Category: রাজণীতি

  • আইন হচ্ছে নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল

    আইন হচ্ছে নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল

    পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক মন্ত্রী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি বলেছেন, আইন হচ্ছে নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। আমরা দীর্ঘদিন আইনের সাহায্য থেকে বঞ্চিত ছিলাম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর ররহমানকে নির্মমভাবে হত্যার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বন্ধ রাখা হয়েছিলো ওই হত্যার বিচার।

    গতকাল বৃহষ্পতিবার বিকেল ৩ টায় বরিশাল জেলা আইনজীবি সমিতির নব-নির্মিত শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত অ্যানেক্স ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এসময় তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার কারনেই আজ আইনজীবীদের জন্য আধুনিক এ ভবন নির্মান করা সম্ভব হয়েছে। এখন আপনাদের (আইনজীবীদের) কাছে একটাই দাবী থাকবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে আপনারা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

    আলাচনা সভায় বরিশাল জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওবায়েদুল্লাহ সাজু ‘র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন (আরেফিন মতিন), জেলা ও দায়রা জজ মোঃ রফিকুল ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান-বিপিএম (বার), বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ এহসান উল্লাহ, জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমানসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি ও আইনজীবীরা।

  • তাঁরা তিন পুরুষ

    তাঁরা তিন পুরুষ

    নিউজ ডেস্ক:

    আবদুর রব সেরনিয়াবাত। ছিলেন রাজনীতিবিদ, এমপি, মন্ত্রী। ছিলেন সাংবাদিক ও আইনজীবী। যিনি এক সময় যে সমিতির সদস্য থেকে আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর নামে সেই বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির একটি এ্যানেক্স ভবনের উদ্ধোধন করা হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে এ ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেছেন শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতের যোগ্য উত্তরসূরি পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক মন্ত্রী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি। গতকালের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পিতার পাশেই বসে ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    গতকালের এ অনুষ্ঠান শুধুমাত্র বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির একটি ভবনের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠান হলেও এই আয়োজনে পিতা-পুত্র উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে যেমন গৌরবান্বিত করেছেন তেমনি সূচিত হয়েছে নতুন এক অধ্যায়ের। কারন ভবনটি যার নামে নামকরন করা হয়েছে তিনি ছিলেন একজন সজ্জ্বন মানুষ। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সরকারের চারটি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করা রব সেরনিয়াবাত ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালোরাতে ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন। ওই সময়ে তাঁর ব্যাংক একাউন্টে মাত্র ১১শ টাকা পাওয়া গিয়েছিলো। ৭৫ এর ওই নির্মম ট্রাজেডির সময় তৎকালীন বরিশাল পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতের সুযোগ্য পুত্র আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।

    তিনি ৯৬ সালে জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত করেন। এবং ওই সময়ে পার্বত্য শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দেশের ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেন। বর্তমানে তিনি মন্ত্রী পদমর্যাদায় শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যোগ্য পিতার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছেন। আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ যে পৌরসভায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন ঠিক ৪৪ বছর পর জনতার রায়ে তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি হয়ে একই মসনদে বসেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    গতকাল একই মঞ্চে অতিথি হিসেবে পিতা-পুত্রের পাশাপাশি বসার দৃশ্য দেখে ওই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক প্রবীন আইনজীবী কেবিএস আহম্মেদ কবির বলেছেন আজ একটি অন্যরকম দিন। যার নামে আজ আইনজীবী সমিতির এ্যানেক্স ভবন উদ্ধোধন হলো তিনি যেমন গুনী ছিলেন তেমনি তাঁর পুত্র আবুল হাসানাত আবদুল্লাহও একজন গুনী মানুষ। আর এই দুগুনী মানুষের যোগ্য উত্তরসূরি নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। যিনি নিজেকে নগর পিতা নয় জনগনের একজন খাদেম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন বিরামহীনভাবে।

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন, পৃথিবীতে যতো দেশে আজ উন্নত হয়েছে, তাদের দেশের মানুষ কর ঠিকভাবে পরিশোধ করেছেন। কেউ স্ব ইচ্ছায় করুক আর সম্পদ ঠিক রাখতে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে করুক, এই করের টাকায় দেশের উন্নয়ন হয় এটা পরীক্ষীত। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারনে আত্মনির্ভরশীল হয়ে আজ আমরা বিশ্বে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারছি।

    বরিশাল কর অঞ্চলের আয়োজনে গতকাল সকাল ১০ টায় নগরীর ক্লাব রোডস্থ বরিশাল ক্লাবে আয়কর মেলা ২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মেয়র সাদিক বলেন, আমরা যে যার নিজ নিজ জায়গা থেকে যদি সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করি, তাহলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট সজিব ওয়াজেদ জয়ের যে চিন্তাভাবনা, পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা তা সফল হবে।
    বরিশাল অঞ্চলের কর কমিশনার মোঃ খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান-বিপিএম বার, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এর সভাপতি ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান রিন্টু।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বলেন, আমরা উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছি, আমরা উন্নত বাংলাদেশ চাই। আগে আমাদের অভ্যন্তরীন সম্পদ আহরণ হতো না, ফলে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার ওপর নির্ভরশীল থাকতে হতো। কিন্তু সরকার অভ্যন্তরীন সম্পদ আহরনের মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত কর কমিশনার মোঃ আবুল বাসার আকন। উপস্থিত ছিলেন বরিশাল অঞ্চলের যুগ্ম কর কমিশনার মোঃ লুৎফর রহমান, উপ কর কমিশনার আনন্দ কুমার সাহা, সহকারী কর কমিশনার এস এম গাউস ই নাজ, মোঃ মনজুর রহমান প্রমুখ। বিভাগীয় পর্যায়ের এ মেলা ১৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। বরিশাল ক্লাবে বিভাগীয় পর্যায়ের এ মেলা প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত চলবে। মেলায় কর প্রদানকারীদের জন্য ১৭ টি বুথের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেখান থেকে নাগরিকরা যেকোন ধরনের সেবা পাচ্ছেন।

  • ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

    ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

    স্টাফ রিপোর্টার//রাতুল হোসেন রায়হান:

    বটতলা এলাকায় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ১৪ ও ১৫ নম্বর ও কলেজ এভিনিউর তেমাথা এলাকায় অনুষ্ঠিত ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রিবার্র্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন, আমি বরিশাল নগরীতে টেকসই উন্নয়ন করতে চাই। মেয়র গতকাল বটতলা এলাকায় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ১৪ ও ১৫ নম্বর ও কলেজ এভিনিউর তেমাথা এলাকায় অনুষ্ঠিত ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রিবার্র্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির দেয়া বক্তব্যে একথা বলেন।

    পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত সম্মেলন দুটোতে দেয়া বক্তব্যে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, ঘূর্নিঝড় বুলবুলের সময় আমি নগরীর পাড়া মহল্লায় ঘুরে ঘুরে জলাবদ্ধতার মূল কারন উদঘাটন করেছি। আমাদের যে কয়টা খাল আছে তা পুনরুদ্ধার করতে হবে। মেয়র বলেন, একটা সময় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ছিল লুটপাটের জায়গা। আমি তা বন্ধ করে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জনগনের সেবায় কাজ করাচ্ছি। তারা আপনাদের কাজ করতে বাধ্য। কারন জনগনের টাকায় তাদের বেতন ভাতা চলে।

    মেয়র বরিশাল সিটি কর্পোরেশনকে সাধারণ মানুষের সর্বোচ্চ আস্থার জায়গা হিসেবে তৈরী করার অঙ্গীকার পুনঃব্যক্ত করেন। মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, আমি লুটপাট নয়, সেবা করার জন্য সংসারের মায়া ভুলে আপনাদের জন্য কাজ করছি। আপনাদের আমার কাছে কিছু চাইতে হবেনা। চাওয়ার চেয়ে বেশী কাজ আমি করে দেবো। আমার মেয়াদকালিন সময়ের পর আপনারা মূল্যায়ন করবেন আমি আপনাদের জন্য কিছু করতে পেরেছি কিনা।

    এসময় মেয়র বলেন, নবীণ ও প্রবীনদের সমন্বয়ে আগামীতে তৃনমূলের ত্যাগীদের নিয়ে শক্তিশালী আওয়ামী লীগ গঠন করে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের ভিতরে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। তিনি জাতির জনকের কন্যা। তিনি কারো সাথে আপোষ করা শিখেননি। আমি তাঁর কাছ থেকে শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহনের প্রথমেই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছি।

    নেত্রী যেমন কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না, তেমনি আমিও কাউকে ছাড় দেবোনা। আজকে বরিশালে কোন স্থাপনা তুলতে গেলে কাউকে চাঁদা দিতে হয়না। বরিশাল আজ শান্তির নগরী, এখানে সন্ত্রাস ও টেন্ডারবাজি নাই। ডিজিটালের সুফল আজ জনগন ভোগ করছে উলে­খ করে মেয়র বলেন, জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়কে সাথে নিয়ে একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমানে কাজ করে চলেছেন। দুটো সম্মেলনে উদ্ধোধক ছিলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল।

    প্রধান বক্তা ছিলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর। সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ কুতুব উদ্দিন আহমেদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড.আফজালুল করিম, অ্যাড. কেবিএস আহমেদ কবির, প্যানেল মেয়র-১ গাজী নঈমুল হোসেন লিটু প্রমুখ। সম্মেলনে বরিশাল মহানগর আওয়ামী সহ-সভাপতি নিজামুল ইসলাম নিজাম, সাইদুর রহমান রিন্টু, মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং দল সমর্থিত কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তর থেকে অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে রাজনৈতিক ব্যক্তি ছাড়াও সরকারি কর্মচারীসহ অন্য যেসব ব্যক্তি জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

    বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, ক্যাসিনো ও দুর্নীতির সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ যাতে কেউ করতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের পাশাপাশি কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আন্দোলন-নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটসহ একটি বিশেষ মহল রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে একটি বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

    সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা ঠিক রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির পেছনে জিয়াউর রহমানের একটি হাত রয়েছে। কিন্তু আমরা সব সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে বিশ্বাসী।

    এ ব্যাপারে তার সরকারের কঠোর নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জিনিস স্পষ্ট বলতে চাই- বাংলাদেশের মাটিতে আমরা কোনো দেশের বা প্রতিবেশী কোনো দেশের কেউ কোনোরকমের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায় তাদের কোনো অবস্থান বাংলাদেশের মাটিতে হবে না। এ ব্যাপারটা আমরা নিশ্চিত করেছি। এগুলো তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিন্তু বাংলাদেশের মাটি আমরা কাউকে ব্যবহার করতে দেব না।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশ থেকে অন্য দেশে কোনোরকম সমস্যার সৃষ্টি করুক বা কোনোরকমের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাক বা কোনোরকম গোলমাল করুক সেটা আমরা কখনও আমাদের দেশে স্থান দেইনি, দেব না। বাংলাদেশ সব সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারোর সঙ্গে বৈরিতা নয়- এই নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি।

    রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন ও ভারতের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে শহীদুজ্জামান সরকারের আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এই দুটি দেশের সঙ্গেই আমরা আলোচনা করেছি, রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে, তারাও চেষ্টা করছে। শুধু ভারত বা চীনই নয়, মিয়ানমারের সঙ্গে যেসব দেশের স্থলসীমানা রয়েছে (ভারত-চীন-থাইল্যান্ড-লাওস) সেসব দেশের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। রোহিঙ্গা ইস্যুটি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত, এ ব্যাপারে সবাই একমত পোষণ করেছেন।

    শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার রাজি হয়েছে এবং একটি চুক্তিও করেছে। কিন্তু একটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা দেশটিতে ফেরত যেতে চাচ্ছে না। এটি এখন মিয়ানমান সরকারের ওপরই নির্ভর করছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া তাদের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) ফেরত যাওয়ার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ থাকবে সেই বিশ্বাসটি আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে সৃষ্টি করা তাদেরই (মিয়ানমার) দায়িত্ব।

    মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অর্থাৎ দুর্নীতির অনুসন্ধান, তদন্ত এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দফতরে চিঠি দিয়েছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এরূপ অভিযান অব্যাহত রাখতে দুর্নীতি দমন কমিশন সর্বদাই বদ্ধপরিকর। তাছাড়া বাংলাদেশের কোনো কোনো ব্যক্তি সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো খুলেছে, সে সম্পর্কিত তথ্য পাঠানোর জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন সিঙ্গাপুর সরকারকে অনুরোধ করেছে। সব দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

    মীর মোস্তাক আহমেদ রবির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সব ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দুর্নীতিসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সারা দেশে এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থসম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

    তিনি কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে আরও বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া সমাজ থেকে সব ধরনের অপরাধ নির্মূল করার জন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং, বিট পুলিশিং ও নানা ধরনের সভা-সেমিনারের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ যাতে কেউ করতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে। সরকারি কর্মচারীসহ অপরাধী যেই হোক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে অনুসন্ধানপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া কারা কারা অভিজাত গাড়ি ক্রয় করেছে, সে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সব দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সর্বপ্রকার হয়রানির অবসানে আমরা বদ্ধপরিকর। সিদ্ধন্ত গ্রহণের স্তর কমিয়ে এনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বিধিবিধান যথাসময়ে প্রতিপালন এবং জনগণের সেবক হিসেবে প্রশাসনকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা, জনসচেতনামূলক কার্যক্রম জোরদার করা এবং আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে দুর্নীতির পরিধি ক্রমান্বয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনারও পরিকল্পনা আমাদের সরকারের রয়েছে।

    আনোয়ারুল আবেদীন খানের আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যা যা করার তা করে যাচ্ছি, করে যাব। গত ১০-১১ বছর আগে দেশের কী অবস্থা ছিল একটু বিবেচনা করুন। আগে মানুষ এক বেলা খেতে পর্যন্ত পারত না। কিন্তু গত এক দশকে দেশের চেহারাই পাল্টে গেছে। সরকারের উন্নয়নের সুফল তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষ ভোগ করছে। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য আমার নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছি। দেশের মানুষের কল্যাণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রয়োজনে বাবার মতো আমার জীবনকে উৎসর্গ করব।

  • দেশে আজ সন্ত্রাস নেই বললেই চলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    দেশে আজ সন্ত্রাস নেই বললেই চলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দেশে আজ সন্ত্রাস নেই বললেই চলে। দেশে ইভটিজিং একটা ব্যাধিতে পরিণত হয়েছিল। আমাদের পুলিশ বাহিনীতো বটেই, নির্বাচিত প্রতিনিধি ও সমাজসেবকরা সেটি রুখতে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সেজন্য সামাজিক এই অসঙ্গতি ও ব্যাধিগুলো চিহ্নিত করে একে একে দূর করতে পারছি।

    বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্স মাঠে জেলা পুলিশ আয়োজিত আন্ত:জেলা পুলিশ সুপার মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ ও পুলিশ যখন এক কাতারে দাঁড়িয়েছে তখন কোনো চ্যালেঞ্জই আর চ্যালেঞ্জ থাকে না।

    তিনি বলেন, আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একটা শান্তিপূর্ণ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত সমাজ ও বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই। দেশকে মাদকমুক্ত না করতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হারিয়ে যাবে, তাই মাদক নির্মূলে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আরও বলেন, আমরা এখন শুধু অনলাইনের মাধ্যমে জিডির সুবিধা দিচ্ছি। ভবিষ্যতে পুলিশের সব ডিজিটাল সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হবে।

  • দুর্নীতি করলে শেখ হাসিনা আত্মীয়কেও ছাড় দেন না: গণপূর্তমন্ত্রী

    দুর্নীতি করলে শেখ হাসিনা আত্মীয়কেও ছাড় দেন না: গণপূর্তমন্ত্রী

    গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, দুর্নীতি করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আত্মীয় বা দলের প্রভাবশালী নেতা—কাউকে ছাড় দেন না। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান উপজেলা পর্যন্ত চলবে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে পিরোজপুরে ‘জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, মাদক, সন্ত্রাসবাদসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ইমাম ও আলেম সমাজের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও জাতীয় ইমাম সমিতি এ সভার আয়োজন করে। সভাটি হয় জেলার শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে।

    গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী আরও বলেন, ইসলামের দাওয়াত এমনভাবে দিতে হবে যেন সেই দাওয়াতে যুবসমাজ জঙ্গি বা সন্ত্রাসী না হয়। সব ধর্মের জন্য বর্তমান সরকার সম-অধিকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। সবার শেষ গন্তব্য একই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই। আমরা সবাই এই বাংলাদেশের নাগরিক। তাই এ দেশের অন্য ধর্মাবলম্বীদের জানমালের হেফাজত করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।’

    পূর্তমন্ত্রী বলেন, পুড়িয়ে মানুষ মারা, বোমা মেরে হত্যা করা ইসলাম ধর্মের কোথাও নেই। জঙ্গিরা কোরআন-হাদিস অনুসরণ না করে নিজেদের ভিন্নমতকে ইসলামের মতবাদ বানিয়ে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় মাদ্রাসাশিক্ষাকে একীভূত করেছেন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরিশাল রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জঙ্গি নির্মূলে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার ইমামদের উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত করছে।

    পিরোজপুরের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এ কে এম সাদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. হায়াতুল ইসলাম খান, পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান, জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মো. ফারুক আবদুল্লাহ, হাফেজ রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

    এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জেলা জজশিপের আয়োজনে আদালত প্রাঙ্গণে ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর সিরিজ বোমা হামলায় নিহত ঝালকাঠির দুই বিচারকের স্মরণসভায় অংশ নেন।

  • প্রধানমন্ত্রী দেশের সম্মান-মর্যদা আজ উন্নত বিশ্বের দাঁড় প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে : মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ

    প্রধানমন্ত্রী দেশের সম্মান-মর্যদা আজ উন্নত বিশ্বের দাঁড় প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে : মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আজ আমাদের দেশের সম্মান-মর্যাদা উন্নত বিশ্বের দাঁড় প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তার বাবার আদর্শ ধারন করে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার কারনেই তিনি বাংলাদেশকে উন্নতস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। তাই তিনি সকল নাগরীকরা কর ফাকি না দিয়ে সততার সাথে সকলকে দেশের উন্নয়নের পাশে থাকার জন্য রাজস্ব কর দেয়ার আহবান জানান।

    মেয়র বলেন, পৃথিবীতে যতো দেশে আজ উন্নত হয়েছে, তাদের দেশের মানুষ কর ঠিকভাবে পরিশোধ করেছেন। কেউ স্ব ইচ্ছায় করুক আর সম্পদ ঠিক রাখতে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে করুক, এই করের টাকায় দেশের উন্নয়ন হয় এটা পরীক্ষীত। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারনে আত্মনির্ভরশীল হয়ে আজ আমরা বিশ্বে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারছি।

    বরিশাল কর অঞ্চলের আয়োজনে (১৪ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় নগরীর বরিশাল ক্লাবে আয়কর মেলা ২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথীর বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মেয়র সাদিক বলেন, আমরা যে যার নিজ নিজ জায়গা থেকে যদি সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করি, তাহলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট সজিব ওয়াজেদ জয়ের যে চিন্তাভাবনা, পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা তা সফল হবে।

    বরিশাল অঞ্চল কর প্রধান কর কমিশনার মোঃ খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান-বিপিএম (বার), বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ’র সভাপতি ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান রিন্টু।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বলেন, আমরা উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছি, আমরা উন্নত বাংলাদেশ চাই। আগে আমাদের অভ্যন্তরীন সম্পদ আহোরণ হতো না, ফলে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার ওপর নির্ভরশীল থাকতে হতো। কিন্তু সরকার অভ্যন্তরীন সম্পদ আহোনের মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আর এখন আমরাও আত্মনির্ভরশীল হয়ে বাহিরের সাহায্যর দিকে তাকাতে হয় না।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত কর কমিশনার মোঃ আবুল বাসার আকন।

    এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বরিশাল কর অঞ্চলের যুগ্ম কর কমিশনার মোঃ লুৎফর রহমান, উপ-কর কমিশনার আবুল কালাম আজাদ, উপ-কর কমিশনার আনন্দ কুমার সাহা, সহকারী কর কমিশনার এস এম গাউস ই নাজ, মোঃ মনজুর রহমান প্রমুখ।

    বিভাগীয় পর্যায়ের এ মেলা আজ ১৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। বরিশাল ক্লাবে বিভাগীয় পর্যায়ের এ মেলা প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত চলবে। মেলায় কর প্রদানকারীদের সুবিধার্তে সোনালী, বেসিক ও জনতা ব্যাংক সহ ১৭ টি বুথের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেখান থেকে নাগরিকরা যেকোন ধরনের সেবা পাবেন।

    এরপূর্বে প্রধান অতিথি বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্ল­াহ বেলুন ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে আয়কর মেলার ২০১৯ শুভ উদ্ধোধন করেন।

  • বিএনপি নেতার মৃত্যুতে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর শোক

    বিএনপি নেতার মৃত্যুতে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর শোক

    জাতীয়তাবাদী যুবদল বরিশাল জেলা (দক্ষিণের) সভাপতি পারভেজ আকন বিপ্লবের বড় ভাই, বিএনপি নেতা ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি শাহেদ আকন সম্রাটের মৃত্যুতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশেনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

    এক শোক বিবৃতিতে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

  • মুজিব বর্ষে দেশের প্রতিটি ঘরে শতভাগ বিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী

    মুজিব বর্ষে দেশের প্রতিটি ঘরে শতভাগ বিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক ::

    মুজিব বর্ষের (২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ) মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তিনি বলেন, ‘আমরা মুজিব বর্ষের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ, কেউ অন্ধকারে থাকবে না। সব ঘরেই আলো জ্বলবে।’

    বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাতটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ২৩ উপজেলার শতভাগ বিদ্যুৎতায়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন। খবর ইউএনবির

    শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়াও বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণও গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার সে জন্যও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তাবায়ন করছে।

    বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে কম দামে বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য সরকার এ খাতে ব্যাপক ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে।

    তৃণমূলের জনগণও যাতে উন্নয়নের ফল পায়, এ লক্ষ্যেই সরকার সব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    ‘আমরা বিষয়টি লক্ষ্য রেখে আমাদের সমস্ত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। তার মানে আমরা শুধু শহরাঞ্চলে বা রাজধানীতে উন্নয়ন করতে চাই না, আমরা গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই,’ যোগ করেন তিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার বিকাশে, কর্মসংস্থানে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে চায়।

    নতুন উদ্বোধন করা সাতটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলো- আনোয়ারায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, রংপুরে ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলীতে ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিকলবহা ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, পটিয়ায় ৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেঁতুলিয়ায় ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গাজীপুরে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র।

    নতুন এ সাতটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে থেকে ৭৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হওয়ায় আজ থেকে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২২ হাজার ২৬২ মেগাওয়াটে উন্নিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ৯৪ শতাংশের বেশি জনগণ বিদ্যুত সংযোগের আওতায় আসল।

    শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতার ২৩ উপজেলা হলো- বগুড়ার গাবতলী, শেরপুর ও শিবগঞ্জ, চট্টগ্রামের লোহাগড়া, ফরিদপুরের মধুখালী, নগরকান্দা ও সালথা, গাইবান্ধার ফুলছড়ি, গাইবান্দা সদর ও পলাশবাড়ী, হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর ও নবীগঞ্জ, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ ও মহেশপুর, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম, লালপুর ও সিংড়া, নেত্রকোনার বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জ এবং পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া, কাউখালি ও ইন্দুরকানী।

    সারাদেশকে শতভাগ বিদ্যুতায়নে নিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াটে নিতে ব্যাপক কর্মসূচির বাস্তবায়ন করছে।

  • বরিশাল র‌্যাবের অভিযানে জেএমবি’র আঞ্চলিক কমান্ডার গ্রেফতার

    বরিশাল র‌্যাবের অভিযানে জেএমবি’র আঞ্চলিক কমান্ডার গ্রেফতার

    বরিশাল শহরে অভিযান চালিয়ে আলী আকবর (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে বেশকিছু উগ্রপন্থী লিফলেট ও বইসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বুধবার সকালে র‌্যাব এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে- আলী আকবর নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির শরিয়তপুর জেলা আঞ্চলিক কমান্ডার।

    এর আগে মঙ্গলবার রাতে তাকে শহরের গড়িয়ারপাড় এলাকায় বরিশাল টু বানারীপাড়া থেকে গ্রেপ্তারের করে।

    ওই প্রেস বিজ্ঞপিতে র‌্যাব জানায়- গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের একটি টিম গড়িয়ারপাড়ে গেলে আলী আকবর গাড়ি দেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। র‌্যাব সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার কাছ থেকে বেশকিছু উগ্রপন্থী লিফলেট ও বই পাওয়া যায়।

    শরিফতপুরের জাজিরা থানার নাওডোবা ইউনিয়নের ফয়জল হকের ছেলে আলী আকবর ২০১৩ সালে ঢাকায় বেসরকারী কোম্পানিতে চাকুরির মাধ্যমে তার কর্ম জীবন শুরু করে এবং ২০১৪ সালে নারায়নগঞ্জে বেসরকারি ফার্মে চাকরি করে।

    ২০১৫ সালের শুরুতে সে শীর্ষ জেএমবি নেতা তরিকুল ইসলাম ওরফে সাকিরের সান্নিধ্য পেয়ে জঙ্গি কর্মকান্ডে অনুপ্রাণিত হয়। এবং উগ্রপন্থী কাজ পরিচালনার জন্য ঢাকা, নারায়গঞ্জ ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গমন করে। নিজ জেলা শরিয়তপুর জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। এমনকি সে বিভিন্ন জেলা শহরে গোপনে সভা ও উগ্রপন্থী পরিকল্পনায় সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করে। এবং এরই অংশ হিসাবে বরিশালে আগমন করে।

    এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়েছে র‌্যাব ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে- প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জেএমবি আলী আকবর এমন তথ্য উপাত্ত দিয়েছে।’