Category: প্রশাসন

  • বরিশালে পুলিশের তালিকায় ২৬৭ মাদক ব্যবসায়ী:ক্রসফায়ার আতঙ্কে পলাতক অনেকেই

    বরিশালে পুলিশের তালিকায় ২৬৭ মাদক ব্যবসায়ী:ক্রসফায়ার আতঙ্কে পলাতক অনেকেই

    ডেস্ক রিপোর্ট :

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ মাদক ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরুর পর অনেক মাদক ব্যবসায়ী এলাকা ছাড়ছে। বিশেষ করে নগরীর মাদক জোনখ্যাত রসূলপুর, কেডিসি বস্তি, আমানতগঞ্জ, গোড়াচাঁদ দাস রোড ও বগুড়া রোডের মুন্সির গ্যারেজ, মরকখোলার পুল, নতুনবাজার, বৈদ্যপাড়া, কাজীপাড়া, বিসিক, ভাটিখানা, সিএন্ডবি ১নং পুল, হিরণনগর, রুপাতলী, ফিসারি রোড, মথুরানাথ পাবলিক স্কুল সড়ক, সাগরদী বাজার, শ্রীনাথ চ্যাটার্জি লেন, ফকিরবাড়ি রোড ও নথুল্লাবাদের জিয়া সড়কের অনেককেই আগের মতো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকে গোপনে পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বরিশাল থেকে দূরের জেলাগুলোয়।

    পাঁচ দিনে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেই পলাতক, দেখা মিলছে না। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের ঘরে এখন ‘ক্রসফায়ার আতঙ্ক’।

    স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে, শায়েস্তাবাদ এলাকায় ডাকাত সরদার আবুল কাশেম ওরফে ডাকাত কাশেম কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর এলাকা ছাড়তে শুরু করে চিহ্নিতরা।

    একই সঙ্গে খুচরা ব্যবসায়ীরা নগরীতে থাকলেও নিয়ন্ত্রিত গতিবিধিতে রয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, প্রথম রমজান থেকে পরিকল্পিতভাবেই মাদক নির্মূলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে পুলিশ প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে ৫ দিনে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, দেহজীবী ও খদ্দেরসহ গ্রেফতার হয়েছে ৬৫ জন।

    এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১ হাজার ৪০৯ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা, ১টি পাইপগান, ১টি চাপাতি, ১টি রামদা ও ৮ রাউন্ড খালি কার্তুজ। মঙ্গলবার রাতে নগরীর কেডিসি এবং ঈদগাহ বস্তিসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালায় মেট্রোপলিটনের ৪ থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ। ঈদ উপলক্ষে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অপতৎপরতা রোধেও এ অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।

    মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল মহানগরে মাদক ব্যবসা পরিচালনাকারী ২৬৭ জনের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশালে খুচরা ও পাইকারি মাদক ব্যবসায়ী মিলিয়ে এর সংখ্যা ৩৫০। এদের মধ্যে অনেকেই নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। যত অভিযানই হোক না কেন, তাদের পুলিশ বা র‌্যাব কেউই গ্রেফতার করে না।

    তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, মাদকের বিষয়ে কারও সঙ্গেই আপস নয়। বরিশাল নগরীতে ২৬৭ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা হয়েছে। তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীসহ মাদকে সম্পৃক্ত পুলিশ এবং বিভিন্ন পেশাজীবীসহ সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়ক ও নৌরুটে বরিশালে মাদক প্রবেশ করে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে থাকে নৌপথ। চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর হয়ে নৌরুটে আসে বরিশালের ব্যবসায়ীদের হাতে। প্রাথমিক অবস্থায় নৌপথের মাদক এসে রসূলপুর, কেডিসি বস্তি, নতুনবাজার বস্তি, হিরণনগর ও মোহাম্মদপুরে রাখা হয়। সেখান থেকে সুযোগ বুঝে বিভিন্ন কৌশলে নগরীর খুচরা বিক্রেতাদের হাতে পৌঁছানো হয়। এসব মাদকদ্রব্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রয় হয়ে থাকে ইয়াবা।

    এছাড়াও বরিশালের আগৈলঝাড়া, উজিরপুর ও গৌরনদীতে নদীপথে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে বরিশাল নগরীতে সুরক্ষা পথ দিয়ে চালান প্রবেশ করে। আর এই নগরীর চিহ্নিত বিভিন্ন পয়েন্ট থেকেই পাইকারি বা খুচরা দরে এসব মাদক বিক্রি হয়ে থাকে।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন, কবে নাগাদ এই অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে তার নির্ধারিত তারিখ নেই। তবে বরিশাল নগরী থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের মূল উৎপাটন পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।

    তিনি বলেন, নগরীতে মাদকের প্রবেশ রুট ও বিস্তার নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করেই একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। সে অনুসারে এগোচ্ছি আমরা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, নগরীর পুরনো মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি নতুন কিছু ব্যবসায়ী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সবকিছুই তারা নজরদারিতে রাখছেন।

  • বরিশালের ৬ জেলায় মাদক বিরোধী অভিযানে ৬ দিনে গ্রেফতার ২১৩

    বরিশালের ৬ জেলায় মাদক বিরোধী অভিযানে ৬ দিনে গ্রেফতার ২১৩

    ডেস্ক রিপোর্ট :

    বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে বিভাগের ৬ জেলায় ৬ দিনে ২১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বরিশাল রেঞ্জ অফিস থেকে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৮ মে থেকে চলমান বিশেষ মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বরিশাল রেঞ্জের অধীনে ৬ জেলায় মাদক বিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে।

    রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলাম-বিপিএম, পিপিএম এর নির্দেশনা ও সরসরি তদারকিতে গত ৬ দিনে বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠী, ভোলা, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলায় মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টতার জন্য মোট ২১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ হাজার ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৪ কেজি ২৪৯ গ্রাম গাঁজা, ৪ বোতল ফেন্সিডিল ও ফেন্সিডিল বিক্রিত নগত ৮২ হাজার টাকা, বিদেশী বিয়ার ২৩ ক্যান, ৩ শত মিলি লিটার চোলাইমদ তৈরীর উপকরণ উদ্ধার করা হয়। যার প্রেক্ষিতে মোট ১৭১ টি মামলা রুজু করা হয়েছে।

  • বরিশাল নগরীতে ১২০ পিচ ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    বরিশাল নগরীতে ১২০ পিচ ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    ডেস্ক রিপোর্ট :

    বরিশাল নগরীর রুপাতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২০ পিচ ইয়াবাসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টার দিকে রুপাতলি হাউজিং এলাকা থেকে তাকে আটক করে। কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের এসআই শামীম জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রুপাতলী হাউজিং এলাকা থেকে ১২০ পিচ ইয়াবাসহ আবুল হোসেনের স্ত্রী পারভীন বেগম ওরফে সাথী (৩২) কে আটক করা হয়েছে।

    সাথীর গ্রামের বাড়ি বাবুগঞ্জের লোয়ালীয়া এলাকায়। তিনি রুপাতলী হাউজিং এলাকার ইউনুস ভিলায় ভাড়া থাকে। আটককৃত পারভীন বেগম ওরফে সাথীর বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    মাদক বিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের এসআই শামীম, এএসআই সুমন, এএসআই শরিফ।

  • মাদকবিরোধী অভিযান: ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সারাদেশে আরো ৯জন নিহত

    মাদকবিরোধী অভিযান: ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সারাদেশে আরো ৯জন নিহত

    সারাদেশে পুলিশ ও মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৯ মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ফেনীতে দুইজন, মাগুরায় দুইজন, আখাউড়ায় একজন, নারায়ণগঞ্জে একজন, কুমিল্লায় দুইজন। আহত হয়েছেন ৯ পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।
    বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
    ফেনী : বৃহস্পতিবার ভোরে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী জাম্বুড়া এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। এসময় মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- সামিরান শামীম উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের মাইজ গ্রামের মোহাম্মদ মোস্তফার ছেলে ও অপরজন ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের মনতলা গ্রামের মুত ফটিক মিয়ার ছেলে মজনু মিয়া ওরফে মনির।
    মাগুরা : মাগুরা পৌর এলাকায় বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজেদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- মাগুরা পৌর এলাকার মিজানুর রহমান কালু (৪৫) ও নিজনান্দুয়ালী গ্রামের আইয়ুব হোসেন (৫০)। মিজানুর রহমান কালুর নামে ২১টি এবং আইয়ুব হোসেনের নামে ১৮টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
    কুমিল্লা : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাবুল প্রকাশে লম্বা বাবুল (৩৮) এবং সদর দক্ষিণে রাজিব (২৮) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন আমানগন্ডা সলাকান্দা নতুন রাস্তার মাথায় এবং রাত সোয়া ২টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম পুুরাতন ট্যাংক রোডের গোয়ালমথন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী বলে পুলিশ দাবি করেছে। উভয় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র ও মাদক।
    সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে এক মাদক ব্যবসায়ীর (৪০) গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ওই লাশের পাশ থেকে এক বস্তা ফেনসিডিল, একটি রিভলবার, একটি বন্দুকের গুলির খোলা ও একটি রাইফেলের গুলির খোসা উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া এলাকা থেকে ওই লাশটি উদ্ধার করা হয়।
    নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সেলিম ওরফে ফেনসিডিল সেলিম নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছাত্তার, ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম, ওসি (অপারেশন) আজিজুল হক, উপ-পরিদর্শক ইব্রাহীম, কনেস্টবল সাইদুল ও জাহাঙ্গীরসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি শুটার গান, একটি গিয়ার চাক্কু, ৫শত ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। এর আগেও একবার পুলিশের এক কর্মকর্তাকে কুপিয়ে আহত করেছিলেন ফেনসিডিল সেলিম। বৃহস্পতিবার ভোর ৩টায় সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ নিমাইকাসারী ক্যানেলপাড় বজলুখানের খালি জায়গায় এ ঘটনা ঘটে।
    ব্রাহ্মণবাড়িয়া : বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক বিক্রেতা ও হত্যা মামলার আসামি আমির খাঁ নিহত হয়েছেন। নিহত আমির উপজেলার চানপুর এলাকার মৃত সুরুজ খাঁর ছেলে। এ সময় আখাউড়া থানা পুলিশের এএসআই ও দুই জন কনস্টেবল আহত হয়েছেন।ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি পাইপগান, একটি কাতুর্জ, একটি রামদা, ১০ কেজি গাঁজাসহ ৮টি স্কফ সিরাপ উদ্ধার করেছে।
  • মাদকবিরোধী এক এসপি’র সাফল্যগাথা

    মাদকবিরোধী এক এসপি’র সাফল্যগাথা

    উত্তরের জেলা লালমনিরহাট। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাদক পাচার রুট বলে পরিচিত। লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনের ভাতিজা মীর সাব্বির হোসেনকে জেলার মাদক সম্রাট নামে জানে এলাকায়। বেশ কয়েকবার আটক হয়েছিলেন মাদক চোরাচালানের দায়ে। এমনকি মোতাহার হোসেন নিজেও ভাতিজাকে পুলিশে দিয়েছিলেন।

    মাদকের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্য মোতাহারেরও শক্ত অবস্থান। কিন্তু আইনের ফাঁকে প্রতিবারই বের হয়ে এসেছেন ভাতিজা। অভিযোগ রয়েছে পুলিশকে ম্যানেজ করেই সাব্বিরের এই অপকর্ম। সাব্বিরের মাদক সাম্রাজ্যের সহায়ক ছিলেন হাতীবান্ধা থানার এক সাব ইন্সপেক্টর, এমনটিই প্রচার রয়েছে জনমুখে। সর্বশেষ নীলফামারীর জলঢাকায় গাড়িতে ফেনসিডিল বহনের দায়ে সাব্বিরকে আটক করে পুলিশ। এখন সাব্বিরের মাদক নেটওয়ার্ক ভেঙে তছনছ।

    সাব্বিরের মতো গড়ে তোলা মাদকের শত শত নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়েছে লালমনিরহাট পুলিশ। মাদক চোরাচালান এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশের অভিযোগ ছিল দুই বছর আগেও। অথচ সেই পুলিশই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে লালমনিরহাটে।

    বিশাল সীমানা নিয়ে দরিদ্র মানুষের ঠিকানা লালমনিরহাট জেলা। কৃষি আর দৈনিক মজুরির ওপরেই বেঁচে থাকা এখানকার অধিকাংশ মানুষের। দিন আনে দিন খায় গোছের মানুষের জীবনে শান্তিও ছিল অফুরন্ত। অথচ গেল এক দশকে সে শান্তি যেন উবে গেছে। মাদকের সর্বনাশা থাবায় সমস্ত সুখ কেড়ে নিয়েছে এখানকার মানুষের। শিক্ষিত, অশিক্ষিত, ধনী, গরিব সবাই যেন এখন মাদক আতঙ্কে। হাত বাড়ালেই মিলত মাদক। ফেনসিডিল আর গাঁজা সেবন চলত স্কুল-কলেজের বারান্দাতেও। গোটা লালমনিরহাট জুড়েই মাদকের এই ছোবল। সভা-সেমিনার করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। বরং দিনকে দিন এর ভয়াবহতা বাড়তেই থাকে। অপ্রাপ্ত বয়সীরাও মাদক সেবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। দিশেহারা হয়ে পড়ে এখানকার অভিভাবকরা।

    মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে কথা হয় ব্যবসায়ী ও দোয়ানি হাইস্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আনোয়ার মণ্ডলের সঙ্গে। তিনি বলেন, মাদক নিয়ে সবাই আতঙ্কে। কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছিল না এখানকার মানুষ। মাদকের কারণে অন্য অপরাধের মাত্রাও বেড়ে যায় গত কয়েক বছরে। চুরি-ছিনতাই তো আছেই, স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও গাঁজা-ফেনসিডিল সেবন করে আসছে।

    Roshidul-2

    চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সময় বদলেছে। মাদকের বিরুদ্ধে এখন সবাই সোচ্চার। তবে পুলিশের ইতিবাচক ভূমিকার কারণে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমেছে। বিশেষ করে বর্তমান পুলিশ সুপার আসার পরেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। পুলিশ চাইলে মাদক নিয়ন্ত্রণে শতভাগ সফল হতে পারবে।’

    বছর দেড়েক আগেও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাদকদ্রব্য পাচার রুট হিসেবে পরিচিত ছিল এ জেলার। পুলিশের নিয়মিত অভিযানে সে পরিচয় বদলে গেছে। লালমনিরহাটের চিত্র এখন পুরোটাই ভিন্ন। মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেই এলাকা ছেড়েছে। কেউ মন দিয়েছেন কৃষি বা অন্য ব্যবসায়। পুলিশের অভিযানেই স্বস্তি ফিরেছে জনমনে। মাদকের এক সময়ের আখড়া মোগলহাটের নামও পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে গোল্ডেন ভিলেজ।

    স্থানীয়রা এর পুরো কৃতিত্ব দিলেন জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হককে। এমন অবদানের জন্য রংপুর রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার উপাধিও পেয়েছেন তিনি। মাদককের বিরুদ্ধে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও ধরে রাখার দাবি সীমান্তবর্তী লালমনিরহাটবাসীর।

    লালমনিরহাট পুলিশ প্রশাসন জানায়, ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে গাঁজা ৩৯৭৮.২৭০ কেজি, ফেনসিডিল- ৩২০৯৩ বোতল, হেরোইন ১৯৩৮০ পুরিয়া, ইয়াবা ১৬ হাজার ৮৫৯ পিস, বিদেশি মদ ৫৫০ বোতল, দেশি মদ ১৮ বোতল, অ্যালকোহল ১২ বোতল, কোরেক্স ২২৩ বোতল, চোলাই মদ ১৬৫.৫০০ লিটার, ফেলিরেক্স ৬ বোতলসহ মোট ৭ কোটি ১৯ লাখ ৫১ হাজার ৬৪০ টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

    মাদক প্রসঙ্গে কথা হয় হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুকের সঙ্গে। বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। সীমান্ত হওয়ার কারণে লালমনিরহাটে মাদকের ঝুঁকি আরও বেশি। দেশের অন্যত্র থেকে মাদকব্যবসায়ী লালমনিরহাটের বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে আসছে। বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে অন্তত তাই জানতে পেরেছি।

    তিনি বলেন, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এখন বদ্ধপরিকর। লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। কোনো ছাড় হবে না মাদকের সঙ্গে জড়িতদের। পুলিশ প্রশাসন জড়িত থাকলেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আর এ কারণেই পুলিশের ওপর জনআস্থা বাড়ছে। সাধারণও পুলিশকে এখন এ ব্যাপারে সহযোগিতা করছে। এলাকা মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশের চেষ্টার কোনো অন্ত থাকবে না।’

    Roshidul-3

    মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ায় ইতোমধ্যে স্বীকৃতিও মিলেছে লালমনিরহাট পুলিশের। মাদক নির্মূলে বিশেষ অবদানের জন্য টানা দ্বিতীয়বার দেশ সেরা হয়েছে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ।

    মাদক নির্মূলে ‘গ গ্রুপে’ দেশ সেরা এবং চোরাচালানে ‘গ গ্রুপে’ দ্বিতীয় নির্বাচিত হয়ে গত ১০ জানুয়ারি পৃথক দুটি ক্রেস্ট ও সনদ গ্রহণ করেন লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক।

    পুলিশ সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট ও সনদ দুটি হস্তান্তর করেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। গত বছরও চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য নির্মূলে বিশেষ অবদান রাখায় লালমনিরহাট জেলা পুলিশ ‘গ গ্রুপে’ দেশ সেরার ক্রেস্ট ও সনদ পায়।

    ভারতীয় সীমান্তবর্তী এ জেলার মাদক নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেন এসএম রশিদুল হক।

    এরপর থেকে একের পর এক অভিযানে ও জেলায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের তৎপরতায় প্রতিনিয়ত মাদকসহ ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

    একপর্যায়ে পুলিশি তৎপরতায় দেড় সহস্রাধিক মাদক ব্যবসায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে মাদক ছেড়ে দিয়ে নতুন জীবনযাপনের শপথ নেন। শুধু অভিযানেই সীমাবদ্ধ নেই এ জেলার পুলিশ। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদসহ সামাজিক বিভিন্ন অপরাধ নির্মূলে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও পাড়া-মহল্লায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সভা সেমিনারও করেছেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার।

    এতে করে ২০১৭ সালে মাদকের সঙ্গে চোরাচালান রোধে ‘গ গ্রুপে’ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ। শুধু তাই নয়, গত দেড় বছরে রংপুর রেঞ্জের সেরা পুলিশ সুপার হিসেবে ৬টি ক্রেস্ট অর্জন করেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক।

    Roshidul-4

    মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে কথা হয় এসএম রশিদুল হকের সঙ্গে। বলেন, মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে আমরা দুইভাবে কাজ করছি। প্রথমত, পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সভা-সেমিনার, লিফলেট বিতরণ, স্থানীয় ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেয়া। আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমেও সচেতনতা বাড়ানো যায়। একজন অপরাধীর বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা নিলে আর দশজন সচেতন হয়ে যায়। আমরা এটি খুব শক্ত হাতে করছি। মাদকের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট পুলিশ একাট্টা।

    তিনি বলেন, একার পক্ষে কোনোকিছুই করা সম্ভব হয় না। আমি যোগদানের পরেই মাদকের ব্যাপারে বার্তা পৌঁছে দিয়েছি পুলিশের প্রতিটি সদস্যের কাছে। কনস্টেবল থেকে শুরু করে একেবারে ঊর্ধ্বতন অফিসাররাও এ ব্যাপারে একাট্টা এখন।

  • আবাসিক হোটেলে অভিযানে আটক ৫

    আবাসিক হোটেলে অভিযানে আটক ৫

    বরিশাল নগরীর দুই আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে খদ্দের ও পতিতাসহ ৫ জনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

    বুধবার দিনভর অভিযানে তাদের আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন।

    আটককৃতরা হলেন- রাসেল হাওলাদার, জাফর হাওলাদার, সঞ্জয় সরকার, লিজা আক্তার ও বাদশা বেপারী।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে এসআই হেলাল উদ্দিন জানান, পতিতাবৃত্তির অভিযোগে নগরীর ‘হোটেল চিল’ থেকে ৪ জন ও ‘হোটেল গালিব’ থেকে ১ জনকে আটক করা হয়।

    এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • ৪০ মদাক বিক্রেতা নিহত, অন্যায়ভাবে গুলি হলে প্রতিকার মিলবে: এইচটি ইমাম

    ৪০ মদাক বিক্রেতা নিহত, অন্যায়ভাবে গুলি হলে প্রতিকার মিলবে: এইচটি ইমাম

    মাদকবিরোধী অভিযানে কাউকে অন্যায়ভাবে গুলি করা হলে তার স্বজনদের প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

    গত ৪ মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সাড়াঁশি অভিযানে ৪০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন মাদক বিক্রেতা নিহতের ঘটনাটি নিয়ে বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকার দেন ইমাম।

    এই অভিযানে যারা নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনও নিরপরাধ মানুষ নেই- এটা কীভাবে নিশ্চিত হচ্ছেন? এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আসামি নিহত হওয়ার প্রতিটি ঘটনার পর পরই মামলা করা হয়। এর ওপর তদন্ত চলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জবাবদিহি করতে হয়’।

    ‘যে ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিয়েছেন তাকেও রিপোর্ট পাঠাতে হয়। পোস্টমর্টেম হয়।’

    ‘তবে কাউকে যদি অন্যায়ভাবে গুলি করা হয়, তাহলে তার আত্মীয় স্বজন সুবিচারের জন্য আইনের আশ্রয় চাইতে পারেন।’

    মাদক চোরাচালানী, বিক্রেতা বা মাদক ব্যবহারকারীই হোক, সংবিধানে সব নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সংবিধান অনুযায়ী সবার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে- এ প্রসঙ্গে ইমাম জানান, ২২০০ জনকে আদালতের মাধ্যমেই বিচারে মুখোমুখি করা হয়েছে। ছয়শ মাদক কারবারি ও মাদক সেবনকারীকেও স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।

    ‘তবে যদি কোন ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে থাকে, কোন নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে যদি এরকম হয়ে তাকে, তাহলে অবশ্যই তার বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। তেমন ঘটনা ঘটলে সরকার অবশ্যই তা দেখবে।’

    অন্য এক প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাবেক সচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভেতরে কেউ যদি মাদকের সাথে যুক্ত থাকে তাকেও ছাড় দেয়া হবে না।’

    এই অভিযান হঠাৎ করে হয়নি

    মাদক নির্মূলে অভিযান হঠাৎ করে হয়নি জানিয়ে ইমাম বলেন, এর পেছনে রয়েছে মাদক সমস্যার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করার জন্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অভিপ্রায়।

    এই অভিযানের পটভূমি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘এ বছর অন্তত তিনটি বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার কথা বলেছিলেন। তার ধারাবাহিকতাতেই এ অভিযান চলছে।’

    মাদকের সামাজিক ঝুঁকি বর্ণনা করে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘মাদক পাচারের সাথে মানবপাচার এবং বেআইনি অস্ত্রের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। প্রথমে আসে মানবপাচার, মানবপাচারের হাত ধরে আসে মাদকপাচার এবং এই দুটিকে রক্ষা করার জন্য বেআইনি অস্ত্র আসে।’

    এই অভিযানের সাফল্য বর্ণনা করে ইমাম জানান, প্রথম ১৮ দিনে ২২০০ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট এবং বিচারিক আদালতে ৬০০ জন মাদক বিক্রেতা ও ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে মোট ৪৮৬টি মামলা করা হয়েছে।

    এই অভিযান এর আগে শুরু হয়নি এবং মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে কেন এই অভিযান?- এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মেয়াদ এখনই শেষ হয়ে যায়নি।’

    ‘মাদক সমস্যা একটি রোগের মতো। রোগ যখন চরম আকার ধারণ করে তখন সবার টনক নড়ে। তাই একে এর বেশি বাড়তে দেয়া যায় না।’

    ইমাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্য না এলে আগামী নির্বাচনে ওপর তার মারাত্মক ও প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে।

    নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অভিযান চালানো হচ্ছে কি না, এই সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন তিনি সরাসরি নাকচ করে দেন।

    বলেন, চলতি বছরের গোড়া থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। জানুয়ারি মাসে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নানা ধরনের সামাজিক সমস্যার মধ্যে মাদককে গুরুতর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন।

    ‘এরপর পুলিশের দ্বিতীয় আরেকটি অনুষ্ঠানে এবং তৃতীয়বার গত মাসে সারদায় পুলিশ ট্রেনিং একাডেমিতে ভাষণেও তিনি মাদক সমস্যার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।’

    গত ১১ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে ভাষণ দেয়ার সময় শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের পাশাপাশি মাদক সমস্যা থেকে ছাত্র সমাজকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

    ‘ওই ভাষণেই তিনি (প্রধানমন্ত্রী) জানান যে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তিনি ইতোমধ্যেই র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।’

    গত ৩ মে র‌্যাব সদরদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদের মতো সমস্যার মোকাবেলায় র‌্যাব যেমন সাফল্য দেখিয়েছে, তেমনি মাদক চোরাচালানী বা মাদক কারবারের বিরুদ্ধে র‌্যাব কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে।

    এইচ টি ইমাম বলেন, ‘মাদক তৈরি, বিক্রি, পরিবহন এবং সেবনের সাথে যারা জড়িত তাদের সবাই সমানভাবে দোষী বলে প্রধানমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন। মূলত এর পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়।’

  • বরিশালে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৯৪

    বরিশালে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৯৪

    বরিশাল জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) মাদক বিরোধী অভিযানে গত ৫ দিনে ৯৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (২৩ মে) দুপুরে বরিশাল নগরের পলিটেকনিক রোডে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএমপি’র মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা জানান, বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযানের পাশাপাশি আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অপতৎপরতা রোধে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

    অভিযানে গত ৫ দিনে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, দেহজীবী ও খদ্দেরসহ গ্রেফতার হয়েছে ৬৫জন। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১ হাজার ৪০৯ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৪শত গ্রাম গাঁজা, ১টি পাইপগান, ১টি চাপাতি, ১টি রামদা ও ৮ রাউন্ড খালি কার্তুজ। তিনি বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বরিশাল নগরের কেডিসি এবং ঈদগাহ বস্তিসহ বিভিন্নস্থানে সাড়াশী অভিযান চালায় ৪ থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ।

    তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ীসহ মাদকে সম্পৃক্ত পুলিশ এবং বিভিন্ন পেশাজীবীসহ সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বরিশাল নগরে ২৬৭ জন মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা করা হয়েছে। যাদের আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    অপরদিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১লা রমজান হতে ৫ম রমজান পর্যন্ত মাদকদ্রব্য উদ্ধারে বিভিন্ন থানা এলাকায় বরিশাল জেলা পুলিশ নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। অভিযানে এ পর্যন্ত ২৯ জন ব্যক্তিকে মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

    যাদের বিরুদ্ধে বরিশাল জেলার ১০টি থানা এলাকায় মোট ২৩ টি মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের নিকট হতে ৪৫০ গ্রাম গাঁজা ও ৪৮৭ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে জেলা পুলিশের দেয়া তথ্যানুযায়ী বরিশাল জেলায় ৩২৫ জনের মতো তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে।

  • ঝালকাঠিতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    ঝালকাঠিতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    স্কুল থেকে ফেরার পথে ঝালকাঠিতে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৪) বাগানে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে সদর থানায় মামলা হয়েছে। সোমবার ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বখাটে ফাহাদ সিকদারের নামে এ মামলা করেন।

    পুলিশ ও নির্যাতিত ছাত্রীর পরিবার জানায়, সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ছয় মাস ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার পথে উত্যক্ত করতো ছত্রকান্দা গ্রামের হান্নান সিকদার হানুর ছেলে ফাহাদ সিকদার (২১)। বিষয়টি নিয়ে ওই ছাত্রীর বাবা ফাহাদের বাবার কাছে অভিযোগ করেন।

    এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফাহাদ গত ১৭ মে দুপুরে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে জোর করে ওই ছাত্রীকে তুলে নিয়ে পাশের একটি বাগানে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয় ওই ছাত্রীকে। পরে মেয়েটি বাসায় গিয়ে তার পরিবারকে ধর্ষণের ঘটনা জানায়। নির্যাতিত ওই ছাত্রীর বাবা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ঘটনা জানালেও কোনো সুরহা না পেয়ে থানায় মামলা করেন।

    ঝালকাঠি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান জানান, মামলার রাতেই ফাহাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। ঘটনার পর থেকে আত্মগোপন করায় তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

  • বরিশালে কোন মাদক ব্যাবসায়ীকে ছাড় দেবে না:মেট্রো ডিবি

    বরিশালে কোন মাদক ব্যাবসায়ীকে ছাড় দেবে না:মেট্রো ডিবি

    বরিশাল মেট্রোপলিটন (গায়েন্দা পুলিশ) ডিবি দেশব্যাপি মাদক সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে ১লা রমজান থেকে ৫ই রমজান পর্যন্ত বরিশাল মডেল কোতয়ালী থানা, কাউনিয়া থানা, এয়ারপোর্ট থানা ও বন্দর থানার তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী,মাদক ব্যাবসায়ীদেরকে আটক করার লক্ষে নগরীতে সাড়াশী অভিযান চালিয়ে নিয়মিত ৪১টি মামলার ৩৪জন আসামী ও বরিশাল মেট্রোপলিটন আইনের ২২টি মামলার ৩১জনকে আটক করা সহ এসময় অভিযান কালে এক হাজার চার শত নয় পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট,এককেজি নয়শত গ্রাম গাঁজা সহ একটি পাইপগান,একটি চাপাতি,একটি রামদা ও আট রাউন্ড খালি কার্তুজ উদ্বার করা হয়েছে।

    আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর পলিটেকনিক্যাল সড়কস্থ মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যলয়ে এক প্রেস ব্রিফিং কালে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি ডিবি) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূইয়া নগরীতে অভিযানে মাদক ব্যাবসায়ীদের আটক ও সহ বিভিন্ন মালামাল উদ্বার সংক্রান্ত তথ্য প্রদান কালে বলেন,বরিশাল নগরীর মাদক ব্যাবসায়ীদের সাথে কোন আপোস নেই এদেরকে আর কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না সে যেই হোক। মাদক ব্যাবসায়ীরা বরিশালের জলে স্থলে যেখানেই থাকুক তাকে আটকের ক্ষেত্রে বরিশাল মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশ জিরো টলারেন্স ভূমিকা পালন করবে।

    এসময় তিনি আরো বলেন নগরীর মাদকের বিস্তার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে যে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন ডিবি তাই করবে।
    এছাড়া নগরী বেশ কিছু আবাসিক হোটেলের বিরুদ্বে বিভিন্ন অভিযোক থাকার কারনে ডিবি এস আই হেলালুজ্জামান নগরীর কোতয়ালী থানাধীন পোর্টরোডস্থ আবসিক হোটের চিল ও দক্ষিন চক বাজার রোডস্থ হোটেল গালিবে অভিযান চালিয়ে তৃতীয় লিঙ্গ ব্যাক্তি বাদশা বেপারী,সঞ্চয় সরকার,মোঃ রাসেল হাওলাদার,মোঃ জাফর হাওলাদার ও মোসাঃ লিসা আক্তার নামের চার দালাল,খদ্দের সহ এক দেহ প্রসারিনীকে আটক করে।
    ডিসি ডিবি মোয়াজ্জেম হোসেন ভূইয়া আরো বলেন ডিবি সহ নগরীর চার থানার তালিকা ভূক্ত দুই শত ষাসট্রি জন মাদক ব্যাবসায়ী রয়েছে তাদেরকে শিঘ্রই আইনের আওতায় আসতে হবে।

    এছাড়া তিনি বলেন ইতি পূর্বে আমরা মাদককে না বলি এশ্লোগান ব্যাবহার করে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারনা করা সহ আমাদের উর্ধ্বতোন কর্মকর্তারা মাদক ব্যাবসায়ীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যাপক সুযোগের সৃষ্টি করেছিল যারা গ্রহন করেছে তাদেরকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বেচে থাকা ও চলার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রদক্ষেপ গ্রহন করেছে।
    প্রেস ব্রিফিংকালে আরো উপস্থিত ছিলেন মেট্রো ডিবি’র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রুনা লায়লা,মেট্রো ডিবির মুখপাত্র (এসি) সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ নাসির উদ্দিন মল্লিক ও পদায়নরত ডিসি খায়রুর ইসলাম।