Category: প্রশাসন

  • বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার জেলেরা পাবে সরকারী চাল

    বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার জেলেরা পাবে সরকারী চাল

    ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সময় বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার দুই লাখ ২৭ হাজার ৯৪৩টি জেলে পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২০ কেজি করে চাল দেবে সরকার।

    সম্প্রতি এ বরাদ্দের অনুমোদন দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে চাল বরাদ্দ দিয়ে আদেশ জারি করবেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস জানান, ওই চিঠিতে বলা হয়েছে-বরাদ্দ এ ভিজিএফ চাল মা ইলিশ আহরণে বিরত থাকার জন্য জেলা প্রশাসক স্থানীয়, দুঃস্থ ও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মধ্যে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুসরণ করে যথানিয়মে বন্টন করবেন এবং হিসাব সংরক্ষণ করবেন। জেলা প্রশাসককে এ বরাদ্দের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যকে অবহিত করতে হবে।

    সূত্রমতে, ইলিশ রক্ষায় প্রধান প্রজনন মৌসুম ধরে আগামী ৭ থেকে ২৮ অক্টোবরে পর্যন্ত ২২দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সময় ইলিশ আহরণে বিরত থাকার সময় সরকারীভাবে বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার ৮৮ হাজার ১১১ জন, পটুয়াখালীর ৪৫ হাজার ৬৪২ জন, বরিশালের ৪৩ হাজার ৬৪৪ জন, বরগুনার ৩৪ হাজার ২১১ জন, পিরোজপুরের ১৪ হাজার ৮৭৫ জন ও ঝালকাঠি জেলার এক হাজার ৪৬০ জন জেলেকে চাল দেয়া হবে।

    একইসাথে ইলিশ আহরণে বিরত থাকার জন্য দেশের ২৯টি জেলার ১১২টি উপজেলায় জেলেদের এ সহায়তার জন্য সাত হাজার ৯১৪ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে চাঁদপুরের ৩৬ হাজার ৫৭৫ জন, লহ্মীপুরের ৩৭ হাজার ৩২৬ জন, ফেনীর ৫০০ জন, নোয়াখালীর আট হাজার ৫২৪ জন, কক্সবাজারের ১০ হাজার ৫০০, চট্টগ্রামের ১৭ হাজার ৫০০, শরীয়তপুরের ১৬ হাজার ৩৫৫ জন, জামালপুরের পাঁচ হাজার, নরসিংদীর ৫০০ জন, মানিকগঞ্জের সাত হাজার ৭৭৯ জন, মাদারীপুরের এক হাজার ৫০০, ঢাকার ৮৫০, সিরাজগঞ্জের এক হাজার ৫০০, রাজশাহীর এক হাজার ৮০০, নাটোরের ৫০০, পাবনার এক হাজার ২৫০, বাগেরহাটের পাঁচ হাজার ১৯৪, খুলনার দুই হাজার ১০০, কুষ্টিয়ার এক হাজার ২৬৬, কিশোরগঞ্জের ৬৯৯, রাজবাড়ীর চার হাজার ৬৪০, ফরিদপুরের দুই হাজার ২৩৭ ও মুন্সিগঞ্জের তিন হাজার ৬৭১ জন জেলে পরিবার ২০ কেজি করে চাল সহায়তা পাবেন।

  • মেডিকেল কর্মকর্তাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মামলা

    মেডিকেল কর্মকর্তাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মামলা

    বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন লুৎফর রহমান সড়কের ভাড়া বাসায় ইউনিয়ন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মারুফা বেগম হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।

    রবিবার রাতে নিহতের বড় ভাই মো. জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর বিমান বন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারীতের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করেন। ওই থানার উপ-পরিদর্শক ফিরোজ আলম মুন্সিকে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    নিহত মারুফা জামালপুর জেলার বেলুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বরিশাল নগরীর কাশীপুর গণপাড়া এলাকার বাসিন্দা জহিরুল হায়দার চৌধুরীর স্ত্রী ছিলেন। তিনি নগরীর কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা পদে কর্মরত ছিলেন।

    তার স্বামী জহিরুল হায়দার চৌধুরী ঢাকায় প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে কর্মরত। নিঃসন্তান মারুফা নগরীর নথুল্লাবাদ লুৎফর রহমান সড়কের জনৈক সুলতান আহমেদের মালিকানাধীন ‘শরীফ মঞ্জিলের’ তৃতীয় তলার একটি ফ্লাটে একা ভাড়া থাকতেন। ওই বাসায় গত শনিবার রাতে খুন হন তিনি। পরদিন রবিবার দুপুরে ওই বাসার দরজা ভেঙে মারুফার বিবস্ত্র রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে নগরীর বিমানবন্দর থানা পুলিশ।

    সূত্র-বিডি প্রতিদিন

  • বরিশালের বাবু কম্পিউটার শিখতে গিয়ে জেএমবির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে

    বরিশালের বাবু কম্পিউটার শিখতে গিয়ে জেএমবির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। সহিংস কোনো ঘটনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর আবার নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়াই ছিল জেএমবি সদস্যদের লক্ষ্য।

    তবে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সতর্কতা ও জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে জঙ্গিদের সেই চেষ্টা বাব বার লক্ষভ্রষ্ট হচ্ছে। গত একমাসে র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ৪ সদস্যকে। এরমধ্যে জেএমবি’র সামরিক শাখার এক সদস্যও রয়েছে। গ্রেফতারের সময় জেএমবির সদস্যদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন ধরনের ইসলামী জিহাদি বই।

    বরিশাল র‌্যাব-৮ এর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে বরগুনা পৌরসভা এলাকার উকিল পট্টি ও বাথালি পট্টি থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ২ জন সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৮। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বরগুনা সদর উপজেলার পোটকাখালী গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো. মেহেদী হাসান ওরফে রাসেল ওরফে হাসান (৩৫) এবং একই জেলার কুমারখালী গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে আবু সালেহ সিকদার ওরফে আব্দুল্লাহ (৩০)। এ সময় আটক মেহেদী হাসানের কাছ থেকে বিদেশে তৈরি একটি রিভলবার, ৪ রাউন্ড গুলি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন ধরনের ইসলামী জিহাদী বই উদ্ধার করে র‌্যাব।

    এর আগে গত শনিবার রাতে বরিশাল নগরীর জিয়া সড়ক একতা সরণী থেকে জিহাদি লিফলেট এবং বিদেশি অস্ত্র ও গুলিসহ জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য আতিকুর রহমান বাবুকে (২৪) আটক করে র‌্যাব-৮। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বরগুনা থেকে অপর দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। বাবু বরগুনা সদর উপজেলার রায়ভোগ মোড়খালী গ্রামের মৃত গোলাম মাতুব্বরের ছেলে।

    বরিশাল র‌্যাব-৮ এর কার্যালয় থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বরগুনার উকিল পট্টিতে গত ১০ বছর ধরে মেহেদী হাসান একটি কম্পিউটার এবং ফটোকপির দোকান পরিচালনা করছে। কম্পিউটার প্রশিক্ষণের নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রপন্থি সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ স্থাপন হয়। তার দোকানটি প্রশিক্ষণ এবং সমন্বয়ের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সে নিজেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। সে উগ্রপন্থী ভিডিও, ওয়াজ ও তথ্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষিত সদস্যদের মুঠোফোনে সরবরাহ করত। নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের জন্য মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করত সে। গত রোববার রাতে উকিলপট্টি থেকে মেহেদীকে গ্রেফতারের পর তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয় তার দলের অপর সদস্য আব্দুল্লাকে। এর আগে গত শনিবার রাতে জেএমবির সামরিক শাখার সক্রিয় সদস্য আতিকুর রহমান বাবুকে ৬ রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ৩৫৫টি জিহাদি লিফলেট, নিষিদ্ধ ইসলামী জিহাদি বইসহ আটক করে র‌্যাব।

    র‌্যাব জানায়, বরগুনার উকিলপট্টি এলাকার একটি দোকানে কম্পিউটারে শিখতে গিয়ে জেএমবির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বাবু। সে চাঁদা দিয়ে জেএমবি’র সদস্য হয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নেয় এবং তার কাজ ছিল বিভিন্ন জেলায় ঘুরে সংগঠনের জন্য সাথি সংগ্রহ করা।

    এর আগে গত ৩১ আগস্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা বরিশাল নগরীর দড়গাবাড়ি রোড এলাকা থেকে জেএমবির সক্রিয় সদস্য আব্দুল্লাহ আল মিরাজ ওরফে খালেদ সাইফুল্লাহ ওরফে সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকেও র‌্যাব সদস্যরা একটি পিস্তল, দু’টি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, ১৬টি জিহাদি বই, একটি সিডি, দুটি পাসপোর্টসহ বিভিন্ন প্রকার ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি উদ্ধার করে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা বেশ ভালো। সামনে নির্বাচন। হয়ত পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে জেএমবির সদস্যরা বিচ্ছিন্নভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।

    চলমান অভিযানের কারণে ধারণা করা হয়েছিল, জেএমবি বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। খুব শিগগিরই আর সংগঠিত হতে পারবে না। কিন্তু এরা আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। বিস্তৃতিটা ভয়াবহ পর্যায়ে যায়নি। তারা বিচ্ছিন্নভাবে হয়তো আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। অচিরেই হয়তো গ্রেফতার হবে তারা।

  • ভোগান্তিতে বন্দীরা- দুর্নীতির আতুরঘর বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার

    ভোগান্তিতে বন্দীরা- দুর্নীতির আতুরঘর বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার

    “রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ”- এই স্লোগানটি বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে। কারাগার কর্তৃপক্ষও দাবি করেছেন, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রতিটি বন্দীকে রাখা হয় নিবিড় পর্যবেক্ষণে। কঠোর অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে দেখানো হয় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পথ। তবে বাস্তবতার চিত্র ভিন্ন। কারাগারের বন্দী ও স্বজনদের প্রতিনিয়তই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এখানে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পুরো কারাগারজুড়েই চলছে টাকার খেলা আর জমজমাট মাদক ব্যবসা। যার যত টাকা ও প্রভাবশালী, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতরে তার ততো দাপট। টাকাওয়ালারা ঘরের ন্যায় জেলখানাতেও বসবাস করেন আরাম-আয়েশে। আর যাদের টাকা নেই তাদের কারা কর্তৃপক্ষের নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তবে কারাগারের বাইরে এসব ঘটনা সহসা প্রকাশ করেন না কেউ। কারণ বেশিরভাগ হাজতিই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মাদক সংশ্লিষ্ট অথবা অপরাধী হওয়ায় তাদের বারবার যেতে হয় কারাগারে।

    একজন হাজতি কারা গেট থেকে প্রবেশের পর থেকেই শুরু হয় কারা কর্তৃপক্ষের অর্থ আদায়ের সূচনা। এরপর জামিনে বের হওয়া পর্যন্ত হাজতিদের নিয়ে চলে তাদের অর্থ বাণিজ্য। যার ফলে কারা কর্তৃপক্ষ সব সময়ই সংবাদকর্মীদের এড়িয়ে চলেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাজতিদের কারাগারে প্রবেশের আগে তাদের নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা একটি খাতায় লিপিবদ্ধ করেন কারা কর্তৃপক্ষ। ওই খাতার নাম হলো ‘পিসি বই’। হাজতি মুখে তার পরিচয় সঠিক বললেও লেখার সময় ইচ্ছে করেই পিসি বইতে ভুল লেখা হয়। এক জন হাজতির নাম যদি হয় ‘মিজানুর রহমান’ কারা কর্তৃপক্ষ তার নাম লিখবে ‘মিজানুর বহমান’। আদালত থেকে তার জামিন মঞ্জুর হলেও ‘র’ ও ‘ব’ এর বেড়াজালে আটকে দেয়া হয় ওই হাজতিকে। গেটের দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীকে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা দিলেই ‘ব’ আবার ‘র’ হয়ে যায়। কিন্তু কেউ টাকা দিতে না পারলে জামিন আদেশের পরেও তাকে ১ দিন অতিরিক্ত জেল হাজতে থাকতে হয়। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এসব কথা জানিয়েছেন হয়রানির শিকার এক হাজতি।

    অন্য এক হাজতি জানান, আমদানিতে ১ দিন রাখার পরে হাজতিদের অপরাধ অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানেও টাকা। অনেক অপরাধী এক জায়গায় বসবাস করায় প্রায়ই হাজতিতের মধ্যে মারামারি বাধে। মারামারি করার অপরাধে তাদেরকে কেস টেবিলে (কারাগারের বিশেষ বিচার ব্যবস্থা) হাজির করা হয়। তবে কারাগারের সুবেদার, জমাদার ও সিআইডিদের টাকা দিলে পার পেয়ে যায় প্রকৃত অপরাধী। এর প্রেক্ষিতে উল্টো শাস্তি পেতে হয় নিরাপরাধীকে। যার ফলে কারাগারে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধ। একটু ভালোভাবে গোসল করার জন্যও টাকা গুণতে হয় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দীদের। প্রতিবার গোসল করার জন্য যারা ৫০ থেকে ৬০ টাকা দিতে পারছেন শুধুমাত্র তারাই পাম্পে বা বিভিন্ন সেলের সামনে গোসল করার সুযোগ পান।

    কারাগারের অভ্যন্তরে নগদ টাকা বহন করা বড় ধরনের অপরাধ। তাই বাইরে থেকে কেউ টাকা দিতে চাইলে ব্যাংক হিসেবের ন্যায় পিসি বইতে টাকা জমা হয়। কারো টাকার প্রয়োজন হলে পিসি বইয়ের মাধ্যমে ক্যান্টিন থেকে লেনদেন করেন। আর এখানেই হলো আসল দুর্নীতি। কেউ ১০০ টাকা চাইলে তাকে দেয়া হয় ৯০ টাকা। বাকি ১০ টাকা কমিশন বাবদ কেটে রাখা হয়। যদিও টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে জেলার বলেছেন, এ ১০ টাকা পিসি বই তৈরি করার জন্য নেয়া হয়। এমন নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার পিসি বই তৈরি করার জন্য কোনো টাকা বরাদ্দ না দেয়ায় তারা এই টাকাটা নিয়ে থাকেন।

    বন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা স্বজনরা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হন দেখার ঘরে। তবে টাকা থাকলে সেখানেও রয়েছে স্বস্তি। হাজতি বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসা আব্দুর রহমান জানান, ‘‘আমার ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গেলে সেখানে সিরিয়ালের অজুহাতে প্রায় ৩ ঘণ্টা বসে থেকেও দেখা করতে পারিনি। যখন এক কারা সদস্যকে ৩শ’ টাকা দিলাম সে সাথে সাথেই দেখা করিয়ে দিল।” তিনি বলেন, এমন দৃশ্য যে কেউ সেখানে দাঁড়িয়ে থাকলেই প্রতিনিয়ত দেখতে পারবে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এ টাকাটা সংগ্রহ করেন কারারক্ষী উজ্জ্বল। গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, স্পেসালভাবে কারাগারে থাকা স্বজনের সাথে দেখা করার জন্য কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে গেলেই কারারক্ষী উজ্জ্বল ৫শ’ টাকা হাতেনাতে নিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে দেন দেখা করার জন্য।

    কারাগারের সবচেয়ে বেশি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে মেডিকেলে। জানা গেছে, কারাবিধি অনুযায়ী যে রোগী আগে যাবেন তিনি মেডিকেলে সিট পাবেন। কিন্তু সেখানে চলে এর উল্টো। টাকার বিনিময়ে সুস্থদের সিট পাইয়ে দেয়া হয়। আর প্রকৃত অসুস্থরা থাকেন মেঝেতে। তবে কারা পরিদর্শকদল পরিদর্শনে গেলে অসুস্থদের বেডে রাখা হয়। কিন্তু তারা চলে গেলে পূর্বের নিয়ম চালু হয়। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মেডিকেলে ১৫ দিন থাকার জন্য ১৫শ’ টাকা এবং এক মাস থাকার জন্য ২৫শ’ টাকা দিতে হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক হাজতি জানিয়েছেন, যে কেউ দিব্যি সুস্থ হয়েও অসুস্থতার সার্টিফিকেট নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন। সেখানে বসে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা, খাওয়া-দাওয়া এবং মোবাইলে কথা বলার অপার সুযোগ থাকে। কারা চিকিৎসকের সঙ্গে আঁতাত করে সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করে দেয় দালালরা। এই সার্টিফিকেটের জন্য প্রতিজন বন্দীকে দিতে হয় ১ থেকে ২ হাজার টাকা। এ বিষয়ে জেলারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসকল বিষয়ে কারা মেডিকেলের দায়িত্বরত ডাক্তার বলতে পারবেন। পরে কারা মেডিকেলের দায়িত্বরত ডাক্তার খুরশিদ আলমের মুঠোফোনের ০১৭১৭১১২৯.. নাম্বারে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

    অভিযোগ রয়েছে, প্রতিমাসে শুধুমাত্র মেডিকেল থেকে আয় হয় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। চিকিৎসক নিজেও এর একটি অংশ পান। কারা মেডিকেলে দায়িত্ব পালন করছেন ডাক্তার খুরশিদ আলম।

    কারাগারের অভ্যন্তরে ফেন্সিডিল বা ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে খোলাবাজারের মত অবাধেই। কারাগারে বিক্রি হওয়া মাদকের বাইরেও রয়েছে ঘুমের ট্যাবলেটের ব্যবস্থা। কারাঅভ্যন্তরে কারারক্ষীরা নিজেরাই এসব মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে। তবে কারাগার থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার। বিশেষ করে সিআইডি ও মেডিকেল চিফ রাইটার এই মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। কারণ, সিআইডি সদস্যদের গেটে তল্লাশি করা হয়না। তাই কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই কারাঅভ্যন্তরে মাদক প্রবেশ করান তারা। তবে মাদকের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জেলার।

    কারাগারের অভ্যন্তরে ব্যক্তিগত মোবাইলও অবৈধভাবে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। কারাগারে এই মোবাইলের সাংকেতিক নাম ‘ময়না পাখি’। মোবাইলের মালিক নিজেও ব্যবহার করেন এবং ভাড়াও দেন। ফলে ভিতরের সকল খবরা-খবর এক নিমেষেই বাহিরে চলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, যেসকল সন্ত্রাসী কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে, তারা বাইরের অপরাধ জগতের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছে মোবাইলের মাধ্যমে। যার ফলে যে কোনো অপরাধকর্মকা-সহ মাদক ব্যবসা নির্বিঘেœ পরিচালনা করতে সক্ষম হয় তারা কারাগারে বসেই।

    জানা গেছে, কারাগারের সব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ খবর রাখার জন্য ডিআইজি প্রিজনের পক্ষ থেকে একজন সিআইডি সদস্য রয়েছেন বরিশাল কারাগারে। তবে এই সিআইডি সদস্য ডিআইজির কাছে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সব দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা গোপন করে থাকেন। কারণ, কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আঁতাত করে এখান থেকে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পকেট ভারী করছেন তিনি। যে সব কয়েদী কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে থাকেন তারাই রাজত্ব করেন পুরো কারাগারজুড়ে। আর যারা কারা কর্তৃপক্ষের মন জোগাতে ব্যর্থ হন, তাদের সইতে হয় নির্যাতন। আর তাদের কাজ করতে হয় ফুলের বাগান, সুইপার চালি, তাঁত চালি বা রান্না ঘরে।

    একাধিক বন্দী জানান, খাবারের তালিকায় মাছের যে সাইজ উল্লেখ থাকে তা দেয়া হয়না। তালিকায় ইলিশ, রুই, কাতলসহ বিভিন্ন মাছ খাওয়ানোর কথা থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই দেয়া হয় পুকুরে চাষ করা পাঙাস মাছ। আর যে মাংস খাওয়ানো হয় তাও পরিমাণে খুব কম। তবে টাকার বিনিময়ে ক্যান্টিন থেকে চড়া মূল্যে মাছ ও মাংস কিনে খেতে পারেন বন্দীরা। তাই যাদের সামর্থ্য আছে তারাই কারাগারে বসে ভালো-মন্দ কিনে খেতে পারেন। সদ্য জেল থেকে বের হওয়া এক হাজতি জানান, জেল খানার খাবারের মান খুবই নিম্নমানের। বন্দীদের সংখ্যা বেশি দেখিয়ে অতিরিক্ত খাবার বরাদ্দ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। পরে তা বাইরে বিক্রি করে দেয়। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কারাগারের প্রধান গেট থেকেই ভিতরে প্রবেশ করে এই সব নিম্নমানের খাবার। খাবার ভিতরে প্রবেশ করানোর সময় নিম্নমানের অভিযোগ তুলে তা গেটে আটকে দেন গেট ইনচার্জ। এ নিয়ে চলে খাবার সরবরাহকারী ও গেট ইনচার্জের দেনদরবার। ঘণ্টাখানেক পর ওই খাবারই ভালোমানের হিসেবে কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নামের ভুলসংশোধনী, আমদানি, ওয়ার্ড, গোসল, খাবার, ক্যান্টিন, হাজতিদের টাকার কমিশন, দেখার ঘর, মেডিকেল অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রতিমাসে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা উপার্জন হয় অবৈধভাবে। জেলার, ডেপুটি জেলার থেকে শুরু করে হাসপাতালের চিকিৎসক, সুবেদার, কারারক্ষীরা পর্যন্ত এই টাকার ভাগ পান। বর্তমানে জেল সুপারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোঃ নুরুজ্জামান। তাই তিনি বেশি খোঁজ খবর না নেয়ায় কারাগারের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন জেলার মোঃ ইউনুস। তিনি নিজেই কারাগারের সকল অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত।

    উল্লেখ্য, ১৮২৯ সালে ২০.৩ একর জমির ওপর বরিশালে কারাগার নির্মাণ করা হয়। পরে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই এটিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার হিসেবে ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার। তবে জেলা কারাগার থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত করা হলেও সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি একাংশও। মাত্র ৬৩৩ জন ধারণ ক্ষমতার বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে বন্দী রয়েছেন ১২৬০ জন। এদের মধ্যে ফাঁসির আসামি ৭২ জন। যার মধ্যে ২ জন নারী। সিনিয়র জেল সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলার ও চিকিৎসকসহ বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে মোট ৩৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এখানে পুরুষ কারারক্ষীর সংখ্যা ২৫১ জন। এর মধ্যে পদ শূন্য রয়েছে ১১টি। মহিলা কারারক্ষী হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন ১১ জন। এছাড়া এখানে ডেপুটি জেলারের পদ রয়েছে ৪টি। এর মধ্যে ২টিই শূন্য।

    কারাগারের ভিতর ও বাহিরের সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জেলার মোঃ ইউনুস জামান বলেন, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে যে জনবল রয়েছে তা ৬৩৩ বন্দীর জন্য। কিন্তু কারাগারে প্রায় দ্বিগুণ বন্দী রয়েছেন। তাই এখানকার নিরাপত্তা জোরদার করতে আরো কারারক্ষী প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

    এ বিষয়ে জানতে জেল সুপারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোঃ নুরুজ্জামানের ব্যবহৃত নম্বরে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

    এমন বাস্তবতায় কারা ডিআইজি (প্রিজন) মোঃ ছগির মিয়ার সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, কারাগারে যদি কোনো দুর্নীতি ঘটে তাহলে সকল অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ব্যার্থতার দায়ভার ও দুদক এর সম্মুখীন হওয়া থেকে বাঁচতে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল সিটি মেয়র অাহসান হাবিব কামাল।

    ব্যার্থতার দায়ভার ও দুদক এর সম্মুখীন হওয়া থেকে বাঁচতে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল সিটি মেয়র অাহসান হাবিব কামাল।

    ব্যার্থতার দায়ভার ও দুদক এর সম্মুখীন হওয়া থেকে বাঁচতে আগামী ৪ অক্টোবর পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল সিটি মেয়র অাহসান হাবিব কামাল। আজ সোমবার বেলা ১২টার দিকে নিজ বাস ভবনে ডাকা সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই ঘোষণা দেন। অর্থ নৈতিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে কোন হস্তক্ষেপ করতে না দেয়ায় তিনি এ সিধান্ত নেন। আগামী ৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন বলে জানান।

     আগামী ২৩ অক্টোবর নির্ধারিত পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ২২ দিন আগেই তার এ পদত্যাগের ঘোষণায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।

    সোমবার দুপুরে নগরীর কালুশাহ সড়কের নিজবাসায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে এ ঘোষণা দেন মেয়র আহসান হাবিব কামাল।

    সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অদৃশ্য চাপের কারণে আগামী ৪ অক্টোবর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নির্ধারিত মেয়াদের আগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়ায় নগরবাসীর কাছে আমি ক্ষমা চাই।

    মেয়র কামাল জানান, তার মেয়াদ শেষ হতে এখনো ২২ দিন বাকি। তবে তাকে নগর ভবনের কোনো কাজই পরিচালনা করতে দেয়া হচ্ছে না। নগর ভবনের তহবিলে প্রায় ৬০ কোটি টাকা জমা থাকার পরও অদৃশ্য এক শক্তি নগর উন্নয়ন, রাস্তাঘাট মেরামত, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, সড়ক বাতি কেনা, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, স্টেশনারি মালামাল কেনা, নগরবাসীর সেবাসহ দাফতরিক কাজকর্ম করতে বাধা দেয়া হচ্ছে।

    আহসান হাবিব কামাল বলেন, ২০১৩ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে তিনি জনগণের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন। গত কয়েক বছর ধরে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নগর ভবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম করে আসছিলেন। কিন্তু গত জুন মাস থেকে অদৃশ্য শক্তির কারণে তার আর্থিক ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। তিনি নগর ভবন এবং নগরবাসীর জন্য কোনো সেবামূলক কাজ করতে পারছেন না। তাই এই পদ আকড়ে থাকা অর্থহীন। এ কারণে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার তিনি তার মেয়াদের সব শেষ অফিস করবেন। আগামী ৪ অক্টোবর নিয়মানুযায়ী তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।

    ওই অদৃশ্য শক্তির পরিচয় জানতে চাইলে মেয়র কামাল বলেন, এটা বরিশালের সবাই, বিশেষ করে সাংবাদিকরা জানেন। বিরোধীদলের একজন লোক হয়ে হয়রানির আশঙ্কায় ওই শক্তির নাম বলতে চাই না। ওই অদৃশ্য শক্তি সাংবাদিকদের খুঁজে বের করার অনুুরোধ জানান তিনি।

    ২০১৩ সালের ১৫ জুন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে (প্রয়াত) হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।

    ওই বছরের ২৩ অক্টোবর মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। সে হিসাবে আগামী ২৩ অক্টোবর মেয়র হিসেবে তার পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা। কিন্তু চাপের মুখে স্বাভাবিক কাজ করতে না পেরে নির্ধারিত মেয়াদের ২২ দিন আগে সংবাদ সম্মেলন ডেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মেয়র কামাল।

  • ডা. সুসানে গীতি দেশের প্রথম নারী মেজর জেনারেল

    ডা. সুসানে গীতি দেশের প্রথম নারী মেজর জেনারেল

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম নারী মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ডা. সুসানে গীতি।

    সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সামছুল হক রোববার সেনা সদরদফতরে তাকে মেজর জেনারেল পদবির র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সুসানে গীতির স্বামী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুল্লাহ মো. হোসেন সাদ (অবসরপ্রাপ্ত) একজন সফল সামরিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন।

    মেজর জেনারেল সুসানে গীতি ১৯৮৫ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নারী ডাক্তার হিসেবে ক্যাপ্টেন পদবিতে যোগদান করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথম নারী হিসেবে হেমাটোলজি’তে এফসিপিএস ডিগ্রী অর্জন করেন।

    এছাড়া তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন এবং বিভিন্ন সামরিক হাসপাতালে প্যাথলজি বিশেষজ্ঞের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সূত্র : আইএসপিআর।

  • ১৬৪৩০’ নম্বরে আইনি সহায়তা পেয়েছেন ৩২ হাজার

    ১৬৪৩০’ নম্বরে আইনি সহায়তা পেয়েছেন ৩২ হাজার

    কাজী সাইফুলঃ

    দরিদ্র, অসহায়, নির্যাতিতসহ পিছিয়ে পড়া সব শ্রেণিপেশার মানুষের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে ‘১৬৪৩০’ নম্বরে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়।

    টোল ফ্রি এই নম্বরটির যাত্রা শুরুর পর থেকে এতে ফোন করে আইনি সহায়তা নিয়েছেন ৩২ হাজার ৮৮৬ জন। এর মধ্যে নারী ৯ হাজার ৮৮৭ জন এবং পুরুষ ২২ হাজার ৯৯৯ জন। ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল টোল ফ্রি ১৬৪৩০ নম্বরটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    এরপর থেকেই সরকারি আইনি সহায়তায় ‘জাতীয় হেল্পলাইন’ হিসেবে নম্বরটি ব্যবহৃত হচ্ছে। যা সরকারি অর্থায়নের মাধ্যমে ‘সরকারি আইনি সেবার মানোন্নয়নে সহায়তা প্রদান’ প্রকল্পের অধীনে জাতীয় পর্যায়ে কাজ করছে এই কলসেন্টার সার্ভিস। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল টোল ফ্রি সার্ভিসটি চালুর পর একই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ১৫ জন নারী-পুরুষ এর মাধ্যমে সেবা নিয়েছেন।

    এরপর ২০১৭ সালে সেবা নেন ১১ হাজার ১০৬ জন। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৬ জন নারী এবং ৭ হাজার ৬৭৯ জন পুরুষ, অর্থাৎ মোট ১০ হাজার ৭৬৫ জন ভুক্তভোগী এর সুফল ভোগ করেছেন। আর লিগ্যাল এইডের এই সফলতার পেছনে সার্বিকভাবে সহায়তা করেছে সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। লিগ্যাল এইডের এমন সফলতার পেছনে দুইটি কারণ রয়েছে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

    প্রথমত, টোল ফ্রি লিগ্যাল এইড সার্ভিসে ফোন করে মানুষ মন খুলে যে পরামর্শ চায়, তা পাচ্ছে। এবং দ্বিতীয়ত, লিগ্যাল এইড সার্ভিসে জনগণ আশানুরূপ সুবিধা পেয়ে বিষয়টিকে তারা অন্যদের মাঝে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আনিসুল হক বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে এটা তো নতুন একটি সেবা প্রকল্প। তাই এটি শুরু করতে গিয়ে আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করছি আর সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা সেবাটির আরও উন্নতিকরণের চেষ্টা করছি।

    আইনি পরামর্শ, আইনগত তথ্য, কাউন্সিলিং, মামলা/মোকদ্দমা করার প্রাথমিক তথ্য, সরকারি আইনি সেবা সম্পর্কিত যেকোনও পরামর্শ, অভিযোগ দিতে ‘১৬৪৩০’ নম্বরে টোল ফ্রি কল করে সহায়তা পাওয়া যাবে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই সেবা দেওয়া হয়। কল করা ছাড়াও নম্বরটিতে ম্যাসেজ, লিগ্যাল এইডের ফেইসবুক মেসেঞ্জার বা তাদের অ্যাপস্ ব্যবহার করেও ভুক্তভোগীদের সুবিধা দেওয়ার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নারী-পুরুষ, শিশু নির্বিশেষে যেকোনও ব্যক্তি এ সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

    সরকারি আইনি সেবা পাওয়ার যোগ্যতা: যারা দরিদ্র ও অসহায় এবং নিজ খরচে মামলা পরিচালনা করতে পারেন না তাদের জন্য সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা দেওয়া হয়।

    এই সুবিধা পেতে আবেদন করতে পারেন যারা: (ক) অসচ্ছল বা আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তি যার বার্ষিক গড় আয় সুপ্রিম কোর্টে আইনগত সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য আদালতের ক্ষেত্রে ১ লাখ টাকার বেশি নয়; (খ) কর্মক্ষম নন, আংশিক কর্মক্ষম, কর্মহীন বা বার্ষিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি আয় করতে অক্ষম এমন মুক্তিযোদ্ধা; (গ) যেকোনও শ্রমিক যার বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ টাকার বেশি নয়; (ঘ) যেকোনও শিশু; (ঙ মানব পাচারের শিকার যেকোনও ব্যক্তি; (চ) শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন এবং যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু; (ছ) নিরাশ্রয় ব্যক্তি বা ভবঘুরে; (জ) যেকোনও উপজাতি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের লোক; (ঝ) পারিবারিক সহিংসতার শিকার অথবা সহিংসতার ঝুঁকিতে আছেন এমন যেকোনও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি; (ঞ) বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন এমন যেকোনও ব্যক্তি; (ট) বিজিডি কার্ডধারী দুঃস্থ মাতা; (ঠ) এসিড দগ্ধ নারী বা শিশু; (ণ) যেকোনও প্রতিবন্ধী; (ত) আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আদালতে অধিকার প্রতিষ্ঠা বা আত্মপক্ষ সমর্থনে অসমর্থ ব্যক্তি; (থ) বিনাবিচারে আটক এমন ব্যক্তি যিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে আর্থিকভাবে অসচ্ছল; দ) আদালত কর্তৃক আর্থিকভাবে অসহায় বা অসচ্ছল বলে বিবেচিত ব্যক্তি এবং (ধ) জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আর্থিকভাবে অসহায় বা অসচ্ছল হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তি।

    এ জাতীয় আরও কিছু সেবা প্রকল্প বাস্তাবায়নে মন্ত্রণালয় থেকে কোনও উদ্দোগ নেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। তাই আপাতত লিগ্যাল এইডের সঙ্গে নতুন কিছু যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এইটুকু বলতে পারি, নিশ্চই এই সেবা সম্প্রসারিত হবে।

    এবং আরও কিছু সেবা যদি এর সঙ্গে যোগ করে জনগণের উপকরা করা যায়, তবে অবশ্যই আমরা তা করবো। কেননা, লিগ্যাল এইড সার্ভিসটি আমাদের একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প।’ জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক মো. জাফরোল হাছান বলেন, ‘লিগ্যাল এইডের কলসেন্টার সেবার পাশাপাশি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান ও প্রত্যেককে পৃথক পৃথক মোবাইল নম্বর সরবরাহের প্রক্রিয়া চলছে। এতে জনগণ আরও দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আইনি সুবিধা পাবেন বলে আমরা মনে করছি।

  • বরিশালে সংবাদকর্মিকে খুনের হুমকি কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

    বরিশালে সংবাদকর্মিকে খুনের হুমকি কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

    স্টাপ রির্পোটার।।

    সাংবাদকর্মীকে খুন জখমের হুমকি দেয়ায় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেন সাংবাদিক আল আমিন গাজী।

    যাহার জিডি নং ১৫৬৪। তিনি ওই ডায়েরিতে উল্লেখ করেন- রাজ্জাক স্মৃতি কলোনীতে ২৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় এক লোক মারা গেছেন। সেই খবর পেয়ে সংবাদকর্মী আল আমিন গাজীর মামা মোশারফ সরদার সেখানে ছুটে যান। তখন পূর্বের শত্রুতার জের ধরে কাউন্সিলর জয়নালের ছেলে অলিউর ও এনাউল তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে থেকে আল আমিন গাজী ছুটে গিয়ে তার মামাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার প্রস্তুতি নেন।

    তখন কলোনীর গেটের সামনে কাউন্সিলর জয়নালের নেতৃত্বে তার ছেলে অলিউর, এনাউল, তার ভাই নুরুলজ্জামান, আয়নালের স্ত্রী নুরুনাহার ওরফে জিরা, রাজুসহ একাধিক সন্ত্রাসী সাংবাদকর্মীকে মারধর করার জন্য ধাওয়া করে। এমনকি ওই সময় তাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করেন জয়নালসহ তার পরিবার।

    অবশ্য এই সংবাদকর্মী আল আমিন এর আগেও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কাউন্সিলর জয়নালের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বরং থানা পুলিশের বেশ কয়েকজন এসআই মর্যদার অফিসার তার পাশে থেকে সাহস শক্তি যোগাচ্ছেন। সেই শেল্টারের কারণেই কাউন্সিলর জয়নাল কেডিসিতে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন।

    পাশাপাশি শহরের বান্দরোড এলাকার তার নিয়ন্ত্রণাধীন ‘আজ’ নামক একটি আবাসিক হোটেলে দেহব্যবসাও চলছে।মুলত কাউন্সিলরের এই অনৈতিক বাণিজ্য সম্পর্কিত কোন খবর প্রকাশ পেলেই তিনি সংবাদকর্মী হয়রানির মাত্রা বাড়িয়ে দেন।’সাধারণ ডায়েরিটি তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসঅাই) নিজাম বলেন- কাউন্সিলর জয়নালের বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীর করা একটি সাধারণ ডায়েরি তিনি তদন্ত করছেন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • নাটোরে শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইয়ের মরদেহ উদ্ধার

    নাটোরে শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইয়ের মরদেহ উদ্ধার

    নাটোরের লালপুর উপজেলায় শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাই নাসির উদ্দিনের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্ত্রী পাখি (১৯) ও শাশুড়ি মরিয়মকে (৪০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের জনৈক খলিলের বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত নাসির ওই উপজেলা শালেশ্বর গ্রামের জমশেদ আলীর ছেলে।

    লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নাসির উদ্দিন শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপর রাতে তিনি ও তার স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে নাসিরকে তার শ্বশুর খলিল ডাকা-ডাকি করেন। তখন নাসির কোনো উত্তর দেননি। এসময় স্ত্রী পাখি চিৎকার দিলে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশিরা গিয়ে নাসিরকে মৃত অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থল গিয়ে নাসিরের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তর জন্য মর্গে পাঠায়।

    তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় নাসিরের শাশুড়ি ও স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • শারীরিক সম্পর্কে সাড়া না দেওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারল স্বামী

    শারীরিক সম্পর্কে সাড়া না দেওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারল স্বামী

    শারীরিক সম্পর্কে সাড়া না দেওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। মৃতের নাম সাইরা পাঠান (‌৩১)‌। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মুম্বাইয়ের মহারাষ্ট্রের বিড এলাকায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে জেলা হাসপাতালে সাইরার মৃত্যু হয়। অভিযুক্ত আইয়ুব পাঠানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    জানা যায়, বুধবার রাতে সাইরার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় লিপ্ত হতে চেয়েছিল আইয়ুব। কিন্তু শরীর ভাল না থাকায় অস্বীকার করেন সাইরা। সেটা শুনেই রেগে যায় আইয়ুব। অভিযোগ, রান্নাঘর থেকে স্টোভ নিয়ে এসে তার মধ্যে থাকা কেরোসিন সাইরার গায়ে ঢেলে দেয়। এরপর তাকে জ্বালিয়ে দিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যায় সে।

    পুলিশ সূত্রে খবর, সাইরার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থানে এসে তাকে জ্বলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে কোনরকমে আগুন নিভিয়ে তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার শরীরের ৭৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুকালীন জবানবন্দীও দেন তিনি। এই ঘটনার জন্য স্বামীকেই দায়ী করেছেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে আইয়ুবের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত আইয়ুব।