসাথে শিশুটি সাবালক না হওয়া পর্যন্ত তার যাবতীয় ভরণপোষণ রাষ্ট্রকে বহন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের লামচড়ি গ্রামের শামসুল হক সিদ্দিকের ছেলে আবু বক্কর ২০০৫ সালের ১৩ মার্চ তার চাচাতো বোনকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়ে। কিন্তু আবু বক্কর ওই কিশোরীকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়।

    এতে কিশোরী বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শিশির পাল।

    দীর্ঘ ৩ বছর ধরে মামলা চলার পর ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে বিচারক বুধবার আসামি আবু বক্কর সিদ্দিককে দোষী সাব্যস্ত করে উল্লেখিত রায় প্রদান করেন।

    আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফজলুল হক ফয়েজ জানান, এটি একটি যুগান্তকারী রায়। কারণ ১৪ বছর আগের ধর্ষণের মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুটি সাবালক না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রকে তার ভরণপোষণের যাবতীয় খরচ বহন করার আদেশ দিয়েছেন বিচারক। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচার হয়েছে বলে আমরা মনে করি।

  • মাদক সমাজে কাউকে বড় করেছে এমন নজির নেই: বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার

    মাদক সমাজে কাউকে বড় করেছে এমন নজির নেই: বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার

    বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস বলেছেন, মাদক সমাজে কাউকে বড় করেছে এমন নজির নেই। বরংছ মাদকদ্রব্যের কারণে অনেক সুন্দর-সুখের জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে। আপনার চারপাশে তাকালে তা দেখতে পারেন। এমন করুণ পরিণতি আমরা কেউ প্রত্যাশা করি না। মাদকের পরিণতি দেখার পরও আমরা কেন গ্রহণ করে নিজেকে, সমাজকে ও দেশকে ধ্বংস করছি?

    ‘সু-স্বাস্থ্যেই সুবিচার-মাদক মুক্তির অঙ্গীকার’-এই শ্লোগানকে ধারণ করে বরিশালে পালিত হওয়া আর্ন্তজাতিক মাদক বিরোধী দিবসের প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

    রাম চন্দ্র দাস আরও বলেন, সরকার জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরোদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। সেই ঘোষণার বাইরে আমরাও না। সুতরাং সবাইকে এখনি সাবধান হতে হবে। অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে আসতে হবে।

    বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে নগরীতে দিবসটি পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল, মানববন্ধন, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাইকেল র‌্যালি এবং মাদক বিরোধী রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বুধবার (২৬) জুন সকাল ৯ টায় নগরীর ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।

    এরপর অশ্বিনী কুমার হলে জেলা প্রশাসন ও জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) রাম চন্দ্র দাস।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জাকারিয়া, রেঞ্জ ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ হাবিবুর রহমান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের বিভাগীয় প্রধান ও অতিরিক্ত পরিচালক এএম হাফিজুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধা বীর-প্রতিক মহিউদ্দিন মানিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল ঘোষ।

    পরে প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস মাদক বিরোধী দিবস উপলক্ষে নগরীতে সাইকেল র‌্যালির উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানে মাদক বিরোধী রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

  • আগৈলঝাড়ায় ইয়াবাসহ দুই ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    আগৈলঝাড়ায় ইয়াবাসহ দুই ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ৫১পিচ ইয়াবাসহ একাধিক মাদক মামলার আসামী আল আমিন বাবুর্চিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    অপরদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ওই গ্রাম থেকে জাহিদুল ইসলাম সিকদার নামে অপর এক ইয়াবা কারবারিকে গ্রেফতার করেছে।

    বুধবার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন জানান, ইয়াবা ট্যাবলেট কেনা-বেচার গোপন খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার গৈলা বাজারের মান্নান মার্কেটের সামনে থেকে ওই ইউনিয়নের মধ্যশিহিপাশা গ্রামের আলমগীর বাবুর্চির ছেলে আল আমিন বাবুর্চিকে এসআই মো. আলমগীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত আল আমিনের বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় আরও দু’টি মাদক মামলা রয়েছে।

    এ ঘটনায় এসআই মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

    অন্যদিকে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে গৈলার শিহিপাশা গ্রাম থেকে ওই গ্রামের মৃত আক্কাস আলী সিকদারের ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম সিকদার (৩৪) কে নিজের ঘর থেকে ১২পিচ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে।

    এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের পরিদর্শক শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন গ্রেফতারকৃতদের বরিশাল আদালতে প্রেরণ করা হয়।