Category: প্রশাসন

  • পিকআপ ভ্যানের চাকায় ৩৮ হাজার ইয়াবা

    পিকআপ ভ্যানের চাকায় ৩৮ হাজার ইয়াবা

    কখনো বাস-ট্রাকে, কখনো বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের ভেতর, কখনো গ্যাস সিলিন্ডারে করে কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়। আবার শরীরের ভেতর লুকিয়েও ইয়াবা পাচারকারীরা চলাফেরা করে থাকেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ায় প্রতিনিয়ত কৌশল বদলাচ্ছেন ইয়াবা পাচারকারীরা। এবার তেমনই এক ইয়াবার চালান জব্দ করে র‌্যাব, যা পিকআপ ভ্যানের চাকায় লুকিয়ে পাচার করা হচ্ছিল।

    র‍্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল মালিক জানিয়েছেন, গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাঁরা রাজধানীর দনিয়া থেকে এমন একটি ইয়াবার চালান জব্দ করেন, যাতে প্রায় ৩৮ হাজার ইয়াবা বড়ি ছিল। এ ঘটনায় পিকআপের চালক-সহকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার তিন ব্যক্তি হলেন ইউসুফ নুর জুবায়ের (৩৩), আবু রাজা (২৯) ও মো. জুবায়ের (২২)। এর মধ্যে জুবায়েরের বাড়ি ঢাকার রায়েরবাগে, ইউসুফের বাড়ি ফরিদপুরের মধুখালীতে ও রাজার বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় বলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

    চাকার ভেতর লুকিয়ে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিন ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীতচাকার ভেতর লুকিয়ে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিন ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত

    র‍্যাব কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল মালিক বলেন, তাঁদের কাছে খবর ছিল টেকনাফ ও কক্সবাজারের কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী নিয়মিত আকাশপথে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে যাতায়াত করছেন। এসব মাদক ব্যবসায়ী বিশেষ কায়দায় গ্যাসের সিলিন্ডারের ভেতরে লুকিয়ে বা বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক্যাল সরঞ্জামাদি যেমন ফ্যান, ওয়াশিং মেশিন, এসির ভেতর লুকিয়ে ইয়াবা ঢাকায় পাঠায়। তাঁদের আরেকটি কৌশল ছিল পিকআপের অতিরিক্ত চাকার ভেতরে করে ইয়াবা পাচার করা—গতকালের চালানটি ছিল তেমনি এক কৌশলের অংশ।

    মোহাম্মদ সাইফুল মালিক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-২ জানতে পারে, পিকআপ ভ্যানে করে কক্সবাজার থেকে ইয়াবার একটি চালান ঢাকায় আনা হচ্ছে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে র‌্যাবের একটি দল অবস্থান নেয়।

    প্রায় আধা ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে পিকআপটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পিকআপটি থামিয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। তবে তাঁরা প্রথমে ইয়াবা পাচারের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে পিকআপের অতিরিক্ত চাকার ভেতরে করে ইয়াবা পাচারের কথা স্বীকার করেন। এই র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, অতিরিক্ত এই চাকার ভেতর ৩৭ হাজার ৭৬০টি ইয়াবা ছিল।

  • প্রার্থী বৈধ অস্ত্র বহন করতে পারবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    প্রার্থী বৈধ অস্ত্র বহন করতে পারবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এখন থেকে বৈধ অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন করা যাবে না। তবে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী বৈধ অস্ত্র বহন করতে পারবেন, কিন্তু প্রদর্শন করতে পারবেন না। আজ (বুধবার) থেকে নির্বাচন পর্যন্ত এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে। যে কেউ প্রয়োজনে থানায় অস্ত্র জমা দিয়ে রাখতে পারেন।

    আজ বুধবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারণার সময় সংঘর্ষে দুজন নিহত হওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে অস্থিরতা থাকবে। তবে এই ঘটনা দুঃখজনক। তিনি বলেন, ‘যারা সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে, তারা এসব করছে। আমাদের দল থেকে এসব হচ্ছে না। আশা রাখি নির্বাচন উৎসবে পরিণত হবে। নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে যারা অস্থিরতা করছে। তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

    নির্বাচন কমিশন থেকে বুধবার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশনা ও বৈধ অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসে। মন্ত্রী বলেন, ‘আজ বা কালের মধ্যেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশনা ও বৈধ অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালা বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। নির্বাচনের সময় সীমান্তেও আমরা সতর্ক রয়েছি।

  • ইসির কোনো কথা শুনছে না পুলিশ : অভিযোগ মাহবুবের

    ইসির কোনো কথা শুনছে না পুলিশ : অভিযোগ মাহবুবের

    পুলিশের ওপর ইসির কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই দাবি করে অপরাধী পুলিশদের বদলি ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

    নোয়াখালী-১ আসনের এই প্রার্থী বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পুলিশ অফিসারকে ট্রান্সফার করতে হবে, যারা অপরাধ করে তাদের গ্রেফতারের ব্যবস্থা করতে হবে।

    মঙ্গলবার দুপুরে চার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদের সঙ্গে দেখা করে লিখিতভাবে অভিযোগ করার পর সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। কমিশন এসব বিষয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান মাহবুব উদ্দিন খোকন।

    তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় কয়েক দিন ধরে গণগ্রেফতার চলছে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে মহড়া দিচ্ছে। পুলিশ এসব অপরাধের কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিএনপি নেতাকর্মীদের অপহরণ ও গুলি করা হয়েছে। আহত হয়ে এসব নেতাকর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তারপরও পুলিশ কোনো মামলা নিচ্ছে না।

    আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন থেকেই চাটখিল-সোনাইমুড়ি এলাকায় পুলিশ আগ্রাসী হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    খোকন বলেন, বিনা কারণে পুলিশ বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করছে। পাশাপাশি, সারাদেশেও পুলিশ গণগ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। নোয়াখালীর রিটার্নিং কর্মকর্তাকেও এসব অভিযোগের বিষয়ে জানানো হয়েছে। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশ আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে।

    পুলিশ কমিশনের কোনো কথা শুনছে না। ইসি গণগ্রেফতার বন্ধ করতে বললেও পুলিশ এসব আমলে নিচ্ছে না। নতুন নতুন মামলায়, মাদক দিয়ে কর্মীদের ফাঁসানো হচ্ছে। চাটখিলের ওসি এক বিএনপি নেতাকে আটক করে তার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, প্রচারণার শুরুর দিন থেকেই পুলিশের ওপর কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। পুলিশ, সরকারি অফিসার, আওয়ামী লীগের নেতারা বিএনপি ও ফ্রন্টের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছেন। রিটার্নিং অফিসাররা চেষ্টা করেও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখতে পারছেন না।

    এসব অনিয়ম বন্ধে কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান মাহবুব উদ্দিন খোকন।

  • ‘গায়েবি’ মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে নেতা-কর্মীদের

    ‘গায়েবি’ মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে নেতা-কর্মীদের

    ‘গায়েবি’ মামলা দিয়ে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড, আকবর ও পাহাড়তলী আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী ইসহাক চৌধুরী। তফসিল ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    আজ মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে নির্বাচনী আসনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ইসহাক চৌধুরী। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর বড় ভাই। নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বর্তমান সাংসদ দিদারুল আলমকে দায়ী করেন।

    লিখিত বক্তব্যে ইসহাক চৌধুরী বলেন, গতকাল সোমবার প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সীতাকুণ্ডে নিজের বাড়িতে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভা চলাকালে বাড়ির চারপাশ ঘেরাও করে রাখে পুলিশ। সভা শেষে বের হওয়ার পর প্রায় ২৫ জন নেতা-কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু তালিকা দেওয়া হলেও তাঁদের মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার জন্য গেলে সীতাকুণ্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম ও তাঁর ছোট ভাই নেজাম চৌধুরীকে থানায় আটক করে রাখে বলে অভিযোগ করেন ইসহাক চৌধুরী।

    সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ইসহাক চৌধুরী অভিযোগ করেন, পুলিশ নেতা-কর্মীদের বাড়িতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। নেতা-কর্মীদের না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতা রফিক উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করেন, নাশকতা ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় করা গায়েবি মামলায় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।

  • বরিশালের সেই বিতর্কিত শেখ রিয়াদ মুহাম্মদ নুরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩

    বরিশালের সেই বিতর্কিত শেখ রিয়াদ মুহাম্মদ নুরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩

    সোশ্যাল মিডিয়ায় রাষ্ট্রবিরোধী ‘মিথ্যা-বানোয়াট ও বিভ্রাান্তকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে,কথিত নিউজপোর্টাল ‘দৈনিক ৭১ ডটকম’ এর পরিচালক বরিশালের শেখ রিয়াদ মুহাম্মদ নুরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩।

    গ্রেপ্তারকৃত নুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রাষ্ট্রবিরোধী মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করে আসছিলেন। নুরের প্রেপ্তারের খবর জানাজানি হওয়া মাত্র আত্মগোপন করেন তার সহযোগীরা।

    সূত্র জানায়, দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে থেকে বরিশাল নগরীর হাসপাতাল রোডের ইকবাল হোসেন ফোরকানের সন্তান বিতর্কিত শেখ রিয়াদ মুহাম্মাদ নুর নিজ জেলা বরিশালসহ দেশের একাধিক রাজনৈতিক, সামাজিক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ফেসবুকে পরিবেশন করতেন।

    তার এ অপরাধ সিন্ডিকেটের সাথে বরিশালের কতিপয় সহযোগী জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে। এসব ঘটনায় বরিশালের একাধিক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগও তুলে ধরেন। ফলে তাকে র‌্যাব-৩ গ্রেপ্তার করে। তার গ্রেপ্তারের খবর সহযোগীরা শোনার পরপরই আত্মগোপন করেন। নুরের এক সহযোগী আবার একটি নামসর্বস্ব অনলাইন নিউজ পোর্টালে নুরের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ শুরু করেছেন। খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, শেখ রিয়াদ মুহাম্মদ নুর মৌলবাদী একটি সংগঠনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

    ওই সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন করাই ছিলো নুর ও তার সহযোগীদের দায়িত্ব। এজন্য তাদেরকে ওই মৌলবাদী সংগঠনটি নিয়মিত মোটা অংকের টাকা প্রদান করে আসছে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে যেসকল তথ্য এখন পর্যন্ত নুর প্রদান করেছেন তা সত্য নয় বলে তার সহযোগীরা আত্মগোপনে থেকে সিন্ডিকেটকে আশ্বস্ত করেছেন।

    অপর দিকে গতকাল র‌্যাব কর্তৃক তার আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে বরিশালের মিডিয়াসহ সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে স্বস্তি নেমে আসে। সকলের দাবি, শেখ মুহাম্মদ নুরকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে অনলাইনে গুজব ছড়ানো সহজ, গুজবের প্রতি মানুষের হুজুগ-মনোযোগ বেশি। এটাকে পুঁজি করে দীর্ঘ দিন ধরে বেশ নিপুণভাবে অনলাইনে গুজব ছড়ানোর কাজ করেন তিনি।

    কিন্তু অনেক সতর্কতা অবলম্বন করেও শেষ রা হলো না তার। র‌্যাবের জালে আটক হতে হলো তাকে। শনিবার (৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাষ্ট্রবিরোধী মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শেখ রিয়াদ মুহাম্মদ নুরকে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান জানান, র‌্যাবের সাইবার মনিটরিং সেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল আকারে প্রকাশকৃত পোস্ট যাচাই-বাছাই, পর্যবেণ, সাইবার টহল ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছে। এতে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাষ্ট্রবিরোধী মিথ্যা ও বানোয়াট পোস্ট প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে, এ রকম ফেসবুক আইডি ও ফেসবুক পেইজের সন্ধান পায় র‌্যাব।

    এদের মধ্যে শেখ রিয়াদ মুহাম্মদ নুরের ফেসবুক আইডি, ফেসবুক পেইজ ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক ৭১ ডটকম’র পরিচয় শনাক্ত করতে সম হয় র‌্যাব। র‌্যাব সূত্রে আরও জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শেখ রিয়াদ মুহাম্মাদ নুর সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষকে আকৃষ্ট করতে তার নিজের ফেসবুক আইডিসহ সৃষ্ট গায়েবি মাধ্যম একাত্তরের শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, দৈনিক একাত্তর নাগরিক বাতায়ন, একাত্তরের শহীদ-যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এবং  নাম সর্বস্ব ‘দৈনিক ৭১ ডটকম’ অনলাইন নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে বিভ্রান্তিমূলক তথ্যসমৃদ্ধ পোস্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও অনৈতিক প্রচারণা চালানোসহ রাষ্ট্রবিরোধী মিথ্যা ও বানোয়াট পোস্ট প্রচারণার পাশাপাশি নিজ জেলা বরিশালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।

    এসকল কারণে শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শেখ রিয়াদ মুহাম্মদ নুর (৩৯) কে তার গোপন আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার করে।

    গতকাল রবিবার সকালে র‌্যাবের মুখপাত্র বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শেখ রিয়াদ মুহাম্মদ নুর জানিয়েছেন, তিনি দৈনিক ৭১ ডটকম অনলাইন নিউজ পোর্টালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। এ ছাড়া তিনি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের ইতিহাস এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ক গবেষক হিসেবে পরিচয় প্রদান করেন। র‌্যাব আরও জানায়, সাংবাদিক হিসেবে তার কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই। তিনি শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টালটি পরিচালনা করছিলেন। তিনি কোনো নামকরা গণমাধ্যমের সাথে জড়িত নন এবং কখনও জড়িতও ছিলেন না।

  • বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় অতিরিক্ত মাদক সেবনে যুবকের মৃত্যু

    বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় অতিরিক্ত মাদক সেবনে যুবকের মৃত্যু

    স্টাফ রিপোর্টার/আমিনুল ইসলাম শামীম:

    বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে আলী ঘরামী (২৭) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি সুন্দরদী গ্রামের নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত হোসেন ঘরামীর ছেলে।

    আলী ঘরামীর স্বজনরা জানান, অতিরিক্ত মাদকসেবন করে শুক্রবার বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হসাপাতালে রেফার্ড করেন।

    তবে আর্থিক সংকটের কারণে মেডিকেলে না নিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে দুপুর ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার মো তৌহিদ জানান, আলী ঘরামীর বিরুদ্ধে গৌরনদী ও কালকিনি থানায় মাদকদ্রব্য আইনে ৫টি মামলা রয়েছে। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন।

  • বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে,বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ২০ সদস্য আহত

    বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে,বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ২০ সদস্য আহত

    ঝালকাঠির রাজাপুরে পুলিশকে বহনকারী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে রাজাপুর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরে বরিশাল মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।আহতদের মধ্যে ১০ জন নারী পুলিশ সদস্য।

    গতকাল শনিবার (৮ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত এএসআই হাফিজ, কনস্টেবল মাহফুজ, লিমা, সুরাইয়া, আফরোজা, সুরমা, মরিয়ম, ময়না, সনিয়া, তামান্না, শামীমা, তন্নিসহ আরো বেশ কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল। তিনি আরো জানান, ‘বাসে থাকা পুলিশ সদস্যরা কমবেশি সবাই আহত হয়েছে।

    পুলিশ জানায়, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) সদস্যরা শনিবার সকালে বাৎসরিক ফায়ারিং প্রশিক্ষণ উপলক্ষে খুলনা গিয়েছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে ৫টি বেসরকারি বাসে করে ১৮০ পুলিশ সদস্য বরিশাল পুলিশ লাইনে ফিরছিলেন। ৩৬ জন পুলিশ সদস্য বহনকারী বেসরকারি বাসটি বরিশাল-পিরোজপুর সড়কের নৈকাঠি এলাকায় পৌঁছালে বাসটির সামনের চাকা খুলে যায়। ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    রাজাপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। খবর শুনে মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিসি হেড কোয়ার্টার মোঃ হাবিবুর রহমান খান রাজাপুর হাসপাতালে ছুটে আসেন। তার আগে হাসপাতালে পৌছান ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মোঃ জোবায়দুর রহমানসহ অন্যান্য পুলিশের কর্মকর্তারা।

    পুলিশের বিশেষ ব্যাবস্থাপনায় আহতদের নিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজাপুর থেকে বরিশাল মেডিকেলের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা বরিশালে পৌছানের আগেই শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ছুটে যান বরিশাল মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিন) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূইয়া, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) খাইরুল কবির ও কোতয়ালী থানার অফিসার নুরুল ইসলাম পিপিএম ও অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আসাদুজ্জামান। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম।

  • ইজতেমা ময়দানে সংঘর্ষের সময় প্রশাসনের কেউ প্রস্তুত ছিল না

    ইজতেমা ময়দানে সংঘর্ষের সময় প্রশাসনের কেউ প্রস্তুত ছিল না

    টঙ্গীতে ইজতেমা ময়দানে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলো তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শনিবার বিকেলে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান পরিদর্শন ও তাবলিগের মুরব্বিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইজতেমায় মুসল্লিরা আসেন ইবাদতের জন্য, ধর্মীয় কাজে, তাবলিগের মেহনতের জন্য। এরা কীভাবে মারামারি করে? এজন্য প্রশাসনের কেউ প্রস্তুত ছিল না। প্রশাসনের লোকজনের সামনে জোর করে একটি পক্ষ ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ করে। আমরা ভেবেছিলাম তারা ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ করে প্রস্তুতি সভা করবে। কিন্তু তারা তা না করে ভাঙচুর করেন এবং এখানে যারা ছিলেন তাদের আহত করেন। এটা সত্যিই দুঃখজনক ঘটনা।

    তিনি আরও বলেন,যেহেতু এখানে একটি হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তিনজন সাথী মৃত্যুশয্যায় রয়েছে এবং বেশ কয়জন আহত হয়েছেন। এ জন্য থানায় ও আদালতে তিনটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলো তদন্তের পরে যারা দোষী ব্যক্তি, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই ইজতেমা হবে। দুই পক্ষ আবার বসে তাদের মধ্যে যে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে তা ক্লিয়ার করবে এবং ইজতেমা আবার হবে এটা আমরা বিশ্বাস করি।

    এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, সিটি মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় এক মুসল্লি নিহত ও দুই শতাধিক মুসল্লি আহত হন। এরপর থেকেই ইজতেমা ময়দান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

  • মুন্সীগঞ্জে শাহ মোয়াজ্জেমের গাড়িবহরে গুলি

    মুন্সীগঞ্জে শাহ মোয়াজ্জেমের গাড়িবহরে গুলি

    মুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের গাড়িবহরে হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।

    শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া এলাকায় কিছু মোটরসাইকেল আরোহী এ হামলা চালায়।

    শাহ মোয়াজ্জেমের ভাই ওমর ফারুক বলেন, হামলাকারীরা সাত রাউন্ড গুলি ছুড়েছে ও পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। তবে কেউ গুলিবিদ্ধ হননি, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনও অক্ষত আছেন।

    Photo-munshiganj02

    শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম কানন অভিযোগ করেন, সিরাজদিখান থেকে পাথরঘাটায় কর্মীসভায় যাওয়ার পথে কুচিয়ামোড়া এলাকায় আসলে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী মাহী বি চৌধুরীর লোকজন অতর্কিত এ হামলা চালায়।

    সিরাজদিখান থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে হামলাকারী কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এই হামলা হয়েছে। তবে আমরা বিস্তারিত খতিয়ে দেখছি।

  • নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াত চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

    নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াত চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

    বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াত চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সোহেল রানা, রবিউল আউয়াল, মাহমুদুল, আনসারুল ইসলাম, দেবাশীষ, রাজিউর রহমান ও রেজাউল করিম।

    গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী, মিরপুর ও কলাবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। তাঁদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র প্রেরণের আটটি ডিভাইস, ২৯টি ব্যাটারি, তিনটি পেনড্রাইভ, নয়টি ব্লুটুথ ডিভাইস, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের নয়টি সিমকার্ড এবং আটটি মোবাইল ফোন সেট জব্দ করা হয়।

    আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান।

    ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে থাকে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন। তাঁদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ চক্রের কয়েকজন সদস্য ডিভাইসসহ পরীক্ষার্থী হিসেবে এসব পরীক্ষায় অংশ নেন।

    প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে তা কেন্দ্রের বাইরে ওই চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে দেন। বাইরে থাকা সদস্যরা দ্রুত প্রশ্নপত্র সমাধান করে পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করতেন। এভাবে চক্রটি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের টাকা নিত। এ ঘটনায় রমনা থানায় একটি মামলা হয়েছে।

    এর আগে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার এক মুঠোফোন বার্তায় জানানো হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে গতকাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) পদে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সমাধানে জড়িত ছিলেন।

    সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনর উপকমিশনার ( ডিসি) মীর মোদাসসের হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পরীক্ষার হলের বাইরে ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নের সমাধান করে দিতেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসব ব্যক্তির কার্যক্রম আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগই নেই। প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ বিতরণ ও পরীক্ষা গ্রহণ পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে যাঁরা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করেছেন, তাঁরা মোবাইল সেট জমা দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে কাজ করেছেন। তারপর ছাপানো কপি কেন্দ্র অনুযায়ী আলাদা প্যাকেট করে সিলগালা করে কঠোর নিরাপত্তায় কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হয়।

    হলে পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট আগে প্যাকেটগুলো খোলা হয়। ৫ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। যাঁরা প্রণয়ন করেছেন, তাঁরা পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তাঁদের মোবাইল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে নিয়ে বের হন।

    এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, গতকাল রাজধানী ঢাকার ৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ৯টি এসআই পদের জন্য ৭৮ হাজার ৮১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। গতকাল বেলা তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত এই পরীক্ষা নেওয়া হয়।