Category: প্রশাসন

  • পুলিশের চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন, দুই প্রতারক আটক

    পুলিশের চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন, দুই প্রতারক আটক

    ঝিনাইদহে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার আগ মুহূর্তে দুই প্রতারককে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

    বুধবার দুপুর ১টার দিকে ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনস গেট থেকে তাদের আটক করা হয়।

    আটকরা হলেন, খুলনা জেলার দিঘোলিয়া সেনহাটি এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে মনিরুল ইসলাম (৩৫) ও একই এলাকার আব্দুল করিমুল্লার ছেলে কবির হোসেন (৩৮)।

    ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, জেলায় আজ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে শারীরিক পরীক্ষা চলছিল। এসময় কয়েকজন প্রতারক চাকরি প্রত্যাশীদের চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থের প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল পুলিশ লাইনসের সামনে থেকে মনিরুল ইসলাম ও কবির হোসেনকে আটক করে। পরে তাদের ঝিনাইদহ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

    তবে কী পরিমাণ টাকা দাবি করেছিল প্রতারক চক্র তা জানাতে পারেননি পুলিশ।
  • বরিশালে ১০০ টাকায় পুলিশে চাকরী

    বরিশালে ১০০ টাকায় পুলিশে চাকরী

    বরিশাল জেলা পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকার নির্ধারিত ১ শত টাকা চালান ফি’র অতিরিক্ত কোন অর্থ ব্যয় না করার পরামর্শ দিয়েছেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম-বিপিএম।

    সোমবার (২৪ জুন) দুপুরে বরিশাল পুলিশ লাইন্স এর ইন সার্ভিস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    সাইফুল ইসলাম বলেন ১ শত টাকার বাহিরে স্ট্যাম্পের জন্য আরো যে ৩ টাকা প্রয়োজন তাও কাউকে দিতে হবে না। কারণ খুচরো এ টাকা কারো কাছে না থাকলে ৫ বা ১০ টাকা দিতে হতে পারে। তাই ওই তিন টাকা সকল আবেদনকারীর হয়ে আমি দিয়ে দিবো।

    তিনি বলেন, বরিশাল জেলায় গতবারের ঘাটতি ৮ টিসহ এবারে ৪৫ পদে কনস্টেবল রিক্রুট করা হবে। যারমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা নারীসহ সকল কোঠাই রয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, আর্থিক বা অন্য কোন অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে কনস্টেবল নিয়োগের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সবসময়। কতিপয় ব্যক্তি নিজেরে স্বার্থ হাসিলের জন্য মানুষের কাছ থেকে চাকুরি দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। গতবার তিনজনকে আমরা গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনেছি। এবারেও এরকম কোন তথ্য থাকলে আমাদের দিয়ে সহায়তা করবেন সকলে, এটা আমাদের প্রত্যাশা।

    যে গরীব ছেলে বা মেয়েটা টাকা নিয়ে চাকুরির পেছনে ছুটছেন। তাকে হয়তো বাবার জমি, নয়তো মা বোনের স্বর্ণ বেচা টাকা নিয়ে আসতে হচ্ছে। একটি চাকুরির জন্য কেউ নিঃস্ব হোক সেটা আমরা চাইনা। কোন প্রকার প্রতারক, টাউট, দালাল চক্র অথবা অসাধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে কোন প্রকার লেনদেন না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। তিনি বলেন আগামী ১ জুলাই সকাল ৮ টায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বরিশাল জেলা পুলিশ লাইনস মাঠে উপস্থিত থাকবেন প্রার্থীরা।

    ব্যাগ ও মোবাইল ফোন নিয়ে কোন প্রার্থী মাঠে প্রবেশ করবেন না।

    আর প্রত্যারণা বা আর্থিক লেনদেনের তথ্য থাকলে আমার মোবাইল নম্বর ০১৭১৩৩৭৪২৬০, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ০১৭১৩৩৭৪২৬১ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ০১৭৬৯৬৯০২৬৯ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা গেলো।

  • বরিশাল জেলা প্রশাসন এর আয়োজনে ইয়ুথ এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

    বরিশাল জেলা প্রশাসন এর আয়োজনে ইয়ুথ এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

    স্টাফ রিপোর্টার// শাওন অরন্য:

    বরিশাল সার্কিট হাউজে বরিশাল জেলা প্রশাসন এর আয়োজনে ইয়ুথ এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম অনুস্ঠিত হয়।

    আজ ২৫ জুন মঙ্গলবার বরিশাল সার্কিট হাউজে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইয়ুথ এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম অনুস্ঠিত হয়।

    উক্ত প্রোগ্রামের সভাপতিত্ব করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শহীদুল ইসলাম।

    প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, রাম চন্দ্র দাস।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার বরিশাল, মোঃ সাইফুল ইসলাম বিপিএম (বার) এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান, রাহাত হোসেন ফয়সাল।

    ব্যালুন উরিয়ে ইয়ুথ এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম এর উদ্ভোধন করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস। প্রোগ্রামটি তিন পর্বে সাজানো হয়। উদ্ভোধনি পর্ব, মূল পর্ব, সমাপনী পর্ব।

    পবিত্র কোর আন তিলওয়াত এর মাধ্যমে উদ্ভোধনি পর্বের শুরু করা হয়। এরপর হয় গীতা পাঠ।

    অনুস্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) প্রশান্ত কুমার দাস।

    উক্ত অনুস্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ দাস,পুলিশ সুপার বরিশাল, মোঃ সাইফুল ইসলাম বিপিএম (বার)। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান, রাহাত হোসেন ফয়সাল।

    ইয়ুথ এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম এ অংশ গ্রহন করেন, ইয়ুথ চেঞ্জ মেকার বরিশাল, এসএনডিসি বরিশাল, শী পাওয়ার বরিশাল, বরিশাল ইয়ুথ সোসাইটি, বরিশালে বিশ্ববিদ্যালয় সহ আরো অনেকে।

    অনুস্ঠানের মূল পর্বে মুক্ত আলোচনা করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন মাসুদ রানা, বিশিষ্ট ফ্রিল্যান্সার। তিনি বলেন বাংলাদেশ সরকারের উচিত ফ্রিল্যান্সার দের আরো প্রচার প্রসার করা।

    ইয়ুথ চেইঞ্জ মেকার এর টিম লিডার জান্নাতুল ফেরদাউস রুমা বলেন, ইয়ুথ এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম বরিশাল জেলা প্রশাসনের একটি চমৎকার উদ্যোগ। এই উদ্যোগের ফলে বরিশালের ইয়ুথরা আরো অনেক বেশি জানতে ও শিখতে পারবে।

    এসএনডিসি বরিশালের সভাপতি তানজিল ইসলাম শুভ বলেন, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং একটা নতুন আইডিয়া, এই আইডিয়া কাজে লাগিয়ে ইয়ুথরা নিজেদের ভাল ভাবে গড়তে পারবে।

    এরপরে সমাপনী পর্বে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ জি কবির ভুলু। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পঠভুমি নিয়ে কথা বলেন।সমাপনী বক্তব্য রাখেন আজকের প্রোগ্রামের সভাপতি বরিশালের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শহীদুল ইসলাম।অনুস্ঠানের শেষ পর্যায় প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, সভাপতি পতিকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়।অনুস্ঠানটি সকাল ১০ টায় শুরু হয়ে দুপুর ২টায় শেষ হয়।

  • রাজশাহীতে জঙ্গিবাদ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা চাইলেন র‌্যাবের নতুন সিও

    রাজশাহীতে জঙ্গিবাদ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা চাইলেন র‌্যাবের নতুন সিও

    রাজশাহী অঞ্চলে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন র‌্যাব-৫ এর নব নিযুক্ত অধিনায়ক পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহ্ফুজুর রহমান।

    মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর র‌্যাব সদর দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।

    র‌্যাব-৫’র অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান বলেন, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলা নিয়ে র‌্যাব-৫ গঠিত। এসব জেলার বেশিরভাগই সীমান্ত সংলগ্ন। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত সংলগ্ন শিবগঞ্জ ও নাচোল এলাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য প্রবেশ করে। এরই মধ্যে বিষয়টি র‌্যাবের নজরদারিতে আনা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে শিগগিরই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান মাহ্ফুজুর রহমান।

    এ সময় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়ে র‌্যাব-৫ অধিনায়ক বলেন, মাদকের সঙ্গে যদি কোনো র‌্যাব সদস্য জড়িত থাকেন আর তার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এর আগে সাংবাদিকদের কাছ থেকে মহানগর ও জেলার সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন র‌্যাব-৫ অধিনায়ক। পরে তার রাজশাহীতে যোগদানের পর থেকে চলমান বিশেষ অভিযানের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, যোগদানের পর গত ১২ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত রাজশাহীতে র‌্যাবের আভিযানে ১ কোটি ৮১ লাখ ৯৫ হাজার ১২০ টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    র‌্যাব-৫ রাজশাহীর ১৩তম অধিনায়ক হিসেবে ১২ জুন যোগদান করেন মাহফুজুর রহমান। মাহ্ফুজুর রহমান ১৮তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ২৫ জানুয়ারি ১৯৯৯ তারিখে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন।

    মাহ্ফুজুর রহমান বান্দরবান জেলা, এপিবিএন ঢাকা, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, মুন্সিগঞ্জ জেলা ও টাঙ্গাইল জেলাসহ পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সে এআইজি (এনসিবি-ইন্টারপোল), এআইজি (ক্রাইম-৩) পদেও দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ পুলিশে বিশেষ অবদান রাখায় ২০১৩ সালে তিনি বিপিএম-সেবা পদকে ভূষিত হন।

  • ডিআইজি মিজানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

    ডিআইজি মিজানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

    পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানসহ চার জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২৪ জুলাই দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    আজ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন।

    এরআগে সোমবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ দুদকের পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ চারজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।

    মামলায় উল্লেখ করা হয়, পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানসহ চারজনের সাড়ে ৪ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ রয়েছে।

    এর মধ্যে সোয়া তিন কোটি টাকার সম্পদই অবৈধ। মামলায় ডিআইজি মিজান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না (৫০), ছোটভাই মাহবুবুর রহমান (৫০) ও ভাগনে পুলিশের কোতোয়ালি থানার এসআই মাহমুদুল হাসান (২৯)। দুদকের সংশোধিত বিধিতে নিজস্ব দপ্তরে করা এটাই প্রথম মামলা।

    এর আগে সকল মামলা থানায় করত দুদক। দুদক আইন ২০০৪ ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনসহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলাটি করেছে দুদক।

    মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মিজানের নামে ও বেনামে অর্জিত ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪৪৩ টাকার সম্পদ রয়েছে। এরমধ্যে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার ৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। যার মধ্যে ৩ কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার ৪২১ টাকার হিসাব গোপন করেছেন।

    এরআগে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশের কারণে ২০১৮ সালের ১ আগস্ট তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। এতে তিনি ১ কোটি ১০ লাখ ৪২ হাজার ২৬০ টাকার স্থাবর ও ৪৬ লাখ ২৬ হাজার ৭৫২ টাকার অস্থাবর সম্পদ প্রদর্শন করেন। দুদকের তদন্তে পাওয়া যায়, মিজান তার ভাগনে মাহমুদুল হাসানের নামে ২৪ লাখ টাকা দিয়ে গুলশানের পুলিশ প্লাজায় কনকর্ডে ২২১ বর্গফুট আয়তনের দোকান বরাদ্দ নেন। মিজানুর রহমান নিজে নমিনি হয়ে তার ভাগনে মাহমুদুল হাসানের নামে ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর ওয়ান ব্যাংক কাওরান বাজার শাখায় ৩০ লাখ টাকা এফডিআর করেন।

    দুদকে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর পর এফডিআরটি সুদে আসলে ৩৮ লাখ ৮৮ হাজার ৫৭ টাকা তুলে নেন। যা তিনি আয়কর বিবরণীতে দেখাননি। ডিআইজি মিজান তার ভাই মাহবুবুর রহমানের নামে ১ বেইলি রোডে ৬৫ লাখ টাকায় ২৪০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট কেনেন। ফ্ল্যাটে মিজান নিজেই থাকেন। মিজানুর রহমান তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্নার নামে কাকরাইলের ৬৩/১, পাওনিয়ার রোডে সামাদ ট্রেড সেন্টারে ১৭৭৬ বর্গফুটের বাণিজ্যিক ফ্ল্যাট কেনেন।

    যা নগদে এক কোটি ৭৭ লাখ টাকা নির্মাণ কোম্পানিকে পরিশোধ করেন। ২০১৬ সালের ১৬ জুন ফ্ল্যাটটি তার ভাগনে মাহমুদুল হাসানের নামে দলিল রেজিস্ট্রি করেন। রেকর্ডপত্রে মিজানুর অর্থের জোগানদাতা হলেও সম্পদ বিবরণীতে ঐ টাকার হিসাব গোপন করছেন। মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আসামিদের এসব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা আছে।

  • সাংবাদিককে এসআই বললেন, ভাই সব কথা তো ফোনে বলা যায় না

    সাংবাদিককে এসআই বললেন, ভাই সব কথা তো ফোনে বলা যায় না

    অনলাইন ডেস্ক:

    মাদক কারবারি রাসেল দর্জি (৩৬) ও মাদক বাহক কাউছারকে (২৭) আটকের একদিন পর আর্থিক সুবিধা নিয়ে মাদক কারবারিকে ছেড়ে দেয়া হলেও মাদক বাহককে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে।

    অন্যদিকে উদ্ধারকৃত ইয়াবার হিসাবেও রয়েছে গড়মিল। আর এই ঘটনার সঙ্গে এক গ্রাম পুলিশের (চৌকিদার) সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন কাউছারের বাবা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাবা আয়েছ আলী।

    জানা গেছে, গত ২০ জুন দিবাগত রাতে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড ছৈলাদি গ্রামে উপজেলার কাপাইশ গ্রামের মোন্তাজ উদ্দিন দর্জির ছেলে মাদক কারবারি রাসেল দর্জিকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন ছৈলাদি গ্রামের তমিজ শেখের ছেলে গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) বোরহান শেখ। ওই সময় তার সঙ্গী ছিল উপজেলা মোক্তারপুর ইউনিয়নের পোটান (দক্ষিণ পাড়া) গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক আয়েছ আলীর রিকশাচালক ছেলে কাউছার।

    এ সময় মাদক কারবারি চৌকিদার বোরহানকে আর্থিক সুবিধা দেয়ার কথা বললে ইয়াবা রেখে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরদিন (২১ জুন) বিকাশে বোরহানের জন্য টাকা পাঠানো হয়। এরইমধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান ফারুক মাস্টার থানায় জানান।

    পরে ঘটনাস্থলে যান এসআই আব্দুর রহমান। সঙ্গীয় ফোর্সসহ গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) বোরহানকে নিয়ে পুনরায় অভিযান চালান।

    এ সময় মাদক কারবারি রাসেল ও রিকশাচালক কাউছারকে আটক করে থানার লকআপে রাখা হয়। কিন্তু ২২ জুন ওই এসআই বাদী হয়ে থানায় ৪৪ পিস ইয়াবা দেখিয়ে একটি মাদক (নং ২৩) মামলা দায়ের করেন। আর তাতে আসামি করা হয় রিকশাচালক কাউছারকে।

    এ ব্যাপারে চৌকিদার বোরহানের মুঠোফোনে কল করলে তিনি ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটকের বিষয়টি স্বীকার করলেও মাদক কারবারির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেয়ার কথা অস্বীকার করে ফোনের লাইন কেটে দেন ও ফোন বন্ধ করে দেন।

    এ ব্যাপারে থানায় গিয়ে এসআই আব্দুর রহমানকে না পেয়ে তার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি দু’জনকেই আটকের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে সঙ্গে ইয়াবা না পাওয়ায় ওসির নির্দেশে রাসেলকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং কাউছারকে নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান। আর ৫০ পিস ইয়াবার মধ্যে ৬ পিস ভেঙে যাওয়ায় মামলায় ৪৪ পিস উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

    তবে আর্থিক সুবিধায় মাদক কারবারিকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ভাই সব কথা তো ফোনে বলা যায় না। সন্ধ্যায় থানায় আসেন পরে কথা হবে।

    কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মো. আবুবকর মিয়া জানান, মাদক কারবারি রাসেলের বিষয়টি তার জানা নেই। কাউছারকে ইয়াবাসহ আটক করায় তাকে মামলা দিয়ে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • নেশা করতে বাধা দেয়ায় শিক্ষককে পেটাল স্কুলছাত্র

    নেশা করতে বাধা দেয়ায় শিক্ষককে পেটাল স্কুলছাত্র

    অনলাইন ডেস্ক:

    নেশা করতে বাধা দেয়ায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশের রঘুনিলী মঙ্গলবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক আইয়ূব আলীকে (২৮) মারধর করে আহত করেছে ওই বিদ্যালয়েরই অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির হোসেন ও তার স্বজনরা।

    মঙ্গলবার সকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

    সাব্বির উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বিপাচান গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

    এদিকে সবার সামনে শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

    তারা অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করেছেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরীক্ষায় অংশ নেন তারা।

    শিক্ষক আইয়ূব আলী অভিযোগ করে বলেন, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির কখনও শ্রেণিকক্ষে বসে আবার কখনও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ড্যান্ডি নেশা করে আসছিল বলে শ্রী শিবনাথ নামে এক ছাত্র আমার কাছে অভিযোগ করে।

    তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার সাব্বিরকে বিদ্যালয়ে ডেকে এনে শাসন করার সময় সে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় তাকে একটা থাপ্পর মারা হয়।

    তিনি জানান, এ কারণে সাব্বির, তার ভাই রাব্বি, চাচা আলাউদ্দিন ও রাব্বির বন্ধু কামরুল মঙ্গলবার সকালে আমাকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় উলিপুর বিপাচান ব্রিজ এলাকায় পথরোধ করে মারধর করে। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে সাব্বির ও তার স্বজনরা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আবারও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের সামনে আমাকে স্টিলের স্কেল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

    শিক্ষার্থী শিবনাথ, আছিফ হোসেন, রাজু ইসলাম, ইব্রাহীম হোসেন, রাবেয়া খাতুন, মরিয়ম খাতুনসহ অনেকেই জানায়, বিদ্যালয় চলাকালীন ক্যাম্পাসে ঢুকে সাব্বির ও তার স্বজনরা তাদের গণিত বিভাগের বিএসসি শিক্ষককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে। পরে তাদের প্রতিবাদের মুখে সাব্বির ও তার স্বজনরা পালিয়ে যায়।

    তাড়াশ উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরহাদ হোসেন জানান, আহত শিক্ষককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

    রঘুনিলী মঙ্গলবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউজ্জামান নান্নু বলেন, আমি লাইব্রেরিতে বসে কাজ করছিলাম। এ সময় হঠাৎ বাইরে বিশৃঙ্খলা দেখে পুলিশে খবর দেই। খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

    তাড়াশ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন।

    এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির হোসেন বলেন, একজন শিক্ষককে মারধর করার ঘটনা অনভিপ্রেত। তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ঝালকাঠিতে দুই ফার্মেসিকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা

    ঝালকাঠিতে দুই ফার্মেসিকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা

    ঝালকাঠিতে ইউনানি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং ভেটেরিনারি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে শহরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালানো হয়।

    এসময় অশ্লীল বিজ্ঞাপন দেয়া, চিকিৎসক না থাকা এবং সব রোগের চিকিৎসার নামে প্রতারণার দায়ে ওয়ামিন হারবাল ও দিল্লী ইউনানিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এছাড়া অনুমোদনহীন বিদেশি ওষুধ বিক্রি এবং প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ও লাইসেন্সে অমিল থাকায় ভেটেরিনারি ওষুধের দোকান মুনা মেডিসিনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ঝালকাঠি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং বরিশাল ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

  • ঘুষ লাগবে না, পুলিশে যোগ দিন: মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করছে পুলিশ

    ঘুষ লাগবে না, পুলিশে যোগ দিন: মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করছে পুলিশ

    আপনিও পুলিশের গর্বিত সদস্য হোন। তদবির কিংবা ধান্ধাবাজদের খপ্পরে পড়ে নিজের ও পরিবারের ক্ষতি করবেন না। কারণ পুলিশের চাকরি পেতে কক্সবাজার জেলায় কোনো ঘুষ লাগে না। জমি কিংবা বাড়ি বিক্রি করতে হয় না। মাত্র ১০৩ টাকায় বিনা ঘুষে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাওয়া যাবে।

    ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট এবং ৩ টাকার ফরম কিনলেই পুলিশের চাকরি হবে।

    এসব তথ্য দিয়ে কক্সবাজারজুড়ে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।

    রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে পুলিশে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    জানা যায়, আগে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের সময় রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন প্রভাবশালীর কাছে তদবির নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন চাকরিরপ্রত্যাশী পরিবারের লোকজন। এমনকি গরু, ছাগল, জমি ও শেষ সম্বল বসতভিটে বিক্রি করে চাকরি নামের সোনার হরিণ ধরতে ঘুষের টাকা জোগাড় করতেন।

    এরপরও অনিশ্চয়তা কাটতো না চাকরি আগ্রহী পরিবারের মাঝে। এমন পরিস্থিতি কক্সবাজারবাসীকে বারবার মোকাবিলা করতে হয়েছে। কিন্তু এ বছর পুলিশ কনস্টেবল পদে ১০৩ টাকায় গর্বিত সদস্য হওয়ার আহ্বানে জেলা পুলিশের মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ কেন্দ্র করে জেলাবাসীর মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

    পাশাপাশি অনেক অসহায় ও গরিব পরিবারের যোগ্য সন্তানরা এবার পুলিশ নিয়োগের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    কক্সবাজার শহরের পেশকারপাড়ার ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, জীবনে প্রথমবার দেখলাম এবং শুনলাম পুলিশের চাকরির জন্য ঘুষ দিতে হবে না। তাও আবার মাইকিং করে বলা হচ্ছে। যদি প্রচারণার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকে, তা হলে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। কারণ যোগ্যতা থাকলে অসহায় ও গরিব অভিভাবকরাও বলতে পারবে আমার ছেলে কিংবা মেয়ে পুলিশ। এই সততার দৃষ্টান্ত দেখানোর জন্য পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ।

    কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, আগামী ২৬ জুন কক্সবাজার পুলিশ লাইন মাঠে কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগ দেয়া হবে। এবারে সব মিলিয়ে কক্সবাজার থেকে ৩৮৬ জন বাংলাদেশ পুলিশে স্থান পাবে। কিন্তু অভিযোগ আছে নিয়োগের সময় অনেকেই প্রতারণার শিকার হন। তাই মাইকিং করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, পুলিশের চাকরির জন্য শেষ সম্বল হাতছাড়া করেন অনেক পরিবার। কিন্তু এসবের আশ্রয় নিলে উল্টো চাকরি হবে না। কারণ যোগ্যতায় যারা আসবেন না, তারা হাজারও তদবির কিংবা ঘুষ দিয়ে আসার সম্ভাবনা একদম নেই। সুতরাং এবারের নিয়োগ হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে।

    পুলিশ সুপার মাসুদ বলেন, সবাইকেই আহ্বান করব ১০৩ টাকায় পুলিশে লোক নিয়োগের এ বার্তা জেলার অন্যান্য এলাকায় পৌঁছে দেবেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী লাইনে দাঁড়াবে। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যোগ্যতা অনুযায়ী পুলিশে চাকরি পাওয়া যাবে। এবারে যারা নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় আসবে, তাদের মধ্যেও যদি কেউ কাউকে ঘুষ দিয়ে চাকরিতে আসার প্রমাণ মিলে তাহলে যোগ্যতা থাকার সত্ত্বেও তদন্তপূর্বক প্রমাণিত হলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হবে।

  • বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে আওয়ামী লীগ-বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের হাতাহাতি

    বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে আওয়ামী লীগ-বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের হাতাহাতি

    অনলাইন ডেস্ক:

    বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিএনপিপন্থী ৮ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি পাইয়ে দিতে কমিটি করাকে কেন্দ্র করে কর্মচারীদের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুসের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রস্তুতি কমিটির একটি ঘোষণার পর বোর্ড চেয়ারম্যানের কক্ষেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পন্থী দুই দল কর্মচারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বোর্ডের বিএনপিপন্থী কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।

    শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বোর্ডের স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতি দেয়া যায় কিনা সে সম্পর্কে একটি সুপারিশমালা প্রণয়নের জন্য মঙ্গলবার তিন সদস্যর একটি কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষাবোর্ড সচিব প্রফেসর বিপ্লব কুমার ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত আদেশে গঠিত এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক আব্বাস উদ্দিন খানকে। সদস্য করা হয় উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার গাইন ও হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মামুন হোসেনকে। বিএনপিপন্থী ৮ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিতেই এ কমিটি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষুব্ধ আওয়ামীলীগ পন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    সূত্র আও জানায়, কমিটি ঘোষণার পরই এর প্রতিবাদ জানিয়ে বোর্ড শ্রমিকলীগ সভাপতি কাজী আ. জলিলের নেতৃত্বে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান বরিশাল বোর্ডের আওয়ামীলীগ পন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর কিছুক্ষণ পরেই শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রবেশ করে কর্মচারী সংঘের সাবেক সভাপতি এবং বোর্ডের শ্রমিক দলের সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ বিএনপিপন্থীরা। বিএনপিপন্থীদের নেতৃত্বে বর্তমান কর্মচারী সংঘ সভাপতি আবু জাফর ছিলেন। পরে বিএনপিপন্থী কর্মচারীরা আওয়ামীলীগপন্থী কর্মচারীদের ওপর চড়াও হলে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে, চেয়ারম্যান মো. ইউনুসের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    এ বিষয়ে বোর্ডের শ্রমিকলীগ সভাপতি কাজী আ. জলিল জানান, আমরা বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের পদোন্নতি দেবার জন্য কমিটি করার বিষয়টি জানতে পেরে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যাই। তখন বিএনপি জামায়াত কর্মীদের নিয়ে শ্রমিকদল নেতা শহিদুল ইসলাম সেখানে প্রবেশ করে আমাদের ওপর চড়াও হয়।

    এরপর তারা আমাদের সংগঠন বিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল করে। তিনি আরও জানান, বোর্ডে পদোন্নতির জন্য সিলেকশন কমিটি রয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো কমিটি গঠন করা বিধি বহির্ভুত। আমরা সে বিষয়টিতেই বাঁধা দিতে চেয়েছি।

    তবে, শ্রমিকদল সভাপতি ও বর্তমান সেকশন অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের কাজ করেছি। কারো ওপর হামলা চালাইনি।

    অভিযোগ পাওয়া যায়, পদোন্নতির তালিকার শীর্ষে যে ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে তার মধ্যে ৮ জন বিএনপিপন্থী। এদের মধ্যে রয়েছেন সেকশন অফিসার সাবেক বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সহ-সচিব ও বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘের সাবেক সভাপতি মো: মিজানুর রহমান, উচ্চমান সহকারী ও বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক এবি এম মিজানুর রহমান, সেকশন অফিসার ও বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘের অর্থ সম্পাদক আহসানুল কবির। এছাড়া পদোন্নতি তালিকায় রয়েছেন বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘের সদস্য ও সেকশন অফিসার সাজিয়া হাসান লুনা, হিসাব সহকারী জাহাঙ্গির আলম, ভারপ্রাপ্ত সেকশন অফিসার কে এম ফরিদ হোসেন ও সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আ. ছালাম। আর এদের পদোন্নতির জন্য বোর্ড প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছে বর্তমান কর্মচারী সংঘের সভাপতি আবু জাফর।

    এই বিষয়ে বরিশাল বোর্ডের সচিব অধ্যাপক বিপ্লব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, আমি চেয়ারম্যানের নির্দেশে কমিটি করেছি। তিনিই এই বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।

    বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: ইউনুসের মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন রেখে দেন।