Category: প্রশাসন

  • বরিশালে শিশু শিক্ষার্থীকে বেঞ্চের উপর দাড় করিয়ে নির্যাতন, শিক্ষক গ্রেপ্তার

    বরিশালে শিশু শিক্ষার্থীকে বেঞ্চের উপর দাড় করিয়ে নির্যাতন, শিক্ষক গ্রেপ্তার

    স্টাফ রিপোর্টার/শামীম ইসলাম:

    বরিশাল নগরীর শিকদার পাড়া নূরানী মাদ্রাসায় দেড়শ টাকার জন্য পরিক্ষার হলে বেঞ্চের উপর দাড় করিয়ে শিশু শিক্ষার্থীর কান ধরে উঠ-বস করিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। সেই সাথে টাকা না দিলে বাকি পরিক্ষা দিতে না দেয়ার হুমকি দিয়েছেন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক সিরাজ।

    এ ঘটনায় শিশু শিক্ষার্থী আহাদুজ্জামান মাহি মানসিক ও শারীরিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিশুটির বাবা বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোষ্ট করে এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ফেসবুক পেইজে শেয়ার করে। ফলে বিষয়টি বিএমপি কর্তৃপক্ষ গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়েছেন। আটক করা হয়েছে নির্যাতনকারী ওই শিক্ষককে।

    সূত্র জানায়, শিকদার পাড়া নূরানী মাদ্রাসার প্রথম জামায়াতের শিশু শিক্ষার্থী মাহির(৭) পরিক্ষার ফি বাবাদ ১৩শ ৫০টাকা ধার্য করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। পরে মাহির বাবা ১২শ টাকা পরিশোধ করে বাকি দেড়শ টাকা পরিক্ষার মধ্যে দিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু প্রথম পরিক্ষার দিনই মাদ্রাসার শিক্ষক সিরাজ দেড়শ টকা বকেয়া থাকার কারনে শিশু শিক্ষার্থী মাহিকে বেঞ্জের উপর দাড় করিয়ে শিশু শিক্ষার্থীর কান ধরে উঠ-বস করে এবং টাকা না দিরে পরিক্ষার হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি প্রকাশ করা হলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহন করে। আজ শনিবার সকালে নির্যাতনকারী ওই শিক্ষককে কৌশলগত ভাবে গ্রেপ্তার করে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

    এ বিষয়ে শিশু শিক্ষারর্থীর বাবা কামরুজ্জামান বাবু বলেন, অহেতুক আমার ছেলের ওপর নির্যাতন করায় তিনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভয়ে এখন আর মাদ্রাসায় পরিক্ষা দিতে যেতে চায় না। তিনি বলেন, কোন শিক্ষারর্থীকে যেন এমন ভাবে আর নির্যাতন না করা হয়।

    এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এক জনকে থানায় আনা হয়েছে। তবে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। শিশুটিকে যদি সত্যিই নির্যাতন করা হয় তাহলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর যদি এমন কিছু না হয় তাহলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে।

  • রাজশাহীতে স্কুলশিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    রাজশাহীতে স্কুলশিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একটি গাছ থেকে স্কুলশিক্ষক প্রশান্ত কুমার মণ্ডলের (৪২) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবার মনে করছে, পারিবারিক অশান্তির জের ধরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

    আজ শুক্রবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

    প্রশান্ত কুমার মণ্ডল বাগমারা উপজেলার বেড়াবাড়ি গ্রামের পরিমল মণ্ডলের ছেলে। তিনি উপজেলার বড় বিহানালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

    পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রশান্ত কুমার বাড়ির বাইরে গিয়ে আর ফেরেননি। রাতে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে পাননি। সকালে প্রতিবেশীরা বাড়ির অদূরে জঙ্গলে একটি গাছের সঙ্গে প্রশান্ত কুমারকে ঝুলতে দেখেন। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠায়।

    বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল কবির জানান, বনিবনা না হওয়ায় শিক্ষক প্রশান্ত কুমারের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয় কয়েক মাস আগে। স্ত্রী রাজশাহীর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। মামলাটি বিচারাধীন। এ ছাড়া প্রশান্ত কুমার আর্থিক সংকটেও ভুগছিলেন।

  • ধামরাইয়ে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের ৩ আরোহী নিহত

    ধামরাইয়ে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের ৩ আরোহী নিহত

    ঢাকার ধামরাই উপজেলায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার জয়পুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তিনজনই মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি।

    ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জগামী শুভযাত্রা পরিবহনের একটি বাস জয়পুরা সেতুর কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের ওপর তুলে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই মোটরসাইকেলের তিনজন আরোহী মারা যান।

    বিকেল পাঁচটার দিকে এই প্রতিবেদন লেখার সময় লাশ তিনটি উদ্ধার করে থামরাই থানায় নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল।

  • জিয়া সাইবার ফোর্সের’ মহাসচিব গ্রেপ্তার

    জিয়া সাইবার ফোর্সের’ মহাসচিব গ্রেপ্তার

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম কে এম হারুন অর রশিদ। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৩।

    র‍্যাব জানায়, ‘জিয়া সাইবার ফোর্সের’ মহাসচিব হারুন। সাইবার মনিটরিং সেল র‍্যাব-৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পোস্ট যাচাই, বাছাই ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি করে রাষ্ট্রবিরোধী, মিথ্যা ও বানোয়াট পোস্ট প্রচারণার ফেসবুক আইডি ও ফেসবুক পেজের সন্ধান পায়। এদের মধ্যে জিয়া সাইবার ফোর্স ফেসবুক গ্রুপ অন্যতম।

    গ্রুপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী, মিথ্যা ও বানোয়াট পোস্ট প্রচারণা করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে আসছে। এরই মধ্যে র‍্যাব এই গ্রুপের একাধিক সদস্যকে আটক করেছে। র‍্যাব-৩ জানতে পারে, গুলিস্তানে জিয়া সাইবার ফোর্সের সদস্যরা নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারবিরোধী অপপ্রচার জোরদার করার পরিকল্পনার জন্য বৈঠকে মিলিত হবেন।

    এই সংবাদ পেয়ে আজ সকাল ১০টার দিকে গুলিস্তানে অভিযান চালিয়ে হারুন অর রশিদকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে দুটি মোবাইল জব্দ করা হয়।

    র‍্যাব আরও জানায়, মিথ্যা সংবাদের ভিত্তিতে গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে জিয়া সাইবার ফোর্সের অ্যাডমিন ও মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন বলে স্বীকার করেছেন হারুন। তাঁর বাড়ি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার করমজা গ্রামে। তিনি ঢাকার আশুলিয়ার পশ্চিম জিরাবো এলাকায় বসবাস করেন।

  • সজীব ওয়াজেদ জয়ের পিএস পরিচয়দানকারী প্রতারক গ্রেফতার

    সজীব ওয়াজেদ জয়ের পিএস পরিচয়দানকারী প্রতারক গ্রেফতার

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পিএস পরিচয় দিয়ে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাইয়ে দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন এমপিদের কাছে টাকা দাবী এবং সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারী সংস্থায় চাকুরী দেওয়ার নামে মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে, গাজীপুরে এক প্রতারককে আটক করেছে র‍্যাব-১ এর সদসরা।

    আটকৃতের নাম মো. সাব্বির মন্ডল (২৭)। সে গাইবান্ধার সাঘাটা থানার উত্তর গুটিয়া সরদার পাড়া এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে।

    বৃহষ্পতিবার দুপুরে র‍্যাব-১’র স্পেশালাইজ কোম্পানী পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বোর্ডবাজারের গাছা এলাকায় জয়ের পিএস পরিচয়দানকারী এক প্রতারক অবস্থান করছে।

    এ গোপন খবর পেয়ে র‍্যাব-১’র স্পেশালাইজ কোম্পানী পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন এবং স্কোয়াড কমান্ডার সিনিয়র এএসপি মোঃ গোলাম মোর্শেদ’র নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা সেখানে অভিযান চালিয়ে সাব্বিরকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উপায়ে এ ধরনের প্রতারণা করে আসছে।

    এসময় তার কাছ থেকে ২টি মোবাইল ও বিভিন্ন অপারেটরের ৮টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়। সে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের হারিকেন রোড এলাকায় জনৈক নাসির উদ্দিনের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতো।

    র‍্যাব’র ওই কর্মকর্তা আরো জানান, সাব্বির মন্ডল বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব, আবার কখনো প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পিএস সামসুল/মাসুদ/মনির নামে পরিচয় দিয়ে বগুড়া-৫ আসনের এমপি মো. হাবিবুর রহমান, গাইবান্ধা-৩ আসনের এমপি ডাঃ ইউনুস সরকার, বরিশাল-৫ আসনের এমপি জেবুন্নেসা আফরোজ, খুলনা-৩ আসনের এমপি মনুজান সুফিয়ান, কক্সবাজার-৪ আসনের এমপি আব্দুর রহমান, সিলেট-৩ আসনের এমপি মাহমুদুর সামাদ, গাজীপুর-৫ আসনের এমপি মেহের আফরোজ চুমকি, গাজীপুর-৩ আসনের এমপি এড. মো. রহমত উল্লাহ, লালমনির হাট-১ আসনের এমপি মো. মোতাহার হোসেন, নারায়ানগঞ্জের এমপি শামীম ওসমান এবং গোলাম দস্তগীর গাজী, ঢাকার এমপি এড. সাহারা খাতুনসহ ৩০ থেকে ৪০ জন এমপি’র নিকট মোবাইল ফোনে আবার কখনো কখনো এসএমএস এর মাধ্যমে একাদশ জাতীয় নির্বাচন-২০১৮ এ মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে।

    এ ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রী, এমপি, সচিব, ব্যবসায়ীদেরকে ফোন দিয়ে বিভিন্ন চাঁদা, ঘুষ, চাকুরীর তদবির করে আসছিল। ওইসব সংসদ সদস্যগণের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সাব্বির মন্ডলকে আটক করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত আসামীকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় সে দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পিএস পরিচয় দিয়ে সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারী সংস্থায় চাকুরী দেওয়ার নামে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • মেম্বারের বাড়িতে নীলার আস্তানা, ভিড় জমে তরুণদের

    মেম্বারের বাড়িতে নীলার আস্তানা, ভিড় জমে তরুণদের

    স্টাফ রিপোর্টার/শামীম ইসলাম:

    বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিথুনের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাড়িটি দুই মাস আগে ভাড়া নেন নীলা (২৪) নামের এক তরুণী।

    এরপর থেকে মেম্বারের বাড়িতে আনাগোনা বেড়ে যায় তরুণদের। স্কুল-কলেজ ও এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছেলেরা প্রতি রাতে আসা-যাওয়া করে। ধীরে ধীরে তরুণদের ভিড় জমে নীলার বাসায়।

    কেউ কেউ আবার নীলার বাসায় ৪-৫ দিন থেকে যেত। অতিথিদের জন্য খাবার ও বিনোদনের বিশেষ ব্যবস্থা ছিল নীলার। উঠতি বয়সী ছেলেদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। তবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছেলেদের সঙ্গে সখ্য থাকায় নীলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস পেত না কেউ।

    অবশেষে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায় এলাকাবাসী। ৩০ নভেম্বর রাতে পুলিশ অভিযান চালায় নীলার বাসায়। এ সময় ২০ পিস ইয়াবাসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ সময় নীলা ও তিন তরুণকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- একই এলাকার কামাল পাইকের ছেলে রফিকুল ইসলাম পাইক, শাওন হালাদার ও আলী হোসেন। গ্রেফতার নীলা আগৈলঝাড়া উপজেলার বাসিন্দা। নীলাকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    পুলিশ জানায়, স্কুলজীবনের বখাটে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মিলে খারাপ কাজে জড়ায় নীলা। নীলার বাবা বাংলাদেশ বেতারে চাকরি করতেন। বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকায় থেকে পড়ালেখা অবস্থায় নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে নীলা। নেশার জগতে পা দেয়ার কারণে লেখাপড়ায় বেশি দূর না এগোতে পারেনি। বিয়ে দিলেও টেকেনি সংসার।

    একাধিক বিয়ের পর নিজের পছন্দে ঢাকার মিরপুরে ওসমান গণি সাফিন নামের এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করে নীলা। স্বামীর আগের সংসার থাকায় স্বামীর ঘরে উঠতে পারেনি নীলা।

    বাধ্য হয়ে বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। মাঝেমধ্যে নীলার কাছে আসে তার স্বামী ওসমান গণি। দাম্পত্য জীবনে নীলা এক কন্যা সন্তানের মা হলেও মেয়েটি মারা যায়। এরপর নীলা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

    এভাবে মাদক সেবী থেকে নীলা পা বাড়ায় মাদক ব্যবসায়। নিজের সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, বিদেশ ফেরত তরুণদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে।

    পাশাপাশি সখ্যতা গড়ে তোলে বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। ধনাঢ্য মাদকসেবীদের টাকায় নীলা গড়ে তোলে মাদকের সিন্ডিকেট। নিজের ভাড়া বাসায় দিন-রাত চলে মাদক সেবন ও ব্যবসা। চলে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড। নীলার বাসায় প্রতিদিন যাওয়া-আসা করে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছেলেরা। প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্যতার কারণে আশপাশের কেউ নীলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বেড়াতে যেত নীলা।

    barishal-village-Yaba

    এর আগে গৌরনদীতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা অবস্থায় নীলার মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে স্থানীয়রা। পরে আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের মেম্বার মিথুনের বাড়ি ভাড়া নেয়।

    মাদক আর টাকার পাহাড় গড়ে তোলার নেশায় একপর্যায়ে মাদক সম্রাজ্ঞী বনে যান নীলা। এরই ধারাবাহিকতায় নিজের বাড়িতে মাদকের আস্তানা গড়ে তোলে। সেখানে অবস্থান করা নীলার অতিথিরা ঘর থেকে বের হত না। অতিথিদের খাবার, বিনোদন ও মাদক সেবনের সব ব্যবস্থা ছিল নীলার বাসায়।

    বাড়ির মালিক আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মিথুন বলেন, দুই মাস আগে বাসা ভাড়া নেয় নীলা। কিছুদিন আগে জানতে পারি নীলা খারাপ কাজে জড়িত। তাই বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার নোটিশ দিয়েছি তাকে। গত ১ ডিসেম্বর বাসা ছাড়ার কথা থাকলেও ৩০ নভেম্বর রাতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের ওসি মো. আফজাল হোসেন বলেন, এত বড় মাদকের সিন্ডিকেটের কথা আমি জানতাম না। নীলাকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নীলাকে গ্রেফতারের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।

  • বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকটি পদে রদবদল করেছে কর্তৃপক্ষ

    বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকটি পদে রদবদল করেছে কর্তৃপক্ষ

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকটি পদে রদবদল করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (০৪ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল হাসান জানান, কর্পোরেশনের কাজের গতি বাড়ানোর জন্য একটু রদবদল করা হয়েছে। এছাড়া অন্যকিছু নেই এখানে। বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই রদবদল করা হয়েছে।

     বিসিসি সূত্রে জানা যায়, ২ ডিসেম্বর কর্পোরেশনের চতুর্থ পরিষদের জরুরী সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রশাসনিক কর্মকর্তার চলতি দায়িত্বে থাকা আসমা বেগম রুমীকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়ে একই শাখায় বিশেষ কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে এবং প্রশাসন শাখার পরিসংখ্যানবিদ স্বপন কুমার দাসকে প্রশাসনিক কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি হিসাব বিভাগের বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মশিউর রহমানকে তার দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যহতি দিয়ে প্রশাসনিক শাখায় বিশেষ কর্মে নিয়োজিত করা হয়েছে এবং সহকারী হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা (বাজেট ও অডিট) মো: আক্তারুজ্জামানকে অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

    এছাড়া কর্পোরেশনের হাট-বাজার ও স্টল শাখার সুপারিনটেনডেন্ট নুরল ইসলাম, অবৈধ উচ্ছেদ শাখায় কর্মরত উচ্চমান সহকারী (চঃদা)জাহাঙ্গীর হোসেন ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধাকে সাময়িক অব্যহতি দিয়ে প্রশাসনিক শাখায় বিশেষ কর্মে নিয়োজিত করা হয়েছে।

    এদিকে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, ৭ কর্মকর্তার মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল।হিসাব বিভাগের বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মশিউর রহমান বিগত ২ সিটি মেয়রের আমলে নগরভবনের কর্তাবাবু সেজে সাধারন স্টাফ ও ঠিকাদারদের বিভিন্নভাবে নাজেহাল করতেন।

    সিটি কর্পোরেশনে মেয়রের চেয়েও নিজেকে ক্ষমতাধর দাবী করা এ মশিউরকে করা হয়েছে ওএসডি।অন্যদিকে পরিচ্ছন্নতা বিভাগের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধা বিসিসিতে নিজর রামরাজত্ব চালু করেছিলেন।একটি পরিষদ খুলে কিছু হলেই সেই সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে বিসিসিতে কার্যত অচলাবস্থা চালু করতেন।তার কাছে জিম্মি ছিল নগরবাসী।তাছাড়া উপরিউক্ত দুজন সাবেক মেয়রের সাথে যোগসাজশে ভুয়া স্টাফ দেখিয়ে অর্থ আত্বসাত করতেন।আর তাদের কাজে সহযোগি ছিলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসমা।

  • অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনা কারাগারে

    অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনা কারাগারে

    ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক হাসনা হেনাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত এই আদেশ দেন। নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার দেওয়ার মামলার আসামি হাসনা হেনা।

    অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে নেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে।

    আজ হাসনা হেনাকে আদালতে হাজির করে তাঁকে জামিন না দেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদার। আদালতকে তিনি প্রতিবেদন দিয়ে বলেছেন, অরিত্রীর বাবার সুস্পষ্ট ধারণা যে, শিক্ষকদের আচরণের কারণে অরিত্রী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পালিয়ে থেকে মামলার তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করবেন।

    অন্যদিকে হাসনা হেনার আইনজীবীরা তাঁর জামিন চান। আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    ডিবির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানান, ভিকারুননিসার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখাপ্রধান জিনাত আখতার আজকের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণ না করলে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

    গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখাপ্রধান জিনাত আখতার ও অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনা বরখাস্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারীর অভিযোগ, গত রোববার পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পান। মোবাইলে নকল করেছে—এমন অভিযোগে অরিত্রীকে সোমবার তার মা-বাবাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়। তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে সোমবার স্কুলে গেলে ভাইস প্রিন্সিপাল তাঁদের অপমান করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। মেয়ের টিসি (স্কুল থেকে দেওয়া ছাড়পত্র) নিয়ে যেতে বলেন। পরে প্রিন্সিপালের কক্ষে গেলে তিনিও একই রকম আচরণ করেন। এ সময় অরিত্রী দ্রুত প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে বাসায় গিয়ে দিলীপ অধিকারীর দেখেন, অরিত্রী তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে।

  • রাজধানীর বাংলামোটরে শিশু হত্যা: বাবা রিমান্ডে

    রাজধানীর বাংলামোটরে শিশু হত্যা: বাবা রিমান্ডে

    রাজধানীর বাংলামোটরে শিশু নূর সাফায়েতকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাবা নুরুজ্জামান কাজলকে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এই আদেশ দেন।

    শাহবাগ থানা-পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার আসামি নুরুজ্জামানকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়, নুরুজ্জামান নিজে তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। তবে নুরুজ্জামানের আইনজীবী আবদুস সাত্তার আদালতের কাছে দাবি করেন, তাঁর মক্কেল নুরুজ্জামান এখন মানসিকভাবে অসুস্থ। আগে তাঁর মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

    আইনজীবী আবদুস সাত্তার আদালতের কাছে দাবি করেন, গত অক্টোবর মাসে নুরুজ্জামানকে ছেড়ে যান তাঁর স্ত্রী। রেখে যান তাঁর দুই সন্তান। নুরুজ্জামানের স্ত্রীকে বাসায় ফিরে আসার জন্য আইনি নোটিশ দেন তিনি। স্ত্রী ফিরে না আসায় দুই ছেলের দেখাশোনা করছিলেন তিনি। আদালতে আনার পর নুরুজ্জামান বলতে থাকেন, তিনি তাঁর ছেলেকে হত্যা করেননি। চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিল তাঁর ছেলে। ঘুমের ঘোরে মারা গেছে তাঁর ছেলে।

    শুনানি শেষে নুরুজ্জামানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

    এর আগে গতকাল বুধবার রাতে শাহবাগ থানায় নুরুজ্জামান কাজলকে আসামি করে মামলাটি করেন সাফায়েতের মা মালিহা আক্তার।

    রাজধানীর বাংলামোটরের লিংক রোডের খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উল্টো দিকের ১৬ নম্বর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা শিশু নূর সাফায়েতের লাশ আজ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তার শরীরে ধারালো কোনো বস্তুর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

    বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তার শরীরে ধারালো কোনো বস্তুর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে তার যকৃৎ ও মস্তিষ্কে কিছু সমস্যা পাওয়া যাচ্ছে। কপালে ছোট দুটি আঘাত আছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোনো রক্তক্ষরণ নেই। তার গলব্লাডার স্বাভাবিকের চেয়ে বড়। ধারাবাহিকভাবে যারা না খেয়ে থাকে, তাদের গলব্লাডার সাধারণত এমন হয়ে থাকে। শিশুটি অপুষ্টিতে ভুগছিল। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে যকৃৎ, হৃদ্‌যন্ত্র ও গলব্লাডার পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

  • সব পত্রিকা গায়েব করে দিলেন বরগুনা-১ আসনের এমপিপুত্র

    সব পত্রিকা গায়েব করে দিলেন বরগুনা-১ আসনের এমপিপুত্র

    বাবার বিরুদ্ধে সংবাদ ছাপা হওয়ায় খবরে সংবাদপত্রের গাড়ি থেকে সব পত্রিকা গায়েব করে দিয়েছেন বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে ও তার সহযোগীরা।

    মঙ্গলবার দুপরে বরগুনা-বাকেরগঞ্জ সড়কের বাইপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে পত্রিকার ১০টি বান্ডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে বাকি পত্রিকার বান্ডিলগুলো উদ্ধার করা যায়নি।

    জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সাহাব উদ্দীন সাবু বলেন, প্রতিদিন বরিশাল থেকে বরগুনায় পত্রিকা আসে। মঙ্গলবার সাজিদ পরিবহন (যশোর জ-০০৩৪ ) নামের যাত্রীবাহী বাসে বরগুনার সকল এজেন্ট ও হকারদের পত্রিকা আসছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মহাসড়কের বাইপাস এলাকায় পৌঁঁছালে গতিরোধ করে বাসে উঠে বরগুনা-১ আসনের বর্তমান এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথ। তার সঙ্গে বাসে উঠে মাদক ব্যবসায়ী রাসেল তালুকদার ওরফে টাক রাসেল, তার সহযোগী সাথিক রুবেল এবং অনিমেষসহ কয়েকজন। বাসে উঠে পত্রিকার সব বান্ডিল নামিয়ে নেয় তারা।

    পত্রিকাবাহী গাড়ির চালক ফারুক হোসেন বলেন, বরিশাল থেকে রওনা দিয়ে মহাসড়কের বাইপাস এলাকায় পৌঁঁছালে বাস থামিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে সব পত্রিকার বান্ডিল নামিয়ে নেয় এমপিপুত্র সুনাম, টাক রাসেল ও তার সহযোগীরা। এতে বাধা দিলে আমাকে মারধর করে টাক রাসেল ও তার সহযোগীরা। ঘটনার পর বরগুনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমাদের সব পত্রিকা গায়েব করে দিয়েছে তারা।

    বরগুনা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, ঘটনাটি ন্যক্কারজনক। সোমবার দুপুরে বরগুনা প্রেস ক্লাবে আওয়ামী লীগ মনোনীত দুই প্রার্থীর একজন মো. জাহাঙ্গীর কবিরকে সমর্থন দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ, কৃষকলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। দেশের সকল পত্রিকায় এ খবর ছাপা হয়। সংবাদটি আওয়ামী লীগ মনোনীত অপর প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিরুদ্ধে যাওয়ায় সকল পত্রিকা গায়েবের ঘটায় এমপিপুত্র ও তার সহযোগীরা। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।

    জেলা পত্রিকা এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বরিশাল এম রহমান নিউজ এজেন্সির মালিক মো. হারুন অর রশীদ বলেন, আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় সংবাদপত্র ছিনতাইয়ের কথা এই প্রথম শুনলাম। সংবাদপত্রে আগুন দেয়ার কথা শুনেছি, কিন্তু ছিনতাইয়ের কথা শুনিনি। ঘটনাটি দুঃখজনক। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

    এ বিষয়ে বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, সংবাদপত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা দুঃখজনক। যারা এটি ঘটিয়েছে তারা যে দলের বা গ্রুপের হোক; তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়া হোক।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথ বলেন, আমি বা আমার লোকজন এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এটি মিথ্যা অপপ্রচার।

    বরগুনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এ ঘটনার পরপরই স্থানীয় সাংবাদিকসহ পত্রিকার হকার-এজেন্টদের খবর দেয়া হয়। দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া পত্রিকার কয়েক বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। বাকিগুলো উদ্ধার করা যায়নি। এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।