Category: ফটো ফিচার

  • ‘আমি আর বাস চালামু না’

    ‘আমি আর বাস চালামু না’

    দুপুরে মেয়েকে যেখানটায় বাস পিষে দিয়ে গেছে, সেখানটায় বসে মেয়ের দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ছাতার অংশ বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। গত রবিবার রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় বাস পিষে মেরেছে যে দুই শিক্ষার্থীকে, তাদের একজন দিয়া খানম ওরফে মীমের বাবা জাহাঙ্গীর।

    গতকাল সোমবার বাসায় গেলে জাহাঙ্গীর জানান, তিনি নিজেও বাসচালক। ২৭ বছর ধরে ঢাকা-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে বাস চালান। আজ পর্যন্ত তাঁর চালানো বাসের নিচে চাপা পড়ে কেউ মারা যায়নি। অথচ তাঁর মেয়েকেই কিনা বাসচালক পিষে মেরে ফেলল। অভিমান আর হাহাকার নিয়েই জাহাঙ্গীর বলছিলেন, ‘আমি আর বাস চালামু না। যেই বাস আমার মেয়েরে নিয়া গেল, সেই বাস আর ধরুম না আমি।’

    বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত দুজনই শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী। মীম ছাড়া আরেকজন হলো আবদুল করিম রাজীব। এক মাস আগে কলেজের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল দিয়া খানম মীম। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে অনেক বড় হবে। নোয়াখালীর একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান আবদুল করিম রাজীব সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিল শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ত সে। সড়কে প্রাণ যাওয়া দুই শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা মেনে নিতে পারছে না তাদের মৃত্যু। গতকালও তারা রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। বিক্ষোভ হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে।

    রবিবার রাতেই দুই শিক্ষার্থীর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত ১টার দিকে মীমকে দাফন করা হয়েছে তেজগাঁও এলাকায়। আর রাজীবের লাশ রাতেই নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ায়। তার লাশ গতকাল দাফন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    মীমের পরিবার রাজধানীর দক্ষিণ মহাখালীর জামে মসজিদ গলির জিপিক-৭৫ নম্বর বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকে। মীম ছাড়া আরেক মেয়ে রিয়া খানম ও ছেলে রিয়াদ, স্ত্রী রোকসানাকে নিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের পরিবার। গতকাল ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায়, স্বজন ও প্রতিবেশীরা গিয়ে মীমের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনো সান্ত্বনাই সন্তানহারা মা-বাবার হাহাকার থামাতে যথেষ্ট নয়।

    মেয়েকে হারিয়ে মুষড়ে পড়েছেন তার বাবা জাহাঙ্গীর, যিনি মেয়েকে অনেক বড় দেখতে চেয়েছিলেন। জানালেন, নিজে কষ্ট করে জীবন চালান, কিন্তু কোনো দিন মেয়েকে সেটা বুঝতে দিতেন না। তিনি চাইতেন মেয়ে অভাবের কথা জেনে যেন মন খারাপ না করে। জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমার মেয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়নি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি তার হত্যার বিচার চাই।’

    জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে আমি মেয়েকে বাসে তুইলা দেই। রবিবার সকাল সাড়ে ৬টায় তাকে বাসে উঠিয়ে দিছিলাম। কিন্তু কে জানত সেদিনই আমি শেষবার আমার প্রিয় মেয়েকে বাসে উঠিয়ে দিচ্ছি।’ তিনি জানান, একতা পরিবহনের বাস চালান তিনি। রবিবার দুপুর ২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল তাঁর। দুপুর পৌনে ১টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে যান। বের হওয়ার সময় তিনি স্ত্রীকে বলে যান যে মীম বাসায় এলে যেন তাঁকে ফোনে জানানো হয়। কিছুদূর যাওয়ার পরই তাঁর ফোনে একটি কল আসে। তাঁকে জানানো হয়, মীমকে বাস চাপা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার হাত-পা ভেঙে আসে। কিভাবে সেখানে যামু ভাবতে পারছিলাম না। গিয়া দেখলাম আমার মেয়ে আর নাই।’

    জাহাঙ্গীর আলম তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, ঢাকায় যারা বাস চালায় তাদের ঠিকমতো গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেই। বেশির ভাগই বাসচালকের সহকারী। তাঁর ভাষায়, ‘দুই দিন বাস চালাইয়া ড্রাইভার হইয়া গেছে। তো এরা মানুষ মারব না তো কী? এদের কোনো ঠিকানা নাই।’ তিনি বলছিলেন, ‘আমি সারা জীবন বাস চালাইছি, সেই ছোট থাইকা; কেউ আমার গাড়িতে অ্যাকসিডেন্ট হয় নাই। আমি তো কাউরে মারি নাই। তাইলে আমার মতো মানুষের মেয়ের কপাল এমন হইলো ক্যান?’

    মীমের মা রোকসানা বেগম জানান, রবিবার সকালে বাসা থেকে যাওয়ার সময় মীম তাঁকে জানিয়ে যায়, দুপুর পৌনে ১টার দিকে বাসায় ফিরবে। কিন্তু তার আর বাসায় ফেরা হলো না। আহাজারি করে তিনি বলছিলেন, প্রতিদিনের মতো সেদিনও মেয়েকে নাশতা তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নাশতা মেয়ে খেয়েছে কি না তা আর জানা হলো না তাঁর।

    মীমের এক খালা জানান, মীম খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। সবাই ওকে পছন্দ করত। ঘরে বসে নিজে নিজে গান-বাজনা করত। লেখাপড়ায়ও ভালো ছিল।

    অন্যদিকে রাজীবের বোন নাজমা বেগম কালের কণ্ঠকে জানান, সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মেধাবী রাজীব ভর্তি হয়েছিল ক্যান্টনমেন্টের এই কলেজে। তাঁদের বাবা নেই। ঢাকার আশকোনায় খালাতো ভাইয়ের বাসায় থেকে পড়াশোনা করত সে।

  • বর্তমান সময়ে মুসলমানরা সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় : ইমাম বুখারি

    বর্তমান সময়ে মুসলমানরা সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় : ইমাম বুখারি

    ভারতের কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধীকে চিঠি দিয়েছেন দিল্লি জামে মসজিদের ইমাম বুখারি। চিঠিতে ইমাম বুখারি লিখেছেন, ভারতের দাড়ি-টুপি থাকলেই টার্গেট করা হচ্ছে। গত সাত দশকের মধ্যে বর্তমান সময়ে মুসলমানরা সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। গোরক্ষার নামে কমপক্ষে ৬৪ জন নিরীহ মুসলমানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসব প্রাণহানির দায় কি কেন্দ্র নেবে?

    কংগ্রেস সভাপতির কাছে তার প্রশ্ন, যেভাবে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার মুসলিমদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছে তা প্রতিবাদযোগ্য। তাহলে কেন কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তার প্রতিবাদ করা হচ্ছে না?

    তিনি আরও জানান, কংগ্রেসের ভূমিকা দেখে সত্যিই মুসলিম সম্প্রদায় আশাহত। মুসলিমরা আশা করেছিল কংগ্রেস দায়িত্ব নিয়ে বিরোধী দলের কর্তব্য পালন করবেন এবং সরকারকে এ বিষয়ে চাপ দেবেন।

  • তামিম-সাকিব জুটির বিশ্বরেকর্ড

    তামিম-সাকিব জুটির বিশ্বরেকর্ড

    দুর্দান্ত ফর্মে আছেন বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ধারাবাহিকভাবে পারর্ফম করেছেন তিনি। দু’টি সেঞ্চুরি ও একটি হাফসেঞ্চুরিসহ সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও গড়েছেন। অন্যদিকে, পুরো সিরিজেই বাঁহাতি এই ওপেনারকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। তিন ম্যাচেই বাংলাদেশের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েছেন তারা। আর তাতেই গড়েছেন, বিশ্বরেকর্ড।

    তিন ম্যাচ সিরিজে সাকিব-তামিম জুটি মোট ৩৮৫ রান করেছেন। তিন ম্যাচ সিরিজে কোনো নির্দিষ্ট জুটির এটিই সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড।

    সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে টাইগারদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রেকর্ড ২০৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েন সাকিব-তামিম। দ্বিতীয় ম্যাচে রানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন তারা। আসে ৯৭ রানের জুটি। আর সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে তারা তোলেন ৮১ রান।

    এর আগে ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা ও কুইন্টন ডি কক বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের ঘরের মাঠে জুটিতে ৩৭২ রানে রেকর্ড গড়েছিলেন।

  • বাসচাপায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিচয় মিলেছে

    বাসচাপায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিচয় মিলেছে

    ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় পাওয়া গেছে। আবদুল্লাহপুর থেকে মোহাম্মদপুর রুটে চলাচলকারী জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের একটি বাসচাপায় মারা যান দুই শিক্ষার্থী। আজ রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    এ ব্যাপারে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক সগির মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, নিহত একজনের নাম আবদুল করিম, সে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ত। একই কলেজের আরেক শিক্ষার্থী দিয়া খানম ওরফে মিম। সে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    সগির মিয়া আরো জানান, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত একজনকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত আরও ১২ জন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তবে তারা আশঙ্কামুক্ত।

  • বরিশাল সিটি নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় সাদিক, সরোয়ার ও তাপসের সহধর্মিণীরা

    বরিশাল সিটি নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় সাদিক, সরোয়ার ও তাপসের সহধর্মিণীরা

    বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী সোমবার (৩০ জুলাই)। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রচার-প্রচারণা। যেখানে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে প্রচার-প্রচারণার মাঠ পুরো সময়টা ধরেই ছিল সরগরম।

    প্রার্থী ছাড়াও প্রচারণার মাঠ দাঁপিয়ে বেড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী আর সমর্থকরা। তবে এর বাইরেও প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়রপ্রার্থীদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন তাদের সহধর্মিণীরা। পাশাপাশি অনেকের সন্তানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও নেমেছেন প্রচারণার মাঠে ভোট চাইতে প্রার্থীর পক্ষে।

    প্রচার-প্রচারণার শুরুর দিক থেকেই মাঠে ছিলেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ারের সহধর্মিণী নাছিমা সরওয়ার। তিনি তার স্বামীর পক্ষে ভোট চেয়ে বেড়িয়েছেন গোটা নগরে। তার সঙ্গে ছাত্রদল ও মহিলাদলের নারীনেত্রীরা ছিলেন সহায়ক হিসেবে। আর এ ভোট চাইতে গিয়ে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নেতাকর্মীদের হুমকিও দিয়ে এসেছেন আলোচনায়। এর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু মজিবর রহমান সরওয়ারের সহধর্মিণীই নয় তার ছেলে নাফিস সরওয়ারও ছিলেন প্রচার-প্রচারণার মাঠে, কখনো বাবার সঙ্গে আবার কখনো মায়ের সঙ্গে।

    এদিকে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মেয়রপ্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সহধর্মিণী লিপি আবদুল্লাহ শেষ সময়ে হলেও গত কয়েকদিন ধরে নগরের অলি-গলি চষে বেড়াচ্ছেন। যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে চাইছেন যুবরত্ন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর জন্য ভোট, ভোটারদের দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি।প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন আ’লীগের মেয়রপ্রার্থীর সহধর্মিণী লিপি আবদুল্লাহ ও বিএনপির মেয়রপ্রার্থীর সহধর্মিণী নাছিমা সরওয়ার। অপরদিকে জাতীয়পার্টির (জাপা) মেয়রপ্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসের সহধর্মিণী ইসমাত আরা ইকবালও প্রথম থেকেই চষে বেড়াচ্ছেন নগরের বিভিন্ন এলাকা। বিশেষ করে বস্তি এলাকায় তার পদার্পণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি তার স্বামীকে সৎ, নিষ্ঠাবান ও কর্মঠ উল্লেখ করে নগরের উন্নয়নের জন্য লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চাইছেন।

    এর বাইরে থাকা কোনো মেয়রপ্রার্থীর সহধর্মিণীকেই ভোটারদের কাছে যেতে দেখা যায়নি। যদিও সাত মেয়রপ্রার্থীর মধ্যে বাসদের মই প্রতীকের ডা. মনিষা চক্রবর্তী প্রথম নারী মেয়রপ্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বেশ খানিকটা আলোচনায়।

    এ বিষয়ে নগরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের নারী ভোটার আছিয়া আক্তার জানান, প্রচার-প্রচারণার মাঠে প্রার্থীদের সহধর্মিণীরা নেমেছেন এটা কয়েকবছর আগেও ভাবা যেতো না। কিন্তু এখন দিন পাল্টেছে। সিটি নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীর পাশাপাশি তাদের পত্নীরাও যে নেমেছেন, এটা প্রার্থীর জন্য ভালো দিক। তেমনি প্রার্থী কতটা নারী সমাজের ওপর শ্রদ্ধা ও আস্থাশীল তা যেমন বোঝা যাচ্ছে। তেমনি নারী ভোটারদের অন্দরমহলে গিয়েও ভোট চাইতে পারছেন প্রার্থীর পক্ষে। যা প্রার্থীর পক্ষে সম্ভব ছিল না।

    ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিলকিস আক্তার জানান, সহধর্মিণীদের মাঠে নেমে প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ায় ফলাফলে প্রভাব পড়বে। কারণ প্রার্থীর চেয়েও তাদের স্ত্রীরা বেশ কাছে যেতে পেরেছেন নারী ভোটারদের।

  • মায়ের হাতের সব রান্নাই আমার পছন্দ : জয়

    মায়ের হাতের সব রান্নাই আমার পছন্দ : জয়

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ৪৮তম জন্মদিন পালন করেছেন। ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই অবরুদ্ধ ঢাকায় পরমাণু বিজ্ঞানী এমএ ওয়াজেদ মিয়া ও শেখ হাসিনা দম্পতির প্রথম সন্তান জয় জন্মগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু তার নাম রাখেন ‘জয়’। জন্মদিন উপলক্ষে ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে জয় লিখেছেন, মায়ের হাতের সব রান্নাই আমার পছন্দ।

    শুক্রবার দুপুরে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে জন্মদিনের অনুভূতি তুলে ধরে পোস্ট দেন সজীব ওয়াজেদ জয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা আইটি বিশেষজ্ঞ জয় লেখেন, ‘আমার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

    এখন আমার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি। মা (শেখ হাসিনা) জিজ্ঞেস করছিল আমার জন্য কী রান্না করবেন। খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে আমি খুঁতখুঁতে, মা’র হাতের সব রান্নাই আমার পছন্দ।’

    ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর মা-বাবার সঙ্গে জয় জার্মানি হয়ে ভারতে যান। ভারতে তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে। ভারতের নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেন।

    পরবর্তী সময়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর করেন তিনি। ২০০২ সালের ২৬ অক্টোবর ক্রিস্টিন ওভারমায়ারকে বিয়ে করেন জয়। সোফিয়া ওয়াজেদ নামে তাদের একটি মেয়ে আছে।

    এবারের জন্মদিনে দেশে পরিবারের সঙ্গে কাটিয়েছেন জয়। তবে তার জন্মদিনে কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছিল না। তবে এদিন স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে জয়ের জন্মদিনের কেক কাটেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

  • সকাল-সন্ধ্যা ট্রাম্পের পূজা

    সকাল-সন্ধ্যা ট্রাম্পের পূজা

    পূজার যে স্থানে থাকার কথা লক্ষ্মী, দুর্গা, গণেশ কিংবা গোপালের মূর্তি। সেখানে স্থান পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অদ্ভুদ এই পূজায় মেতেছেন ভারতের তেলেঙ্গার বুসা কৃষ্ণ নামে এক যুবক। ট্রাম্পকে ‘ঈশ্বর’ মনে করে দুই বেলা এই পূজা করে আসছেন তিনি।

    ভারতের তেলেঙ্গানার জনগাঁও জেলার কন্নে গ্রামে এই কৃষকের বাড়ি। ঠাকুরঘরের সিংহাসনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি রেখে সকাল-সন্ধ্যা পূজা করেন তিনি।

    আমেরিকা প্রবাসী ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার শ্রীনিবাস কুচিভোটলা ২০১৭-র ফেব্রুয়ারিতে খুন হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের পূজা শুরু করেন ৩১ বছর বয়সী এই যুবক।

    তার ওপর এ ঘটনার পর তিনি মনে করেন, ভালোবাসা দিয়েই জয় করা যায় সব হিংসাকে। বুসার দাবি, ভারতীয় সংস্কৃতি, ভারতীয়দের অহিংস নীতিতে ভর করেই ট্রাম্পকে তার সিংহাসনে ঠাঁই দিয়েছেন তিনি।

    দুই বেলা ট্রাম্পের ছবির সামনে রীতিমতো ঘণ্টা নাড়িয়ে আরতি, মন্ত্রপাঠ করেন এই যুবক। বিশ্বাস, তার আরাধ্য দেবতা দূরে থেকেও এসব টের পান। শুধু তা-ই নয়, এতে তুষ্টও নাকি হন তিনি! তার ‘ভগবান’কে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করাতে এ উপায়ই বার করেছেন বুসা।

    নিজের ফেসবুকে রোজ ট্রাম্পকে পূজার ছবি পোস্ট করেন বুসা।

    জানা যায়, হিন্দু দেব-দেবীর সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বসিয়ে পূজা করেন বুসা। একেবারে হিন্দু ধর্মের সব রীতি নীতি ঠিক রেখেই এই পূজা সারেন তিনি। কিন্তু কেন বুসা ট্রাম্পকে পূজা করেন? হিন্দুরা সাধারণত সর্বশক্তিমান ভগবানকে পূজা করে।

    এই পূজার সম্পর্কে বুসা বলেন, কিছুদিন আগেই জাতিগত হিংসার জেরে খুন হন ভারতীয় এক আইটি কর্মী। সেই থেকে শুরু। বুসা বলেন, হিংসা নয়, ভালবাসা দিয়েই সব কিছু আদায় করা যায়। আর ভারতীয়দের শেষ কথা ভালবাসা।

    এই কাজ করতে গিয়ে অনেকেই তাকে পাগল বলেছেন। তবে কারও কথা গায়ে মাখেননি বুসা।

    বুসা বলেন, প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছবে তার কথা। আর তিনি সংঘাত ছেড়ে ভালবাসার এক পৃথিবী উপহার দিবেন। সেখানে কোনো জাতীগত হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না।

  • জেলে যাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে হুড়োহুড়ি!

    জেলে যাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে হুড়োহুড়ি!

    কারাগার আরামের জায়গা নয়, বুদ্ধিমানরা সর্বদা সেই সব কাজ এড়িয়ে চলতে বলেন, যা করলে জেলের ঘানি টানতে হয়। তবে শুনতে অবাক লাগলেও জেলে যাওয়ার জন্য রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে। তাও আবার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে।
    নেলসন ম্যান্ডেলার জেলের কুঠুরিতে একটি রাত কাটানোর জন্য পর্যটকদের মধ্যে এই হুড়োহুড়ি। বার্ষিক ‘স্লিপআউট’ নামের একটি প্রোগ্রামের দৌলতে এবার রাত কাটানো যাবে রবেন আইল্যান্ডের জেলের কক্ষে। তবে তার জন্য দিতে হবে বিশাল অঙ্কের ভাড়া।
    বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রায় তিন দশক জেলে কাটিয়েছেন ম্যান্ডেলা। তার মধ্যে কেপ টাউনের রবেন আইল্যান্ডের জেলে ১৮ বছর বন্দি ছিলেন সাউথ আফ্রিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট।

    ম্যান্ডেলার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে খুলে দেওয়া হয়েছে ৮ ফুট বাই ৭ ফুট কুঠুরির দরজা। ওই সেলেই এক রাত কাটানোর জন্য নিলাম ডাকা হয়েছে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে নিলামের টাকা যাবে সেবামূলক কাজে। এখনও পর্যন্ত উঠেছে ৩ লাখ মার্কিন ডলার। জুলাইয়ের ১৬ তারিখ নিলামের শেষ দিন। ‘সেল নম্বর-৭’-এ রাত কাটাবেন নিলামে জয়ী ব্যক্তি। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ৬৬ জন ওই জেলের অন্যান্য কামরায় থাকতে পারবেন।

    জানা গেছে, নিলাম থেকে পাওয়া টাকা জেলবন্দিদের শিক্ষায় খরচ করা হবে। ‘প্রিজন টু পাইপলাইন’ প্রকল্পের আওতায় জেলবন্দিদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ দিতেই এই পদক্ষেপ।

  • ব্রাজিল বধের নায়ক কে এই গোলরক্ষক কুরতোয়া?

    ব্রাজিল বধের নায়ক কে এই গোলরক্ষক কুরতোয়া?

    রাশিয়া বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ভাসছে পুরো ফুটবল জগত। প্রতিটি ম্যাচেই চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে আসরের কোয়ার্টার ফাইনাল রাউন্ড। শেষ আটের এই লড়াইয়ে সর্বস্ব দিয়ে নিজেদের মেলে ধরছে দলগুলো। তারই জের ধরে গতকাল রাতে কাজান এরেনায় মুখোমুখি হয়েছিল চলতি আসরের অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিল ও দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বেলজিয়াম। উত্তেজনাপূর্ণ সেই ম্যাচে ২-১ গোলে ব্রাজিলকে হারায় লুকাকুরা। তবে এই ম্যাচে অপ্রতিরোধ্য ছিলেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবাউ কুরতোয়া।

    বেলজিয়ান এই পেশাদার ফুটবলারের জন্ম ১৯৯২ সালের ১ মে বেলজিয়ামের ব্রি’তে। প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব চেলসিতে এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের জন্য গোলরক্ষক হিসেবে খেলছেন তিনি। ফুটবল জীবনে খুব অল্প বয়সেই প্রবেশ করেন কুরতোয়া। ১৮ বছর বয়সে বেলজিয়ান প্রো লিগ বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০১১ সালের জুলাইয়ে তিনি ৮ মিলিয়ন পাউন্ডে চেলসিতে যোগদান করেন। পরে তাকে অবিলম্বে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ধার দেওয়া হয়। সেখানে তিনটি মৌসুমে ২০১২ সালে ইউরোপা লিগ, ২০১৩ সালে কোপা দেল রে এবং ২০১৪ সালে লা লিগা শিরোপা জিতেছিলেন এই গোলরক্ষক।

    কুরতোয়া লা লিগায় সেরা গোলরক্ষক রিকার্ডো জামোরা ট্রফিও জিতেছেন। এরপর ২০১৪ সালেন জুলাইয়ে কুরতোয়া চেলসিতে ফিরে আসেন এবং তার প্রথম মৌসুমে তিনি লিগ কাপ এবং প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতেন।

    বেলজিয়ামের প্রতিনিধিত্বকারী সর্বকনিষ্ঠ গোলরক্ষক হয়ে ২০১১ সালের অলিম্পিকে কুরতোয়ার আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটে। তিনি ৫০টির’ও বেশি ক্যাপ অর্জন করেছেন এবং ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ইউইএফএ ইউরো ২০১৩’তে উপস্থিত হয়েছেন।

    রাশিয়া বিশ্বকাপেও আলো ছড়াচ্ছেন এই গোলরক্ষক। গতকালের ম্যাচে ব্রাজিলের দুর্দান্ত সব শট ঠেকিয়ে বারবার তাদের হতাশ করেছেন কুরতোয়া। এদিন ৮ মিনিটেই সুযোগ পায় ব্রাজিল, তবে তা গোলে পরিণত করতে পারেনি থিয়াগা সিলভা। পরেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখলে ১৩ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। কর্নার থেকে কেভিন ডি ব্রুইনার ক্রসে ফার্নান্দিনহোর আত্মঘাতী গোলে লিড পায় রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা। পরে প্রতিপক্ষ শিবিরে একের পর এক আক্রমণ হানতে থাকে দলটি। কিন্তু এরইমধ্যে আরেকটি গোল হজম করে এর খেসারত দিতে হয় তিতের দলকে।

    ৩১ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে লুকাকুর বাড়ানো বলে গোল করেন ডি ব্রুইনা। এতে স্কোরলাইন হয় বেলজিয়াম ২-০ ব্রাজিল। এরপরই মরিয়া হয়ে উঠে ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যায় নেইমার-মার্সেলোরা। তবে তাদের আক্রমণগুলো প্রতিহত করে দেন কুরতোয়া। পরে ৭৬ মিনিটে দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান কমান অগাস্টো রেনোতো। এতে লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ব্রাজিল। তবে সেক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাড়ান বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কুরতোয়া।

     

  • ২০২০-২১ পালন হবে মুজিব বর্ষ

    ২০২০-২১ পালন হবে মুজিব বর্ষ

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে আগামী ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী থেকে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত এই মুজিব বর্ষ পালিত হবে। শেখ হাসিনা গতকাল শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক যৌথ সভার সূচনা বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ব্যাপকভাবে পালন করতে চায়। সারা দেশে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, এমনকি ওয়ার্ড পর্যায় থেকেও কর্মসূচি পালন করতে চায়। সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মুজিব বর্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি পালন হবে।’ তিনি বলেন, ‘সমাজের সর্বস্তরের মানুষ নিয়েই এসব কর্মসূচি পালন করা হবে। কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলেসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়েও বহুমুখী কর্মসূচি করা হবে। খেলাধুলা নাটক, আর্টসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হবে। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি পর্যন্ত বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ২০২০-২১ সাল মুজিব বর্ষ হিসেবে পালিত হবে। এই সময় জাতীয় ও দলীয় অন্য দিবসগুলোও পৃথকভাবে পালন হবে।’

    স্বাধীনতাসংগ্রামে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের অবদানের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তাঁরই দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল এ স্বাধীনতা। তাঁর রক্তের ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের কারণে বাংলাদেশের মানুষ আজ সুখে-শান্তিতে বাস করছে। বাংলাদেশ আজ ক্ষুধামুক্ত হয়েছে। আমরা আজ নির্যাতিত শোষিত মানুষের পাশে আছি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত—শাসিত ও শোষিত। আমি শোষিত মানুষের পক্ষে। শোষিত মানুষকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

    দেশের একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গৃহহীনদের ঘর করে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ হচ্ছে গ্রামের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। উন্নয়নগুলো তৃণমূল পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশকে আমরা স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। অনেকেই বলেন—উন্নয়নশীল দেশ হওয়াটা ভালো না, দেশের মানুষের সর্বনাশ করা। কিভাবে মানুষের সর্বনাশ হয় সেটা আমি জানি না। কিন্তু আমরা উন্নয়শীল দেশ না হয়ে ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াব, অন্যের কৃপায় চলব, এটাও তো হতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় চেয়েছি কারো কাছে হাত পেতে নয়, নিজেদের সম্পদ দিয়ে স্বাবলম্বী হিসেবে এগিয়ে যাব। নিজেদের পায়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব। এ লক্ষ নিয়েই আমরা চলছি। মানুষের মধ্যে এই সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে চলমান। স্যাটেলাইট মহাকাশে। আমরা আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন জাতি গড়ে তুলতে চায়। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হওয়াটা অনেকের পছন্দ না। কাদের এটা পছন্দ না এটা বুঝতে হবে। যারা কঙ্কালসার মানুষ দেখিয়ে বিদেশ থেকে টাকা এনে উচ্চ হারে ঋণ দিয়ে সুদ খাবে, নিজেদের সম্পদশালী করবে, সেই পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আজ সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে। সেখানে সর্বনাশ কিভাবে হয় জানি না। সর্বনাশ সাধারণ মানুষের নয়, যারা জনগণের রক্ত চুষে খায় তাদের হতে পারে।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘সোনার বাংলা গড়তে জাতির পিতার যে আজীবনের স্বপ্ন ছিল সেটা পূরণের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ব ইনশা আল্লাহ।’

    বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আরো কয়েকটি বই প্রকাশ করার কাজ চলছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার ৪৭টা ফাইল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ৩০ থেকে ৪০ হাজার পাতাকে ৯ হাজার পাতায় নামিয়ে নিয়ে এসে ১৪টি খণ্ডে তা প্রকাশ করা হবে। এর মধ্যে একটি ভলিউমের কাজ প্রায় শেষ, শিগগির ছাপানো হবে। এই রিপোর্টগুলো পড়লে বাংলাদেশের ইতিহাস জানার বাকি থাকবে না।’ এ ছাড়া আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ১৯৫২ সালে বঙ্গবন্ধুর চীন সফর নিয়ে পৃথক দুটি বই প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি। শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর রুদ্ধদ্বার যৌথ সভাটি শুরু হয়। এতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বেশির ভাগ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

    ‘মুজিব বর্ষ’ পালনে দুটি কমিটি গঠন : বৈঠকের সূত্রগুলো জানায়, বছরব্যাপী এই কর্মসূচি পালনে জাতীয় অধ্যাপক ও নজরুল গবেষক রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়। এতে সদস্যসচিব থাকছেন সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। আর আওয়ামী লীগের বছরব্যাপী কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। মুজিব বর্ষ পালন উপলক্ষে আরো বেশ কয়েকটি উপকমিটি গঠন করা হবে।

    সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি ও আয়োজনে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও রাজনীতিবিদদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব উঠলে শেখ হাসিনা সম্মতি দেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি ও অস্থায়ী জাদুঘর নির্মাণের প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হয়।