Category: প্রশাসন

  • পটুয়াখালীতে ৬ দোকান আগুনে পুড়ে ছাই, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

    পটুয়াখালীতে ৬ দোকান আগুনে পুড়ে ছাই, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

    অনলাইন ডেস্ক:

    পটুয়াখালীর বাউফলে ৬টি দোনাকান ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে। এতে দের থেকে দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মিলঘর নামক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    এসময় আগুন নেভাতে গিয়ে স্থানীয় ৫ জন এলাকাবাসি কম-বেশি আহত হয়েছে। তাদের সবাইকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

    জানাগেছে, মিলঘর বাজার উজ্জল মোল্লা গ্যাস এর দোকান, ওয়ালটন ফ্রীজের গোডাউন, খাঁন মটরস, বাবু ওরফে রাসেল এর মা মেডিকেল হল, ডাঃ নবীনের চেম্বার সহ ছয়টি দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। ঘটনার সময় ৬টি দোকানই তালাবদ্ধ ছিল।

    ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, স্থানীয়রা দোকানের ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। তাদের ঘটনাস্থলে পৌছাবার আগেই গ্যাসের দোকান থেকে সূত্রপাত ঘটা আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে ঘন্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।

    ফায়ার সার্ভিসের দাবী বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্নয় করতে পারেনি তারা। অবশ্য ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের দাবী আগুনে তাদের প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
  • নজির গড়ছেন এসপি

    নজির গড়ছেন এসপি

    টাকা ছাড়া চাকরি পাওয়া যায় এ বিশ্বাস মানুষের মন থেকে অনেক আগেই উঠে গেছে। আর সেই চাকরি যদি হয় পুলিশে, তাহলে তো কল্পনাই করা যায় না। তবে চুয়াডাঙ্গায় এবার এ অকল্পনীয় কাজই হতে চলছে। বিনা টাকায় পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাচ্ছেন জেলার ১৮ তরুণ-তরুণী। তাদের বেশির ভাগই দরিদ্র পরিবারের।

    মাত্র ১০০ টাকায় পুলিশের চাকরি দিতে চেয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান। বলেছিলেন, ‘৩ টাকা মূল্যের একটি ফরম ও ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট করলেই মিলবে পুলিশের চাকরি। শিগগিরই চুয়াডাঙ্গায় তিনজন নারী ও ১৫ জন পুরুষ কনস্টেবল নিয়োগ দেয়া হবে। সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের চাকরি হবে। আমি দেখিয়ে দিতে চাই যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ বিভাগে চাকরি হয়।

    এ ব্যাপারে কেউ একটি পয়সাও নিতে পারবেন না। কারও তদবিরে কোনো কাজ হবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেয়া হবে।

    পুলিশ সুপারের কণ্ঠে এমন কথা শোনার পর অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন তিনি কথার কথা বলছেন। কিন্তু সেই কথার সঙ্গে কাজের হুবহু মিল রেখে রীতিমতো দৃষ্টান্তই স্থাপন করতে চলেছেন এসপি মাহবুবুর রহমান।

    Chuadanga-News-1-(2)

    চুয়াডাঙ্গায় গত ২২ জুন পুলিশ কনস্টেবল পদে প্রাথমিক বাছাইয়ে অংশ নেন প্রায় ১০ হাজার চাকরিপ্রত্যাশী। এর মধ্যে শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্যতা অর্জন করেন ২৮১ জন। এর মধ্যে ২৪৮ জন পুরুষ এবং ৩৩ জন নারী।

    গত ২৩ জুন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়াদের মধ্য থেকে ১২০ জন পুরুষ এবং ২৯ জন নারী উত্তীর্ণ হয়েছেন। মৌখিক ও মেডিকেল পরীক্ষার পর এদের মধ্যে থেকে চূড়ান্তভাবে ১৮ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

    স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আর্থিক বাণিজ্য ছাড়া নিয়োগ পাওয়ার আশা করছেন পরীক্ষার্থীসহ তাদের অভিভাবকরা। পুলিশ সুপারের এই স্বচ্ছ নিরপেক্ষ উদ্যোগ ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশংসা পাচ্ছে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ায় প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন এসপি মাহবুবুর রহমান।

    Chuadanga

    চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান বলেন, নিয়োগ কাজে সব কর্মকর্তা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। কোনো দালাল চক্রের উদ্ভব হতে দেয়া হয়নি। টাকার চেয়ে স্বচ্ছ কাজের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের হাসির মূল্য আমার কাছে অনেক বড়। তাই নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • গ্রাহক সেবার মান পরিবর্তনে ছয় মাস সময় চেয়েছে ওজোপাডিকো

    গ্রাহক সেবার মান পরিবর্তনে ছয় মাস সময় চেয়েছে ওজোপাডিকো

    প্রি-পেইড মিটারের নানা সুবিধা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছে ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ শফিক উদ্দিন।

    গতকাল সোমবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে প্রি-পেইড মিটারের নানা অনিয়মের বিষয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন তিনি।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রাহক সেবায় কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে। গ্রাহক সেবার মান পরিবর্তনে ছয় মাস সময় চেয়েছেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্যই পদ্মার এপারের একুশ জেলার গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে ওজোপাডিকো।

    কোম্পানির লক্ষ্য হচ্ছে সকলের জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানী সরবরাহ করা। এছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২৩ হাজার মেগাওয়াট, এক লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ ও পুনর্বাসন, ৪৮০টি উপকেন্দ্র নির্মাণ ও আধুনিকায়ন, নতুন ৭০ লাখ গ্রাহককে সংযোগ দেয়া, ৩০ হাজার গ্রাম বিদ্যুতায়ন করা, এক লাখ ৯০ হাজার ওভারলোড বিতরণ ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনসহ নানা কর্মসূচির কথাও জানান ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, ওজোপাডিকোর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার প্রি-পেইড মিটার বসানোর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৬৪টি বসানো হয়েছে।

    সম্প্রতি কয়েকটি স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে প্রি-পেইড মিটার সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত বিদ্যুতের মূল্যহার (ট্যারিফ রেট) ও চার্জ (ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট) মোতাবেক প্রি-পেইড মিটার হতে টাকা কর্তন করা হয়। যা পূর্বের পোস্ট পেইড/ডিজিটাল মিটারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল। এছাড়া অতিরিক্ত কোন চার্জ কর্তন করার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লে¬খ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) রতন কুমার দেবনাথ ও নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) হাসান আলী তালুকদারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপনের ফলে গ্রাহকরা যে সকল সুবিধাদি পাচ্ছেন তার বেশ কিছু বর্ণনা তুলে ধরে ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার শর্ট সার্কিট জনিত দুর্ঘটনা রোধ করে গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার নিরাপদ করে। স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারিং পদ্ধতিতে ভেন্ডিং স্টেশন এবং মোবাইল ভেন্ডিং এর মাধ্যমে বিল পরিশোধ সহজসাধ্য যা এনালগ/ডিজিটাল মিটার পদ্ধতির মিটার রিডিং সংক্রান্ত যাবতীয় ঝামেলা থেকে মুক্ত। ব্যবহারকারী পরিবারের বাজেট অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যায় বা যে কোন গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে পারে। মিটারে ব্যালান্স শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে মিটার হতে ১০০ টাকা অগ্রীম ব্যালান্স নেয়ার ব্যবস্থা থাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার কোন আশংকা নেই।

    সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার ও শনিবার) সরকারি ছুটির দিনে এবং অফিস সময়ের পরে (বিকেল ৪ থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত) মিটারে ব্যালান্স না থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না।

  • পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে কীভাবে লাইসেন্স ছাড়া এসব যান চলে?

    পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে কীভাবে লাইসেন্স ছাড়া এসব যান চলে?

    দেশের সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সহীন ড্রাইভারদের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে না পারায় বিআরটিএ’র প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট জিজ্ঞাসা করেন, লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গাড়ি চলছে। পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে কীভাবে লাইসেন্স ছাড়া এসব যান চলে? এভাবে চলে বলেই হয়তো মানুষ মারা যাচ্ছে। আমাদের একটা সিস্টেমের মধ্যে আসতেই হবে।

    বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার (২৪ জুন) যানবাহনের ফিটনেস ও চালকের লাইসেন্স-সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানিকালে এই মন্তব্য করেন।

    সারাদেশে রেজিস্ট্রেশনের পর ফিটনেস নবায়ন না করা যানের সংখ্যা ও লাইসেন্স নবায়ন না করা চালকের সংখ্যা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী এক মাসের মধ্যে বি আরটিএকে এই তথ্য প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন আদালত। একই সঙ্গে ফিটনেস নবায়ন না করা যান ও লাইসেন্স নবায়ন না করা চালকের ব্যাপারে বিআরটিএ আইনগত কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা ঐ সময়ের মধ্যে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

    এসময় বিআরটিএ’র পরিচালকের উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, অফিসে বসে বসে শুধু কি চা খাইলে হবে? দেশপ্রেম থাকতে হবে। বিআরটিএ কি করে? আমরা কেন ডাকবো, তাদের (বি আরটিএ) ডাকতে হবে কেন? তারা (বিদেশিরা) পারছে, আমরা পারছি না কেন? আমরা সোনার বাংলা গড়তে চাই। কিন্তু কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করছি না, একথাও যোগ করেন আদালত।

    ‘নো ফিটনেস ডকস, ইয়েট রানিং’ শিরোনামে গত ২৩ মার্চ ইংরেজি পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি নজরে এলে গত ২৭ মার্চ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ অর্ন্তবর্তীকালীন আদেশ দেন।

    আদালত বিআরটিএ’র পরিচালককে (রোড সেফটি) ২৪ জুন (আজ) আদালতে হাজির হতে বলেন। একই সঙ্গে লাইসেন্সবিহীন চালক ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন যানের সংখ্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ শুনানি হয়।

    আদালতে বিআরটিএ’র পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মঈন ফিরোজী। সঙ্গে ছিলেন রাফিউলইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিনুদ্দিন। দুদকের পক্ষে ছিলেন সৈয়দ মামুন মাহবুব।

  • বাউফলে পুলিশকে মারধর করে পিস্তল ও গুলি ছিনতাই, আটক ৮

    বাউফলে পুলিশকে মারধর করে পিস্তল ও গুলি ছিনতাই, আটক ৮

    জমি সংক্রান্ত বিরোধ থামাতে গিয়ে পটুয়াখালীর বাউফলে পুলিশ মারধরের শিকার এবং পুলিশের পিস্তল ও গুলি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্য কমপক্ষে ১৯ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

    আজ সোমবার সকালে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামে ওই ঘটনা ঘটেছে। প্রায় চার ঘন্টা পর দুপুর একটার দিকে ছিনতাই হওয়া ওই পিস্তল ও দশ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আটজনকে আটক করা হয়েছে।

    আহত তিন পুলিশ হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাঈনুদ্দিন, পুলিশ সদস্য (কনষ্টেবল) লক্ষন সেন ও ইমরান হোসেন। তাঁদের তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং চারজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বড় ডালিমা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার সঙ্গে একই বাড়ির আবদুল খালেক হাওলাদাদের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। গতকাল সকালে আবদুল খালেক ও তাঁর লোকজন ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষাবাদ করার জন্য যান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

    সিরাজ হাওলাদারের পক্ষ থানায় অভিযোগ দিলে সহিংসতা থামাতে পুলিশের এএসআই মাঈনুদ্দিনের নেতৃত্বে সোয়া নয়টার দিকে তিন সদস্যের পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

    ওই সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায় এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে এক নারী অতর্কিত পুলিশের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয় এবং পুলিশের এএসআই মাঈনুদ্দিনকে মারধর করে তাঁর সঙ্গে থাকা পিস্তল ও ১০ রাউন্ড গুলি ফিরোজ হাওলাদার (৩০) নামে এক যুবক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

    খবর পেয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহত ওই তিন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।পরবর্তীতে দুপুর একটার দিকে ফিরোজের বাড়ির একটি নারিকেল গাছ থেকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করে।বিকেল তিনটা পর্যন্ত এ ঘটনায় আটজনকে আটক করা হয়েছে।

    ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    আহত তিন পুলিশ সদস্য ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে মো. আলম (৪০), সিরাজুল ইসলাম (৬৩), আবু বক্কর (২৮), অলিউল্লাহ (১৪) ও আরিফুর রহমানকে (১৮) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মো. ইলিয়াছ (২৭), মোসা. নাজমা বেগম(২৬), মোসা. মাকসুদা (৩৫), মো. শহিদুলকে (১৮) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    বাউফল থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,‘পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনকে আটক করা হয়েছে।আর অস্ত্র ও গুলি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা রুজুর প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

  • বরগুনায় চিকিৎসকে মারধর: মৃতের স্বজনদের বিচার চাইলেন বরিশালের চিকিৎসকরা

    বরগুনায় চিকিৎসকে মারধর: মৃতের স্বজনদের বিচার চাইলেন বরিশালের চিকিৎসকরা

    বরগুনা সদর হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক ডা: মশিউর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে চিকিৎসকরা।

    আজ সোমবার বেলা ১১ টায় বরিশাল জেলা বিএমএ ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের সর্বস্তরের চিকিৎসকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি ডাঃ মোঃ ইসতিয়াক হোসেন।

    মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় ডা: মশিউর রহমানের ওপর হামলাকারীদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি করেন বক্তারা।

    তারা বলেন, চিকিৎসকদের এখন নিরাপত্তা নেই। কারণে-অকারণে তার হামলার শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসকদের যদি সমাজ সম্মান দিতে না পারে তাহলে এ দেশে ভালো চিকিৎসা সম্ভব নয়। বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যখাতের যে অর্জন সেটা দেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আর এসব কিছুই এসেছে চিকিৎসক আর স্বাস্থ্যকর্মীদের হাত ধরে। তাই চিকিৎসকদের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া প্রয়োজন।

    বক্তব্য রাখেন, বিএমএ বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ মনিরুজ্জামান, শেবাচিম হাসপাতালের আউটডোর ডক্টরস্ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডাঃ সৈরভ সুতার, সাধারণ সম্পাদক নূরুন্নবি তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ মোস্তফা কামাল, ডাঃ শিরিন সাবিহা তন্নি, ডাঃ বিপ্লব কুমার প্রমুখ।

    উল্লেখ্য, ১৯ জুন (বুধবার) রাতে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে আব্দুল্লাহ (১৪) নামের এক রোগী ভর্তি হয়। সে বরগুনা জেলা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    বমির পাশাপাশি আব্দুল্লাহর রক্তচাপ আকস্মিকভাবে কমে আসায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান।

    অসুস্থ আব্দুল্লাহকে বরিশাল না নিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে অবস্থান করায় রাত ১২টার দিকে আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়।

    এর পরপরই রোগীর স্বজনরা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমানের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় লাঞ্ছিত চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান বাদী হয়ে গত ২১ জুন মৃত আব্দুল্লাহর বড় ভাই সাইফুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরো চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করলে ১ জনকে আটক করে পুলিশ।

  • বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে হত্যার হুমকি

    বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে হত্যার হুমকি

    বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) রাজিব আহমেদকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ‘আল্লাহর হক বান্দাগন’ নামে একটি কথিত মৌলবাদি সংগঠন স্থানীয় একটি পত্রিকা অফিসে চিঠি পাঠিয়ে এই হুমকি দেয়।

    সোমবার দুপুর নাগাদ হুমকিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই খবর পান।

    হুমকিদাতা চিঠিতে উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে রাজিব আহমেদ ভালো কাজ করছেন না। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে রাজিব আহমেদের লাশ গুম হবে। তার পরিণতি হবে ঝালকাঠির দুই নিহত জজের মতো। শব্দ কম হবে এবং লাশ ছাই হবে। শব্দ কম হওয়া ও লাশ ছাই হওয়া তাদের নতুন আবিস্কার এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।

    সোমবার সরকারি ডাকযোগে বরিশালের আঞ্চলিক দৈনিক আজকের পরিবর্তন সম্পাদক বরাবর ওই চিঠি আসে। চিঠির প্রেরক হিসেবে জনৈক আনিছুর রহমান এবং ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে বরিশাল জজকোর্ট। ৮জনকে চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।

    এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম।

  • মাদ্রাসা ছাত্রীকে গণধর্ষণ, আটক ২

    মাদ্রাসা ছাত্রীকে গণধর্ষণ, আটক ২

    টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে।

    গত শুক্রবার (২১ জুন) উপজেলার দশআনি বকশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আলমগীর হোসেন (৩৫) ও আ. হামিদ ওরফে আলপিন (৪০) নামে দুইজনকে আটক করেছে।

    এ ঘটনায় আজ (২৪ জুন) ছাত্রীটির মা বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় গণধর্ষণের মামলা করেছেন।

    মামলার বিবরণ ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, মোবাইলে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে গত ২১ জুন ছাত্রীটি রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে গোপালপুর উপজেলার বড়শিলা গ্রামের শাওনের সাথে দেখা করতে বাড়ি থেকে বের হয়। ছাত্রটি বাড়ি থেকে বের হয়ে হোসেন আলীর বাড়ির পাশের ইটের সলিং এর রাস্তায় পৌঁছালে দশআনি বকশিয়া গ্রামের সোহরাব তালুকদারের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৫) ও আমির আলীর ছেলে আ. হামিদ ওরফে আলপিন (৪০) ছাত্রীটিকে শাওনের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ব্যাটারি চালিত ভ্যান গাড়িতে উঠায়।

    পরে তারা ছাত্রীটিকে কৌশলে একই গ্রামের হোসেন আলীর বসতভিটার ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে তারা দুজনেই ছাত্রীটির মুখ বেধে ভ্যান গাড়িতে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

    ছাত্রীটির মা জানায়, ধর্ষণের কারণে তার মেয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম প্রাপ্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে আলমগীর ও আলপিন তাকে রেখে পালিয়ে যায়। পরে সে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি জানায়। পরে গ্রামবাসী বিষয়টির মিমাংসার উদ্যোগ নেয়।

    বিষয়টি মিমাংসা না হওয়ায় আজ সোমবার তিনি বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় গণধর্ষর্ণের মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন (৩৫) ও আলপিনকে (৪০) গ্রেফতার করে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করেছে।

    ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত গ্রেফতারকৃত দুই ধর্ষককে সাত দিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • ওসি মোয়াজ্জেমকে কারাগারে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ

    ওসি মোয়াজ্জেমকে কারাগারে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ

    ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল।

    সোমবার এ আদেশ দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন।

    সোনাগাজী মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির যৌন হয়রানির অভিযোগ ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের হয়েছিল।

    সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন বাদী হয়ে গত ১৫ এপ্রিল মামলাটি দায়ের করেন। শুনানি করে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

    আসামি মোয়াজ্জেমের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফারুক আহমেদ।

    শুনানিতে আসামিপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, আসামি মোয়াজ্জেম একজন নবম গ্রেডের কর্মকর্তা। তিনি এখনো চাকরিরত। ২০১২ সালের ৩০ জুলাইয়ে প্রকাশিত গ্যাজেট অনুসারে তিনি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা ও নাগরিক। তাই মোয়াজ্জেম হোসেন কারাগারে প্রথম শ্রেণির কয়েদি মর্যাদার সব সুবিধা পেতে পারেন।

    আসামিপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম বিভিন্ন স্থানে কর্মরত থাকাকালে অনেক সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করেছেন। তাদের অনেকের সাজা-ফাঁসিও হয়েছে। অনেকেই কারাগারে আছেন। এজন্য তিনি সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে থাকলে তার জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। এমতাবস্থায় মোয়াজ্জেম হোসেনের প্রথম শ্রেণির ডিভিশনের প্রার্থনা করেন তিনি।

    অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম (শামীম) আসামির ডিভিশনের বিষয়ে বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, আসামিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাই আসামির ডিভিশনের বিরোধিতা করছি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ওই আদেশ দেন।

    এর আগে গত ২০ জুন সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের জন্য কারাগারে ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী ফারুক আহমেদ। এ আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২৪ জুন দিন ধার্য করেছিলেন বিচারক।

    আদালত সূত্র জানায়, গত ১৭ জুন মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এর আগে ১৬ জুন হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার হন তিনি।

    প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা তার অফিসকক্ষে ডেকে নিয়ে মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি করেন।

    রাফি এর প্রতিবাদ করেন এবং এ বিষয়ে রাফির মা শিরীন আক্তার মামলা করলে পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠান।

    ওই মামলা প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছিল নুসরাত ও তার পরিবারকে। কিন্তু মামলা তুলে না নেয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে রাফির গায়ে আগুন দেয় বোরকা পরা কয়েকজন। আগুনে শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া রাফি ১০ এপ্রিল রাতে হাসপাতালে মারা যান।

    রাফির গায়ে আগুন দেয়ার পর ৮ এপ্রিল তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান অধ্যক্ষ সিরাজকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। রাফির মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

    হত্যাকাণ্ডের দিন দশেক আগে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান নুসরাত। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সেই সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

    ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে আদালতের নির্দেশে সেটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

    গত ৮ মে মোয়াজ্জেমকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি রংপুর রেঞ্জ অফিসে যোগ দেন। গত ক’দিন থেকে তার গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে ফেনী ও রংপুর পুলিশের ঠেলাঠেলি চলছিল। ঈদের আগে সেখান থেকে নিরুদ্দেশ হন ওসি মোয়াজ্জেম।

    পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওই দিনই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাটি জারি করেন।

    পরোয়ানা জারির দুদিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার।

    ১৬ জুন রোববার উচ্চ আদালতে জামিন নিতে এসে শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন মোয়াজ্জেম।

  • জামিনে মুক্ত জঙ্গিরা নিবিড় নজরদারিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জামিনে মুক্ত জঙ্গিরা নিবিড় নজরদারিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত, সাজাপ্রাপ্ত ও আটক জঙ্গিদের নিবিড় নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    সোমবার জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশালাইজড ফোর্স গঠনের পাশাপাশি উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, অপারেশনাল ও লজিস্টিকস সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বল্পসময়ের মধ্যে জঙ্গি আস্তানা, জঙ্গিদের অবস্থান শনাক্তপূর্বক গ্রেফতার কার্যক্রম চলমান। জঙ্গিসংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত/শনাক্তকরণের সুবিধার্থে এলাকাভিত্তিক ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং বিডি পুলিশ হেল্পলাইন, হ্যালো সিটি ও রিপোর্ট টু র‌্যাব এর অনলাইন অ্যাপস চালু এবং গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, জঙ্গি দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক এ যাবত অনেকগুলো সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের জঙ্গি-সংক্রান্ত বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা সদা তৎপর রয়েছে, পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জঙ্গিদের গ্রেফতারপূর্বক বিচারের জন্য আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রম অব্যাহত আছে। জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ দমনের সফলতা বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

    বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. মুজিবুল হকের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ২০১৮ সালে এক লাখ ৬১ হাজার ৩২৩ জন মাদক কারবারির বিরুদ্ধে এক লাখ ১৯ হাজার ৮৭৮টি মামলা করেছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি-মে পর্যন্ত ছয় হাজার ৬৭১ জন মাদক কারবারির বিরুদ্ধে ছয় হাজার ১৫৬টি মামলা করা হয়েছে।