Category: প্রশাসন

  • তারেকের যাবজ্জীবন,বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড

    তারেকের যাবজ্জীবন,বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড

    ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় করা হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ দেয়া হয়েছে।

    বুধবার (১০ অক্টোবর) সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অবস্থিত ঢাকার ১নং অস্থায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ আসামি হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম, আবদুস সালাম পিন্টু, মাওলানা মো. তাজউদ্দীন, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মো. আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, উজ্জ্বল ওরফে রতন ও হানিফ।

    যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফের আবু ওমর আবু হোমাইরা ওরফে পীরসাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, আরিফ হাসান ওরফে সুজন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, আবু বকর ওরফে হাফে সেলিম হাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ, মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন (পলাতক), মো. খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর (পলাতক), মো. ইকবাল (পলাতক), লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক), তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আবদুল হাই (পলাতক) এবং রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক)।

    হত্যা মামলা

    মৃত্যদণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে রায়ে উল্লেখ করা হয়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে নিহতগণকে অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলণ ষডযন্ত্রের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২/১২০ খ/৩৪ ধারায় দোষীসাব্যস্তক্রমে মৃত্যুদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা এবং মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকরের আদেশ দেয়া হলো।

    যাবজ্জীবন দণ্ডের ক্ষেত্রে রায়ে উল্লেখ করা হয়, নিহতগণকে অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলণ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২/১২০ খ/৩৪ ধারায় দোষীসাব্যস্তক্রমে যাবজ্জীবন কারদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলো।

    এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম ১৯ জনের বিরুদ্ধে মোকদ্দমার জখমপ্রাপ্ত ভিকটিমগণকে অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুতর জখম করার অভিযোগ দণ্ডবিধির ৩০৭/১২০ খ/৩৪ ধারায় দোষীসাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।

    এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিন্ন পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুতর জখমের অভিযোগে দণ্ডবিধি ৩০৭/১২০ খ/৩৪ ধারায় দোষীসাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন দণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমান অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয় রায়ে।

    বিস্ফোরক মামলা

    ১৯০৮ সালের বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের ৩ ও ৬ ধারায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের দোষীসাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড, এক লাখ টাকা জারিমান এবং মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকরের আদেশ দেয়া হয়।

    যাবজ্জীবন প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে রায়ে বলা হয়, ১৯০৮ সালের বিস্ফোরদ্রব্য আইনের ৩ ও ৬ ধারায় দোষীসাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।

    এছাড়া ১৯০৮ সালের বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের ৪ ও ৬ ধারায় দোষীসাব্যস্ত সবাইকে (৩৮ জন) ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমান অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    প্রসঙ্গত, যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া ১৯ আসামির মধ্যে ১৩ জনই পলাতক। আদালতে উপস্থিত ছিলেন ছয়জন।

    এদিন সকালে কারাগার থেকে ৩১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আলোচিত এ মামলায় ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া আরও ২০ জনের সাফাই সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী।

    ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে থানা পুলিশ। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরবর্তীতে মামলাটি যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)।

    ২০০৮ সালের ১১ জুন মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন সিআইডির জ্যেষ্ঠ এএসপি ফজলুল কবির। ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আখন্দ।

    তিনি ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও জেএমবি সদস্য শহিদুল আলম বিপুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়।

    ফলে এ মামলায় এখন আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জন। এর মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জন পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামিদের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন ৩১ জন।

    কারাগারে থাকা ৩১ আসামি হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, সামরিক গোয়েন্দা অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক আবদুর রহিম, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আশরাফুল হুদা, পুলিশ কর্মকর্তা শহুদুল হক, খোদা বক্স চৌধুরী, বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, আব্দুর রশীদ, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ, জঙ্গি সংগঠন হুজির সদস্য আবু বক্কর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, শাহদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম, আব্দুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট, আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু হোমাইরা ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিবুল্লাহ ওরফে মহিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ড. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ও হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া।

    পলাতক ১৮ আসামি হলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদ, হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. হানিফ, ডিএমপির সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান, ডিএমপির সাবেক ডিসি (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, হুজি সদস্য মাওলানা তাজউদ্দিন, মহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন, খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, ইকবাল, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ওরফে দোলোয়ার হোসেন ওরফে জুবায়ের, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও রাতুল আহম্মদ বাবু।

  • নওগাঁয় স্ত্রীকে অ্যাসিড নিক্ষেপের দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

    নওগাঁয় স্ত্রীকে অ্যাসিড নিক্ষেপের দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

    নওগাঁয় স্ত্রীকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে ঝলসে দেওয়ার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত স্বামীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ এবং অ্যাসিড দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক একেএম শহিদুল ইসলাম এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম শহিদুল ইসলাম (৩১)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    রায়ে বলা হয়, শহিদুল ইসলাম পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর স্ত্রী শামীমার শরীরে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেছে। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হলেও তাঁর শরীরের সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেন। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামীকে যাবজ্জীবন অর্থাৎ আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হলো।

    জেলা ও দায়রা জজের সরকারি কৌঁসুলি আব্দুল খালেক বলেন, এ মামলারর একমাত্র আসামি অ্যাসিডদগ্ধ নারী শামীমা আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম। আসামির বিরুদ্ধে অ্যাসিড সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ আইনের ৫ (ক) ধারায় রাষ্ট্রপক্ষ অপরাধ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় গ্রেফতারের পর শহিদুল পুলিশ ও আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেন।

    তিনি বলেন, আইন অ্যাসিড সন্ত্রাসের অভিযোগে আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু অপরাধ সংগঠনের সময় আসামির বয়স (২৫ বছর) বিবেচনায় আদালত তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। এ মামলার আসামির রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন সিরাজুল ইসলাম।

    আদালত ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, আসামি শহিদুল ইসলাম অর্ধশিক্ষিত মানুষ। তিনি ছিলেন একজন হলুদ ব্যবসায়ী। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করা অবস্থায় পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার মোকসেদুল ইসলামের মেয়ে শামীমা আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর শামীমা আরও পড়াশোনা করতে চায়। কিন্তু তাঁর স্বামী শহিদুল ইসলাম এর বিরোধিতা করে। এ নিয়ে তাঁদের দু’জনের মধ্যে পারিবাহিক কলহ সৃষ্টি হয়।

    শহিদুল ইসলাম পারিবারিক কলহের জেরে ২০১২ সালের ২০ মে রাতে নজিপুরে শ্বশুরবাড়িতে শয়ন কক্ষে ঘুমন্ত স্ত্রীর গায়ে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে। এতে শামীমার মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। এ ঘটনায় শামীমার বাবা মোকসেদুল ইসলাম পর দিন পত্নীতলা থানায় মামলা করেন।

  • এদেশের জনগণই ঠিক করবে কে ক্ষমতায় থাকবে : শ্রিংলা

    এদেশের জনগণই ঠিক করবে কে ক্ষমতায় থাকবে : শ্রিংলা

    ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশ বন্ধুপ্রতিম দেশ। যে কারণে ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশেই থাকে। ভবিষ্যতেও থাকবে। বাংলাদেশের যেকোনো সমস্যায় পাশে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করবে ভারত। তবে সংসদ নির্বাচনসহ এ দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না ভারত। জনগণই ঠিক করবে এ দেশে কে ক্ষমতায় থাকবে।

    রোববার দুপুরে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সুনন্দা উব্রতারা দুর্গা ও কালী মন্দির পরিদর্শনকালে এক ভক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা গান্ধী অতীতে দুই দেশের সম্পর্কের যে বীজ বপন করেছিলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তা এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আগে আমরা একে অপরের পাশাপাশি ছিলাম, এখন আমরা এক অপরের আরও কাছাকাছি এসেছি। বাংলাদেশের সব ভালো কাজে পাশে থাকবে ভারত।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. প্রিযুষ কান্তি দাস। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- স্থানীয় সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এবং শেরে-ই বাংলা একে ফজলুল হকের প্রপৌত্র ফাইয়াজুল হক রাজু।

    এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা আক্তার, আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম জামাল হোসেন, সহ-সভাপতি অশোক কুমার হাওলাদার, সম্পাদক আ. মজিদ সিকদার বাচ্চু, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অপূর্ব কুমার বাইন রন্টু ও সীমা রানী শীল প্রমুখ।

  • টেকনাফে ৮ লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার

    টেকনাফে ৮ লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার

    কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক অভিযানে বস্তার ভেতর থেকে ৮ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বিজিবি। আজ রোববার সকালে টেকনাফ-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়ার নোয়াখালীপাড়া এলাকায় এসব ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়।

    টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, চারটি বস্তার ভেতর থেকে ৬ লাখ ইয়াবা বড়ি পাওয়া গেলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে আসেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল) নিহাদ আদনান তাইয়ান। উদ্ধার করা এসব ইয়াবার আনুমানিক দাম ১৮ কোটি টাকা।

    অপরদিকে একই সময়ে টেকনাফ-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া নৌ-ঘাট এলাকার সাগরে ভাসমান অবস্থায় একটি ইয়াবার বস্তা উদ্ধার করেছে বিজিবি। পরে ওই বস্তার ভেতর থেকে ২ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    বিজিবির অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা বড়ি। ছবি: সংগৃহীত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আছাদুদ জামান চৌধুরী বলেন, সাগরে একটি বস্তা ভাসতে দেখে বিজিবি। পরে বস্তাটির ভেতর থেকে ২ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। উদ্ধার করা এসব ইয়াবার দাম ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এসব ইয়াবা ধ্বংস করা হবে।

    সারা দেশে সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে পাচারকারীরা সাগরপথে ট্রলারে করে ইয়াবার চালান মিয়ানমার থেকে এনে টেকনাফ-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের আশপাশে মজুতের চেষ্টা করছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ ও বিজিবি।

  • বরিশালে সুইপারকে ঘর ভাড়া দেয়ায় বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা

    বরিশালে সুইপারকে ঘর ভাড়া দেয়ায় বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা

    বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার উত্তর রহমতপুর গুচ্ছগ্রাম এলাকায় অবলা রানী নামে (৭০) এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ৪ নারীর বিরুদ্ধে।

    রোববার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ওই চার নারী পলাতক রয়েছেন।

    অবলা রানী গুচ্ছগ্রাম এলাকার ধিরেন চন্দ্র দাসের স্ত্রী। আর অভিযুক্তরা হলেন- গুচ্ছ গ্রাম এলাকার শিল্পি বেগম, হেলেনা বেগম, রোজিনা বেগম ও কমলা বেগম।

    স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশী শিল্পি বেগম, হেলেনা বেগম, রোজিনা বেগম ও কমলা বেগমের বাড়ির সামনে দিয়ে অবলা রানীর বাড়ি যাওয়ার পথ। মাস খানেক আগে নিবাস চন্দ্র দাস নামে এক পরিচ্ছন্নকর্মীকে (সুইপার) ঘর ভাড়া দেন অবলা রানী। ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করার সময় নিবাসের শরীর থেকে দুর্গন্ধ আসার অজুহাত তুলে প্রায়ই অবলাকে গালমন্দ করতেন শিল্পি বেগমরা।

    এ নিয়ে শনিবার নিবাস চন্দ্র দাসের সঙ্গে ওই চার নারীর কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির মালিক অবলা রানীর সঙ্গেও তাদের বাক বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় লাঠির আঘাতে অবলা রানী অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে স্বজনরা উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    বিমানবন্দর থানার ওসি মো. আব্দুর রহমান মুকুল জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে ওই চার নারী পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

  • মাদারীপুরে মেলায় ঢোকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০

    মাদারীপুরে মেলায় ঢোকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০

    একটি মেলায় ঢোকা নিয়ে দুজনের বাগ্‌বিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি হয়েছিল। আর এর জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মাদারীপুরে ১০ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত দুজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আজ শনিবার ভোরে শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    পুলিশের আহত সদস্যরা হলেন সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জমান (৩৫), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) উত্তম দাস (২৭), পুলিশ সদস্য মো. দেলোয়ার (২৫), সেলিম মিয়া (২২), মো. নজরুল (২৩), সুকদেব (২৫), লিয়াকত (২৪)। অন্যদের নাম জানা যায়নি।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, গতকাল শুক্রবার রাতে শহরের কুটির শিল্প ও আনন্দ মেলায় প্রবেশ করা নিয়ে বাগেরপাড় এলাকার অন্তর হাওলাদারের (২২) সঙ্গে হরিকুমারিয়া এলাকার রাসেদুল ইসলাম ওরফে খোকন তালুকদারের (২০) হাতাহাতি হয়। এরই জেরে ভোরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের আলমগীর হোসেনের দোকান ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ও লাইনের অতিরিক্ত পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের সময় ১০ পুলিশ সদস্যসহ আহত হন অন্তত ৩০ জন। তাঁদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় আমার দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। দোকানের তিনটা ফ্রিজ ভেঙে মালামাল লুট করেছে। দোকানে কেউ ছিল না। কারা এ কাজ করেছে তাদের দেখিনি।’

    মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) বদরুল আলম মোল্লা বলেন, ‘মেলায় ঢোকা নিয়ে স্থানীয় দুই তরুণের হাতাহাতি হয়। এরই জের ধরে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ৩০ থেকে ৪০টি রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ ঘটনার পরে আমরা ৫ জনকে আটক করেছি। ঘটনার পর থেকে মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করে দেয় পুলিশ। এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • চট্টগ্রামে বেওয়ারিশ হিসেবে দুই ‘জঙ্গির’ লাশ দাফনের প্রস্তুতি

    চট্টগ্রামে বেওয়ারিশ হিসেবে দুই ‘জঙ্গির’ লাশ দাফনের প্রস্তুতি

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের পর ছিন্নভিন্ন দুই ‘জঙ্গির’ পরিচয় শনাক্ত হয়নি। লাশ দুটি বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামকে দাফনের জন্য দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত লাশ দুটির স্বজন দাবি করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মর্গে কেউ আসেননি।

    এ দিকে র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলি, অস্ত্র, বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অজ্ঞাতপরিচয় চার জঙ্গির বিরুদ্ধে গতকাল শুক্রবার রাতে মামলা করেছে র‍্যাব।

    গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত উপজেলার উত্তর সোনা পাহাড় এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালায় র‍্যাব। সেখান থেকে একটি একে ২২ রাইফেল, তিনটি পিস্তল, পাঁচটি গ্রেনেড ও শক্তিশালী চারটি বোমা আইআইডি (ইম্প্রভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) উদ্ধার করা হয়। বিস্ফোরণের পর পাওয়া যায় দুটি ছিন্নভিন্ন লাশ। দুজনেই পুরুষ। বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর হতে পারে। পরে বাড়িটির সামনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার মুখপাত্র কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের জানান, অস্ত্রগুলোর সঙ্গে গুলশানের হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের মিল রয়েছে। চট্টগ্রাম আদালত ভবনে হামলার পরিকল্পনা করতে জেএমবির সক্রিয় সদস্যরা বাড়িটিতে অবস্থান করেছিলেন। অভিযান শুরুর পর বাড়িটির মালিক মাজহার চৌধুরী ও বাড়িটির দেখাশোনাকারী মো. হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায় র‍্যাব।

    আজ দুপুর ১২টার দিকে দেখা যায়, বাড়িটির সামনে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা পাহারায় রয়েছেন। দরজায় তালা দেওয়া। বাড়িটির সঙ্গে লাগোয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দারা কেউ বাড়িটির সামনে দিয়ে যাতায়াত করেননি। তারা মহাসড়কের পশ্চিম পাশ দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে এলাকার লোকজন কিছুটা ভয়ে রয়েছেন। আবার কখন কী হয়ে যায়। উত্তর সোনা পাহাড় এলাকার বাসিন্দা কৃষক আবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনো ভয়ে আছি।’

    র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনায় শুক্রবার রাতেই র‍্যাবের ফেনী ক্যাম্পের উপসহকারী পরিচালক মো. আজাদ বাদী হয়ে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হয়নি। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লাশ দুটির ডিএনএ নমুনা নিয়েছে ক্রাইম সিন ইউনিট। পরবর্তীতে লাশের স্বজন দাবিদার কেউ আসলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    জোরারগঞ্জ থানার পরিদর্শক তদন্ত মোজাম্মেল হক র‍্যাবের করা মামলাটি তদন্ত করছেন। তিনি বলেন, পলাতক জঙ্গিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

    চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ সূত্র জানায়, কোনো ওয়ারিশ না আসায় লাশ দুটি আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম কর্তৃপক্ষ নিয়ে গেছে। আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক সেলিম নাছের বলেন, আজ রাতে নগরের চৈতন্য গলি কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দুটি দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

  • কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ, শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেফতার

    কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ, শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেফতার

    বগুড়ায় এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণকারি যুব শ্রমিকলীগ নেতা শাহিনুর রহমানকে গ্রেফতারের করেছে ডিবি পুলিশ। জেলা ডিবি পুলিশ বলছে, বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শাহিনুরকে গ্রেফতার করার পর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    গ্রেফতারকৃত পরিবহন ব্যবসায়ী শাহিনুর রহমান (৪৫) বগুড়া জেলা যুব শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকার মৃত ওয়াজেদ আলীর পুত্র। সে বগুড়া-ময়মনসিংহ ও বগুড়া-রাজশাহীসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারি ঝটিকা পরিবহনের মালিক। ঝটিকা বাসের নাম-অনুসারে সে বগুড়ায় ঝটিকা শাহীন নামে পরিচিত।

    বগুড়ার শাজাহানপুর থানা পুলিশ জানায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে শাহিনের পরিচয় করিয়ে দেয় তা এক বন্ধু। এরপর শাহিন নিজের জীপ গাড়ীতে তুলে সেই ছাত্রীকে ফুলতলা এলাকার সিয়েস্তা হোটেলে নিয়ে যায়। হোটেলের ছাদে নেশা জাতীয় কিছু খাইয়ে একটি রুমে নিয়ে টাকে ধর্ষণ করে শাহীন। ধর্ষণ ঘটনা ফাঁস না করতে হুমকি দেয় এবং মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও ধারণ করে। কৌশলে মেয়েটি হোটেল থেকে পালিয়ে শাজাহানপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করে। এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে বগুড়া ডিবি পুলিশ শাহীনকে রাতেই বগুড়া শহরের চারমাথা থেকে গ্রেফতার করে।

    বগুড়া ডিবি পুলিশের ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, ৩ অক্টোবর রাতে বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর সরকারী এম মনসুর আলী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সম্মান শেষ বর্ষের এক ছাত্রী (২৪) গ্রেফতারকৃত শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। সেই মামলার প্রেক্ষিতে রাতেই শহরের চারমাথা এলাকা থেকে শাহিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৪ অক্টোবর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    বগুড়ার শাজাহানপুর থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, কলেজ ছাত্রীর দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি শাহিনুর রহমান তার পূর্ব পরিচিত। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে প্রলোভন দিয়ে শহরের ফুলতলা এলাকার সিয়েস্তা নামের একটি অভিজাত হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।

  • অস্ত্র-গুলি ও পৌণে সাত লক্ষ ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮

    অস্ত্র-গুলি ও পৌণে সাত লক্ষ ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮

    ৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ৩টায় পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ার শেখ কামাল ব্রিজের দক্ষি পাশ থেকে তাদের আটক করা হয়।

    র‌্যাব-৮ জানায়, নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারে যে, পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার শেখ কামাল ব্রীজের দক্ষিণ পাশে হইতে, চাঞ্চল্যকর মোঃ ইব্রাহীম (২৫) ও মোঃ আলম (৩০) কে আটক করে।

    আটক ইব্রহিম টেকনাফ থানার পশ্চিম পানখালী এলাকার মৌলভী মো ঃইউনুসের ছেলে এবং আলম উখিয়া থানার বালুখালী এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ জানতে পারে যে, আমদানীকৃত নিষিদ্ধ অবৈধ মাদকদ্রব্য (ইয়াবা) চোরাইভাবে মায়ানমার হতে, সমুদ্রপথে ট্রলারযোগে আনিয়া প্রাইভেটকার যোগে ধৃত ব্যক্তি গন ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে।

    তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ এর বিশেষ আভিযানিক দল পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার শেখ কামাল ব্রীজের নিকট হতে দক্ষিণ পাশে ৬ অক্টোবর ২০১৮ সাড়ে ৩টায় স্থানীয় জনসাধারন এর উপস্থিতিতে, ধৃত আসামীরে কাছথেকে তল্লাশী করে ৬,৭৭,০৫৬ (ছয় লক্ষ সাতাত্তর হাজার ছাপান্ন) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট, ১টি বিদেশী তৈরি পিস্তল, ২টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৪টি পিস্তলের গুলি, ৪টি মোবাইল, ৪টি মোবাইলের সিমকার্ড ও নগদ ১৯৭৫/- টাকা উদ্ধার করা হয়।

  • বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় : শ্রিংলা

    বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় : শ্রিংলা

    ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের জনগণই ঠিক করবে তারা কি করবে। এ বিষয়ে ভারতের কোনো বক্তব্য নেই।

    শুক্রবার চাঁদপুরের ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের মহাত্মা গান্ধি ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি এদেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ দিন দিন এগিয় যাচ্ছে। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, পাওয়ার প্ল্যান্টসহ বড় বড় প্রকল্পের কাজ চলছে।

    রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে তাদের অবস্থানে ফিরিয়ে দিতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ভারত তিন দফায় তাদের মানবিক সহায়তা প্রদান করেছেন। আমাদের এ মানবিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। আমরা আগামী শীতে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের জন্য গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করবো।

    তিনি বলেন, ভারত চায় রোহিঙ্গারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাক। সকল মৌলিক অধিকার ভোগ করুক। রোহিঙ্গা সমস্যার শুরু থেকে ভারত বাংলাদেশের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। ভারত রোহিঙ্গাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান।