Category: ফুটবল

  • মেসি যেদিন মাতিয়েছিলেন ঢাকার মাঠ

    মেসি যেদিন মাতিয়েছিলেন ঢাকার মাঠ

    ঢাকায় পা রাখলেন লিওনেল মেসি। সে সময়কার হোটেল শেরাটনে ছিল আর্জেন্টাইন দলের আবাস। ফাইল ছবি

    যেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা। সেই অত্যাশ্চর্য গল্পের মতোই বাঁশির সুর বাজিয়ে সবাইকে নিজের দিকে টানেন লিওনেল মেসি। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার তিনি—এই পরিচয়টাই সবাইকে বশ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বাংলাদেশের ফুটবল ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে থাকলেও এ দেশের ফুটবলপ্রেমীরা গর্ব করতে পারেন একটি জায়গায়—বিশ্বসেরা মেসি যে খেলে গেছেন তাঁদের ঘরের আঙিনায়। আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে অন্তত জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে ভালোবাসে কতটা! দিনটি ছিল ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১! ক্যালেন্ডারের পাতায় মেসির বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখার সেই দিনটি চিরস্মরণীয় লাখো-কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাছে।

    প্রায় সাত বছর হতে চলল। কিন্তু সে দিনটি হয়তো ভোলেননি অনেকেই। মেসির আর্জেন্টিনা ঢাকায় নামার পরদিনই, ৬ সেপ্টেম্বর নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সেই প্রীতি ম্যাচটিতে দর্শক উপচে না পড়লেও গ্যালারি ছিল ভরা। টিকিটের চড়া মূল্যের কারণে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গ্ল্যামারাস ফুটবল ম্যাচটিতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতির হার কম থাকলেও ঢাকায় এসেছেন মেসি, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলছেন—এই তৃপ্তিই উদ্বেলিত ও আনন্দিত করেছিল দেশের মানুষকে। টিকিটের চড়া মূল্য না ধরে আসলে উপায় ছিল না আয়োজক বাফুফের। বাংলাদেশের মানুষের কাছে মেসি যতটা প্রিয়, সে তুলনায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের আসনসংখ্যা যে সীমিত। মাত্র ২৫ থেকে ৩০ হাজার দর্শকের স্টেডিয়ামে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই যে টিকিটের চড়া মূল্য প্রয়োজন ছিল

    ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সে ম্যাচে মেসি। ফাইল ছবি

    মাঠে যাঁরা সেদিন এসেছিলেন, তাঁদের পয়সা উশুল হয়েছিল ভালোমতোই। মেসি প্রথম থেকেই খেলেছিলেন। দারুণ খেলেছিলেন। একপর্যায়ে তো নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা গোলের খুব কাছাকাছিই চলে গিয়েছিলেন। নাইজেরিয়ান অধিনায়ক ওবি মিকেলের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুতগতিতে একে একে ছিটকে ফেলেছিলেন পাঁচজনকে। শেষ পর্যন্ত তাঁর বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটটি জালে জড়ালে তা হতে পারত তাঁর সেরা গোলগুলোর একটি। কিন্তু সেটি হয়নি। কেবল মেসির ওই দৌড় দেখেই মাঠের দর্শকেরা সেদিন ভুলে গিয়েছিলেন টিকিটের অগ্নিমূল্য!

    মেসি যেদিন ঢাকায় নামলেন, সে দিনটি ছিল অন্য রকম। গোটা ঢাকায় ছিল বাড়তি নিরাপত্তার চাদর। কিন্তু মেসিরা বিমানবন্দর থেকে বের হতেই পরিচিত হলেন এ দেশের মানুষের ভালোবাসার প্রতি। বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত তাঁর আসার পথে রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে ছিল মানুষ—মেসিকে এক নজর দেখতেই। আর্জেন্টিনার সেই দলটিতে ছিলেন সার্জিও আগুয়েরো, অ্যাঙ্গলে ডি মারিয়া, সার্জিও রোমেরো ও গঞ্জালো হিগুয়েইন কিংবা হাভিয়ের মাচেরানোর মতো তারকারা। কিন্তু মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলেন ওই মেসিই। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা জনতার লক্ষ্যও ছিল তাই, যদি বাসের জানালায় টানানো পর্দার ফাঁক গলে একটিবারের মতো দেখা যায় স্বপ্নের তারকাকে।

    নাইজেরিয়াকে সে ম্যাচে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। তিন গোলের দুটিতেই ছিল মেসির অবদান। গোল করেছিলেন হিগুয়েইন ও ডি মারিয়া। বাকি গোলটি অবশ্য ছিল আত্মঘাতী। নাইজেরিয়ার পক্ষে একমাত্র গোলটি ছিল চিনেদু ওবাসির। মেসি সেদিন পুরো ম্যাচ খেলেননি। দ্বিতীয়ার্ধের একটা পর্যায়ে তুলে নেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু যতক্ষণ মাঠে ছিলেন, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামকে তিনি মাতিয়েছিলেন আপন মহিমায়। সেদিন আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়ার প্রীতি ম্যাচটি পুরোপুরিই হয়ে উঠেছিল মেসিময়।

    বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠে অতীতে অনেক তারকাই খেলেছেন, আলো ছড়িয়েছেন। কিন্তু ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ওই রাতে মেসি দর্শকদের নিয়ে গিয়েছিলেন স্বপ্নের জগতে, যে জগতের সঙ্গে ঢাকার দর্শকদের পরিচয় ছিল না তেমন একটা।

  • বুট কেনার টাকা ছিল না ফিরমিনোর!

    বুট কেনার টাকা ছিল না ফিরমিনোর!

    রবার্তো ফিরমিনোর গল্পটা একটু অন্য রকম। আর দশটা ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকার মতো সংগ্রাম করে উঠতে হয়ছে তারও। কিন্তু তার সংগ্রামটা ঠিক ব্রাজিলের সঙ্গে যায় না। এশিয়ার অনেক খেলোয়াড়ই চুরি করে ক্রিকেট-ফুটবল খেলে তারকা হয়েছেন। কিন্তু ব্রাজিলে তো ফুটবল বলতেই পাগল। সন্তানদের ফুটবল খেলতে খুব একটা বাঁধা দেয়না পিতা-মাতা। কিন্তু ফিরমিনোকে দিয়েছেন। কারণ ডাকাতের উৎপাত।

    নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ব্রাজিলের আলাগোয়াস প্রদেশের মাসেইও শহরে বেড়ে ওঠা ফিরমিনোর। কিন্তু ওই এলাকাতেই তখন ডাকাত সদস্যদের মধ্যে মারামারি হতো। চুরি, ছিনতাই তো প্রতিদানকার ঘটনা। বাধ্য হয়ে সন্তানদের আটকে রাখতো বাবা-মা। ফিরমিনোও পড়ে গেলেন সেই ঘেরাটোপে। বাড়ির বাইরে বের হওয়া মানা তার। ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ থাকতেন তিনি।

    কিন্তু রক্ত তার ফুটবল ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। মাসেইয়ের রাস্তায় তার ফুটবল খেলা চায়ই চায়। আর খেলতে গেলে ভাঙতে হবে তালা। ফিরমিনো তালা ভাঙার বোকামি না করে বরং তালা খোলার বুদ্ধি ফাঁদলেন। বানিয়ে ফেললেন নকল চাবি। ফিরমিনো খুলে ফেললেন বাড়ির দরজা, খুলে ফেললে সৌভাগের দরজা। পেয়ে গেলেন ব্রাজিল দলে ঢোকার চাবি। এমনকি বিরাট এক সম্ভাবনার দরজা খুলে ফেললেন নকল চাবি দিয়ে।

    ছোটবেলায় তাকে ঘরে আটকাতে ঘাম ঝরেছে তার বাবা-মায়েরও। আর এখন তাকে আটকাতে ঘাম ঝরে ডিফেন্ডারদের। শৈশবে ফিরমিনো বেশ নাম কামিয়েছিলেন। কিন্তু ব্রাজিলের হয়ে খেলার জন্য যে ধাপ তা মাড়ানো মোটেও সহজ ছিল না তার জন্য। তার ফুটবল প্রতিভা মাজা-ঘষা করতে দরকার ক্লাবে ভর্তি হওয়া। কিন্তু তার বাবা-মা সামর্থবান নন।

    তবে তিনি থামেননি। টাকা ধার করে অনুশীলন করেছেন। তার শৈশবের ক্লাবের কোচ লুইজ বেশ মনে করতে পারেন সে সময়ের কথা। তিনি বলেন, ‘ফিরমিনো যখন ক্লাবে আসল তার বাবার চাকরি ছিল না। বুট কেনার টাকার অভাবে খালি পায়ে অনুশীলন করেছে সে। ক্লাব যাতায়াতের ভার ছিল আমার। ওর প্রথম বুটগুলোও আমার কিনে দেওয়া। সে সময় ওর বয়সীরা মাদক পাচার এবং গাড়ি ছিনতাই করতো। কিন্তু আমি জানতাম ফিরমিনো কখনোই ওসব করবে না।’

    কিন্তু লুইজ কেন ওসব করতে গেলেন? কারণ তিনি ফিরমিনোকে চিনতে ভুল করেননি। লুইজ বলে চলেন, ‘মাঠে তাকে দেখেই বুঝে গিয়েছিলাম, ওর জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। একদিন সে বিশ্ব ফুটবলের তারকা হবে তা নিশ্চিত ছিলাম আমি। ওর জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার খবরে আমি আনন্দে কেঁদেছি। আমি ওর জন্য গর্বিত।’ ফিরমিনোকে নিয়ে ওই গর্ব করার অপেক্ষায় এখন সারা ব্রাজিলিয়ানরা।

  • ভয় পান মেসি, ভেদ করলেন সেই রহস্য!

    ভয় পান মেসি, ভেদ করলেন সেই রহস্য!

    লিওনেল মেসি রহস্যভেদ করলেন। তবে এই রহস্যের সঙ্গে ফুটবল বা বিশ্বকাপের কোনও সম্পর্ক নেই। যে ভয়টা মেসিকে তাড়া করে, সাধারণত প্রায় সব পুরুষ মানুষকেই করে।

    মেসি বলেছেন, “লোকের এত ভালবাসায় আমি আপ্লুত। তবে মাঝে মাঝে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতে ভাল লাগে। সেই সময়টা পরিবারের সঙ্গে, ছেলে-স্ত্রীর সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবে কাটাতে চাই। আমার জামা-কাপড় কেনার খুব শখ। কিন্তু ভুলেও ভাববেন না শপিংয়ে যেতে ভালবাসি। যেই না বাইরে যাওয়ার কথা হয়, অমনি মনে হয় কেউ বুঝি আমাকে মেরে ফেলল।

    এরপরেই মেসির সংযোজন, “শপিংয়ের সময় এই দোকানে যাও, ঘুরে ঘুরে দেখো, তারপর পছন্দ করো। আর শপিংয়ের সময় যদি আন্তোনেল্লা সঙ্গে যায়, তা হলে তো হয়েই গেল। শপিং শেষে মনে হয়, আমিই বুঝি শেষ।”

    এই ফুটবল তারকা মজা করে আরও বলেছেন, “‌শপিংয়ে যাওয়ার যদি খুব প্রয়োজন পড়ে, তা হলে গিয়েই কেনাকাটা সেরে বেরিয়ে পড়ি। একদম সময় নষ্ট করি না। একা গেলে দ্রুত কাজটা সেরে ফেলা যায়। আন্তোনেল্লা আর বাচ্চারা গেলে তাড়াতাড়ি কিছুতেই হয় না।”‌

  • রাশিয়া বিশ্বকাপে ৩২ দলের অফিসিয়াল স্লোগান

    রাশিয়া বিশ্বকাপে ৩২ দলের অফিসিয়াল স্লোগান

    ফুটবলে সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ বিশ্বকাপ। আর এ বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা বিশ্বজুড়ে। আর মাত্র ১৯ দিন পরেই পুতিনের দেশে বসবে ৩২ দেশের শিরোপা জয়ের লড়াই। পুরো বিশ্বকে ড্রিবলিং, পাসিংয়ের জাদুতে মাতিয়ে রাখবেন মেসি, নেইমার, রোনালদোরা।

    এদিকে বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ৩২টি দলের অফিশিয়াল স্লোগান প্রকাশ করেছে ফিফা। অনলাইন জরিপের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া স্লোগানগুলো নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ভক্তদের অনলাইনে ভোটের মাধ্যমে মোট ৯৬টি স্লোগান থেকে ৩২ দেশের স্লোগান বেছে নেয়া হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল থেকে ১৪ মে পর্যন্ত ভোট নেয়া হয়। প্রত্যেকটি দেশের স্লোগান তাদের নিজ নিজ টিম বাসে লেখা থাকবে।

    ১. আর্জেন্টিনা: একটি স্বপ্নের জন্য এক সাথে।
    ২. জার্মানি: চলো একসঙ্গে ইতিহাস লিখি।
    ৩. বেলজিয়াম: রেড ডেভিলরা নেমেছে মিশনে।
    ৪. ব্রাজিল: পাঁচ নক্ষত্রেরও বেশি, ২০ কোটি হৃদয়ে।
    ৫. কলম্বিয়া: এক স্বপ্ন, তিন রঙ আর পাঁচ কোটি হৃদয়।
    ৬. কোস্টারিকা: কোনকিছুই অসম্ভব নয় যখন একসঙ্গে খেলে পুরো দেশ।
    ৭. ক্রোয়েশিয়া: ছোট দেশ, বড় স্বপ্ন।
    ৮. ডেনমার্ক: একসঙ্গে আমরা গড়বো ইতিহাস।
    ৯. ইংল্যান্ড: আমাদের বিজয়ী পাঠাও।
    ১০. মিসর: যখন তুমি ফারাওদের কিছু বলবে, সারা বিশ্ব অবশ্যই উঠে দাঁড়াবে আর শুনবে।
    ১১. ফ্রান্স: তোমাদের শক্তি, আমাদের স্বপ্ন! জেগে উঠো লা ব্লুজরা।
    ১২. অস্ট্রেলিয়া: সাহসী হও, হও দুঃসাহসী, সকারুদের মতো স্বর্ণ-সবুজে।
    ১৩. আইসল্যান্ড: চলো আমাদের স্বপ্নকে সত্যি করি।
    ১৪. ইরান: ৮ কোটি মানুষ, একটি দেশ, একটি হৃৎস্পন্দন।
    ১৫. জাপান: সামুরাই ব্লু, এখনই লড়াইয়ের সময়!
    ১৬. সাউথ কোরিয়া: এশিয়ার বাঘ, বিশ্বের বিজেতা।
    ১৭. মেক্সিকো: মেক্সিকোয় তৈরি, তৈরি বিজয়ের জন্য
    ১৮. মরক্কো: অ্যাটলাসের সিংহ, মরক্কোর গর্ব।
    ১৯. নাইজেরিয়া: আফ্রিকার গর্বের পাখা।
    ২০. পানামা: দুই সাগরের শক্তি পানামা।
    ২১. পেরু: এই তো আবারও আমরা। ৩ কোটি পেরুভিয়ান ফিরবে এখানেই।
    ২২. পোল্যান্ড: এগিয়ে চলো পোল্যান্ড।
    ২৩. পর্তুগাল: অতীত গর্বের, বর্তমান ইতিহাসের।
    ২৪. রাশিয়া: হৃদয় খুলে খেলো।
    ২৫. সৌদি আরব: মরুভূমির বীর।
    ২৬. সেনেগাল: সেনেগালিজদের কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই।
    ২৭. সার্বিয়া: এক দল, এক স্বপ্ন, এক সার্বিয়া।
    ২৮. স্পেন: এক সাথে আমরা অপ্রতিরোধ্য।
    ২৯. সুইডেন: সুইডেনের জন্য এক সাথে।
    ৩০. সুইজারল্যান্ড: চার ভাষা, এক জাতি।
    ৩১. তিউনিসিয়া: হাতে রেখে হাত ঈগলরা আসছে রাশিয়ায়।
    ৩২. উরুগুয়ে: সূর্যের আলোকে রাশিয়ার আকাশ হবে আলোকিত নীল।

  • রোনালদো না সালাহ, কে জিতবেন শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট

    রোনালদো না সালাহ, কে জিতবেন শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট

    ফুটবলপ্রেমীদের ঘুম হারাম। স্প্যানিশ, ইংলিশ, সিরি-আ, বুন্দেসলিগা এমনকি ফরাসি লিগ ওয়ানও শেষ হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। প্রতিটি লিগের কাপ ফাইনালও অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। এমনকি ইউরোপা লিগেরও সমাপ্তি ঘটে গেছে। বাকি রয়েছে শুধুমাত্র একটি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ আয়োজন করছে ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের সেরা ম্যাচ- ফাইনালের। যেখানে মুখোমুখি রিয়াল মাদ্রিদ এবং লিভারপুল।

    এই একটি ম্যাচ দেখার জন্যই দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা। বড় কোনো ম্যাচ মানেই দুটি বড় দলের মুখোমুখি হওয়া। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের বর্তমান অবস্থান কিংবা সাম্প্রতিক কয়েক বছরে তাদের পারফরম্যান্স- কোনোটাই লিভারপুলকে বড় দলের তকমা এনে দিতে পারছে না। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ নিঃসন্দেহে বিশ্বের সেরা এক-দুটি ক্লাবের মধ্যে রয়েছে।

    এমন দুই দলের ফাইনাল নিয়ে আগ্রহ-উত্তেজনা খুব বেশি হওয়ার কথা ছিল না; কিন্তু হচ্ছে। উত্তেজনার পারদ ক্ষণে ক্ষণে বাড়ছে। উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিবেশ-পরিস্থিতি। টগবগে ফুটছে কিয়েভ। লন্ডন থেকে মাদ্রিদ। ইংল্যান্ড থেকে স্পেন, সারা ফুটবল বিশ্ব। মূল কারণ একটাই, এই ম্যাচেও মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান সময়ের সেরা দুই ফুটবলার। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং মোহামেদ সালাহ।

    ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর তারকাদ্যুতি ছড়িয়েছে ২০০৪-০৫ সাল থেকে। আর মোহামেদ সালাহর তারকাদ্যুতি ছড়িয়েছে মাত্রই, চলতি মৌসুমে। লিভারপুলের হয়ে একের পর এক গোল আর অসাধারণ ফুটবল প্রতিভা দিয়ে তিনি জয় করে নিয়েছেন ফুটবল বিশ্বে সমস্ত ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়। অনেকেই তো মিশরীয় এই তারকাকে তুলনা করতে শুরু করে দিয়েছেন, মেসি-রোনালদোদের সঙ্গে। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো তো বলেই ফেললেন, মেসির মতই খেলেন সালাহ।

    যদিও সালাহ নিজে বিশ্বাস করেন না, তার লড়াইটা রোনালদোর সঙ্গে। তিনি সাফ বলে দিয়েছেন, ‘এখানে ব্যক্তি গুরুত্বহীন। আসলে খেলাটা আমাদের সঙ্গে রিয়ালের।’

    আর রোনালদোর মুগ্ধতা অন্য জায়গায়, ‘লিভারপুলের আক্রমণে তিনজন অসম্ভব গতিসম্পন্ন। ওদের দেখলে মনে পড়ে যায়, তিন বছ আগের রিয়ালকে। যতই স্বপ্ন দেখি না কেন, আমাদের কাজটা সহজ নয়।’

    একজন নিজের ওপর দারুণ আত্মবিশ্বাসী। অন্যজন প্রতিপক্ষকে সমীহ করেই মাঠে নামার পরিকল্পনা করছেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে সমীহ করার নজির খুব কমই। অথচ তিনিই কি না, কিয়েভের ফাইনালে মাঠে নামার আগে লিভারপুলকে ‘সালাম’ দিয়ে নামছেন।

    ২০০৪-০৫ সালের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কেন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেরও ধারে-কাছে নেই লিভারপুল। সে তুলনায়, টানা দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে, হ্যাটট্রিকের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। দু’দলই ছক কষছে নিজেদের সেরা দুই ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং মোহামেদ সালাহকে কেন্দ্র করেই। দুই ক্লাবের লড়াইয়ের মাঝে যে পুরো ফুটবল বিশ্বের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকবে সেরা দুই ফুটবলার রোনালদো এবং সালাহর ওপর।

  • সৌদি যুবরাজ সালমানের সঙ্গে ফিফা প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

    সৌদি যুবরাজ সালমানের সঙ্গে ফিফা প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

    সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে বৈঠক করেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফানতিনো।

    শুক্রবার সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হওয়া ওই বৈঠকে ফিফা ও জেনারেল স্পোর্টস অথরিটির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনা করেছেন যুবরাজ সালমান ও ফিফা প্রেসিডেন্ট।

    ওই বৈঠকে জেনারেল স্পোর্টস অথরিটি চেয়ারম্যান তুর্কি আল-শেখও অংশগ্রহণ করেন।

    এর আগে গেলো মাসে ২১ তারিখ রিয়াদে একটি রাজপ্রাসাদের বাইরে গোলাগুলোর খবর প্রকাশ করে কিছু মিডিয়া। অনেক মিডিয়াই তখন দাবি করে যে তখন সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনায় সৌদি যুবরাজ হয়তো নিহত হয়েছেন। যদিও সৌদি মিডিয়া জানায়, ওইদিন এমন কিছুই ঘটেনি। বরং রাজপ্রাসাদের কাছে বিনা অনুমতিতে চালানো একটি ড্রোন ভূপাতিত করে নিরাপত্তা বাহিনী।

    কিন্তু মূলত এরপর থেকেই যুবরাজ মোহাম্মদকে আর জনসম্মুখে দেখা না যাওয়ায় জোর জল্পনা-কল্পনা শুরু হয় যে, তিনি হয়তো সত্যিই মারা গেছেন। এমন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সৌদি রাজপরিবারের সদস্য তুর্কি বিন সালমান আল সৌদের মালিকানাধীন আরব নিউজ দাবি করে যে, যুবরাজ মোহাম্মদ এখন মিশর আছেন।

    এর আগে বুধবার দেশটির বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) যুবরাজ মোহাম্মদের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে। তাদের দাবি মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। আর ওইদিনই তোলা হয় এই ছবি।

  • রাশিয়া বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘লাইভ ইট আপ

    রাশিয়া বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘লাইভ ইট আপ

    আগামী ১৪ জুন রাশিয়ায় বসতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। পুতিনের দেশে শিরোপা জেতার লড়াইয়ে নামবেন মেসি-রোনালদো-নেইমাররা। আর আগামী মাসে মস্কোতে অনুষ্ঠেয় ফিফা বিশ্বকাপ-২০১৮-এর অফিসিয়াল সঙ্গীত হিসেবে তৈরি করা হয়েছে ‘লাইভ ইট আপ’।

    হলিউড তারকা উইল স্মিথ, ল্যাটিন গ্র্যামি এওয়ার্ড বিজয়ী নিকি জ্যাম এবং আলবেনিয়ার গায়ক ও সঙ্গীত রচয়িতা ইরা ইসত্রেফি গানটি পরিবেশন করবেন।

    ফিফা জানায়, ফিফা বিশ্বকাপ-২০১৮ এর অফিসিয়াল সঙ্গীত হিসেবে ‘লাইভ ইট আপ’ তৈরি করেছে ডিজে এবং রচয়িতা ডিপলো। ১৫ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার আগে ৮০ হাজার আসনের লুজনিসি এরেনা স্টেডিয়ামের দর্শকের সামনে স্মিথ, নিসি জ্যাম এবং ইরা সিত্রেফি কয়েকমিনিট ধরে এই গান পরিবেশন করবেন। এ সময় একশ’ কোটি লোক টিভিতে দর্শক হিসেবে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বিশ্বব্যাপী ফুটবল ভক্তরা গানটি ২৫ মে থেকে শোনার সুযোগ পাবেন, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে গানটির ভিডিও প্রকাশ করা হবে ৭ জুন।

    ২২ দিনব্যাপী ফিফা বিশ্বকাপ রাশিয়ার রাজধানীতে শুরু হবে। এছাড়া আরো ১১টি নগরীতে খেলার ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হলো- মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ, সোচি, কাজান, সারানস্ক, কালিনইনগ্রাদ, ভলগোগ্রাদ, রোসটোভ-অন-ডন, নিজনি নভগোরোদ, ইকাতারিমবার্গ ও সামারা। ১৪ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ১২টি স্টেডিয়ামে এই খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

  • রোজা রেখেই মাঠে নামবেন সালাহ

    রোজা রেখেই মাঠে নামবেন সালাহ

    মোহাম্মদ সালাহর নাম এখন আর কারও অজানা থাকার কথা নয়। ইতোমধ্যে নিজের প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়েছেন এই মিশরীয় ফুটবলার। জায়গা করে নিয়েছেন সময়ের সেরা তারকা মেসি, রোনালদো ও নেইমারের পাশে। আর তার পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই প্রায় এক দশক পর প্রথম ইউরোপের বড় মঞ্চের ফাইনালে খেলছে লিভারপুল। আগামীকাল শনিবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে ইংলিশ ক্লাবটি। যেখানে মোহাম্মদ সালাহ রোজা রেখেই খেলার ঘোষণা দিয়েছেন।

    মিসরীয় পত্রিকা আল মাসরি আল ইয়ুম বলছে, রোজা রেখেই মাঠে নামবেন সালাহ। যদিও আর মাত্র ৩০ মিনিট পর খেলা শুরু হলে সালাহকে এতো কষ্ট করতে হতো না। কারণ ফাইনাল যখন শুরু হবে তখনও কিয়েভে সূর্য অস্ত যেতে বাকি থাকবে ৩০ মিনিট। তাই সালাহ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রোজা রেখে ম্যাচের ৩০ মিনিট পর পানি খেয়ে ইফতার করবেন।

    লিভারপুল দলের সবাই জানেন সালাহ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। সালাহ ছাড়াও তার দলে রয়েছেন সেনেগালের মুসলিম ফুটবলার সাদিও মানে। মূলত মানে, সালাহ এবং ফিরমিনোর নৈপুণ্যেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলছে লিভারপুল।

  • একই সঙ্গে দুই বান্ধবীকে বিয়ে রোনালদিনহোর

    একই সঙ্গে দুই বান্ধবীকে বিয়ে রোনালদিনহোর

    বিশ্বকাপের পরই এক সঙ্গে দুই বান্ধবীকে বিয়ে করবেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা রোনালদিনহো। ব্রাজিলিয়ান সংবাদ মাধ্যমের দাবি, দুই বান্ধবী প্রিসিলা কোয়েল ও বিয়াত্রিজ সুজার সঙ্গে ইতিমধ্যে বাগদানও হয়ে গেছে।

    গত ডিসেম্বর থেকেই রোনালদিনহোর বিলাসবহুল বাড়িতে থাকেন তার দুই বান্ধবী। ব্রাজিলিয়ান তারকা প্রথমে প্রেমে পড়েন প্রিসিলার। তারপর রোনালদিনহোর জীবনে আসে বিয়াত্রিজ। ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার কাউকেই না করতে পারেননি। দুই বান্ধবীকেই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বান্ধবী পরস্পরের বন্ধু। তারা একই শহরের। গত মার্চে জাপানে দুই বান্ধবীকে নিয়ে সাম্বা নাচে মেতে ওঠার দৃশ্য ইস্টাগ্রামে দেন রোনালদিনহো নিজেই। তারপর থেকেই আলোচনায় আসে বিষয়টি। অবশেষে ব্রাজিলিয়ার মিডিয়ার খবরে সব পরিষ্কার হয়ে গেল।

  • বিশ্বকাপের অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিলেন নেইমার

    বিশ্বকাপের অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিলেন নেইমার

    রাশিয়া বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিলের অনুশীলনে ফিরেছেন নেইমার। মঙ্গলবার তিনি দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন। পায়ের ইনজুরির কারণে ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠের বাইরে আছেন এই ব্রাজিল তারকা।

     

    ব্রাজিলের রিওডি জেনিরোর পাশে তেরেসপলিসে ক্যাম্পে নেইমার এক ঘণ্টা সময় কাটান। ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলা গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও ড্যানিলোও এ দিন নেইমারের সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নেন। অনুশীলনে এ দিন তিনি দূর পাল্লার ও ছোট শট নেন।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ছাড়পত্র নিয়েই অনুশীলনে যোগ দিলেন নেইমার। এদিকে সাবেক ব্রাজিল তারকা রিভালদো ব্যালন ডি অ’র ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে নেইমারকে পিএসজি ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। স্কাই স্পোর্টসকে তিনি বলেছেন, আমি মনে করি রিয়াল মাদ্রিদ বা ইংল্যান্ডের কিছু ক্লাবে গেলেও তার সুযোগ থাকবে (ব্যালন ডি অ’র জেতার)। কারণ এখনও স্প্যানিশ লিগ বা ইংলিশ লিগের সমতায় যেতে পারেনি ফ্রেঞ্চ লিগ। সেখানে কিছু জটিলতা আছে।